• পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন বাড়ান হোক

    এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ৭ লাখ ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এ রকম প্রতিবছরই দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে। কিন্তু এর তুলনায় আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা খুবই কম। এমনকি গত বছর দেখা গেছে, যে পরিমাণ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ ৫ পেয়েছে, তাদের সংখ্যার অনুপাতেও সিট নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পর অনেকেরই আগ্রহ থাকে প্রথম দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কারণ অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে এখনও যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। তারপরও এগুলোতে পড়ার খরচ এত বেশি যে, অনেক মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যদিও শেষ ভরসা হিসেবে এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু সেখানে দীর্ঘ সেশনজট ও অনেক সমস্যার কারণে অনেকেই আগ্রহী হয় না। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছর হয়তো অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ছিটকে পড়ে পড়াশোনা থেকে। ভালো ফল করেও যখন কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় না, তখন অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ে এবং অন্য পথ ধরে।

    দেশে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৩৭টি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে আসন সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৮৪টি। এর মধ্যে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা ৭ হাজার দুটি। দেশের ৩১টি সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের আসন সংখ্যা ৩ হাজার ২৬২টি। ফলে আমরা দেখি, কঠোর প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। তারপরও সিট সংখ্যা বেশি হলে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেত।

    আসলে সব শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু তীব্র প্রতিযোগিতায় সেখানে সুযোগ না পেলেও দেশের যে কোনো একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অনেকে সন্তুষ্ট হয়। এর বাইরের চিত্র সুখকর নয়। তাই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিট সংখ্যা বৃদ্ধি করা উচিত। প্রয়োজনে আরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    nineteen + 6 =