• ?????: বাংলাদেশ

    বুধবার মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করবে হেফাজত

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানাবে হেফাজতে ইসলাম। আগামী বুধবার বেলা ১১টায় দূতাবাস ঘেরাও করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতা নূর হোসেন কাসেমি।

    শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের ভেতরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

    কাসেমি বলেন, যতদিন পর্যন্ত রাজধানীর (জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতি) এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হবে, আমাদের সংগ্রাম চলবেই। আপনারা বুধবারের কর্মসূচি সফল করে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থনকারী আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

    বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে তারা একটি মিছিল করে এবং মোনাজাত করে। এদিকে একই দাবিতে সড়ক বন্ধ করে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিশ।

    দুপুর পৌনে ২টা থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় ব্যারিকেড দিয়ে বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেটের বাইরে দুই পাশের সড়কে অবস্থান নিয়েছে তারা। দুই সড়কের অভিমুখে বেরিকেড দিয়ে সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। মিছিল নিয়ে তাদের বাইতুল মোকাররম সড়কের বাইরে যেতে দেয়া হবে না।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসেডিন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, পবিত্র মসজিদুল আকসাকে ঘিরে গড়ে ওঠা জেরুজালেম নগরীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসেডিন্ট অন্যায়ভাবে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছে। তার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ব মুসলিম নেতারা ও জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    তারা বলেন, জেরুজালেম শুধু ফিলিস্তিনি মুসলমানদের নয়, গোটা মুসলিম উম্মাহর। ইসলামের প্রথম কেবলা বায়তুল মুকাদ্দাসের এ ভূমি মুসলমানদের রক্তের চাইতেও পবিত্র। এটা কখনও কোনো ইহুদি গোষ্ঠীর হতে পারে না।

    হেফাজত নেতৃদ্বয় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট একজন মস্তিষ্কবিকৃত লোক। তার একের পর এক নানা বিতর্কিত ও আগ্রাসনমূলক সিদ্ধান্তে বিশ্বশান্তি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে বিশ্ববাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    তারা বলেন, বিশ্ববাসীর কর্তব্য হলো শান্তি নিরাপত্তার স্বার্থে এ উগ্রবাদী প্রেসিডেন্টের লাগাম টেনে ধরতে সোচ্চার প্রতিবাদে শামিল হওয়া। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কূট রাজনীতি ও আগ্রাসী সমরনীতির কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে চরম অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরজ করছে।

    হেফাজত নেতৃদ্বয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক অধিকৃত ফিলিস্তিনের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার বাদ জুমা হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হওয়ার জন্য হেফাজত নেতাকর্মী, ওলামায়ে কেরাম ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুনভাবে ইন্তিফাদা বা অভ্যুত্থানের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলেও মনে করে সংগঠনটি।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত জামানের খোঁজ মেলেনি, নানা রহস্য

