• ?????: অর্থ ও বাণিজ্য

    ২০ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রিজার্ভ

    1397151290.রেমিট্যান্স প্রবাহের গতি শ্লথ হয়ে এলেও আমদানি কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ২ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই প্রথম রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে  বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার যা গত বছরের একই তারিখে ছিল ১৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন। গত এক বছরে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে দেশের ৬ মাসেরও অধিক সময়ের আমদানি দায় পরিশোধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
    গত বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১৯ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। তখনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা অচিরেই রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের আশা প্রকাশ করেছিলেন। ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলার।
    গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। পরে ৫ মার্চ আকুর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের ৯৬ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর তা ১৯ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়ায় ১৯ মার্চ রিজার্ভ আবারো ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, সদ্য শেষ হওয়া মার্চ মাসে ১২৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা এ যাবতকালে দেশে আসা তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি খাদ্য আমদানি না হওয়াই রিজার্ভ বাড়াতে অবদান রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এছাড়া মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক আমদানি ব্যয় কমে গেছে। এ কারণে গত বছরের চেয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ রেমিট্যান্স কমলেও রিজার্ভ বেড়েছে।
    বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার স্থিতিশীল বিনিময় হার বজায় থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি সহায়তা তহবিলের (রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল) পরিমাণ ও এর ব্যবহারের আওতা সম্প্রসারণ করায় এবং রপ্তানিকারকদেরকে সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনার ফলে রপ্তানি আয় বাড়ে। প্রবাসী আয়ের সন্তোষজনক প্রবাহ অব্যাহত থাকে। বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য খাতে আমদানির পরিমাণ কমেছে। বহির্বিশ্বে খাদ্য পণ্যের দাম হ্্রাস পাওয়ায় ও জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকায় সার্বিকভাবে আমদানি দায় হ্রাস পেয়েছে। এগুলো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে।
    রিজার্ভ স্থিতি বিবেচনায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। ভারতের রিজার্ভ স্থিতি ৩০৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থ’নে অবস্থানকারী পাকিস্তানের রিজার্ভ স্থিতি ৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের বর্তমান স্থিতি দ্বারা বাংলাদেশের পক্ষে ইন্টারনাল বা এক্সটারনাল যে কোন অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    ৭.৫ কিংবা ৬.৫ নয় : বিশ্বব্যাংক বলেছে এবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫.৪ শতাংশে নেমে আসবে

    চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫.৪ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গতকাল বুধবার ঢাকা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। চলতি অর্থবছরের ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তা কমিয়ে ৬.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে সরকার।
    জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এই ৫.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মোটেও অসন্তোষজনক নয়। বাংলাদেশ যেহেতু ছয় শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়ে আসছে, সে কারণে এটা কম মনে হতে পারে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এটি সন্তোষজনক বলে বিশ্বব্যাংক মনে করে।’
    অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতে ৪.৮, নেপালে ৩.৮, পাকিস্তানে ৩.৪, শ্রীলঙ্গায় ৭.৪ অর্জিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
    এর আগে এডিবি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, আইএমএফ ৬ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
    বিশ্বব্যাংক বলেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ১.৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সেবা খাতে, ৮৬ শতাংশ। শিল্প খাতে ১১ শতাংশ। কৃষিতে ৩ শতাংশ।Wold-Bank_80756_1

    এ বছর আমদানীতে রাজস্ব আদায় ১৮ হাজার ২৮৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা

    অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, চলতি অর্থবছরে আমদানি খাতে ১৮ হাজার ২৮৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
    তিনি বলেন, এই অর্থ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম। চলতি অর্থবছরে প্রথম ৭ মাসে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার ২৯৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
    সরকারি দলের মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মঙ্গলবার সংসদে এ কথা বলেন।
    দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে পণ্য আমদানি এবং বিনিয়োগে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলে লক্ষ্যমাত্রা এবং আদায়ের মধ্যকার এই পার্থক্য সামনের মাসগুলোতে হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
    মন্ত্রী বলেন, আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে আমদানি পণ্যের যথাযথ শুল্কায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ে জরুরি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অখালাসকৃত পণ্য দ্রুত শুল্কায়নের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ করা হবে।
    তিনি বলেন, অনিষ্পত্তিকৃত মামলাসমূহ বিশেষ ব্যবস্থায় অথবা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা গেলে এই খাত থেকে আদায়কৃত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।
    তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষ করে বিগত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে বিগত মাসগুলোর তুলনায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
    অর্থমন্ত্রী বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারীসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট বকেয়া রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা আদায় হলে লক্ষ্যমাত্রা এবং আদায়ের পার্থক্য হ্রাস পাবে।
    তিনি বলেন, নিলাম কর্মকাণ্ড জোরদারকরণেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।Muhith2

