• ?????: রাজনীতি

    হঠাৎ দেখা কাদের-ফখরুল কী কথা হলো

    নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে হঠাৎই দুই মিনিটের দেখা-সাক্ষাৎ হলো আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। গতকাল বিকালে তাদের হাস্যোজ্জ্বল পরিবেশে কথাও হয়।

    দুজন হ্যান্ডসেকও করেন। সেখানে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকেও দেখা যায়। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ইউএস বাংলা বিমানে ঢাকায় ফিরতে সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসেন। এর আগেই বিমানবন্দর লাউঞ্জে বসা ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভিআইপি লাউঞ্জ দিয়ে যাওয়ার পর ওবায়দুল কাদের বিএনপি মহাসচিবকে দেখে তার কাছে এসে বলেন, ‘ভাই কেমন আছেন? মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্মিত হেসে বলছেন, ‘ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন ভাই। ’ ‘ভালো আছি’ বলে ওবায়দুল কাদের আরও বললেন, ‘আমরা যেহেতু রাজনীতি করি, তাই আলাপ-আলোচনার পথ খোলা রাখাই ভালো। ’ ফখরুলের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ঢাকায় এয়ারপোর্টে আপনার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু শুনলাম আপনি আসছেন না। একসঙ্গে এলে ভালো হতো। কথা বলা যেত। ’ জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি সকালের ফ্লাইটেই আসতাম। কিন্তু পারিবারিক কারণে একটু পরে আসতে হয়েছে। ’ দুই মিনিটের কুশল বিনিময়ের পর ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যাই বিমান রেডি হয়ে আছে। ’ জবাবে মির্জা ফখরুলও বলেন, ‘ধন্যবাদ। ’ এরপর ইউএস বাংলার ফ্লাইটে ঢাকায় চলে আসেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিছু সময় পর নভএয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। দুই নেতার আলাপের সময় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সেখানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত নন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় ফেরার পর সন্ধ্যায় টেলিফোনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঢাকা ফেরার পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের টার্মিনালের লাউঞ্জে কুশল বিনিময় হয়েছে। এর বেশি কিছু না। ’ দীর্ঘ কয়েক বছর আগে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হলেও ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিবের মুখোমুখি কথা এটাই প্রথম।
    জানা গেছে, কাদের ও ফখরুলের গতকাল ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজ কোম্পানির ফ্লাইটে সৈয়দপুর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মির্জা ফখরুল সফর স্থগিত করেন। ফলে একই ফ্লাইটে দুই বড় দলের দুই নেতার সাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়।

    আদালতে খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে বলেছেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে কোনোরকম দুর্নীতি হয়নি। এ মামলায় আমাকে কেন অভিযুক্ত করা হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জনগণের কাছে এই প্রতিটি মামলাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে দায়ের করা হয়েছে। সবগুলো মামলা করা হয়েছে অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো মামলারই কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। আমি রাজনীতিতে সক্রিয় বলে এবং আমাকে ক্ষমতাসীনদের জন্য সবচে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলাগুলো তুলে নেয়া হয়েছে।’
    তিনি বলেন, ‘অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়েও জনগণ থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এসব মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে।’

    আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি এ মামলার বিবরণ থেকে জেনেছি এবং কুয়েত দূতাবাসের চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে এতিমখানা প্রতিষ্ঠার জন্য অনুদান দিয়েছিলো। আমি আরো জেনেছি কুয়েতের দেয়া অনুদানের অর্থ দুই ভাগ করে দু’টি ট্রাস্টকে দেয়া হয়। এতে আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়নি এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি কিংবা অন্য কারো লাভবান হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া, ট্রাস্ট দু’টির কোনো পদে আমি কখনো ছিলাম না বা এখনো নেই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিলো না।’
    তিনি বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে আরো জানতে পেরেছি যে, বগুড়ায় এতিমখানা স্থাপনের লক্ষ্যে যে জমি ক্রয় করা হয়েছে সে জমি ক্রয় সম্পর্কেও অনিয়মের কোনো অভিযোগ নেই। এই ট্রাস্টের বাকি টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে এবং তা সুদাসলে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’
    আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো: আকতারুজ্জামানের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে পঞ্চম দিনের মতো বক্তব্য রেখেছেন।
    খালেদা জিয়া আদালতে বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত এক ঘন্টা ৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন। এরপর খালেদা জিয়া তার বক্তব্য অসমাপ্ত অবস্থায় বাকি বক্তব্য রাখার জন্য সময় আবেদন করলে আদালত ২৩ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
    এরআগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য রাখতে আদালতে আসেন বেগম খালেদা জিয়া।
    আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনবিদ জমিরউদ্দিন সরকার, মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুর রেজাক খান, এ জে মোহাম্মদ আলী, আমিনুল হক, জয়নুল আবেদীন, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সানাউল্লা মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বদরুদ্দোজা বাদল, জাকির হোসেন ভূইয়া প্রমুখ।
    বিএনপি নেতাদের আদালতে উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, বরকতউল্লাহ বুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।
    দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।
    গত ১২ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে দুই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো: আকতারুজ্জামানের আদালত। ওইদিন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
    বেগম খালেদা জিয়া জিয়া লন্ডনে পা ও চোখের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে গত ১৯ অক্টোবর অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। ওই দিন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন। এর গত ২৬ অক্টোবর খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন।

