• ?????: আমার স্বাস্থ্য

    ফুসফুসের যত্ন

    ফুসফুসের সাহায্যে আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি, আর কার্বন ডাই-অক্সাইড শরীর থেকে বের করে দিই। ফুসফুসে রয়েছে ডালপালার মতো অসংখ্য ছোট নালি। এই নালিগুলো নাকের ভেতর দিয়ে ফুসফুসে ঢুকে যাওয়া বাতাস হৃৎপিণ্ডে পৌঁছে দেয়। তাই ফুসফুস সুস্থ রাখতে যত্ন নিতে হবে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয় ১২-১৮ বার। আর একজন শিশুর প্রয়োজন হয় ২০-৩০ বার। তবে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার পরিমাণ বাড়তে বা কমতে পারে। প্রশ্বাসের সময় বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকর গ্যাস আমাদের দেহের ভেতরে যেতে পারে, যা শরীরের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই দূষিত পরিবেশ যত পরিহার করা যায়, ততই ভালো।

    পুরুষের ফুসফুসের ওজন নারীর ফুসফুসের তুলনায় বেশি হয়। আমাদের শরীরে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের অবস্থান পাশাপাশি। আর এগুলোর কার্যক্রমও পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। তাই হৃৎপিণ্ডকে ভালো রাখার জন্য ফুসফুসেরও সুষ্ঠুভাবে কাজ করাটা ভীষণ জরুরি।

    ফুসফুসের কাজ

    ১. পুরো দেহে বায়ু পাঠায়। অর্থাৎ পুরো শরীরে অক্সিজেন পৌঁছায়।

    ২. ফুসফুস মস্তিষ্কে অক্সিজেন পাঠাতে পরোক্ষ ভূমিকা রাখে।

    ফুসফুস ভালো রাখার জন্য করণীয়

    ১. শুধু ফুসফুস নয়, পুরো দেহের জন্য যেকোনো মাদকদ্রব্য ও ধূমপান ভীষণ ক্ষতিকর। তাই সব বয়সের মানুষের জন্য ধূমপান ও মাদক বর্জনীয়। ধূমপায়ীদের ফুসফুসে ‘নিকোটিন’ (সিগারেটের ক্ষতিকর উপাদান) নামের ক্ষতিকর একটি উপাদান জমে যায়। বছরের পর বছর এ উপাদান জমে ফুসফুসে। ফলে ফুসফুস বিশুদ্ধ বাতাস দেহে পাঠাতে পারে না। ধূমপায়ী ও মাদকসেবীদের ফুসফুসের অসুখ হয় খুব বেশি। তাই পরিহার করুন মাদক ও ধূমপান।

    ২. যেখানে ও যখন সম্ভব হয়, গাছ লাগান, সুযোগ পেলেই বুক ভরে নিঃশ্বাস নিন। সবুজ গাছপালার বাতাসে থাকলে দূষণমুক্ত অক্সিজেন পাওয়া সম্ভব। ফুলের টবে গাছ লাগালেও তা উপকার দেবে।

    ৩. বাসা কলকারখানা, ইটভাটা, ট্যানারি থেকে দূরে হওয়া দরকার। নিয়মিত ঘরবাড়ি পরিষ্কার করুন। বাসার মধ্যে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকাটা ভীষণ জরুরি। এতে রোগ-জীবাণুও দূর হবে।

    ৪. রান্নাঘর, টয়লেট বা গোয়ালঘর থেকে গ্যাস বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    ৫. বাড়িঘর থেকে গুমোট অবস্থা দূর করতে হবে। হাঁপানি ও যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীরা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকবেন না।

    ৬. মাঝে মাঝে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে উঠুন। এতে পুরো দেহে রক্ত সঞ্চালিত হবে, হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে ফুসফুসেরও কার্যক্ষমতা বাড়বে। তবে আগে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেইন স্ট্রোকের ঘটনা ঘটেছে এমন ব্যক্তিরা সিঁড়ি দিয়ে ওঠা থেকে বিরত থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সিঁড়ি দিয়ে উঠবেন না।

    ৭. যক্ষ্মা, হাঁপানি বা ফুসফুসের অন্য কোনো সমস্যা থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন।