    খাদ্য নিরাপত্তায় ২১ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

    খাদ্য নিরাপত্তায় আধুনিক খাদ্য গুদাম নির্মাণে সরকারকে ২১ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব আরাস্তু খান এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত প্রধান ক্রিস্টিন কিমস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
    প্রায় এক কোটি মানুষের জন্য খাদ্য সংরক্ষণের উপযোগী খাদ্য গুদাম নির্মাণে বিশ্বব্যকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) মাধ্যমে এ অর্থ দেওয়া হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় এলাকার ৫ লাখ পরিবারের জন্য ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫শ টন খাদ্যশস্য সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ময়মনসিংহ, মহেশ্বরপাশা (খুলনা) চট্টগ্রাম ও মধুপুরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
    সহজ শর্তের এ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১০ বছরের বর্ধিত মেয়াদসহ মোট ৪০ বছর। এ ক্ষেত্রে বার্ষিক সার্ভিস চার্জ শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ।
    image_779_117681

    ধানের খোল পচন রোগ দিশেহারা কৃষক

    প্রতিদিনের মত খালেক বসুনিয়া তার বোরো ধানের জমিতে গিয়ে প্রথমদিন হঠাৎ দেখতে পান ধানের গাছের গোড়া পচে গেছে। কয়েকদিন ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলেন তিনি। দেখলেন প্রথমে ধানের গাছের পাতার উপর থেকে শুকে গিয়ে খড়ের রঙের মত রঙ ধারণ করে। ধীরে ধীরে গাছের গোড়া পচে যায়। পরে দেখেন গাছের পুরো ধানের গোছা নষ্ট হয়ে গেছে। দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। খুঁজতে থাকেন তার পাশের ক্ষেতের অবস্থা কী।
    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের খালেক দেখতে পান তার বোরো ক্ষেতের মত আব্দুল আজিজ (৬০),আবুহোসেন (৪০) ও জামালের (৪০) জমিতে ও একই অবস্থা। কারণ খুজতে গিয়ে খালেক, জামাল, আজিজ, আবু হোসেন জানতে পান তাদের ব্যবহৃত বীজে ভেজাল ছিল।
    খোঁজ নিয়ে জান গেছে, খালেক বসুনিয়া,আবু হোসেন,জামাল চারা কিনে নিয়েছেন আব্দুল আজিজের কাছ থেকে। আব্দুল আজিজ বীজ নিয়েছেন উপজেলার ফুলবাড়ী বাজারের ‘মের্সাস কৃষি বীজ ভান্ডার’ থেকে। আজিজ ব্রি ধান-২৮ জাতের ১০ কেজির বীজ কিনে চারা তৈরী করেছেন। সে চারা সবাই রোপন করেছেন।
    ‘মের্সাস কৃষি বীজ ভান্ডার’-য়ে গিয়ে তারা জানতে পান,ব্রি ধান-২৮ এর ঐ বীজ উৎপাদন ও বাজারজাত কারী প্রতিষ্ঠান পঞ্চগড়ের বোদা বাজারের ‘রওশন সীড’।
    এরপর তারা যান উপজেলা কৃষি অফিসে। সেখান থেকে তাদেরকে জানানো হয়,ব্যবহৃত বীজে জীবাণু ছিল। যার ফলে ধানের খোল পচাঁ (সীথ বস্নাইট) হয়েছে। চিকিৎসা করলেই ভালো হবে।
    উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান,তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রত ক্ষেতের মালিকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার পরামর্শদেওয়া হয়েছে। তিনি জানান,বীজবাহিত রোগের কারণেবোরো ধানের এই অবস্থা হতে পারে।
    খালেক বসুনিয়া জানান,তারা ক্ষেতের অনেক চিকিৎসা করেছেন কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
    ‘মের্সাস কৃষি বীজ ভান্ডার’-এর মালিক মো.মিজানুর রহমান খন্দকারের সাথেমোবাইলফোনে কথা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলেই ফোন কেটে দেন।
    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা টি আইএম জাহেদুর রহমান জানান, আক্রান্ত ধানের ক্ষেতেখোল পচাঁ (সীথ বস্নাইট) রোগ হয়েছে। যা সাধারণত বীজবাহিত হতে পারে।
    যোগাযোগ করা হলে পঞ্চগড়ের বোদায় অবস্থিত বীজ উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ‘রওশন সীড’-এর স্বত্ত্বাধিকারীমো.সিরাজুল ইসলাম মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে জানান, তার বীজে কোনো ভেজালও ছিল না। বীজ নিয়মিতশোধন করা হয়েছে ফলে বীজবাহিত রোগও হতে পারে না।
    তিনি বায়ার ক্রোপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন।image_779_117644

