• ?????: আমার স্বাস্থ্য

    উচ্চ রক্তচাপের অজানা কথা

    ধমনীর মধ্য দিয়ে রক্ত সর্বদা তীব্র গতিতে চলাচল করে। ধমনীর ভেতর দিয়ে রক্ত চলাচলের সময় ধমনীর দেয়ালে যে চাপ প্রয়োগ করে তাকেই রক্তচাপ বলে। মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০-এর কম। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়াকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে। সাধারণত রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর সমান বা বেশি হলে তাকে হাইপারটেনশন বলে।
    উচ্চ রক্তচাপের কারণ
    কারণ অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি কারণ হলো যে কারণ এখনও অজানা। সিংহভাগ উচ্চ রক্তচাপের কারণ এখনও জানা যায়নি অর্থাত্ প্রাইমারি উচ্চ রক্তচাপ। অল্প কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কারণ জানা যায়। যেমন—কিডনির কিছু সমস্যা, হরমোনজনিত সমস্যা ইত্যাদি।
    উচ্চ রক্তচাপের উপসর্গ
    বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা দেখা দিলে কেবল তখনই কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন—মাথা ব্যথা, বুক ধড়পড় করা, কিছুটা শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা হঠাত্ করে টলে পড়ে যাওয়া ইত্যাদি।
    উচ্চ রক্তচাপের আধুনিক চিকিত্সা
    উচ্চ রক্তচাপের চিকিত্সা সাধারণত দুই ভাগে করা হয়—ওষুধ দিয়ে চিকিত্সা এবং জীবন যাপনের পদ্ধতি পরিবর্তনের মাধ্যমে চিকিত্সা। বর্তমানে বাজারে বেশ কয়েক ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। সম্পূর্ণ বাংলাদেশে উত্পাদিত হয় বলে এসব ওষুধের দাম অনেক কম। তাছাড়া প্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত হওয়ায় এসব ওষুধ সারা জীবন গ্রহণ করলেও কোনো সমস্যা হয় না। একেক জনের শারীরিক অবস্থাভেদে একেক ধরনের ওষুধ দেয়া হয়। তবে সবচেয়ে ভালো হলো জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। এর মধ্যে রয়েছে চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার, কায়িক পরিশ্রম বাড়ানো, অহেতুক টেনশন কমিয়ে ফেলা, ধূমপান পরিহার, প্রচুর শাক-সবজি খাওয়া, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা ইত্যাদি। এসব কিছু করার পরও যদি হাইপারটেনশন না কমে তাহলে ওষুধ খাওয়া ছাড়া আর বিকল্প থাকবে না।
    উচ্চ রক্তচাপ ও কিছু ভুল ধারণা
    এক. অনেকে মনে করেন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ একবার খেলে সারা জীবন খেতে হবে, তাই ওষুধ খেতে চান না। এটা ঠিক নয়। কেননা, আপনার শরীর নিজে নিজে ব্যর্থ হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্যই ওষুধের সাহায্য নিতে হবে। অন্যথায় আপনি বিলম্ব করলেও বাড়তি রক্তচাপ আপনার ক্ষতিসাধন করতে মোটেও বিলম্ব করবে না।
    দুই. কাঁচা লবণ খেলে প্রেসার বাড়ে, তাই লবণ ভেজে খাওয়া ভালো। এটাও একদম ভুল কথা। লবণ ভেজে খান আর তরকারিতে খান না কেন, মাথাপিছু প্রতিদিন গৃহীত লবণের পরিমাণ যেন ৬ গ্রাম বা পূর্ণ এক চামচের বেশি না হয়।
    তিন. প্রেসার কমে গেলে ওষুধ ছেড়ে দেয়ায় কোনো ক্ষতি নেই। এটাও একটা বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত। মনে রাখতে হবে, ওষুধ খেয়েই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আছে। তাই ওষুধ ছেড়ে দেয়া মানেই স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়া।
    চার. একবার প্রেসার বেশি পাওয়া মানেই প্রেসারের রোগী। মোটেও নয়। পরপর তিন দিন সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় যদি প্রেসার বেশি পাওয়া যায় তবে ধরে নিতে হবে আপনার প্রেসার বেশি। নানা কারণে হঠাত্ একটু-আধটু প্রেসার বাড়তে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপের রোগী বলতে হলে প্রেসার পরপর তিন দিন মাপাতে হবে।
    পাঁচ. ঘাড়ে ব্যথা মানেই প্রেসার। কখনোই না। কারণ নানা কারণে ঘাড়ে ব্যথা হয়। খুবই কম ক্ষেত্রে প্রেসারের আধিক্যে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।
    উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা
    উচ্চ রক্তচাপ নিজে যেহেতু কোনো উপসর্গ তৈরি করে না, তাই নীরবে এটি অনেক জটিলতার সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের ফলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেইল্যুর অন্ধত্বসহ রক্তনালির অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে। এসব সমস্যায় কেউ আক্রান্ত হয়ে মুমূর্ষূ অবস্থায় যখন পতিত হন তখন জানতে পারেন তিনি আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।
    উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপারটেনশন সেন্টার
    বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চিকিত্সা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রথম এগিয়ে আসেন মরহুম অধ্যাপক ডা. এসজিএম চৌধুরী। তার নিরলস প্রচেষ্টায় ১৯৮৩ সালে বেসরকারিভাবে প্রথম হাইপারটেনশন সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকায়। এখানে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে চিকিত্সা সেবা নিয়ে থাকেন। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠান অদ্যাবধি নানা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এর অনেক দিন পর ২০০৮ সালে ঢাকার বাইরে রংপুরে আরও একটি হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। ডা.ওয়াছিম-ওয়ালেদা বহুমুখী কল্যাণ ফাউন্ডেশন পরিচালিত অলাভজনক স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান এটি। হাইপারটেনশন সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য এসব সেন্টার থেকে বিভিন্ন সময় বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভা, র্যালি, ফ্রি রক্তচাপ পরিমাপ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার চিকিত্সা গ্রহণের সুযোগ থাকায় সারাদেশে এ ধরনের হাইপারটেনশন সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

