• ?????: খেলাধুলা

    বিশ্বকাপ ফাইনালে আজ মুখোমুখি ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া

    ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো চলতি রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। আজ রোববার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। ইতোমধ্যে নিজেদের খেলায় যেমন সবার মন কেড়েছে ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড়েরা তেমনি নিজের রূপের দ্যুতিতে সবার নজর কেড়েছেন দেশটির নারী প্রেসিডেন্ট মালিন্ডা গ্রাবার কিতারোভিচ। আজকের ফাইনালে তাই লড়াই হয়ে যেতে পারে ম্যাকরনের তারুণ্যের সঙ্গে মালিন্ডার রূপের। আজকের ফাইনাল স্টেডিয়ামে বসেই দেখবেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট। তবে তারা কতটা কাছাকাছি আসবেন তা এখনও জানা যায়নি।

    নিজের দীর্ঘদিনের সফল রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তো বটেই বর্তমান সময়ে নিজের রূপ মুগ্ধতায় আলোচনায় আছেন ৫০ বছর বয়সী ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তবে ম্যাকরনও একেবারে কম যান। নারীকে মুগ্ধ করায় ম্যাকরনের পারদর্শিতা জগত খ্যাত।

    ম্যাকরনের বর্তমান স্ত্রী ব্রিজিট থকনেজ ম্যাকরনের থেকে ২৪ বছরের বড়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে হাইস্কুলে পড়ার সময় ব্রিজিটকে দেখেন ম্যাকরন। তারই স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন তখনকার ৩৯ বছর বয়সী ব্রিজিট। আর সেই থেকেই ১৮ বছর বয়স থেকে ডেটিং শুরু করেন ইমানুয়েল ম্যাকরন।

    ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্টও অবশ্য ম্যাকরনের থেকে ১০ বছরের বড়। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন সুপুরুষ হিসেবে খ্যাতি আছে ম্যাকরনের। বিশ্বকাপের মঞ্চে যদি কয়েক মুহুর্তের সাক্ষাতও হয় এই দুই রাষ্ট্র প্রধানের তাহলে ম্যাকরনের পৌরুষ আর কোলিন্ডার কোমলতার মধ্যে এক ঠান্ডা নীরব যুদ্ধ বেধেও যেতে পারে। আর যদি বেঁধেই যায় তাহলে জিতবে কে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

    লাহোর কালান্দার্সে খেলবেন মোস্তাফিজ

    পাকিস্তান সুপার লিগের খেলোয়াড় নিলামে শুরুতেই দল পেয়েছেন বাংলাদেশের বাহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ডায়মন্ড ক্যাটাগরির একেবারে শুরুতে তাকে দলে নিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। তাঁর দলে আরও আছেন ক্রিস লিন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, সুনীল নারিন, ইয়াসির শাহ। অন্যদিকে তামিম ইকবালকে কিনেছে তার গতবারের দল পেশোয়ার জালমি। দলটি নিলামের আগেই সাকিব আল হাসানকে রেখে দিয়েছে গতবারের দল থেকে। তাই সাকিব, তামিম এবারো একই দলে খেলবেন। অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকেও ধরে রেখেছে তার গতবারের দল কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স। গতবার ফাইনালে খেলা এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি কোন দল।

    এবার পাঁচ থেকে দল সংখ্যা বেড়ে ছয় হচ্ছে পিএসএলে। নতুন দল মুলতান সুলতানসের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন শোয়েব মালিক।

    অন্য তারকাদের মধ্যে আজকের নিলামে দক্ষিণ আফ্রিকার জেপি ডুমিনিকে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, কলিন ইনগ্রামকে করাচি কিংস, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস লিনকে লাহোর কালান্দার্স, শেন ওয়াটসনকে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্স, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভোকে পেশোয়র জালমি, দক্ষিণ আফ্রিকার ইমরান তাহিরকে মুলতান সুলতান দলে নিয়েছে।

    প্রথম হারের স্বাদ পেল সিলেট সিক্সার্স

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রথম হারের স্বাদ পেল সিলেট সিক্সার্স। খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে ৬ উইকেটে হেরেছে বিপিএলে চমকজাগানিয়া দলটি। সিলেটের করা ১৩৫ রানের জবাবে খেলতে নেমে দুই ওভার ও ছয় উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।
    এবারের আসরে সিলেটের জয়রথ থামছিলই না। পরপর তিন ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে নাসির হোসেনের দল। তবে চতুর্থ ম্যাচে ভাগ্যদেবী আর সিলেটের দিকে তাকাল না। উড়ন্ত দলটাকে মাটিতে নামিয়ে আনল খুলনা

