• বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের ভিড়

    ছুটির দিনগুলোতে জমে উঠছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। হাজার হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী মেলা প্রাঙ্গণে আসছেন। ঘুরে-ফিরে পছন্দের পণ্য কিনে ঘরে ফিরেছেন।
    গতকাল শনিবার ছিল মেলার অষ্টম দিন। দুপুরের দিকে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দলবেঁধে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সকাল থেকে মেলায় আসতে থাকেন মানুষ। বিকেলে এটি ছোটখাটো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রবেশ টিকিট ক্রয়ের পর্যাপ্ত বুথ থাকায় মেলায় ঢুকতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি দর্শনার্থীদের। গত শুক্রবারও সারা দিন প্রচুর দর্শনার্থী মেলায় আসেন বলে জানান বিক্রেতারা।
    মেলায় বরাবরের মতো গতকালও প্লাস্টিক পণ্যের স্টলগুলোতে ভিড় ছিল। এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়ামের গৃহস্থালি, ইলেকট্রনিক পণ্যসামগ্রী, ইমিটেশনের গয়না, প্রসাধনসহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে যেসব স্টলে, সেগুলোতে তরুণী ও নারী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
    আবার কাঠ ও প্লাইউডের আসবাবের স্টলগুলোও একইভাবে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে। মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, এবার বিক্রি-বাট্টা আশানুরূপ হচ্ছে। ফলে তাঁরা সন্তুষ্ট।
    বঙ্গবন্ধু স্মৃতি প্যাভিলিয়নেও সারা দিনই নানা বয়সের মানুষ ঘুরে দেখেছেন বিভিন্ন নিদর্শন। অন্যদিকে সুন্দরবন ইকো পার্ক ও তার সামনে ভ্রাম্যমাণ পার্কের বিভিন্ন রাইডে বাচ্চাদের ভিড় দেখা যায়। তবে কিছু স্টল খালি থাকায় মেলার সৌন্দর্য কিছুটা ম্লান হয়েছে। হরতাল-অবরোধের কারণেই সব স্টল ভাড়া হয়নি বলে মেলার আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কর্মকর্তারা জানান।
    আসবাবে মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি: নাভানা, আক্তার, হাতিল, ব্রাদার্স, পারটেক্স, নাদিয়াসহ দেশের আসবাবশিল্পের বড় ব্র্যান্ডগুলো প্রতিবারের মতো এবারও বাণিজ্য মেলায় অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন তৈরি করেছে। মেলা উপলক্ষে নিয়ে এসেছে নতুন নতুন আসবাব। আর ৫ থেকে ২০ শতাংশ মূল্যছাড় দেওয়ায় ক্রেতারাও কিনছেন।
    নাভানা ফার্নিচার এবার ১০৮ ধরনের নতুন পণ্য নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে আছে কাঠের বেড সেট, সোফা সেট, ডাইনিং টেবিল, ডিনার ওয়াগন, টিভি ট্রলি ও লাইফ স্টাইল পণ্য। প্রতিষ্ঠানটি মেলা উপলক্ষে সব পণ্যের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ মূল্যছাড় দিচ্ছে। অবশ্য এই সুযোগ সারা দেশের নাভানার বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে।
    নাভানার সহকারী ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) মো. মানিক দেওয়ান বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের কারণে এবার মেলায় অংশ নেব কি না, তা নিয়ে দোটানা ছিল। কিন্তু এখন আর সেটি নেই। আমরা আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছি।’ এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকার মতো আসবাব বিক্রি হয়েছে বলে জানালেন তিনি।
    আক্তার ফার্নিশার্স কাঠের আসবাবে এবার ১৫ শতাংশ মূল্যছাড় দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের কাঠের খাট ২৯ হাজার থেকে এক লাখ ৫০ হাজার, সোফা ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ, ডাইনিং সেট ৬০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করছে।
    এ ছাড়া রকিং চেয়ার, টিভি ট্রলি, আলমারিসহ গৃহসজ্জার অনেক পণ্যই নিয়ে এসেছে আক্তার ফার্নিচার। নাভানার মতোই এই প্রতিষ্ঠানটিও ঢাকার ভেতরে বিনা খরচে ক্রেতাদের বাসাবাড়িতে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা দিচ্ছে।
    প্রতিষ্ঠানটির উপব্যবস্থাপক মো. সাফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বর্তমানে কাঠের আসবাবের দিকেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তাই আমাদের প্রায় সব পণ্যই মেহগনি ও সেগুন কাঠের তৈরি।’ বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রচুর সংখ্যক দর্শনার্থী আসছেন। তবে বিক্রি এখনো তুলনামূলক কম।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    2 × 3 =