• আশুলিয়ায় মুক্তিপণ আদায়ের সময় পুলিশসহ আটক ৫

    সাভারের আশুলিয়ায় গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সময় শিল্প পুলিশের এক সদস্যসহ পাঁচজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এসময় তাদের ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস ও চাঁদাবাজির ৪২ হাজার টাকা ও ১৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গতকাল সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল কাঁচাবাজার এলাকায় মুক্তিপণ আদায়ের সময় তাদেরকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী শামিম হোসেন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকায় শিল্প পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মকবুল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত ও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
    আটককৃতরা হলো- গাজীপুর শিল্প পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মকবুল হোসেন (৩০), তার সহযোগী ভুয়া ডিবি পুলিশের সদস্য বিপ্লব হোসেন (২৬), স্বপন হোসেন (২৬) ও হাসমত আলী শেখ ও সানজিদা আক্তার সুমি। এছাড়া তাদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া চার ব্যক্তি হলেন শামীম, রায়হান, আতিয়ার, মেহেদী হাসান। আটক শিল্প পুলিশ সদস্য মকবুল হোসেনের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানা এলাকায়। সে শিল্প পুলিশে চাকুরির পাশাপাশি বিভিন্ন সময়য়ে ভুয়া গোয়েন্দা পুলিশের টিম সাজিয়ে চাঁদাবাজি করে বেড়ায় বলে জানা গেছে। বুধবার বিকেলে আশুলিয়া থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান জানান, গত মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়ার নবীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশাযোগে বাইপাইল যাওয়ার পথে ব্যবসায়ী শামীম হোসেনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে তুলে নেয় শিল্প পুলিশ-১ এর সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মকবুল হোসেন ও তার সহযোগীরা। পরে তাকে মারধর করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এঘটনায় শামীমের মা চম্পা বেগম সকালে একটি বিক্যাশ নম্বরের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করে এবং বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করে। পরবর্তীতে থানা পুলিশ বাকি ১০ টাকা পরিশোধ করার সময় কৌশলে বাইপাইল কাঁচাবাজার এলাকা থেকে এএসআই মকবুল হোসেনসহ পাঁচ জনকে হাতেনাতে আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা একটি খাতা থেকে তাদের সংগঠিত ৯২ কর্মকাণ্ডের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। ঢাকা শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক শামিনুর রহমান শামীম বলেন, প্রাথমিকভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এএসআই মকবুল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এঘটনায় শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. জানে আলমকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেযার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির অপর সদস্য হলেন ইন্সপেক্টর বাবর আলী জাকির।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    1 × two =