• বরখাস্ত সাংবাদিককে ৫০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ

    রাজপরিবারের খবর প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় চাকরি হারানো বিবিসির সাংবাদিক ৫০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছেন। তাকে “অন্যায়ভাবে” বরখাস্ত করার কারণে লন্ডনের শ্রম ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষকে এই অর্থ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    চন্দনা কার্থি বান্দারা (৫৭) নামে ওই সাংবাদিক বিবিসির শ্রীলংকা অফিসে কাজ করতেন। তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ প্রযোজক।

    ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন চন্দনা। এর একদিন পরই ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স উইলিয়াম এবং কেট মিডলটন দম্পতির ঘরে আসে প্রথম সন্তান জর্জ।

    চন্দনা এই খবর প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন কারণ, সেটি ছিল একটি কালো দিন; “কালো জুলাই” এর ৩০তম বার্ষিকী। এই দিনে শ্রীলংকায় কয়েক হাজার তামিলকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি এই ঘটনার বার্ষিকীতে রাজপরিবারের সন্তান জন্মের খবরকে অগ্রাধিকার দিতে রাজি হননি। যদিও পরে খবরটি প্রচারিত হয়েছিল।

    চন্দনার বাবা শ্রীলংকান হলেও মা তামিল। তিনি ১৮ বছর ধরে বিবিসিতে চাকরি করছেন। সিংহল সার্ভিসে জ্যেষ্ঠ প্রযোজকের দায়িত্বে ছিলেন ২০০০ সাল থেকে।

    এই দীর্ঘ চাকরি জীবনে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম লঙ্ঘন বা দায়িত্বে অবহেলার কোনো রেকর্ড নেই। তারপরও ওই একটি কারণে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়।

    ঘটনার এক বছর পর ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট তাকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে আচরণ নিয়ে আবারো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে কর্তৃপক্ষ।

    অসদাচরণের একাধিক অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: এক সহকর্মী সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করা এবং অনেকের সাথে চিৎকার করে কথা বলা। কিছু অভিযোগ পুরোপুরি এবং কিছু আংশিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

    তারপরও ট্রাইবুনাল বলেছে, তাকে শেষ যে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয় সেটা ছিল অন্যায়। এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত মূলত তখনই হয়ে গেছে।

    চন্দনার অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলী নিয়ন্ত্রিত শ্রীলংকান সরকারের নিপীড়নের শিকার তামিল জনগণের বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করা হয়েছে।

    তবে ট্রাইবুনাল তার এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে।

    প্রিন্স জর্জকে কোলে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনবিচারক ভিভিয়েন গে বলেছেন, কর্তৃপক্ষ প্রিন্স জর্জের সংবাদ প্রচার না করার বিষয়টিই গুরুতর হিসেবে দেখেছে। তাদের সেই লিখিত নোটিশে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা সেটাই প্রমাণ করে। এ কারণেই চন্দনাকে বরখাস্ত করা অন্যায় হয়েছে।

    বিচারক বলেন, তবে এই চাকরিচ্যুতির পেছনে এমন আচরণের ভূমিকা আছে যা দোষণীয় বিবেচনা করা যায়। আদালত বিষয়টি অনুধাবন করেছে।

    এ কারণেই রায় ঘোষণায় চন্দনাকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ অর্ধেক করা হয়। তবে তাকে চাকরিতে ফেরানোর কোনো নির্দেশ দেননি বিচারক। তাকে ৫১ হাজার ৪২৮ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে খরচ বাবদ তার হাতে ১২শ পাউন্ড নগদ অর্থ তুলে দেন।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    four × 3 =