    ৮. অবশ্যই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পারিবারিকভাবে ফুসফুসের ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে আগে থেকেই সতর্ক হোন।

    মাখনের চেয়েও বেশি উপকারি ঘি

    হার্টের অসুখের ভয়ে ঘি ছেড়েছেন? ভাবছেন, মোটা হয়ে যাবেন? ঘি খেলে কোলেস্টেরল হওয়ার ভয়কেও দূরে সরিয়ে রাখুন। চিকিৎসকরা বলছেন, ঘি খান নিশ্চিন্তে। মাখনের চেয়েও বেশি উপকারি ঘি। বিভিন্ন রোগ নিরাময়েও ঘি-এর উপকারিতা অসীম। সেই দুধ থেকেই ঘি। দুধ না খেলে যেমন গায়ে লাগে না গত্তি, ঘি-ও তাই। স্বাদ, গন্ধেও অদ্বিতীয়। ঘি-এ ভাতে বাঙালির ষোলোআনা রসনা তৃপ্তি। তবে এই ঘি-প্রীতি আবার হার্টের অসুখ ডেকে আনবে না তো? চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করে বলছেন, কোলেস্টেরল বা হার্টের অসুখের ভয় ঝেড়ে ফেলে নিশ্চিন্তে ঘি খান। ঘি-এর উপকারের বিষয়গুলো এক নজরে দেখে নেওয়া যাক- ১. দুধের চেয়েও ঘি হজমের শক্তি বেশি বাড়িয়ে দেয় বলে দাবি চিকিৎসকদের। ২. জ্বর থেকে সেরে ওঠার পর এনার্জি ফিরে পাওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ঘি। ৩. চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে ঘি খেতে বলছেন চিকিৎসকরা। ৪. সদ্যোজাতদের দুই থেকে পাঁচ ফোঁটা ঘি খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। ৫. কেটে গেলে ঘি লাগালে চটজলদি উপকার। ৬. ফাটা ঠোঁট, ফাটা গোড়ালি এবং নতুন মায়েদের স্তনবৃন্তে সমস্যা হলে ঘি-এর মতো ওষুধ নেই। ৭. ঘি খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে, বাড়ে বুদ্ধিও। ৮. ব্রেকফাস্টের তিরিশ মিনিট আগে নাকে দুফোঁটা ঘি দিলে চুল ওঠার সমস্যা, মাথা যন্ত্রণা, কানে শোনার সমস্যা, মাইগ্রেনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ৯. বমির প্রবণতা কমিয়ে দেয় ঘি। তবে ঘি ব্যবহারের নিয়ম জানতে হবে। যেমন খুশি ঘি খেলে আবার বিপদ। চিকিৎসকরা বলছেন, ব্রেকফাস্টে শক্ত কোনো খাবারের সঙ্গে আধ চামচ ঘি, তারপর নরম খাবার এবং শেষে দই খেতে হবে। ঘি খাওয়ার পর খেতে হবে কোনো গরম পানীয়। অর্থাৎ সকালের চা বা কফির আগে পাউরুটিতে ঘি মাখিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

