• ?????: রাজনীতি

    খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পাশে বাসে পেট্রোলবোমা হামলা, ২টি বাসে আগুন

    রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে ফেনী মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পাশে দুইটি বাসে পেট্রোলবোমা হামলা চালিয়েছে দৃর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বহরটি নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে আরটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা সামসুদ্দিন দিদার।

    স্থানীয়রা জানান, মহিপাল ফিলিং স্টেশনের বিপরীত দিক থেকে অজ্ঞাত ২০/২৫ লোক গাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে এবং গুলি ছোড়ে। তারা এ সময় সেখানে একটি পেট্রল পাম্পের ৩০০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে। এতে বাস দুটিতে আগুন ধরে যায়। তবে ঘটনার সময় বাস দুটিতে কেউ ছিল না বলে জানা গেছে।

    এ ঘটনার পর মহিপালে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গাড়িবহরে আগে থেকেই যুক্ত থাকা ফেনী জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করে।

    ফেনী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কবির হোসেন জানান, আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর আগে গত শনিবার কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার সময় ফেনীর ফতেহপুরে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।

    পথে পথে খালেদা জিয়াকে বাধা দেয়া হচ্ছে : রিজভী

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে ক্ষমতাসীনরা হামলা এবং বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    রিজভী বলেন, বেগম জিয়ার কক্সবাজার সফর সম্পর্কে পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করছে না। খালেদা জিয়াকে পথে পথে সম্বর্ধনা জানাতে মানুষের ঢল দেখে ক্ষমতাসীনরা প্রলাপ বকছেন। বিভিন্ন জায়গায় তারা গাড়ি বহরে বাধা দিচ্ছে।

    রিজভী বলেন, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করে গাড়ি বহর আটকে দেয়ার চেষ্টা করে। বেলা পৌনে ১২টা থেকে ১২টা পর্যন্ত রাস্তায় ট্রাক ও গাড়ি আটকে দিয়ে এবং ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ভাংচুর করে তারা এ চেষ্টা চালায়।

    মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই জানান, খালেদা জিয়ার গাড়িবহর যাওয়ার আগেই নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছিলাম। এ সময় বেলা পৌনে ১২টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে আটকে রাখার চেষ্টা চালায়। এ সময় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। সেইসঙ্গে তারা যাত্রীবাহী একটি বাস ভাংচুর করে বাধা প্রদান করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা অবরোধ মোকাবেলা করেন।

    এর আগে রোহিঙ্গাদের দেখতে সকালে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়া কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে সড়কপথে রওনা হন।

    ফেনীতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা–ভাঙচুর

    কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাওয়ার পথে ফেনীতে হামলার কবলে পড়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর।

    আজ শনিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফেনী শহরের কাছে মোহাম্মদ আল বাজার পার হওয়ার সময় একদল মানুষ গাড়িবহরের ওপর হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

    এ সময় ওই ব্যক্তিরা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই, ডিবিসি, একাত্তর ও বৈশাখী টেলিভিশনের গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের বহরে থাকা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও বিএনপির নেতাকর্মীকেও পেটায় তারা।

    তবে এই হামলার পরও বিকেল ৫টা নাগাদ নিরাপদে ফেনী সার্কিট হাউসে পৌঁছান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

    এর আগে চারদিনের কক্সবাজার সফরের উদ্দেশে আজ সকালে ঢাকা থেকে রওনা হন খালেদা জিয়া। পথে আজ রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি করবেন তিনি। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাওয়ার পথে ফেনীতে হামলার কবলে পড়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর।

    আজ শনিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফেনী শহরের কাছে মোহাম্মদ আল বাজার পার হওয়ার সময় একদল মানুষ গাড়িবহরের ওপর হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

    এ সময় ওই ব্যক্তিরা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই, ডিবিসি, একাত্তর ও বৈশাখী টেলিভিশনের গাড়িসহ বেশকিছু যানবাহনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসনের বহরে থাকা বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও বিএনপির নেতাকর্মীকেও পেটায় তারা।

    তবে এই হামলার পরও বিকেল ৫টা নাগাদ নিরাপদে ফেনী সার্কিট হাউসে পৌঁছান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

    এর আগে চারদিনের কক্সবাজার সফরের উদ্দেশে আজ সকালে ঢাকা থেকে রওনা হন খালেদা জিয়া। পথে আজ রাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি করবেন তিনি।