    শনিবার ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসবেন খালেদা জিয়া

    শনিবার দলের ভাইস চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগ্রহণে মাঝে মধ্যে নীতিনির্ধারক ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠকে বসেন না তিনি। ব্যক্তিগতভাবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিবরা বিভিন্ন বিষয়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন।
    এদিকে বুধবার রাতে জোটের শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খালেদা জিয়া। বৈঠকে আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন। শরিক দলের নেতারা এ ব্যাপারে খালেদা জিয়াকে আশ্বস্ত করেন। আগামী জানুয়ারির প্রথম দিকে জোটের শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়ার বিভাগীয় শহর ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর সফরের সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্র ও স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করে সুবিধাজনক সময় সফরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া বিজয়ের মাস ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে একটি বড় আকারের বিজয় র‌্যালীর ব্যাপারেও আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেয়া জোটের কয়েকজন নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানান, বৈঠকে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার দিন বিমানবন্দর সড়ক, রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ার সময় ঢাকা থেকে কক্সবাজার মহাসড়ক এবং সর্বশেষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ন সমাবেশ অনুষ্ঠান হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান জোটের শরিক দলের নেতারা।

    জনগণকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়: খালেদা জিয়া

    জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে মত ও পথের পার্থক্য থাকবে। কিন্তু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এক হতে হবে।

    আজ রোববার রাজধানীর সোহাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি, আসুন। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বহু মত ও পথের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এক হতে হবে। এই কাজ করলেই জনগণের কল্যাণ, দেশের উন্নতি করা সম্ভব।’

    খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে ঘরে ঘরে মানুষের কান্না আর আহাজারি। মানুষ আজকে অত্যাচারিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত। তাই এদের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন আমরা বলি আসতে হবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, ভোটের মধ্য দিয়ে আসতে হবে। এই জন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

    বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন।’

    খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাত নভেম্বরকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়, আর কি ভয় পায় জানেন? এই জনগণকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়, আপনাদের ভয় পায়। এজন্যই তারা জনসভা করতে দেয় না। বিভিন্ন জায়গায় গেলে বাধা সৃষ্টি করে। আমাদের ছেলেপেলেদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করছে। মিথ্যে মামলা দিয়ে জেলখানায় বন্দি করছে।’ তিনি বলেন, ‘জনসভার অনুমতি তারা দিয়েছে। কিন্তু জনসভা যাতে সফল না হয়, জনগণ যাতে আসতে না পারে সেজন্য কত রকমের বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।’

    হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয় : খালেদা জিয়া

    শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নির্বাচন হবে না, হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। গত ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালন করে বিএনপি। এ উপলক্ষে ওই সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন,‘ শেখ হাসিনার অধীনে কোনও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। স্থানীয় নির্বাচনগুলোয় কী পরিমাণ চুরি করা হয়েছে তা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে। আওয়ামী লীগ চুরি করে জিততে চায়, তারা জগগণকে ভয় পায়।’

    ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে খালেদা জিয়া দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লুটপাট ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘জনগণকে নিয়েই আমরা রাজনীতি করি। জনগণই আমাদের ভালোবাসা। আমরা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাই।’

    বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের উদ্দেশে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে।’

