• ?????: অফিস-আদালত

    আবাসিক হোটেলে অভিযানে ১০ ছাত্র-ছাত্রী আটক

    ফরিদপুর শহরের দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অশ্লীল কর্মকাণ্ডের দায়ে ১০ ছাত্র-ছাত্রীকে এক সপ্তাহের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাজী শরীয়াতুল্লাহ বাজার সংলগ্ন হোটেল রয়েল প্যালেস ও হোটেল পার্ক প্যালেসে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে ১০ ছাত্র-ছাত্রীকে আটক করে সাজা দেওয়া হয়। আদালত জানান, সাজাপ্রাপ্তরা সকলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী। দুই হোটেল কর্তৃপক্ষকে অশ্লীল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    মিতু হত্যা: অস্ত্র মামলায় ফের সাক্ষ্য ২২ ফেব্রুয়ারি

    সাবেক এসপি বাবুল আখতারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার ঘটনায় দায়ের করা অস্ত্র মামলায় আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শাহে নুরের আদালতে বুধবার অস্ত্র মামলাটির বাদী চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কামরুজ্জামানের সাক্ষ্য নেওয়ার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব। সিএমপির এই অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মিতু হত্যার ঘটনায় অস্ত্র মামলার বাদী হওয়ার পাশাপাশি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হিসেবেও রয়েছেন। তার সাক্ষ্য নেওয়ার মাধ্যমে অস্ত্র মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হলেও বুধবার পুরো জবানবন্দি নেওয়ার আগেই দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। বিচারক আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি মামলায় তার বাকি জবানবন্দি নেওয়ার দিন ঠিক করেছেন। গত বছরের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের ও আর নিজাম রোডে সন্তানের সামনে গুলি চালিয়ে ও কুপিয়ে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু মিতুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২৮ জুন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা দুটি অস্ত্র ও বেশ কয়েকটি গুলিসহ এহতেশামুল হক ভোলা ও মনির হোসেন নামে দুই জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। পরে বাকলিয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ওই মামলা করা হয়। পুলিশ বলে আসছে, ওই দুইজনের কাছ থেকে উদ্ধার করা পয়েন্ট ৩২ বোরের দেশি রিভলবার ও ৭ দশমিক ৬৫ বোরের পিস্তলটি মিতু হত্যায় ব্যবহার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় গত ২৮ জুলাই ভোলা ও মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মহিম উদ্দিন। গত বছরের ২২ নভেম্বর অস্ত্র মামলায় এই দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ১৮ জানুয়ারি থেকে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল আদালত। এদিকে মিতু হত‌্যার ঘটনায় তার স্বামীর দায়ের করা হত্যা মামলায় এখনও অভিযোগপত্র দেয়নি পুলিশ। কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা নামের সন্দেহভাজন একজন গ্রেপ্তার না হওয়ায় তদন্তও থমকে আছে। মুছাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছে চট্টগ্রামের পুলিশ।

    কাদের সিদ্দিকীর আপিল খারিজ

    টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচনে আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ নয় বলে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে ওই আসনের উপনির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইনজীবী ব্যারিস্টার ড. মুহাম্মদ ইয়াসিন খান। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) আপিলের এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চে আপিল শুনানি শুরু করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। পরে সর্বোচ্চ আদালত শুনানি মুলতবি করে বলেন, কতোজন বিচারপতি এ আপিলের শুনানি গ্রহণ করবেন তা পরে ঠিক করা হবে। সে অনুসারে মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) আপিলটি কার‌্যতালিকায় ওঠে এবং বুধবার সকল বিচারপতি (পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ) আপিলের শুনানি গ্রহণ করবেন বলে আদেশ দেন। টাঙ্গাইল-৪ আসনে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ২০১৫ সালের ০১ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ০৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়। পরে একই বছরের ১০ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৪ আসনে উপনির্বাচনের দিন ধার্য করেছিল নির্বাচন কমিশন। অন্য দলের পাশাপাশি এতে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কাদের সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ঋণখেলাপের অভিযোগে ওই বছরের ১৩ অক্টোবর রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। আপিলের পর ১৮ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন কাদের সিদ্দিকীর আপিল খারিজ করে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের চূড়ান্ত রায় দেন। এরপর নির্বাচন কমিশনের বাতিল আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন কাদের সিদ্দিকী। গত বছরের ০৪ ফেব্রুয়ারি কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বৈধ নয় বলে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে কাদের সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করলে (আপিলের অনুমতি) ১৫ মার্চ তা মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। ২০১৪ সালের টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর) আসনের উপনির্বাচনেও প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন কাদের সিদ্দিকী। সে সময়ও ঋণখেলাপের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

