• মাদক পাচার রোধে চাই নিশ্চিদ্র পদক্ষেপ

    বাংলাদেশের জন্য একটি বড়ো ধরনের মাথাব্যাথা হলো চোরাচালান। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে নিষিদ্ধ পণ্য কোকেন আমদানি ঘটনা ধরা পড়েছে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এই পণ্য আমদানির পেছনে জড়িত রয়েছে দেশি-বিদেশি বিরাট চক্র। বলা হচ্ছে, এই মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে দুই প্রতিবেশি দেশ ভারত এবং মিয়ানমার-এর সাথে জল, স্থল, অন্তরীক্ষ সব পথেই আমাদের দেশে চোরাচালান হয়ে থাকে। উল্লেখ্য চোরাচালান দমনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সীমান্ত প্রহরীরা তৎপর হলে কয়েকদিন বন্ধ থাকে কিংবা সামান্য কমে, আর সীমান্তরক্ষীদের তৎপরতা শিথিল হলেই আবার শুরু হয়। চোরাচালানের তৎপরতা দেশের অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব রেখে যাচ্ছে। প্রায় সময় দেশের মূল্যবান সম্পদগুলো চোরাকারবারিদের মাধ্যমে পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরে। চোরা পথে আসা খাদ্যদ্রব্য হলে, তা পরীক্ষিত না হলে, হতে পারে জনস্বাস্থ্যের জন্যে হুমকিপূর্ণ। আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্যে হুমকিপূর্ণ এই চোরাচালান দমনে চাই কার্যকর পদক্ষেপ। প্রতিকার দরকার দেশের অর্থনীতির নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে।

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪ হাজার ৪ শত ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থল সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার কিলোমিটার বিজিবি টহল এবং ৪ শতাধিক সীমান্ত ফাঁড়ি রয়েছে। অনেক দুর্গম সীমান্ত এলাকায় কোন বিজিবি টহল নেই। এ অবস্থায় সীমান্ত এলাকায় প্রহরা দিয়ে চোরাচালান বন্ধ করা যে অত্যন্ত কঠিন তাতে সন্দেহ নেই। তবে, চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত প্রহরীরা যদি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে তাহলে চোরাচালান যে অনেকাংশে কমে আসবে এতে কোন সন্দেহ নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষাবাহিনীর সকলেই যদি জাতীয় স্বার্থের হানিকারক চোরাকারবারিদের পথে অব্যাহতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলে তা হলে চোরাচালান অনেকাংশে বন্ধ হতে বাধ্য। সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের রয়েছে প্রশংসনীয় ভূমিকা। এক্ষেত্রে দেশবাসী তাদের কাছ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি সুচারুরূপে পালনই প্রত্যাশা করে। দেশবাসীর আশা, আমাদের বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান, অবৈধভাবে মানুষের যাতায়াত, দেশি-বিদেশি সন্ত্রাসীদের যাওয়া-আসা, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও নারী-শিশু পাচারসহ দেশের স্বার্থ হানিকর বিষয়াদির বিরুদ্ধে কার্যকর ও ফলপ্রসূ ব্যবস্থা গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে। প্রয়োজনে দেশের স্বার্থ রক্ষায় তারা বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে সীমান্ত নিশ্চিদ্র করার পদক্ষেপ নেবেন।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    14 + ten =