• ?????: অর্থ ও বাণিজ্য

    বাজেটে অগ্রাধিকার পাচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত : অর্থমন্ত্রী

    আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এবার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ভালো বরাদ্দ দিতে পারবো। যা কিছুটা হয়তো মুখ রক্ষা করতে পারবে।
    বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে আয়োজিত এনবিআরের পরামর্শক কমিটির ৩৭তম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
    অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটের আকার হবে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এ বাজেটে সম্ভবত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ মুখ রক্ষা করতে পারবে। এখনো পর্যন্ত পরিবহন ও জ্বালানিখাত বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে। কারণ এ দু’টি খাতই ভেরি ডিসটার্ব (খুব সমস্যা)।আপনারা (ব্যবসায়ীরা) দুর্ভাগ্যজনকভাবে অভিযোগ করেছেন জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা রয়েছে। আমার মনে হয় ২০১৮ সালের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমি মোটামুটি নিশ্চিত ২০১৮ সালে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
    ভ্যাটের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট নতুন কর। নতুন কর হওয়ার কারণে এর অনেক বিবর্তন হবে। আমাদের যে ইচ্ছা তা হলো, ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাট হতে পারে, তাতে আপত্তি নেই। তবে আমার নিজের ইচ্ছা হলো যে ১৫ শতাংশ দিয়েছে, তা কিছুদিন রাখি। তারপর একাধিক ভ্যাট হার করা হবে। বিভিন্ন দেশে একাধিক ভ্যাট হার আছে। তবে আমি বলছি, এ বছর আমরা ভ্যাট ১৫ শতাংশই রাখছি।
    মুহিত বলেন, এক সময় আমরা বৈদেশিক যে সাহায্য নিয়ে আসতাম তার মোট পরিমাণ ছিল আমাদের উন্নয়ন ও রাজস্ব বাজেটের থেকেও বেশি। বাজেটে বৈদেশিক সাহায্য থাকতো ৭ থেকে ৮ শতাংশের উপরে। সেখান থেকে বৈদেশিক সাহায্য এখন ২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশের মতো। তবে আমরা চাই বৈদেশিক সাহায্য ২ থেকে ৩ শতাংশের মতো থাকুক। এটা অতিরিক্ত সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আমরা গর্বিত যে আমরা অবস্থার পরিবর্তন করতে পেরেছি।
    আগে রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস ছিল শুল্ক, আর সবার নিচে ছিল আয়কর। এখন সবার উপরে চলে এসেছে আয়কর আর শুল্ক সবার নিচে চলে গেছে। এভাবে রাজস্ব আদায়ের বিবর্তন হচ্ছে। অনেক দেশেই এভাবে বিবর্তন হয়।
    বাজেট বক্তব্য দীর্ঘ হওয়ার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন উল্লেখযোগ্য অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম তাজউদ্দিন আহমেদ। সে সময় বক্তব্য ছিল খুব কম। আমার মতো এতো লম্বা বক্তব্য তখন হতো না। আমি আমার লম্বা বক্তব্য জাস্টিফাই (বিচার) করি এইভাবে ‘আমার অর্থনীতি তো বড় হয়ে গেছে’। সেক্টর্স অনেক বেড়ে গেছে। আমি দুই ঘণ্টা আড়াই ঘণ্টার মতো বক্তব্য দিই। এটা সারাবছরের জন্য দেই। আমরা বক্তব্যের বিষয়ে প্রথম যখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় তখন আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আগে আমার বক্তব্য ৬ থেকে ৭ পৃষ্ঠায় হয়ে যেতো। কিন্তু এবার আর তা হবে না। আমার ১০০ পৃষ্ঠার মতো লাগবে। সেটাই এখন বজায় থাকছে।
    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সবসময় চেষ্টা থাকে সেবা করার। সেবা করার জন্য কিছু ক্ষমতা থাকে। এই ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে। শেষ ৭ বছরে লোককে হয়রানি করা এবং লোকের উপর ক্ষমতা দেখানোর প্রক্রিয়া হ্রাস করার জন্য আমরা প্রচেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় অনেক ক্ষেত্রে আমার সফলও হয়েছি।
    এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমদ-এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বাংলাদেশ প্লাস্টিক এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতারা।
    আগামী অর্থবছরের (২০১৬-১৭) বাজেটের জন্য এফবিসিসিআই ৪৪৭টি প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট (মূসক) সংক্রান্ত ৮৪টি, প্রত্যক্ষ কর সংক্রান্ত ১২৪টি ও পরোক্ষ কর সংক্রান্ত ২৩৯টি প্রস্তাব রয়েছে।
    সভায় মূলধনী বিনিয়োগকে উৎসাহ দিতে ও অর্থপাচার ঠেকাতে আগামী অর্থবছর বাজেটে অপ্রদর্শিত আয়ের বৈধ করার সুযোগের দাবি জানিয়েছে এফবিসিসিআই। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ভবিষ্যতে রাজস্ব আয় ও উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
    এফবিসিসিআই’র প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, যেহেতু নিট পরিসম্পদের উপর করদাতারা পূর্বের বছরে একবার কর পরিশোধ করছেন, সেহেতু একই সম্পদের ওপর পরের বছর পুনরায় সারচার্জ আরোপ সঠিক নয়। কারণ সম্পদের কর একবার পরিশোধ হচ্ছে। পরের বছর আবার দিলে তা একই সম্পদের উপর দুইবার কর পরিশোধ করতে হয়। এ জটিলতা দূর করতে কর পরিশোধের পর অর্জিত পরিসম্পদের ভিত্তিতে এনবিআর যে কর আরোপ করে তা বাতিল করতে হবে।
    এছাড়া ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা ও অন্যান্য করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, করপোরেট করহার পুনর্নিধারণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ যৌথ কমিটির সাতটি সুপারিশ বাস্তবায়নেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
    অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা রেখেই আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হবে। যা হবে ব্যবসায়ী ও জনকল্যাণকর বাজেট। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের চিরশত্রু হলো সন্ত্রাস। আর এ সন্ত্রাস দেশ থেকে জাতীয়ভাবে নির্মূল করা হবে। তবে দেশের সকল নাগরিককে আরও সচেতন হতে হবে।
    সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ভূমিকা অপরিসীম। দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মিটানোর জন্য সরকার বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে শিল্পায়নের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ জরুরি। এজন্য শিল্পখাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫ থেকে ৬ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করছি।
    মাতলুব আহমাদ বলেন, তেলের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুতের দর সমন্বয় করতে আলাদা নীতিমালা তৈরি করতে হবে। এছাড়া রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পুরাতন বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পিপিপির আওতায় এনে পুনরায় চালু করতে হবে। এজন্য বিদ্যুতের উন্নয়নের স্বার্থে আঞ্চলিক সহযোগিতা সরকারকে বাড়াতে হবে।
    বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী এর সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলখাতে নিরবিচ্ছিন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
    প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দর কমানো হলে তা যেন শিল্পের উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়ক হয়। একদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়ে অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দর বাড়ালে তা কোনো ভাবেই শিল্পের জন্য সহায়ক হবে না। কারণ, এতে শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের খরচ কমবে না।
    তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ালে শিল্প কারখানার উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে। যা দেশে শিল্প কারখানা বিকাশে অন্তরায়। তাই জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দামও সমন্বয় করতে হবে।
    এ সময় দেশের বন্ধ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানায় অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে চালু করার পরামর্শ দেন তিনি।

    রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকই দায়ী: সাইবার বিশেষজ্ঞদের অভিমত

    নিউইয়র্ক ফেডারেল ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের খোয়া যাওয়া টাকার জন্য ফেডারেল ব্যাংক নয়, বাংলাদেশকেই দায়ী করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য তাদের। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আলোচিত এই অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে সাইবার বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টের প্রায় আটশ কোটি টাকা নিউইয়র্ক ফেডারেল ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব টাকা ফেডারেল ব্যাংক থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায়। তবে হ্যাকারদের বানান ভুলের কারণে একই অ্যাকাউন্ট থেকে আরও প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকার লেনদেন বানচাল হয়ে গেছে। জেরুজালেম-ভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি সাইবারআর্কের একজন উর্ধ্বতন পরিচালক আন্দ্রে ডালকিন এক ইমেইলে ব্লুমবার্গকে বলেন , বানান ভুলের ওপর নির্ভরতা কোনো নিরাপত্তা নীতি হতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অ্যাকাউন্টের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত, তারা দ্রুতই অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত করতে পারত। আর এসব সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্তের জন্য তাদের তৃতীয় পক্ষের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরও করতে হতো না ।টাকা খোয়া যাওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত নিউইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংকের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকেরও সমালোচনা করেছেন। গত সপ্তাহে তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের জন্য ফেডারেল ব্যাংকের বিরুদ্ধে এনেছেন অনিয়মের অভিযোগ। এ বিষয়ে আইনি লড়াইয়ের কথাও বলেছেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক এই পরিস্থিতিকে যোগ্যতার সঙ্গে সামাল দিতে পারেনি বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

    ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এমন একটি ব্যাংক ডাকাতি ঠেকানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন ছিল। এমন ঘটনা বিশ্বের অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্যও একটি সতর্কবার্তা। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো যেসব অগ্রসরমান অর্থনীতির দেশের প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে, তাদের জন্য এই ঘটনাটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অর্জুনা মাহেন্দ্রন সিঙ্গাপুরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ব্লুমবার্গ বলেন, সব কেন্দ্রীয় ব্যাংকই এই ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে খতিয়ে দেখছে। ফেডারেল ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মেসেজিং সিস্টেমকেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মূল চালিকাশক্তি হলো জনবল। তারা অলস হয়ে পড়ে এবং তারা বাজে অভ্যাস গড়ে তোলে।

    একই ধরনের আরও ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ থাকা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন সিঙ্গাপুরের ডিলয়িট্টে টুশে থমাতসু কনসালট্যান্টের পার্টনার ভিক্টর কিয়ং। তিনি বলেন, এটা ভয়াবহ। নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই যদি এমন ভুল থাকে, তাহলে তাদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোও হয়তো খুব বেশি সুরক্ষিত নয়। ক্যানবেরা-ভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই) প্রকাশিত ২০১৫ সালের সাইবার ম্যাচিউরিটি র‌্যাংকিংয়ে দেখা গেছে, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখতে সুসঙ্গত সাইবার নীতিমালা চালু করেছে। তবে থাইল্যান্ড বা ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোর প্রতিরক্ষা আরও উন্নত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে এএসপিআই। এই র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ অন্তভূক্ত ছিল না। তবে তাদের পরবর্তী র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে অর্ন্তভূক্ত করা হবে। এএসপিআইয়ের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক টোবিয়াস ফিকিন বলেছেন, এটা কৌতূহলোদ্দীপক যে বাংলাদেশ সরকার তাদের নিজেদের ব্যাংকের থেকে মনোযোগ সরাতে ফেডারেল ব্যাংকের দিকে আঙুল তুলেছে। তবে ফেডারেল ব্যাংকের একজন মুখপাত্র গত সপ্তাহেই বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তরের যে নির্দেশনা তারা পেয়েছেন তা নীতিমালা অনুসরণ করেই করা হয়েছে। আর্ন্তজাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে যে সুইফট কোড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়, এসব লেনদেনের নির্দেশনা সেই সিস্টেম দ্বারাও সম্পূর্ণভাবে অনুমোদিত ছিল। ওই মুখপাত্র বলেন, ফেডারেল ব্যাংশের সিস্টেম হ্যাক হয়েছে এমন কোনো লক্ষণই তারা দেখতে পাননি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনার এক উদ্বৃত করে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ইনফরমেশন সিস্টেম কর্মীদের অগোচরেই জানুয়ারি মাসে ব্যাংকের সিস্টেমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর সফটওয়্যার কোড। এ বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার নেই জানিয়ে নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ফেব্রয়ারির ৪ তারিখে হ্যাকাররা হানা দেয় ব্যাংকের সিস্টেমে। এএসপিআইয়ের টোবিয়াস ফিকিন বলেন, আমরা জানি না কীভাবে ওই ম্যালওয়্যার সিস্টেমে প্রবেশ করানো হয়েছিল। তবে ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট যে ব্যাংকের পরিচলন পদ্ধতি ও ব্যাংকের কর্মীদের ব্যাংকে আসা-যাওয়ার সব তথ্যই জানা ছিল হ্যাকারদের। সাইবার সিকিউরিটির প্রসঙ্গে সবসময়ই সবথেকে দুর্বল স্থানকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।’ নাম না প্রকাশ করার শর্তে বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনকারী আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন অর্থ লোপাটের পরদিন ব্যাংকের সিস্টেমকে অকার্যকর দেখেছেন। তবে এই বিষয়টি তারা তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কাউকেই অবগত করেননি বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা।

    এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব ধরনের সাইবার আক্রমণকে প্রতিহত করার উপযোগী সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে সংযুক্তির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতার অভাব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের শোনো বক্তব্য নেই। ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি ফরেনসিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ভার্জিনিয়া-ভিত্তিক সাইবার সুরক্ষা কোম্পানি ওয়ার্ল্ড ইনফরম্যাটিক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকেশ অ্যাস্থানা। যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার সুরক্ষা কোম্পানি ফায়ারআই ইনকরপোরেশনের ম্যানডিয়ান্ট ইউনিটকেও নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফায়ারআইয়ের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ব্রাইস বোল্যান্ড বলেন, এশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উচ্চস্তরের সাইবার হুমকির ঘটনা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আরও বাড়াতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে লোপাট হওয়া অর্থ গিয়ে জমা হয়েছে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায়। দেশটিতে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। লোপাট হওয়া অর্থের কিছু অংশ ফেরত দেওয়ারও আশা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান টেরেসিটা হারবোসা।