    পুরুষের ৬টি খাবারের প্রতি নারীর বিশেষ নজর দেয়া উচিৎ

    অনেকেই হয় তো ভাববেন ভালো খাবর তো সবার জন্যই ভালো। এতে এবার নারী, পুরুষ ভাগ কেন। কিন্তু নারী পুরুষ সমান সমান যারা ভাবেন তাদের একটা পার্থক্য মানতেই হবে। নারী ও পুরুষের শারীরিক গঠন আলাদ। আর তাই পুরুষদের এমন কিছু শারীরিক সমস্যা আছে যেগুলোর জন্য আগে থেকে সতর্ক থাকা উচিত। বিভিন্ন গবেষণায় তাই পুরুষদের জন্য কিছু অবশ্য গ্রহণীয় খাবারের কথা বলা হয়। ১) টমেটোতে আছে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান লাইসোপিন। এটা কোলেস্টরেলের সমস্যা, প্রস্টেট ক্যান্সার, হৃদরোগের সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে। ২) স্যামন এবং এ-জাতীয় মাছ যাতে ‘ওমেগা-৩’ফ্যাটি অ্যাসিড আছে। এটা হৃদরোগ, কোলেস্টরেলের সমস্যা, প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ও বিষন্নতা কমাতে সাহায্য করে। ৩) ডিম খুব উপকারী খাবার। ডিমের কুসুম আয়রনের বড় উৎস। এছাড়া, চুলের বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন আছে ডিমে। সেজন্য আপনার খাদ্যতালিকায় ডিম আছে কিনা, সেটা নিশ্চিত করুন। ৪) দানাদার শস্যে উচ্চমাত্রার ভিটামিন, খনিজ উপাদান এবং আঁশ আছে। ওটস, ব্রাউন রাইস ইত্যাদি যেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-বি রয়েছে সেগুলো খাওয়া দরকার। এই ভিটামিন-বি বিষন্নতা কমাতেও সাহায্য করে। ৫) হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষায় এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে রসুনের উপকারের কথা সবাই জানেন। শুধু তাই নয়, কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে রাখতেও সাহায্য করে রসুন। গবেষকেরা বলছেন, যে পুরুষেরা নিয়মিত রসুন খান তাদের শরীরে কোলেস্টরলের মাত্রা কম থাকে। ৬) বাঁধাকপি ও ফুলকপিতে ক্যান্সার প্রতিরোধী রাসায়নিক ‘সালফোরাফেন’ আছে। এটি পুরুষের মূত্রাশয়ের ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার ও কোলেস্টরেল ক্যান্সার হওয়া রোধ করতে সহায়তা করে থাকে।

    ডিম খান জেনে বুঝে!

    একটা বয়সের পর ডিম খাওয়া ভাল না খারাপ? এ এক চিরন্তন বিতর্ক। যারা চল্লিশের কোঠায় পা রেখেছেন, তাদের অনেকেই এখন রোজ ডিম খেতে গেলে অন্তত দুইবার ভাবেন।

    বয়স্কদের ক্ষেত্রে তো কথাই নেই। ডিমের দিকে তাকানোও যেন অপরাধ! সাম্প্রতিক গবেষণা কিন্তু বলছে অন্য কথা। বয়স্কদের জন্য ডিমকে আর বিপদ হিসেবে দেখতে রাজি নন ডাক্তাররা।

    সাধারণত বয়স বাড়তে থাকলে খাদ্য তালিকা থেকে ডিমকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় ভিন্ন তথ্য মিলেছে।

    ৬১ বছর বয়স। এমন ১২শ জনকে নিয়ে সমীক্ষা করেছিলেন কানাডার কয়েকজন গবেষক। তাতে দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে দুটি করে ডিম খান, তাদের শরীরে ক্যারোটিড প্লেক তৈরি হওয়ার প্রবণতা বেশি। ক্যারোটিড প্লেক মোমের মতন এক ধরনের পদার্থ যা ধমনীতে বসে গিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।

    কানাডার আরেক গবেষক, ব্রিটিশ ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হেলেন বন্ড বলছেন অন্য কথা। তিরিশ বছরের গবেষণায় তার দাবি, কোলেস্টরেলের মাত্রার ওপর ডিমের কোনও প্রভাব সে অর্থে নেই। বয়স হলেও ডিম খাওয়া চালিয়ে যেতে পারেন।

    আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন এবং ইউনিভার্সিটি অফ আলবার্টার গবেষকরা বলছেন, একটি বড় ডিমে ৭০ ক্যালোরি থাকে। ডিমের হাই কোয়ালিটি প্রোটিন ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। বয়সজনিত কারণে অনেক সময় মাংসপেশি শিথিল হয়ে যায়, ডিমের কুসুমে যে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকে তা মাংসপেশিকে সুস্থ রাখে, ছানি প্রতিরোধ করে।

    তাদের মতে, ডিমের অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট হার্টের অসুখ, স্ট্রোক, ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। সেল ড্যামেজ প্রতিরোধ করে।

    ডিমের এত গুণ বিচার করে গবেষকরা বলছেন, বয়স হলেই এমন খাদ্যটিকে ছেড়ে দেবেন না। ডিম খেতে হবে। তবে পরিমাণ মতো। সূত্র: জিনিউজ

