• মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

    দেশের অভ্যন্তরেও ক্রমবর্ধমান তরুণ সমাজের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকা এবং নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ না হওয়া এ দুই কারণে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসন তথা মানব পাচার বাড়ছে। গত দেড় বছরে বঙ্গোপসাগর রুট ব্যবহার করে অন্তত ৯৪ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী পাচার হয়েছেন, যারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অধিবাসী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক, এর মধ্যে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি নাকি সমুদ্রেই মারা গেছেন! দেখা যাচ্ছে, অবৈধভাবে পাড়ি জমানোর জন্য অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জীবনের ঝুঁকি নিতেও পরোয়া করছেন না। সেদিক থেকে মানব পাচারের সমস্যাটি এখানে ঘোরতর বলা যায়। সুতরাং এদিকে সরকারের দ্রুত মনোযোগ কাম্য।

    কয়েক মাস আগেও বাংলাদেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহন করা নৌকা বিভিন্ন সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশ, বিশেষত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলে ভাসতে দেখা গেলেও সে দৃশ্য এখন কমে এসেছে। এর মানে এই নয় যে, মানব পাচার একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের ধীরে ধীরে মানব পাচারের হার কমিয়ে আনতে হবে। এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন মানব পাচারের অন্তরালের অনুঘটকগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধান করা। এক্ষেত্রে ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। সম্প্রতি সংস্থাটি অভিবাসী সমস্যা সমাধানে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এরই মধ্যে ২০ শতাংশ তহবিল পাওয়া গেছে। সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে সরকার চাইলে বাংলাদেশীদের বৈধ অভিবাসনের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের ক্ষেত্রে ওই তহবিল কাজে লাগাতে পারে। তবে সবচেয়ে মনোযোগ দিতে হবে নিজেদের কূটনৈতিক ব্যর্থতাগুলো খুঁজে বের করা; নজর দিতে হবে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে সেসব দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব দেশে এখন শ্রমিক রফতানি বন্ধ, সেসব দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণেও চাই সরকারের কূটনৈতিক সক্রিয়তা।

    গত দেড় বছরে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ার মতো প্রধান শ্রমবাজারগুলোয় সেভাবে শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও শ্রমিক পাঠানো যাচ্ছে না। মূলত এটি কাজে লাগিয়ে দালালরা সমুদ্রপথে মানব পাচার করে চলেছে। ফলে দালালদের নানা প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে প্রতারিত হয়েছেন অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ হলে মানব পাচার নিশ্চয়ই কমে আসত; কিন্তু সরকারের ভুল নীতি ও কূটনৈতিক ব্যর্থতায় সেটা সম্ভব হয়নি। মাঝে সরকার বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে বাদ দিয়ে সরকারিভাবে শ্রমিক পাঠানোর নীতি গ্রহণ করে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অনেক দেশই শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে বৈধ উপায়ে জনশক্তি রফতানির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এতে মানব পাচার বেড়ে যায়। সুতরাং এক্ষেত্রে সরকার কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।

    সর্বোপরি অবৈধ অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেও সরকারের বলিষ্ঠ উদ্যোগ নেয়া চাই। এক্ষেত্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণে সরকার অতি দ্রুত মনোযোগ দিবে বলে প্রত্যাশা।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    two − one =