    উচ্চ রক্তচাপের অজানা কথা

    ধমনীর মধ্য দিয়ে রক্ত সর্বদা তীব্র গতিতে চলাচল করে। ধমনীর ভেতর দিয়ে রক্ত চলাচলের সময় ধমনীর দেয়ালে যে চাপ প্রয়োগ করে তাকেই রক্তচাপ বলে। মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০-এর কম। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়াকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে। সাধারণত রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর সমান বা বেশি হলে তাকে হাইপারটেনশন বলে।
    উচ্চ রক্তচাপের কারণ
    কারণ অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি কারণ হলো যে কারণ এখনও অজানা। সিংহভাগ উচ্চ রক্তচাপের কারণ এখনও জানা যায়নি অর্থাত্ প্রাইমারি উচ্চ রক্তচাপ। অল্প কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কারণ জানা যায়। যেমন—কিডনির কিছু সমস্যা, হরমোনজনিত সমস্যা ইত্যাদি।
    উচ্চ রক্তচাপের উপসর্গ
    বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতা দেখা দিলে কেবল তখনই কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন—মাথা ব্যথা, বুক ধড়পড় করা, কিছুটা শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা হঠাত্ করে টলে পড়ে যাওয়া ইত্যাদি।
    উচ্চ রক্তচাপের আধুনিক চিকিত্সা
    উচ্চ রক্তচাপের চিকিত্সা সাধারণত দুই ভাগে করা হয়—ওষুধ দিয়ে চিকিত্সা এবং জীবন যাপনের পদ্ধতি পরিবর্তনের মাধ্যমে চিকিত্সা। বর্তমানে বাজারে বেশ কয়েক ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। সম্পূর্ণ বাংলাদেশে উত্পাদিত হয় বলে এসব ওষুধের দাম অনেক কম। তাছাড়া প্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত হওয়ায় এসব ওষুধ সারা জীবন গ্রহণ করলেও কোনো সমস্যা হয় না। একেক জনের শারীরিক অবস্থাভেদে একেক ধরনের ওষুধ দেয়া হয়। তবে সবচেয়ে ভালো হলো জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। এর মধ্যে রয়েছে চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার, কায়িক পরিশ্রম বাড়ানো, অহেতুক টেনশন কমিয়ে ফেলা, ধূমপান পরিহার, প্রচুর শাক-সবজি খাওয়া, প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা ইত্যাদি। এসব কিছু করার পরও যদি হাইপারটেনশন না কমে তাহলে ওষুধ খাওয়া ছাড়া আর বিকল্প থাকবে না।
    উচ্চ রক্তচাপ ও কিছু ভুল ধারণা
    এক. অনেকে মনে করেন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ একবার খেলে সারা জীবন খেতে হবে, তাই ওষুধ খেতে চান না। এটা ঠিক নয়। কেননা, আপনার শরীর নিজে নিজে ব্যর্থ হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্যই ওষুধের সাহায্য নিতে হবে। অন্যথায় আপনি বিলম্ব করলেও বাড়তি রক্তচাপ আপনার ক্ষতিসাধন করতে মোটেও বিলম্ব করবে না।
    দুই. কাঁচা লবণ খেলে প্রেসার বাড়ে, তাই লবণ ভেজে খাওয়া ভালো। এটাও একদম ভুল কথা। লবণ ভেজে খান আর তরকারিতে খান না কেন, মাথাপিছু প্রতিদিন গৃহীত লবণের পরিমাণ যেন ৬ গ্রাম বা পূর্ণ এক চামচের বেশি না হয়।
    তিন. প্রেসার কমে গেলে ওষুধ ছেড়ে দেয়ায় কোনো ক্ষতি নেই। এটাও একটা বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত। মনে রাখতে হবে, ওষুধ খেয়েই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আছে। তাই ওষুধ ছেড়ে দেয়া মানেই স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়া।
    চার. একবার প্রেসার বেশি পাওয়া মানেই প্রেসারের রোগী। মোটেও নয়। পরপর তিন দিন সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় যদি প্রেসার বেশি পাওয়া যায় তবে ধরে নিতে হবে আপনার প্রেসার বেশি। নানা কারণে হঠাত্ একটু-আধটু প্রেসার বাড়তে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপের রোগী বলতে হলে প্রেসার পরপর তিন দিন মাপাতে হবে।
    পাঁচ. ঘাড়ে ব্যথা মানেই প্রেসার। কখনোই না। কারণ নানা কারণে ঘাড়ে ব্যথা হয়। খুবই কম ক্ষেত্রে প্রেসারের আধিক্যে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে।
    উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা
    উচ্চ রক্তচাপ নিজে যেহেতু কোনো উপসর্গ তৈরি করে না, তাই নীরবে এটি অনেক জটিলতার সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের ফলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেইল্যুর অন্ধত্বসহ রক্তনালির অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে। এসব সমস্যায় কেউ আক্রান্ত হয়ে মুমূর্ষূ অবস্থায় যখন পতিত হন তখন জানতে পারেন তিনি আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত।
    উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপারটেনশন সেন্টার
    বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চিকিত্সা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রথম এগিয়ে আসেন মরহুম অধ্যাপক ডা. এসজিএম চৌধুরী। তার নিরলস প্রচেষ্টায় ১৯৮৩ সালে বেসরকারিভাবে প্রথম হাইপারটেনশন সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকায়। এখানে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন রোগী অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে চিকিত্সা সেবা নিয়ে থাকেন। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠান অদ্যাবধি নানা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এর অনেক দিন পর ২০০৮ সালে ঢাকার বাইরে রংপুরে আরও একটি হাইপারটেনশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। ডা.ওয়াছিম-ওয়ালেদা বহুমুখী কল্যাণ ফাউন্ডেশন পরিচালিত অলাভজনক স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান এটি। হাইপারটেনশন সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য এসব সেন্টার থেকে বিভিন্ন সময় বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভা, র্যালি, ফ্রি রক্তচাপ পরিমাপ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার চিকিত্সা গ্রহণের সুযোগ থাকায় সারাদেশে এ ধরনের হাইপারটেনশন সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

    লাল মরিচ স্থুলতা কমায়

    অতিরিক্ত ঝালযুক্ত লাল মরিচ তিন উপায়ে দেহের স্থূলতা কমায় বলে জানিয়েছেন বৃটেনের একদল গবেষক।