    জলপাই পাতার রসের অসাধারণ স্বাস্থ্য উপকারিতা

    জলপাই তার নানাবিধ স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য সুপরিচিত এবং এটি রান্নায় ও সৌন্দর্য কাজে ব্যবহার করা হয় ব্যাপক ভাবে। কিন্তু জলপাই পাতা উপেক্ষিতই থেকে গেছে। প্রাচীন মিশরে ঔষধ হিসেবে প্রথম ব্যবহার করা হয় জলপাই পাতা এবং জলপাই পাতা ছিল স্বর্গীয় শক্তির প্রতীক। ১৮০০ শতকের গোড়ার দিকে জলপাই পাতার রস জ্বর কমাতে ব্যবহার করা হত। ১৮০০ শতকের মধ্যভাগে ম্যালেরিয়া নিরাময়ে চায়ের সঙ্গে ব্যবহার করা হত এই রস। ১৯০০ শতকের প্রথম দিকে এর অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদানের জন্য মনোযোগ আকর্ষণ করে। বিভিন্ন গবেষণায় জলপাই পাতার ঔষধি গুনাগুণ প্রমাণিত হয়েছে। জলপাই পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিইনফ্লামেটরি, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। এই চারটি কারণে জলপাই পাতার রস আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর, তরুণ ও সুন্দর করে। জলপাই পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো হচ্ছে : ১। সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে যদি আপনাকে দীর্ঘক্ষণ সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে থাকতে হয় তাহলে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে আপনার ত্বক স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং ত্বকের পুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার নির্যাসে ওলিউরোপেইন নামক উপাদান থাকে। এটি ত্বকের পুরো হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং মেলানিনের উৎপাদনকে ধীরগতির করে। ২। ক্যান্সাররোধক হিসেবে কাজ করে গবেষণায় দেখা গেছে যে জলপাই পাতার রস ক্যান্সার কোষের প্রজননকে ধীর গতির করার মাধ্যমে ত্বকের টিউমারের বৃদ্ধি কমতে সাহায্য করে। অন্য একটি গবেষণায় দাবী করা হয়েছে যে জলপাই পাতার রস ব্রেস্ট ক্যান্সার কোষের কার্যকারিতা কমাতে পারে। ৩। অ্যান্টি এজিং উপাদান আছে যেহেতু জলপাই পাতার রস ত্বক পুরো হয়ে যাওয়া ও ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট হওয়া রোধ করতে পারে সেহেতু ত্বকের অকালবার্ধক্য প্রতিরোধে ও বলিরেখা দূর করতেও অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে জলপাই পাতার রস। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ৪। ক্ষত ভালো করে ২০১১ সালে মেডিসিনাল প্ল্যান্ট নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায় যে জলপাই পাতার নির্যাস সাধারণ অয়েন্টমেন্টের চেয়ে দ্রুত ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। কারণ এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ছোট কোন কাটা ছেঁড়া ও ফুসকুড়ির মধ্যে জলপাই পাতার নির্যাস দিলে দ্রুত ভালো হয়ে যায়। ৫। চুলের জন্য উপকারি জলপাই এর রসের মতোই জলপাই পাতার রস ও চুলকে মসৃণ এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এই রস চুলের গোড়ার ফলিকলের মধ্যে প্রবেশ করে চুলকে আর্দ্র রাখতে ও দীপ্তিময় করতে সাহায্য করে। ৬। রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে বলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলপাই পাতার রস ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি শুধু কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমকেই স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে না বরং সাধারণ ঠান্ডা ও জ্বরের উপসর্গ কমতেও সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে বয়স জনিত রোগ যেমন- ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার্স এর উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে জলপাই পাতার নির্যাস। আরথ্রাইটিসের প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে কাজ করে জলপাই পাতার রস। এছাড়াও জলপাই পাতার নির্যাস রক্তচাপ কমায় ও খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। জলপাই পাতা সংগ্রহ করে ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে ১৫০ বা তার নীচের তাপে বেক করে নিন। তারপর এগুলোকে গুঁড়া করে ছেঁকে রাখুন। এক কাপ গরম পানিতে ১ টেবিলচামচ শুকনা জলপাই পাতার রস মিশিয়ে ১০ মিনিট জ্বাল দিন। উপকারিতা লাভের জন্য প্রতিদিন এক কাপ জলপাই পাতার রসের চা পান করুন। স্বাদ যদি তিক্ত মনে হয় তাহলে এর সাথে মধু বা লেবু মিশাতে পারেন। সতর্কতা সাধারণত জলপাই পাতার রস নিরাপদ এবং কোন মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। তবে যারা গর্ভবতী ও ব্রেস্ট ফিডিং করান তারা জলপাই পাতার রস গ্রহণ করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন। এছাড়া ডায়াবেটিক ও ব্লাড প্রেশারের রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জলপাই পাতার রস গ্রহণ না করাই ভালো।