    সোমবার সন্ধ্যায় মেয়েকে আনতে বিমানবন্দরের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। এর কিছুক্ষণ পরই তার ধানমন্ডির বাসায় যান তিন ব্যক্তি। বাসায় ঢুকেই তারা তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এ সময় বাসায় ছিলেন দুই গৃহকর্মী। বাসার ল্যান্ড ফোনে মারুফ জামানের ফোন পেয়েই তারা ওই তিন ব্যক্তিকে বাসায় প্রবেশ করতে দেন। এদিকে বেলজিয়াম থেকে হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বাবার অপেক্ষায় ছিলেন মেয়ে সামিহা জামান।
    কিন্তু তিনি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে এবং বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়ায় উবারে করে বাসায় ফেরেন। বাসায় এসে এম মারুফ জামানকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রাতভর অপেক্ষার পর মারুফ জামানের কোন খোঁজ না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন তার মেয়ে সামিহা জামান। মারুফ জামান কাতার ও ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের বাংলদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের (৬ষ্ঠ শর্ট কোর্স) ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এদিকে মারুফ জামানের নিখোঁজের পর তার ব্যবহৃত গাড়িটি বসুন্ধরা তিনশ’ ফুট রাস্তার পাশ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনে মারুফ জামানের মোবাইল ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে তার সর্বশেষ অবস্থান বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী স্থান কাওলায়। ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, সাবেক এই রাষ্ট্রদূতকে খুঁজে পেতে সারা দেশে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ল্যান্ডফোনে মারুফ জামানের ফোন, সুঠামদেহী তিন ব্যক্তির বাসায় প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং গাড়ি উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
    মারুফ জামান তার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর রোডের ৮৯ নং নম্বর বাড়িতে ছোট মেয়েকে নিয়ে বাস করতেন। ওই বাড়িটির অপর দুই ফ্ল্যাটে তার বড় বোন শাহরিনা কামাল এবং ছোটভাই রিফাত জামান তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বাস করেন। এদিকে নিখোঁজের পর গতকাল বিস্তারিত জানিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শাহরিনা কামাল ও রিফাত জামান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করেন, তাদের ভাই গত ৪ঠা ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিয়ে আসার জন্য নিজেই গাড়ি চালিয়ে ধানমন্ডির বাসা থেকে বের হন। তার কিছুক্ষণ পর ৭ টা ৪৫ মিনিটের দিকে তার বাসার ল্যান্ড ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গৃহপরিচারিকাকে জানান, কেউ তার বাসার কম্পিউটার নিতে আসবে। তার কিছুক্ষণ পর রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে তিনজন সুঠামদেহী ব্যক্তি বাসায় এসে তার ল্যাপটপ, বাসার কম্পিউটারের সিপিইউ, ক্যামেরা ও একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায়। এ সময় তারা ঘরে তল্লাশি চালায়। এরপর থেকে জামানের ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়। ডায়রি নং- ২১৩। সন্ধ্যায় গাড়িটি উদ্ধার করা গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এম মারুফ জামানের দুই মেয়ে ও পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন। তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মারুফ জামানের বড় মেয়ে বেলজিয়ামে পড়াশুনা করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে তারা নিখোঁজ মারুফ জামানকে উদ্ধার করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
    এদিকে গতকাল সরজমিন নিখোঁজ মারুফ জামানের ধানমন্ডির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বাড়িটির তৃতীয় তলার ২/এ নম্বর ফ্ল্যাটে বাস করেন। মারুফ জামানের বাসায় কথা হয়, তার মেয়ে সামিহা জামান, গৃহকর্মী লাকি আক্তার ও বাড়ির দারোয়ান মফিজুল ইসলামের সঙ্গে। সামিহা জামান বলেন, তিনি গত ৪ঠা ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে বেলজিয়াম থেকে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে গিয়ে তার বাবা তাকে নিয়ে আসার কথা। তিনি রওনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেক্ষণ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করে এবং বাবাকে ফোন দিয়ে না পেয়ে চাচা রিফাতকে ফোন দেন তিনি। তখন চাচা তাকে উবারে করে বাসায় ফিরতে বলেন। বাসায় এসেও বাবাকে না পেয়ে এবং দারোয়ানের কাছে বের হওয়ার কথা শুনে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে রাতভর কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন মঙ্গলবার থানায় নিখোঁজ জিডি করেন। সামিহা বলেন, গত এক বছরের মধ্যে তার দাদা-দাদি ও মা মারা যাওয়ার পর নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নেন। খুব চুপচাপ থাকতেন। তেমন কারো সঙ্গে মিশতেন না। মাঝে-মধ্যে গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লংলাতে