• ?????: আলোচিত সংবাদ

    সু চি নৃশংস বৌদ্ধ-মগ-ঘাতকদের চেয়েও বেশি অপরাধী: বিশ্লেষক

    রোহিঙ্গা সংকট বর্তমান যুগের অতি দীর্ঘ-সময়-ধরে-চলা সংকটগুলোর অন্যতম। বেশ কয়েক দশক ধরে অমীমাংসিত হয়ে আছে এই সংকট। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, লাওস ও থাইল্যান্ড মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের তুলনায় বাংলাদেশই এ সংকটের সাথে বিশেষভাবে ও সবচেয়ে ব্যাপক মাত্রায় জড়িয়ে গেছে।

    সাবেক বার্মা অর্থাৎ মিয়ানমারে রয়েছে ১৫০-এরও বেশি জাতি। এই জাতিগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এখন বিশ্বের সবচেয়ে মজলুম ও নির্যাতিত জাতিতে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই হচ্ছে মুসলমান। তারা মিয়ানমারের জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দেশটির সরকার, সশস্ত্র বাহিনী ও বর্ণবাদী উগ্র বৌদ্ধদের হাতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার।

    জাতীয়, রাষ্ট্রীয়, নাগরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাও সংস্থানের অধিকারসহ সব ধরণের মানবিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, পৃথিবীতে সবচেয়ে অত্যাচারিত, নিপীড়িত, নির্যাতিত, হতভাগ্য ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় হচ্ছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা।

    রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের অন্যতম প্রাচীন জাতি, বহিরাগত নয়

    স্মরণাতীত কাল থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রাখাইন ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিল।রাখাইন অতীতে আরাকান নামে পরিচিত ও মশহুর ছিল। মধ্যযুগে মাগন ঠাকুরের মত বহু রোহিঙ্গা মুসলিম মনীষী,পণ্ডিত ও ব্যক্তিত্ব স্বাধীন আরাকান রাজ্যের বহু গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ সরকারী রাজপদে অধিষ্ঠিত হয়ে সেদেশের জনগণের খেদমত করেছেন। শত শত বছর ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমারে ও বিশেষ করে আরাকান অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দিকপাল কবি আলাওল এই আরাকান রাজ্যেই বাংলা ভাষার চর্চা করে চির-প্রসিদ্ধ হয়েছেন। আরাকান রাজের পৃষ্ঠপোষকতায় আরাকান রাজসভায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চা নিঃসন্দেহে এ অঞ্চলের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় যার স্রষ্টা ও রচয়িতা ছিলেন আরাকানের অধিবাসী মুসলিম রোহিঙ্গা কবি সাহিত্যিকরা। প্রখ্যাত গবেষক ও সাহিত্যিক ডঃ এনামুল হক তাঁর রচিত আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য শীর্ষক গবেষণামূলক প্রবন্ধে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।


    স্বাধীন আরাকান রাজ্যের রাজা বাদশাহরা বাঙ্গালী বা রোহিঙ্গা ছিলেন না। তবে তারা স্বাধীন মুসলিম সুলতানদের শাসিত বাংলার উন্নত সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষায় আকৃষ্ট ও প্রভাবিত হয়েই তাদের রাজ্যের কবি সাহিত্যিকদের বাংলা সাহিত্য চর্চায় উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা দান করতেন। সম্ভবত: এ কারণে এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বাংলার সাথে রোহিঙ্গা ভাষার মিল থাকার সুবাদে রোহিঙ্গাদেরকে বাঙ্গালী ও বহিরাগত অর্থাৎ পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ থেকে আগত ও মিয়ানমারে অবৈধভাবে বসবাসকারী বলে অভিহিত করছে মিয়ানমারের জালিম শাসকগোষ্ঠী ও সামরিক জান্তা। অথচ মিয়ানমারের শাসকচক্র ও সামরিক জান্তার এ দাবীর কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। কারণ রোহিঙ্গারা নিজেদেরকে বাঙ্গালী বলে দাবী করে না বরং তারা নিজেদেরকে স্বতন্ত্র রোহিঙ্গা জাতিসত্তা বলেই অভিহিত করে থাকে।

    সুদূর অতীতকাল তথা বহু শতাব্দি ধরে রোহিঙ্গাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম আরাকান অঞ্চলে বসবাস করে আসছে বিধায় এ কথা বলার ও প্রমাণ করার অবকাশ নেই যে তারা পূর্ব বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) বিশেষকরে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে অথবা এর পরে দলে দলে মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে এসে বসবাস করছে। তবে ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলা বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে অতি অল্প সংখ্যক বাঙ্গালি আরাকান ও মিয়ানমারের অন্যান্য শহর ও অঞ্চলে গিয়ে বসবাস করে থাকতে পারে। আর এ বিষয়টি মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

    রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই হচ্ছে জন্মসূত্রে আরাকানের স্থানীয় ও স্থায়ী অধিবাসী এবং তারা বহিরাগত নয়। ব্রিটিশ শাসনামলে শুধু বাংলা থেকে কেন ভারতবর্ষের অনেক অঞ্চল থেকেও অনেকে চাকুরি বা ব্যবসা-বাণিজ্যোপলক্ষ্যে মিয়ানমারের রাজধানী রেঙ্গুনসহ (ইয়াঙ্গুন) বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে গিয়ে বসবাস করেছে। আর এদেরই কেউ কেউ ভারতীয় উপমহাদেশ ও মিয়ানমার স্বাধীন হওয়ার পরেও মিয়ানমারে থেকে গেছে। তারা মাতৃভূমিতে ফিরে যায়নি বলে তাদেরকেও কি মিয়ানমার সরকার অবৈধ ও বহিরাগত বলে চিহ্নিত করে সেদেশ থেকে বহিষ্কার করে দেবে?