    তারেক সাঈদের রাত কেটেছে মেঝেতে শুয়ে, ছিলেন বিমর্ষ

    নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে নূর হোসেন, তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ পাঁচজনকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনকে রাখা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। মামলায় ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হলেও এদের মধ্যে গ্রেফতার আছেন ১৭ জন। বাকিরা পলাতক। আলোচিত সাত খুন মামলার রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেন, র‍্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) আরিফ হোসেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) এমএম রানা ও ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেনকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামিসহ ১৮ জনকে রাখা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। তারা হলেন— মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এসআই পূর্ণেন্দু বালা, হাবিলদার এমদাদুল হক, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, সিপাহি আবু তৈয়ব, আসাদুজ্জামান নূর, নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী ও আবুল বাশার। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে রাখা ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন— কনস্টেবল বাবুল হাসান, ল্যান্স করপোরাল রুহুল আমিন, সৈনিক নুরুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদ। একই কারাগারে স্থান পাওয়া সাত বছর দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন— এএসআই বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিন।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার মো. আসাদুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য ১৫টি সেল রয়েছে। সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামিকে চারটি সেলে রাখা হয়েছে। তাদের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির পোশাক পরিয়ে দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে আরো ১২ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন। তারা যেভাবে আছেন, সেভাবেই রাখা হয়েছে সাত খুন মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদেরও।

    কারাগারে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে দুই দিন আগেও খাটের ওপর তোষক বিছিয়ে লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর সুযোগ মিলেছিল সাত খুন মামলার অন্যতম আসামি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদের। তবে রায়ের পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। গায়ে উঠেছে কয়েদির পোশাক। সোমবার তাঁর রাত কেটেছে মেঝেতে শুয়ে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কনডেম সেলে থাকার জন্য তাঁকে দেওয়া হয়েছে তিনটি কম্বল। তা-ই বিছিয়ে ও গায়ে দিয়ে রাত পার করতে হয়েছে তাঁকে। আগে তাঁকে দেওয়া হতো উন্নতমানের খাবার, বরাদ্দ ছিল চিকন চালের ভাত। এখন অন্য বন্দিদের মতোই সাধারণ খাবার দেওয়া হচ্ছে। এ মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেন, লে. কমান্ডার (বরখাস্ত) এম এম রানা, মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেনসহ অন্য আসামিদেরও ঠাঁই হয়েছে কনডেম সেলে। তাঁদেরও রাত কেটেছে একইভাবে। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর তাঁরা ছিলেন বিমর্ষ।

    দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পেলেই আপিল করা হবে। ইতিমধ্যে তাঁরা রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে সংঘটিত নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত সোমবার রায় ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন। আলোচিত এ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির সংখ্যা ৩৫। সোমবারের রায়ে হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় প্রত্যেকেরই সাজা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে র‍্যাব সদস্যই রয়েছেন ২৫ জন। ফৌজদারি অপরাধে একসঙ্গে এতজন র‍্যাব সদস্যের শাস্তি পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

    ‘আমি সব কইয়া দিমু’

    নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তবে বাংলাদেশে হস্তান্তরের আগে ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফের একটি বিশেষ ক্যাম্পে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাকে জেরা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যৌথ জেরার মুখে নূর হোসেন সাত খুনের আদ্যোপান্ত খুলে বলেন। নূর হোসেনের এই জিজ্ঞাসাবাদের পুরো ঘটনা ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করা হয়।

    বাংলাদেশের আইনশৃংখলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বিএসএফ ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ সূত্রে নূর হোসেনের জবানবন্দির ওই ভিডিও রেকর্ডের একটি কপি যুগান্তরের কাছে আসে।

    সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত আদালতের বাইরে এটিই নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের একমাত্র রেকর্ড- যা এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সাত খুনের রায় ঘোষণার পর অত্যন্ত গোপনীয় এই ভিডিও রেকর্ডের ৩ মিনিটের সারাংশ যমুনা টেলিভিশন দৈনিক যুগান্তরের সৌজন্যে সোমবার সম্প্রচার করে।

    জানা যায়, সাত খুনের সপ্তাহদুয়েক পর নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর ২০১৫ সালের ১৪ জুন তিনি ভারতীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে নূর হোসেন বলেন, ‘আমি সব কইয়া দিমু। আমাকে টিভির টফ শোতে (টকশো) নিয়া যান। সেখানে সব বলব।’

    তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন মেজর আরিফ আমাকে ফোন করেন। জানতে চান নজরুল আদালতে গেছে কিনা? তার ফোন পেয়ে নজরুলের অবস্থান জানার জন্য আমি আওয়ামী লীগ নেতা খোকন সাহাকে ফোন করি।’ আদালতে নজরুলের উপস্থিতির বিষয়টি খোকন সাহার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে মেজর আরিফকে তিনি জানান- হ্যাঁ স্যার নজরুল কোর্টে আছে।’

    নজরুলকে অপহরণে র‌্যাবের এত আগ্রহের কারণ কি জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, ‘আরিফ একটা জমি দখলের জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু নজরুলের কারণে আমি সেটা করতে পারছিলাম না। আরিফকে এটা বলার পর র‌্যাবের পক্ষ থেকে নজরুলকে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য র‌্যাব আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সাও নিয়েছে।’

    নিজের অবিশ্বাস্য উত্থান ও সিদ্ধিরগঞ্জে নিজের মাদক সাম্রাজ্য নিয়ে নূর হোসেন বলেন, ‘আমি মূলত বাসের হেলপার ছিলাম। অনেক কষ্ট কইরা এই জায়গায় আইছি। ১৮ বছর ধইরা ওয়ার্ড কাউন্সিলর।’ এভাবে দিন দিন তিনি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থানে চলে যাচ্ছিলেন উল্লেখ করে নূর হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে আমাকে অনেকবার হত্যার পরিকল্পনা হয়। কিন্তু আমার কাছে সব সময় ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র থাকত। এর মধ্যে ১২টির লাইসেন্স ছিল। তাই আমাকে মারতে কোনো কিলার রাজি হয়নি।’

    জিজ্ঞাসাবাদের সময় নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জে একচ্ছত্র মাদক ব্যবসার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসা শুরু হয় গত বিএনপি আমলে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেটা বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমার লোকজন সেখানে ব্যবসা শুরু করে। ভারতীয় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি থেকে দিনে কয়েক লাখ টাকা আয় হতো।’ তিনি দাবি করেন, ‘মাদক সাম্রাজ্য থেকে তার প্রতিদিন যে আয় হতো তার একটি বড় অংক পেত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব ও স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমকর্মী। যারা টাকা নিতেন তারা সবাই আমার কথামতো কাজ করতেন। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি আবদুল মতিন আমার কথায় ওঠাবসা করতেন।’

    জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে নূর হোসেন জানান, ‘নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যানেরও ব্যাপক দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ বিষয়ে আমার কাছে লিখিত এভিডেন্স (প্রমাণ) আছে, যেখানে প্রকাশ্যে শহীদ চেয়ারম্যান বলেছেন- নজরুলকে তিনি পিটিয়ে মেরে ফেলবেন।’

    ভারতের জেলে বন্দি থাকাবস্থায় দেশে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ হতো তা জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, ‘প্রথম ৬ মাস আমি ভারতের কারাগারে ভালোই ছিলাম। বাইরে থেকে মাছ-মাংস এনে খেতাম। ভারতের ওই কারাগারটি বিশাল। সেখানে আলু, লালশাক লাগিয়েছি। ফুলকপি, বাঁধাকপির চাষ করেছি। বাংলাদেশ থেকে আমার লোকজন গেলে দেখা সাক্ষাৎ হতো। কিন্তু ছয় মাস পর একটু অসুবিধা হয়।’

    স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সখ্যের বিষয়ে নূর হোসেন বলেন, ‘এসপি, ডিসি থেকে শুরু করে জেলার প্রায় সব কর্মকর্তার সঙ্গেই তার সখ্য ছিল। কিন্তু এই খুন নিয়ে এখন পুরো নারায়ণগঞ্জ খালি হয়ে গেছে। ডিসি, এসপি, র‌্যাবের সিও সবাই চলে গেছে।’ আফসোস করে তিনি বলেন, ‘এই খুনটার কারণে আমি আজ স্ত্রী সন্তান সব হারিয়েছি। আমি শেষ হয়ে গেছি। আমার আর কিছুই নেই। যতটুকু উপরে উঠেছিলাম ততটুকু নিচে পড়ে গেলাম।’

    একজন র‌্যাব কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তরে নূর হোসেন বলেন, ‘নজরুল আমার শত্রু। তাকে মারতে বলেছিলাম। কিন্তু নজরুলের সঙ্গে আরও ছয়টা মানুষকে খুনের পেছনে আরও শক্তিশালী হাতের ঈশারা আছে। কারণ সিদ্ধিরগঞ্জের রাজনীতিতে আমরা কয়েকজন উপরে উঠে যাচ্ছিলাম। এ জন্য নজরুলের সঙ্গে আরও ছয়জনকে মেরে আমাদেরকেও চিরতরে ঠাণ্ডা করা হয়।’

