• ?????: অর্থ ও বাণিজ্য

    পদ্মাসেতুর জন্য ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ নিচ্ছে সরকার

    পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকের জন্য বিনিয়োগের সব দরজা খোলা। তারা চাইলে পদ্মাসেতুতে বিনিয়োগ করতে পারে। পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইসলামী ব্যাংক হতে বিনিয়োগ নিতে প্রস্তুত। তারা যে প্রক্রিয়াতেই দিক, সেভাবেই নেওয়া হবে।

    রোববার রাতে রাজধানীর হোটেল রেডিসনে ‘শরিয়া ব্যাংকিং: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, দেশের সকল ইসলামী ব্যাংক এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সুযোগ পাবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে ২ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু নাসের মোহাম্মদ আব্দুস জাহের।

    অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকের জন্য কোনো আইন নেই। খুব শিগগিরই ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য আইনের খসড়া তৈরি করা হবে।

    অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে এম. আযিযুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামিক ব্যাংকিং দ্রুত সম্প্রসারণশীল একটি খাত রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এটি প্রচলিত ধারার অর্থ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দেশের প্রথম ইসলামিক ব্যাংকের সাফল্য শরীআহ ব্যাংকিংয়ের গ্রহণযোগ্যতা ও অগ্রগতির সন্দেহকে দূরীভূত করেছে এবং বাজারের চাহিদা পূরণে আরো ব্যাংক এগিয়ে এসেছে।

    তিনি বলেন, গত তিন দশকে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং শিল্প বাণিজ্য, কৃষি, এসএমই, ক্ষুদ্র বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য দূরীকরণ, সিএসআর ও সবুজ বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের জাতীয় অগ্রগতিতে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিশেষ অবদান রাখছে।

    তিনি আরো বলেন, দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    তিনি মানবসম্পদ তৈরি, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শরীআহ ব্যাংকিয়ের উপর একাডেমিক কোর্স চালু, অন্যান্য দেশের ন্যায় প্রচলিত নীতি-পদ্ধতি সহায়তা চালু, শরীআহ কমপ্লায়েন্স এবং গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক পদ্ধতি প্রবর্তন ও উদ্ভূত সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধানে অভিন্ন নীতিমালা প্রবর্তনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকগুলোর সামর্থ্য বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

    ইসলামি ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) চেয়ারম্যান আহমেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, বিশ্বের ৫৬টি দেশ আইডিবির সদস্য। ৯০টি দেশে শরিয়াহ ভিত্তিক কার্যক্রম চলছে।

    তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা থাকার কারণে প্রচলিত ব্যাংকের তুলনায় ইসলামি ব্যাংকিংয়ের ঝুঁকি কম বলে প্রচলিত ব্যাংকিং ধারার বিকল্প হিসেবে ইসলামি ব্যাংকিং খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

    বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট ইসলামী ব্যাংকিং ব্যক্তিত্ব আযিযুল হক বলেন, প্রচলিত ধারার ব্যাংকের তুলনায় শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো ভালো করছে। বর্তমানে মোট ব্যাংকিং খাতের আমানতের ১৯ শতাংশ এবং ঋণের ২২ শতাংশ শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর তদারকির জন্য আলাদা একটা শাখা খুলেছে। শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলো দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকিং শুধুমাত্র মুসলিম বিশ্বেই নয়, পৃথিবীব্যাপী অন্যতম অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অর্থায়নের উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। কারণ ইহা অন্তর্নিহিতভাবে নৈতিক মূল অর্থনৈতিক ভিত্তি সমূহ বিকাশে সহায়ক একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং সামগ্রিক ব্যাংকিং সেক্টরের এক পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

    শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ বলেন, ১৯৮৩ সালে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়। গত ৩১ বছর ধরে তারা সফলভাবে সুষ্ঠুভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৮টি শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংক এবং প্রচলিত বিভিন্ন ব্যাংকের ১৬টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা রয়েছে। গত বছর জিডিপি বৃদ্ধি ১৪.৪৬ বিলিয়নের মধ্যে সার্ভিস সেক্টরে ৫০ শতাংশ উৎপাদনশীল খাতে ৩০ শতাংশ এবং কৃষিতে ২০ শতাংশ। বর্তমানে দেশে আমদানি-রফতানি বাড়ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের মধ্যে একটা ধারণা আছে ইসলামী ব্যাংকগুলো জঙ্গিতে অর্থায়ন করে। তবে আমি বলতে চাই শুধু ইসলামী ব্যাংক নয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেও জঙ্গিতে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। আমাদের এর থেকে বের হয়ে আসতে হবে।image_258_35412_34584

