• ?????: রাজনীতি

    খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক

    দলীয় চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বিএনপি। আগামী ২০ জুলাই শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    রবিবার নয়াল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

    চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এরপর থেকে তিনি পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। দণ্ড পাওয়া মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি কারাগারেই রয়েছেন।

    সিলেটে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেবে জামায়াত: ফখরুল

    সিলেট সিটি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জামায়াতে ইসলামী ২০ দলের প্রার্থী হিসেবে আরিফুল ইসলামকে সমর্থন করবে। তারা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের ২০ দলীয় জোটের মধ্যে কোনও বিবেধ নেই। সিলেট সিটিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে, এটি নিয়ে ঐক্য নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি জাতীয় নর্বাচনের কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমরা আশা করি সিলেটে জামায়াত বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। আমাদের ঐক্য অটুট থাকবে।’

    শনিবার (১৪ জুলাই) বিকেলে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজ জোটের বৈঠকে সিলেটে মেয়র নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে এখনও তাদের প্রার্থী আছে। আমরা বসে নেই এখনও তাদের সাথে আলোচনা চলছে। জামায়াতের মোবারক হোসাইন বৈঠকে ছিলেন তার সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নেই। তিনি আমাদের অনুরোধটি তার দলের নেতাদের অবহিত করবেন। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিই সিদ্ধান্ত হবে।’

    নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিএনপিসহ জোটের নেতারা জামায়াত ইসলামকে অনুরোধ করেছি গণতন্ত্র, ঐক্য ও জাতির স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়ার। আমরা আশা করবো জোটের প্রার্থীর বিজয় ও ঐক্যের কথা বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। কারণ রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে পারিনা। আমরা আশা করবো সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জোটের ঐক্য ও বিজয়ের কথা চিন্তা করে জামায়তকে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

    জোটের বৈঠকে জোটের শরিক জাতীয় পার্টির কাজী জাফরের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের স্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলীর গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ জানিয়েছে ২০ দল। জোট এসব হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। ওইসময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশের নিশ্চুপ থাকার বিষয়ে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামির কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন ভূইয়া, বিজেপি আন্দালিব রহমান পার্থ, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমদ, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবীব লিঙ্কন, লেবার পার্টির একাংশের সভাপতি ড.ডা.মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব গোলাম আজগর ও জমিয়ত উলা আল ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ।

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে মধ্যস্থতার আহ্বান খালেদা জিয়ার

    ঢাকায় সফররত চীনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেশের চলমান সার্বিক পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে খালেদা জিয়ার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
    বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আজ সন্ধ্যায় বৈঠকে শেষে একথা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছেন।
    বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিকে নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা সরকারের দায়িত্ব।
    আজ বিকেলে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে। এবার আর তারা ভুল করবে না। আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রীর এসব কথার জবাবে ফখরুল এই মন্তব্য করেন।
    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর যেসব কথা বলেছেন তা হাস্যকর বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেশি কথা বলার কারণে জনগণের কাছে প্রধানমন্ত্রী তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন।
    বিএনপি কোন সংঘাত চায় না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অহংকার করে কথা বলে দেশ চালানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহবুবুর রহমান, বিএনপি নেতা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

    ‘জাহান্নামে যাওয়ার জন্য তৈরি হোন’, অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকি

    রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে এ হুমকি দেওয়া হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনার দিন ফুরিয়ে আসছে। জাহান্নামে যাওয়ার জন্য তৈরি হোন।’

    তিনি বলেন, হত্যার হুমকি পেয়ে শাহবাগ থানায় জানানো হয়েছে।

    এর আগেও একাধিকবার তিনি এ ধরনের হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানান ।

    শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার (এসআই) দেবরাজ চক্রবর্তী জানান, এখনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। তবে অ্যার্টনি জেনারেলের কার্যালয়ের লোকজন থানায় রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার মেয়ে শিশির কণাকে হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা।

    ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: ফখরুল

    খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি সংক্রান্ত বক্তব্য বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