    কোন রঙের ফলে কী উপকারিতা

    আমরা প্রতিদিন যে ফল বা সবজি খাই তা ভিন্ন ভিন্ন রঙের হয়। এর কারণ কি জানেন? কারণ হচ্ছে, ফল ও সবজিতে ভিটামিন এবং খনিজ থাকে। শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পেতে তাই বিভিন্ন রঙের খাবার বেছে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। সবুজ থাকুন সবুজ পাতায়: সবুজ সবজি ভিটামিন এ, সি, ই, কে ও কয়েক ধরনের ভিটামিন বি-এর উৎস। এছাড়াও এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, লৌহ ও পটাশিয়াম থাকে। পালং, বিভিন্ন সবুজ শাক, পাতাকপি, মটরশুঁটির মতো খাবার প্রতিদিন খাওয়া উচিত। কারণ এগুলো অন্যান্য খাবারের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। সবুজ পাতাযুক্ত সবজিতে লুটেন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা চোখের জন্য ভালো। রোগ ও ক্যানসার প্রতিরোধে সবুজ শাকসবজির বিকল্প নেই। হৃদরোগের ঝুঁকি কমে কমলা-হলুদে: বিটা ক্যারোটিন নামের ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি পাওয়া যায় মিষ্টি আলু, গাজর, মিষ্টি কুমড়ায়। যা ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ঠাণ্ডার সমস্যা দূর এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে হলুদ রঙের ফল ও সবজি। ফলের মধ্যে কমলা, আম, পেঁপে, আনারস ও আঙুরে থাকা বায়োফ্লেভোনয়েড ভিটামিন সি-র সঙ্গে যোগ হয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে এবং হাড়-দাঁত শক্ত করে। এছাড়া দ্রুত জখম সারায় ও ত্বক সুন্দর করে। ক্যানসারের ঝুঁকি কমে লাল-গোলাপিতে: লাইকোপেন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় লাল ও গোলাপি রঙের ফল ও সবজিতে। লাইকোপেনের নানা স্বাস্থ্যকর উপকারিতা রয়েছে। এছাড়াও লাল ও গোলাপি রঙের ফল ও সবজিতে অ্যান্থোসায়ানিন নামের আরও একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। টমেটো, তরমুজ, চেরি, পেয়ারা, স্ট্রবেরি, আঙুর, আপেল, লাল বাঁধাকপি, শিম এসবে থাকে লাইকোপেন ও অ্যান্থোসায়ানিন। তরুণ থাকুন নীল-বেগুনিতে: রোগ প্রতিরোধে সক্ষম ফাইটোকেমিক্যাল অ্যান্থোসায়ানিন ও ফিনোলিকস থাকে নীল ও বেগুনি রঙের ফল ও সবজিতে। ক্যানসার, হৃদরোগ, আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় বেরি ও কিশমিশের মত বিভিন্ন নীল ও বেগুনি রঙের ফল ও সবজি। বিষমুক্তি হবে সাদায়: পেঁয়াজ, রসুনে অ্যালিসিন নামের শক্তিশালী ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা ক্যানসার ও হৃদরোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। আর এটি সাদা রঙের ফল বা সবজিতে পাওয়া সম্ভব। রসুনে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াবিরোধী ক্ষমতা আছে সাদা সবজি কিংবা ফলে।