    এই ম্যাচে টস-ভাগ্যটা নাসিরের পক্ষে যায়নি। টস জিতেছেন খুলনা টাইটানসের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সিলেটকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান তিনি। ব্যাট হাতে নেমে খুলনার সংগ্রহটা খুব বেশি হয়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৫ রান তুলতে সমর্থ হয় নাসির হোসেনের দল।

    ১৩৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি খুলনার। দলীয় ১৮ রানে নাজমুল হোসেন শান্তকে হারায় খুলনা। এর খানিক পর চ্যাডউইক ওয়ালটনও ফিরে যান ডাগআউটে। দলীয় ৪৩ রানে রিলে রুশোকে ফিরিয়ে ম্যাচে ভালোভাবে টিকে থাকে সিলেট।

    এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ; ও মাইকেল কিলিঞ্জার ৫০ রানের জুটি বেঁধে খুলনার আশা জিইয়ে রাখেন। রস হুইটলির বলে মাহমুদউল্লাহ ফিরলেও বাকি পথটুকু কার্লোস ব্রাফেটকে নিয়ে ভালোভাবেই পাড়ি দেন কিলিঞ্জার। ৩৬ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন এই অসি ব্যাটসম্যান। অপরদিকে ১৬ বলে ২৩ রান করেন ব্রাফেট। এ ছাড়া টাইটানসের হয়ে ২৭ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

    এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ভালো করতে পারেননি আগের দুটি ম্যাচে ঝড় তোলা সিলেটের ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও উপুল থারাঙ্গা। দলীয় ১৯ রানে শফিউলের বলে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান আন্দ্রে ফ্লেচার। চার রান করেন তিনি। এরপর সাব্বির ফিরে যান কোনো রান না করেই। দলীয় ৫১ রানে ফিরে যান উপুল থারাঙ্গা। ২৬ রান করেন তিনি।

    দানুশকা গুনাথিলাকাকে নিয়ে রানের গতিটা বাড়াতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক নাসির হোসেন। তবে খুলনার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সেটা সম্ভব হয়নি। ২৫ বলে ২৬ রান করে মাহমুদউল্লাহর দ্বিতীয় শিকার হন গুনাথিলাকা। রিলে রুশোকেও হাত খুলতে দেননি খুলনার বোলাররা। ২৩ বলে ২৭ রান করেন এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান।

    নাসির হোসেন অনেকক্ষণ ক্রিজে টিকে থাকলেও ৩৫ বলে ৪৭ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৩৪ রানেই থেমে যায় সিলেটের ইনিংস। খুলনার হয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও জফরা আর্চার নেন দুটি করে উইকেট।

    ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড

    টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেকোনো উইকেটে ভারতের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড গড়েছেন রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান।

    দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমেছিল ভারত। ১৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে স্বাগতিকদের দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন রোহিত ও ধাওয়ান।

    আগের সর্বোচ্চ রানের জুটিতেও জড়িয়ে আছে রোহিতের নাম। ২০১৫ সালে ধর্মশালায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রোহিত ও বিরাট কোহলি দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৮ রানের জুটি গড়েছিলেন।

    উদ্বোধনী জুটিতে ভারতের আগের সর্বোচ্চ ছিল গৌতম গম্ভীর ও বীরেন্দর শেবাগ জুটির ১৩৬, ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডারবানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

    রোহিত-ধাওয়ানের রেকর্ড জুটিতে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২০২ রান তুলেছে ভারত। দুই ওপেনারই করেছেন ৮০ রান। ৫২ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান ধাওয়ান। রোহিতের ৫৫ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৪টি ছক্কা। অধিনায়ক কোহলি ১১ বলে ৩ ছক্কায় করেন অপরাজিত ২৬ রান।

    সর্বোচ্চ রানের আরেকটি রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার

    পুরো সিরিজজুড়ে বাংলাদেশ দলকে নাকানি চুবানি খাইয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আজ শেষ ওয়ানডেতে সফরকারীদের তারা হারিয়েছে ২০০ রানের বড় ব্যবধানে। আজকের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৬৯ রান করে নতুন একটি রেকর্ডবুকে নাম লেখিয়েছে প্রোটিয়ারা।