    সিইসির উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা চলবে না। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, আওয়ামী লীগের হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়। এজন্য নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) হবে না, ইভিএম চলবে না, ইভিএম বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। শুধু মোতায়েন করলে হবে না। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্টেরিয়াল পাওয়ার দিয়ে টহল দিয়ে জনগণ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে সে সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সেটাতেই তাদের (সরকার) ভয়।’

    খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের জন্য আমাদের দাবির কথা দিয়েছি। সেখানে বলেছি যদি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করতে হয়, তাহলে সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করতে হবে। আজ নির্বাচন কমিশনার কেন বলে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে না, ইভিএম হবে। তার মানে সরকার যা বলছে তাই তাঁরা করতে চায়।’

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা চুরি করে জিতবে, জনগণকে পাশ কাটিয়ে জিতবে তাঁরা জনগণকে ভয় পাবেই। জনগণের সামনে যেতে ভয় পাবেই। কিন্তু জনগণকে নিয়েই আমাদের রাজনীতি। এ জনগণের জন্যই আমাদের রাজনীতি। জনগণের জন্যই আমাদের ভালোবাসা। তাই আমরা বলেছি জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। যাতে আমার দেশের প্রতিটি মা, বোন, ভাই, ছেলে যারা ভোটার, তারাও যেন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে সে পরিবেশ, সে ব্যবস্থার সৃষ্টি করতে হবে।’

    ‘কেন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে?’

    খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকার এ দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। ধ্বংস করে দিয়েছে। এ সরকার ২০০৮ সালে কথা দিয়েছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। আজ ৭০ টাকা কেজি চাল খাচ্ছে কেন মানুষ।’ তিনি বলেন, ‘তরিতরকারি, সবজির দাম ৭০ টাকার নিচে নয়। পেঁয়াজ ১০০ টাকা পর্যন্ত চলে গেছে। এ দুরবস্থায় মানুষ কী করে জীবন যাপন করবে। প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।’

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। গ্যাসের দাম বাড়িয়ে চলেছে। কেন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত? জিনিসপত্রের দাম বাড়লে ট্রান্সপোর্ট খরচ বেড়ে যায়। একজন রিকশাওয়ালা ভাইকেও চাল ডাল তরি তরকারি কিনে খেতে হয়। স্বাভাবিক তার পক্ষে ভাড়া না বাড়ালে কোনো উপায় থাকে না। অন্য ট্রান্সপোর্টের একই অবস্থা। সেজন্য জনগণের জীবন আজ দুবির্ষহ হয়ে উঠেছে। তাঁরা কথা দিয়েছিল তাঁরা বিনামূল্যে সার দিবে। বিনামূল্যে সার তো দেয় না, আমাদের সময়ে যে মূল্য ছিল তারচেয়ে পাঁচগুণ বেশি দামে এখন সার কিনতে হচ্ছে কৃষককে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কৃষকও আজ মহাকষ্টে দিন যাপন করছে। ফসলের দাম তারা সরকারের কাছ থেকে ঠিকমতো পাচ্ছে না। সরকার আজ কৃষককে মারার ব্যবস্থা করেছে। সাধারণ নিরীহ মানুষকে মারার ব্যবস্থা করেছে।’

    খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। তারপরও সারা দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পায় না। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট করেছে। অথচ মানুষ বিদ্যুৎ পায় না। তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সেখানে টেন্ডার (দরপত্র) করা হয়নি।’

    বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি, আসুন। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বহু মত ও পথের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এক হতে হবে। এই কাজ করলেই জনগণের কল্যাণ, দেশের উন্নতি করা সম্ভব।’

    খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে ঘরে ঘরে মানুষের কান্না আর আহাজারি। মানুষ আজকে অত্যাচারিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত। তাই এদের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন আমরা বলি আসতে হবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, ভোটের মধ্য দিয়ে আসতে হবে। এই জন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

    বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন।’

    খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাত নভেম্বরকে আওয়ামী লীগ ভায় করে। আর কি ভয় পায় জানেন? এই জনগণকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়, আপনাদের ভয় পায়। এজন্যই তারা জনসভা করতে দেয় না। বিভিন্ন জায়গায় গেলে বাধা সৃষ্টি করে। আমাদের ছেলেপেলেদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করছে। মিথ্যে মামলা দিয়ে জেলখানায় বন্দি করছে।’ তিনি বলেন, ‘জনসভার অনুমতি তারা দিয়েছে। কিন্তু জনসভা যাতে সফল না হয়, জনগণ যাতে আসতে না পারে সেজন্য কত রকমের বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।’