    ত্বকের জন্য পলিশ

    দামি সৌন্দর্য বর্ধক কসমেটিক্সে কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে যেগুলো ত্বককে সুন্দর করে। রাসায়নিক উপাদান বলতে কিছু মৌল আর যৌগ। এগুলো অন্য প্রাকৃতিক উপাদানেও থাকে। বিশেষ করে বাসায় থাকা খাদ্য উপাদানগুলো সৌন্দর্য চর্চায় যেমন কার্যকর তেমনি সহজলভ্য ও নিরাপদও। ঘরে থাকা এইসব জিনিস দিয়ে কীভাবে ত্বক চকচকে করে ফেলা যায় তাই জানিয়েছে একটি রূপচর্চাবিষয়ক ওয়েবসাইট। গোলাপের পাপড়ি, মধু এবং ওটস: ত্বককে সর্বোচ্চ আর্দ্র করতে গোলাপের পাপড়ি, পাতলা মধু, এবং ওটস দিয়ে একটা পেস্ট বানাতে হবে। গোলাপের পাপড়ি ত্বককে উজ্জ্বল করে, মধু ত্বকে পুষ্টি জোয়ায় এবং ওটস মরা কোষ অপসারণে কাজ করে। এই পেস্টে অল্প কাঁচাদুধ দেওয়া যেতে পারে। এতে পেস্টটা পাতলা হবে। সপ্তাহে অন্তত দুদিন এই পেস্ট স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক নরম এবং উজ্জ্বল হয়। গুঁড়াদুধ ও দারুচিনি: ত্বকচর্চায় দারুচিনির গুণের কথা এখনও প্রায় অজানাই রয়ে গিয়েছে। দারুচিনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটা ত্বকের বলিরেখা এবং বয়সের ছাপ থেকে রক্ষা করে। গুঁড়াদুধ ত্বকের ধুলাময়লা দূর করে ত্বককে চকচকে রাখে। এর মধ্যে সামান্য গোলাপ জল দেওয়া হলে মিশ্রণটি মেশাতে সুবিধা হবে আর একটা সুন্দর গন্ধও আসবে। সামুদ্রিক লবণ ও ডিমের সাদা অংশ: শুনতে যতই অবাক লাগুক ডিমের সাদা অংশ একটা প্রাকৃতিক ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান। এর সঙ্গে এটি ত্বকের লোমকূপে থাকা ময়লাও দূর করে। ত্বক থেকে ব্রণের দাগ দূর করতেও এর জুড়ি নেই। সামুদ্রিক লবণ মৃত কোষ অপসারণে ভূমিকা রাখে এবং ত্বক টানটানও করে। তবে এই রূপটান লাগানোর পরে একটা মশ্চারাইজার যুক্ত সাবান দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে।

    কফিতেই নির্মূল কোলন ক্যানসার

    রোজ সকালে ধোঁয়া ওঠা কফি কাপে ঠোঁট না ছোঁয়ালে ঘুম ঘুমভাবটা ঠিক কাটে না। ওদিকে, অফিসে কাজের চাপ থেকে একটু স্বস্তি পেতেও আপনার ভরসা সেই কফি। তাহলে বলি, অভ্যেসটা ধরে রাখুন।

    দিনে অন্তত ৪ কাপ কফি মুখে তুলুন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাতে নাকি কমবে কোলন ক্যানসারের আশঙ্কা।

    বস্টনের ডানা-ফারবার ক্যানসার ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি হাজার জন কোলন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর উপর একটি সমীক্ষা করেছিলেন।

    সমীক্ষায় দেখা গেছে, কফিতে থাকা ক্যাফেইন কোলন ক্যানসারের থার্ড স্টেজের রোগীদের জন্য সহায়ক। সমীক্ষায় জানা গেছে, নিয়মিত কফি খান যাঁরা, তাঁদের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ কম।

    শুধু তাই নয়, ক্যাফেইন ক্যানসারের কোষের বৃদ্ধি রুখতেও সহায়ক। তবে, শুধু কোলন ক্যানসার নয়, ডায়াবিটিজ় মোকাবিলাতেও কফি গুরুত্বপূর্ণ।

