• ঘটন-অঘটনের ঢালিউডি ঈদ

    ফি ঈদেই ঢালিউডে ঈদের ছবির ফলাফল চমকে দেয় ইন্ডাস্ট্রিকে। অঘটন-ঘটন পটিয়সী বক্স অফিস ইন্ডাস্ট্রিকে ঈদের আসল আনন্দের স্বাদ এনে দেয়। এবারের ঈদও তা থেকে ব্যতিক্রম নয়। যা ভাবা হয়েছিল তার সবটাই হুবহু ঘটেনি বরং অপ্রত্যাশিত সাফল্যে চমক জেগেছে সবার মনে। সবচেয়ে বড় কথা, সিনেমা হলে ফের দর্শক ঢুকেছে। এখন ইন্ডাস্ট্রিকে ভেবে দেখতে হবে, সারা বছর এই দর্শক কেন মুখ ফিরিয়ে থাকে ছবিঘর থেকে। লিখেছেন এম রহমান

    দাপিয়ে বেড়াল ‘ঢাকার কিং’
    মুুক্তির আগে এই ছবিটি নিয়ে আলোচনা ছিল সবচেয়ে কম। ঈদের ছবির দৌড়ে ছবিটি তেমন কিছু করে দেখাবে—এমনটি কারোরই মনে হয়নি। মুক্তির পর সবারই ভুল ভেঙেছে। ঈদ উত্সব বলেই সব ছবির সম্ভাবনা সমান। এ কথা প্রমাণ করে দর্শক পছন্দের তালিকায় ঢুকে পড়েছে সাফিউদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘ঢাকার কিং’। বক্স অফিসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ছবিটি। শেষ ঈদেও এভাবেই চমকে দিয়েছিল রাজু চৌধুরী পরিচালিত ‘প্রিয়া আমার জান’। বড় বাজেটের ছবিগুলোকে টেক্কা দিয়ে এক নম্বরে ঠাঁই করে নিয়েছিল শাকিব-অপু অভিনীত ছবিটি। বছর চারেক আগে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’ ছবিটি সব আলোচনার বাইরে থেকে সাফল্য পেয়েছিল। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল আরও একবার। এর আগে ‘ঢাকার কিং’-এর প্রযোজক জুটি ইস্পাহানি আরিফ জাহান শেষ মুহূর্তে ঈদের প্রতিযোগিতায় শামিল হয়ে ২০০৫ সালের ঈদে ‘সন্ত্রাসী মুন্না’কে হিট করে চমক দেখিয়েছিলেন।

    সবার উপরে ‘খোদার পরে মা’
    এক সোমবার সেন্সর হাতে পাওয়ার চৌদ্দদিন পর আরেক সোমবার ছবি রিলিজ, তাও আবার ৫২টি সিনেমা হলে—এমন অসম্ভব ঘটনা ঘটিয়ে ঈদের আগেই সবচেয়ে প্রত্যাশার ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছিল ‘খোদার পরে মা’। প্রত্যাশার মেঘ সাফল্যের বৃষ্টি হয়েই ঝরেছে। ঈদে বক্স অফিসে এক নম্বর আসনটি দখলে রয়েছে শাহিন সুমন পরিচালিত ছবিটি। একমাত্র ‘ঢাকার কিং’-ই ‘খোদার পরে মা’র ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছে। দেশের বড় হলগুলো ‘খোদার পরে মা’র দখলে থাকায় মুনাফার বিচারে সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ছবিটি। এ ছবির ব্যর্থতা হত ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই দুঃখজনক। সব সিনেমা হল ধরা খেত। ইতিবাচকভাবে সবার চাওয়া-পাওয়াই পূরণ হয়েছে। ‘ঢাকার কিং’ উড়ে এসে জুড়ে না বসলে হয়তো ছবিটি বক্স অফিসে নতুন কোনো ইতিহাসও রচনার সুযোগ পেত। শেষ ঈদের মতো এবারের ঈদেও শীর্ষে থাকল শাকিব-সাহারা আর শাহিন-সুমন জুটি।

    মধ্যবিত্ত দর্শকদের ‘মোস্ট ওয়েলকাম’
    ‘ঢাকাই সিনেমা এগিয়ে যাচ্ছে, ভাবতে ভালোই লাগে’—‘মোস্ট ওয়েলকাম’ দেখার পর বিজ্ঞাপনের ভাষায়ই প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন দর্শকরা। হলবিমুখ দর্শকরা এই আধুনিক ঝকঝকে ছবিটির টানে সিনেমা হলে ফিরেছেন। যতটা গর্জেছে, ঠিক ততটাই বর্ষেছে ‘মোস্ট ওয়েলকাম’। ঈদের ছুটিতে রাজধানীর বলাকা সিনেমা হলে দর্শকদের ঢল নামিয়েছে ছবিটি। ঢাকার বাইরে অবশ্য একেক স্টেশনে এর ফলাফল একেক রকম। প্রযুক্তিনির্ভর ছবি হওয়ায় সব সিনেমা হলে ছবিটির প্রদর্শনী দর্শকদের মনঃপূত হয়নি। তবে সিনেমায় প্রযোজক অনন্ত জলিলের প্রকৃত যাত্রা শুরু হলো তার চার নম্বর ছবিটি থেকেই। কাকরাইল ছবিপাড়ায় যথেষ্ট শোরগোল তুলেছে ছবিটি। আর এ ছবির মধ্য দিয়ে কাহিনীকার থেকে পরিচালক বনে যাওয়া অনন্য মামুন সম্ভাবনাময় নির্মাতা হিসেবে নিজেকে দাঁড় করালেন। ঢাকাই সিনেমায় তাকে সুস্বাগতম!

    হারিয়ে যাওয়া তিন্নির হার
    ছোটপর্দার হার্টথ্রব মডেল অভিনেত্রী তিন্নির অভিষেক ছবি সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘সে আমার মন কেড়েছে’ নিয়ে প্রত্যাশার পাল্লা একটু বেশিই ছিল। ছবিটি ব্যবসা যেমনই করুক, তিন্নি দর্শক মন জয় করবেন—এমনটাই ভাবা হয়েছিল। কিন্তু শাকিবকে পাশে নিয়েও তিন্নি শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেন। ছবির শুটিংয়ের সময় যেমন হারিয়ে যেতেন, ছবি রিলিজের আগেও হারিয়ে গিয়েছিলেন তিন্নি। কোনো ধরনের প্রচারণায় তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন তার কিছুই জানা যায়নি। ছবিটির প্রতি তার অবহেলা উপযুক্ত মূল্য দিয়েছে তাকে। ক্যারিয়ারের এত বড় ব্রেক হয়তো এই জীবনে আর পাবেন না তিন্নি। মধ্যবিত্ত দর্শকদের পছন্দ করার মতো ছবি হলেও ভালো সিনেমা হল না পাওয়ায় ঈদের দৌড়ে ‘সে আমার মন কেড়েছে’ পিছিয়ে পড়েছে। যদিও ছবিটি একেবারে খারাপ ব্যবসা করছে না। তৃতীয় সপ্তাহে ভালো হল পেলে ছবিটি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    eighteen + sixteen =