যেতেন। সেখানে নিজেদের সম্পত্তি দেখাশুনা করতেন। মারুফ জামানের মেয়ে আরো বলেন, কারো সঙ্গে বিবাদ ও আর্থিক লেনদেনও ছিলো না তার বাবার। ফলে কে তাকে অপহরণ করতে পারে সে ব্যাপারে কোনো ধারণাই করতে পারছেন না। এছাড়া কখনো এমন কোনো বিষয় তাদের সঙ্গে শেয়ারও করেননি। সামিহা জামান বলেন, তার বাবা বেশির ভাগ সময়ই বাসায় অবস্থান করতেন। বিভিন্ন নিউজ পড়তেন। সমসাময়িক নিউজগুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়তেন। তিনি বলেন, তাকে আনতে বাসা থেকে বের হওয়া, বাসায় অন্য নম্বর থেকে ফোন করা, তিন ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ এবং পরবর্তীতে নিখোঁজ হওয়া সবমিলিয়ে তাদের কাছে এক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক আর যারাই তাকে অপহরণ করুক তাদের প্রত্যাশা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজে বের করবেন। যে কোনো মূল্যে তিনি তার বাবাকে ফেরত চান। বাসায় নিয়োজিত দু’জন গৃহকর্মীর একজন লাকি আক্তার জানান, যে তিন ব্যক্তি বাসায় এসেছিলো তারা দেখতে বেশ ফর্সা। ৬ ফুটের মতো উচ্চতা। পরনে কালো শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা ছিলো। তিনি বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মারুফ জামান বের হয়ে যান। এরপর সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় দু’টি অজ্ঞাত নম্বর (একটি ০০০১২৩৪৫৬, অপরটি পি) থেকে ল্যান্ড ফোনে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে স্যার নিজেই বলেন, বাসায় লোক গিয়ে ল্যাপটপটা নিয়ে যাবে। এর আধাঘণ্টা পর তারা বাসায় আসে। এসে কম্পিউটারে সিপিইউ, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও একটি স্মার্ট ফোন নিয়ে যায়। এছাড়া বাসার আর কোনো কিছুই তারা নেয়নি। এই গৃহকর্মী বলেন, যারা এসেছিলো তাদের বয়স ৩০-৩২ বছরের মতো হবে। দেখতে ছিমছাম এই তিনজন ১০-১২ মিনিট বাসায় অবস্থান করে। এই বাসায় তিনি ৮ বছর ধরে কাজ করছেন বলেও জানান লাকি আক্তার। বাসার দারোয়ান মফিজুল ইসলাম বলেন, স্যার আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে বের হয়ে যান। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনজন আসেন। বলেন, মারুফ জামানের বাসায় যাবেন। পরে তিনি ওপরে ইন্টারকমে ফোন দিলে গৃহকর্মী তাদের যাওয়ার কথা বলে। মফিজুল ইসলাম বলেন, তারা ভেতরে যাওয়ার সময় ক্যামেরার সামনে মাথা নিচু করে যায়। বাইরে তাদের কোন গাড়ি ছিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা পায়ে হেঁটে এসেছিলো। তাদের সঙ্গে কোনো গাড়ি দেখেননি। ধানমন্ডি থানার ওসি জানান, তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছেন। কিন্তু বাসায় প্রবেশ করার সময় তাদের মাথায় হ্যাট পরা ছিলো। ক্যামেরার সামনে তারা মাথা নিচু করে। ফলে তাদের কাউকেই চেনা যায়নি। তিনি বলেন, নিখোঁজ মারুফ জামানের ফোন নম্বর ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে, ওইদিন ৭টার পর তার অবস্থান ছিলো কাওলা এলাকায়। তাকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সারা দেশে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে।
    গাড়ি উদ্ধার: এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মারুফ জামানের গাড়িটি খিলক্ষেত থানাধীন বসুন্ধরার তিনশ’ ফিট রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। খিলক্ষেত থানা সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় ৩০০ ফিট রাস্তায় খিলক্ষেত থানার এসআই এমএ জাহেদ টহল দিচ্ছিলেন। গাড়িটি দেখে তার কাছে গিয়ে তিনি মালিকের খোঁজ করেন। কাউকে না পেয়ে থানায় ডিউটি অফিসারকে ফোন করে কন্ট্রোল রুমে জানান। পরে নিশ্চিত হন গাড়িটি নিখোঁজ সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের। খিলক্ষেত থানার এসআই জাহেদ বলেন, গাড়িটি অক্ষত অবস্থায় রাস্তার পাশে পার্কিং করা ছিল। কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কিছু হয়নি। লক্‌ড অবস্থায় ছিল। লোকজনের উপস্থিতিতে গাড়িটি খুলে ভেতরে শুধু গাড়ির কাগজপত্র পাওয়া গেছে। পরে সেসব জব্দ তালিকা করে খিলক্ষেত থানায় নেয়া হয়।
    তদন্তে ডিবি: সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান নিখোঁজের ঘটনা থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড টান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। গতকাল ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি।
    এদিকে মারুফ জামানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অক্ষত অবস্থায় গাড়িটি পাওয়া গেছে মানে তিনি কোনো দুর্ঘটনায় পড়েননি। অথবা গাড়ি চোর বা ছিনতাই চক্রের হাতেও পড়েননি। তাহলে তারা গাড়িটি রাস্তার ধারে ফেলে রাখতো না। এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে। এছাড়া বাসায় প্রবেশ করা তিন ব্যক্তি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের বর্ণনা ও ব্যক্তিগত জিনিস নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
    উল্লেখ্য, মারুফ জামান ২০০৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসরে যান।