    বারকাতের বক্তব্য অশোভন, প্রত্যাহার চায় এফবিসিসিআই

    fbcci_barakat_463204176দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি(ভিভিআইপি) ও বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের(সিআইপি) চোর বলে অভিহিত করে দেওয়া বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের মন্তব্য অশোভন বলে দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। একইসঙ্গে সংগঠনটি তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে।

    গত ১৯ এপ্রিল বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এ জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। জনতা ব্যাংকের একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি(ভিভিআইপি) ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (সিআইপি) বেশিরভাগই চোর।

    এফবিসিসিআই বলছে, বাংলানিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমাদের নজরে এসেছে। বারকাত-এর মত একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের অসৌজন্যমূলক মন্তব্য অনভিপ্রেত ও দু:খজনক।

    তাঁর এ মন্তব্যে দেশের বেসরকারি খাত তথা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ যোগ্য শিল্পপতি, উদ্যোক্তা ও রপ্তানিকারকদের রাষ্ট্র সিআইপি মর্যাদা দিয়ে থাকে।
    ভিভিআইপি, ভিআইপি ও সিআইপি মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পর্কে বারকাত-এর কোনো ধারণা আছে বলে এফবিসিসিআই মনে করে না। এফবিসিসিআই বারাকাতের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করছে।

    সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য দেশের ভিভিআইপি ও সিআইপি মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত মানহানিকর। জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখা ভিভিআইপি ও সিআইপি মর্যাদার ব্যক্তিদের সম্পর্কে এ ধরনের অসৌজন্যমূলক বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারসহ তাকে এহেন শোভন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য এফবিসিসিআই অনুরোধ জানাচ্ছে।

    এবার দুর্নীতির বেড়াজালে জনতা ব্যাংক

    janata-bank-0120130813104033_463সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর এবার রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের একের পর এক দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসছে। কখনো ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে, কখনো দুর্বল প্রকল্পে ঋণ দিয়ে আবার কখনো ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা না করে উল্টো ঋণ দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের ব্যাংকের তহবিল তসরুপ করার সুযোগ করে দিয়েছেন একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা।

    শুধু তাই নয়, কয়েক বছরে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই। সরকারি একটি সংস্থার কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিলের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্টে টাকা উত্তোলন করে কয়েক কোটি পকেটে পুরেছেন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রপ্তানি বিলের মূল্য প্রত্যাবাসিত না হওয়া সত্ত্বেও নগদ সহায়তা প্রদান, অবসর গ্রহণের পরও ব্যাংকের দায় আদায় না করে এফডিআর করার সুযোগ দিয়ে ব্যাংকের ক্ষতি করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এমনকি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ব্যাংকের তহবিল থেকে ব্যক্তি কর পরিশোধ করার অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। ঋণ প্রদান ও আদায়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আর্থিক সক্ষমতা ও প্রকল্প যাচাই না করেও সীমার বাইরে ঋণ মঞ্জুর, পুনঃ তফসিল নীতিমালা উপেক্ষা করে ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই বারবার পুনঃ তফসিল সুবিধা প্রদান করে সীমার অতিরিক্ত দায় সৃষ্টিসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম হয়েছে জনতা ব্যাংকে।

    এদিকে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের মতো বড় বড় ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকলেও অনিয়মের মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের টাকা সরাসরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মসাতের ঘটনায় বিস্মিত অর্থ মন্ত্রণালয়ও। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণেই হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের মতো বড় বড় ঋণ কেলেঙ্কারি ঘটছে। একই কারণে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ও অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।

    জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে বাণিজ্যিক অডিট নিরীক্ষায়। ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে যেসব অডিট আপত্তি দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়ে গেছে ওইসব অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করার পাশাপাশি দোষী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়েছে অডিট রিপোর্টে। সম্প্রতি এ ধরনের একাধিক রিপোর্ট বাণিজ্যিক অডিট অধিদফতর থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    অভিযোগ এক : বিআইডাব্লিউটিএ-এর কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিল নামে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকা সত্ত্বেও বিধিবহির্ভূতভাবে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দলীয় বীমা নামে একটি হিসাব খোলা হয়। ওই হিসাবে জমার মাধ্যমে ২০ কোটি ৬২ লাখ ১৯ হাজার ৬৭৬ টাকা আত্দসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ দুই : অবসর গ্রহণের পরেও ব্যাংকের দায় আদায় না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে এফডিআর করার সুযোগ দেওয়া হয়। এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে আরও ১৫ কোটি ৮ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। অভিযোগ তিন : দীর্ঘদিনের রপ্তানি বিলের মূল্য প্রত্যাবাসিত না হওয়া সত্ত্বেও নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়। এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের ১ কোটি ৭৯ লাখ ৭৬ হাজার ১০৫ টাকা আত্দসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ চার : অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ওপর আয়কর পরিশোধ করা হয়েছে ব্যাংকের তহবিল থেকে। এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংকের ৫ কোটি ৯০ লাখ ১৪ হাজার ৮০৯ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অভিযোগ পাঁচ : একটি লিমিটেড কোম্পানির নামে মঞ্জুরিকৃত ঋণের টাকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত না করেই আমদানি এলসি স্থাপন এবং পুনঃ তফসিলিকরণের পর পিএডি ঋণের দায় আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকের প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ ছয় : প্রকল্প ব্যর্থতায় রুগ্ন হওয়া শিল্পের অর্থ আদায়ে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ঋণ আদায়ে কর্মকর্তাদের অবহেলা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ সাত : ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে কোম্পানি চেয়ারম্যানের মৃত্যুর কারণে হস্তান্তরিত পরিচালক থেকে সমপরিমাণ শেয়ারের ঘোষণা অনুযায়ী মূলধন কার্যকর করতে না পারায় প্রকল্প ঋণ হিসেবে দেওয়া ১ কোটি ৫০ লাখ ৫৭ হাজার ২৪৩ টাকা আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ আট : গ্রাহকের আর্থিক সামর্থ্য বিচার না করেও প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্প ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন পরেও উৎপাদনে যেতে না পেরে রুগ্ন শিল্প হওয়ায় ব্যাংকের প্রায় ক্ষতি ১৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা অনাদায়ী হয়ে পড়েছে। অভিযোগ নয় : বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ঋণ পুনঃ তফসিল নীতিমালা উপেক্ষা করে খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ মঞ্জুর এবং আংশিক ডাউন পেমেন্ট নিয়ে পুনঃ তফসিল সুবিধা প্রদান করায় ব্যাংকের ক্ষতি প্রায় ২২ কোটি টাকা। অভিযোগ দশ : স্বীয় গ্রুপভুক্ত আটটি কার্যাদেশের বিপরীতে কোম্পানির নামে ঋণ বিতরণ এবং বারবার ঋণসীমা বর্ধিত করাসহ পুনঃ তফসিল সুবিধার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধে কালক্ষেপণের সুযোগ দিয়ে ব্যাংকের প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। তবে বেশকিছু অনিয়ম ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি অনাদায়ী ঋণ সমন্বয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করায় কয়েকটি অভিযোগের আপত্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অডিট বিভাগ। এ ছাড়া দশ নম্বর অভিযোগে উল্লেখিত সুদ মওকুফের আলোকে আদায়যোগ্য অর্থ নগদে আদায় করে ঋণ সমন্বিত করা হয়েছে বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হলেও এর সপক্ষে কোনো ট্রান্সফার চেকের কপি ও ব্যাংক বিবরণী দেখানো হয়নি অডিট বিভাগকে।

    এদিকে, জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্তৃক ব্যাংকের তহবিল আত্দসাতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ব্যাংকের এমডি এস এম আমিনুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিআইডাব্লিউটিএ-এর কিছু কর্মচারী ও ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তা মিলে যৌথ অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, বেশির ভাগ অভিযোগ কয়েক বছরের পুরনো। পরিচালনা পর্ষদ, ব্যাংক প্রশাসন ও গ্রাহকদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কারখানার মানোন্নয়নে আরও শুল্ক ছাড় চায় বিজিএমইএ