    তাদের মতে, এ জাতীয় মরিচ দেহের চর্বি হ্রাস করে, ক্ষুধা দমন করে এবং ক্যালরির পরিমাণ কমায়।

    ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির খাদ্যবিজ্ঞানী স্টিফেন হোয়েটিংয়ের গবেষণায় প্রমাণ হয়, মরিচের ভেতর যে উপাদান রয়েছে তা দেহে চর্বি রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ঝাল লাল মরিচের রাসায়নিক উপাদান দেহে তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করে এবং অ্যাড্রেনালিন হরমোন রোধে সহায়তা করে। ফলে শরীরে চর্বির পরিমাণ কমে যায়।

    এ ছাড়া লাল মরিচ মস্তিষ্কে চর্বি কমানোর জন্য বার্তা পাঠায়। ফলে দ্রুত দেহের চর্বি পুড়ে যায়। দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ম্যাড্রিফ চর্বি লাল মরিচ দ্বারা দমন করা সম্ভব। শরীরে এ জাতীয় চর্বির প্রভাবে হূদরোগের আশঙ্কা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

    তাই হোয়েটিং বলেছেন, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যদি মরিচ থাকে তাহলে ওজন কমাতে তা সাহায্য করবে। সূত্র: জিনিউজ

    লাল মরিচ স্থুলতা কমায়

    অতিরিক্ত ঝালযুক্ত লাল মরিচ তিন উপায়ে দেহের স্থূলতা কমায় বলে জানিয়েছেন বৃটেনের একদল গবেষক।

    তাদের মতে, এ জাতীয় মরিচ দেহের চর্বি হ্রাস করে, ক্ষুধা দমন করে এবং ক্যালরির পরিমাণ কমায়।

    ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির খাদ্যবিজ্ঞানী স্টিফেন হোয়েটিংয়ের গবেষণায় প্রমাণ হয়, মরিচের ভেতর যে উপাদান রয়েছে তা দেহে চর্বি রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ঝাল লাল মরিচের রাসায়নিক উপাদান দেহে তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করে এবং অ্যাড্রেনালিন হরমোন রোধে সহায়তা করে। ফলে শরীরে চর্বির পরিমাণ কমে যায়।

    এ ছাড়া লাল মরিচ মস্তিষ্কে চর্বি কমানোর জন্য বার্তা পাঠায়। ফলে দ্রুত দেহের চর্বি পুড়ে যায়। দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ম্যাড্রিফ চর্বি লাল মরিচ দ্বারা দমন করা সম্ভব। শরীরে এ জাতীয় চর্বির প্রভাবে হূদরোগের আশঙ্কা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

    তাই হোয়েটিং বলেছেন, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যদি মরিচ থাকে তাহলে ওজন কমাতে তা সাহায্য করবে। সূত্র: জিনিউজ

    মদপানে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

    প্রাচ্যের নিন্দনীয় পশ্চিমের জনপ্রিয় মদ বা অ্যালকোহলের প্রতি যদি থাকে আকর্ষণ, থাকে যদি নিয়মিত পানের অভ্যাস তবে জেনে রাখুন আছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। খারাপ ছাড়া ভালো কিছু নেই সুরাপানে। মদ পানের ক্ষতিকর দিকগুলো সঠিকভাবে জানলে অনেকেই হয়তো সুরাসক্তি থেকে সরে আসবেন।

    কি না হয় মদ পানের কারণে? পা থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত সারা দেহই আক্রান্ত হয় মদের কুপ্রভাবের দ্বারা। অ্যালকোহল শরীরে বিপাকের মূল অঙ্গ লিভার। মদপানে এই লিভারের বারোটা বেজে যায়। ফ্যাটি লিভার, জন্ডিস, লিভার বড় হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে লিভার সিরোসিস নামের ভয়ঙ্কর রোগ পর্যন্ত হতে পারে। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হলে অকালে মৃত্যুবরণের আশঙ্কা বেড়ে যায় অনেকখানি। হতে পারে লিভার ক্যানসার যার ফলাফল নিশ্চিত মৃত্যু।

    বুকজ্বালা, গ্যাস্ট্রিক আলসারের সমস্যা বেড়ে যায়, অগ্নাশয়ে হতে পারে প্যানক্রিয়াটাইটিস বা আগ্নাশয়ের প্রদাহ যা খুব মারাত্মক। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে এটা রোগীর জীবনাবসান করাতে পারে। মুখগহবর, শ্বাসনালী ও
    খাদ্যনালি, কোলন বা বৃহদান্ত্রের ক্যানসারেও মদিরার ভূমিকা আছে।

    কিডনির আকার বাড়িয়ে দেয়া, কাজের ব্যাঘাত ঘটিয়ে কিডনির হরমোনের ব্যালান্স নষ্ট করা, কিডনি বিকলে ভূমিকা রাখার মতো দুষ্টু কাজে মদের ভূমিকা রয়েছে।অতিরিক্ত মদপানের কারণে হৃদরোগের সমস্যা হতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বাড়ে। ওজন বাড়তে পারে, হৃদপেশি বিকল হয়ে হার্টফেইলর বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াও বন্ধ হতে পারে। হতে পারে মস্তিস্কে স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতি ভ্রষ্টতা।

    মদপানকারীর মানসিক স্বাস্থ্যেরও বেশ অবনতি ঘটে। বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা, অনিদ্রা, কাজে একাগ্রতার অভাব সবকিছু মিলিয়ে একজন সুরাসক্ত মানুষ মনের দিক থেকে খুবই অশান্তিতে থাকেন।

    গর্ভবতী মা যদি মদ পান করেন তবে আগত সন্তানের মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি দেখা দেয়। শিশুর শারীরিক গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকে, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক পরিবর্ধন ও পরিবর্তন হয় না এবং এসব সমস্যার কোনো সমাধান নেই।