    সিরিজের তিন ম্যাচে তাদের রান- ২৮২, ৩৫৩ ও ৩৬৯। সব মিলে ১০০৪ রান। ওয়ানডের ইতিহাসে তিন ম্যাচ সিরিজে এক হাজারের বেশি রান তোলার ঘটনা আগে মাত্র তিনবার ঘটেছে। এক নম্বরে আছে ভারত। চলতি বছর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডে বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ভারত তিন ম্যাচে করেছে ১০৫৩ রান। একই সিরিজে ইংল্যান্ড করেছিলো ১০৩৭ রান।

    উভয় দলের বোলারদের ওপর কেমন ঝড় বয়ে গেছে তা স্কোর কার্ড দেখেই বোঝা যায়। প্রতিটি ম্যাচেই রান উঠেছে তিনশোর উপরে। ভারত সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।

    তালিকার তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১০ সালে তারা জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচে মোট রান করেছে ১০২৩। আর আজ ১০০৪ রান করে চতুর্থ স্থানেও নিজেদের নামটি লেখলো তারা। আর এজন্য বেছে নিলো বাংলাদেশকে!

    হাতকড়া বাঁধা অবস্থায় সাঁতরে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ইরানি নারী

    সাঁতার তাও আবার হাতকড়া বাঁধা অবস্থায়। বিষয়টি বিস্ময়কর হলেও এমনটা করেই বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ইরানি নারী সাঁতারু। নিজের নাম লেখালেন গিনেজ রেকর্ড বইতে। এ অনন্য নারীর নাম এলহাম সাদাদ আসগারি।
    ৩৬ বছরের এ ইরানি নারী ক্রীড়াবিদ সম্প্রতি হাতকড়া বাঁধা অবস্থায় অবিরাম তিন ঘণ্টার বেশি পারস্য উপসাগরে সাঁতার কেটে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন।

    রাজধানী তেহরান থেকে ১০৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে বুশেহর বন্দরে সম্প্রতি তিনি সাঁতার কেটেছেন। কয়েক দিন আগে তেহরানে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে গিনেস বিশ্ব রেকর্ড সনদ দেয়া হয়।

    ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে তিনি বলেন, এ রেকর্ড করতে গিয়ে আমাকে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। ইরানের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং আমার বন্ধুদের ব্যাপক সমর্থনের কারণে ইরানি প্রথম নারী হিসেবে গিনেস রেকর্ড করতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।
    এছাড়া আরো পাঁচ রেকর্ড করার জন্য এখন তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও জানান।

    প্রথম দিনেই দক্ষিণ আফ্রিকার চার শতাধিক রান

    ব্লুমফন্টেইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে টস হেরে ব্যাট করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্কোর: দক্ষিণ আফ্রিকা ৪২৮/৩।

    চারশ পার: প্রথম দিনেই চারশ ছাড়াল দক্ষিণ আফ্রিকার রান। ৮৪তম ওভারে দ্বিতীয় বলে চারশ পেরিয়েছে স্বাগতিকরা। উইকেট হারিয়েছে মাত্র তিনটি।

    ডু প্লেসির ফিফটি: তাইজুল ইসলামের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটি পূরণ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৩৯৯।

    আমলা-প্লেসি জুটির সেঞ্চুরি: মাহমুদউল্লাহর পরপর দুই বলে দুই চার হাঁকালেন হাশিম আমলা। দ্বিতীয় চারে পূরণ হলো ফাফ ডু প্লেসির সঙ্গে তার চতুর্থ উইকেট জুটির সেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৩৮৮।

    আমলার ফিফটি: মাহমুদউল্লাহর অফ স্টাম্পের বাইরের বলটা হাশিম আমলা ঠেলে দিলেন সুইপার কাভারে। ১ রান নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান ছুঁলেন পঞ্চাশ। এটি আমলার ৩৬তম টেস্ট ফিফটি। চলতি সিরিজে পঞ্চাশ ছুঁলেন দ্বিতীয়বার। পচেফস্ট্রুমে প্রথম টেস্টের পঞ্চাশকে রূপ দিয়েছিলেন সেঞ্চুরিতে। ব্লমফন্টেইনেও সেটার পুনরাবৃত্তি করেন কি না, কে জানে!