    রাস্তায় ফ্যা ফ্যা করে ঘুরবেন, এক হাজার বছরেও ক্ষমতার মুখ দেখবেন না: আ’লীগকে ইনু

    জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনি (আ.লীগ নেতা) আশি পয়সা। আর এরশাদ, দিলীপ বড়ুয়া, মেনন আর ইনু মিললে এক টাকা হয়। আমরা যদি না থাকি, তাহলে আশি পয়সা নিয়ে রাস্তায় ফ্যা-ফ্যা করে ঘুরবেন। এক হাজার বছরেও ক্ষমতার মুখ দেখবেন না।’ আজ বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার মিরপুরে জাসদের জনসভায় ইনু এসব কথা বলেন। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা জাসদের আয়োজনে জনসভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে ইনু এসব কথা বলেন। ইনু বলেন, ‘আমি দেশের জন্য শেখ হাসিনার সঙ্গে ঐক্য করেছি, খালেদা জিয়াকে বর্জন করেছি। জাসদ ঐক্যের মর্যাদা রাখবে, পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করবেন না।’

    সরকার বিচার বিভাগে ক্যান্সার ছড়িয়েছে বললেন মাহবুব উদ্দিন

    সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, সরকার বলেছে, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ক্যান্সারে আক্রান্ত আর প্রধান বিচারপতি বলেছেন তিনি অসুস্থ নন। এ কথা বলে সরকার দেশের বিচার বিভাগে ক্যান্সার ছড়িয়ে দিয়েছে।
    গতকাল বুধবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি নিয়ে মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা সব সময় দেখে আসছি বছরে একবার অথবা দুইবার প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন। আপ্যায়িত হন। কিন্তু গত এক মাসে দাওয়াতের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে আপ্যায়ানও। কী এত আলাপ প্রশ্ন রাখেন তিনি? সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি, দেশের অভিভাবক। তার কী এখতিয়ার আছে- তা সংবিধানে উল্লেখ আছে। ইদানীং একটু ব্যতিক্রম দেখা গেছে। সুপ্রিমকোর্টের প্রেসনোটে বলা হয়েছে, বিচারপতিরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। আমাদের প্রশ্ন হলো- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচানপতি ছাড়া অন্যদের ডাকতে পারেন কিনা? কোন অনুচ্ছেদের বলে তাদের ডাকলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কী প্রধান বিচারপতির প্রতি পাঁচ বিচারপতিকে সংগঠিত করে আইনি অভ্যুত্থান ঘটাতে বাধ্য করাবেন। সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল জনগণের পয়সায় বেতনভুক্ত সাংবিধানিক পদে থেকে দেশের সংবিধান, আইনের শাসন, বিচার বিভাগ ও জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী প্রধান বিচারপতিকে অসুস্থ বানিয়েছে। তিনি যদি ষোড়শ সংশোধনীর রায় না দিতেন তাহলে তিনি আর অসুস্থ হতেন না। আইনজীবী সমিতিকে তিনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন।