    আমার অনুমতি ছাড়াই স্যুটকেসে তল্লাশি চালিয়েছে : সোহেল তাজ

    ঢাকা বিমানবন্দরে কেউ আমার স্যুটকেসের তালা ভেঙেছে এবং আমার অনুমতি ছাড়াই সেখানে তল্লাশি চালিয়েছে। স্যুটকেসটিতে আমার বাবাকে নিয়ে লেখা কিছু বই ছিল। আমি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছি ২২ অক্টোবর, ২০১৭ এবং আমার স্যুটকেসটা খোলা অবস্থায় পেলাম। স্যুটকেসের নেমট্যাগে আমার নাম পরিষ্কারভাবে লেখা ছিল। ’

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ছেলে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজকে। তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর কেউ একজন তাকে না জানিয়েই তার সুটকেসের তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজস্ব ভেরিফায়েড পেজে একটি স্ট্যাটাস এ কথা লিখেন সোহেল তাজ।

    ড. ইউনূস একশ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন: জয়

    ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও হিলারি ক্লিনটনদের মতো মানুষের ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সন্তান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এসময় গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনূস একশ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    সোমবার (২৩ অক্টোবর) পদ্মা সেতু নিয়ে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সেমিনারে সজীব ওয়াজেদ জয় এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সুশীল সমাজকে বিদেশিদের দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশকে টেনে নামাতে ব্যস্ত। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া নয়, দেশকে ধ্বংস করার জন্য তারা কাজ করেন।

    তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ষড়যন্ত্র কোথা থেকে শুরু হয়েছে। ২০০৯ সালে যখন আমরা সরকার গঠন করি, একটি টেলিভিশন চ্যানেল তদন্ত করে বের করে, গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করেছে। সেই টাকার বেশিরভাগই নরওয়ে সরকারের দেওয়া। আমরা আওয়ামী লীগ সরকার তদন্ত করে দেখলাম, একশ’ মিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছিল।’

    ‘তখন নরওয়ে সরকার চিঠি দিয়ে জানায়,টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তারা কিন্তু বলে নাই যে টাকা পাচার হয় নাই। তারা শুধু বলেছিল, টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আসল ঘটনা কী? আসল ঘটনা হলো— একশ মিলিয়ন ডলার চুরি করা হয়েছিল। এটা চুরি। এই টাকার মাত্র ৩০ মিলিয়ন ডলার পরে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। বাকি ৭০ মিলিয়ন ডলারের কোনও হিসাব নাই।’

    জয় বলেন, ‘পরে খবর প্রকাশ হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ ইউনূস চিঠি লিখেছেন। তাতে বলেছেন, ‘তোমরা কিছু করো। না হলে আমার সর্বনাশ হবে।’ তিনি বলেন নাই, এটা মিথ্যা। তিনি বলেছেন, নরওয়ে সরকার উনাকে চিঠি দিয়েছে।এখানে আমরা বিদেশিরা যেটা বলে, সেটাই বিশ্বাস করতে চাই।’’

    সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘‘বিশ্বের বড় একটি কোম্পানির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা— সবখানেই তাদের ব্যবসা আছে। বাংলাদেশেও তাদের ব্যবসা আছে। ওই চেয়ারম্যান আমাকে একদিন বললেন, ‘আমরা তো ইউরোপের সব দেশেই ব্যবসা করি। তুমি কি জানো, ইউরোপে সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ দেশ কোনটি?’ ওই চেয়ারম্যান বললেন, এই দেশটির নাম নরওয়ে। এই দেশটিতেই তাদের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির মুখে পড়তে হয়। তিনি আরও বললেন, বাংলাদেশে এতদিন আমরা ব্যবসা করছি, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের কেউ কোনোদিন এক পয়সাও চায়নি।’

    অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজকে বিদ্রুপ করে জয় বলেন, ‘‘বিদেশিরা যেটা বলে, সেটাই সত্য। আমরা যেটা বলি, সেটাই মিথ্যা’―এই কথাটি সুন্দর করে বলেন একদল মানুষ, তারা সুশীল। আমাদের সমাজেই এক শ্রেণি আছে, তারা সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়ায়। দেশে তাদের কোনও কাজ নেই; তারা এনজিও করে, সেমিনার করে, বক্তব্য দেয়। এসব এনজিও-সেমিনার কার পয়সায় চলে? বিদেশিদের পয়সায় চলে। এটাই তাদের আয়, তাদের ব্যবসা। তারা বিদেশিদের গোলাম।’’

