• ফিলিস্তিনে নতুন গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে হামাস

    জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের ঘোষণা ফিলিস্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া। তিনি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার গাজায় দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

    তিনি বলেন, শুক্রবার দিনব্যাপী বিক্ষোভ আন্দোলনে যোগ দিয়ে একটি নতুন গণ-অভ্যুত্থান শুরু করার জন্য আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

    হানিয়া আরো বলেন, আগামীকাল আমাদের লোকেরা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ইন্তিফাদা (গণ-অভ্যুত্থান) শুরু করবে। বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।

    তিনি বলেন, হামাসের সকল ইউনিটকে যে কোন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    তিনি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া ভেঙ্গে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    এদিকে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনের গোলায় মধ্যে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার গ্রিস সফরের উদ্দেশ্যে রাজধানী আঙ্কারা ত্যাগ করার পূর্বে এসেবোগা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদেরকে তিনি এই কথা বলেন।

    ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘হে ট্রাম্প, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আপনি কী করতে চাচ্ছেন?’

    তিনি বলেন, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ এই অঞ্চলকে একটি আগুনের গোলার মধ্যে নিক্ষেপ করবে।’

    গত কয়েক দশকের মার্কিন নীতির প্রথা ভঙ্গ করে বুধবার হোয়াইট হাউজের কূটনৈতিক অভ্যর্থনা কক্ষে দেয়া ভাষণে জেরুজালেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠতে পারে।

    বুশ ও ক্লিনটন প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টা এবং উড্রো উইলসন সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যারন ডেবিড মিলার বলেন, ‘জেরুজালেমের স্থিতাবস্থায় কোনো আঘাত করলে এটির জ্বলে ওঠার প্রবণতা রয়েছে।’

    এরদোগান বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের উচিৎ শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, আগুন জ্বালিয়ে দেয়া নয়।’

    জেরুজালেমকে খ্রিস্টানদের জন্যও একটি পবিত্র স্থান উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান।

    এর আগে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এরদোগান। তিনি জেরুজিালেমকে মুসলিমদের জন্য একটি রেড লাইন বলে তিনি সর্তক করে দিয়েছিলেন।

    এদিকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে আগামী ১৩ ডিসেম্বর ওআইসির জরুরি বৈঠক ডেকেছে তুরস্ক।

    তুর্কি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বুধবার বলেছেন, জেরুজালেম ইস্যুতে স্পর্শকাতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আগামী ১৩ ডিসেম্বর ওআইসি’র সদস্য দেশগুলোর নেতারা ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসবেন। মুসলিম দেশগুলো জেরুজালেমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    6 − two =