• পুতিনেই বিশ্বাস ট্রাম্পের

    ভ্লাদিমির পুতিনে বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি করেন, ২০১৬ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বা তার দেশ হস্তক্ষেপ করেন নি। তার এ কথায় বিশ্বাস করেন ট্রাম্প। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালক বলছেন ভিন্ন কথা। তারা তাদের আগের কথায় অটল রয়েছেন। সিআইএ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে জানুয়ারিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে রিপোর্ট দিয়েছিল তারা সেই অবস্থানেই আছে।
    ওই রিপোর্টে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা বলেছিল, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। সিআইএ পরিচালক মাইক পোম্পেও বলেছেন, তিনি তার রিপোর্টে অটল আছেন। শনিবার ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অবস্থিত ডা নাং থেকে বিমানে উড়াল দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি জানিয়ে দেন, ডা নাংয়ে পুতিনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। পুতিন জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে নি। ট্রাম্প তার এ কথাই বিশ্বাস করেন। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সিআইএ’র প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তারা একটি বিবৃতি দেয়। তাতে বলা হয়, ‘এসেসিং রাশিয়ান অ্যাক্টিভিটিজ অ্যান্ড ইনটেনশনস ইন রিসেন্ট ইউএস ইলেকশনস’ শীর্ষক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে যে রিপোর্ট দিয়েছিল তার পক্ষেই আছেন সিআইএ পরিচালক এবং তিনি এর পক্ষে থাকবেন সব সময়। নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যে কোনো পরিবর্তন হয় নি’। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে সিআইএ। উল্লেখ্য, হ্যানয়ের বৈঠক শেষে এয়ারফোর্স ওয়ানে আরোহণ করেছেন তখন ট্রাম্প। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে ইঙ্গিত দেন, পুতিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করেন এবং তার প্রতি আস্থা রয়েছে তার। ওদিকে সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যেমন জেমস কমি, জন ব্রেনান, জেমস ক্লাপারের মতো উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বলেছেন, পুতিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ইস্যুতে নাজুক অবস্থানে আছেন ট্রাম্প। একে একে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে জেলে পাঠানো হয়েছে তার সাবেক নির্বাচনী ম্যানেজার পল ম্যানাফোর্ট ও তার এক ব্যবসায়ী সহযোগীকে। শোনা যাচ্ছে, রাশিয়া কানেকশন নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের হাতে রয়েছে ‘শক্তিশালী বোমা’। তার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে সামনের দিনগুলোতে। তাতে কাত হয়ে পড়তে পারেন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন, তার ছেলে বব ফ্লিন এমন কি ইঙ্গিত মিলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হতে পারে। যদি এমনটাই হয় তাহলে হোয়াইট হাউসে ঝড় বয়ে যেতে পারে। সে ঝড়ে এলোমেলো হয়ে যেতে পারে অনেক কিছু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পকে মসনদও হারাতে হতে পারে। এই যখন অবস্থা তখন হ্যানয়ের ডা নাংয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে পুতিনের। এ বিষয়ে তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমাকে একটু বিরতি দিন। তারা হলো রাজনৈতিক হ্যাকার। আপনারা তাদের দিকে তাকান, আমি বলতে চাইছি, আপনাদের সামনে আছেন ব্রেনান, ক্লাপার, কমি। এখন তো প্রমাণ হয়ে গেছে যে, (জেমস) কমি একজন মিথ্যাবাদী। তিনি তথ্য ফাঁসকারী এটাও প্রমাণিত। এসব বিষয়ে নজর দিন। আর আপনাদের সামনে আছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি খুব জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কিছুই করেন নি। এ বিষয়ে পুতিন বলেছেন, তিনি (নির্বাচনে) হস্তক্ষেপ করেন নি। হস্তক্ষেপ করেন নি। আমি তাকে আবারো এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আপনারাও অসংখ্যবার জিজ্ঞাসা করতে পারেন। উল্লেখ্য, ডা নাংয়ের সম্মেলনের ফাঁকে তিন দফা পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ট্রাম্পের। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে আসে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রতি বারই তিনি আমার দিকে তাকিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি এটা করি নি। ট্রাম্প বলেন, আমি তার এ কথা বিশ্বাস করি। বাস্তবেই বিশ্বাস করি। আমি মনে করি তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে তাকে অবমাননা করা হয়। এমন একজন নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে এসব কথা বলা হয়।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    sixteen − 9 =