    যারা অল্প সময়ে প্রচুর অ্যালকোহল গ্রহণ করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সমস্যা দেখা দেয়, বাংলাতে যাকে আমরা মাতলামি বলতে পারি। মাতাল ব্যক্তি তার নিজের ওপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, চলাফেরা ও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা যায়। মানসিকভাবে উত্তেজিত হয়ে অপরের সঙ্গে ঝগড়া, মারামারি করতে পারেন। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকেই মারা যায়। আমাদের দেশে বাস-ট্রাক ড্রাইভারদের অতিরিক্ত অ্যাক্সিডেন্টের অন্যতম কারণ এই মদাসক্তি। অনেকে অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ায় মারাও যেতে পারেন।

    যেসব পুরুষ মদ পান করেন সাময়িকভাবে তাদের মাঝে যৌন চাহিদা বাড়লেও পরবর্তীতে তাদের যৌন ক্ষমতা হ্রাস পায়। টেস্টেরোন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। মহিলাদের ক্ষেত্রে অ্যালকোহলের ক্ষতিকারক
    দিক পুরুষদের থেকে বেশি। মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যানসারের একটা অন্যতম কারণ হিসেবে মদপানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপরোসিসের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অ্যালকোহলিক নারীদের মাঝেই বেশি দেখা যায়।

    মদ, মদিরা, সুরা, ব্রানডি, বিয়ার, শ্যাম্পেন, হুইস্কি, রাম ইত্যাদি যে নামেই ডাকি না কেন এসব পানীয়তে রয়েছে অ্যালকোহল। সাময়িক আনন্দ, ফুর্তি, স্বস্তির স্বাদ পেতে মদের পথে ছুটে যান অনেকে, ফেরার পথে শরীরে নিয়ে আসেন
    মারাত্মক সব রোগব্যাধি। তাই আজ থেকে মদ পরিহার করুন। সুস্থ দেহে সুস্থ মন নিয়ে বেঁচে থাকুন অনেক দিন।

    মদপানে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি

    প্রাচ্যের নিন্দনীয় পশ্চিমের জনপ্রিয় মদ বা অ্যালকোহলের প্রতি যদি থাকে আকর্ষণ, থাকে যদি নিয়মিত পানের অভ্যাস তবে জেনে রাখুন আছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। খারাপ ছাড়া ভালো কিছু নেই সুরাপানে। মদ পানের ক্ষতিকর দিকগুলো সঠিকভাবে জানলে অনেকেই হয়তো সুরাসক্তি থেকে সরে আসবেন।

    কি না হয় মদ পানের কারণে? পা থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত সারা দেহই আক্রান্ত হয় মদের কুপ্রভাবের দ্বারা। অ্যালকোহল শরীরে বিপাকের মূল অঙ্গ লিভার। মদপানে এই লিভারের বারোটা বেজে যায়। ফ্যাটি লিভার, জন্ডিস, লিভার বড় হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে লিভার সিরোসিস নামের ভয়ঙ্কর রোগ পর্যন্ত হতে পারে। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হলে অকালে মৃত্যুবরণের আশঙ্কা বেড়ে যায় অনেকখানি। হতে পারে লিভার ক্যানসার যার ফলাফল নিশ্চিত মৃত্যু।

    বুকজ্বালা, গ্যাস্ট্রিক আলসারের সমস্যা বেড়ে যায়, অগ্নাশয়ে হতে পারে প্যানক্রিয়াটাইটিস বা আগ্নাশয়ের প্রদাহ যা খুব মারাত্মক। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করলে এটা রোগীর জীবনাবসান করাতে পারে। মুখগহবর, শ্বাসনালী ও
    খাদ্যনালি, কোলন বা বৃহদান্ত্রের ক্যানসারেও মদিরার ভূমিকা আছে।

    কিডনির আকার বাড়িয়ে দেয়া, কাজের ব্যাঘাত ঘটিয়ে কিডনির হরমোনের ব্যালান্স নষ্ট করা, কিডনি বিকলে ভূমিকা রাখার মতো দুষ্টু কাজে মদের ভূমিকা রয়েছে।অতিরিক্ত মদপানের কারণে হৃদরোগের সমস্যা হতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়, উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বাড়ে। ওজন বাড়তে পারে, হৃদপেশি বিকল হয়ে হার্টফেইলর বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াও বন্ধ হতে পারে। হতে পারে মস্তিস্কে স্ট্রোক, ডিমেনশিয়া বা স্মৃতি ভ্রষ্টতা।

    মদপানকারীর মানসিক স্বাস্থ্যেরও বেশ অবনতি ঘটে। বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা, অনিদ্রা, কাজে একাগ্রতার অভাব সবকিছু মিলিয়ে একজন সুরাসক্ত মানুষ মনের দিক থেকে খুবই অশান্তিতে থাকেন।

    গর্ভবতী মা যদি মদ পান করেন তবে আগত সন্তানের মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি দেখা দেয়। শিশুর শারীরিক গঠনে অস্বাভাবিকতা থাকে, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক পরিবর্ধন ও পরিবর্তন হয় না এবং এসব সমস্যার কোনো সমাধান নেই।

    যারা অল্প সময়ে প্রচুর অ্যালকোহল গ্রহণ করেন তাদের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সমস্যা দেখা দেয়, বাংলাতে যাকে আমরা মাতলামি বলতে পারি। মাতাল ব্যক্তি তার নিজের ওপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, চলাফেরা ও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা যায়। মানসিকভাবে উত্তেজিত হয়ে অপরের সঙ্গে ঝগড়া, মারামারি করতে পারেন। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকেই মারা যায়। আমাদের দেশে বাস-ট্রাক ড্রাইভারদের অতিরিক্ত অ্যাক্সিডেন্টের অন্যতম কারণ এই মদাসক্তি। অনেকে অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ায় মারাও যেতে পারেন।

    যেসব পুরুষ মদ পান করেন সাময়িকভাবে তাদের মাঝে যৌন চাহিদা বাড়লেও পরবর্তীতে তাদের যৌন ক্ষমতা হ্রাস পায়। টেস্টেরোন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। মহিলাদের ক্ষেত্রে অ্যালকোহলের ক্ষতিকারক
    দিক পুরুষদের থেকে বেশি। মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যানসারের একটা অন্যতম কারণ হিসেবে মদপানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপরোসিসের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অ্যালকোহলিক নারীদের মাঝেই বেশি দেখা যায়।

    মদ, মদিরা, সুরা, ব্রানডি, বিয়ার, শ্যাম্পেন, হুইস্কি, রাম ইত্যাদি যে নামেই ডাকি না কেন এসব পানীয়তে রয়েছে অ্যালকোহল। সাময়িক আনন্দ, ফুর্তি, স্বস্তির স্বাদ পেতে মদের পথে ছুটে যান অনেকে, ফেরার পথে শরীরে নিয়ে আসেন
    মারাত্মক সব রোগব্যাধি। তাই আজ থেকে মদ পরিহার করুন। সুস্থ দেহে সুস্থ মন নিয়ে বেঁচে থাকুন অনেক দিন।

    খাবার নিয়ে হচ্ছেটা কী?