    শুক্রবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বৃহস্পতিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সৌদিতে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার বিশাল শপিংমল ও সম্পদ পাওয়ার খবর বিদেশ থেকে এসেছে। টাকা পাচার, মানিলন্ডারিং বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার ছেলেরা করেছে।

    এসব বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফখরুল।

    এরশাদের পতন: পর্দার আড়ালে যা ঘটেছিল

    ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসের এক তারিখে ঢাকা সেনানিবাসে এক জরুরী বৈঠকে বসেন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা।

    সে বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, সে প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হওয়া উচিত সে বিষয়ে আলোচনা করা। জেনারেল এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। এর কয়েকদিন আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় চিকিৎসক নেতা ডা: শামসুল আলম মিলনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

    সেনানিবাসের ভেতরে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে দেশের চলমান সংকট একটি রাজনৈতিক বিষয় এবং এ সঙ্কট সমাধানের জন্য রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা আরো সিদ্ধান্ত নিলেন যে চলমান রাজনৈতিক সংকটে সেনাবাহিনীর করনীয় কিছু নেই। এমন অবস্থায় প্রেসিডেন্ট এরশাদ সেনা সদরকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে দেশে সামরিক আইন জারী করা হবে।

    এরপর ডিসেম্বরের তিন তারিখে তখনকার সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নূর উদ্দিন প্রেসিডেন্ট এরশাদের সাথে দেখা করতে যান। সেনা কর্মকর্তারা চেয়েছিলেন যে সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নূর উদ্দিন যেন প্রেসিডেন্ট এরশাদকে পদত্যাগের জন্য সরাসরি বলেন।

    কিন্তু সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট এরশাদকে সরাসরি পদত্যাগের কথা না বললেও তিনি জানিয়ে দেন যে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর অফিসাররা কোন দায়িত্ব নিতে রাজী হচ্ছে না। তখন ঢাকা সেনানিবাসে ব্রিগেডিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন আমিন আহমেদ চৌধুরী, যিনি পরবর্তীতে মেজর জেনারেল হয়েছিলেন। মি: চৌধুরী ২০১৩ সালে পরলোকগমন করেন।

    ২০১০ সালে বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাতকারে জেনারেল চৌধুরী বলেন, ” উনি (সেনাপ্রধান) প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন আপনার উচিত হবে বিষয়টির দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান করা। অথবা বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেয়া।”

    জেনারেল এরশাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক শাসন জারীর বিষয়ে সেনাবাহিনী একমত নয় বলে প্রেসিডেন্টকে পরিষ্কার জানিয়েছিলেন তখনকার সেনাপ্রধান। প্রেসিডেন্টের সাথে সেনাপ্রধানের বৈঠক নিয়ে তখন দেশজুড়ে নানা গুঞ্জন। সেসব বৈঠক নিয়ে নানা অনুমান তৈরি হয়েছিল সে সময়।

    একদিকে ক্যান্টনম্যান্টের ভেতরে নানা তৎপরতা অন্যদিকে রাস্তায় এরশাদ বিরোধী বিক্ষোভ। সব মিলিয়ে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল। ডিসেম্বর মাসের চার তারিখে সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম প্রেসিডেন্ট এরশাদকে সরাসরি বলেন যে তার পদত্যাগ করা উচিত।

    “পদত্যাগের কথাটা জেনারেল সালামই প্রথম সরাসরি বলেন। অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আর্মি অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে,” বলছিলেন আমিন আহমেদ চৌধুরী।

    জরুরী অবস্থা এবং কারফিউর মতো কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমেওে যখন গণআন্দোলন দমানো যাচ্ছিল না তখন সেনাবাহিনীর দিক থেকে নেতিবাচক মনোভাব দেখলেন মি: প্রেসিডেন্ট এরশাদ। এমন অবস্থায় ডিসেম্বরের চার তারিখ রাতেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন জেনারেল এরশাদ। তখন এরশাদ সরকারের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন মওদুদ আহমেদ. যিনি বর্তমানে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা। মি: আহমেদ জানালেন সেনাবাহিনীর মনোভাব বোঝার পরেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি মি: এরশাদ।

    সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন মোকাবেলার জন্য তিনি সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলো এরশাদের সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ডিসেম্বর মাসের চার তারিখে তখনকার ভাইস-প্রেসিডেন্ট মওদুদ আহমেদকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবার জন্য বাংলাদেশে টেলিভিশনে পাঠিয়েছিলেন মি: এরশাদ। উদ্দেশ্য ছিল, প্রেসিডেন্টের পরিকল্পিত নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা।

    বিরোধী দলগুলো এ নির্বাচনের প্রস্তাব আগেই বর্জন করার পরেও মি: এরশাদ চেয়েছিলেন ভাইস-প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরার মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করা। মি: এরশাদের নির্দেশ মতো ভাইস-প্রেসিডেন্ট মওদুদ আহমদ সন্ধ্যার সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে গিয়েছিলেন ভাষণ রেকর্ড করার জন্য। সে ভাষণ তিনি রেকর্ডও করেছিলেন। সে ভাষণ রেকর্ড করার পর মওদুদ আহমদ যখন বাসায় ফিরে আসেন তখন তিনি জানতে পারেন প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপর কয়েক ঘন্টা পর মধ্যরাতে মওদুদ আহমেদকে আবারো বাংলাদেশ টেলিভিশনে যেতে হয়েছিল প্রেসিডেন্ট এরশাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেবার জন্য।

    ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর রাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মওদুদ আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ” প্রথম ভাষণ রেকর্ড করে আমি যখন বাসায় ফিরে আসলাম, তখন আমার স্ত্রী বললেন, প্রেসিডেন্ট সাহেব ফোন করেছিলেন। তখন আমি ওনাকে ফোন করলাম। উনি তখন বললেন, আমি এখনই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তখন আমি ওনার বাসায় গেলাম। তখন রাতে নিউজের পরে ওনার পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া হলো। ”

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন সময় ছন্দপতন হয়েছিল। ১৯৮৭ সালে একটি মিছিলে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন নিহত হবার ঘটনা আন্দোলনে গতি এনেছিল।

    আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি’র নেতৃত্বে রাজনৈতিক জোট একই সাথে আন্দোলন কর্মসূচী নিয়ে এগিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীও মাঠে ছিল। ১৯৯০ সালের অক্টোবর মাস থেকে ছাত্র সংগঠনগুলো ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের’ ব্যানারে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বিএনপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতা খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলছিলেন, ২৭শে নভেম্বর চিকিৎসক নেতা ডা. শামসুল আলম মিলনকে হত্যার পর আন্দোলনের মোড় ঘুরে গিয়েছিল।

    “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে দখল করার জন্য বহিরাগত মাস্তানরা পরিকল্পিতভাবে ডা: মিলনকে হত্যা করা হয়েছিল। এটা ছিল আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট, ” বলছিলেন মি: খোকন।

    ডা: মিলন যখন রিক্সায় করে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ডা: মিলনের সাথে একই রিক্সায় ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের তখনকার মহাসচিব ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

    অভিযোগ রয়েছে জেনারেল এরশাদ সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দখল চেষ্টার অংশ হিসেবে ডা: মিলনকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ” আমার রিক্সাটা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় উপস্থিত হয়েছে তখন মিলন আরেকটি রিক্সায় করে আমাকে ক্রস করে সামনে চলে যাচ্ছিল। তখন আমি মিলনকে বললাম তুমি ঐ রিক্সা ছেড়ে আমার রিক্সায় আসো। এরপর মিলন আমার রিক্সায় এসে ডানদিকে বসলো। রিকশাওয়ালা ঠিকমতো একটা প্যাডেলও দিতে পারে নাই। মনে হলো সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের দিকে থেকে গুলি আসলো। গুলিটা মিলনের বুকের পাশে লেগেছে। তখন মিলন বললো, জালাল ভাই কী হইছে দেখেন। একথা বলার সাথে সাথে সে আমার কোলে ঢলে পড়লো। ”