    সাইবারআর্কের ডালকিন বলছেন, হ্যাকারদের বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও অ্যাপ্লিকেশন অ্যাকাউন্টগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে হয়েছে। এসব অ্যকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তারা নেটওয়ার্কের ভেতরে থেকেই বিশাল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ প্রদান করতে পেরেছে। গত বছরের ফেয়ারিতে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার নির্মাতা ক্যাসপারস্কি ল্যাবের একটি প্রতিবেদনে কারবানাক গ্যাং নামের একটি হ্যাকার গ্রুপের কথা বলা হয়। ওই হ্যাকার দলটি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় একশ কোটি মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিতে সমর্থ হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাকিংয়ের ঘটনা কারবানাক গ্যংয়ের হ্যাকিংয়ের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ডালকিন। তিনি বলেন,হ্যাকাররা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্যগুলো হাতিয়ে নেওয়ার তালে ছিল যাতে করে তারা তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে। আমরা ধারণা করছি, ভবিষ্যতে এই ধরনের সাইবার হামলা আরও বেশি আগ্রাসী হবে। আর সাধারণভাবে সাইবার আক্রমণগুলোও হবে আরও বেশি বিস্তৃত পরিসরের, যেগুলোর মাধ্যমে তারা আরও বড় অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে চেষ্টা করবে।

    ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: বিদেশি সংস্থার সহায়তা নেবে সিআইডি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিদেশি সংস্থার সহায়তা নেয়া হবে বলে জানায় সিআইডি।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর শান্তিনগর সিআইডির সদর দফতরে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মির্জা আবদুল্লাহ হেল বাকী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, মামলা তদন্তের জন্য দায়িত্ব পাওয়ার পর আজ আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এরইমধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করেছি আমরা।

    এ ঘটনা তদন্তের জন্য ২০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হলেন সিআইডির ডিআইজি সাইফুল আলম।

    যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে রক্ষিত রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

    দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে : নোমান

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, জনগণের সাথে রাজনীতি করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।
    বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ধানের শীষ সমর্থক ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। ‘বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’শীর্ষক এ আলোচনা সভার আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকে থেকে রাজনীতি করেছেন। কারন তিনি এক সময় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। ফলে জনগণের সাথে রাজনীতি করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাটচ করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি কোথায় সরে যাবেন। আপনি সরে যেতে পারেন না। কারণ আপনাকে ৮০০ কোটি টাকা লোপাট হওয়ার ঘটনা জনগণের কাছে কৈফিরত দিতে হবে। তা না হলে জনগণ আপনাকে ছাড়বে না।

    দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে : নোমাননির্বাচন কমিশনের আরপিও মোতাবেক রাজনৈতিক দলগুলো পরিচালিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জাতীয় কাউন্সিল করতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। এর ফলে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর অবিচার করেছে বলে অভিযোগ করেন নোমান। সুতরাং সরকার জনগণকে দেখাতে চেয়েছিল বিএনপি কাউন্সিল করতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে একটি কলমের খোচায় বিএনপির রেজিস্ট্রেশন নির্বাচন কমিশন বাতিল করতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি বিএনপির কাউন্সিল সফল করতে না দেয়ার জন্য সরকার নানান রকম চক্রান্ত করছে। কিন্তু তাদের এই ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা আমরা ব্যর্থ করে দেবা। দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলে ও জানান তিনি।
    আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ডা.মো.গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে আলোচনা এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজউদ্দীন আহমেদ, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমতউল্লাহ, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ,জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচা্ও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

    ১৮ মার্চ গভর্নরের দায়িত্ব বুঝে নেবেন ফজলে কবির

    সাবেক অর্থ সচিব ও সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ফজলে কবিরকে চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শুক্রবার (১৮ মার্চ) গর্ভনরের দায়িত্ব বুঝে নেবেন ফজলে কবির।

    রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মু. জসীম উদ্দিন খানের সইয়ে এ প্রজ্ঞাপন বুধবার জারি করা হয়।