    মাহমুদ মেনন, হেড অব নিউজ
    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

    খাবার নিয়ে হচ্ছেটা কী? কোন খাবার ভালো, কোনটা খারাপ? এ নিয়ে বিজ্ঞানী/গবেষকদের পরামর্শ এত দ্রুত পরিবর্তন হয় যে মানুষ তাতে দিশেহারা। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞরা ঘোষণা দিলেন, ডিম একটি সঠিক খাবার। চলতি সপ্তাহে সেই ডিম নিয়েই কানাডীয় গবেষকদের মত, ডিম বা ডিমের কুসুম মানুষের হৃদযন্ত্রের জন্য সিগারেটের মতোই ক্ষতিকর। কারণ ডিমের কুসুম হৃদযন্ত্রের শিরা-উপশিরাগুলো ভরাট করে রাখে।

    আমরা এই মুহূর্তে জানতে পারি কোনও একটি খাবার আমাদের জন্য খুবই ভালো। একটু পরেই শুনতে হয়, না ওটা খেও না, ওটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যার সবশেষ সংস্করণ ডিম। দেখা যাক খাদ্য গবেষকরা কোন খাদ্য নিয়ে কখন কি মত দিয়েছেন। আবার সেই মতের বিপরীত মত কখন কী এসেছে:

    ডিম
    ১৯৯০: খাদ্য গবেষণার বাঘা বাঘা ব্যক্তিরা ঘোষণা দিলেন ডিমে কোলেস্টরেল বাড়ে এবং সপ্তাহে দুটি বা তিনটির বেশি ডিম খাওয়া যাবে না।

    ২০০৯: বিশেষজ্ঞরা ডিম থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন, ডিমে যে কোলেস্টরেল সৃষ্টি হয় তার খুব সামান্য প্রভাবই মানবদেহে পড়ে এই যুক্তিতে। ফলে ডিম খেতে মানা নেই।

    ২০১২: কানাডীয় গবেষকরা বললেন, সপ্তাহে দুটো ডিমের কুসুম খাওয়া মানেই নিজেকে সিগেরেট খাওয়ার মতো সমান বিপদে ফেলা। কারণ এতে হৃদযন্ত্রের শিরা-উপশিরা বন্ধ হয়ে যায়।

    চকোলেট
    ২০১১: নিউইয়র্ক বোফিনদের মতে ঘন শক্ত চকোলেটে রয়েছে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় এন্টি-অক্সিডেন্ট যা হৃদযন্ত্রকেও সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

    ২০১২: সপ্তাহে কয়েকদিন চকোলেট সেবী, যারা অনিয়মিত খান তাদের চেয়ে হালকা-পাতলা গড়নের হন। মার্চের একটি গবেষণা থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।

    ২০১২: বছরের পরের দিকে ইউরোপীয় একটি পর্যালোচনায় চকোলেট বারে ক্যালোরি ও চর্বি বেড়ে যায় এমন তথ্য দিয়ে বিষয়ে উদ্বেগ দেখানো হয়। বলা হয় এতে বিষন্নতা বাড়ে।

    সসেজ
    ২০১১: সসেজে লবনের পরিমান বেশি থাকায় তা উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়।

    ২০১২: দিনে একটা করে সসেজ খেলে প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ইউএস বোফিনরা (গবেষক) এ মত দেন জানুয়ারিতে।

    ২০১২: এপ্রিলে এসে বিশেষজ্ঞরা বললেন, সসেজের স্যাচুরেটেড ফ্যাট স্বাস্থ্যকর। তবে এই সসেজগুলোতে মাংসের পরিমান থাকতে হবে অন্তত ৮৫ শতাংশ।

    রেড ওয়াইন
    ২০০১: লন্ডনের বিজ্ঞানীরা বললেন, পরিমিত রেড ওয়ান হৃদযন্ত্রের শিরাগুলো পরিস্কার ও সচল রাখে ফলে তা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।

    ২০১১: যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা বললেন, রেড ওয়াইন পাকস্থলীতে শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

    ২০১২: জার্মানি ও ইতালির গবেষকরা বললেন, দিনে এক গ্লাস করে রেডওয়াইন পানে মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

    সাদা পাউরুটি
    ১৯৫০: সাদা পাউরুটি ভিটামিন ও মিনারেল সম্মৃদ্ধ। এতে ক্যালসিয়ামও বেশি পাওয়া যায়। ফলে বিশ্ব জুড়েই সাদা পাউরুটি একটি জনপ্রিয় ও নিয়মিত খাবার।

    ২০০৭: ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানালেন সাদা পাউরুটি খেলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

    ২০১২: হার্ভার্ডের গবেষকরা বললেন, নিয়মিত পাউরুটি খেলে তা শরীরে দুই ধরনের ডায়াবেটিস বাড়িয়ে দেয়।

    রেড মিট
    ২০০৬: বয়োবৃদ্ধদের জন্য রেডমিট ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ওই বছরই আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে এতে কোলোন ক্যান্সারও হতে পারে।

    ২০১০: যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে রেড মিট খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

    ২০১১: আধুনিক ফার্মিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদিত রেড মিটে চর্বির পরিমান কম থাকে। এতে আয়রন বেশি পাওয়া যায়, দাবি ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশনের।

    বাদাম
    ১৯৯৯: বাদাম উচ্চমাত্রার চর্বির জন্য হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়, আইওয়া উইমেন হেলথ স্টাডির গবেষণা থেকে জানা যায় সেকথা।