    খালেদা-তারেকের কূটনৈতিক মিশনের সফলতা শুরু

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লন্ডনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার জ্যেষ্ঠপুত্র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান কদিন আগে যে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছিলেন তার সফলতা শুরু হয়েছে। এর প্রথম সফলতা কিছুদিন আগে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আর খালেদা জিয়ার বৈঠক। দ্বিতীয় সফলতা ৬ নভেম্বর খালেদা জিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি থমাস শ্যানন ও কানাডা পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ। এসব বৈঠকে বিদেশি এই প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সব দলের অংশ গ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। এই প্রত্যাশা কেবল বিএনপির জন্য পজিটিভই নয়, পরোক্ষভাবে সরকারের প্রতিও বিশেষ বার্তা। যাতে সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো বিএনপিবিহীন একতরফা নির্বাচনে না যায়। এর কিছুটা আলামত পাওয়া গেল বিএনপির তৃতীয় সফলতা এবং অন্যতম সুখবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১১ নভেম্বর সমাবেশের অনুমোদন প্রদানের ঘটনা। ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলেক্ষে বিএনপির উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসবই হচ্ছে খালেদা জিয়া গতমাসে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একই ইস্যুতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমোদন পায়নি বিএনপি। উল্টো আওয়ামী লীগ সমাবেশের অনুমোদন না পেতে এবং সমাবেশ প- করতে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডেকেছেন। প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন। আর এখন সমাবেশের অনুমোদনের পাশপাশি আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন বিএনপির এই সমাবেশে সহায়তা করবে সরকার। জানা গেছে কেবল উল্লেখিত কূটনৈতিক তৎপরতাই নয়, একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে আরো যেসব বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু করাতে খালেদা ও তারেক লন্ডনে বসে লবিয়িং করেছিলেন, সেসব দেশের প্রতিনিধিরাও পর্যায়ক্রমে এভাবে আসবেন। সরকার ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন। বার্তা দেবেন সবদলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। সেই নির্বাচন আগামী বছরের ডিসেম্বরেই হোক আর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতেই হোক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একেরপর ব্যর্থতার পর হঠাৎ এভাবে সফলতা দেখে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি চাঙাভাব ফিরে এসেছে। আগের তুলনায় তাদের সাহস বেড়েছে। এই সাহসিকতার একটি হলো সহায়কা বা নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে বিএনপির গণঅভ্যত্থানের হুমকি। যদিও আওয়ামী লীগ বলছে এই হুমকি বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার টনিক। হঠাৎ এসব সফলতা খালেদা-তারেকের লন্ডনকূটনৈতিক মিশনের জন্য কিনা জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আসলে ঠিক তা নয়। বিদেশের প্রতিনিধিরা তাদের রুটিন কাজ হিসেবেই বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করছেন। কারণ তারাও চান এ দেশে ্একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।

    সমাবেশের মৌখিক অনুমতি পেলো বিএনপি

    জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী রোববারের সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। রোববারের ওই সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ঢাকা এবং আশেপাশের কয়েকটি জেলার নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে কয়েকদফা প্রস্তুতি সভা করেছে দলটি। গতকালও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে যৌথসভা করেছে বিএনপি। সমাবেশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি এখনো না পেলেও গতকাল বিকালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল ও দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় তারা সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের কাছ থেকে সমাবেশ করার মৌখিক অনুমতি পাওয়া গেছে।

    এদিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে এই যৌথসভায় রোববারের সমাবেশ সফল করা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর একটি সমাবেশ যেন সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করা যায় সে ব্যাপারে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও যেন লোক সমাগম হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড এবং ইউনিট নেতৃবৃন্দকেও একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে এই সমাবেশটি আমরা করতে চাই। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এখন পর্যন্ত আমরা সমাবেশের অনুমতি পাইনি। তবে আমরা আশা করছি, ১২ তারিখের জনসভার অনুমতি যথাসময়ে দেয়া হবে। সোহরাওয়ার্দীতে জনসভা করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করি যে, এই জনসভাটি করার জন্য সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। কারণ তারা সব সময়ই বলে থাকেন যে, তারা কোনো বাধা দেন না, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, মানুষের ও রাজনৈতিক দলগুলোর মত প্রকাশে তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। গতকাল তাদের একজন নেতা বলেছেন যে, তারা বাধা দেননি এবং এই ধরনের সমাবেশে কোনো বাধা নেই। আমরা আশা করবো যে, তাদের এই কথাগুলো যেন সত্যে প্রমাণিত হয়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশকে সফল করতে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের নেতৃবৃন্দের এক যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব। এসময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন নবী খান সোহেল, হারুনুর রশীদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা জেলার হাজী আবু আশফাক, মুন্সীগঞ্জের আবদুল হাই, কামরুজ্জামান রতন, মানিকগঞ্জের মইনুল ইসলাম শান্ত, গাজীপুরের ফজলুল হক মিলন, কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুল, হাসানউদ্দিন সরকার, নরসিংদীর খায়রুল কবীর খোকন, নেসারউদ্দিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। যৌথসভায় মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, তাঁতী দল সহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আলমগীর বলেন, ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমরা ঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। কারণ কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের (সিপিসি) কথা বলে আমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়নি। আমরা আশা করবো যে, সরকার এই সমাবেশের অনুমতি যথাসময়ে দেবেন। আমাদের যে গণতান্ত্রিক অধিকার, সেই অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে আমরা সেই সহযোগিতা পাবো।

    কেমন আছেন এরশাদ?

    হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রাজনীতির এক বহুল আলোচিত কুশীলব। পতনের এই এতো বছর পরেও সাবেক এই স্বৈরশাসক নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছেন। এখনো তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। তার দল সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে। সদ্যই সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কেমন আছেন? তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে।
    প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় এরশাদের দেখা পেতে ভিড় করছেন নেতাকর্মীরা। বেশিরভাগই দেখা পাচ্ছেন না। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অবশ্য সাক্ষাৎ দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন তিনি।গত ২৬শে সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে
    পড়লে এরশাদকে ভর্তি করা হয় রংপুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। ১৮ই অক্টোবর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। ৩০শে অক্টোবর তিনি দেশে ফিরেন। একসময়কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাসক এরশাদকে নিয়ে গত দুই যুগে টানাটানিও হয়েছে অনেক। দীর্ঘ সময় কারাভোগ করলেও এক পর্যায়ে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলই তাকে কাছে টানার প্রতিযোগিতায় নামে। নানা নাটকীয়তার আশ্রয় নেন তিনিও। যদিও তার ভাষায়, এই সময়ে কখনো তিনি স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারেননি। এটা সত্য, এরশাদ সবসময়ই একধরনের নজরদারির মধ্যে থেকে রাজনীতি করেছেন। বিএনপি জোটে যাই যাই করে হঠাৎই পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, আমি মুক্ত। আবার ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়ার পর হাসপাতালে ঠাঁই হয় তার। পরে অবশ্য নির্বাচন না করেও এমপি নির্বাচিত হন।
    প্রায় ৯০ বছর বয়স্ক এরশাদ এখনো এক ধরনের পর্যবেক্ষণের মধ্যে আছেন। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচার শেষে দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। তার একজন ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে এরশাদের হার্টে ভাল্ব রিপ্লেসমেন্ট হয়েছে। এটি খুবই ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এর মাধ্যমে তার রক্তের সার্কুলেশন স্বাভাবিক থাকবে। সর্বশেষ মেডিকেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অপারেশনটি করা হয়েছে। কোনো রকম কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই অপারেশনটি হয়েছে। বিশ্বে এই পর্যন্ত প্রায় দুইশ’ রোগীর এই অপারেশনটি হয়েছে। এই ধরনের অপারেশনে সাধারণত খরচ পড়ে কোটি টাকার উপরে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দু’তিন মাস পুরো বিশ্রামে থাকতে হবে। এরশাদের ব্লাড প্রেসার ভালো, ডায়াবেটিস নেই এবং অন্যান্য সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও এই চিকিৎসক উল্লেখ করেন। তবে তিনি এও জানান, এরশাদের বয়স খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বয়সে সাধারণত কারো ভাল্ব রিপ্লেসমেন্ট হয় না। এমনিতে এরশাদের শরীর খুব ফিট। ভবিষ্যতে তিনি কতটা সক্রিয় থাকতে পারেন সেদিকে চিকিৎসকরা খেয়াল রাখবেন।
    এদিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর তার কাছের আত্মীয়স্বজন ছাড়া কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না এরশাদ। এরশাদের বাসার অভ্যর্থনাকারী আনিস জানান, স্যার তার আত্মীয়স্বজন ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে এই মুহূর্তে দেখা-সাক্ষাৎ করছেন না। মাঝে মধ্যে দলের মহাসচিব আসলে শুধু তিনিই স্যার-এর সঙ্গে দেখা করেন। ডাক্তারের নির্দেশ রয়েছে। স্যার ভালো হলে আপনাদের সঙ্গে কথা বলবেন।
    ভোট এখনো এক বছরের বেশি দূর। তবুও রাজনীতিতে একধরনের ভোটের হাওয়া বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ এরইমধ্যে পুরোদমে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলটির প্রার্থীদের নিয়ে হয়েছে একাধিক জরিপ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও রাজনীতির মাঠে ফিরেছেন। তার কক্সবাজার সফর ঘিরে বিপুল শোডাউন করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এর রেশ এখনো রয়ে গেছে। ভোট যত ঘনিয়ে আসবে জোট রাজনীতির সমীকরণও ততো জমে উঠবে। এ খেলায় এবার এরশাদের ভূমিকা কতটা থাকবে, কোন্‌দিকে থাকবে তা নিয়ে রাজনীতিতে কৌতূহল সহজে মিটবে না।