    জিকায় আক্রান্ত হবে এশিয়া-আফ্রিকার ২ কোটি মানুষ

    জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে এশিয়া এবং আফ্রিকায় ২ কোটির বেশি মানুষ। বিভিন্ন দেশের কয়েক কোটি মানুষ জিকার ঝুঁকিতে রয়েছে। ল্যানচেট ইনফেকসিয়াস ডিজিজেস পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। খবর বিবিসির। গবেষকরা বলছেন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং নাইজেরিয়া জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। আকাশপথে যাতায়াতকারীদের তথ্য ব্যবহার করে এই গবেষণা তথ্য জানিয়েছেন তারা। লন্ডনের স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব টরোন্টোর গবেষকদের নিয়ে গঠিত একটি দল বলছে, বিপুল সংখ্যক মানুষ এমন পরিবেশে বসবাস করছেন যেখানে জিকা ভাইরাস প্রতিরোধ, সনাক্ত এবং চিকিৎসা করা বেশ কঠিন। আফ্রিকা ও এশিয়ার ভ্রমণকারীরা দক্ষিণ আমেরিকার জিকা আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ভ্রমণের কারণেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। জিকা ভাইরাস বহনকারী মশার মাধ্যমে মানবদেহে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া জিকার প্রাদুর্ভাব হওয়া বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়াও জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ অনুকূল। ফলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েই গেছে। সীমিত স্বাস্থ্য সেবার কারণে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। – See more at: http://www.deshebideshe.com/news/details/83024#sthash.HWj4i4SC.dpuf

    আবিস্কৃত হলো ক্যান্সার ভ্যাকসিন!

    প্রাণঘাতী ক্যান্সারকে আস্তে আস্তে বাগে আনছে মানুষ। ক্যান্সারের অনেকগুলো পর্যায় এখন ৮০-৮৫ ভাগ নিরাময়যোগ্য। তারই ধারাবাহিকতায় এবার আবিস্কৃত হলো ক্যান্সার ভ্যাকসিন। অনেক বছর ধরে বিজ্ঞানীরা ক্যান্সারের কেমোথেরাপির বিকল্প ঔষধ আবিস্কার করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে এই টিকা এখনও পরীক্ষামূলক অবস্থায় রয়েছে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা ক্যান্সারের এই টিকা আবিস্কার করছেন যা শরীরের যে কোন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ক্যান্সারের জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। ইতিমধ্যে ২০১৫ সালে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত লন্ডনের বেকেনহামের বাসিন্দা কেলি পটার নামে ৩৫ বছরের এক মহিলার শরীরের সর্ব প্রথম এই টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে এবং সেটা পর্যায়ক্রমে ৩০ জনের শরীরে প্রবেশ করা হবে। কেলি যখন জরায়ু ক্যান্সার নিয়ে গাই’(Guy’s) হাসাপাতালে ভর্তি হন তখন সেটা চতুর্থ পর্যায়ে (stage 4) ছিল এবং লিভার ও ফুসফুসের মধ্যে ছরিয়ে পরেছিল। কিন্তু নতুন এই টীকা দেওয়ার পর তার ক্যান্সার স্থিতিশীল পর্যায় রয়েছে এবং লিভার ও ফুসফুসের মধ্যে ছরিয়ে পড়া বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে আমি আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, ‘হিউম্যান টেলোমাড়েজ রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ’ নামের এক ধরণের উৎসেচক বিভাজনের মাধ্যমে কান্সার কোষের ক্রমাগত বংশ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এই উৎসেচকের গঠনমূলক প্রোটিনের সামান্য অংশ এই টিকাতে রাখা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে এই এন্টিজেনটি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরের রক্তে প্রবেশ করালে তা ভাল কোষ গুলোকে অক্ষুণ্ণ রেখে ক্ষতিকর ক্যান্সার কোষগুলোকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। তবে ক্যান্সার নির্মূল করতে এই টীকার পাশাপাশি কম মাত্রার কেমোথেরাপি ঔষধ দেওয়ার কথাও বলছেন এই গবেষনার প্রধান গাই’স এন্ড সেন্ট থমাস বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের (Guy’s and St Thomas’ Biomedical Research Center) জেমস স্পাইসার (James Spicer)। তিনি আরো বলেন যে, শরীরে অনেক শক্ত টিউমার রয়েছে যা এই টীকা দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে তিনি খুব আশাবাদী যে, এটা খুব কার্যকারী হবে এবং সময়ই তা বলে দিবে।