    বাড়ছে রান: চা বিরতির পর দ্রুতই মার্করাম ও বাভুমাকে ফিরিয়েছিলেন শুভাশিস ও রুবেল। তবে সেই ধাক্কা সামলে নিয়েছেন হাশিম আমলা ও ফাফ ডু প্লেসি। দুজনের চতুর্থ উইকেট জুটি ছুঁয়েছে পঞ্চাশ। দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়িয়েছে সাড়ে তিনশ। ৭৫ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান। আমলা ৪২ ও ডু প্লেসি ৩৭ রানে অপরাজিত।

    দক্ষিণ আফ্রিকার তিনশ পার: মুস্তাফিজুর রহমানের করা বুক-উঁচু বল হুক করতে চেয়েছিলেন ফাফ ডু প্লেসি। টপ-এজ হয়ে বল উঠে যায় ওপরে। লং লেগ থেকে দৌড়ে এসে ডাইভ দিয়েছিলেন শুভাশিস রায়। কিন্তু হাতে জমাতে পারেননি বল। বাংলাদেশ পেতে পারত আরেকটি উইকেট। উল্টো হয়ে গেছে চার। ওই চারেই তিনশ ছাড়িয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর।

    শুভাশিসের দ্বিতীয় শিকার: আবারও দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে আঘাত হেনেছেন শুভাশিস রায়। অফ স্টাম্পে তার লেংথ বলে উইকেটরক্ষক লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন টেম্বা বাভুমা (৭)। ইনিংসে শুভাশিসের এটি দ্বিতীয় উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ২৮৮।

    রুবেলের বলে বোল্ড মার্করাম: চা বিরতির পর বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দিয়েছেন রুবেল হোসেন। তার ১৪০.২ কিলোমিটার গতির ডেলিভারিতে উপড়ে গেছে মার্করামের মিডল স্টাম্প। ১৮৬ বলে ২২ চারে ক্যারিয়ার সেরা ১৪৩ রান করেন আগের টেস্টে অভিষেক হওয়া মার্করাম। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ২৭৬।

    দ্বিতীয় সেশনে এক উইকেট পেল বাংলাদেশ: প্রথম সেশনের থেকে দ্বিতীয় সেশনে আরও দ্রুত রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে দ্রুত রান তুললেও এই সেশনে ১ উইকেট হারিয়েছে তারা। ২৭ ওভারে ১৩০ রান করেছে চা-বিরতির আগে। ১১৩ রানে শুভাশীষের বলে সাজঘরে ফিরেছেন ডিন এলগার। হাশিম আমলা ১ ও আইডেন মার্করাম ১৩৫ রানে অপরাজিত আছেন। উদ্বোধনী জুটিতে মার্করাম ও এলগার করেছিলেন ২৪৩ রান।

    বাংলাদেশের রিভিউ নষ্ট: শুভাশিসের করা ৫৬তম ওভারের তৃতীয় বলে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করলেন হাশিম আমলা। বাংলাদশ শিবির এলবিডব্লিউ আবেদন করল। অস্ট্রেলিয়ার আম্পায়ার ব্রুছ অক্সেফোর্ড বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দিলেন না। শুভাশিসের ইচ্ছায় মুশফিক রিভিউ নিলেন। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্ট্যাম্পের লাইনে ছিল না। ফলে রিভিউ নষ্ট হয় বাংলাদেশের।

    ফিরে জুটি ভাঙলেন শুভাশিস: মুমিনুল হকের পরিবর্তে ৫৪ ওভারে শুভাশিসের হাতে বল তুলে দেন মুশফিক। বোলিংয়ে ফিরে বাংলাদেশকে উইকেট উপহার দিলেন ডানহাতি এ পেসার। শুভাশিসের দেয়া শর্ট বল পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন ১১৩ রান করা এলগার। দৌড়ে দারুণ দক্ষতায় বল তালুবন্দি করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ১৫২ বলে ১৭ বাউন্ডারিতে ইনিংসটি সাজান এলগার। তার বিদায়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে বাংলাদেশ শিবিরে। এলগারের আউট হওয়া সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১ উইকেটে ২৪৩।