    রোহিঙ্গারা ব্রিটিশ শাসনামলের পরে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মিয়ানমারে অনুপ্রবেশ করেছিল বলে মিয়ানমারের মুসলিম-বিদ্বেষী চক্রগুলো অপবাদ প্রচার করছে। এই মিথ্যা ও অলীক প্রচারণার আলোকে বলা হচ্ছে, ব্রিটিশ শাসনামলে অথবা এর আগে সেখানে আসার সনদ (অভিবাসন সনদ) দেখানোর ভিত্তিতে বৈধ বসবাসকারী বলে বিবেচনা করার শর্তে রোহিঙ্গাদেরকে জাতীয়তা দেয়া হবে।

    কিন্তু এইসব দাবি আর প্রস্তাব পুরোপুরি অবাস্তব। কারণ ব্রিটিশ আমল বা এর আগে কোন দেশেই বিশেষকরে পাক-ভারত উপমহাদেশ এবং অত্র অঞ্চলের দেশগুলোয় এ ধরণের অভিবাসন সনদ প্রদানের রেয়াজ ছিল না এবং এর কোন প্রয়োজনও ছিল না। কারণ ব্রিটিশ শাসনামলে সমগ্র ভারতবর্ষ,শ্রীলংকা,নেপাল ও মিয়ানমার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল বিধায় এক দেশ বলে গণ্য হত। জাতীয়তা প্রদানের ক্ষেত্রে এ ধরণের শর্ত জুড়ে দিলে মিয়ানমারসহ সব দেশের অধিবাসীরা আসলে এ ধরণের কোন সনদই দেখাতে পারবে না। যেমন, বাংলাদেশের নাগরিকরা কি দেখাতে পারবে যে ব্রিটিশ বা প্রাক-ব্রিটিশ আমলে তাদের পূর্বপুরুষদেরকে জন্মসূত্রে স্থানীয় অধিবাসী অথবা বৈধ বহিরাগত হওয়ার সনদ প্রদান করা হয়েছে? তৃতীয় বিশ্ব কেন উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর অধিকাংশ নাগরিকও কয়েক পুরুষ আগে প্রাপ্ত এ ধরণের কোনো সনদ দেখাতে পারবে না।


    অং সান সু চি ও মিয়ানমারের সেনাপ্রধান
    মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠী ও ক্ষমতাধর সামরিক জান্তার এ ধরণের অযৌক্তিক শর্ত মানা হলে বহু দেশেই ভয়াবহ জাতি-গোষ্ঠীগত দাঙ্গা, খুন-খারাবী,গণহত্যা ও গৃহযুদ্ধ বেধে যাবে এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যকার সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে প্রতিটি দেশের জাতীয় ঐক্য ও সংহতি হবে হুমকির সম্মুখীন। আর তখন সর্বত্র দেখা দেবে চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা।

    মিয়ানমারের এ জংলী আইন কার্যকর হলে ইন্দোনেশিয়ার জাভা এবং সুমাত্রার বালি অঞ্চলে,মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে বহু শতাব্দী ধরে বসবাস করে-আসা চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোকেরা সংকটের শিকার হবে। কারণ, এসব দেশের সরকার ও সেনাবাহিনী এই জঙ্গলি আইনের বলে কয়েক পুরুষ আগের অভিবাসন সনদ না থাকার কারণে চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোকদের নাগরিকত্ব বাতিল করে বলপূর্বক তাদেরকে চীন ও ভারতে ঠেলে পাঠাবে! কিন্তু আধুনিক সভ্য জগতে কি এ ধরনের জঙ্গলি আইন বা যুক্তি ও বিবেক-বিরোধী আইনের কোনো স্থান হতে পারে?

    আর ব্রিটিশ শাসনাবসানের পর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে দলে দলে বাঙ্গালীদের আরাকান তথা মিয়ানমারে আসার প্রশ্নই উঠে না। কারণ তখন মিয়ানমার স্বাধীন স্বতন্ত্র দেশে পরিণত এবং পূর্ব বাংলাও পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। বরং ভারতবর্ষ বিভাগের পর প্রধানত: ভারতের পশ্চিম বাংলা,বিহার থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলমান অধিবাসী বাংলাদেশে চলে আসে এবং বাংলাদেশ তথা পূর্ব বাংলা অর্থাৎ তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিন্দু অধিবাসী ভারতে চলে যায়। কই তখন তো মিয়ানমারের সঙ্গে এ ধরণের অধিবাসী আদান-প্রদান ও স্থানান্তর তদানীন্তন পূর্ব বাংলা অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে হয়নি। আর এর পর থেকে পাকিস্তান আমলে এবং এমনকি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার সময় বা এর পরেও এদেশ থেকে বাঙ্গালি কিংবা চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি সম্প্রদায়ের লোকেরা মিয়ানমারে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সেদেশে বসবাস করেনি বা করছেও না।

    আর প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে হানাদার দখলদার পাক বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা থেকে জীবন রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ থেকে এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল অথচ ঐ সময় শরণার্থী হিসেবে মিয়ানমারে বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশের কোন নজির নেই। বরং ১৯৭০ এর দশক থেকে এ (২০১৭ সাল)পর্যন্ত মিয়ানমারের স্বৈরাচারী সামরিক জান্তা ও সরকারই সেদেশের আরাকান (বর্তমান রাখাইন) প্রদেশের অধিবাসী সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অন্যায়ভাবে বাতিল করে ও বাংলাদেশ থেকে সেদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কয়েক লক্ষ রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন সময় বহুবার বলপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে

    মিয়ানমারের স্বৈরাচারী সামরিক জান্তা ও সরকারের উৎপীড়ন,নির্যাতন ও পরিকল্পিত নৃশংস গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের কারণে মিয়ানমারের লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা অধিবাসী বাংলাদেশ ছাড়াও থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব,ভারত,আরব-আমিরাতে চলে গেছে যারা আর কোন দিন হয়তো তাদের জন্মভূমি আরাকানে(রাখাইন প্রদেশ)ফিরতে পারবে না।১৯৭০এর দশক থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বলপূর্বক বের করে দিয়েছে স্বৈরাচারী জালেম মিয়ানমার সরকার ও সামরিক জান্তা।এই দেড় মিলিয়ন মিয়ানমারি রোহিঙ্গার অর্ধেকাংশ (প্রায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার)বাংলাদেশে বসবাস করছে (দ্রঃ Aljazeera’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রবন্ধ:Myanmar: Who are Rohingya?)।

    রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত ও অসহায় জাতি

    মিয়ানমারে বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশ ঘটেনি বরং মিয়ানমারের অবহেলিত বঞ্চিত নিপীড়িত অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সেদেশের সামরিক জান্তা ও সরকারের হাতে বাস্তু ভিটামাটি থেকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ, বিতাড়ন ও গণহত্যার শিকার হওয়ায় বাপ-দাদার এই দেশ থেকে নিরুপায় হয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। স্বদেশে সব ধরনের অধিকার-হারা এ মানবগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ সীমিত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের জনগণ কখনো মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেনি বরং মিয়ানমারের স্বৈরাচারী সামরিক জান্তা ও সরকারই অন্যায়ভাবে নিজ দেশের অধিবাসীদেরকে বলপূর্বক উচ্ছেদ করে ও বাংলাদেশের দিকে বহুবার ঠেলে দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও হস্তক্ষেপ করেছে এবং আজও তা করা অব্যাহত রেখেছে।

    সাম্প্রতিক দিনগুলোয় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও ড্রোন ১৯ দফারও বেশি বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে যা বিনা উস্কানিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর স্থল-মাইন পুঁতে রেখেছে যাতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে না পারে। আর স্বৈরাচারী মানবতা-বিরোধী মিয়ানমার সরকারের এসব কাজ ও কর্মতৎপরতা মোটেও সুপ্রতিবেশীসুলভ মনোবৃত্তি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিচায়ক নয়। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও সরকারই রোহিঙ্গা সমস্যাকে সেদেশের একান্ত আভ্যন্তরীণ সমস্যার গণ্ডী থেকে বের করে এনে আঞ্চলিক তথা আন্তর্জাতিক রূপ দিয়েছে এবং সব প্রতিবেশী দেশ যেমনঃ বাংলাদেশ,ভারত,থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বহু দেশ ও রাষ্ট্রকে এ সমস্যার সাথে জড়িয়ে ফেলেছে। ব্যাপক নির্যাতন,ধর্ষণ ও গণহত্যার মত মানবতা বিরোধী মারাত্মক নানা অপরাধের শিকার করে আতঙ্কগ্রস্ত লাখ লাখ অসহায় রোহিঙ্গা শিশু ও নারী-পুরুষকে বলপূর্বক বিতাড়নের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষকরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ঠেলে দেয়াই হচ্ছে জল্লাদ মিয়ানমার সরকার ও সামরিক জান্তা কর্তৃক রোহিঙ্গা সমস্যার আন্তর্জাতিকীকরণের উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

    রোহিঙ্গাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য (ফাইল ছবি)
    পৃথিবীর বহু দেশেই আয়-উপার্জন ও রুজি-রোজগারের জন্য বহু অবৈধ অভিবাসী রয়েছে। কই তাদেরকে তো ঐসব দেশের সরকার ও সেনাবাহিনী মিয়ানমার সরকার ও সামরিক জান্তার মত হত্যাকাণ্ড,ধর্ষণ ও নির্যাতন চালিয়ে গণহারে বহিষ্কার করেনি বা করছেও না। আর রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে অবৈধ অভিবাসী তো নয়ই বরং তারা হচ্ছে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মত আরাকান বা রাখাইন অঞ্চলের ভূমিপুত্র বা আসলেই জন্মসূত্রে স্থানীয় ও স্থায়ী অধিবাসী যা আমরা আগেও উল্লেখ করেছি।

    নিছক বিদ্রোহ ও গুটিকতক চোরাগোপ্তা হামলায় কতিপয় নিরাপত্তা বাহিনী,পুলিশ বা সেনাসদস্যের প্রাণহানি কোন অবস্থায়ই হাজার হাজার নিরীহ নিরপরাধ শিশু,নারী ও সাধারণ জনগণকে হত্যার বৈধতা প্রদান করে না; এমনকি যদি সেই বিদ্রোহ ও সশস্ত্র তৎপরতা স্বৈরাচারী সরকার,প্রশাসন ও সামরিক জান্তার বৈষম্য,নির্যাতন,নিষ্পেষণ,অন্যায়,অবিচার,অত্যাচার এবং সার্বিক নাগরিক ও মানবিক অধিকারগুলোর হরণ ও বঞ্চনা-প্রসূত নাও হয়।

    যেভাবে বিগত ছয় দশক ধরে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ও জান্তা এবং পরবর্তীতে তথাকথিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সূচির নেতৃত্বাধীন সরকার ও প্রশাসনের কঠোর রোহিঙ্গা দমন নীতি,সার্বিক বৈষম্য ও বঞ্চনা এবং সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জাতিকে মিয়ানমারের ম্যাপ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুছে দেওয়া, চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে তাদের ওপর গণহত্যা ও জাতিগত নিধন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার কারণে রোহিঙ্গা অঞ্চলে বিদ্রোহ ও অসন্তোষ নিতান্ত স্বাভাবিক, বৈধ ও ন্যায়সঙ্গত বিষয়। আর তা না হলে বিশ্বের সব স্বাধীনতা ও অধিকার আন্দোলন অবৈধ ও নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে যদিও স্বৈরাচারী সরকার ও প্রশাসনগুলো এধরণের সব আন্দোলন ও তৎপরতাকে অবৈধ এবং বৈধ অধিকার আন্দোলনের কর্মী ও সমর্থকদেরকে বিপথগামী,সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারী বলে অভিহিত করে থাকে। স্বৈরাচারী মিয়ানমার সরকার ও সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এধরণের বিষ-বাষ্প ও অপপ্রচারই চালিয়ে যাচ্ছে। অপপ্রচারের সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৫শে আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ও সেনা-চৌকির উপর কথিত(এলেজড) হামলায় কতিপয় পুলিশ ও সেনাসদস্যের নিহত হওয়ার বাহানায় মিয়ানমার সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী এবং সেদেশের ধর্মান্ধ মগ বৌদ্ধ জঙ্গি মিলিশিয়া (যাদেরকে বৌদ্ধ আইসিস বা বৌদ্ধ দায়েশ Buddhist ISIS or Buddhist Daesh বলাই শ্রেয়) নিরীহ নিরস্ত্র অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর নতুন করে ব্যাপক ভয়াবহ আক্রমণ,গণহত্যা,ধর্ষণ,লুণ্ঠন,শুদ্ধি অভিযান ও জাতিগত নিধন শুরু করেছে এবং তা আজও অব্যাহত রেখেছে।তারা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে এবং ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তারা ৩০০০ থেকে ৬০০০এরও বেশি নিরীহ নিরস্ত্র রোহিঙ্গা শিশু ও নর-নারীকে হত্যা করেছে এবং এ হত্যাকাণ্ড,গণহত্যা ও জাতিগত নিধন(ethnic cleansing)অব্যাহত রেখেছে। তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। জীবন বাঁচাতে সম্প্রতি লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শিশু ও নর-নারী নিজেদের সহায় সম্পদ ও বাস্তুভিটা এবং জন্মভূমি ত্যাগ করে বাংলাদেশে চলে এসেছে এবং এর আগে চল্লিশ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা ভারতেও আশ্রয় নিয়েছে।

    রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঠিক সংখ্যা রেকর্ড করা উচিত বাংলাদেশ সরকারের

    জাতিসংঘের প্রদত্ত তথ্যে (১৭-৯-২০১৭ তাং-এ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত) চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।১৮-৯-২০১৭ তাং-এ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশঃ এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছেঃ মিয়ানমারে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।জাতিসংঘের বরাত দিয়ে ওই সংবাদে বলা হয় বাংলাদেশে প্রবেশ করা শরণার্থীদের অর্ধেকই শিশু।……’সেভ দ্য চিলড্রেন’ বাংলাদেশের প্রধান মার্ক পিয়ার্স বলেছেন,যদি এভাবে শরণার্থী বাংলাদেশে আসতে থাকে তাহলে বছরের শেষ নাগাদই ওই ছয় লাখ শিশুসহ শরণার্থীদের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০ লাখে।আর অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেছেনঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছেন (দ্রঃ দৈনিক যুগান্তর,২২-৯-২০১৭)। তার মানে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় চলে আসা চার লাখের উপর রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা যোগ করলে মোট রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় দশ লাখেরও বেশি।

    রোহিঙ্গা শরণার্থী
    বাংলাদেশ সরকারের উচিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকৃত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা প্রকাশ এবং তা জাতিসংঘের উদ্বাস্তু ও শরণার্থী বিষয়ক কমিশন কর্তৃক অনতিবিলম্বে অফিসিয়ালি নিবন্ধন (রেকর্ড) করা যাতে ভবিষ্যতে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে তাদের মিয়ানমারে জন্মভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে টাল-বাহানা ও সময় ক্ষেপণ করার সুযোগ না পায়। মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা এলাকায় এ অভিযানকে বলছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং বেসামরিক রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টার অভিযোগও তারা অস্বীকার করেছে। তথাকথিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বর্মী নেত্রী সু চিও সামরিক বাহিনীর এ অভিযানকে আসলে সমর্থনই করেছেন এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধ চলমান সহিংসতা,গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। আর তাঁর অতি সাম্প্রতিক বক্তব্যও কার্যতঃ সামরিক বাহিনীর রোহিঙ্গা নিধন,গণহত্যা ও জাতিগত নিধন ও নির্মূলের চেষ্টার পক্ষেই গেছে যদিও তিনি তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে রাখাইন অঞ্চলে কিছু গোলযোগ হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন মাত্র এবং সেখানে যে গণহত্যা ও জাতিগত নিধন চলছে সে ব্যাপারে কোন কথা বা ইশারা-ইঙ্গিতও তিনি করেন নি।

    কিন্তু মিয়ানমার থেকে অতি সম্প্রতিও নিজেদের ঘরবাড়ী সহায় সম্পত্তি ও মাতৃভূমি ত্যাগ করে বাংলাদেশে চলে এসেছে চার লক্ষাধিক নিরীহ,আতঙ্কগ্রস্ত, নির্যাতিত, ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত,অসহায়, মানসিকভাবে সাংঘাতিক বিপর্যস্ত,আঘাতপ্রাপ্ত ও ভেঙ্গে পড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী। এই শরণার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি হচ্ছে শিশু। এই শরণার্থীদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন,সন্তান-সন্ততি ও আপনজনদেরকে চোখের সামনে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে চরম বর্বর-নরপিশাচ মিয়ানমার সেনাবাহিনী আর দায়েশ-সদৃশ বা আইএস-সদৃশ জঙ্গি ও চরমপন্থী বৌদ্ধ মগ গুণ্ডা বাহিনী ও মিলিশিয়ারা। বাংলাদেশে এই রোহিঙ্গাদের প্রবেশ এবং আশ্রয় গ্রহণ প্রমাণ করে যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী চরম যুদ্ধাপরাধী,মানবতাবিরোধী ও মানবাধিকার পদদলন ও হরণকারী সন্ত্রাসী। আর অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন প্রশাসন হচ্ছে চরম মানবতা-বিরোধী,মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী,জালেম এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের(state terrorism) পৃষ্ঠপোষক।

    এতসব জাজ্বল্যমান প্রমাণ থাকার পরেও যদি তথাকথিত নোবেল শান্তি-পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি-সরকার ও সেনাবাহিনীকে ভয়ংকর সন্ত্রাসী,যুদ্ধাপরাধী,মানবতাবিরোধী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী বলে আখ্যায়িত করা না হয় তাহলে চেঙ্গিস,হালাকু,নেপোলিয়ন,হিটলার-মুসোলিনিকে জালেম,স্বৈরাচারী,নরঘাতক,যুদ্ধাপরাধী,মানবতা-বিরোধী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী বলা যাবে না বরং তাদের জন্যও মরণোত্তর নোবেল শান্তি পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।

    গণহত্যা ও মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে সু চি’র অবস্থা হতে পারে ভুট্টোর মত

