• তার জন্ম এক ক্যাথলিক পরিবারে। ধর্মটি তার মনকে তৃপ্ত করতে পারতো না। আপন মনে চিন্তা করেছেন, জীবনের চুড়ান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী? কোন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বিশ্ব-সংসারে এত কিছুর আয়োজন? কী করলে পাওয়া যাবে আত্মার শান্তি?
    বলছিলাম বর্তমান সময়ে পিস টিভির জনপ্রিয় বক্তা ও ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ একাডেমির চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম গ্রিনের কথা। তার জন্ম ১৯৬২ সালে তানজানিয়ার রাজধানী দারুস সালামে। জন্ম সূত্রে নাম ছিল এ্যান্থনি ভ্যাটসফ গ্যালভিন গ্রিন। বাবা ছিলেন বিলুপ্ত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ঔপনিবেশিক প্রশাসক। মা ছিলেন রোমান ক্যাথলিক। তিনি চেয়েছিলেন তার দুই ছেলে যেন আদর্শ ক্যাথলিক হিসেবে বড় হয়। এজন্য তাদের একটি বিখ্যাত রোমান ক্যাথলিক আবাসিক স্কুলে ভর্তি করা হয়। স্কুলটির নাম অ্যামপ্লিফোর্থ কলেজ, উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে অবস্থিত। আব্দুর রহিম গ্রিন তার নিজের সম্পর্কে বলেন-
    ”আমার বয়স যখন ২ বছর তখন আমরা দারুস সালাম ছেড়ে চলে আসি। আমার ছোট ভাইয়ের জন্ম লন্ডনে। যখন তার বয়স প্রায় ৮ বছর আর আমার প্রায় ১০ বছর তখন আমাদেরকে সেই আবাসিক স্কুলে পাঠানো হয়। এক রাতে মা আমাকে একটি প্রার্থনা শেখালেন, যে পদ্ধতিতে ক্যাথলিকরা প্রায়ই উপাসনা করে থাকে। এই উপাসনা এভাবে শুরু হয়- ‘হে মেরি! ঈশ্বরের জননী, তুমি আশীর্বাদ করো সকল মহিলাকে এবং আর্শীবাদ করো তোমার গর্ভের সন্তান যিশুকে।’ মনে মনে ভাবলাম, ঈশ্বরের কিভাবে মা থাকতে পারে? ঈশ্বর তো এমন, যার কোনো শুরু নেই এবং শেষও নেই। তাহলে কিভাবে ঈশ্বরের মামনি থাকতে পারে? বসে বসে এই ঈশ্বরের মা সম্বন্ধে চিন্তা করতে লাগলাম এবং নিজেই একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম। যদি মেরি ঈশ্বরের গর্ভধারিণী মা হয়েই থাকেন, তবে তাকেই তো প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বর অপেক্ষা বড় ঈশ্বর গণ্য করা উচিত।”
    greenw3333
    স্কুলে যাওয়ার পর বেশি বেশি পড়াশোনা এবং চিন্তা ও গবেষণা করতে শুরু করলাম। তখন মাথার মধ্যে আরো প্রশ্ন ভাসতে লাগল। স্কুলে আমাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘পাপ’ স্বীকার করতে হতো। যাজক বলতেন, ‘তোমাদেরকে অবশ্যই ছোট-বড় সকল অপরাধ স্বীকার করতে হবে। যদি সব পাপ স্বীকার না করো, তবে পাপ স্বীকারের কোনো মূল্যই নেই এবং তোমাদের কোনো পাপই ক্ষমা করা হবে না। এটা হলো একটা মারাত্মক সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র, যাতে পাপ স্বীকার করিয়ে সাধারণ মানুষদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আমি তাদের প্রশ্ন করতাম, কেন আপনাদের কাছে নিজের সব পাপকর্ম স্বীকার করব? কেন সরাসরি ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চাইতে পারব না? আসলে বাইবেল অনুযায়ী যিশু বলেছেন, শুধু পিতার (ঈশ্বর) কাছেই আমাদের অপরাধ মার্জনার জন্য প্রার্থনা করা প্রয়োজন। তবে কিসের জন্য যাজকের শরণাপন্ন হতে হয়? তারা আমাকে বোঝাতেন; ঠিক আছে, তুমি ঈশ্বরের কাছেও ক্ষমা চাইতে পার, যদি তুমি চাও। কিন্তু তুমি নিশ্চিত হতে পার না ঈশ্বর তোমার নিবেদন আদৌ শুনবেন কি-না। ব্যাপারটা নিয়ে সমস্যায় পড়লাম। চার্চের অন্য মতাবাদগুলো নিয়েও সমস্যায় পড়লাম। তবে সবচেয়ে বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়লাম যে মতবাদ নিয়ে তা হলো অবতারবাদ- একটা ধারণা যা বলে ঈশ্বর মানুষ হয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন।
    যখন ১১ বছরে পা দিই ঠিক তখনই বাবা মিশরে একটি চাকরি পেলেন। তিনি বার্কলেস ব্যাংকের কায়রো শাখার মহাব্যবস্থাপক হলেন এবং তার ফলে আমার পরবর্তী ১০ বছরের ছুটিগুলো মিসরেই অতিবাহিত হয়েছিল। কাজেই আমাকে ইংল্যান্ডের স্কুলেও যেতে হতো, আবার ছুটি পেলে মিশরেও আসতে হতো। আপনারা জানেন, পশ্চিমা সমাজ আমাদের একটা সমীকরণ শিক্ষা দিয়ে থাকে। তারা বলে, ধন-সম্পদ = সুখ-শান্তি। আপনি যদি সুখি হতে চান এবং জীবনটাকে ভালোভাবে উপভোগ করতে চান, তবে আপনার দরকার প্রচুর টাকা-পয়সা। যদিও বাস্তবে ব্যাপারটা আদৌ তা নয়।
    স্কুল আমার কখনোই ভালো লাগত না। নিজেকে প্রশ্ন করতাম, আমি তো আবাসিক স্কুল একদমই পছন্দ করি না তাহলে কেন আমি আমার সবকিছু, সব আত্মীয়-পরিজন ছেড়ে শত শত মাইল দূরবর্তী ইয়র্কশায়ার মুরসের এই স্থানে পড়ে আছি। যখন ইংল্যান্ডে ফিরে যেতাম তখন ভাবতাম, কেন আমি এখানে? আরো ভাবতাম, জীবনের লক্ষ-উদ্দেশ্য কী? কিসের জন্য আমরা বেঁচে আছি? এত সব কিছুর অর্থ কী? ভালোবাসা মানে কী? আমাদের জীবন কিসের জন্য? এই জীবনের প্রকৃত স্বরূপই বা কেমন? এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতে থাকলাম এবং অবশেষে একটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দাঁড় করালাম। আমি আজ এই স্কুলে আছি কঠোর পরিশ্রম করার জন্য, যাতে পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে পারি, যাতে কোন ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারি, যাতে ভালো বেতনের একটা চাকরি পাই যা আমাকে অঢেল টাকার যোগান দেবে। যাতে করে যখন আমি বিয়ে-শাদি করব এবং আমার ছেলেমেয়ে হবে তখন যেন আমি তাদের সেই একই রকম ব্যয়বহুল প্রাইভেট স্কুলে পাঠাতে পারি এই তো! এটাই তো আমাদের সবার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য! তাহলে এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্যই কি বিশ্ব-সংসারে এত কিছুর আয়োজন? মনে মনে বললাম, অসম্ভব। এটাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হতে পারে না। তাহলে জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য কী?