    ডা: মিলনকে হত্যার পর জেনারেল এরশাদ বিরোধী আন্দোলন আরো তুঙ্গে উঠে। তখন জনগণের ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে শুরু করেছিল সেনাবাহিনী। একইসাথে জেনারেল এরশাদের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল সেনাবাহিনী। ডা: মিলন হত্যাকা-ের পর আন্দোলন সামাল দিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এরশাদ। সেনা মোতায়েনের জন্য জেনারেল এরশাদ যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করেছিল।

    প্রয়াত মেজর জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরীর বর্ণনা মতে, সেনাবাহিনী সৈনিকদের পাঠিয়ে রাস্তায় মোতায়েন করার পরিবর্তে রমনা পার্কে সীমাবদ্ধ করে রাখে। কমান্ডিং অফিসাররা সরকারের ‘অপকর্মের’ দায়িত্ব নিতে রাজী ছিলেন না।

    জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা ছাড়লে কী হবে সে বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারী দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ফর্মুলা ঠিক করে রেখেছিল। সে ফর্মুলা মতে সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিনমাস মেয়াদী একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা ছিল।

    কিন্তু সে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন সেটি তখন নির্ধারিত ছিলনা । ড: কামাল হোসেন তখন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতিও ছিলেন। তিনি জানালেন, জেনারেল এরশাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেবার পর আন্দোলনকারী দলগুলো তখনকার প্রধান বিচারপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আহমদের বিষয়ে একমত হয়েছিল। অস্থায়ী সরকার প্রধানের নাম আসার পর ৬ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া হয়েছিল।

    ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ” পাঁচ তারিখে বিরোধী দল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসলো যে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব উপ-রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করে তারপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির কাজ করবেন তিনি এবং তার অধীনেই একটি নির্দলীয় সরকার হবে। ছয় তারিখ বিকেল তিনটায় আমি রিজাইন করলাম। আমি রিজাইন করার পরে সাহাবুদ্দিন সাহেবকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট এপয়েন্ট করলেন প্রেসিডেন্ট সাহেব। তারপর প্রেসিডেন্ট এরশাদ নিজে রিজাইন করলেন এবং তারপর সাহাবুদ্দিন সাহেব ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু করলেন।”

    ডিসেম্বর মাসের চার তারিখে জেনারেল এরশাদ যখন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন রাস্তায় মানুষের যে ঢল নেমেছিল সেটি ৬ই ডিসেম্বর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের কাছে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত বজায় ছিল।

    মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংর্ঘষে নিহত ২

    মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।

    নিহতরা হলেন, পৌর শহরের পুরাতন হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহবাব রহমান (২০) ও সদর উপজেলার দুর্ণভপুর গ্রামের বিলাল হোসেনের ছেলে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহি আহমদ (১৭)।
    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রাবাসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতাবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
    মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ জালাল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না : ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা সরকারের দায়।

    রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে চীনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফখরুল এসব কথা বলেন।

    সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে চীনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

    বৈঠকে দলের মহাসচিব ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।

    বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কম্বোডিয়া সফর নিয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বলেন, নাকে খত দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে আসবে।

    সরকার গণতন্ত্রের স্তম্ভকে ধ্বংস করে দিয়েছে : মির্জা ফখরুল

    বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের স্তম্ভকে ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যতগুলো প্রতিষ্ঠান ছিল, সব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পকেটের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলেছে এই সরকার। এসব কারণে জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ধরে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। জনগণ যে আমাদের সঙ্গে আছেন তার প্রমাণ আপনারা গত ৭ নভেম্বর উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত জনসভায় উপচে পড়া জনসমুদ্র দেখে বুঝতে পেরেছেন। অপর দিকে দেশের সব ক্ষেত্রে নৈরাজ্য আর অরাজকতা বিরাজমান। আওয়ালীগ সরকার বিচার বিভাগকে ভেঙে দিয়েছে। সরকার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে রেখেছে, যেন রাজনীতি করতে না পারেন।
    মঙ্গলবার শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুপুরে আয়োজিত জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।
    তিনি আরো বলেন, দেশে আজ হত্যা, খুন-ধর্ষণ বেড়েই চলছে। বিএনপির মহিলাদলের নেতা-কর্মী, সমর্থকরা আবার মাঠে নেমেছে। মহিলারা দেশের জনশক্তির একটি বড় অংশ তাই নারীদের সাথে নিয়েই এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটানো হবে। সরকারের পতন করতে পারলে দেশ বাচঁবে।
    এসময় প্রথমেই দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ‘১৭-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী মহিলাদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস, আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিশেষ অতিথি মহিলাদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জিবা খান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা আহবায়ক অনুষ্ঠানের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র জেলা সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র ফয়সাল আমিন প্রমুখ।

    নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে অনড় অবস্থানে দুই দল

    নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের মধ্য দিয়ে দেশে এক ধরনের নির্বাচনী আবহ তৈরি হলেও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দুই প্রধান দলের নেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে এখন পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দল দুইটির অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত শীর্ষ পর্যায় থেকে দেয়া হয়নি। যদিও উভয় দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জানিয়েছেন বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হবে। সেভাবে দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রার্থী নির্বাচনে একাধিক জরিপ চালানো হয়েছে। অপর দিকে বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্টভাবে গত ১২ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রেখে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ধরনের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না।
    বিএনপির এ ঘোষণায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ নয়া দিগন্তকে জানান, বিএনপির এ দাবির পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। হতে পারে এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল। এর মাধ্যমে দরকষাকষি করে তারা একটু বাড়তি সুবিধা পেতে চায়। তার মতে বিএনপি একাধিকবার ক্ষমতায় বা সংসদে ছিল। তারা সংবিধান এবং আইন জানে। একটি দায়িত্বশীল ও বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা এটা বেশ ভালো করেই জানে সংবিধানের মধ্যে থেকেই নির্বাচন হতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার কারো সুযোগ নেই। অপর দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়া দিগন্তকে জানান, নির্বাচনকালীন সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তার মতে সংলাপের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়া প্রয়োজন। অবশ্য দুই দলের মধ্যে আলোচনার বিষয়টি নাকচ করেননি মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেন, সংলাপ যেকোনো সময় যেকোনো বিষয়ে হতে পারে। এটা অযৌক্তিক নয়; বরং হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এই মুহূর্তে বিএনপির সাথে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি অভিযোগ করেন বিএনপি যেভাবে আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে তাতে দুই দলের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা কম।
    বিএনপি মহাসচিব মনে করেন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকারের পথ বেরিয়ে আসতে পারে। বিএনপি কী ধরনের নির্বাচনকালীন সরকার চায় এবং তা কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না সে ব্যাপারে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগে আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আলোচনা বা সংলাপের রূপরেখা নির্ধারণ করা সম্ভব। যথাসময়ে বিএনপি রূপরেখা প্রকাশ করবে। তিনি আরো বলেন, সংসদ বহাল রেখে কিংবা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে রেখে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে না। অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ এক সময় আন্দোলন করেছিল। তাদের দাবি ছিল নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা। ফলে নির্বাচনকালীন সরকার কেন দরকার তা নতুন করে বুঝিয়ে দেয়ার দরকার নেই।
    ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলের সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, তখনকার পরিস্থিতি আর বর্তমান পরিস্থিতি এক নয়। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের সময় সর্বদলীয় সরকার গঠনের কোনো প্রয়োজন হবে না। আমরা আশা করি, বিএনপি মুখে যাই বলুক এ সরকারের অধীনেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে।
    নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুই দলের এ বিপরীতমুখী অবস্থানে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য না-ও হতে পারে বলে মনে করেন খ্যাতিমান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী তালুকদার মনিরুজ্জামান। তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, দুই পক্ষ অনড়। আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করবে না। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা ছাড়া নির্বাচন করবে না। অপর দিকে বিএনপি শেখ হাসিনাকে রেখে নির্বাচনে অংশ নেবে না। দুই দলের মধ্যে আপসের সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তিনি মনে করেন শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দল একটি একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তার মতে শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে আবার রাজপথে ফিরে যেতে হতে পারে। এর ফলে দেশ আরেক দফা অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়বে এবং গণতান্ত্রিক ভবিশষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।