    মহাবিপদে গার্মেন্ট খাত

    1395078073.চতুর্মুখী চাপে কঠিন বিপদে পড়েছে দেশের অর্থনীতির ত্রাতা তৈরি পোশাক খাত। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের শত্রুর আক্রমণের শিকার বেকারত্ব মোচনকারী খাতটি। সরকারের দায়ভার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের উদাসীনতা আজ ভয়ানক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে এই খাতকে। সরকার ও গার্মেন্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের আন্তরিক ও যৌথ উদ্যোগই পারে খাদের কিনার থেকে খাতটিকে টেনে আনতে। নইলে হুমকিতে পড়বে ৪০ লাখ পরিবারের রুটি-রুজির নিশ্চয়তা। বর্তমানে এ খাতে বিদেশি ষড়যন্ত্রের নতুন মাত্রা হিসেবে যোগ হয়েছে ‘কমপ্লায়েন্স’ ইস্যু। শুরুতে ষড়যন্ত্রের রূপটা দেশিয় এজেন্টদের মাধ্যমে কারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টি ও অগ্নিকান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরে নতুন মাত্রা হিসেবে যোগ হয় তাজরিন ও রানা প্লাজা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রচারণা। এখন ওই একই ভিত্তিতে শুরু হয়েছে ‘কমপ্লায়েন্স ষড়যন্ত্র’। ইনকিলাবের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, এই ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিযোগী দেশগুলোর নাগরিকরা যারা বাংলাদেশে বায়িং হাউস ও ক্রেতাদের দেশীয় কার্যালয়ে শীর্ষ পর্যায়ে কর্মরত আছেন। তারা কমপ্লায়েন্স ও নিরাপত্তার নামে কারণে অকারণে দেশের পোশাক কারখানাগুলোকে বিপদে ফেলছেন। কিন্তু পাশের দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা বা চীনে মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য কেউ নেই।
    নতুন এই ষড়যন্ত্রের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রীসহ গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতারা। সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতি রুখতে রফতানি খাত নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। তবে বাংলাদেশের গতিপথ কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না। এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র দ্বিতীয় সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, কমপ্লায়েন্সের নামে দেশের পোশাক শিল্প নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। এ বিষয়ে সরকার এখনই ব্যবস্থা না নিলে এ শিল্প হুমকির মুখে পড়বে।
    বর্তমানে দুই ধরনের কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এগুলো হলো ভবন ভাগাভাগি বা শেয়ারড বিল্ডিংয়ে গড়ে ওঠা ১৫ শতাংশ কারখানা। আর বিজিএমইএ-বিকেএমইএ’র সদস্য পদহীন ৭০০-৮০০ ‘সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানা’। বাকি কারখানাগুলোকে নিরাপত্তার জন্য যেসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে সে অর্থের সংস্থান করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। এজন্য তিনি সময় ও ক্রেতাদের অর্থ সহায়তা চেয়েছেন। বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, দেশে চালু প্রায় চার হাজার পোশাক কারখানার মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। বাকি কারখানার ৬০ শতাংশ বাণিজ্যিক ভবনে এবং ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে। আবার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কারখানা গড়ে উঠেছে ভাগাভাগির ভবনে। কোনো কারখানা ভবনে অন্য প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় বা দোকান আছে। আবার একটি ভবনে একাধিক কারখানাও আছে। এসব ভাগাভাগির কারখানায় ক্রেতারা অর্ডার দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলছেন।
    এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম ইনকিলাবকে বলেন, আমরা বায়ারদের বলেছি, শেয়ারড বিল্ডিংয়ে গড়ে ওঠা কারখানা আমরা সরিয়ে নেব। কিন্তু সে জন্য দুই বছর সময় দিতে হবে। এর আগে কোনো কারখানা থেকে কাজ সরিয়ে নেওয়া যাবে না।
    দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয়ে শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, দেশি বিদেশি উভয় ষড়যন্ত্রের কবলে আছি আমরা। বিদেশিরা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নামে অর্ধনগ্ন ছবি ছেপেছে। এটাকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ মনে করছি আমরা। বিদেশিদের অর্থপুষ্ট দেশের এনজিওগুলো পোশাক শিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। স্ট্যান্ডার্ডের মতো আদর্শ গার্মেন্ট কারখানা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কবলে পড়েই ধ্বংস হয়েছে। সরকারের উচিত, কোন কোন এনজিও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে তা চিহ্নিত করে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে সেরকম কোন পদক্ষেপ দেখছেন না বলে জানান তিনি।
    সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ইনকিলাবকে বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক ব্যবসা করি। আর এখানে প্রতিযোগী থাকবেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগীরা আমাদের পেছনে ফেলতে চাইবে। টিকে থাকতে হলে আমাদের সরকার-মালিক-শ্রমিক ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
    গার্মেন্ট খাতের বর্তমান সংকটের দায়ভার সরকারকেও বহন করতে হবে- এই মত গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, সরকার এই খাতের উন্নয়নে অনেক দায়িত্ব পালন করেছে। তবে ক্ষমতাসীন দলের কিছু বিতর্কিত রাজনৈতিক পদক্ষেপের কারণে সংকট আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে তারা ইঙ্গিত করেছেন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্র স্থগিত হওয়া জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দিচ্ছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের জিএসপি (পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার) বাতিলের জোর শঙ্কা জেগেছে। ইইউ’র আবাসিক প্রতিনিধি উইলিয়াম হানা সম্প্রতি তাদের অসন্তোষের কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন। “সন্তুষ্ট হওয়ার কোন কারণ নেই।”