    ‘রসিক নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে’

    আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবে। নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে নিরাপত্তার জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আজ রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    নুরুল হুদা আরো বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ থেকে ২৩ জন সশস্ত্র অস্ত্রধারী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ৩৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। ২১ ডিসেম্বরে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এর সকল প্রস্তুতি শেষের পথে।

    কাজে আনন্দ লাভ করতে পারলেই সফল হওয়া সম্ভব: অস্কারজয়ী নাফিস

    কাজে আনন্দ লাভ করতে পারলেই সফল হওয়া সম্ভব উল্লেখ করে অস্কারজয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং অ্যানিমেশন বিশেষজ্ঞ নাফিস বিন জাফর তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। এতো সহজেই সফলতার দেখা পাইনি। কাজ করতে করতেই শিখেছি, সামনে এগিয়েছি। কোনো কাজে আনন্দ লাভ করতে পারলেই সে কাজে সফল হওয়া সম্ভব। আজ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত ‘মিট নাফিস বিন জাফর–দ্য অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড উইনার’ শীর্ষক সেশনে তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে নাফিস বলেন, আমার জার্নিটা মসৃণ ছিল না। আমি কাজ করতে করতে শিখেছি। শুরুতে আমি একা ছিলাম। আর এখন আমি টিমকে নেতৃত্ব দেই। সবাইকে ম্যানেজ করাই আমার কাজ। আমার স্বপ্ন আমি অন্যদের সহযোগিতায় পূরণ করছি।

    যার ফলশ্রুতিতে আমি দু’বার অস্কার পেয়েছি। এখন আমার সঙ্গে ৫০০ লোক কাজ করছে। সিনেমা তৈরি একার কাজ নয়। এটি একটি টিম ওয়ার্ক।
    তরুণদের উদ্দেশ্য করে নাফিস বলেন, আপনার যদি এই সেক্টরে কাজ করতে চান তবে থিয়েটারে কাজ করুন। নাটকে কাজ করুন। প্রথমে ছোট গল্প তৈরি করুন। শট ফিল্ম বানান। প্রয়োজনে টিভিতে শিক্ষানবীস হিসেবে কাজ করেন। এসব কাজ করতে করতে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কোন কাজটা ভালো লাগে। একটা নাটক কিংবা ছবিতে শুধু ক্যারেক্টার ছাড়াও পেছনে অনেক কিছু থাকে। সেগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হবে। না হলে ভালো ফিল্ম মেকার হওয়া যাবে না।

    অ্যানিমেশনে ক্যারিয়ার গড়া প্রসঙ্গে নাফিস বলেন, এখানে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে প্রোগ্রামিং ভাষা জানতে হবে। সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ায় আমার এদিকে ধারণা ছিল। অ্যানিমেশনের বাকি বিষয়গুলো আমি কাজ করতে করতেই শিখেছি।

    উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাফিস বিন জাফর ২০০৭ সালে প্রথম অস্কার জেতেন। ′পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ডস এন্ড′ মুভিতে অ্যানিমেশনের জন্য তিনি এই পুরস্কার জেতেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো অস্কার জেতেন ‘২০১২’ ছবিতে ড্রপ ডেস্ট্রাকশন টুলকিট ব্যবহারের জন্য।

    জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে যদি দেশের মানুষ ভোট দেয় তাহলে আবার সরকার গঠন করবেন তিনি। তবে জনগণ ভোট না দিলেও কিছু করার নেই। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে দেশের মানুষকে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

    এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেশটাকে স্বাধীন করেছি, স্বাধীনতার চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ব। তারপর জনগণের ইচ্ছা কাকে ভোট দেবে। আমি নিজেই তো স্লোগান দিয়েছি যে আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব। কাজেই ভোট দিলে আছি না দিলে নাই।’

    সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশ টিভির সাংবাদিক জয় যাদব বলেন, প্রতিবার নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ধরনের জরিপ করান। এবারও করিয়েছেন। সে জরিপের ফলাফল কী এসেছে তা জানতে চান তিনি। প্রশ্ন করেন, কী পরিমাণ আওয়ামী লীগের এমপি ডেঞ্জার জোনে আছেন?

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তত রেড জোনে কেউ নেই।’

    জরিপ করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জরিপের মাধ্যমে তিনি দেখেন যে কে কেমন করছেন, কার কেমন গ্রহণযোগ্যতা। তিনি বলেন, ‘কিন্তু সেটা তো পাবলিকলি বলব না। কারো কোনো দুর্বলতা দেখলে তাকে সতর্ক করি। সেটা তো সবার মধ্যে বলব না।’

    তবে দেশের মানুষ যদি সত্যি উন্নয়ন চায়, তাহলে নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বেছে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে উন্নয়নশীল জাতিতে পরিণত করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগে যেখানে ছিল ভিক্ষুক জাতি, এখন উন্নয়নের রোল মডেল। অন্তত এই জায়গায় বাংলাদেশটাকে নিয়ে আসতে পেরেছি।’

    এ সময় সাংবাদিকদের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে না লিখলে না কি পত্রিকা চলেই না। পত্রিকা পড়ে তো আর দেশ চালাই না। দেশ চালাই ভালোবেসে। বাবার কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে উন্নয়ন করতে হয়। সেভাবেই কাজ করছি।’

    সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মনোনয়নের ব্যাপারে আপনার চিন্তাভাবনা কী?

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটাই উত্তর, শত ফুল ফুটতে দেন। সবাইকে প্রার্থী হতে দেন। এটা তো সবার রাজনৈতিক অধিকার। শত ফুল ফুটবে। তার মধ্যে সময় আসলে আমরা ভালোটা বেছে নেব। কীভাবে বেছে নেব সেটা সময়ই বলে দেবে।’

    আগাম নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পার্লামেন্টারি সিস্টেম অব ইলেকশনে যে কোনো সময় ইলেকশন দেওয়া যায়। কিন্তু এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়িনি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে।’

    দেশে চলমান উন্নয়নকাজের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ না থাকলে তো উন্নয়নকাজ হয় না। আমি চ্যালেঞ্জ দিতে পারি এত অল্প সময়ে কোনো দেশে এত উন্নয়ন কাজ কখনো হয়নি।’

    সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল জানতে চান, খালেদা জিয়া আদালতে জানিয়েছেন যে তিনি শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করেছেন। অথচ সম্প্রতি সৌদি আরবে টাকা পাচারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এ ক্ষেত্রে সরকার কি তাঁকে ক্ষমা করবে?

    এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এমন কী অপরাধ করেছি যে আমি ক্ষমা চাইব? তাঁর (খালেদা জিয়ার) উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া।’

    ‘ছবি বিশ্বাসের গাড়িতে আগুন দিল, ২০১৪-১৫ সালে কীভাবে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। কাজেই ক্ষমাটা ওনার জাতির কাছে চাওয়া উচিত’, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

