• ফেনী আওয়ামী লীগ নেতার অভিযোগ নিজাম হাজারীর লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর লোকজন জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল হক। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে আজহারুল হক বলেন, সমপ্রতি ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যে হামলার ঘটনা ঘটে, সেটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। কারণ, সেদিন বেছে বেছে ডিবিসি, চ্যানেল আই, একাত্তর, বৈশাখী টেলিভিশন ছাড়া প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ পুরো ঘটনার নেপথ্য নায়ক নিজাম হাজারী। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত সংবাদ এসেছে। মূলত তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ হিসেবেই নিজাম হাজারী ক্যাডারদের দিয়ে ওই সব গাড়িতে হামলা চালায়।
    জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য আজহারুল হক অভিযোগ করেন, নিজাম হাজারীর ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রোষানলের কারণে তিনিসহ এলাকার অনেক নেতাকর্মী এখন এলাকাছাড়া। এমপির নামে চাঁদা আদায় করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ (সওজ), গণপূর্ত, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বিভিন্ন হারে কমিশন নেন নিজাম উদ্দিন হাজারী। এছাড়া তার নামে বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে টোল আদায় করা হয়। লিখিত বক্তব্যে আজহারুল হক অভিযোগ করেন, নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা ছিল। সেই মামলায় তিনি নির্দিষ্ট মেয়াদের কম সময় সাজা খাটেন। এ ঘটনায় একটি রিট করেন জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন। এলাকায় আজহারুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাখাওয়াত। রিট করার কারণে সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনসহ বিভিন্ন ধারায় অন্তত নয়টি মামলা করেছেন।
    তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে নিজাম হাজারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার ক্যাডার বাহিনী দ্বারা লুটপাট ও সীমাহীন অনিয়ম শুরু করেন। এসব কাজে যারা তাকে বাধা দিয়েছে তাদেরকে হুমকি-ধমকি ও সন্ত্রাসী হামলা বা পুলিশ প্রশাসন দ্বারা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছেন। তার জিঘাংসার প্রথম শিকার ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম। গত ২০১৪ সালে দিবালোকে তাকে হত্যা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, তার অবৈধ কার্যকলাপ মেনে নিতে পারিনি বলে আমার বিরুদ্ধে এমপি নিজাম হাজারী বিভিন্ন রকম চক্রান্ত শুরু করেন। তার আদেশ ও আঙ্গুলের ইশারায় গোটা প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে। আমি তার ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ব্যাপারে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান, জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা, জেলা তাঁতী লীগের উপদেষ্টা কাজী ফারুক প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    4 + ten =