    জিএসপি ইস্যুর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই গার্মেন্ট খাতে স্পষ্ট হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি পোশাক শিল্পের দুই প্রধান উপখাত নিটওয়্যার ও ওভেন। এ নিয়ে উদ্যোক্তা-রফতানিকারকদের শঙ্কা, বর্তমান কার্যাদেশের পরিমাণ আগামী দিনগুলোতে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
    রফতানি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এখন পর্যন্ত রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও এর হার ক্রমেই কমে এসেছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিট ও ওভেন খাতে যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ও ১৫ দশমিক ৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত যা ছিল যথাক্রমে ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ও ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল আরও বেশি, যথাক্রমে ১৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। নভেম্বরে এ দুই খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ ও ২১ শতাংশ। ব্যবসায়ীদের শঙ্কা, শিগগিরই নেতিবাচক ধারায় পৌঁছবে প্রবৃদ্ধির সূচক।
    বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, রানা প্লাজা ধসের মধ্য দিয়ে জিএসপি স্থগিত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ওপর অশনি সঙ্কেত নেমে এসেছে। দেশে-বিদেশে নেতিবাচক প্রচারণা এবং বিভিন্ন পক্ষের ষড়যন্ত্রের কারণে রফতানিতে যে কালো ছায়া দেখা দিয়েছে তাতে আগামীতে আমাদের আরো ভয়াবহতা মোকাবেলায় প্রস্তুত হতে হবে।
    আবদুস সালাম মুর্শেদী এ প্রসঙ্গে বলেন, জুন মাসে আমেরিকায় জিএসপি স্থগিত হলেও এর প্রভাব পড়তে কিছুটা সময় লেগেছে। কারণ, জুনের পর যেসব রফতানি আদেশ এসেছে সেগুলো রফতানি হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে। গত কয়েক মাসে রফতানি আদেশ আরো কমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভয়াবহতার চূড়ান্ত রূপ দেখা যাবে গত কয়েক মাসে যেসব রফতানি আদেশ এসেছে সেগুলো রফতানি হওয়ার পর।
    বর্তমান নেতৃবৃন্দের নেতৃত্ব ঘাটতিও বর্তমান অবস্থার জন্য সমান দায়ী- এমন মত সাবেক বিজিএমইএ নেতা ও গার্মেন্ট মালিকদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিএমইএ’র একজন সাবেক সভাপতি ইনকিলাবকে বলেছেন, বর্তমান নেতৃবৃন্দ সময়োপযোগী নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে বিধায় সংকট বেড়েছে। দৃঢ় নেতৃত্ব থাকলে এতদিনে জটিলতা কেটে যেত।
    বিশ্লেষকরা বলছেন, জিএসপি’র জন্য যুক্তরাষ্ট্র এমন সব শর্ত জুড়ে দিয়েছে যা পূরণ করা কখনোই সম্ভব নয়। এটা বুঝেই সরকারকে চাপে ফেলতে এসব শর্ত দিয়েছে। দেশের সম্ভাবনাময় গার্মেন্ট শিল্পকে ধ্বংস করতেই এসব শর্ত দেয়া হয়েছে- এমন মত গার্মেন্ট মালিকদের।
    যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ১৬ শর্তের মধ্যে অন্যতম সকল কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন বাস্তবায়ন করা। তবে ৫ হাজার কারখানার মধ্যে মাত্র ২১৫টি কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। এর মধ্যে গত বছর দেয়া হয়েছে ৭৯টি কারখানায়। ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়। পাট শিল্প ধ্বংস হয়েছে এই ট্রেড ইউনিয়নের কারণেই। তাই আমরা চাইনা গার্মেন্ট খাত ধ্বংস হোক। তবে ক্রমান্বয়ে সব কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৭৯টি কারখানায় নতুন ট্রেড ইউনিয়ন হয়েছে।
    গার্মেন্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই খাতকে এধরনের বিধ্বংসী শর্তের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে হবে। আর এজন্য মূল ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকেই। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বাংলাদেশে শ্রমিক ইউনিয়নের বাস্তবতা বুঝাতে হবে।
    এদিকে গার্মেন্ট খাতকে নতুন করে বিতর্কের মুখে ফেলে দিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলামের বক্তব্য। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে জঙ্গী অর্থায়ন রয়েছে। বিজিএমই নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, মনিরুলের এ ঢালাও মন্তব্য বহির্বিশ্বে দেশের গার্মেন্ট খাতকে নতুন সংকটে ফেলে দেবে- এমনটিই মনে করছেন বিজিএমইএ নেতারা।
    বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি’র (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে জঙ্গি অর্থায়নের কোনো রেকর্ড নেই। সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার আগে আমাদের জানালে ভালো হতো। এ ধরনের বক্তব্য বহির্বিশ্বে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প সম্পর্কে ভুল বার্তা যাবে।
    কয়েকটি কেস স্টাডি
    ঢাকার তেজগাঁওয়ের স্টিচওয়েল ডিজাইন লিমিটেড প্যাট্রিয়ট গ্রুপের একটি গার্মেন্ট কারখানা। গত বছর ৫ জুন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন একটি ই-মেইল পান। ওই মেইলে আটটি ব্র্যান্ডের মালিক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ইনডিটেক্স জানায়, স্টিচওয়েল ডিজাইন একটি ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা। তাই তারা তাদের সব অর্ডার ও পণ্য সেখান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। মালিককে জানানোর পাশাপাশি ইনডিটেক্স এ বার্তা অন্যান্য ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানকেও জানিয়ে দেয়। ফলে অন্য ক্রেতারাও ওই কারখানা থেকে সরে যায়। পরে ইনডিটেক্স তৃতীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে দেখতে পায়, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবে তত দিনে যে ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে।