    আসলে সু চি নোবেল শান্তি পুরস্কারের অবমাননাই করেছেন এবং প্রমাণও করেছেন যে তা আসলে অন্তঃসারশূন্য এক মাকাল ফল ছাড়া আর কিছুই নয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী সু চি আজ নিঃসন্দেহে মিয়ানমার তথা গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অশান্তির বিষবাষ্প ও আগুন ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাই তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভের উদ্দেশ্যই সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়ে গেছে। তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন কি বরং তাঁর নীতি অবস্থানই অশান্তির কারণ। সত্যিই যদি তিনি অন্যায়,অবিচার,স্বৈরাচার,অত্যাচার,শোষণ ও বৈষম্য বিরোধী এবং মানবতাবাদী,মানবদরদী,সত্য ও ন্যায়পন্থী, নির্ভীক হতেন এবং সত্য ও ন্যায্য কথা বলার জন্য সেনাবাহিনীর রোষানলে পড়া এবং জনপ্রিয়তা হারানোর ভয় না করতেন তাহলে তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া সার্থক হত। কিন্তু ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদন করার পর কি তা আর ছাড়া যায়? তাই তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রোহিঙ্গাদের নির্মূল ও জাতিগত নিধনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভিত্তিহীন অবৈধ অভিলাষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি আসলেই যদি প্রকৃত শান্তিকামী,সত্যাশ্রয়ী ও ন্যায়পন্থী হতেন তাহলে তাঁর কর্তব্য ছিল এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করে সরকার থেকে পদত্যাগ করা। অথচ তার পদক্ষেপ ও নীতি-অবস্থান সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ মগ সন্ত্রাসীদেরকে আরও মরিয়া ও বেপরোয়া করেছে এবং তাদের স্পর্ধা শত গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ এসব জঘন্য পাপিষ্ঠ নরাধম ও ভয়ংকর অপরাধীরা ভাবছে যে তারা যত বড় অন্যায় ও অপরাধ করুক না কেন তাদের এ অন্যায় অপরাধ ঢাকার জন্য বড় এক উপায় রয়েছে। আর তা হচ্ছে অং সান সু চি ও তাঁর নোবেল শান্তি পুরস্কারের তকমা।

    এটা সুস্পষ্ট যে, তথাকথিত নোবেল পিস লরিয়েট সু চি মিয়ানমারের সন্ত্রাসী নরঘাতক,গণহত্যাকারী,যুদ্ধাপরাধী সেনাবাহিনী ও দায়েশসদৃশ জঙ্গি, সন্ত্রাসী, চরমপন্থী বৌদ্ধ-মগ মিলিশিয়ার সব অপরাধ ও অপকর্মের অংশীদার এবং তাদের সমান অপরাধী। বরং তিনি ঐসব পিশাচ ও নরপশুর চেয়েও বেশি অপরাধী। কারণ তিনি সত্য গোপনকারী এবং তাঁরই রাজনৈতিক ছায়াতলে মিয়ানমারে মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য সব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

    সার্বিয়ার কসাই বলে খ্যাত স্লোবদান মিলোসেভিচের মত যুদ্ধ-অপরাধী মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং বৌদ্ধ চরমপন্থী সন্ত্রাসী-মগ মিলিশিয়াদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পাশাপাশি কথিত এই নোবেল শান্তি-বিজয়ী অশান্তির প্রতীক অং সান সু চি-কেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। অথবা ভবিষ্যতে এই সুচি- যে কিনা নারী জাতিরও কলংক (কারণ নারীদের মাতৃত্ব ও মমত্ববোধ আছে বিধায় তারা নরম দিলের অধিকারী হয় অথচ তার অন্তরে বিন্দুমাত্র দয়া-মায়া নেই। এতসব নিষ্ঠুর গণহত্যা,ধর্ষণ,লুট-পাট তার চোখের সামনে ঘটা সত্বেও সম্পূর্ণ নির্বিকার তিনি।)- তাঁকে হয়তো পাক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। জুলফিকার আলী ভুট্টো ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নস্যাৎ এবং তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যায় পাক সামরিক জান্তার প্রধান জেনারেল ইয়াহইয়া খানের সহযোগী হয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ কুক্ষিগত করার লোভে।

    যদিও এ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও যুদ্ধ চলাকালে এদেশবাসীদের ওপর চাপিয়ে-দেয়া গণহত্যা,ধর্ষণ ও জাতিগত নিধনের হোতা যুদ্ধাপরাধী পাক সেনানায়ক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কারোই আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হয়নি কিন্তু ক্ষমতালিপ্সু জুলফিকার আলী ভুট্টোকে সেই পাক সেনাবাহিনীই ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। যদিও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘাতক পাঠিয়ে হত্যা করার অভিযোগে ভুট্টোকে ফাঁসীকাষ্ঠে ঝুলিয়েছিল জেনারেল জিয়াউল হক তবুও তাতেই ১৯৭১ সালে পাক সেনাদের অপরাধের অংশীদার ভুট্টোর পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়েছিল যা হয়তো অনেক নির্যাতিত বাংলাদেশীর অন্তরকে খানিকটা হলেও শীতল করে থাকতে পারে।

    সু চি মিয়ানমারের স্বৈরাচারী যুদ্ধাপরাধী সেনাবাহিনীকে তাদের পাপ,অপরাধ ও অন্যায়ের ক্ষেত্রে যে এতসব সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন তাঁর পরিণতিও যদি ভুট্টোর মত হয় তাহলে তাতে অবাক হবার কিছু থাকবে না। (চলবে)

    লেখক: মুহাম্মাদ মুনীর হুসাইন খান, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, গবেষক ও বিশ্লেষক।

    জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগে চার্জশিট

    চলতি সপ্তাহে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে চার্জশিট প্রদান করতে যাচ্ছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছরের জুলাইয়ে ভারত ত্যাগ করা নায়েকের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদানের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে তা একটি বিশেষ কোর্টে উপস্থাপন করা হবে। জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ ও মানি লন্ডারিং অভিযোগের তদন্ত করছে এনআইএ। ঢাকায় হোলি আর্টিজান বেকারির জঙ্গিরা জাকির নায়েকের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত এমন অভিযোগ আসার পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে পড়েন তিনি। গত বছরের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি ধারায় মামলা করে এনআইএ। তার মুম্বাইভিত্তিক এনজিও ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে বেআইনি ঘোষণা করেছে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া তার পিস টিভির সম্প্রচারও বন্ধ করা হয়। বর্তমানে সৌদি আরবে থাকা জাকির নায়েক সেখানে নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে শোনা যায়, তবে সেটি এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। জাকির নায়েক তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে আইআরএফ ও পিস টিভির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে ইন্টারপোলের সহায়তা চায় এনআইএ। তদন্তকারী সংস্থার অনুরোধে জাকির নায়েকের ভারতীয় পাসপোর্ট বাতিল করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এনআইএ এর আগে তদন্তের সম্মুখীন হতে জাকির নায়েককে তিনবার নোটিশ দিয়েছিল কিন্তু জাকির ফিরে আসেননি।