    এতে বলা হয়, ‘সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব এবং সোনালী ব্যাংক লিমিটেড পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান ফজলে কবিরকে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ এর ১০(৫) ধারা অনুযায়ী বর্তমান পদ এবং অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে পরবর্তী ৪ (চার) বছর মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক এর গভর্নর পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।’

    জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাসেম ও নাজনীন সুলতানার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ১৫ মার্চ থেকে বাতিল করে বুধবার পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

    আরো ৯৫ কোটি ডলার চুরির চেষ্টা : স্বীকার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীকার করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে গচ্ছিত রিজার্ভ আরো থেকে ৯৫ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির চেষ্টা করা হয়েছিল। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন-এসডব্লিউআইএফটি) ‘অথেনটিক’ বার্তা বা সংকেত থেকে ৩৫টি পরামর্শ বা অর্থ পরিশোধের নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে। আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সাইবার আক্রমণে ৩৫টি ভুয়া পরিশোধ নির্দেশের ৯৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের মধ্যে ৩০টি নির্দেশের ৮৫ কোটি ডলার বেহাত হওয়া প্রতিহত করা গেছে। অবশিষ্ট ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দুই কোটি ডলার এরই মধ্যে ফেরত আনা গেছে। বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার (প্রায় ৬৩৫ কোটি টাকা) ফেরত আনার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
    বাংলাদেশ ব্যাংক আগেই জানিয়েছিল, নিউ্য়ের্কর ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে স্থানান্তরিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর হওয়া দুই কোটি ডলার ফেরত আনা হয়েছে। ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তা স্বীকার করেছে। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সাইবার আক্রমণের ঘটনায় হারানো তহবিলের অঙ্ক নিয়ে কোনো কোনো মহলে অতিরিঞ্জত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

    ৯ ডিজিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তা নজরদারিতে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার জালিয়াতির মাধ্যমে লুট করে নেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রভাবশালী একজন ডেপুটি গভর্নরসহ ১০ কর্মকর্তা জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে আসছে। সব অর্থ ভাগবাটোয়ারা হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকেও উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকাজে সংশ্লিষ্ঠরা। র‌্যাব ও পুলিশের আলাদা আলাদা টিম এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

    মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধারণা,সামাজিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমেও হ্যাকাররা কাজটি করে থাকতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যাংককর্মীদের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অপরাধীরা সবসময় সেখানে নজর রাখে এবং বোঝার চেষ্টা করে কোন সময়গুলোতে এবং কীভাবে লেনদেন বিষয়ক নির্দেশনাসহ ই-মেইল ওই কর্মীদের কাছে পাঠানো হয়। সেই নির্দিষ্ট সময় এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হ্যাকাররা। তবে এর সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত থাকটা স্বাবাভিক বলে মনে করেন তারা। তবে সন্দেহভাজন কর্মকর্তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নজরদারি চলছে বলে জানান তারা। যদিও অর্থমন্ত্রলায়ের অনুমতি ছাড়া কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গোয়েন্দা নজরদারি তথা অভিযান চালাতে গেলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়।

    সূত্র জানায়, গত বছরের শেষে নয়তো চলতি বছরের প্রথম দিকে ব্যাংকের এই রিজার্ভ টাকা পাচার হয়। মাঝের এই সময়টা অর্থমন্ত্রী, সচিব এবং গভর্নরকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। ব্যাংকের এসব দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা যোগ সাজসে তারা বিষয়টি ভিন্ন খাতেও প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তা ব্যর্থ হন। র‌্যাবের একটি সূত্র বলেছে, এসব অর্থ হ্যাক করার পেছনে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের গতিবিধি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। তাদের গত ২ মাসের কললিষ্ট সংগ্রহ করার কাজ চলছে। পাশপাশি দেশের মধ্যে কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে কি না সে বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া যাচ্ছো।

    র‌্যাবের আইটি সেক্টরের এক কর্মকর্তা মনে করেন, আত্মসাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীন কর্মপ্রক্রিয়া সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই জানতো হ্যাকাররা। ব্যাংক কর্মীদের মাধ্যমে অথবা তাদের পেছনে সফলভাবে গোয়েন্দাগিরি করে তারা সব তথ্য জোগাড় করতো তারা।