    তিনি আরও বলেন, ‘এসব সুশীলরা বলবে, ভারতের সঙ্গে পানি চুক্তি হয়েছে কিন্তু পানি আসবে না। পানি আসলে তারা বলবে, পানি তো ঘোলাটে। এরাই এ কথাগুলো বলতে থাকে। কারণ সমালোচনা না করলে তারা বিদেশ থেকে টাকা আনতে পারবে না। সেমিনার করার সুযোগ থাকবে না। তাদের আয় বন্ধ হয়ে যাবে।’

    পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গ টেনে জয় বলেন, ‘প্রথম যখন সরকারের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হলো, তখন বাস্তবতা কী? তখন প্রজেক্ট শুরুও হয়নি। বিশ্বব্যাংক তখনও একটি পয়সাও দেয়নি। যেখানে কোনও টাকাই খরচ হয়নি, সেখানে দুর্নীতি কিভাবে সম্ভব? এ প্রশ্ন তোলা হলে তারা বললো, দুর্নীতি না, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।তখন আমরা তাদের কাছে দুর্নীতির তথ্য চাইলাম। এই তথ্যের কথা আপনারা সবাই জানেন। একটি ডায়েরির এক পৃষ্ঠা। কোনও চিহ্ন নেই এটা কোথা থেকে এসেছে। এটা তো আমিও জানাতে পারি। এর তো অথেনটিসিটি প্রয়োজন। কিন্তু কিচ্ছু ছিল না। তখন বিশ্বব্যাংকের তদন্তকারী ওকাম্পো। তিনি দুদকের চেয়ারম্যানের অফিসে বসে অনেক আলোচনা করলেন। তার কাছে বারবার তথ্য চাওয়া হলো। কিন্তু তিনি ওই এক ডায়েরির পৃষ্ঠা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারলেন না।’

    ‘দুদকের চেয়ারম্যানের অফিসে বসে ওকাম্পো জোর গলায় দাবি করলেন, মন্ত্রী আবুল হোসেন ও উপদেষ্টা মশিউর রহমানকে আজই গ্রেফতার করতে হবে। দুদকের চেয়ারম্যান বললেন, এই তথ্য দিয়ে তো একজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে গ্রেফতার করতে পারি না। এটা সম্ভব না। এখানে কোনও মামলা নেই। কিন্তু ওকাম্পো এমনভাবে দুদকের চেয়ারম্যানকে হুকুম করেন, যেন দুদকের চেয়ারম্যান তার গোলাম। সেই ওকাম্পোর বিরুদ্ধে এখন দুর্নীতির মামলা চলছে।’

    এসব উদাহরণ টেনে জয় বলেন, ‘এই যে আমাদের বিদেশিদের ওপর বিশ্বাস, বিদেশিরা বললেই সত্য— এটা কোথা থেকে তৈরি হয়েছে? পঁচাত্তরের পরই একটি সমাজ দেশকে টেনে নামানোর জন্য কাজ করতে শুরু করে। এই যে মোহাম্মদ ইউনূস, তিনি কি দেশ সম্পর্কে একটি ভালো কথাও বলেছেন? একটি কথাও বলেন নাই। সুশীল সমাজের যাদের নাম সবসময় শুনে থাকি, তাদের মুখে কোনোদিন বাংলাদেশের প্রশংসা শুনেছেন? না, তারা কেবল সমালোচনা করেন। তারা বলেন, পানি আসবে না। পানি আসলে বলবেন, পানি ঘোলাটে। তাদের লক্ষ্য, নিজের দেশকে টেনে নামাতে হবে। দেশপ্রেম তো দূরের কথা, তারা নিজের দেশকে ধ্বংস করতে ব্যস্ত। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে টেনে নামাতে ব্যস্ত।’

    দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের মানুষের কাছে আমার অনুরোধ, এসব ব্যক্তির কথা বাদ দিলাম। আমরা বিদেশিদের কেন, কারওই গোলাম নই। কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা, হতার জন্য আমাদের বিদেশিদের সার্টিফিকেট প্রয়োজন নেই। সত্য-মিথ্যার যাচাই আমরা নিজেরাই করতে পারি। এর কারণ, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস না থাকলে বিদেশিদের কাছে হাত পাততে হয়।পদ্মা সেতু আমরা নিজেদের অর্থায়নে করার ঘোষণা দিয়ে করে দেখিয়েছি। এটা কিন্তু আন্দাজে করিনি। আন্দাজে করলে কিছু হয় না। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আরও একটি গুণ আছে, আমাদের মেধা আছে। আমরা অঙ্ক করে, হিসাব করেই দেখেছি, আমরা নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে পারি। এর ফলে অর্থনীতির ওপর কোনও চাপ পড়বে না।’