    19780_ec1রানা প্লাজা ধসের পর বিদেশী ক্রেতাদের অসন্তোষের মুখে পোশাক কারখানাগুলোকে পরিবেশবান্ধব করতে যেসব সামগ্রী প্রয়োজন, তাতে শুল্কছাড় চেয়েছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। রানা প্লাজা ধসের বছর পূর্তিতে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম সরকারের কাছে এ সুবিধা দেয়ার আহ্বান জানান। এতে শ্রমসচিব মিকাইল শিপার, বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহসভাপতি রিয়াজ বিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির পর রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিকের মৃত্যুর পর ক্রেতারা বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ৭০০টি তৈরী পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নতিতে কাজ চলছে, যাতে সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সহযোগিতা দিচ্ছে। বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা স্বীকার করে এক্ষেত্রে আরও সহায়তা প্রত্যাশা করেন। আতিকুল ইসলাম বলেন, রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য ৪ কোটি ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই এ তহবিল থেকে সহায়তা দেয়া শুরু হবে। পোশাক শিল্পের সব ব্র্যান্ড এ ব্যাপারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, দুঃখের বিষয় যে আমরা শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও ক্রেতারা এ কাজগুলো দেখছেন না। পোশাক শিল্পে গত ৮৮ বছরে ৩৮টি ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে। আর চলতি বছরে হয়েছে ১৫০টি। ক্রেতারা এ কাজগুলো দেখছেন না। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সরকার কারখানাগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের জন্য শুল্ক ৬২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একইভাবে কারাখানার মানোন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবহার্য সামগ্রীর শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক কারখানাগুলোর মানোন্নয়নের জন্য সরকার এবং বিদেশী ক্রেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আতিকুল। রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারগুলোর সহায়তায় বিজিএমইএ-এর বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বিজিএমইএ নিজস্ব অর্থায়নে ক্ষতিপূরণ বাবদ খরচ করেছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ ৮ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২২ কোটি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭২০ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ৩ সংগঠনের পক্ষে রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৪শে এপ্রিল শোক র‌্যালি, স্মরণসভা, দেশের সব পোশাক কারখানায় দোয়া মাহফিল জুরাইনে কবর জিয়ারত উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ঘোষণা করেন। শ্রম সচিব মিকাইল শিপার বলেন, শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার সরকারি মানদণ্ড নিম্নমানের। তাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সহায়তা দেয়া হবে। সেই লক্ষ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার তহবিলে জমা পড়েছে। আমি আশাবাদী, ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ হবে। উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪শে এপ্রিল ধসে পড়েছিল সাভারের বহুতল ভবন রানা প্লাজা, যাতে চারটি তৈরী পোশাক কারখানা ছিল। দেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম এ ভবনে ধসে অন্তত ১১৩৫ জন নিহত হন। আহত হন বহু শ্রমিক, সন্ধান পাওয়া যায়নি শতাধিক শ্রমিকের। অন্যদিকে গতকাল সকালে বিজিএমইএর অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ ও শিল্প সম্পর্ক’ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার বলেছেন, মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের অদক্ষতার কারণে পোশাক কারখানায় বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ পেয়ে শ্রমিকদের পরিচালনা করলে দুর্ঘটনা এড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।

    বেসিক ব্যাংকের ছয় শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    1397744241বেসিক ব্যাংকে একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে। এর প্রেক্ষিতে ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি)সহ ছয় শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ।

    বেসিক ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সূত্রটি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বেসিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও বেনামি ঋণ বিতরণসহ বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ করা হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ অভ্যন্তরীন বৈঠক করে। এতে ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনায়েম খান, মহাব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন, শামীম হাসান ও মোহাম্মদ আলী, উপ-মহাব্যবস্থাপক সেতার আহম্মেদ ও ডেপুটি ম্যানেজার জাহিদ হাসানকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    আজ বৃহস্পতিবার এ সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করে শীর্ষ ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

    নয় মাসে ১৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি

    Medarbejdere + arbejde + i + en + fabrik + af + Babylon + Beklædningsgenstande + i + Dhakaতৈরি পোশাক পণ্যের উপর ভর করে রপ্তানি থেকে দেশের আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে. চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের রপ্তানি আয় প্রায় 13 শতাংশ বেড়েছে.