    ২০১১: আগে যতটা ভাবা হতো তার চেয়ে অন্তত ২০ ভাগ কম ক্যালোরি রয়েছে বাদামে, এ কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা।

    ২০১২: যুক্তরাষ্ট্রের বোফিনদের মতে দিনে এক প্যাকেট ওয়াল নাট খেলে তা পুরুষের বির্যের গুনগত মান বাড়ায় নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভধারনের শক্তি বাড়িয়ে দেয়।

    আঙ্গুর
    ২০০৮: গোটা ইউরোপ জুড়ে সুপারমার্কেটগুলো থেকে আঙ্গুরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে দেখা গেলো তাকে বিপজ্জনক মাত্রায় কিটনাশক রয়েছে।

    ২০১১: ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের একটি গবেষণায় দেখা গেলো, আঙ্গুর যকৃতকে রোগ-বালাই থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করে।

    ২০১২: আঙ্গুরে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন এ ও সি ও বি-৬ রয়েছে। আরো আছে খনিজ যা খেলে চেহারায় কমনীয়তা নিয়ে আসে, দাবি ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞের।

    কফি
    ১৯৮০: আমেরিকান একটি গবেষণার পর বিশ্বব্যাপী জানিয়ে দেওয়া হলো কফি প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

    ২০০৭: অন্তত ৬৬টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল থেকে নিশ্চিত হওয়া গেলো কফি ক্যান্সারের কারণ নয়।

    ২০১২: কফি ইজ গুড ফর ইউ নামের একটি বই দাবি করা হলো কফি ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধে কাজ করে।

    আলু
    ২০০২: নিউ আটকিনস ডায়েটের বক্তব্য, খাদ্য তালিকা থেকে আলু বাদ দিতে পারলে ওজন কমবে।

    ২০০৯: আলুতে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন বি-৬ রয়েছে। যা কাজের চাপে থাকলে শরিরের জন্য সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে, দাবি ইউরোপীয় গবেষকদের।

    ২০১১: মাইক্রোওয়েভে ভেজে নেওয়া দুই টুকরো আলু নিয়মিত খেতে পারলে রক্তচাপ কমবে। এ দাবি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের।

    খাবার নিয়ে হচ্ছেটা কী?

    মাহমুদ মেনন, হেড অব নিউজ
    বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

    খাবার নিয়ে হচ্ছেটা কী? কোন খাবার ভালো, কোনটা খারাপ? এ নিয়ে বিজ্ঞানী/গবেষকদের পরামর্শ এত দ্রুত পরিবর্তন হয় যে মানুষ তাতে দিশেহারা। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞরা ঘোষণা দিলেন, ডিম একটি সঠিক খাবার। চলতি সপ্তাহে সেই ডিম নিয়েই কানাডীয় গবেষকদের মত, ডিম বা ডিমের কুসুম মানুষের হৃদযন্ত্রের জন্য সিগারেটের মতোই ক্ষতিকর। কারণ ডিমের কুসুম হৃদযন্ত্রের শিরা-উপশিরাগুলো ভরাট করে রাখে।

    আমরা এই মুহূর্তে জানতে পারি কোনও একটি খাবার আমাদের জন্য খুবই ভালো। একটু পরেই শুনতে হয়, না ওটা খেও না, ওটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যার সবশেষ সংস্করণ ডিম। দেখা যাক খাদ্য গবেষকরা কোন খাদ্য নিয়ে কখন কি মত দিয়েছেন। আবার সেই মতের বিপরীত মত কখন কী এসেছে:

    ডিম
    ১৯৯০: খাদ্য গবেষণার বাঘা বাঘা ব্যক্তিরা ঘোষণা দিলেন ডিমে কোলেস্টরেল বাড়ে এবং সপ্তাহে দুটি বা তিনটির বেশি ডিম খাওয়া যাবে না।

    ২০০৯: বিশেষজ্ঞরা ডিম থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন, ডিমে যে কোলেস্টরেল সৃষ্টি হয় তার খুব সামান্য প্রভাবই মানবদেহে পড়ে এই যুক্তিতে। ফলে ডিম খেতে মানা নেই।

    ২০১২: কানাডীয় গবেষকরা বললেন, সপ্তাহে দুটো ডিমের কুসুম খাওয়া মানেই নিজেকে সিগেরেট খাওয়ার মতো সমান বিপদে ফেলা। কারণ এতে হৃদযন্ত্রের শিরা-উপশিরা বন্ধ হয়ে যায়।

    চকোলেট
    ২০১১: নিউইয়র্ক বোফিনদের মতে ঘন শক্ত চকোলেটে রয়েছে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় এন্টি-অক্সিডেন্ট যা হৃদযন্ত্রকেও সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

    ২০১২: সপ্তাহে কয়েকদিন চকোলেট সেবী, যারা অনিয়মিত খান তাদের চেয়ে হালকা-পাতলা গড়নের হন। মার্চের একটি গবেষণা থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।

    ২০১২: বছরের পরের দিকে ইউরোপীয় একটি পর্যালোচনায় চকোলেট বারে ক্যালোরি ও চর্বি বেড়ে যায় এমন তথ্য দিয়ে বিষয়ে উদ্বেগ দেখানো হয়। বলা হয় এতে বিষন্নতা বাড়ে।

    সসেজ
    ২০১১: সসেজে লবনের পরিমান বেশি থাকায় তা উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়।

    ২০১২: দিনে একটা করে সসেজ খেলে প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ইউএস বোফিনরা (গবেষক) এ মত দেন জানুয়ারিতে।

    ২০১২: এপ্রিলে এসে বিশেষজ্ঞরা বললেন, সসেজের স্যাচুরেটেড ফ্যাট স্বাস্থ্যকর। তবে এই সসেজগুলোতে মাংসের পরিমান থাকতে হবে অন্তত ৮৫ শতাংশ।

    রেড ওয়াইন
    ২০০১: লন্ডনের বিজ্ঞানীরা বললেন, পরিমিত রেড ওয়ান হৃদযন্ত্রের শিরাগুলো পরিস্কার ও সচল রাখে ফলে তা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।

    ২০১১: যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা বললেন, রেড ওয়াইন পাকস্থলীতে শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