    ‘কিন্তু অক্সফোর্ড থেকে পড়ালেখা করা বাবুরা, যারা বাংলাদেশে জন্ম নিয়েও ইংরেজি অ্যাকসেন্টে বাংলা বলে, তারা কিন্তু বলেছিল, পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে করলে অর্থনীতির ওপর চাপ পড়বে। তারা কিভাবে বলে এ কথা? আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, বাজেট দ্বিগুণ, তিনগুণ হচ্ছে। এটা আন্দাজে হচ্ছে না। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বিশ্বের মধ্যে ৩৩তম অবস্থানে আছে। কারণ,আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। আর একের পর এক ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করেই যাচ্ছি। ষড়যন্ত্র লেগেই থাকে। এটা রাজনীতির বাস্তবতা যে রাজনীতি করলে সারাক্ষণ ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়।’

    তিনি বলেন, ‘কিন্তু যাদের সঙ্গে কোনও মানুষ নেই, মানুষ থাকবে না, ষড়যন্ত্রই তাদের একমাত্র পথ। গ্রামীণ ব্যাংকের ইউনূস ওয়ান-ইলেভেনের সময় কী করেছিলেন? সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পরই লাফ দিয়ে রাজনীতিতে নামলেন। তিনি জানেন, নির্বাচন করলে একটা সিটও পাবেন না। আবার সুশীলদেরও লোভ আছে। তারা মনে করে, তারা সুশিক্ষিত। এত সুন্দর ইংরেজি বলে, বিদেশিদের সঙ্গে তাদের অনেক খাতির। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মানুষের ভালোবাসা ছাড়া ক্ষমতায় আসা যায় না।’

    তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর থেকে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলেই আসছে। এটা আগে মোকাবিলা করা হতো না। কিন্তু যখনই একের পর এক মিথ্যা প্রচার চলতে থাকে, তখন মানুষ তা বিশ্বাস করতে শুরু করে। তাই সত্যকে তুলে ধরতে হবে সবার সামনে।’

    জয় বলেন,‘সৎ থাকলে সুবিধা আছে। আমি তার কথা, তার ভঙ্গিকে হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিলাম। সৎ থাকলে কারও কাছে কিছু পাওয়ার থাকে না। এই পর্যায়েও ষড়যন্ত্র হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আজ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান।’

    সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমরা বাঙালি জাতি। যুদ্ধ করে, লড়াই করে, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এত বছরের এত ষড়যন্ত্রের পরও গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, ১৭ সেপ্টেম্বরের বোমা হামলা পেরিয়ে আমরা এই পর্যায়ে এসেছি। সারাবিশ্বে এখন বাংলাদেশের প্রশংসা। আমি সবাইকে বলতে চাই, নিজের দেশের ওপর আত্মবিশ্বাস কখনও হারাবেন না। বিদেশিদের কথা ছাড়া, বিদেশিদের সার্টিফিকেট ছাড়াই আমরা চলতে পারি। আমরা তাদের কারও চেয়ে কম নই।

    হয়রা‌নি করতেই তা‌রেক রহমা‌নের বিরু‌দ্ধে গ্রেপ্তা‌রি প‌রোয়ানা: ফখরুল

    রাজনৈ‌তিকভাবে হয়রা‌নির উদ্দে‌শ্যেই সরকার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরু‌দ্ধে গ্রেপ্তা‌রি প‌রোয়ানা জা‌রি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএন‌পির মহাস‌চিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    আজ সোমবার দুপু‌রে ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়ত‌নে অলি আহা‌দের পঞ্চম মৃত্যুবা‌র্ষিকী এবং চাষী নজরুল ইসলামের ৭৬তম জন্ম‌দিন উপল‌ক্ষে গণসংস্কৃ‌তি দল আ‌য়ো‌জিত স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা ব‌লেন।

    ‌বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খা‌লেদা জিয়ার বিরু‌দ্ধে ১৫‌টি মামলা, সারা‌ দে‌শে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার মানু‌ষের বিরু‌দ্ধে ২৪ হাজার মামলা। আওয়ামী লী‌গের মন্ত্রীরা ব‌লে‌ছেন যে আদাল‌তের কাজ আদালত কর‌ছে; কিন্তু আপনারা (আওয়ামী লীগ) আদালতকে নিয়ন্ত্রণের জন্যই তো প্রধান বিচারপ‌তি‌কে ছু‌টি‌তে পাঠা‌তে বাধ্য ক‌রে‌ছেন। আপনারা কোনটা বাদ রে‌খে‌ছেন? সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে নি‌য়ে‌ছেন।’

