• ?????: রাজনীতি

    প্রহসনের নির্বাচন গিনেজ বুকে স্থান পাবে- গয়েশ্বর রায়

    4e259a2fe0cd77d6bf8f778ca158988a_XLবাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার এম শাহনেওয়াজ বলেছেন, ‘উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে তা বলা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের অতৃপ্তি রয়েই গেছে। প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও ধাপে ধাপে নির্বাচন হওয়ায় সহিংসতা বেড়েছে।’

    আজ (মঙ্গলবার) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে উপজেলা নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতা সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি দাবি করে শাহনেওয়াজ বলেন, ‘অতীতে যেসব নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচনেও কম-বেশি সহিংসতা ও অনিয়ম হয়েছে।’

    তবে, পাঁচ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনের কলঙ্কজনক চিত্র গিনেজ বুকে রেকর্ড হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। মঙ্গলবার দুপরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ‘উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের আধিপত্যের নগ্নতা ফুটে উঠেছে। পাঁচ জানুয়ারির পরে নতুন করে উপজেলা নির্বাচন দিয়ে আবারও সরকারের বিবস্ত্র হওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।’

    একই আনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে আবার প্রমাণিত হয়েছে গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।ওই নির্বাচনে অংশ নিলেও উপজেলা নির্বাচনের মতোই পরিণতি হতো। তারা জবরদস্তি করে আমাদের জয় ছিনিয়ে নিতো।

    তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে সরকার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। তাই তারা উপজেলা নির্বাচন দিয়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে চেয়েছিল, কিন্তু দেশের মানুষ তাদের ভোট দেয়নি। তাই তারা অব্যাহত সহিংসতা ও তাণ্ডবের মাধ্যমে জবরদস্তি করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে।

    বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে এসেছে- নির্বাচন কমিশনার মোবারকের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমন কথা কোনো দলীয় ক্যাডাররাই বলতে পারে। মোবারকের এমন বক্তব্যই প্রমাণ করে নির্বাচন কমিশন সরকারের কতোখানি আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। তাই এই নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

    উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে বেসরকারী সংস্থা সুজন-এর সম্পাদক ড. বদিউল অলম মজুমদার রেডিও তেহরানকে বলেন, নির্বাচনের ক্ষেত্র আমরা যা কিছু অর্জন করেছিলাম তা জলাঞ্জলি দেয়া হয়েছে।

    এ প্রসংগে বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, জাতীয় নির্বাচনে গণতন্ত্রের মৃত্যু হতে দেখেছি আর উপজেলা নির্বাচনে গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠাতে দেখলাম । এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে স্থনীয় পর্যায় পর্যন্ত গণতান্ত্রিক চিন্তা ও মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।

    জাতীয় পার্টি একাংশের চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে যদি কারও ক্ষতি হয়ে থাকে তা হয়েছে শাসক দল আওয়ামী লীগের। অন্য কোনো দলের নয়।’ বিএনপি নেতাদের আটকের প্রতিবাদে আয়োজিত আনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন -বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলী, সাবেক সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা প্রমুখ।

    পঞ্চম দফা শেষে আ.লীগ ২২০, বিএনপি ১৫৩

    17193_f1পঞ্চম দফা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শেষে চেয়ারম্যান পদে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেল আওয়ামী লীগ। মোট পাঁচ দফায় দলটির সমর্থিত প্রার্থীরা ২২০টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন। একই পদে বিএনপি ১৫৩টি, জামায়াত ৩৬টি, জাতীয় পার্টি তিনটি এবং বিদ্রোহী, অন্যান্য দল ও নির্দলীয় ব্যক্তি ৪০টি উপজেলায় জয়ী হয়েছেন।
    পঞ্চম ধাপে গতকাল সোমবার দেশের ৩৫টি জেলার ৭৩টি উপজেলায় নির্বাচন হয়। রাত দুইটা পর্যন্ত ৭০টি উপজেলার বেসরকারি ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৪৮টি, বিএনপি ১২টি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চারটি, জামায়াতে ইসলামী তিনটি এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু লারমা) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) একজন করে প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন।
    ভোট গণনা শেষ না হওয়ায় গাজীপুরের শ্রীপুর ও রাঙামাটি সদর উপজেলার ফল পাওয়া যায়নি। বরগুনার আমতলী উপজেলায় ফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে।
    পঞ্চম দফার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী প্রার্থীরা হলেন: বিস্তারিত পড়ুন →