    ভারতে পালিয়ে এলেন কেন জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, ‘র‌্যাবের ভয়ে। কারণ সবাই আমাকে বলল- তুমি পালাও। র‌্যাব পেলে তোমাকে খেয়ে ফেলবে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে বলল, আপনি পালিয়ে যান। বেঁচে থাকলে আবারও দেখা হবে। কোন নম্বরে ফোন করেছিল জানতে চাইলে নূর হোসেন বলেন, আপনারা শুধু আমার একটা নম্বরই জানেন। কিন্তু আমার কাছে আরও অন্তত ছয়টা নম্বর আছে। ওই নম্বরগুলোর একটিতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ফোন এসেছিল।’

    নূর হোসেন আরও বলেন, ‘ভারতের কারাগারে থাকার সময় বাংলাদেশ থেকে তার লোকজন নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। সেখানে তার বেশ আরাম আয়েশে দিন কেটেছে। এ কারণে তিনি দেশে ফিরতে রাজি ছিলেন না।’

    দীর্ঘ ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতের শেষভাগে নূর হোসেনকে দু’দেশের সীমান্ত সংযোগস্থল নো-ম্যান্স ল্যান্ডে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ, তদন্তকারী কর্মকর্তা, নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবির সদস্য, বিজিবি ও র‌্যাবের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল। নো ম্যান্স ল্যান্ডে নূর হোসেনকে নিয়ে আসা হলে তাকে রিসিভ করার জন্য এগিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু বিএসএফ পুলিশের হাতে নূর হোসেনকে হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে। এ সময় একজন পদস্থ বিএসএফ কর্মকর্তা জানতে চান, এখানে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) জিয়াউল আহসান উপস্থিত আছেন কিনা? কারণ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে জিয়াউল আহসান ছাড়া অন্য কারও কাছে নূর হোসেনকে যেন হস্তান্তর করা না হয়। পরে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে র‌্যাবের পরিচালক (অপস) আবুল কালাম আজাদসহ তিনজন র‌্যাব কর্মকর্তা নূর হোসেনকে গ্রহণ করেন।

    র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সৌজন্য বিনিময়ের পর হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতেই বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত পাঁচ কপি দলিলে স্বাক্ষর করেন উভয় দেশের কর্মকর্তারা। এ সময় নূর হোসেনকে বিএসএফের একটি গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়। সই-স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নূর হোসেনকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়ি থেকে নামানো হয়। গাড়ি থেকে নামার সময় নূর হোসেন কাঁপছিলেন। এ সময় তার মাথায় হেলমেট ও গায়ে র‌্যাবের বুলেট প্র“ফ জ্যাকেট পরানো হয়। এত আনুষ্ঠানিকতা দেখে নূর হোসেন ঘাবড়ে যান। তিনি উপস্থিত কর্মকর্তাদের বলেন, পানি খাব। এক গ্লাস পানি পাওয়া যাবে। কর্মকর্তারা তাকে বলেন, কোনো ভয় নেই। তুমি শান্ত থাক। শেষ রাতের দিকে নূর হোসেনের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হয়। এরপর কঠোর নিরাপত্তায় কয়েকটি গাড়ির স্কটসহ নূর হোসেনকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেয় র‌্যাব।

    মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় প্রকাশ

    সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

    বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৬৫ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। গত ০৭ ডিসেম্বর আসামিদের আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

    হান্নান ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই জন হলেন- শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। আসামি পক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা।

    গত ৩০ নভেম্বর এ মামলায় আপিল শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হজরত শাহজালালের (র.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়।

    হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

    নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন। প্রায় সাত বছর পর গত ৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। পরে বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল রেখে ১১ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

    গত ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এরপর ১৪ জুন রায় হাতে পাওয়ার পর ১৪ জুলাই আপিল করেন দুই আসামি হান্নান ও বিপুল। অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিপন আপিল না করলেও আপিল বিভাগ তার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেন। পরে রিপনের পক্ষে হেলাল উদ্দিন মোল্লা শুনানি করেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আপিল না করায় তাদের যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল রয়েছে।

    রাজিব গান্ধীর ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

    রাজধানীর গুলশানে স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীর ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ।

    আজ শনিবার দুপুর ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটি) প্রধান মনিরুল ইসলাম।

    সিটিপ্রধান জানান, গুলশান হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজিব গান্ধীকে। আশা করা যাচ্ছে, তাঁর কাছ থেকে গুলশান হামলাসংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পওয়া যাবে। আজ আদালতে তাঁর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে টাঙ্গাইল থেকে রাজিব গান্ধীকে গ্রেপ্তার করে সিটি। গত বছরের পয়লা জুলাই রাত ৯টার দিকে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে।