    বৃহস্পতিবার রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি).

    ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২ 013-14 অর্থবছরের জুলাই – মার্চ সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে দুই হাজার ২২ 4 কোটি ২ 7 লাখ (২২ দশমিক 14 বিলিয়ন) ডলার আয় হয়েছে.

    মোট রপ্তানির আয়ের মধ্যে এক হাজার 805 কোটি (18 দশমিক 05 বিলিয়ন) ডলার এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে.

    এর মধ্যে উভেন পোশাক রপ্তানি থেকে 9 ২২ কোটি 17 লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে 14 শতাংশ বেশি.

    আর নিট পোশাক থেকে আয় হয়েছে 883 কোটি ডলার. এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে 16 দশমিক 40 শতাংশ বেশি.

    গত অর্থবছরের জুলাই – মার্চ সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে এক হাজার 567 কোটি 46 লাখ (15 দশমিক 67 বিলিয়ন) রপ্তানি আয় দেশে এসেছে.

    এর মধ্যে উভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আসে 809 কোটি ডলার. আর নিট পোশাক থেকে এসেছিল 758 কোটি 68 লাখ ডলার.

    চলতি অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় তিন হাজার 50 কোটি (30 দশমিক 5) বিলিয়ন ডলার. জুলাই – মার্চ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ২ 06 কোটি 68 লাখ ডলার.

    এর মধ্যে আয় হয়েছে দুই হাজার ২২ 4 কোটি ২ 7 লাখ ডলার. সেহিসাবে এই সময়ে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে 1 ২ দশমিক 88 শতাংশ.

    লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে দশমিক 80 শতাংশ.

    ২ 01 ২ -13 অর্থবছরের জুলাই – মার্চ সময়ে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার 970 কোটি 39 লাখ ডলার.

    গত অর্থবছরে মোট দুই হাজার 70 ২ কোটি 74 লাখ (২ 7 দশমিক 08 বিলিয়ন) ডলারের রপ্তানি আয় দেশে এসেছিল.

    ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মার্চ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ 41 কোটি 37 লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ 30 কোটি 34 লাখ ডলার. মাসিক হিসাবে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় 4 দশমিক 79 শতাংশ.

    তবে ফেব্রুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় 9 দশমিক ২ 5 শতাংশ কমেছে.

    অন্যান্য খাতের মধ্যে জুলাই – মার্চ সময়ে হিমায়িত মাছ রপ্তানি বেড়েছে ২ 5 শতাংশ, কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে 13 দশমিক 44 শতাংশ.

    কাঁচা চামড়া রপ্তানি বেড়েছে 40 শতাংশ, চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে 63 শতাংশ.

    এছাড়া ওষুধ রপ্তানি ২২ দশমিক ২ 3 শতাংশ ও সিরামিক রপ্তানি 30 শতাংশ বেড়েছে.

    তবে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি ২ 0 শতাংশ কমেছে.

    জিএসপি শর্ত পূরণের সময় বাড়লো

    1397658799বাংলাদেশের জন্য জেনারেলাইজড সিস্টেম অফ প্রিফারেন্সেস বা জিএসপি শর্ত পূরণের সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মিকাইল শিপার।

    বুধবার শ্রম মন্ত্রণালয়ে ‘থ্রি প্লাস ফাইভ’ শীর্ষক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

    ৩০ মার্চের মধ্যে জিএসপি শর্ত পূরণের কথা ছিলো। বাংলাদেশ জিএসপি শর্ত পূরণের অগ্রগতি লাভ করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।

    মিকাইল শিপার বলেন, আমরা নির্দিষ্ট টাইম লাইনে সব কাজ শেষ করতে পারিনি। সব কাজ শেষ করতে নতুন টাইম লাইন নিয়েছি। তারা আমাদের এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। আমরাও পরামর্শের বিষয়ে একমত পোষণ করেছি।

    তিনি বলেন, আমরা জুনের শেষ নাগাদ পরিদর্শক নিয়োগ শেষ করবো। জুলাইয়ের মধ্যে বিধিমালার প্রণয়নের কাজ শেষ হবে। শ্রমিকদের ডাটাবেজ মে মাস এবং ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন বিষয়ে অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।