    ২০১২: জার্মানি ও ইতালির গবেষকরা বললেন, দিনে এক গ্লাস করে রেডওয়াইন পানে মেয়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

    সাদা পাউরুটি
    ১৯৫০: সাদা পাউরুটি ভিটামিন ও মিনারেল সম্মৃদ্ধ। এতে ক্যালসিয়ামও বেশি পাওয়া যায়। ফলে বিশ্ব জুড়েই সাদা পাউরুটি একটি জনপ্রিয় ও নিয়মিত খাবার।

    ২০০৭: ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানালেন সাদা পাউরুটি খেলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

    ২০১২: হার্ভার্ডের গবেষকরা বললেন, নিয়মিত পাউরুটি খেলে তা শরীরে দুই ধরনের ডায়াবেটিস বাড়িয়ে দেয়।

    রেড মিট
    ২০০৬: বয়োবৃদ্ধদের জন্য রেডমিট ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ওই বছরই আরেক গবেষণায় বলা হয়েছে এতে কোলোন ক্যান্সারও হতে পারে।

    ২০১০: যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে রেড মিট খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

    ২০১১: আধুনিক ফার্মিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদিত রেড মিটে চর্বির পরিমান কম থাকে। এতে আয়রন বেশি পাওয়া যায়, দাবি ব্রিটিশ নিউট্রিশন ফাউন্ডেশনের।

    বাদাম
    ১৯৯৯: বাদাম উচ্চমাত্রার চর্বির জন্য হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়, আইওয়া উইমেন হেলথ স্টাডির গবেষণা থেকে জানা যায় সেকথা।

    ২০১১: আগে যতটা ভাবা হতো তার চেয়ে অন্তত ২০ ভাগ কম ক্যালোরি রয়েছে বাদামে, এ কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা।

    ২০১২: যুক্তরাষ্ট্রের বোফিনদের মতে দিনে এক প্যাকেট ওয়াল নাট খেলে তা পুরুষের বির্যের গুনগত মান বাড়ায় নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভধারনের শক্তি বাড়িয়ে দেয়।

    আঙ্গুর
    ২০০৮: গোটা ইউরোপ জুড়ে সুপারমার্কেটগুলো থেকে আঙ্গুরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে দেখা গেলো তাকে বিপজ্জনক মাত্রায় কিটনাশক রয়েছে।

    ২০১১: ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের একটি গবেষণায় দেখা গেলো, আঙ্গুর যকৃতকে রোগ-বালাই থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করে।

    ২০১২: আঙ্গুরে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন এ ও সি ও বি-৬ রয়েছে। আরো আছে খনিজ যা খেলে চেহারায় কমনীয়তা নিয়ে আসে, দাবি ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞের।

    কফি
    ১৯৮০: আমেরিকান একটি গবেষণার পর বিশ্বব্যাপী জানিয়ে দেওয়া হলো কফি প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

    ২০০৭: অন্তত ৬৬টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল থেকে নিশ্চিত হওয়া গেলো কফি ক্যান্সারের কারণ নয়।

    ২০১২: কফি ইজ গুড ফর ইউ নামের একটি বই দাবি করা হলো কফি ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধে কাজ করে।

    আলু
    ২০০২: নিউ আটকিনস ডায়েটের বক্তব্য, খাদ্য তালিকা থেকে আলু বাদ দিতে পারলে ওজন কমবে।

    ২০০৯: আলুতে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন বি-৬ রয়েছে। যা কাজের চাপে থাকলে শরিরের জন্য সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে, দাবি ইউরোপীয় গবেষকদের।

    ২০১১: মাইক্রোওয়েভে ভেজে নেওয়া দুই টুকরো আলু নিয়মিত খেতে পারলে রক্তচাপ কমবে। এ দাবি যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের।

    খাদ্যে বিষক্রিয়া ঠেকাবে রসুন

    হৃদরোগ ও অন্ত্রের ক্যানসার প্রতিরোধে রসুনের খাদ্যগুণের কথা বহুল প্রচারিত।কিন্তু ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির এক দল গবেষকের এ বার দাবি, শুধু রোগ প্রতিরোধই নয় বরং খাদ্যে বিষক্রিয়া রোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে রসুন।

    সম্প্রতি ‘জার্নাল অফ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল কেমোথেরাপি’তে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে তারা দেখিয়েছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার জন্য মূলত দায়ি যে ব্যাক্টেরিয়া, সেই ‘ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার’কে কত দ্রুততায় নষ্ট করে দিতে পারে রসুনের ‘ডাই-অ্যালাইল সালফাইড’।

    এক সাক্ষাৎকারে গবেষকদলের পক্ষে জিয়াওনান লু জানিয়েছেন, ‘ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার’ খাদ্যের উপরে পিচ্ছিল আস্তরণ (বায়োফিল্ম) তৈরি করে খাদ্যে বিষক্রিয়া প্রতিরোধী উপাদানগুলিকে খাদ্যে মিশতে দেয় না।সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে ওই আস্তরণ ভাঙ্গা হয়।দেখা গিয়েছে, ‘ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার’-এর আস্তরণ তৈরি হয়ে যাওয়ার পর তা সাধারণের তুলনায় এক হাজার গুণ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে যায়।

    গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ‘ডাই-অ্যালাইল সালফাইড’ এই ব্যাপারে বহুল ব্যবহৃত দুটি অ্যান্টিবায়োটিক, ‘এরিথ্রোমাইসিন’ ও ‘সিপ্রোফ্লক্সাসিন’-এর থেকে শত গুণ বেশি কার্যকর।‘এরিথ্রোমাইসিন’ ও ‘সিপ্রোফ্লক্সাসিন’ যেখানে ‘ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার’-এর আস্তরণ ২৪ ঘণ্টায় ভাঙ্গতে পারে, সেখানে ‘ডাই-অ্যালাইল সালফাইড’ এর লাগে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা।

    সাধারণত, ডিম ও দুগ্ধজাত খাবার ঠিক মতো ফোটানো না হলে তাতে ‘ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার’-এর সংক্রমণ ঘটে।একই ভাবে, নোংরা পাত্রে রাখা খাবারে থাবা বসায় ওই ব্যাকটেরিয়া।