    এ সময় বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। দেশের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন এই টাকা পাচারের খবর তুলে ধরা হলো না? তিনি বলেন, সৌদিতে যে বিশাল শপিং মল, সম্পদ পাওয়া গেছে। আপনাদের (সাংবাদিকদের) তো এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখি না। এত দুর্বলতা কিসের জন্য? এই যে মানি লন্ডারিং, এটা যে বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার ছেলেরা করেছে এটা তো আমরা বের করিনি। এটা বের করেছে আমেরিকা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেশির ভাগ পত্রিকা কিন্তু আমিই পারমিশন দিয়েছি। সে পত্রিকাগুলোর এতটুকু সাহস হলো না যে খবরটা প্রকাশ করি। কোনো সরকার সাহস পায় নাই, আমি প্রাইভেট চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছি। যাদের এত টাকা তারা জানে কীভাবে মুখ বন্ধ করতে হয়? হতে পারে আপনাদের মুখে কোনো রসগোল্লা ঢুকিয়ে দিয়েছে।’

    এ সময় কম্বোডিয়া সফরের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন শেখ হাসিনা।

    ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে ১৩ লাখ শিশু

    অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নানা ধরনের কাজে বা শ্রমে নিয়োজিত। ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রমিকের সংখ্যা কমলেও এখনো শিশু শ্রমিকের সংখ্যা কমেনি। ১৮টি খাতে এখনো দেশে পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার শিশু কর্মরত, যাদের মধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত আছে বলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে। এ দিকে, সরকার এখন এই শিশুশ্রম বন্ধে ৮৭৮ কোটি ৫৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম-সংশ্লিষ্ট খাত থেকে এক লাখ শিশুশ্রমিককে প্রত্যাহার করে নেয়া।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শিশুশ্রম জরিপের তথ্যানুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ৭ বছরের শিশুর সংখ্যা ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৪, যার মধ্যে কর্মক্ষম শিশুর সংখ্যা হলো সাড়ে ৩৪ লাখ, যাদের বয়স পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে। এদের মধ্যে ১৭ লাখ শিশু রয়েছে, যাদের কাজ শিশুশ্রমের আওতায় পড়েছে। বাকি শিশুদের কাজ অনুমোদনযোগ্য। আর প্রায় ১৩ লাখ ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। এসব শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে তাদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা দেশের সংবিধানের মৌলিক ধারার সাথে সাংঘর্ষিক।
    জরিপের তথ্যানুযায়ী মোট কর্মক্ষম শিশুদের মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ২৪ লাখ ৭০ হাজার, শহরে ৫ লাখ ৭০ হাজার এবং সিটি করপোরেশনে ৪ লাখ ৩০ হাজার। এদের মধ্যে ছেলে শিশু হলো ২১ লাখ এবং মেয়ে শিশুর সংখ্যা হলো সাড়ে ১৩ লাখ। এসব শিশু শ্রমিক কাজ করছে বাসাবাড়িতে, কৃষিতে, উৎপাদনমুখী শিল্পে, নির্মাণ শিল্পে, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়, পরিবহনে।
    কৃষিতে ৩৬.৯ শতাংশ, উৎপাদনমুখী শিল্পে ২৭.৩ শতাংশ, বন বিভাগ, মৎস্য খাতে ২৭.৪৬ শতাংশ, ১৭.৩৯ শতাংশ কাজ করছে সেবা ও পণ্য বিক্রিতে। তবে বিবিএসের ২০০৩ সালের জাতীয় শিশুশ্রম সমীক্ষায় দেখা গেছে, তখন প্রায় ৭৪ লাখ কর্মরত শিশু ছিল। তাদের মধ্যে ৩১ লাখ ৭৯ হাজার শিশুর কাজ শিশুশ্রমের আওতায় ছিল। তবে এক দশকের ব্যবধানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের সংখ্যা কমেছে মাত্র ১১ হাজার। ২০০৩ সালে দেশে ১২ লাখ ৯১ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ছিল।
    এ দিকে, ১৮তম আন্তর্জাতিক শ্রম পরিসংখ্যানবিদদের সম্মেলন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং ২০১৩-এর সংশোধন অনুসারে কর্মরত শিশু বলতে বোঝায়, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টা পর্যন্ত হালকা পরিশ্রম বা ঝুঁকিহীন কাজ করে। এই শ্রম অনুমোদনযোগ্য। আর ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী কোনো শিশু যদি কোনো ধরনের ঝুঁকিহীন কাজও করে, তবে তা শিশুশ্রম হবে। ওরাও কর্মরত শিশুদের মধ্যে পড়ে যায়। অন্য দিকে, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কেউ যদি সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টার বেশি কাজ করে, তা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম হিসেবে স্বীকৃত।
    বিবিএসের জরিপের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮টি খাতে ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৪ জন শিশু ‘শিশুশ্রমে’ নিয়োজিত রয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০ জন মেয়ে শিশু। শিশুশ্রম বেশি দেখা গেছে কৃষিক্ষেত্রে ও কলকারখানায়, সেখানে ১০ লাখের বেশি শিশু কাজ করে। সবচেয়ে বেশি সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু উৎপাদন খাতে বা কলকারখানায় কাজ করে। আর কৃষি খাতে কাজ করে পাঁচ লাখ সাত হাজার শিশু। দোকানপাটে ১ লাখ ৭৯ হাজার শিশু, নির্মাণশিল্পে ১ লাখ ১৭ হাজার শিশু কাজ করে। শিশুশ্রমে নিয়োজিতদের ৫৭ শতাংশের কাজই অস্থায়ী।
    বর্তমানে শিশুশ্রমে নিয়োজিত আছে এমন ১০ লাখ ৭০ হাজার শিশু একসময় স্কুলে গেলেও এখন আর যায় না। আর ১ লাখ ৪২ হাজার শিশু কখনোই স্কুলে যায়নি। এসব শিশুর সবাই দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা বাদ দিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।
    সরকারের নেয়া নতুন কর্মসূচি হিসেবে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০ হাজার শিশু, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩০ হাজার শিশু, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩০ হাজার শিশু এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ২০ হাজার শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা হবে। এই প্রকল্পটির কাজ দেশের ১৪টি জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। আর সেগুলো হলোÑ কুমিল্লা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রামে।
    সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের তৈরী পোশাক খাত ও চিংড়ি রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকাগুলোয় পুরোপুরিভাবে শিশুশ্রম মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা স্বীকার করছেন, কৃষি খাতসহ বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোতে অনেক শিশু শ্রমিক হিসেবে এখনো নিয়োজিত রয়েছে।