    জীবন পেলেন এলগার: মুস্তাফিজের বাউন্সারে পুল করতে গেলেন সেঞ্চুরিয়ান ডিন এলগার। ব্যাটে-বলে সংযোগ ঠিকমত হলো না। গ্লাভসের ছোঁয়া পেয়ে বল গেল উইকেট রক্ষক লিটন কুমার দাসের মাথার ওপর। কিন্তু শূণ্যে লাফিয়েও বল তালুবন্দি করতে ব্যর্থ লিটন। লিটনের ডানহাতে বল রিফ্লেক্ট হওয়ার পর স্লিপে থাকা সৌম্যও ঝাঁপ দিয়েছিলেন ক্যাচ নিতে। চেষ্টা করেছিলেন লিটনও। কিন্তু বল তালুবন্দি করতে পারেননি কেউই। ১১০ রানে জীবন পান এলগার। ৫০ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান বিনা উইকেটে ২২৫।
    মার্করামের সেঞ্চুরি: তাকে বলা হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ভবিষ্যত। বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমেই কথা রেখেছিলেন তিনি। বলছি আইডেন মার্করামের কথা। ডানহাতি এ ওপেনার বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৯৭ রান। ৩ রানের জন্য পাননি প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ। এবার ভুল করেননি। বিচলিত হননি নার্ভাস নাইন্টিজে। রুবেলের করা ৪৪তম ওভারে পরপর দুটি চার মেরে ৯৩ থেকে ১০১ রানে পৌঁছান মার্করাম। ১৪১ বলে ১৬ বাউন্ডারিতে মাইলফলক ছুঁয়েছেন ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। ৪৪ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান বিনা উইকেটে ২১১।

    দ্ইুশ রানের জুটি মার্করাম-এলগারের: ২৫০ বলে ২০০ রান তুলেছেন স্বাগতিক দলের দুই ওপেনার ডিন এলগার ও আইডেন মার্করাম। প্রথমবারের মতো জুটিতে দুইশ রান করলেন তারা।

    এলগারের দশম সেঞ্চুরি: তাইজুলের করা ৪১তম ওভারের তৃতীয় বল স্কয়ার লেগ বাইরে পাঠালেন ডিন এলগার। ৯৪ থেকে এলগার পৌঁছে যান ৯৮ রানে। পরের বলটিতে কভার ড্রাইভ করে আবারও মাঠের বাইরে পাঠান বাঁহাতি ওপেনার। এ বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি সেঞ্চুরি নেন এলগার। বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তার। ১১৬ বলে ১৭ বাউন্ডারিতে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন এলগার। ৪১ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান বিনা উইকেটে ১৯৮।

    চোট পেয়ে মাঠের বাইরে ইমরুল: মুস্তাফিজের বলে স্লিপে ফিল্ডিং করতে গিয়ে হাঁটুতে চোট পান ইমরুল কায়েস। এরপর সতীর্থদের সহায়তায় মাঠের বাইরে যান ইমরুল। ইমরুলের পরিবর্তে ফিল্ডিং করছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

    প্রথম সেশন দক্ষিণ আফ্রিকার: উইকেটে ঘাস দেখে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। পরিকল্পনা ছিল প্রথম ঘন্টায় উইকেট থেকে সুবিধা আদায় করে নিবেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনারের দারুণ ব্যাটিংয়ে ব্লুমফন্টেইন টেস্টে শুরুতেই পিছিয়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বোলাররা কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেননি। প্রথম সেশনে বিনা উইকেটে ২৯ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলেছে ১২৬ রান। ৪.৩৪ গড়ে রান করেছেন ডিন এলগার ও আইডেন মার্করাম। ক্যারিয়ারের নবম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে এলগার ৭২ রানে অপরাজিত আছেন। মার্করাম তুলে নিয়েছেন দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি। তার রান ৫৪।
    মার্করামের দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি: তাইজু্লরে করা ২৮তম ওভারের চতুর্থ বলে ডাউন দ্য উইকেটে এলেন আইডেন মার্করাম। দারুণ ড্রাইভে মিড অন ও মিড উইকেটের মাঝ দিয়ে বল পাঠালেন বাউন্ডারিতে। ৪৭ থেকে মার্করাম পৌঁছে যান ৫১ রানে। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি। পচেফস্ট্রুমে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৯৭ রান।

    শতরানের জুটি এলগার-মার্করামের: রুবেল হোসেনের করা ২৫তম ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি তুলে ‍জুটির সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ডিন এলগার। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসেও শতরানের জুটি গড়েছিলেন এলগার-মার্করাম। জুটিতে এলগার ৬২ রান ও মার্করাম যোগ করেন ৪০ রান।

    এলগারের ৫০: শুভাশীষের করা ২১তম ওভারের প্রথম বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ৪৮ থেকে ৫২ রানে পৌঁছান ডিন এলগার। এটি তার ক্যারিয়ারের নবম হাফ-সেঞ্চুরি। মাইলফলকে পৌঁছতে ৫৯ বল খেলেন এলগার। ইনিংসটি সাজাতে ১০টি বাউন্ডারি মেরেছেন বাঁহাতি ওপেনার।