    লু’র দাবি, ‘ডাই-অ্যালাইল সালফাইড’ এর ঠিকমতো ব্যবহার করা গেলে এই সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো সম্ভব হবে।তবে শুধু ‘ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার’ই নয়, ‘ডাই-অ্যালাইল সালফাইড’ যে ‘ইশ্চেরিশিয়া কোলি’র মতো ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণও রুখতে যথেষ্ট সক্ষম, তা-ও গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।সূত্র: আ.বা

    ব্রেস্ট ফিডিং সৌন্দর্য নষ্ট হয় না, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

    দেশে প্রায় ছয় লাখ নারী ক্যান্সার রোগীর মধ্যে ২৭ থেকে ২৮ শতাংশই ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত। আর যে ক’টি কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়, তার অন্যতম একটি কারণ ব্রেস্ট ফিডিং না করানো, অর্থাৎ শিশুকে বুকের দুধ না দেওয়া।

    শুধু তাই না, মা তার শিশুকে বুকের দুধ না পান করানোর কারণে নিজে যেমন স্তন (ব্রেস্ট) ক্যান্সারের ঝুঁকি নিচ্ছেন, তেমনি রোগ প্রতিরোধসহ নানা ধরণের জটিল রোগ সংক্রমণের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন তার প্রিয় সন্তানকেও।

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক মা ভুল ধারণা থেকে শিশুকে বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত করেন। এতে মা নিজেও ঝুঁকিতে পড়েন এবং শিশুটিকেও ক্ষতির দিকে ঠেলে দেন।

    মহাখালী জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার বাংলানিউজকে বলেন, “শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে মেয়েদের বক্ষ সৌন্দর্য নষ্ট হয় না; বরং না খাওয়ালে বেস্ট্র ক্যান্সার ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি।”

    আধুনিকতার নামে অনেক মা তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান না। এ প্রসঙ্গে হাবিবুল্লাহ বলেন, “অতি ফ্যাশন সচেতনতা, অসচেনতা স্বাস্থ্যগত প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বক্ষ সৌন্দর্য। বংশগতি ও হরমোনের প্রভাবে বক্ষ সৌন্দর্যে ভিন্নতা আসতে পারে, নষ্টও হতে পারে। কিন্তু শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে বক্ষ সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে, এটি ভুল ধারণা।”

    দেশে ব্রস্ট ক্যান্সার পরিস্থিতি
    হাবিবুল্লাহ আরো বলেন, “সরকারি হিসাবে দেশে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ হলেও প্রকৃত সংখ্যা ১২ থেকে ১৪ লাখ। দেশের ক্যান্সার রোগীর প্রায় অর্ধেকই নারী। যার সংখ্যা ছয় লাখের বেশি। এর মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সারের রোগী দেড় লাখের মতো।”

    যে কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার
    ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারণ প্রসঙ্গে হাবিবুল্লাহ জানান, বংশগত দিক থেকে অর্থাৎ মাতৃকূলে ব্রেস্ট ক্যান্সার থাকলে যে কোনো নারীর ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ানো ব্রেস্ট ক্যন্সারের অন্যতম একটি কারণ।

    বিয়ে হয়নি অথবা বাচ্চা হয় না, অতিরিক্ত প্রাণীজ আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা, কায়িক পরিশ্রম না করা, দেরিতে বিয়ে করা, দেরিতে বাচ্চা নেওয়া, অল্প বয়সে মাসিক শুরু হওয়া এবং মাসিক বন্ধের পর প্রদাহ কমাতে হরমোন থেরাপি নেওয়ার কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়।

    জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ক্ষেত্রে অধিক পিল খাওয়ার কারণে জরায়ুতে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকলেও ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার কারণ হিসেবে তেমনটি বলা যায় না।

    শালদুধ ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
    শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হাবিবুল্লাহ আরো বলেন, “মায়ের দুধে ‘হ্যামলেট’ নামের একটি উপাদান থাকে, যা টিউমার কোষ ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এছাড়া মানুষের ত্বকের এবং মূত্রথলির ক্যান্সার সারাতে সক্ষম শালদুধ। এ কারণে শিশুকে শালদুধসহ বুকের দুধ খাওয়তো হবে। শালদুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে যে ভূমিকা রাখতে পারে, তার কোনো বিকল্প হয় না।”

    ‘৬ মাস পর্যন্ত শিশুকে ঠিকমত বুকের দুধ খাওয়ালে ওই শিশুর জন্য এক ফোঁটা পানি খাওয়ানোরও প্রয়োজন নেই’ বলে উল্লেখ করেন হাবিবুল্লাহ। তিনি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়নোর পরামর্শ দিয়েছেন।

    মায়ের দুধে শিশু মৃত্য হার কমায়
    বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. এস কে রায় তার একটি গবেষণামূলক লেখায় উল্লেখ করেছেন, ‘জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে শালদুধসহ মায়ের দুধ খাওয়ালে নবজাতকের মৃত্যু হার ৩১ শতাংশ কমে যায়।’ ৬ মাস বয়সের পর মায়ের দুধ খাওয়ালে শিশুর মৃত্যু ঝুঁকি কমে আরো ১৩ শতাংশ।’

    শিশুর বুদ্ধি বিকাশে মায়ের দুধ
    বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সদস্য ডা. নাজনীন আক্তার বানু তার গবেষণামূলক একটি লেখায় উল্লেখ করেছেন, মায়ের দুধ খাওয়ানো শিশুর বুদ্ধিমত্তা (আইকিউ) না খাওয়ানো শিশুর চেয়ে ৩ দশমিক ১৬ মাত্রায় বেশি। আর অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে এ মাত্রা ৫ দশমিক ১৮ পর্যন্ত হয়ে থাকে। মায়ের দুধে ডকোসাহেক্সনয়িক এসিড (ডিএইচএ) এবং ল্যাকটোজ-ই শিশুর মস্তিস্ক বিকাশে সহায়তা করে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতো কিছুর পরেও অধুনিকতার নামে অজ্ঞতার কারণে কোনো মা যদি বুকের দুধ না খাওয়ান, তাহলে নিজেরা ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন এবং শিশুদেরও মারাত্মক ক্ষতি করবেন। এ বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।