• দুশ্চিন্তা, হতাশায় অকাল মৃত্যুর সমূহ ঝুঁকি

    স্পর্শকাতর বা কোমল হৃদয়ের মানুষরা নিজেকে প্রকাশ করতে ভয় পান। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, হতাশার সঙ্গে অকাল-মৃত্যুর ওতোপ্রোত সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। একটি ভয়াবহ তথ্য উদঘাটন করেছেন তারা। যারা ক্রমাগত উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা আর হতাশায় ভোগেন, তারা নিজেদের অকাল-মৃত্যুর পথটাকেই ত্বরান্বিত করেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন ও এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির যৌথ এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে হতাশা আর উদ্বেগে ভোগার ফলে প্রতি বছর ৬৮ হাজার মানুষ গুরুতর হার্টের সমস্যা বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ও অকালে মৃত্যুবরণ করেন। যাদের বিষণœতা বা হতাশার মাত্রা তুলানামূলকভাবে কম, তাদের ক্ষেত্রে অকাল-মৃত্যুর ঝুঁকি ১৬ শতাংশ। কিন্তু যারা বেশি হতাশায় ভোগেন তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি ৬৭ শতাংশ। নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে থাকার প্রবণতা ও সমস্যাগুলোকে অন্যের সঙ্গে শেয়ার না করা তাদের মানসিকতাকে আরও জটিল করে তোলে। সামান্য বিষয় নিয়েও দুশ্চিন্তা তাদের গ্রাস করতে শুরু করে। তারা সমাজেই বাস করেন। কিন্তু অনেক মানুষের মধ্যেও তারা সম্পূর্ণ একা। কারণ, তাদের এ মানসিকতার কারণে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে সেটা পরিণত হয় জটিল মানসিক ব্যাধিতে। জীবনে একরাশ অপূর্ণতাকে সঙ্গী করে তারা চলে যান পরপারে। অনেকেই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে চান না। কারণ, তারা সমস্যার গভীরতা সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন না। আর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মনোরোগ চিকিৎসাকে অনেকটাই হীন দৃষ্টিতে দেখা হয়। তাই সমস্যা জটিল আকার ধারণ করার আগেই একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। কারণ, কাউন্সেলিংয়ে এ ধরনের সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই রোধ করা সম্ভব। আর আনুপাতিক হারে মৃত্যুহারও কমে আসবে অনেক। তাই প্রয়োজন সচেতনতা।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    1 × five =