• ?????: অর্থ ও বাণিজ্য

    সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রোববার মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। আজ ডিএসইতে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্রে লেনদেন শেষ হয়েছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোববার ডিএসইতে ৯৫৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে ১০২ কোটি ৪২ লাখ টাকা বেশি। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৮৫২ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

    এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩৩৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৯টির, কমেছে ২০৭টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টি কোম্পানির শেয়ার দর।

    ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্য সূচক ২২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ২৬৫ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৮৯৫ পয়েন্টে।

    অন্যদিকে আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৬ হাজার ৪৩৭ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৫৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৬টির, কমেছে ১৪৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টির শেয়ার দর।

    জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে রেমিট্যান্স কমেছে

    বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর (রপ্তানি) হার বেড়েছে। তবে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার (রেমিট্যান্স) পরিমাণ কমেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদেশে জনশক্তি পাঠানো হয়েছে ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪ জন, যা এর আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার (রেমিট্যান্স) পরিমাণ ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের কার্যাবলী সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ফিরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৪৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেটা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চেয়ে এক দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে ট্যাক্স আদায় হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। যা এর আগের অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। মাথাপিছু জাতীয় আয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল এক হাজার ৪৬৫ মার্কিন ডলার, এটা পরের অর্থবছরে বেড়ে এক হাজার ৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভাগের আওতায় সমাপ্তিযোগ্য ৩৪১টি প্রকল্প ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এরমধ্যে ৩১২টি সমাপ্ত হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয়ের পরিমাণ ২০ হাজার ১৬২ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে গম, ভুট্টা, আলু, পিয়াজ, পাট, শাকসবজি, চিনি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম এবং কয়লার প্রকৃত উৎপাদন বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪৩ মেগাওয়াট বেড়েছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৪ হাজার ৪৯৭ কিলোমিটার বিতরণ লাইন ও ৫৪৩ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকার যানজট নিরসনে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এমআরটি লাইন-৬, বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্ধারিত সময়ের আগেই চালু হবে বলে আমরা আশা করছি। তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩৬ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার বিদ্যমান রেলপথ সংস্কার করা হয়েছে। ৪৫ দশমিক ২১ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। ৪৭টি নতুন রেলসেতু ১০টি নতুন স্টেশন, ২২টি রেলসেতু পুনঃনির্মাণ, ৬টি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। নৌ-পরিবহনের ক্ষেত্রে বিআইডব্লিউটি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ২৭৬ ঘন লাখ মিটার ড্রেজিং সম্পন্ন করেছে। বিআইডব্লিউটিসি যাত্রীবাহী ৩৮টি জাহাজ, ৫০টি ফেরি, ৪০টি কার্গো জাহাজ ও ৫৩টি সহায়ক জাহাজের সমন্বয়ে তিনটি ইউনিটের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় রুটে নিরাপদ যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নৌবাহিনীর জন্য দুটি সাবমেরিন কেনা হয়েছে। বিমানবাহিনীকে ২০১৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের কার্যাবলী সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন রিভাইস করার জন্য এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে। ফিগারে কোনো সমস্যা থাকলে এ সময়ের মধ্যে ঠিক করা হবে। এছাড়া বৈঠকে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা পুরনো প্রতিষ্ঠান, এটা অনেকদিন ধরে কার্যকর আছে ও প্রশিক্ষণ চলছে। এটাকে আনুষ্ঠানিকতা দেয়ার জন্য একটা আইনের দরকার। সাভারে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে এটা ১৯৯৮ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে। এটাকে ইনস্টিটিউটে উন্নীত করতে এ আইনটি আনা হয়েছে। চলতি বছরের ২৭শে ফেব্রুয়ারি আইনের খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। খসড়া আইন অনুযায়ী ইনস্টিটিউটে পরিচালনা পর্ষদ ও একাডেমিক কাউন্সিল থাকবে।