    সিআইডি একটি সূত্র বলেছে, আন্ত:ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর ও নিরাপদ মেসেজিং সেবা প্রতিষ্ঠান সুইফটে ঢোকার জন্য প্রয়োজনীয় ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড ছাড়াও জালিয়াতদের আরো দরকার ছিলো ক্রিপ্টোগ্রাফিক বা সাংকেতিক কোড যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সনাক্ত করে সুইফট। সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে এসব তথ্য খুব সহজেই চুরি করে জালিয়াতি কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। আর হয়তো এ কাজটিই করেছে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের গতিবিধি নজরদারি করা যাচ্ছো। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, এরকম জালিয়াতির জন্য আগে থেকেই অপরাধীরা অনেকদিন ধরে ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজকর্ম মনিটর করে, বুঝে নেয় তারা কীভাবে কেমন ভাষায় সুইফটের মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদান করছে। এই পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্য যেনো ভুয়া আবেদন পাঠানোর সময় কর্তৃপক্ষ আসল আর নকল আবেদনের মধ্যে পার্থক্য ধরতে না পারে। তিনি বলেন, এদের বড় কৌশল ছিলো সরাসরি ভিক্টিমদের কাছ থেকেই সব কিছু শিখে আসল প্রক্রিয়াকে হুবহু নকল করে জালিয়াতি করা। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেউ জড়িত না থাকলে এক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে বলে ধারণা করেন এই কর্মকর্তা।

    মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকড হওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮শ’ কোটি টাকা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট শাখা। কোন ব্যাংক থেকে এই টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে, তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো মন্তব্য না করলেও অর্থমন্ত্রী টাকা ফেরত আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছেন। অপরদিকে গতকাল (মঙ্গলবার) ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেছেন, এ ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনাই ঘটেনি। এছাড়া হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া এই চক্রের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার পাসপোর্ট জব্দ করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে বেশ কিছু কর্মকর্তার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এদিকে, গত মাসের মাঝামাঝিতে ফেডারেল রিজার্ভ থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮শ’ কোটি টাকা খোয়া যাওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল ফিলিপাইনে এ বিষয়ে তদন্তে গেলেও গত সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিষয়টি জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এ নিয়ে সর্বমহলে প্রশ্নের দেখা দিয়েছে। হ্যাকিংয়ের ঘটনা এবং পরিদর্শক দলের তদন্তের বিষয়টি অর্থমন্ত্রীকে জানানো হয়নি বলেও অনেকে মনে করছেন। তারা মনে করেন, এত বড় একটি ঘটনা যা সবার আগে অর্থমন্ত্রীকেই জানানো উচিত ছিল। এছাড়া এই ঘটনার সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে এবং তাদের আড়াল করতেই অর্থমন্ত্রীর কাছে এই তথ্য গোপন করা হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে অর্থমন্ত্রীর মামলার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা ইনকিলাবকে বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে আমরা এখনো কোনো ব্যাংকের নাম বলিনি। তাই মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। এছাড়া কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে টাকা ফেরত আনা এবং এ বিষয়ে সার্বিক তথ্য নিশ্চিতে বিশ্বব্যাংকে কাজ করেছে, এমন সাইবার পরামর্শক দল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন শুভঙ্কর সাহা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকড হওয়া টাকার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশের বিষয়ে কিছু কর্মকর্তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু কর্মকর্তার পাসপোর্টও জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু কর্মকর্তারা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য তাদের পৃথক নজড়দারি করছে বলে জানা গেছে। গতকাল হ্যাংকিয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ওইসব কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে, কত জনের পাসপোর্ট আটক করা হয়েছে তা জানা জায়নি। সূত্র জানায়, যাদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টে কর্মরত। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রমতে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দশ কোটি ডলার হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ব্লুমবার্গকে তারা এ খবর দিয়েছে। তাদের মতে, ফেডারেল রিজার্ভের ব্যবস্থায় হ্যাকিংয়ের কোনো প্রমাণ নেই। তবে রয়টার্স লিখেছে, বাংলাদেশে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়েছে কিনা Ñ গোপনীয়তার যুক্তিতে সে ব্যাপারে মুখ খুলতে অস্বীকার করেছে ফেডারেল রিজার্ভ। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২৫০টির মতো দেশের সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভে টাকা জমা রাখে। গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের এক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেয়া বিপুল পরিমান অর্থের একাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফেডারেল রিজার্ভের এই অস্বীকৃতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছেন। এই অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, বেহাত হওয়া অর্থের মোট পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইনে রয়েছে। ওই অর্থের একটি অংশ আদায় করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাকি অর্থের গন্তব্য শনাক্ত করে তা আদায়ের বিষয়ে বাংলাদেশের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। কত পরিমাণ অর্থ ফেরত আনা হয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে তা উল্লেখ করা না হলেও কর্মকর্তারা বলছেন, বেহাত হওয়া অর্থের এক-চতুর্থাংশের মতো আদায় হয়েছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে ২৮০০ কোটি ডলারের মতো। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ নগদ আকারে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা হয়। বাকি অংশ বন্ড, স্বর্ণ ও অন্যান্য মুদ্রায় বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা হয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকড হওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ফেরত আনতে মামলা করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা ফেডারেল রিজার্ভের, যারা এটা সেখানে হ্যান্ডেল করেন, তাদের কোনো গোলমাল হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ কোনোমতেই তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারবে না। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন দোষ নেই। এ বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, অফ কোর্স। আমরা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করবো। তাদের কাছে টাকা রাখছি, তারাই এই জন্য দায়ী। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে বিপুল এ অর্থ চুরির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ জড়িত থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের বিনিয়োগ যেভাবে সংরক্ষিত হয়, তাতে ভেতরের কারও সহযোগিতা ছাড়া হ্যাক করে অর্থ চুরি করা খুবই জটিল। বিষয়টি নিয়ে এখন বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া দাপ্তরিক কাজে তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও অনলাইন কার্যক্রমের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সতর্কতামূলক একটি অফিস আদেশও জারি করা হয়েছে। অপরদিকে টাকা হ্যাকড হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, সেদিন ছিল বন্ধের দিন। রাত ৮টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সময়সীমা। এ সময়ে ১০ কোটি ডলার বা ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। চক্রটি প্রথমে পাসওয়ার্ড হ্যাক করে। পরে আন্তর্জাতিক লেনদেনের নিয়ম অনুসরণের মধ্য দিয়ে জালিয়াতির কাজ সম্পন্ন করে। একপ্রকার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতিতে টাকাগুলো নিয়ে যায়। অবশ্য তখনও বাংলাদেশ ব্যাংক বুঝতে পারেনি আসল ঘটনা। বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যেভাবে লেনদেন করে সেভাবে লেনদেন হয়েছে। প্রথমে টাকার পরিমাণ চেয়ে একটি আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা হয়। আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রাক্কালে যেভাবে আবেদন করা হয় এ আবেদনটিও ছিল অনুরূপ। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক টের পায়নি। নির্ধারিত হিসাবে টাকা চলে যায় এবং নির্ধারিত সময় শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকও বুঝতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে দুই কর্মকর্তাকে পাঠানো হয় তিন দিনের জন্য। কিন্তু তারা টাকার কোনো হদিস পাননি। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা ১০ থেকে ১২ দিন পর খালি হাতে ফেরেন। তাদের কথায় টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো আশার বাণীও পাওয়া যায়নি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দাবি করছে- খোয়া যাওয়া ৮০০ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব। ইতিমধ্যে কিছু টাকা ফেরত এসেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিপাইন-ফেরত দুই কর্মকর্তার দেয়া তথ্যে ৮০০ কোটি টাকা ফেরত পাওয়ার লক্ষণ ক্ষীণ। তবুও চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফিলিপাইন সরকার তাদের অর্থ বাজারে ৮০০ কোটি টাকা বেশি পায়। অর্থের উৎস খুঁজতে গিয়ে জানতে পারে এ পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দেশটির একটি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থের উৎস ও কিভাবে সরানো হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত করে। দুই জন ব্যাংকারকে পাঠানো হয় ফিলিপাইনে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তারা। কোন পদ্ধতিতে টাকা সরানো হয়েছে তা নিয়ে চলছে অনুসন্ধান। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার বলেছে, কিছু টাকা হ্যাক হয়েছে। তার একাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকার গন্তব্য সনাক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয় রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে দেশে এবং দেশের বাইরে তদন্তলব্ধ তথ্যাদি অপ্রকাশিত রাখা হচ্ছে।

    সোনালী-বেসিক ব্যাংকের দুরাবস্থা কাটিয়ে ওঠতে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও বেসিক ব্যাংকে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠতে বেগ পেতে হচ্ছে।

    বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন ২০১৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।

    অর্থমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে বড় ধরনের ডাকাতি ও জালিয়াতি হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা লুট করার চেষ্টা করেছে। ব্যাংক দুটি ঠিক করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। এ দুরাবস্থা কাটিয়ে ওঠতে সময় লাগবে।”

    ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেনি জানিয়ে মুহিত বলেন, “অনেকে বলে দেশে ব্যাংক বেশি হয়ে গেছে। কিন্তু, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ব্যাংকের ৯ হাজার শাখা তেমন কিছুই না।”