    মির্জা ফখরুল আরো ব‌লেন, ‘আমরা বি‌শ্বের কা‌ছে বল‌তে চাই‌ যে বাংলা‌দেশে গণতন্ত্র নেই; কিন্তু কাউকেই ব‌লি‌নি যে, আমা‌দের ক্ষমতায় ব‌সি‌য়ে দিন। আমা‌দের দুঃসময় চল‌ছে, রো‌হিঙ্গা সমস্যা নি‌য়ে আন্তর্জা‌তিক চক্রান্ত চল‌ছে বাংলা‌দেশ‌কে প্যা‌লেস্টাইন রাষ্ট্রে প‌রিণত করার। ব্যাটল ফিল্ড হি‌সে‌বে ব্যবহার করার ষড়যন্ত্র চল‌ছে।’

    এ সময় গণসংস্কৃ‌তি দ‌লের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ব‌লেন, ‘জনগণ প‌রিবর্তন চায়, খা‌লেদা জিয়া এই প‌রিবর্ত‌নের নায়ক হ‌বেন। সুষমা স্বরাজ কা‌কে কী দি‌লেন? হা‌সিনা‌কে দি‌লেন ভারতীয় পিস্ত‌লের রে‌প্লিকা, আর বল‌লেন মিয়ানমা‌রের নাগ‌রিকরা মিয়ানমা‌রে ফি‌রে যাক। কিন্তু একবারও বল‌লেন না যে রো‌হিঙ্গারা ফি‌রে যাক এবং একবারও বল‌লেন না যে মিয়ানমার অন্যায় ক‌রে‌ছে। শেখ হা‌সিনার উচিত হ‌বে যে সুষমা স্বরাজ যে‌হে‌তু ব‌লে‌ছেন, সকল দ‌লের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, সেটা নি‌শ্চিত করা।’

    সভায় আরো উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিএন‌পির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বাংলা‌দেশ ন্যা‌পের মহাস‌চিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, চাষী নজরুল ইসলামের স্ত্রী জোসনা কাজী, গণসংস্কৃ‌তি দ‌লের সভাপ‌তি এস আল মামুন, অলি আহা‌দের মেয়ে সু‌প্রিম কো‌র্টের আইনজী‌বী ব্যারিস্টার রুমীন ফারহানা প্রমুখ।

    সিলেটে যে ছবিটি এখন ভাইরাল

    শেয়ার হচ্ছে। এক একাউন্ট থেকে আরেক একাউন্টে। ছড়িয়ে পড়ছে সিলেটের সব ফেসবুক আইডিতে। ছবিটি ক্রমেই ভাইরাল হচ্ছে সিলেটে। যতই ছবিটি ভাইরাল ততই হচ্ছে আলোচনা-সমালোচনা। বিরোধীদের মুখে ‘রা’ নেই।
    তারা নিশ্চুপ। আর এই ছবিটি হচ্ছে বিশ্বনাথের স্থগিত হওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকি খানের। তিনি শনিবার সিলেটে সফররত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। আর এ সময় ক্যামেরাবন্দি হওয়া ছবিটি এখন সিলেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনেকেই ছবিটির সমালোচনা করছেন। আবার কেউ কেউ পংকিখানের রাজনৈতিক দূরদর্শীতার প্রশংসাও করছেন। সিলেটের বিশ্বনাথের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা পংকি খানকে নিয়ে গত দুই মাস ধরে আলোচনার অন্ত নেই। ‘বহিরাগত নেতা’ পংকি খান এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিশ্বনাথের কমিটি স্থগিত করা হয়েছিল। কমিটি স্থগিত হওয়ার পর থেকে পংকিখান এখন পদবিহীন। এরপরও রাজনীতিতে সরব পংকিখান। সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর আস্থাভাজন পংকিখান। এক সময় তিনি বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর প্রিয়পাত্র ছিলেন তিনি। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেন থেকে ইলিয়াস আলীর সঙ্গে পংকি খানের দূরত্ব তৈরি হয়। এবং শেষ মুহূর্তে পংকিখান বর্তমান সরকারের প্রথম টার্মে বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আর পংকিখান বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার পর থেকে বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। যে কারণে এখন শফিকুর রহমান চৌধুরী বিরোধী বলয়ে অবস্থান করছেন বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মজম্মিল আলী, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ছয়ফুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান মতচ্ছির আলী সহ সিনিয়র নেতারা। এই দ্বন্দ্ব এখন সাপে-নেউলে। পংকি খানকে বহিরাগত উপাধী দিয়ে তারা যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলয়ে যোগ দিয়েছেন। এ কারণে বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের চলছে পাল্টাপাল্টি। পংকিখানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচিত হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট আওয়ামী লীগের এক নেতা। তিনি জানান- বিষয়টি দলের সভানেত্রীর নজরে যাওয়ার পরপরই প্রায় দুই মাস আগে স্থগিত করা হয় বিশ্বনাথের কমিটি। কমিটি স্থগিতের পর থেকে বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের বিরোধী বলয়ে উল্লাস চলছে। কিন্তু থেমে নেই পংকি খান। আগের চেয়ে আরো বেশি সক্রিয় হয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে এলেই তিনি ছুটে আসেন। দেখা করেন তাদের সঙ্গে। আর এসব ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন তার সমর্থকরা। গত শনিবার সিলেট সফরে আসেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওই দিন সকালে তিনি রেজিস্ট্রারি মাঠে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযানের উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যখন মঞ্চে বসা ছিলেন ওবায়দুল কাদের। তখন নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে সেখানে ছুটে যান পংকি খান। হাত বাড়িয়ে দেন ওবায়দুল কাদেরের দিকে। ওবায়দুল কাদেরও তার দিকে হাত বাড়ান। দু’জন যখন করমর্দন করছিলেন তখন ছবি তোলা হয়। আর এই ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার হওয়ায় পর থেকেই আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ছবিটি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে শেয়ার করেছেন সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরীর একান্ত সহকারী যুবলীগ নেতা কবিরুল ইসলাম কবির। শেয়ার করা বেশ কয়েকটি ছবির একটিতে দেখা গেছে পংকিখান ওই সময় মঞ্চে দাঁড়িয়েও ছিলেন।

    সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা

    বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান আজ রোববার দুপুরে জানান, আগামীকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় স্থায়ী কমিটির সভা বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

    সফায় যখাসময়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছে। তবে সভার আলোচ্যসূচি নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি শায়রুল কবীর খান।

    গত ১৫ জুলাই চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন। বড় ছেলে ও দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগে থেকেই লন্ডনে অবস্থান করছেন। এ সময় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ঢাকায় ফেরার পরদিন আদালতে আত্মসমর্পণ করে দুটি মামলায় জামিন নেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

    খালেদা জিয়া লন্ডনে থাকার সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির কোনো সভা হয়নি।

    বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, সভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে আগামী বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

    আজ সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষে এ ঘোষণা দেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    ঘোষণায় বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে আগামী বুধবার ঢাকা মহানগরীসহ দেশব্যাপী বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অনুরোধ করা হলো।

    রিজভী বলেন, ‘আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন যে, কুমিল্লার জেলা জজ আদালতে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের প্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’

    বিএনপি নেতা বলেন, পরিকল্পিতভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে একক নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে কায়েম নিশ্চিত করতে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলোকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সরকার তা নিশ্চিহ্ন করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘দেশবাসী জানে-দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তিনি এখনো লন্ডনে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা শেষে তিনি যথাসময়ে দেশে ফিরবেন। তাঁর ফেরার সময়ও প্রায় আসন্ন। আর ঠিক এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক। এর মাধ্যমে দেশে সরকারের সৃষ্ট বিভেদ-বিভাজনের রাজনীতিকে আরো তীব্রতর করা হলো। বিএনপি চেয়ারপারসনকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে সরকারের এহেন প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।’

    আজ দুপুরে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারিক জেসমিন বেগম বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নোয়াবাজার এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায় এ পরোয়ানা জারি করা হয়।

    ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চৌদ্দগ্রামের নোয়াবাজার এলাকায় ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলায় আটজন নিহত হন। আহত হন আরো ২০ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে ওই থানায় মামলা করে পুলিশ। সেই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়।

    খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

    কুমিল্লার আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ যাত্রী নিহত ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ বেগম জেসমিন আরা এ আদেশ দেন।

    আদালত সূত্রে জানা যায়, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ চলাকালে ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে বাসের ৮ ঘুমন্ত যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান, আহত হন ২০ জন। পরে এ ঘটনায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

    মামলায় বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় ৬ নেতাকে হুকুমের আসামি করা হয়। কুমিল্লা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মোহাম্মদ ইব্রাহিম সোমবার খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে খালেদা জিয়াসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।