• ডিপোগুলোয় তীব্র প্রতিযোগিতা

    শুষ্ক বন্দর হিসেবে পরিচিত বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনার পরিচালন কর্মকাণ্ডে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। বছর ঘুরতেই এক ডিপো ছাড়িয়ে যাচ্ছে অন্যটিকে। গ্রাহক ধরার এ প্রতিযোগিতায় একক ডিপো হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বন্দরের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
    গত বছরের কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সংখ্যা অনুযায়ী পতেঙ্গার লালদিয়ার চর এলাকায় অবস্থিত ইনকনট্রেড লিমিটেড দ্বিতীয় এবং উত্তর পতেঙ্গায় অবস্থিত সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (পূর্ব ও পশ্চিম) তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০১২ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে পোর্টলিংক লজিস্টিকস সেন্টার লিমিটেড ও কেডিএস লজিস্টিকস লিমিটেড।
    চট্টগ্রামে ১৭টি বেসরকারি ডিপোতে গত বছর আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সংখ্যার ভিত্তিতে এ অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ১৭টি ডিপোতে ২০১৩ সালে আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৮টি (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ)।
    জানতে চাইলে এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আহসান আজিজ শেলী বলেন, গ্রাহকেরা সব সময় সেবার মান প্রাধান্য দেয়। এর বাইরে যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ততা, অভিজ্ঞ জনবল এবং তথ্যপ্রবাহকেও গুরুত্ব দেয়। শীর্ষস্থানে থাকার ব্যাপারে এ বিষয়গুলো ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।
    একক ডিপো হিসেবে এছাক ব্রাদার্স শীর্ষস্থানে থাকলেও একীভূত হওয়ার পর কোম্পানি হিসেবে সবার শীর্ষে আছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (এসএপিএল)। এ প্রতিষ্ঠানের তিনটি ডিপোতে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর মোট সংখ্যা ধরে এ হিসাব করা হয়েছে। একীভূত তিনটি ডিপোতে গত বছর আমদানি-রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয় প্রায় এক লাখ ১১ হাজার (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ)। অন্যদিকে এছাক ব্রাদার্সে প্রায় ৮৩ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়।
    এসএপিএলের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, কোম্পানি হিসেবে এখন সবার শীর্ষে এসএপিএল। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ওশান কনটেইনার লিমিটেড ডিপোটি এসএপিএল (পূর্ব ও পশ্চিম) ডিপোর সঙ্গে একীভূত হয়।
    গত বছরের তথ্যে দেখা যায়, শীর্ষস্থানে থাকা তিনটি ডিপো ছাড়াও বছরে ৫০ হাজারের বেশি কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে এমন ডিপো রয়েছে আরও তিনটি। এ তিনটি হলো কেডিএস, বিএম কনটেইনার ডিপো এবং পোর্টলিংক।
    রাজস্ব বোর্ডের নিয়মানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২৯ ধরনের আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার এসব ডিপোতে এনে খালাস বাধ্যতামূলক। গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক লাখ ৭০ হাজার ২১টি (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ)।
    আবার বন্দরে এখন কোনো রপ্তানি পণ্য কনটেইনারে বোঝাই হয় না। রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা থেকে এসব ডিপোতে এনে কনটেইনারে বোঝাই করে বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়। গত বছর এ সংখ্যা ছিল চার লাখ ২০ হাজার ৯৫৭ একক কনটেইনার। বাকি ১০ শতাংশ হয় ঢাকার কমলাপুর সরকারি কনটেইনার ডিপো এবং কারখানা চত্বর থেকে।
    আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহনের পাশাপাশি এসব ডিপো খালি কনটেইনারও সংরক্ষণ করে।
    ডিপোর কর্মকর্তারা জানান, রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের পরোক্ষভাবে ডিপোর গ্রাহক হিসেবে ধরা হয়। জাহাজ কোম্পানির প্রতিনিধি ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা সরাসরি বেসরকারি ডিপোর প্রধান গ্রাহক। ডিপো পছন্দের ক্ষেত্রে ডিপোগুলোর সেবা, বিপণন দক্ষতা, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করেন গ্রাহকেরা।
    প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রামে প্রথম এই শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে এই শিল্প স্থাপনে নিয়মকানুন জারি করা হয়। শুরুর দিকে খালি কনটেইনার সংরক্ষণাগার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ডিপোর কাজের পরিধি বাড়তে থাকে।
    চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও বন্দরের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের এক থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে মোট ২৬৮ দশমিক ২৬ একর জায়গায় এসব ডিপো গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ডিপোতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    twenty + eleven =