• অপর্যাপ্ত ঘুম ও নিদ্রাহীনতার কুফল

    একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষের কতটুকু ঘুম প্রয়োজন, তা নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। গবেষণাগুলোয় দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। শরীর সুস্থ-সবল রাখতে ঘুমের বিকল্প নেই। বরং ঘুম শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় ও বড় ধরনের যে কোন ব্যাধি থেকে সুরক্ষা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা রাতে ৬ বা ৭ ঘণ্টারও কম ঘুমান, তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অস্বাভাবিক হারে কমে যায়। তারা ডায়াবেটিস বা ফুসফুসের জটিল সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সমূহ ঝুঁকিতে থাকেন। ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের নতুন এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে আরও এক ভয়াবহ তথ্য। যারা কোন শারীরিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও নিয়মিত প্রতিষেধক গ্রহণ করছেন, তাদের পর্যাপ্ত ঘুম একান্ত প্রয়োজন। কারণ, নিদ্রাহীনতা তাদের শরীরের প্রতিষেধকগুলোকে ঠিকভাবে কাজ করতে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে ওষুধ খাওয়া বা প্রতিষেধক নিয়েই একজনের দায়িত্ব শেষ নয়। তাকে অবশ্যই পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। ‘স্লিপ’ জার্নালে গবেষণাটির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় ১২৫ জন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিভাবে কাজ করছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের বয়স ৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। ওই ব্যক্তিদের হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসের প্রতিষেধক দেয়া হয়। প্রতিষেধক নেয়ার পর যারা রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালেন, তাদের ক্ষেত্রে ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মাত্রা ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে গেল। অন্যদিকে যারা ৭-৮ ঘণ্টার পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেয়েছেন, তাদের শরীরে প্রতিষেধকটি কাজ করলো। একই কথা প্রযোজ্য অন্য প্রতিষেধক বা ওষুধের ক্ষেত্রেও। আর তাই ঘুম নিয়ে কোন সমস্যা থাকলে, তা এখনই দূর করার উপযুক্ত সময়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। তবে যাই হোক, ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো বাধ্যতামূলক। আর তা নিজের ভালর জন্যই।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    17 + fifteen =