    ফল ছিনিয়ে নিতে মরিয়া সরকার

    17195_f2আওয়ামী লীগ ভোটডাকাতির চূড়ান্ত মহড়া চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ। বলেছেন, ফলাফল অনুকূলে নিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি হামলা হচ্ছে। সবগুলো নির্বাচনী উপজেলায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল রাজধানী নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন বলেন, আমাদের কাছে খবর আসছে, প্রায় সব ক’টি উপজেলায় বিরোধী দলের সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। আমরা আশঙ্কা করছি, গত চারটি ধাপের নির্বাচনে যেভাবে সহিংসতা চালিয়ে কেন্দ্র দখল করে, ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের মাধ্যমে চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানের পদগুলো ছিনিয়ে নিতে মরিয়া ছিল এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। সারা দেশের হামলার চিত্র তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, ফেনীর ছাগলনাইয়া, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, কুমিল্লার চান্দিনা, নোয়াখালীর সুবর্ণচর, লক্ষ্মীপুর, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপির সমর্থকদের ওপর হামলা, নির্যাতন চালানো হচ্ছে। অনেক জায়গায় পুলিশ বিএনপির সমর্থকদের বাড়িতে তল্লাশির নামে হামলা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে, অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট ক্ষমতা দেয়া থাকলেও ভোট ডাকাতি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কমিশন ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান কমিশন নিজেদের সরকারের ‘অতীব আজ্ঞাবহ’ হিসেবে প্রমাণ করে প্রতিষ্ঠানটিকে কলঙ্কিত করেছে। তিনি এই কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেন। গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের হুঁশিয়ারি তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের আদলে একটি সর্বনাশা দল। তাদের ইতিহাস হত্যা, গুম-খুন আর কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির। অবিলম্বে এই অবৈধ সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। নইলে গণঅভ্যুত্থানে আপনাদের পতন অনিবার্য। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদ, ঢাকা মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ খান খোকন ও নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
    বিএনপিই সবচেয়ে জনপ্রিয় দল: রফিকুল
    বিএনপিকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বলে দাবি করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। বলেছেন, বিএনপি শেখ হাসিনার সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোন কথা বলেনি। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ও কমিশনের অধীনে কখনই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক নৈরাজ্যে আবারও প্রমাণ হলো, বিএনপিই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘খালেদা জিয়া, তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান বলেন, আওয়ামী লীগ এই সত্যটি মানতে চায় না। তারা বলে, জিয়া ঘোষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন পাঠক। কিন্তু জিয়া কি নিউজ প্রেজেন্টার বা হোস্ট ছিলেন? তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কারও চিরকুট পড়ে স্বাধীনতার ঘোষণা হয় না, এই ঘোষণা জিয়ার। তিনি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত ‘অস্থায়ী সর্বাধিনায়ক’ এবং ১০ই এপ্রিল পর্যন্ত ‘অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ও রাষ্ট্রনায়ক’ ছিলেন। জিয়াউর রহমানকে ‘প্রথম প্রেসিডেন্ট’ ও ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ না মানলে মুক্তিযুদ্ধই অবৈধ হয়ে যাবে। যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপিতে অনেকেই মহাসচিব ছিলেন। তবে খোন্দকার দেলোয়ার একজনই। তিনি একজন সংশপ্তক। আলাল বলেন, বিএনপির অনেক বাঘা বাঘা ও জ্ঞানসম্পন্ন মহাসচিবরা ছিলেন। কিন্তু দেলোয়ার ছিলেন সংশপ্তক। সারাজীবনে সব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, পরিবারকে ঝুঁঁকিতে ফেলে বিএনপির অগ্রসৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রতনের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসূফ হায়দার, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন সুলতানা ও খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ডা. দেলোয়ারা বেগম পান্না বক্তব্য দেন।

    বিতর্কের বিষয় যখন বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ সম্পর্কে ভিনদেশের পার্লামেন্টে বিতর্কের ঘটনা সচরাচর ঘটে না বললে কমই বলা হবে; বরং বিরল শব্দটিই এ ক্ষেত্রে যথার্থ হতে পারে। বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট, ওয়েস্টমিনস্টারের উভয় কক্ষ—হাউস অব কমন্স এবং হাউস অব লর্ডসে প্রশ্ন উত্থাপন বা মন্ত্রীর বিবৃতির দৃষ্টান্ত আছে। কিন্তু গত কয়েক দশকে শুধু বাংলাদেশ বিষয়ে বিশেষ বিতর্ক অনুষ্ঠানের কথা ইউরোপ বা আমেরিকার কোথাও হওয়ার তথ্য খুঁজে পাচ্ছি না। গত বছর প্রথম এ ধরনের একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে—রানা প্লাজার প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর। সেই বিতর্কের উদ্দেশ্য ছিল শ্রমিকদের অধিকার, কাজের নিরাপত্তা এবং ন্যূনতম মজুরির মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা। এরপর পাকিস্তানের পার্লামেন্টে গত ডিসেম্বরে যুদ্ধাপরাধের বিচারে কাদের মোল্লার ফাঁসির বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে আলোচনা এবং প্রস্তাবের কথা জানা গেল। তারপর, এ বছরের শুরুতেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্টের তিনটি উদ্যোগ এবং প্রতিটিই বাংলাদেশের প্রধান দুই দলের রাজনৈতিক কলহের আপসহীনতায় সৃষ্ট অচলাবস্থা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে তেমন একটা বিতর্ক ছাড়াই গৃহীত হলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের নির্বাচন-পূর্ব রাজনৈতিক বাস্তবতার বিষয়ে সমঝোতার আহ্বান জানানোর প্রস্তাব। আর গত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) একই দিনে মাত্র ঘণ্টা চারেকের ব্যবধানে লন্ডন এবং স্ট্রাসবুর্গে দুটি বিতর্ক।
    পাকিস্তানের পার্লামেন্টের বিতর্ক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে আহত করে বলে তার প্রতিবাদ জানানো যুক্তিসংগত হলেও অন্যগুলোর ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া অচিন্তনীয় বলেই ধারণা করি। যদিও দলকানা বুদ্ধিজীবীদের একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের ‘নির্বাচনী প্রহসনে’র সমালোচনায় সোচ্চার বিদেশিদের অন্যদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সরকার এসব স্বার্থান্ধ বুদ্ধিজীবীর মন্ত্রণায় কান দেবে না বলেই আশা করি।
    ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুটি বিতর্কই বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। হাউস অব কমন্সে সেদিনকার উপস্থিতির চিত্রটি তেমন একটা আশাপ্রদ না হলেও বিতর্কের গুণগত মান ছিল খুবই সমৃদ্ধ এবং ধারালো। ওই একই দিনে একই সময়ে পার্লামেন্টের অন্য আরেকটি কক্ষে সে সময় চলছিল একজন অভিজ্ঞ এমপির স্মরণসভা, যে কারণে উপস্থিতি ছিল কম। এই বিতর্কে কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব (মোশন) ছিল না। কোনো কোনো খবরে বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো প্রস্তাব পাসের বিষয় ছিল না। হাউস অব কমন্সের কার্যবিবরণী (হ্যানসার্ড) দেখলেই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    সড়কের মাঝে হঠাৎ আগুনের ফুলকি

    রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা ফার্মগেটে প্রধান সড়কের প্রায় মাঝখানে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ আগুনের ফুলকি সৃষ্টি হয়ে কয়েক ফুট ওপরে উঠে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট এ অবস্থা চলায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কেউ হতাহত হয়নি।
    সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ফার্মগেটের আল-রাজী হাসপাতালসংলগ্ন কনকর্ড সেন্টার ভবনের সামনের সড়কে গ্যাসের লাইন ছিদ্র হয়ে ওই আগুনের ফুলকির সৃষ্টি হয়। ওই ভবনের দোতলায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের উপস্থিত থাকার কথা থাকায় ওই এলাকায় তখন ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নেভান।
    আগুনের তাপে পাশের একটি সোডিয়াম বাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবনের আশপাশের বিভিন্ন কেব্লও তাপে কিছুটা গলে যায়।
    সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছিদ্র দিয়ে অনবরত গ্যাস বের হতে দেখা যায়। যে লাইনে ছিদ্র, সেখানে চারকোনা আকৃতির গর্ত খোঁড়া।
    তিতাস গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক (জরুরি) রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের হয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী গতকাল সকালে ইন্টারনেটের কেব্ল মেরামতের জন্য ওই স্থানে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা কেব্ল চিহ্নিত করার জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে গ্যাসের লাইন ছিদ্র করে ফেলেন। খবর পেয়ে তিতাসের লোকজন সেখানে গিয়ে ছিদ্রের অবস্থান চিহ্নিত করার জন্য চারকোনা করে গর্ত খোঁড়েন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হঠাৎ আগুনের ফুলকি বের হয়।
    রবিউল ইসলাম বলেন, সম্ভবত আশপাশের কোনো পথচারী বা যানবাহনের যাত্রীর ছুড়ে ফেলা জ্বলন্ত সিগারেটের সংস্পর্শে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফার্মগেটে আপাতত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে ছিদ্র চিহ্নিত করা হবে। এরপর তা মেরামত করে আবার গ্যাস সরবরাহ করা হবে। রাতের (গতকাল) মধ্যেই তা করা যাবে।
    ঘটনাস্থলে গিয়ে ইন্টারনেটের কেব্ল মেরামতকারী লোকজনের কাউকে পাওয়া যায়নি।52d992a382a81-Untitled-14

    যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কথা বলবে না পাকিস্তান

    বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো মন্তব্য করবে না পাকিস্তান। জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ খান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেনকে এ কথা জানিয়েছেন।

    আজ শনিবার টেলিফোনে ইউএনবিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, জাতিসংঘে নিযুক্ত আমাদের স্থায়ী প্রতিনিধির কাছে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পাকিস্তান তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

    যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে উদ্বেগ জানানো হয়। এতে বাংলাদেশে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর পরদিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানের হাইকমিশনার আফরাসিয়াব মেহদি হাশমিকে জরুরি তলব করে। কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনুমোদিত প্রস্তাবের কড়া নিন্দা জানায় বাংলাদেশ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলাদেশের একেবারেই অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে সুস্পষ্টভাবে ওই দিন পাকিস্তানকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

    52da77d56b54c-ict-rdd

    রাজনীতি করতে হলে সন্ত্রাস ছাড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি ও জামায়াতকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চাইলে জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড  ছাড়তে হবে।

    আজ শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। খবর ইউএনবির।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। পাশাপাশি যেকোনো মূল্যে জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বন্ধ করতে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার নেব। দেশের মাটিতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের স্থান হবে না।’ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমনে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রয়োজনে সরকার আরও কঠোর হবে বলে জানান তিনি।

    52da8254c36c5-PM