    ১৯ বছর বয়সে আমার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। যে ১০ বছর আমি মিসরে ছুটি কাটিয়েছিলাম সে দীর্ঘ সময়ে শুধু একজন ব্যক্তির সাথেই ইসলাম নিয়ে আমার গঠনমূলক আলোচনা হয়েছিল।
    ৪০ মিনিট ধরে চলা সেই কথোপকথনের শেষে তিনি আমায় কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন করলেন, যেগুলো আজ পর্যন্ত আমার মস্তিষ্কে বিঁধে হয়ে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সুতরাং আপনি বিশ্বাস করেন যে, যিশুই হলেন ঈশ্বর? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আপনি বিশ্বাস করেন যিশু ক্রশবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন? জবাব দিলাম, হ্যাঁ, নিশ্চিতভাবে। তখন তিনি তার মোক্ষম অস্ত্রটি ছুঁড়লেন, তাহলে আপনি বিশ্বাস করেন ঈশ্বর মারা গেছেন? তিনি যখন এই বাক্যটি উচ্চারণ করলেন, তখন মনে হলো যেন এইমাত্র মাইক টাইসন তার মুষ্টি দিয়ে আমার মুখে জোরসে এক ঘুসি মারলেন। আমি সম্পূর্ণরূপে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ সাথে সাথেই আমি আমার বিশ্বাসের অযৌক্তিকতা এবং নিজের বোকামিটা ধরতে পেরেছিলাম। অবশ্যই এটা বিশ্বাস করা যায় না, ঈশ্বর মারা গেছেন। আপনি তো ঈশ্বরকে খুন করতে পারেন না। এতদিন ধরে আমাকে যা কিছু জানানো হয়েছে, যা কিছু শেখানো হয়েছে, যেগুলো নিয়ে আমি সব সময়ই অস্বস্তিতে থাকতাম সেই সব শিক্ষার অসারতা আমার কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে গেল। উপলব্ধি করলাম, না। আমি তো বিশ্বাস করি না যে, ঈশ্বর মারা গেছেন। কিন্তু আমি সেই লোকের সামনে তা স্বীকার করতে রাজি ছিলাম না। তাই বললাম, ওহ এটাতো কৌতূহলোদ্দীপক। কিন্তু আমাকে এখন বাড়ি ফিরতে হবে। বিদায়। আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে চাচ্ছিলাম না। তাই সেখান থেকে চলে এলাম। সেই কথোপকথনটা ছিল আমার জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। 148851_15
    ১৯-২০ বছর বয়সে আমি ছিলাম এক হিপ্পি। সে সময় আমি নিজের জন্য এক নতুন ধর্ম উদ্ভাবন করলাম। যা ছিল এক জগাখিচুরি ধর্ম। কারণ যে সব ধর্ম নিয়ে আমি পড়াশোনা করেছিলাম সেগুলোর প্রত্যেকটি থেকে কিছু কিছু অংশ একত্রিত করে আমি সেই বিশেষ ধর্ম উদ্ভাবন করলাম। কিন্তু এই নব্য ধর্ম নিয়ে আমি বেশি দূর এগোতে পারিনি। কারণ এটা ছিল এক রকম ময়লা আবর্জনার স্তূপ। যে সব বিধি-বিধান আমি সে ধর্মে যোগ করেছিলাম, সেগুলো ছিল একেবারেই জঘন্য।
    মনে মনে ঠিক করলাম, তাহলে কুরআন নিয়ে একটু চেষ্টা করা যাক। বলা যায় না, সেখানে কোনো অমূল্য রতন থাকলেও থাকতে পারে। আমি কুরআনের একটা অনুবাদ কিনে ফেললাম। শুধুমাত্র কৌতূহলই আমাকে কুরআনের সংস্পর্শে নিয়ে এলো। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মনে আমি কুরআন পড়া শুরু করেছিলাম। কেবল জানার আগ্রহ জেগেছিল যে, এই গ্রন্থ কী বলে। পরিষ্কারভাবে মনে আছে, তখন আমি ট্রেনে ছিলাম। লন্ডনে টেম্স নদীর তীরে আমি বাস করতাম। সেখান থেকে ট্রেনে চেপে ভিক্টোরিয়া যাচ্ছিলাম। ট্রেনের জানালার পাশের সিটে বসে কুরআনের অনুবাদ পড়তে লাগলাম। কিছুক্ষণ পড়ার পর অনুধাবন করলাম, যদি আমি জীবনে কোনো ঐশরিক গ্রন্থ পড়ে থাকি তবে তা এটাই। সত্যি বলতে কী ঐ মুহূর্তেই আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম এবং বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম যে, কুরআন হলো আল্লাহর বাণী। তারপর একদিন কোনো এক মসজিদের লাইব্রেরিতে গিয়ে উপস্থিত হলাম। সেখানে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জীবনী এবং বিভিন্ন ইবাদাত-বিষয়ক বেশ কিছু বই দেখে বেজায় খুশি হলাম। হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে পাশে দাঁড়াল এবং জানতে চাইল, দুঃখিত, আপনি কি মুসলিম? মনে মনে বললাম ‘আমি মুসলিম? কী বলছে লোকটা? তাকে জবাব দিলাম, দেখুন, আমি শুধু বিশ্বাস করি, ঈশ্বর মাত্র একজনই যিনি আল্লাহ এবং মুহাম্মাদ (ছা.) হলেন তার বার্তাবাহক। তিনি বললেন, তাহলে তো আপনি মুসলিম। আমি বললাম, সত্যি? আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তারপর তিনি বললেন, এখন ছালাতের সময়। আপনি কি ছালাতে আসতে চান? সম্ভবত সেদিন ছিল শুক্রবার। কারণ দিনের মধ্য ভাগেই মসজিদটি ভরে গিয়েছিল। কিন্তু আমি তো তখনো জুমার ছালাত সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তবুও মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং সালাতে দাঁড়ালাম। তারপর সালাত শুরু হতেই হতবিহবল হয়ে পড়লাম। আমার ধারণা, পুরোটা সময়ই আমি উল্টাপাল্টাভাবে সালাতের আহকাম আরকানগুলো আদায় করেছিলাম। এখনও স্পষ্ট মনে আছে, সেদিন ছালাত শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মসজিদের মুসল্লিরা আমাকে ঘিরে ধরল এবং তাদের প্রত্যেকেই মাত্র ৫ মিনিটে আমাকে সম্পূর্ণ ইসলামটাই শেখাতে চাইল। এমন এক বিস্ময়কর অনুভূতি নিয়ে আমি সেদিন মসজিদ থেকে বের হয়েছিলাম যেন এইমাত্র আমার বিক্ষিপ্ত, উত্তপ্ত আত্মাকে কেউ যেন ঠান্ডা পানি দ্বারা ধুয়ে দিল। কল্পনার সুখরাজ্যে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে দেখতে পেলাম আমি শুভ্র, সুন্দর, স্নিগ্ধ মেঘের উপর দিয়ে হাঁটছি। এটা ছিল আত্মিক পরিতৃপ্তির এক অসাধারণ অনুভূতি।

    ইতিমধ্যে আমি সত্যি সত্যিই মনে প্রাণে ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধানে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলাম। তা সত্ত্বেও সম্পূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করতে প্রকৃতপক্ষে আমার আরো প্রায় ২ বছর সময় লেগেছিল। আলহামদুলিল্লাহ পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহতাআলা আমাকে সে যন্ত্রণাময় জীবন থেকে মুক্ত করেছেন, আমায় পথ দেখিয়েছেন। এক সময় আমি প্রত্যহ পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করা শুরু করলাম। আল্লাহর কাছে শপথ করলাম যে, যদিও আমি ছালাতের নিয়ম-কানুন, দো‘আ-দরূদ কিছুই ভালো করে জানি না। তবুও অন্য কোনো ইবাদাত না করলেও আমি নিয়মিত সালাত আদায় করবই। এই চ্যালেঞ্জটা আমি খুব গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করলাম এবং সফলও হলাম। যখন ছালাত সঠিকভাবে আদায় হবে, দেখবেন আপনার সম্পূর্ণ জীবটাই পাল্টে যাবে।
