• শিক্ষক আন্দোলন, অস্থির শিক্ষাঙ্গন

    বেতনবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আন্দোলন শুরু করলেও এখন সেটি কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষক পর্যায়ে চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনের পাশাপাশি কলেজের শিক্ষকেরা শনিবার ধর্মঘট পালন করেছেন, প্রতীকী কর্মবিরতিতে আছেন প্রাথমিক শিক্ষকেরাও। এর পাশাপাশি দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ চলা সত্ত্বেও সরকারের তরফে একধরনের নীরবতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা দুর্ভাগ্যজনক। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পৃথক বেতনকাঠামো সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেও তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোয় শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে—এই অভিযোগে শিক্ষকেরা মাঠে নেমেছেন। কিন্তু এর প্রতিকারে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেই। বরং নীতিনির্ধারকদের কারও কারও বেফাঁস মন্তব্য পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক—সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের কর্মবিরতির ক্ষতিও অনেক, যা টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা যায় না। এ অবস্থায় প্রত্যাশা, সরকার শিক্ষার সংকটের গভীরতা অনুধাবন করবে এবং আন্দোলনরত সব শ্রেণির শিক্ষকদের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনায় বসে একটা সমঝোতায় পৌঁছাবে।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    5 × 1 =