    ফেসবুকে খবর পড়তে লাগবে টাকা

    দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষ ফেসবুকের পেড নিউজ সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস পরিষেবার পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হল। প্রথম দফায় আমেরিকা ও ইউরোপের অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে এই পরিষেবা চালু হবে। এই পরিষেবার অধীনে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকল ফরম্যাটে খবর পড়ার জন্য টাকা খরচ করতে হবে।

    গত জুলাই মাসে এই প্রকল্পের ঘোষণা হলেও অবশেষে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে পথ চলা শুরু করল পেড নিউজ সাবস্ক্রিপশন সার্ভিস।

    একটি ব্লগ পোস্টে ফেসবুক জানিয়েছে, নয়া পদ্ধতিতে খবর পড়ার জন্য দু’টি মডেল চালু হবে। প্রথমটিতে, ১০টি খবর ফ্রি-তে পড়া যাবে। তারপর কোনও প্রকাশনা সংস্থার খবর পড়তে হলে টাকা খরচ করতে হবে।

    দ্বিতীয় মডেল অনুযায়ী, প্রকাশনা সংস্থাগুলিই ঠিক করতে পারবে, কোন কোন খবর ইউজাররা ফ্রি-তে পড়তে পারবেন। বাকি খবর পড়তে গ্রাহকদের টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন করতে হবে। খবর পড়ার জন্য যে টাকা লাগবে, তা কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নেবে না। ১০০% টাকাই যাবে প্রকাশনা সংস্থার ঘরে।

    প্রথম দফায় ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য ইকোনমিস্ট-এর মতো ১০টি শীর্ষ প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে ফেসবুকের চুক্তি হয়েছে। এতদিন ফেসবুক চেষ্টা করছিল, পাঠকদের নিজের নেটওয়ার্কেই ধরে রাখতে। কিন্তু যেভাবে ফেসবুকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক খবর দিন দিন বেড়েই চলেছে, তা দেখে এবার প্রকাশনা সংস্থার কোর্টে বল ঠেলে দিল ফেসবুক।

    বিশ্বের জনপ্রিয়তম সোশ্যাল এই সাইটটির বিরুদ্ধে ২০১৬-র মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় মিথ্যা খবর প্রচারের অভিযোগ উঠেছিল। তবে বেশ কয়েকটি বড় প্রকাশনা সংস্থা আবার ফেসবুকের সঙ্গে গাঁটছড়া বাধতে নারাজ। কারণ, নয়া নীতি মোতাবেক ফেসবুক তাদের ইউজারদের তথ্য প্রকাশনা সংস্থাগুলিকে দেবে না।

    হাজার বছরের মধ্যে পৃথিবী থেকে মানুষ হারিয়ে যাবে!

    বিখ্যাত বিগব্যাং থিওরির জনক ৭৪ বছর বয়সী বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর মতে, পৃথিবী থেকে মানুষ হারিয়ে যাবে মূলতঃ গণবিলুপ্তির কারণে। আগামী এক হাজার বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পৃথিবী থেকে মানব প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আশংকা জানিয়েছেন তিনি। তবে খ্যাতিমান এ পদার্থ বিজ্ঞানী মনে করেন, পৃথিবীর পরিবর্তে অন্য কোনও গ্রহে নিবাস গড়ে তুলতে পারলে মানুষের টিকে থাকার সুযোগ রয়েছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়নে দেয়া এক বক্তব্যে পৃথিবী থেকে মানুষের হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন স্টিফেন হকিং।

    হকিং বলেন, ভবিষ্যত মানবতার স্বার্থে মানুষকে মহাশূন্যে যাওয়া অব্যাহত রাখতে হবে। আমি মনে করি না যে ভঙ্গুর এ পৃথিবী থেকে পালাতে না পারলে আমরা আরও এক হাজার বছর টিকে থাকতে পারব।

    এর আগে হকিং সতর্ক করে বলেছিলেন পারমাণবিক যু্দ্ধ, কৃত্রিমভাবে তৈরি জেনিটিক্যাল ভাইরাস এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে মানুষের অস্তিত্ব হুমকির মুখে রয়েছে।

    তবে অক্সফোর্ড ইউনিয়নে দেয়া বক্তব্যে ভবিষ্যত পৃথিবী সম্পর্কে নতুন কিছু সতর্কতার কথা জানান হকিং।

    তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আমরা চালকবিহীন গাড়িসহ এমন একটা রোবট নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব দেখব, যেখানে আমাদের সন্তানেরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়বে।

    মিশেল ওবামাকে নিয়ে কেন এত হৈচৈ?

    ওয়াশিংটন: মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা সম্পর্কে একটি বর্ণবাদী ফেসবুক পোস্ট লোকের চোখে পড়ার পর তা নিয়ে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের এক শহরের মেয়রকে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

    ক্লে কাউন্টির একটি অলাভজনক সংগঠন চালান পামেলা র্যামজে টেলর। তিনি ফেসবুকেএক পোস্টে মিশেল ওবামাকে ‘এপ’ (ape) বা বানরজাতীয় প্রাণীর সাথে তুলনা করেন।

    তিনি ভাবী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত করে লেখেন, “হোয়াইট হাউসে এখন একজন সুন্দরী, অভিজাত, মার্জিত ফার্স্ট লেডিকে দেখতে পাবো, মনটা ভালো হয়ে যাবে। একটা হিল পরা এপ-কে দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি।”

    অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে পুলিশের লাথি!

    টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তির এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর পেটে পুলিশ লাথি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার গভীর রাতে দাবি করা টাকা না পেয়ে বস্তিতে ঢুকে ৩০ বছর বয়সী গৃহবধূ জহুরার পেটে বুট জুতা পায়ে সজোরে উপর্যুপরি লাথি মারে পুলিশ। এতে তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্থানীয়রা তাকে টঙ্গী হাসপাতাল নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার দুপুরে জহুরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। মঙ্গবার সন্ধ্যার পর জহুরার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী টঙ্গীতে ভাঙচুর শুরু করে। টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্র জানিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে বস্তিতে ঢুকে পুলিশ ৩০ বছর বয়সী গৃহবধূ জহুরাকে মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী হিসাবে আখ্যায়িত করে অর্থ দাবি করে। আশপাশের বস্তির লোকদের কাছ থেকে ধার-কর্য করে জহুরা পুলিশের হাতে পাঁচ হাজার টাকা দিলে পুলিশ তার ওপর চড়াও হয়। এলাকাবাসী জানান, ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের এসআই বিপ্লব চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা জহুরার তলপেটে উপর্যুপরি লাথি মারেন ও মারধর করেন। এতে সে গুরুতর আহত হয় এবং তার প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বিপ্লব জহুরাকে তলপেটে লাথি মারার কথা অস্বীকার করে বলেন, জহুরা একজন মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী। আটকের জন্য গিয়ে জহুরাকে ইয়াবা সেবন করা অবস্থায় পাই।

    বাংলাদেশ সফরে আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট

    আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তার সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের সহায়তার অঙ্গীকার আসতে পারে। ইতোমধ্যে চীনা সরকার বাংলাদেশের ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পে ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ‘সফট লোন’ দিতে প্রাথমিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    ২০১৬-২০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। চীনের প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফরের সময় আগামী ১৩ বা ১৪ অক্টোবর এই উন্নয়ন প্রকল্পের সই হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।

    চীনের সহায়তার মধ্যে বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বাইরেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ২ অক্টোবর ২০টি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) বৈঠক হবে। এরপর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে প্রকল্পগুলোর চূড়ান্ত হবে বলে সূত্রটি জানায়।

    জানা যায়, ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ইআরডির কর্মকর্তা চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে ২টি প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের চীনের কাছ থেকে ৬টি জাহাজ ক্রয় আর দাসেরকান্দিতে ২৮০ মিলিয়ন ডলারের পানি শোধনাগার নির্মাণ। ইআরডির একটি সূত্র জানায় এই তথ্য জানায়।

    বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ২০ প্রকল্পের মধ্যে ৭/৮টি চীনের কিছু কোম্পানির মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন করেছে। চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে এই চুক্তি হতে পারে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থমন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়।

    অর্থ বিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ কমিটি চীনের কোম্পানির সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। চুক্তি হলেই আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে চায়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইবার চীন সফর করেছেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের জুনে তিনি চীন সফর করেন।

    বাংলাদেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে ঋণের জন্য চীনের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছে চীনের পক্ষ থেকেও মৌখিকভাবে ১০, ২০ ও ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তবে চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে তার লিখিত স্বীকৃতি পাবে। চীন তাদের অঙ্গীকার রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ৭টি প্রকল্পে তহবিল দিতে আগ্রহ রয়েছে চীনের। এই খাতের বাস্তবায়নে ৭.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার পায়রা সমুদ্রবন্দরের কাছে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত বছর শেখ হাসিনা চীন সফরে গিয়ে এই প্রকল্পের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

    সরকার ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ শুরু করেছে প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য। আর অন্য একটি প্রকল্প হচ্ছে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কয়লাভিত্তিক ৩৫০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। গজারিয়ায় চীন ৪৩৩ মিলিয়ন ডলার তহবিল করবে। গজারিয়ায় চীনের ব্যবসায়ীরা গার্মেন্টস কারখানা তৈরিতেও বিনিয়োগ করবেন।

    পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘপথ সহ চারটি প্রকল্পে তহবিল দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। এটির ব্যয় হবে ৬.২১ বিলিয়ন ডলার। আরো তিনটি প্রকল্প হচ্ছে- জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিং, জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী ও আখাউড়া থেকে সিলেট রেল সংযোগ প্রকল্প। এছাড়া ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-সিলেট ফোর লেন হাইওয়ে ও সীতাকুন্ডু- কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ এক্সপ্রেস ওয়ে প্রকল্পে ৬.৬৫ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাবনা দিয়েছে বেইজিং।

    ১৬ অক্টোবর হাসিনা-মোদির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবেশি দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করতে আগামী মাসেই ভারত যাচ্ছেন। ভারতের পর্যটন নগরী গোয়ায় অনুষ্ঠেয় ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হবে। এতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে সন্ত্রাস দমন।

    আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর গোয়ায় অর্থনৈতিকভাবে উদীয়মান ও বিশ্ব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারকারী দেশগুলোর জোট ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে যোগ দেবেন রাশিয়া, চীন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের সরকার প্রধানরা।

    সম্মেলন শেষে অবকাশকালে যোগ দেবেন বিসমটেক নেতারা। এতে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সরকার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মোদি।

    বাংলাদেশসহ বিমসটেক নেতারা এতে যোগ দেয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন। অর্থাৎ ব্রিকস-বিমসটেক মিলে ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গোয়ায় মিলিত হচ্ছেন।

    এবার দিবস শীর্ষ সম্মেলনে অর্থনৈতিক ইস্যুর পাশাপাশি সন্ত্রাস দমন বিশেষ গুরুত্ব পাবে। আর বিসমটেক নেতাদের সাথে আলোচনায়ও নরেন্দ্র মোদি সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন। কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে এই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পাবে।

    ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরির সেনা ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৮ জন সেনা নিহত হওয়ার পর দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ভারত এ জন্য সরাসরি পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গিবাদী সংগঠনকে দায়ী করেছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ভারতের অভ্যন্তরে থেকে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

    তবে ভারত সরকার সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর চেয়ে কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার নীতি নিয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে পাকিস্তান ও ভারত পরস্পরকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছে।

    গত শনিবার বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে মোদি বলেন, পাকিস্তানের জন্য গোটা এশিয়ায় রক্ত ঝরছে। এশিয়ায় সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটলেই সবাই একটি দেশের দিকেই আঙুল তুলছে। ওসামা বিন লাদেনের মতো সন্ত্রাসবাদীকেও আশ্রয় দিয়েছিল এই দেশটি। বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানও পাকিস্তানের সন্ত্রাসী তৎপরতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