    ওই দিন রাতে উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরের দিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী ও রেস্তোরাঁর এক কর্মী। ওই হামলায় মোট ২৯ জন নিহত হয়। জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে। সংগঠনটির মুখপাত্র আমাক হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স।

    নাসিরনগরে হামলার হোতা ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগরে হামলার সন্দেহভাজন মূলহোতা হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ভাটারা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. মফিজ উদ্দিন জানান, দুপুরে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে ভাটারা থানা পুলিশের সহায়তায় আতিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।

    জানা গেছে, আতিকুর রহমান হরিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান।

    গত ৩০শে অক্টোবর ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ছবিকে কেন্দ্র করে নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর এবং মন্দিরে হামলা চালায় একদল লোক। এর কয়েকদিন পর আবার কিছু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    হরিপুরের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে আতিকুর রহমান মনোনীত হয়ে নির্বাচিত হলেও প্রথমে অন্য একজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল, পরে যা বাতিল করা হয়। এই দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্বের সুযোগেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশের প্রতিবেদনে উঠে আসে।

    মওদুদের নাইকো মামলার শুনানিতে বিব্রত হাইকোর্ট

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নাইকো দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম স্থগিত বিষয়ে জারি করা রুল শুনতে বিব্রতবোধ করেছেন হাইকোর্টের একজন বিচারপতি। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের একজন বিচারপতি বুধবার মওদুদের মামলাটি শুনতে বিব্রতবোধ করেন।

    গত ১১ ডিসেম্বর মওদুদের মামলায় হাইকোর্টের জারি করা রুল ১৯ জানুয়ারির মধ্যে নিস্পত্তির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

    একইসঙ্গে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রাখেন আদালত। সেই রুল শুনানিতেই আজ বিব্রত করেন ওই বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি।

    নিয়মানুযায়ী, বিষয়টি এখন প্রধানর বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রুলটি শুনানির জন্য নতুন কোন বেঞ্চে পাঠাবেন।

    আদালতে আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নিজেই শুনানি করেন। অপরদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

    এর আগে গত ১ ডিসেম্বর মওদুদের নাইকো মামলার কার্যক্রম ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

    তার করা এক ফৌজদারী রিভিশন আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি শেখ আব্দুল আউয়াল ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

    পরে মওদুদের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, নাইকোর সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নাইকো-বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার মধ্যে ওয়াশিংটনের সালিশী আদালতে দুর্নীতির বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে।

    চলতি বছর ১৯ জুলাই সালিশী আদালত এক আদেশে সেখানে বিষয়টি নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের আদালতে এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলে।

    সালিশী আদালতের এই আদেশের প্রেক্ষিতে মামলা চলমান থাকায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন মামলাটি স্থগিত চান মওদুদ।

    নিম্ন আদালতে গত ১৬ আগস্ট মওদুদের সেই আবেদন খারিজ করে দেন। সেই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারী রিভিশন আবেদন করেন তিনি। আবেদনে ওয়াশিংটনের সালিশী আদালতের আদেশের কপি হাইকোর্টে তলবের আবেদনও করা হয়।

    সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মওদুদের মামলার কার্যক্রম ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতে তার আবেদন খারিজ করে দেওয়ার আদেশটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

    পরে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে দুদক গত ৭ ডিসেম্বর লিভ টু আপিল করলে আপিল বিভাগ ১৯ জানুয়ারির মধ্যে রুল নিস্পত্তির নির্দেশ দেন।

    গত ২৪ নভেম্বর একই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

    মামলার বিবরণীতে জানা যায়, কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

    এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্স’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

    সিলেটের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফ কারামুক্ত

    সিলেট সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ৪টি মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন।

    বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৫টায় তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

    কারাগার থেকে বেরিয়েই মেয়র আরিফ হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতে যান। এরপর তিনি নগরীর কুমারপাড়াস্থ তার বাসায় যান।

    সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলা ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত ৪টি মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন তিনি।

    গত বছর ২০ ডিসেম্বর সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জিকে গউছকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন।

    এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই বোমা হামলা মামলায় আরিফুল হক চৌধুরীকে ও কিবরিয়া হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জিকে গউছকে ৬ মাসের জামিন দেন বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্টের বেঞ্চ।

    ২০০৪ সালের ২১ জুন দুপুরে দিরাই বাজারে একটি সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এ বোমা হামলায় এক যুবলীগ কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হয়।

    অপরদিকে ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য আবদুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন।

    এ মামলায় ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি হবিগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পন করেন। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন তিনি। তবে মায়ের অসুস্থতার কারণে একবার জামিন পেয়েছিলেন।