    গত বছর জুনে সাভারের লিবার্টি ফ্যাশন নামের একটি কারখানা থেকে অর্ডার প্রত্যাহার করে টেসকো। এর আগে তারা ব্রিটিশ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এমসিএসের মাধ্যমে একটি নিরীক্ষা করায়। কারখানার মালিকপক্ষের অভিযোগ, শুধু চোখে দেখে তাদের কারখানাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাউজক) দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ভবনটি মোটেও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কিন্তু টেসকো আর ওই কারখানায় ফিরে আসেনি। অন্য ক্রেতারাও সেখানে কাজের অর্ডার দিচ্ছে না।
    সম্প্রতি ঢাকার তিনটি কারখানা পরিদর্শনের পর সেগুলোকে কাজ করার অযোগ্য ঘোষণা করেন ক্রেতা প্রতিনিধিরা। তবে রিভিউ প্যানেল পরীক্ষা করে মালামাল সরিয়ে ভবনটি কিছুটা ভারমুক্ত করার পর চালু করার সুযোগ দেয়। পুরোপুরি পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কারণে কারখানা চালুর পর নতুন করে কাজ পেতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।
    এর আগে রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর ওয়ালমার্ট তাদের ওয়েবসাইটে তিনশ কারখানার তালিকা প্রকাশ করে ঘোষণা করে, ওই সব কারখানায় তাদের পোশাক তৈরি হবে না। ওই তালিকার বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান অনেক বছর আগে থেকেই ওয়ালমার্টের কাজ করছিল না। বরং তারা আরো ভালো ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাজ করছিল। কিন্তু ওয়ালমার্ট তাদের না জানিয়ে কালো তালিকাভুক্ত করে। ফলে বিপাকে পড়ে ওই তিনশ’ কারখানা।
    পোশাক খাতে এখন তিন জোটের পরিদর্শন কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট ‘অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি’ প্রায় ছয় শ’ কারখানা পরিদর্শন করবে। ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট ‘বাংলাদেশ অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি’ প্রায় ১৬শ’ কারখানা পরিদর্শন করবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর সহায়তায় সরকার ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় বুয়েটকে দিয়ে বাকি কারখানাগুলো পরিদর্শন করাচ্ছে। এর মধ্যে অ্যাকর্ড যেসব প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পরিদর্শন করাচ্ছে, তারা নিয়ে আসছে বিদেশি প্রকৌশলী। এরই মধ্যে ওই সব বিদেশি প্রকৌশলীর জন্য আইনজীবীদের মত নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক করার দাবি উঠেছে।
    লিবার্টি ফ্যাশনকে পরীক্ষার দায়িত্ব পাওয়া ‘এমসিএস’ নামক প্রতিষ্ঠানটি যে প্রকৌশলীকে পাঠিয়েছিল তিনি ছিলেন পাকিস্তানি। তাঁর ‘ভুয়া’ প্রতিবেদনের কারণে লিবার্টি ফ্যাশন বিপদে পড়েছে। তিনি কী কারণে ‘চোখের দেখায়’ ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন তার রহস্য ভেদ হয়নি। প্রসঙ্গত, ভারতের পর বাংলাদেশের নতুন প্রতিযোগী হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে হাজির হয়েছে পাকিস্তান।
    সম্প্রতি বিজিএমইএ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিশিষ্ট প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বিদেশি প্রকৌশলীদের এ দেশে নিবন্ধন নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। জবাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছিলেন, এটি নিশ্চিত করা হবে।
    এই খাতকে রক্ষা করতে আলাদা মন্ত্রণালয়ের দাবি তুলেছেন বিজিএমইএ সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম। তিনি ইনকিলাবকে বলেছেন, দেশের গার্মেন্ট সেক্টরের জন্য সরকারের সাপোর্ট মোটেই যথেষ্ট নয়। তবে বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী খুব আন্তরিক। কোন দাবি নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি আন্তরিকভাবে দেখার চেষ্টা করেন। আগের আমলে আমরা কোন কাজই করতে পারিনি। পাটের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় থাকলেও ২০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক খাতের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় নেই। এটা খুবই জরুরী। আলাদা মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা দেখছি না।
    তিনি বলেন, হঠাৎ করে শ্রমিকদের বেতন বেড়ে যাওয়ায় সরকারের কাছে আমাদের দাবি ছিল, উৎসে কর শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ করা। অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি পাস করেছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির দ্রুত অনুমোদন দিক।
    আবদুস সালাম মুর্শেদী ইনকিলাবকে বলেন, এই মুহূর্তে যে সাপোর্ট বেশি দরকার সেটা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা। কারণ, আমাদের শ্রমিকদের বেতন বেড়েছে। আমরা একটি অস্থিতিশীল বছর পার করেছি। আমাদের সব ধরনের সুবিধাসহ অবকাঠামো দরকার যেখানে আমাদের কারখানাগুলো স্থানান্তর করতে পারি। সরকার আমাদের যথেষ্ট সাপোর্ট দিচ্ছে। বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী আমাদের সহযোগিতা করছেন। তবে এই খাত আরও বেশি দাবি করে। আমরা আন্তর্জাতিক ব্যবসা করি। আর এখানে প্রতিযোগী থাকবেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগীরা আমাদের পেছনে ফেলতে চাইবে। টিকে থাকতে হলে আমাদের সরকার-মালিক-শ্রমিক ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