    দ্রুত রান তুলছে দক্ষিণ আফ্রিকা: প্রায় প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি পাচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা। প্রোটিয়া দলের বর্তমান রান রেট ৩.৯২। বোলাররা কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারছেন না। ৭৭ বলে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলে নিয়েছে ৫০ রান।

    এলগারের এক হাজার: চলতি বছর ব্যাট হাতে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার ডিন এলগার। ৯৮৪ রান নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামেন। শুভাশীষের করা চতুর্থ ওভারের শেষ বলে চার মেরে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে চলতি বছরে এক হাজার রানের ল্যান্ডমার্কে পৌঁছান এলগার। ৮৫১ রান নিয়ে দুইয়ে ভারতের চেতেশ্বর পুজারা। ১৬ রানে ব্যাটিং করছেন এলগার। দক্ষিণ আফ্রিকার ওই সময়ে রান বিনা উইকেটে ২৩।

    চার পরিবর্তনে বাংলাদেশ: চারটি পরিবর্তন আনা হয়েছে বাংলাদেশ দলে। ইনজুরির কারণে নেই তামিম ইকবাল। দলের বাইরে রাখা হয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ ও শফিউল ইসলামকে। তাদের জায়গায় এসেছেন সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও শুভাশীষ রায়।

    বাংলাদেশ দল: ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, লিটন কুমার দাস, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও শুভাশীষ রায়।

    মরকেলের জায়গায় পারনেল: দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার মরনে মরকেল প্রথম টেস্টে ইনজুরিতে পড়েছিলেন। তার জায়গায় দলে এসেছেন ওয়েন পারনেল।

    দক্ষিণ আফ্রিকা দল: ডিন এলগার, এইডেন মার্করাম, হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা, ফাফ ডু প্লেসি, কুইন্টন ডি কক, আন্দিলে ফিকোযাও, ওয়েইন পারনেল, কেশব মহারাজ, কাগিসো রাবাদা, ডুয়ান অলিভিয়ের।

    টস: পচেফস্ট্রুমের মতো ব্লুমফন্টেইনেও টস জেতেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুশফিক।

    চার বছর পর সাকিব-তামিমকে ছাড়া বাংলাদেশ: ২০১৩ সালের ৮ মার্চ, গলে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। ওই ম্যাচে খেলেননি বাংলাদেশের দুই ধ্রুবতারা সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে ম্যাচটি ড্র করে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচের পর মোট ২৭টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিটি ম্যাচেই এ দুই ক্রিকেটারের যেকোনো একজনকে পেয়েছে বাংলাদেশ। চার বছর পর সাকিব-তামিমকে ছাড়া আবারও মাঠে নামছে টিম বাংলাদেশ।

    ভালো অবস্থানে থেকেই দিন শেষ করল কিউইরা

    বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়ায় তৃতীয় দিন শেষে ভালো অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের দেয়া ৫৯৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৯২ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড। ১১৯ রান নিয়ে টন লাথাম আর ৩৫ রানে অপরাজিত আছেন হেনরি নিকোলস।

    এর আগে ক্যারিয়ারের ষষ্ট শতক তুলে নেন লাথাম। তিন উইকেট হারিয়েও দলকে চাপে পড়তে দেননি তিনি। একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের সংগ্রহ এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পালন করে যান টম।

    দলীয় ২০৫ রানের মাথায় বিপজ্জনক হয়ে উঠার আগেই রস টেইলরকে বিদায় করেন কামরুল হাসান রাব্বি। ভাঙেন ৭৪ রানের পার্টনারশিপও। রিয়াদের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে গেছেন টেইলর। আউট হওয়ার আগে ৪০ রান করেছেন টেইলর।

    কিউই শিবিরে দ্বিতীয় আঘাত হানেন অভিষিক্ত বোলার তাসকিন আহমেদ। দলীয় ১৩১ রানের মাথায় ৭৩ রানের জুটি ভেঙে উইলিয়ামসনকে বিদায় করলেন তাসকিন। আউট হওয়ার আগে ৫৫ বলে ৫৩ রান করেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক।

    ওয়েলিংটন টেস্টে বাংলাদেশের দেয়া ৫৯৫ রানের বিশাল সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কিউইরা। রাব্বীর প্রথম বলেই উইকেট সাজঘরে ফিরে যান জিৎ রাভাল। উইকেট রক্ষক ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২৭ রান করে বিদায় নেন এই বাঁহাতি ওপেনার।

    সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা সাব্বির রহমান খুব একটা হতাশ করেননি। দলকে উপহার দেন ৫৪ রান। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৮ উইকেটে ৫৯৫ রানের পাহাড় গড়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।

