• ২০ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রিজার্ভ

    1397151290.রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি শ্লথ হয়ে এলেও আমদানি কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ২ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই প্রথম রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে  বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার যা গত বছরের একই তারিখে ছিল ১৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন। গত এক বছরে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে দেশের ৬ মাসেরও অধিক সময়ের আমদানি দায় পরিশোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
    গত বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। তখনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা অচিরেই রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের আশা প্রকাশ করেছিলেন। ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার।
    গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। পরে ৫ মার্চ আকুর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের ৯৬ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর তা ১৯ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়ায় ১৯ মার্চ রিজার্ভ আবারো ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে ১২৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা এ যাবতকালে দেশে আসা তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি খাদ্য আমদানি না হওয়াই রিজার্ভ বাড়াতে অবদান রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এছাড়া মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানি ব্যয় কমে গেছে। এ কারণে গত বছরের চেয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ রেমিট্যান্স কমলেও রিজার্ভ বেড়েছে।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার স্থিতিশীল বিনিময় হার বজায় থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি সহায়তা তহবিলের (রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল) পরিমাণ ও এর ব্যবহারের আওতা সম্প্রসারণ করায় এবং রপ্তানিকারকদেরকে সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনার ফলে রপ্তানি আয় বাড়ে। প্রবাসী আয়ের সন্তোষজনক প্রবাহ অব্যাহত থাকে। বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য খাতে আমদানির পরিমাণ কমেছে। বহির্বিশ্বে খাদ্য পণ্যের দাম হ্্রাস পাওয়ায় ও জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকায় সার্বিকভাবে আমদানি দায় হ্রাস পেয়েছে। এগুলো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে।
    রিজার্ভ স্থিতি বিবেচনায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। ভারতের রিজার্ভ স্থিতি ৩০৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থ’নে অবস্থানকারী পাকিস্তানের রিজার্ভ স্থিতি ৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের বর্তমান স্থিতি দ্বারা বাংলাদেশের পক্ষে ইন্টারনাল বা এক্সটারনাল যে কোন অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    twenty − four =