    পাকিস্তানের সঙ্গে সার্কের দুই সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক এখন বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় ভারত দুই দেশকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামাবাদে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বয়কটের মাধ্যমে পাকিস্তানকে একটি জবাব দিতে পারে। উরির ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই ধরনের মনোভাব পোষণ করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

    ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচে নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকের পর সার্ক সম্মেলনে যোগ দেয়া বা না দেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোয়াজ্জেম আলী সম্প্রতি ভারতের গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে সার্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি।

    ৬ বছরে ৫২,৩৩৩ পুলিশ, ২৩,৫২৩ বিজিবি নিয়োগ

    ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে ৫২ হাজার ৩৩৩ জন পুলিশ সদস্য এবং ২৩ হাজার ৫২৩ জন বিজিবি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
    ১০ম জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৫টার পর সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
    আসাদুজ্জামান খান কামাল জাতীয় সংসদকে জানান, গত ৬ বছরে নিয়োগ দেওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এএসপি পদে ৭০২ জন, এসআই (নারী/পুরুষ) ৪ হাজার ১৯৩ জন, পুলিশ সার্জেন্ট (পুরুষ/নারী) ৯২২ জন এবং কনস্টেবল (পুরুষ/নারী) ৪৬ হাজার ৫১৬ জন।
    নিয়োগ দেওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ২০১১ সালে ৮ হাজার ৮৯ জন, ২০১২ সালে ১২ হাজার ৮৩৪ জন, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ২ জন, ২০১৪ সালে ৫ হাজার ৭৯৫ জন, ২০১৫ সালে ১০ হাজার জন এবং চলতি ২০১৬ সালের অদ্যাবধি ১০ হাজার ৬১৩ জনকে (বিভিন্ন পদে) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
    তিনি আরো বলেন, বর্তমানে কনস্টেবল পদে আরো ১০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগের জন্যে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনে ঘোষিত তারিখে নিয়োগের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ৬ বছরে (২০১০-২০১৫ সালের ডিসেম্বর) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এ সামরিক এবং অসামরিক পদে ২৩ হাজার ৫২৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১০ সালে এক হাজার ৭৫০ জন, ২০১১ সালে ২ হাজার ২৬২ জন, ২০১২ সালে ২ হাজার ৯২৮ জন, ২০১৩ সালে ৬ হাজার ৮৫৫ জন, ২০১৪ সালে ৪ হাজার ৭৬১ জন এবং ২০১৫ সালে ৪ হাজার ৯৬৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    কবর থেকে ফেরা শিশু হেলিকপ্টারে ঢাকায় এল

    নাজমুল হুদা একজন ক্রিকেট কোচ। তার স্ত্রী ঢাকার জজ আদালতের উকিল।

    গর্ভবতী স্ত্রীকে ভাল সেবাযত্নের জন্য ফরিদপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে রেখেছিলেন মি. হুদা।

    সেখানের এক হাসপাতালেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই, মোটে ৫ মাস ২২ দিনের মাথায় সন্তান প্রসব হয়ে যায় মি. হুদার স্ত্রীর।

    কর্তব্যরত চিকিৎসক সদ্য-ভূমিষ্ঠ শিশুটির নাড়ী খুঁজে না পেয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শিশুটিকে দাফনের জন্য কার্টনে পুরে বেঁধেছেঁদে পাঠিয়ে দেয়া হয় গোরস্থানে।

    এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল, কিন্তু গোল বাঁধল শিশুটিকে গোর দিতে গিয়ে।

    গোর দেয়ার জন্য কার্টন খুলে শিশুটিকে বের করা হলেই সে তারস্বরে কেঁদে ওঠে।

    দ্রুত তাকে আবার ফিরিয়ে নেয়া হয় সেই হাসপাতালে, যেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন।

    হাসপাতালটির নাম, ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল।

    শিশুটির চাচা শামীম উল হক বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, তার সদ্যোজাত ভাইঝির মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার এই কাহিনি।

    গত বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনাপ্রবাহ এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে, ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে।

    অবশ্য অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়া এই শিশুটির শরীর ভাল নেই। ফরিদপুরের হাসপাতালে ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল তাকে।

    সেখানকার ডাক্তার বলেছেন, তাকে ভাল চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া প্রয়োজন।

    কিন্তু শিশুটিকে নিতে হবে আকাশপথে। সড়কপথের ঝক্কি তার ছোট্ট প্রাণে সইবে না।

    এই খবরটিও প্রকাশিত হয় পত্রিকায়।

    প্রথম আলোয় প্রকাশিত এই খবর শনিবার দুপুরেই ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করে বাংলাদেশের একজন ফেসবুক সেলেব্রিটি সোলায়মান সুখন লেখেন, শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসতে চান তিনি।

    এজন্য তার এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসী বন্ধু ব্যয়ভার বহন করতেও সম্মত হয়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির পিতামাতার খোঁজ পেয়ে যান মি. সুখন।

    বিকেলেই মি. সুখন নিজে হেলিকপ্টারের আরোহী হয়ে চলে যান ফরিদপুর এবং তার কিছুক্ষণ পরে শিশুটিকে তার পিতা এবং চাচা শামীম উল হককে সহ উড়িয়ে নিয়ে আসেন ঢাকায়।

    মি. সুখন বিবিসিকে বলেন, “বলতে পারেন দু’ঘণ্টার মধ্যেই সব কিছু হয়ে গেছে। পাওয়ার অব ইন্টারনেট!”

    অবশ্য ঢাকায় পৌঁছালেও সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হয়নি ‘গালিবা হায়াত’ নামের এই নবজাতকটির।

    ফরিদপুর থেকে দ্রুত ঢাকার বিমানবন্দর পর্যন্ত আসা গেলেও যানজটের কবলে পড়ে শহরে ঢুকতে লেগে যায় অনেক সময়।

    শেষ পর্যন্ত অবশ্য শিশুটিকে ভর্তি করা হয় ঢাকার বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে।

    শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে শিশুটির চিকিৎসা শুরু করেছেন ডাক্তারেরা।

    অবশ্য শিশুটির চাচা শামীম উল হক বিবিসিকে বলছেন, তারা এখন পর্যন্ত জানেন না কোন মহৎহৃদয় মানুষ দিয়েছেন হেলিকপ্টারের ভাড়া।