    মুসলিম হওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল জানতে চাইলে আব্দুর রহিম গ্রিন বলেন, একটা উপমার সাহায্যে বোঝানোর চেষ্টা করছি। ধরে নিন, এক অমাবশ্যার রাতে আপনাকে কেউ সম্পূর্ণ অচেনা একটি পরিত্যাক্ত নির্জন ভুতুড়ে বাড়িতে নিয়ে গেল, যে বাড়ির সর্বত্র চেয়ার, টেবিল, ল্যাম্প ইত্যাদি ভাঙা জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো রয়েছে। তারপর সেই নিকষকালো অন্ধকার বাড়িতে আপনাকে একাকী রেখে বাকি সবাই দরজা বন্ধ করে চলে গেল। আর কোনো পথ না পেয়ে আপনি বের হবার পথ খুঁজতে আরম্ভ করলেন যদিও কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। ফলে এটা ওটার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলেন এবং প্রচন্ড আঘাত পেলেন। কিন্তু মুক্তির কোনো রাস্তা খুঁজে পেলেন না। কাজেই বাধ্য হয়েই আপনাকে সেই অন্ধকার জগতেই বাস করতে হল। কুফরি ব্যাপারটিও ঠিক এমন। আপনার ক্ষেত্রেও ঠিক এমনই ঘটছে, যখন আপনি ইসলাম থেকে বহু মাইল দূরে আছেন। আপনি যেন আঁধার জগতের বাসিন্দা। আপনার আসল গন্তব্য কী তা আপনি জানেন না। কোত্থেকে এসেছেন তাও আপনার অজানা। আপনি এও জানেন না, মানবজীবন বাধা-বিপত্তি, চড়াই-উৎরাই, সমস্যা-সংকটে পরিপূর্ণ এক অত্যন্ত দুর্গম পথ। আর সেই পথ নিরাপদে পাড়ি দেয়ার উপায়ও আপনার সম্পূর্ণ অজানা। একমাত্র ইসলামই পারে সেই আঁধার ঘরের দরজা উন্মুক্ত করতে, যাতে আপনি যন্ত্রণাময় জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে আলোকময় জগতে পা রাখতে পরেন। তখন সবকিছুই আপনার কাছে স্বচ্ছ হয়ে যাবে এবং অনুধাবন করতে পারবেন সত্যি সত্যিই আপনি বেঁচে আছেন না ইতিমধ্যে আপনার আত্মার মৃত্যু ঘটেছে। ইসলাম বয়ে আনে জ্যোতি, তৃপ্তি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি। তাই তো ইসলাম এত মহান! এভাবেই ইসলামের তুলনা করা যেতে পারে।
    মুসলিম হওয়ার পর এখন বাবা-মার সাথে আমার সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক অনেক ভালো আলহামদুলিল্লাহ্। আমি বিশ্বাস করি, আপনি যদি বাস্তবিকই বাবা-মার সাথে সদ্ব্যবহার করতে সক্ষম হন, তবে তারা নিঃসন্দেহে স্বীকার করতে বাধ্য হবেন, ইসলাম আপনাকে আরো দায়িত্ববান করেছে। ইসলাম মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি নম্রতায় অবনমিত করে সর্বোচ্চ সুন্দর ও শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়। যদি এমন আচরণ করা যায় তবে অমুসলিম পিতা-মাতারাও বলতে বাধ্য হবেন যে, ‘ইসলাম এমন এক ধর্ম যা আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে এবং আমাদের সাথে আমাদের সন্তানদের সম্পর্ক আরো উষ্ণ করে তুলে। আলহামদুলিল্লাহ, বাবা-মার সাথে আমার সম্পর্ক সত্যিই খুব ভালো।
    ফেসবুক : https://www.facebook.com/AbdurraheemGreen/
    টুইটার : https://twitter.com/AbduraheemGreen
    ওয়েবসাইট : http://www.iERA.org

    তথ্যসূত্র : ওয়েবসাইট

    Comments

    comments

    No Comments

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    3 × one =