• আইডিয়াল স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে

    রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে এই পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠেছে। এই অবস্থায় নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা প্রশাসন। সূত্রমতে, বাংলা ভার্সনের দুইজন ও ইংরেজি ভার্সনের একজন মোট তিনজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। সেই পরীক্ষার ডিজি প্রতিনিধি দুইজনকে নিয়োগ দেয়া হলেও তারা সেখানে থাকতে অসম্মতি জানান। এরপর পরীক্ষার আগেরদিন বিকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান ধানমন্ডি গর্ভঃ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইনছান আলী।
    পরীক্ষার দিন সকাল ৯টায় ডিজির প্রতিনিধি স্কুলে গেলে নিয়োগ কমিটির অন্য সদস্যরা কয়েকটি প্রশ্ন দেখান এবং এই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার কথা বলেন। তখন ডিজির প্রতিনিধি এতে রাজি না হয়ে সবার উপস্থিতিতে প্রশ্ন করার কথা জানান। এতে কমিটির লোকজন রাজি না হয়ে আগের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার জন্য বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখান। এতেও ডিজির প্রতিনিধি রাজি না হওয়ায় কমিটির অন্য সদস্যরা সবাই মিলে প্রশ্ন করার বিষয়ে একমত হন- এই বলে যে তারা ৫০ ভাগ, ডিজির প্রতিনিধি ৫০ ভাগ প্রশ্ন করবেন। নিয়ম অনুসারে সভাপতি কখনো নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক হতে পারেন না কিংবা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারেন না। একই দিনে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা হবে জানিয়ে পরীক্ষার্থীদের সব সনদপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু অধ্যক্ষের রুমে খাতায় কোড নম্বর বসিয়ে মূল্যায়নের পর ওইদিন ভাইভা না নেয়ার কথা জানান অধ্যক্ষ। কারণ হিসেবে বলা হয়, সভাপতির মা অসুস্থ। এরপর প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, খাতা মূল্যায়ন খাতা তালিকা ও অন্যান্য কাগজপত্র রি-কোডিং না করে সিলগালা করে রাখা হয়। এ ব্যাপারে ডিজির প্রতিনিধি ইনছান আলী বলেন, এখানে প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ ছিল না। কারণ সবার সামনে প্রশ্ন হয়েছে, সিলগালা হয়েছে এবং পরীক্ষা হয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগের দিন বিকালে আমাকে ডিজির প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হয়। তাই এত অল্প সময়ে কাউকে চেনা জানা, বা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না। লিখিত পরীক্ষায় প্রায় সবাই খুব কম নম্বর পেয়েছেন এবং কারো সঙ্গে কারো নম্বরের বেশি পার্থক্য নেই। আর কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহানারা বেগম বলেন, অনেকেই পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। যেহেতু পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি, তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের ব্যাপারেও কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ ব্যাপারে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, লিখিত পরীক্ষার পর ভাইভা হওয়ার কথা। এটা পরবর্তীতে হবে। আর আগের দিন নিয়োগ পেয়ে কেউ নিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত হতে পারে বলে আমি মনে করি না। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সব শিক্ষকদের সনদ যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়ার পর তা করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত সপ্তাহে ৭ দিনের মধ্যে সনদ যাচাই করে না মন্ত্রণালয়ের পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল করার হুমকি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান অধ্যক্ষের সময় নিয়োগ পাওয়া দেড়শ’র বেশি শিক্ষক ভুয়া সনদে চাকরি পেয়েছেন।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    one + 20 =