    এসএমই উন্নয়নে ২০ কোটি ডলারের চুক্তি সই

    দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) উন্নয়নে ২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার সহায়তার লক্ষ্যে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি ঋণ চুক্তি সই হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি এবং ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আজম এই চুক্তিতে নিজ নিজ পক্ষে সই করেন। চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতীয় এসএমই উন্নয়ন প্রকল্পের (এসএমইডিপি-২) বিভিন্ন উদ্যোগে অর্থায়নের জন্য এডিবি ২০ কোটি মার্কিন ডলার দেবে। এই অর্থের বেশির ভাগই ব্যয় হবে গ্রামাঞ্চলের উদ্যোক্তাদের পেছনে। এসময় এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি বলেন, এসএমই একটি দেশের প্রবৃদ্ধিতে গতি আনার অন্যমত সহায়ক। তিনি বলেন, এসএমই খাতই পারে দারিদ্র্য কমিয়ে একটা আয় বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে। কাজুহিকো হিগুচি বলেন, এই ঋণ দেশের গ্রামীণ নারীদের উদ্যোগের কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসাকে চাঙ্গা করবে। এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ নারীদের ভালো উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এর আগে এডিবি এই প্রকল্পের বিষয়ে বলেছিল, দুই অংকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এসএমই খাত উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো এসএমই খাত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। বিশেষ করে পল্লী এলাকা ও নন-আরবান এলাকায় মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সুবিধা উন্নয়ন করে এসএমই খাত উন্নয়ন করা। এডিবি তখন জানিয়েছিল, এই ঋণ সহায়তার ১৫ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। জানা গেছে, এডিবি ব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থিক বিভাগ এই প্রকল্পটি তদারকি করবে।

    জামায়ত মুক্ত হলো ইসলামী ব্যাংক

    ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), নির্বাহী ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন এসেছে। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াত-নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক হিসেবেই পরিচিত ছিল। সেই পরিচয় থেকে ব্যাংকটিকে বের করে আনতে বেশ কিছুদিন ধরে এটির মালিকানা, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে পরিবর্তন আসছিল। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা ট্রাস্টের প্রতিনিধি হিসেবে এত দিন ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন মুস্তাফা আনোয়ার। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সরকারের সাবেক সচিব আরাস্তু খানকে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া মীর কাসেম আলী ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা। তিনি একসময় ইবনে সিনা ট্রাস্টেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজধানীর পাঁচ তারকা র‌্যাডিসন হোটেলে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় ব্যাংকটিতে বড় ধরনের এ পরিবর্তন আনা হয়। পরিবর্তন আনা হয়েছে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পদেও। নতুন পরিচালক হিসেবে বৃহস্পতিবার পর্ষদ সভায় যোগ দিয়েই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন সরকারের সাবেক সচিব আরাস্তু খান। আরমাডা স্পিনিং মিলস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে আরাস্তু খান ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক মনোনীত হন। বৃহস্পতিবারই তিনি প্রথম পর্ষদ সভায় যোগ দেন এবং সেখানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জানা যায়, আরমাডা স্পিনিং মিলস সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে। মূলত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আরমাডা স্পিনিংয়ের প্রতিনিধি বসাতেই এ শেয়ার কেনা হয়। আর তাই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানির পরিচালকদের পৃথকভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হয়। চেয়ারম্যান পদ ছাড়াও ব্যাংকটির পরিচালক ও ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পদ থেকেও পদত্যাগ করেন মুস্তাফা আনোয়ার। পদত্যাগ করেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। নতুন এমডি হিসেবে ইউনিয়ন ব্যাংকের এমডি আবদুল হামিদ মিঞার নাম অনুমোদন করা হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হবে। তবে আবদুল মান্নান পর্ষদ সভায় উপস্থিত ছিলেন না। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৃহস্পতিবারের সভায় চেয়ারম্যান ছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর স্থলে নতুন ভাইস চেয়ারম্যান করা হয় সৈয়দ আহসানুল আলমকে। তিনি ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলেন। ভাইস চেয়ারম্যানের অপর একটি পদে ইউসুফ আবদুল্লাহ আল-রাজি পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল মতিনকে নির্বাহী কমিটি ও মো. জিল্লুর রহমানকে অডিট কমিটি এবং মো. আবদুল মাবুদকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান করে একাধিক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এ পরিবর্তন এলেও পরিচালনা পর্ষদের আকারে বড় পরিবর্তন আসেনি। পুনর্গঠনের পর ১৮ জনের পর্ষদ নেমে এসেছে ১৭ জনে। এর মধ্যে ৭ জনই স্বতন্ত্র পরিচালক। তাঁরাই মূলত ব্যাংকটি পরিচালনায় মূল ভূমিকা রাখছেন। ব্যাংকটির বিদেশি শেয়ারধারীদের মধ্যে পরিচালক হিসেবে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আল-রাজি, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং সরকারি মালিকানাধীন দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) প্রতিনিধি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে এবিসি ভেঞ্চার, গ্র্যান্ড বিজনেস লিমিটেড, এক্সেল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং, প্লাটিনাম এনডেভরস, প্যারাডাইস ইন্টারন্যাশনাল ও ব্লু ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হয়েছেন। স্বতন্ত্র পরিচালকেরা হলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হেলাল আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি জিল্লুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আবদুল মাবুদ, আইনজীবী বোরহান উদ্দিন আহমেদ ও বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিক ও নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। এর আগে জামায়াতের কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত এমন পরিচালক ও কর্মকর্তাদের ইসলামী ব্যাংক থেকে সরিয়ে দিতে ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আল-রাজি সম্মতি দিয়েছেন বলে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ জানিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক চিঠি থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহর সঙ্গে এক বৈঠকে এমন মত দেন ইউসুফ আল-রাজি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পাঠানো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ দুই বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানই বিদেশি। এর মধ্যে একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি শেয়ার রয়েছে আল-রাজি কোম্পানির। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ আল-রাজি। এরপরই বেশি শেয়ার রয়েছে কুয়েতের পাবলিক অথরিটি ফর মাইনরস অ্যাফেয়ার্সের। ইসলামী ব্যাংকের বিদেশি উদ্যোক্তারা হলেন ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কুয়েত ফিন্যান্স হাউস, ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড করপোরেশন দোহা, ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেম ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং লুক্সেমবার্গ, শেখ আহমেদ সালেহ জামজুম, শেখ ফুয়াদ আবদুল হামিদ আল-খতিব, দ্য পাবলিক ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল সিকিউরিটি কুয়েত, মিনিস্ট্রি অব জাস্টিস কুয়েত। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাকালীন বিদেশি উদ্যোক্তা বাহরাইন ইসলামি ব্যাংক সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে। এ ছাড়া অপর এক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান দুবাই ইসলামি ব্যাংকও বেশির ভাগ শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হলো বায়তুল শরীফ ফাউন্ডেশন, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, ইসলামিক ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরো। গতকালের পরিবর্তনের ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিমুক্ত হলো ইসলামী ব্যাংক। দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে দেশে ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ১৩টি প্রতিষ্ঠানের ৬৩ শতাংশের বেশি মালিকানা ছিল ইসলামী ব্যাংকে। তবে দুই বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকে তাদের মালিকানা ছেড়ে দেওয়ায় উদ্যোক্তা অংশের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসে এ ব্যাংকের হাত ধরে। ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ২ হাজার ৩ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ব্যাংকটির বৃহস্পতিবার এ শেয়ারের দাম ছিল ৩০ টাকা।