    তৃতীয় দিনের শুরুতেই উইকেটের দেখা পায় নিউজিল্যান্ড। পেসার নেইল ওয়াগনারের বলে দ্বিতীয় স্লিপে টেলরের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তাসকিন আহমেদ। নিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তাসকিনের ব্যাট থেকে এলো ৩ রান।

    সাকিব আল হাসানের রেকর্ডময় ডাবল সেঞ্চুরি, মুশফিকুর রহিমের ১৫৯ রানের সুবাদে দ্বিতীয় দিন শেষে ৭ উইকেটে ৫৪২ রান করে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান ২৭৬ বলে ৩১ চারের সাহায্যে করেন ২১৭ রান।

    মুশফিকুর রহিম ২৬০ বলে ২৩ চার ও ১ ছক্কায় করেন ১৫৯ রান। তবে দিনের শেষ বলে আউট হয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০ রানে অপরাজিত থাকেন সাব্বির রহমান।

    বৃষ্টি ও আলোর স্বল্পতায় প্রথম দিন মাত্র ৪০.২ ওভার খেলে ৩ উইকেটে ১৫৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ৬৪ ও সাকিব আল হাসান ৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ৫৬ রান করে বিদায় নেন তামিম।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর:

    বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৫২ ওভারে ৫৯৫/৮ ইনিংস ঘোষণা (তামিম ৫৬, ইমরুল ১, মুমিনুল ৬৪, মাহমুদউল্লাহ ২৬, সাকিব ২১৭, মুশফিক ১৫৯, সাব্বির ৫৪*, মিরাজ ০, তাসকিন ৩, রাব্বি ৬*; বোল্ট ২/১৩১, সাউদি ২/১৫৮, ডি গ্র্যান্ডহোম ০/৬৫, ওয়াগনার ৪/১৫১ স্যান্টনার ০/৬২, উইলিয়ামসন ০/২০)।

    নিউজিল্যান্ড ১ম ইনিংস: তৃতীয় দিন শেষে ৭৭ ওভারে ২৯২/৩ ( রাভাল ২৭, লাথাম ১১৯, উইলিয়ামসন ৫৩, টেইলর ৪০, নিকোলস ৩৫; তাসকিন ১/৭৯, রাব্বি ২/৫৩)

    সিডনিতে হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তান

    সিডনি টেস্টের চতুর্থ দিনে ইউনুস খানের দারুণ এক ইনিংস আর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং তাণ্ডবই দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। ডেভিড ওয়ার্নার-স্মিথদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এক সেশনেই ব্যকফুটে চলে যায় পাকিস্তান। তাইতো তৃতীয় টেস্টের শেষ দিনে সফরকারীদের লড়াইটা ছিলো শুধুই হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর। কিন্তু তা আর পারলো কই। হ্যাজলউড, লায়ন, ও’কিফের শানিত বোলিংয়ে ২৪৪ রানেই অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। ফলে ২২০ রানের বড় ব্যবধানে হেরে তিন ম্যাচ সিরিজটি ৩-০ তে হেরে হোয়াইটওয়াশ হলো মিসবাহ উল হকের দল। জয়ের জন্য শনিবার শেষ দিনে ৪১০ রানের দরকার ছিলো পাকিস্তানের, যা প্রায় অসম্ভব। আর অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিলো ৯টি উইকেট। যা অনেকটা সহজেই তুলে নিতে পেরেছে তারা। কেবল সরফরাজকে ছাড়া। প্রথম ইনিংসে যেমন ইউনিসকে হারাতে পারেনি অজিরা, তেমনি এ ইনিংসেও সরফরাজকে তুলে নিতে পারেনি। যোগ্য সঙ্গীর অভাবে এদিন পাক এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান একাই যা একটু লড়াই চালিয়েছেন। ৭০ বল খেলে আটটি চার ও এক ছক্কায় ৭২ রানে অপরাজিত ছিলেন সরফরাজ। এছাড়া সারজিল ৪০, মিসবাহ ৩৮ এবং আসাদ শফিকের ৩০ রান উল্লেখযোগ্য। অজি বোলারদের মধ্যে হ্যাজলউড ও ও’কিফে ৩টি করে এবং লায়ন ২টি উইকেট লাভ করেন। আর স্টার্ক তুলে নেন ১টি উইকেট। এর আগে সুযোগ থাকলেও পাকিস্তানকে ফলোঅন করাননি স্বাগতিক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। বোলারদের পুঁজি আর হাতে যথেষ্ট ওভার রাখতে দ্বিতীয় ইনিংসে টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করে ২ উইকেটে ২৪১ রানে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে পাকিস্তানের সামনে ৪৬৫ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করায় অস্ট্রেলিয়া। সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস ৫৩৮/৮ ডি ও ২য় ইনিংস ২৪১/২ ডি, ওভার ৩২ (খাজা ৭৯*, স্মিথ ৫৯, ওয়ার্নার ৫৫, হ্যান্ডসকম্ব ৪০*; ওয়াহাব রিয়াজ ১/২৮, ইয়াসির শাহ ১/১২৪)। পাকিস্তান ১ম ইনিংস ৩১৫/১০, ওভার ১১০.৩ (ইউনিস ১৭৫*, আজহার ৭১, সরফরাজ ১৮; হ্যাজলউড ৪/৫৫, লায়ন ৩/১১৫) ২য় ইনিংস ৫৫/১, ওভার ১৬ (শারাজিল ৪০, মিসবাহ ৩৮, শফিক ৩০; হ্যাজলউড ৩/২৯, ও’কিফে ৩/৫৩, লায়ন ২/১০০)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ২২০ রানে জয়ী। সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৩-০ ব্যবধানে জয়ী। ম্যাচ সেরা: ডেভিড ওয়ার্নার (অস্ট্রেলিয়া) সিরিজ সেরা: স্টিভেন স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া)

