• ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ হয়ে তিন হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানিয়েছেন। প্রতি মাসে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে নয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তবে আগামী সপ্তাহেই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ৭৯ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ফের ৩২ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে আসবে। সোমবার আকুর এই দেনা শোধ করা হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রিজার্ভ। গত ১ সেপ্টেম্বর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ১০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে এলে ভাবমূর্তি নষ্ট হবে বলে ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো আকুর আমদানি বিল বকেয়া রাখতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ। ১৬ বছরের মাথায় সেই রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এই হিসাবে গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়েছে ৩২ গুণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স কমেছে ১৫ শতাংশের বেশি। এরপরেও রিজার্ভ বাড়ার কারণ হিসেবে আমদানি কম হওয়ার কথা বলছেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত। তিনি বলেন, “আমদানিও কমেছে। সে কারণেই রিজার্ভের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।” এছাড়া এরজন‌্য ফরেন এইড (বিদেশি সাহায্য) বেশি ছাড় এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারার কথাও বলছেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব‌্যাংক অর্থ খোয়ানোর পর নানা ধরনের সমালোচনার মধ্যে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতির এই গবেষক। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষদিকে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছিল। এরপর বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভ ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি। তখন আকুর বিল বাবদ ২০ কোটি ডলার পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু তাতে রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসত। রিজার্ভ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে, বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফসহ দাতাদের সহায়তা পাওয়া যাবে না- এই বিবেচনায় আকুর দেনা পুরোটা শোধ না করে অর্ধেক দেওয়া হয়েছিল তখন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ওই একবারই আকুর বিল বকেয়া রাখা হয়েছিল বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশকে দুই মাস পরপর পরিশোধ করতে হয় আকুর বিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। আর চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিটেন্স কমেছে ১৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। তবে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের আগের বছরের চেয়ে রপ্তানি আয় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছিল। আর চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের দুই মাসের (জুলাই-অগাস্ট) আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    1 × two =