    ডিপোগুলোয় তীব্র প্রতিযোগিতা

    শুষ্ক বন্দর হিসেবে পরিচিত বেসরকারি ডিপোতে কনটেইনার পরিচালন কর্মকাণ্ডে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা। বছর ঘুরতেই এক ডিপো ছাড়িয়ে যাচ্ছে অন্যটিকে। গ্রাহক ধরার এ প্রতিযোগিতায় একক ডিপো হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বন্দরের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।
    গত বছরের কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সংখ্যা অনুযায়ী পতেঙ্গার লালদিয়ার চর এলাকায় অবস্থিত ইনকনট্রেড লিমিটেড দ্বিতীয় এবং উত্তর পতেঙ্গায় অবস্থিত সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (পূর্ব ও পশ্চিম) তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০১২ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিল যথাক্রমে পোর্টলিংক লজিস্টিকস সেন্টার লিমিটেড ও কেডিএস লজিস্টিকস লিমিটেড।
    চট্টগ্রামে ১৭টি বেসরকারি ডিপোতে গত বছর আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার ওঠানো-নামানোর সংখ্যার ভিত্তিতে এ অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ১৭টি ডিপোতে ২০১৩ সালে আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৮টি (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ)।
    জানতে চাইলে এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আহসান আজিজ শেলী বলেন, গ্রাহকেরা সব সময় সেবার মান প্রাধান্য দেয়। এর বাইরে যন্ত্রপাতির পর্যাপ্ততা, অভিজ্ঞ জনবল এবং তথ্যপ্রবাহকেও গুরুত্ব দেয়। শীর্ষস্থানে থাকার ব্যাপারে এ বিষয়গুলো ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।
    একক ডিপো হিসেবে এছাক ব্রাদার্স শীর্ষস্থানে থাকলেও একীভূত হওয়ার পর কোম্পানি হিসেবে সবার শীর্ষে আছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড (এসএপিএল)। এ প্রতিষ্ঠানের তিনটি ডিপোতে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর মোট সংখ্যা ধরে এ হিসাব করা হয়েছে। একীভূত তিনটি ডিপোতে গত বছর আমদানি-রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয় প্রায় এক লাখ ১১ হাজার (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ)। অন্যদিকে এছাক ব্রাদার্সে প্রায় ৮৩ হাজার একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়।
    এসএপিএলের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, কোম্পানি হিসেবে এখন সবার শীর্ষে এসএপিএল। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ওশান কনটেইনার লিমিটেড ডিপোটি এসএপিএল (পূর্ব ও পশ্চিম) ডিপোর সঙ্গে একীভূত হয়।
    গত বছরের তথ্যে দেখা যায়, শীর্ষস্থানে থাকা তিনটি ডিপো ছাড়াও বছরে ৫০ হাজারের বেশি কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে এমন ডিপো রয়েছে আরও তিনটি। এ তিনটি হলো কেডিএস, বিএম কনটেইনার ডিপো এবং পোর্টলিংক।
    রাজস্ব বোর্ডের নিয়মানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২৯ ধরনের আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার এসব ডিপোতে এনে খালাস বাধ্যতামূলক। গত বছর এ সংখ্যা ছিল এক লাখ ৭০ হাজার ২১টি (প্রতিটি ২০ ফুট দীর্ঘ)।
    আবার বন্দরে এখন কোনো রপ্তানি পণ্য কনটেইনারে বোঝাই হয় না। রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা থেকে এসব ডিপোতে এনে কনটেইনারে বোঝাই করে বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়। গত বছর এ সংখ্যা ছিল চার লাখ ২০ হাজার ৯৫৭ একক কনটেইনার। বাকি ১০ শতাংশ হয় ঢাকার কমলাপুর সরকারি কনটেইনার ডিপো এবং কারখানা চত্বর থেকে।
    আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহনের পাশাপাশি এসব ডিপো খালি কনটেইনারও সংরক্ষণ করে।
    ডিপোর কর্মকর্তারা জানান, রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের পরোক্ষভাবে ডিপোর গ্রাহক হিসেবে ধরা হয়। জাহাজ কোম্পানির প্রতিনিধি ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা সরাসরি বেসরকারি ডিপোর প্রধান গ্রাহক। ডিপো পছন্দের ক্ষেত্রে ডিপোগুলোর সেবা, বিপণন দক্ষতা, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করেন গ্রাহকেরা।
    প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রামে প্রথম এই শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে এই শিল্প স্থাপনে নিয়মকানুন জারি করা হয়। শুরুর দিকে খালি কনটেইনার সংরক্ষণাগার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ডিপোর কাজের পরিধি বাড়তে থাকে।
    চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ও বন্দরের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরের এক থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে মোট ২৬৮ দশমিক ২৬ একর জায়গায় এসব ডিপো গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ডিপোতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি।