    মুস্তাফিজকে ‘বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার’ নির্বাচিত করল আইসিসি

    বছর শেষ হওয়ার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকী। তার আগে আজ বৃহস্পতিবার বর্ষসেরাদের তালিকা প্রকাশ করল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

    আই্সিসির রায়ে বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ‘কাটার মাস্টার’ খ্যাত বাংলাদেশের পেস জাদুকর মুস্তাফিজুর রহমান।

    এখন পর্যন্ত ৯ ওয়ানডেতে ১২.৩৪ গড়ে ২৬ উইকেট নিয়েছেন দ্য ফিজ। বেস্ট বোলিং ফিগার ৬/৪৩। টেস্ট খেলেছেন মাত্র ২টি। ২ ইনিংস বল করে নিয়েছেন ৪ উইকেট। বেস্ট বোলিং ফিগার ৪/৫৮। এ ছাড়া ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৩.৯৫ গড়ে নিয়েছেন ২২ উইকেট। বেস্ট বোলিং ফিগার ৫/২২। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পারফর্মেন্স পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়। এই সময়ের মধ্যে ৩ ওয়ানডে খেলে ৮ উইকেট নেন বিশ্ব ক্রিকেটের এই নতুন বোলিং সেনসেশন। একই সময়ে ১০ টি-টোয়েন্টিতে তার উইকেট ১৯টি।

    এ ছাড়া ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এ দুর্দান্ত বোলিং করে বিশ্বকে চমকে দেন তিনি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ১৬ ম্যাচে অবিশ্বাস্য বোলিং করে ১৭ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি। এবারও দলের এই সম্পদকে হাতছাড়া করেনি সানরাইজার্স।

    আইসিসির ‘ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন ভারতের অল-রাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। একইসঙ্গে তিনি টেস্ট ক্রিকেটের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন। শচীন টেন্ডুলকার এবং রাহুল দ্রাবিড়ের পর অশ্বিন ভারতের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে স্যার গ্যারিফিল্ড সোবার্স ট্রফির জন্য নির্বাচিত হলেন। তিনি বর্তমানে টেস্টের সেরা বোলার হিসেবে র‌্যাংকিংয়ের ১ নম্বরে আছেন। একই সঙ্গে তিনি টেস্টের বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডারের আসনটিও দখল করেছেন। ২০১৫-১৬ সেশনে ১৯ টি-টোয়েন্টিতে ২৭ উইকেট নিয়েছেন অশ্বিন। তবে তার ভয়ংকর রূপ দেখা গেছে টেস্ট ফরম্যাটে। চলতি বছরেই ১২ টেস্ট খেলে ৭২ উইকেট নিয়েছেন এই ঘূর্ণি জাদুকর।

    ওয়ানডে ভার্সনের সেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি’কক। টি-টোয়েন্টিতে সেরা ক্রিকেটার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক কার্লোস ব্রাথওয়েট নির্বাচিত হয়েছেন। আফগানিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শেহজাদ নির্বাচিত হয়েছেন সেরা সহযোগী দেশের ক্রিকেটার।