    ফিলিপাইন থেকে অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী

    রিজার্ভের চুরি যাওয়া সম্পূর্ণ অর্থ ফিলিপাইন থেকে ফেরত পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিত।

    তিনি বলেন, চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে ফিলিপাইনের অর্থমন্ত্রী চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যাপারে তার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আজ তার কার্যালয়ে আইনমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা বলেন তিনি।

    এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে প্রয়োজনীয় চিঠি দেয়ার পর ফিলিপাইন সরকার চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে দু’টি মামলা করেছে।

    রিজার্ভ চুরির প্রশ্নে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) বক্তব্য সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আরসিবিসি’র কথার গুরুত্ব দেয় না। এজন্য তারা দায়ী। টাকা তাদেরকে ফেরত দিতে হবে।

    মুহিত বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত এসেছে। আরো ২৯ মিলিয়ন ডলার ফেরত পাওয়া যাবে।

    হ্যাকাররা ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্ক ফেডারেল ব্যাংকের বাংলাদেশের এ্যাকাউন্ট থেকে মোট ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি করেছে।

    জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি ২০ মিলিয়ন ডলার পাবে বাংলাদেশ

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে বাংলাদেশ।

    ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নির্ধারিত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রধান প্রধান অগ্রাধিকারগুলো মোকাবিলায় জাতিসংঘ, ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং সুইডেন যৌথভাবে এই তহবিলের যোগান দিচ্ছে।

    ‘লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ (এলওজিআইসি) প্রকল্পের আওতায় এই তহবিল যোগান দেওয়া হবে। দেশের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি জেলায় আগামী চার বছরে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আজ রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রাঙ্গণে এই প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়।

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে এসব জেলাগুলোতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ২ লাখ ঘরবাড়িকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হবে।

    স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং বাড়িঘর সমূহকে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পের আওতায় জ্ঞান, প্রযুক্তি ও আর্থিক চাহিদার ক্ষেত্রে সরাসরি প্রবেশাধিকারের জন্য একটি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেসবাহউদ্দিন বলেন, ‘স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে এলওজিআইসি’র মতো প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।’

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াউদন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান ফ্রিজেল এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারি রবার্ট ওয়াটকিন্স। -বাসস।

    ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ হয়ে তিন হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায় বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা জানিয়েছেন। প্রতি মাসে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে নয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তবে আগামী সপ্তাহেই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ৭৯ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ফের ৩২ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে আসবে। সোমবার আকুর এই দেনা শোধ করা হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে রিজার্ভ। গত ১ সেপ্টেম্বর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ১০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে এলে ভাবমূর্তি নষ্ট হবে বলে ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো আকুর আমদানি বিল বকেয়া রাখতে বাধ্য হয়েছিল বাংলাদেশ। ১৬ বছরের মাথায় সেই রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এই হিসাবে গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়েছে ৩২ গুণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স কমেছে ১৫ শতাংশের বেশি। এরপরেও রিজার্ভ বাড়ার কারণ হিসেবে আমদানি কম হওয়ার কথা বলছেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত। তিনি বলেন, “আমদানিও কমেছে। সে কারণেই রিজার্ভের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।” এছাড়া এরজন‌্য ফরেন এইড (বিদেশি সাহায্য) বেশি ছাড় এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারার কথাও বলছেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব‌্যাংক অর্থ খোয়ানোর পর নানা ধরনের সমালোচনার মধ্যে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতির এই গবেষক। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষদিকে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছিল। এরপর বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভ ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি। তখন আকুর বিল বাবদ ২০ কোটি ডলার পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু তাতে রিজার্ভ ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসত। রিজার্ভ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে, বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফসহ দাতাদের সহায়তা পাওয়া যাবে না- এই বিবেচনায় আকুর দেনা পুরোটা শোধ না করে অর্ধেক দেওয়া হয়েছিল তখন। বাংলাদেশের ইতিহাসে ওই একবারই আকুর বিল বকেয়া রাখা হয়েছিল বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়। বাংলাদেশকে দুই মাস পরপর পরিশোধ করতে হয় আকুর বিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। আর চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিটেন্স কমেছে ১৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। তবে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের আগের বছরের চেয়ে রপ্তানি আয় প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছিল। আর চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের দুই মাসের (জুলাই-অগাস্ট) আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    শিশুপুষ্টি খাতে ১০০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক

    বাংলাদেশের শিশুপুষ্টি খাতের জন্য আগামী দুই বছরে ১০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া আগামী তিন বছরে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) ব্যাংকের তহবিল শতকরা ৫০ ভাগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ তহবিলের অর্থের পরিমাণ বাড়লে এর হার অনুযায়ী বাংলাদেশের সহায়তাও বাড়বে। সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আজ সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

    সচিবালয়ে সকাল পৌনে নয়টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। পরে তারা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জিম ইয়ং কিম বলেন, শিশু পুষ্টি খাতে বাংলাদেশকে আগামী দুই বছরে বর্তমানের চেয়েও ১০০ কোটি ডলার বেশি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন দেশকে সহায়তা করার তহবিল ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশও আরও বেশি সহায়তা পাবে। বিশ্বব্যাংক এমনিতেই বাংলাদেশকে বড় ধরনের সহায়তা দেয়। ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা সহায়তার ফোকাস হবে।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাংলাদেশের যোগাযোগসহ সব খাতেই বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিয়ে থাকে। পদ্মা সেতুতে যে তহবিল বিশ্বব্যাংকের দেয়ার কথা ছিল, তারা অন্যান্য প্রকল্পে সেটি দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিষয়টির সমন্বয় হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা।’

    বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ সংস্থাটির বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া বাংলাদেশের অগ্রগতি দেখতে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট গতকাল রোববার বিকেলে দুদিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছান। এ সফরে দারিদ্র্য বিমোচন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। অনুষ্ঠানটিতে তিনি গত দুই দশকে দুই কোটির বেশি মানুষের দারিদ্র্য নিরসন, অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ় হওয়া, বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ ও কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অর্জনকে সাধুবাদ জানাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সুশীলসমাজের প্রতিনিধি ও বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পরিদর্শন করবেন বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় পরিচালিত কিছু প্রকল্প।

    প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন ৮৯ কোটি টাকা

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন চলছে। আজ লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে ৮৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বুধবার এই সময়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২৮৮টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬১টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১৭০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৭টির। এই সময়ে ডিএসইর প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৬৬৩ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ১২০ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৭২ পয়েন্টে। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন চলছে। এই সময়ে সিএসইতে ৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় সিএসই সার্বিক সূচক ৫২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৪ হাজার ৩২৯ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৬টির, কমেছে ৯৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছ ৩২টির।