    ওয়াগা-আত্তারি সীমান্ত সাত দিনই খোলা থাকছে

    এখন থেকে ভারতের ওয়াগা আর পাকিস্তানের আত্তারি সীমান্ত সপ্তাহের প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। একই সঙ্গে এই সীমান্ত দিয়ে সরাসরি পণ্যবাহী কনটেইনার এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে পারবে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
    এই সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত ভারতের অমৃতসর থেকে পাকিস্তানের লাহোরে কিংবা লাহোর থেকে অমৃতসর আসতে সীমান্তে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে মালামাল নামাতে হতো এবং নিজ দেশের সীমান্তে গিয়ে আবারও তা কনটেইনারে ওঠানো হতো।
    ভারত ও পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে গতকাল শনিবার এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে ১৬ মাস ধরে স্থগিত থাকা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উদারীকরণ প্রক্রিয়া চালু এবং বৈষম্যহীন বাজার-সুবিধার জন্য দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
    বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাংকের লাইসেন্সের বিষয়টি আরও ত্বরান্বিত করতে আমরা কাজ করছি, যেন ভারত ও পাকিস্তানের ব্যাংকগুলো দুই দেশেই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। আর এটা বাণিজ্য বাড়াতে সহায়তা করবে।’
    পাকিস্তান এখনো ‘অনুকূল সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ’ (এমএফএম) কিংবা বৈষম্যহীন বাজারসুবিধার কোনোটিই ভারতকে দিচ্ছে না।
    এমএফএমের সুবিধা না দিয়ে পাকিস্তান কেন বৈষম্যহীন বাজারসুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে?—জানতে চাইলে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী খুররম দস্তগীর খান জানান, এটা আসলে একই ধরনের সুবিধা বহন করে। এর ফলেও দুই দেশের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্যের লেনদেন হতে পারে।
    বর্তমানে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের। তবে উভয় দেশই মনে করে, বাণিজ্য উদারীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে এ বাণিজ্যের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়বে।
    বাণিজ্য উদারীকরণের অংশ হিসেবে দ্বিপক্ষীয়ভাবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা)—দুটোর আওতায় পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের সহজে ভিসা দেওয়ার বিষয়টি দেখার জন্য সম্মত হয়েছে ভারত।
    উল্লেখ্য, ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে দুই দেশ বাণিজ্য-প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। কিন্তু কাশ্মীরের সীমান্তরেখায় দুই দেশের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় এই পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হয়। সূত্র: বিজনেস লাইন

    বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের ভিড়

    ছুটির দিনগুলোতে জমে উঠছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। হাজার হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী মেলা প্রাঙ্গণে আসছেন। ঘুরে-ফিরে পছন্দের পণ্য কিনে ঘরে ফিরেছেন।
    গতকাল শনিবার ছিল মেলার অষ্টম দিন। দুপুরের দিকে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, দলবেঁধে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সকাল থেকে মেলায় আসতে থাকেন মানুষ। বিকেলে এটি ছোটখাটো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। প্রবেশ টিকিট ক্রয়ের পর্যাপ্ত বুথ থাকায় মেলায় ঢুকতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি দর্শনার্থীদের। গত শুক্রবারও সারা দিন প্রচুর দর্শনার্থী মেলায় আসেন বলে জানান বিক্রেতারা।
    মেলায় বরাবরের মতো গতকালও প্লাস্টিক পণ্যের স্টলগুলোতে ভিড় ছিল। এ ছাড়া অ্যালুমিনিয়ামের গৃহস্থালি, ইলেকট্রনিক পণ্যসামগ্রী, ইমিটেশনের গয়না, প্রসাধনসহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শিত হচ্ছে যেসব স্টলে, সেগুলোতে তরুণী ও নারী ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
    আবার কাঠ ও প্লাইউডের আসবাবের স্টলগুলোও একইভাবে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে। মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, এবার বিক্রি-বাট্টা আশানুরূপ হচ্ছে। ফলে তাঁরা সন্তুষ্ট।
    বঙ্গবন্ধু স্মৃতি প্যাভিলিয়নেও সারা দিনই নানা বয়সের মানুষ ঘুরে দেখেছেন বিভিন্ন নিদর্শন। অন্যদিকে সুন্দরবন ইকো পার্ক ও তার সামনে ভ্রাম্যমাণ পার্কের বিভিন্ন রাইডে বাচ্চাদের ভিড় দেখা যায়। তবে কিছু স্টল খালি থাকায় মেলার সৌন্দর্য কিছুটা ম্লান হয়েছে। হরতাল-অবরোধের কারণেই সব স্টল ভাড়া হয়নি বলে মেলার আয়োজক রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কর্মকর্তারা জানান।
    আসবাবে মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি: নাভানা, আক্তার, হাতিল, ব্রাদার্স, পারটেক্স, নাদিয়াসহ দেশের আসবাবশিল্পের বড় ব্র্যান্ডগুলো প্রতিবারের মতো এবারও বাণিজ্য মেলায় অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন তৈরি করেছে। মেলা উপলক্ষে নিয়ে এসেছে নতুন নতুন আসবাব। আর ৫ থেকে ২০ শতাংশ মূল্যছাড় দেওয়ায় ক্রেতারাও কিনছেন।
    নাভানা ফার্নিচার এবার ১০৮ ধরনের নতুন পণ্য নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে আছে কাঠের বেড সেট, সোফা সেট, ডাইনিং টেবিল, ডিনার ওয়াগন, টিভি ট্রলি ও লাইফ স্টাইল পণ্য। প্রতিষ্ঠানটি মেলা উপলক্ষে সব পণ্যের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ মূল্যছাড় দিচ্ছে। অবশ্য এই সুযোগ সারা দেশের নাভানার বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে।
    নাভানার সহকারী ব্যবস্থাপক (বিক্রয়) মো. মানিক দেওয়ান বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের কারণে এবার মেলায় অংশ নেব কি না, তা নিয়ে দোটানা ছিল। কিন্তু এখন আর সেটি নেই। আমরা আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছি।’ এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ টাকার মতো আসবাব বিক্রি হয়েছে বলে জানালেন তিনি।
    আক্তার ফার্নিশার্স কাঠের আসবাবে এবার ১৫ শতাংশ মূল্যছাড় দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের কাঠের খাট ২৯ হাজার থেকে এক লাখ ৫০ হাজার, সোফা ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ, ডাইনিং সেট ৬০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করছে।
    এ ছাড়া রকিং চেয়ার, টিভি ট্রলি, আলমারিসহ গৃহসজ্জার অনেক পণ্যই নিয়ে এসেছে আক্তার ফার্নিচার। নাভানার মতোই এই প্রতিষ্ঠানটিও ঢাকার ভেতরে বিনা খরচে ক্রেতাদের বাসাবাড়িতে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা দিচ্ছে।
    প্রতিষ্ঠানটির উপব্যবস্থাপক মো. সাফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বর্তমানে কাঠের আসবাবের দিকেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তাই আমাদের প্রায় সব পণ্যই মেহগনি ও সেগুন কাঠের তৈরি।’ বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রচুর সংখ্যক দর্শনার্থী আসছেন। তবে বিক্রি এখনো তুলনামূলক কম।

    চুরির টাকায় ফ্যাশন

    ৪১ বছর বয়সী অসুস্থ এক ব্যক্তির সেবিকা হিসেবে কাজ করছিলেন লরা নিকোলস (২৬)। সেই সুবাদে ওই ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গোপন নম্বর জানা ছিল তাঁর। পরে বিভিন্ন সময় হাতিয়েছেন প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা (১০ হাজার পাউন্ড)। সেই অর্থ ব্যয় করেছেন ফ্যাশনে। কিনেছেন নিজের পছন্দের পোশাক ও জুতো।
    গতকাল শুক্রবার ডেইলি মেইলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের পেমব্রুকশায়ারের হাউটনে ঘটনাটি ঘটে। শেষ পর্যন্ত তা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি হয়েছে। আগামী মাসে রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
    আদালতে শুনানি থেকে জানা যায়, নিজের ঘরে ২৪ ঘণ্টাই ওই অসুস্থ ব্যক্তি অন্যের কাছ থেকে সেবা নেন। এমনকি নিজের ব্যাংক হিসেবের গোপন নম্বরও তিনি স্মরণ রাখতে অক্ষম। সেবা প্রদানকারী একটি কোম্পানির দলনেতা হিসেবে নিকোলস ওই অসুস্থ ব্যক্তিকে একসময় সেবা দিতেন। এই সুযোগে এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ওই ভুক্তভোগীর ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড চুরি করেছেন। চুরির অর্থ দিয়ে পোশাক, জুতা, হাতব্যাগ কিনেছেন। চুরির বিষয়টি স্বীকারও করেছেন তিনি।
    আইনজীবী এলি মরগান আদালতে দাবি করেন, নিকোলসের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পোশাক, জুতো ও হাতব্যাগ পেয়েছে পুলিশ। নিকোলসের দাবি, তিনি নিজেই এগুলো কিনেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, অর্থগুলো চুরির।