    জিএসপির শর্ত পূরণের অগ্রগতি সর্ম্পকে শ্রম সচিব বলেন, ওয়েবসাইট ২৫ জন পরিদর্শক নিয়োগ ও আইন প্রণয়নের কাজে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। তারা আমাদের অগ্রগতিগুলো দেখছেন।

    এদিকে বৈঠক শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা সাংবাদিকদের বলেন, কারখানার ডাটাবেজ তৈরি, পরিদর্শক নিয়োগ, শ্রম আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ অগ্রগতি লাভ করেছে। তবে আরো অগ্রগতি প্রয়োজন।

    বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনাসহ কানাডা, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।

    মুহিত-ফখরুদ্দীন বৈঠক

    fakur_uddin_mall_50586যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর আওয়ামী লীগ নেতারা ফখরুদ্দীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, স্থানীয় সময় রোববার সকালে ওয়াশিংটন ডিসির সিটি সেন্টারে অবস্থিত ‘ওয়েস্টিন ওয়াশিংটন’ হোটেলে অর্থমন্ত্রীর স্যুটে এ বৈঠক হয়। আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকের সময় তাদের পাশে আর কেউ ছিলেন না।

    উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৬ই জানুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড স্টেটের পটোম্যাক সিটিতে পরিবার নিয়ে বাস করছেন ফখরুদ্দীন। সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খ-কালীন শিক্ষকতা করেন তিনি।

    বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুই হাজার কোটি ডলার ছাড়াল

    ddd72f12d6b9fc93d07603a7de93c9fc_XLবাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুই হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এক হাজার ৯০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছিল। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে আবারও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের রেকর্ড ভঙ্গ করল।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কাজী সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, আজ (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত বছরের এই সময়ে ছিল ১৪.২২ বিলিয়ন। এ সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৪১% বৃদ্ধি পেয়েছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ, রপ্তানি সহায়তা তহবিলের (রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল) পরিমাণ ও এর ব্যবহারের আওতা সম্প্রসারণ, বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাত কর্তৃক বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়ন গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ ও দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য খাতে আমদানির পরিমাণ হ্রাসসহ বহির্বিশ্বে খাদ্য পণ্যের দাম হ্রাস পাওয়ায় ও জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

    রিজার্ভ স্থিতি বিবেচনায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। ভারতের রিজার্ভ স্থিতি ৩০৩.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন এবং তৃতীয় স্থানে অবস্থানকারী পাকিস্থানের রিজার্ভ ৯.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    বাংলাদেশে রেমিটেন্স পৌঁছানোর ব্যয় সবচেয়ে কম : গভর্নর

    2014-04-12_2_541750বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ব্যাংক ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিকাশ এবং মোবাইলে আর্থিক সেবার ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশে রেমিটেন্স পৌঁছানোর ব্যয় বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।
    আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্ত সভায় তিনি এ কথা বলেন।
    সভায় বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা দিলীপ রাতা অভিবাসন এবং রেমিটেন্সের ওপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
    গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বহির্বিশ্বে একাধিক এক্সচেঞ্চ হাউস খোলায় দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেড়েছে। বিপুল পরিমাণ এই রেমিটেন্স দেশে আয় বৈষম্য এবং দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
    দেশে বর্তমানে বার্ষিক রেমিটেন্স প্রবাহ ১৫’শ কোটি ডলার জানিয়ে গভর্নর বলেন, এই অর্থ গ্রামীণ এলাকায় চাহিদা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। রেমিটেন্সের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ভর করে আমরা বিশ্ব মন্দাকে মোকাবেলা করতে পেরেছি বলে তিনি জানান।
    তিনি রেমিটেন্স প্রবাহ আরো বাড়াতে অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে সরকার ও ব্যক্তি খাত সব পর্যায় থেকে অভিবাসীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর নজর দেয়া দরকার।
    চলমান বসন্ত সভায় যোগদান ছাড়াও গর্ভনর গ্লোবাল সভরেন রেটিংস্ কমিটির চেয়ার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোন চেম্বার্স, সিটি ব্যাংক এন-এর করসপোন্ডিং ব্যাংকিংয়ের গ্লোবাল হেড জুলিই এ. মোনকোর সাথে মতবিনিময় করেন।