    ধ্বংসের মুখে দেশীয় রাবার শিল্প

    আন্তর্জাতিক বাজারে রাবারের দাম কমছে, কিন্তু দেশে রাবার উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এতে করে দেশীয় রাবারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত রাবারের দামের চেয়ে অনেক কমে বিদেশ থেকে আমদানি করা যাচ্ছে। ফলে উদ্যোক্তারা দেশি রাবারের চেয়ে আমদানি করা রাবার ব্যবহার করছেন। ফলে দেশীয় রাবার শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে। উদ্যোক্তারা বলেছেন, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে দেশীয় রাবার শিল্প টিকিয়ে রাখা যাবে না। রাবার বাগান মালিকরা জানান, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিকেজি রাবারের দাম ছিল ১২০-১৩০ টাকা। গত নভেম্বরে তা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় নেমে আসে। বর্তমানে প্রতিকেজি রাবার বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। অথচ দেশের বাগানগুলোয় রাবার উৎপাদনের পর তা প্রক্রিয়াজাত করে বাজারে বিক্রির উপযোগী করতে খরচ পড়ে প্রায় ১৬০ টাকা, যা আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে গড়ে ৪০ থেকে ৬০ টাকা বেশি। রাবার আমদানিতে বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৭ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। সব মিলে ২২ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। শুল্ক ও আমদানি ব্যয় মিলে দেশের উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিদেশ থেকে আমদানি করা যাচ্ছে। যে কারণে এখন দেশীয় রাবার উদ্যোক্তারা না কেনায় সেগুলো উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে বিদেশে রপ্তানি করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন রাবার বাগান মালিকরা। রাবার সংগ্রহের উৎকৃষ্ট সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম হওয়ার কারণে ওই সময়ে দেশের বাগান মালিকরা রাবার সংগ্রহ বন্ধ রেখেছিলেন। এপ্রিলে এসে দাম কিছুটা বাড়ার পর তারা আবার রাবার সংগ্রহ শুরু করেন। বাংলাদেশ রাবার বাগান মালিক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একসময় রাবার সম্ভাবনাময় খাত হলেও সরকারের অবহেলা ও উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতার অভাবে বর্তমানে শিল্পটির অবস্থা খুবই করুণ। রাবার বাগান ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি হলেও এখানে কোনো ধরনের সরকারি প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা নেই। এ খাতে বিনিয়োগ থেকে রিটার্ন পাওয়া সময়সাপেক্ষ বলে অনেকেই অপেক্ষা করতে চায় না। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সূত্র জানায়, দেশে রাবার শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। রাবারের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে আশির দশকে একে ‘সাদা সোনা’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। কিন্তু দেশে রাবার চাষ আধুনিকায়ন না করায় এ শিল্প এগুতে পারছে না। বর্তমানে দেশে রাবারের চাহিদা রয়েছে ২৫ হাজার টন। প্রতিবছর এই চাহিদা ৩ শতাংশ হারে বাড়ছে। দেশে বছরে উৎপাদিত হচ্ছে ২৪ হাজার টন রাবার। কিন্তু তারপরও দেশীয় রাবার এখন উদ্যোক্তারা কিনছেন না। উৎপাদিত রাবারের ৬০ শতাংশ দেশীয় উদ্যোক্তারা কিনছেন, বাকি ৪০ শতাংশ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬৮২ একর জমিতে রাবার চাষ করা হচ্ছে। এগুলোতে গাছ রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৬টি। এর মধ্যে উৎপাদনশীল গাছের সংখ্যা ৯৪ হাজার ৫৬৮টি। বর্তমানে রাবারের ব্যবহার বেড়েছে। প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পণ্যে রাবার ব্যবহৃত হচ্ছে। রাবার দিয়ে প্রধানত গাড়ির চাকার টায়ার, টিউব, জুতার সোল, স্যান্ডেল, ফোম, রেক্সিন, হোসপাইপ, গাম, খেলনা, কারখানার পণ্য সামগ্রী, চিকিৎসা শাস্ত্রের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের এক সমীক্ষায় বলা হয়, দেশ থেকে বর্তমানে ৯ হাজার ৫০০ টন রাবার রপ্তানি হচ্ছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। বাংলাদেশ রাবার বাগান মালিক সমিতির সাবেক মহাসচিব জাফরুল আলম বলেন, রাবার চাষ কৃষিভিত্তিক প্রকল্প হলেও একে গণ্য করা হয় শিল্প হিসেবে। ফলে কৃষি খাতের সুবিধাগুলো এই শিল্প পায় না। তিনি একে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এই খাতের সব প্রণোদনা দেওয়ার দাবি করেন।