    মন্ত্রী বলেন, “দেশে ৫৬টি ব্যাংক থাকলেও ব্যাংকিং সেবা এখনো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছেনি। আর্থিকভাবে দেশকে স্বাবলম্বী করতে হলে সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা সব মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।”

    জনতা ব্যাংক সম্পর্কে তিনি বলেন, “আর্থিক সূচকে জনতা ব্যাংক অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর থেকে যথেষ্ট ভালো করছে। ভালো মুনাফা অর্জন করছে।”

    অনুষ্ঠানে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আব্দুস সালাম ব্যাংকের আর্থিক সূচক তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন।

    ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ ওয়াহিদ উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এস আসলাম আলম প্রমুখ।

    দুই বছরেই বেহাল দশা ভারত থেকে আনা ১০০ কোটির বিআরটিসি বাসের

    প্রায় ১০০ কোটি ব্যয়ে ভারত থেকে আনা এসি এবং আর্টিকুলেটেড বাসের অধিকাংশই দুই বছরে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে।
    রাজধানীবাসীকে নিরাপদ পরিবহন সেবা দিতে ১০০ কোটি টাকায় ১৩৮টি এসি এবং আর্টিকুলেটেড বাস কেনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
    তবে ১২ বছরের বেশি সময়ের আয়ুষ্কালের এসব বাসের অধিকাংশই দুই বছরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
    পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
    এর পরিপ্রেক্ষিতে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থে এ ধরনের নিম্নমানের বাস কেন কেনা হলো তার অধিক তদন্ত চেয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।
    ডাবল ডেকার, সিঙ্গেল ডেকার এসি এবং আর্টিকুলেটেড বাস ক্রয় শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বিআরটিসি। প্রকল্পটির আওতায় অশোক লেল্যান্ড লিমিটেডের কাছ থেকে ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৮ এসি বাস এবং ৪৯ কোটি টাকায় ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাস কেনা হয়। কয়েক দফায় ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাসগুলো বিআরটিসির বহরে যুক্ত হয়। সম্প্রতি প্রকল্পটির আওতায় কেনা বাসগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে আইএমইডি।
    আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্টিকুলেটেড বাসগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এয়ার ব্লোস, যা বাসের দুই অংশকে সংযুক্ত করেছে। সেসব জায়গায় ফেটে গেছে। এ ফাটা জায়গা দিয়ে বাইরে থেকে রাস্তার ধুলাবালি বাসের ভেতরে প্রবেশ করে যা যাত্রী সাধারণের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়া বাসের অভ্যন্তরে আসনগুলো ভালো নয়। ছাদের অবস্থাও খারাপ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আয়ুস্কাল ১২ বছর বললেও দুই বছরের মাথায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে বাসগুলো।
    বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় কেনা ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাসের মধ্যে ১৪টি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে আছে। অবশিষ্ট বাসের অবস্থাও ভালো নয়। এসি বাসেরও একই অবস্থা। তবে প্রকল্পের আওতায় ২৯০টি ডাবল ডেকার কেনা হয়েছে। সেগুলোর অবস্থা তুলনামূলক ভালো।
    আইএমইডির পরিদর্শনে সিঙ্গেল ডেকার এসি বাসগুলোর দুর্দশার চিত্রও উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, এসি বাসের আচ্ছাদন দুর্বল রেক্সিন জাতীয় কভার দ্বারা নির্মিত, বিধায় সিঁড়ির জায়গা এবং আসন সংলগ্ন দেয়ালে ব্যাপক ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বাইরের বডি এবং ভেতরের আচ্ছাদনের মাঝে তাপ নিরোধক কোন শিট না থাকায় বাইরের তাপ বাসের ভেতরে প্রবেশ করে। এ কারণে এসি বাস হলেও কোনো কাজে আসে না।
    বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, বাসগুলো অনেক সস্তায় কেনা হয়েছে। যে দামে কেনা হয়েছে তা দিয়ে ভালো মানের বাস কেনা কঠিন। তবে আরও বাজার যাচাই-বাছাই করে বাসগুলো কিনলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এজন্য ভবিষ্যৎ কেনাকাটায় গুণগত মানের দিকটাতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
    তিনি বলেন, আমদানি করা বাসগুলো রাজধানীতে চলাচলের অনুকূল পরিবেশ নেই। প্রতিটি ট্রিপে বাসের গায়ে স্পট পড়ছে। এসি কিংবা আর্টিকুলেটেড বাসের জন্য আলাদা সড়ক থাকলে এত দ্রুত লক্কড়ঝক্কড় হতো না। উন্নত দেশে একই মানের বাস আরও পাঁচ বছর বেশি চলবে।