    আর সংশ্লিøষ্টরা বলছেন, দেশে শিশুশ্রম কমছে, তবে তা প্রত্যাশিত নয়। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলেও শিশু শ্রমিকের সংখ্যা উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে অল্প বয়সী এসব শিশু অমানবিক পরিশ্রম করছে। এই শ্রম বন্ধে কঠোর আইন থাকলেও তার প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন না থাকায় শিশুশ্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না।
    শিশুশ্রম বন্ধে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করে জোরালভাবে তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা শিশুদের শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের সচেতন করতে মন্ত্রণালয় থেকে নোটিশ জারি করতে হবে। জাতীয় শিশুনীতিতে এটা স্বীকার করা হয় যে, অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে শিশুরা নানা শ্রমে নিয়োজিত হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাম-শহরের কোনো ভেদ নেই।

    ফেনী আওয়ামী লীগ নেতার অভিযোগ নিজাম হাজারীর লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর লোকজন জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল হক। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে আজহারুল হক বলেন, সমপ্রতি ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যে হামলার ঘটনা ঘটে, সেটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। কারণ, সেদিন বেছে বেছে ডিবিসি, চ্যানেল আই, একাত্তর, বৈশাখী টেলিভিশন ছাড়া প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ পুরো ঘটনার নেপথ্য নায়ক নিজাম হাজারী। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত সংবাদ এসেছে। মূলত তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের প্রতিশোধ হিসেবেই নিজাম হাজারী ক্যাডারদের দিয়ে ওই সব গাড়িতে হামলা চালায়।
    জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য আজহারুল হক অভিযোগ করেন, নিজাম হাজারীর ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রোষানলের কারণে তিনিসহ এলাকার অনেক নেতাকর্মী এখন এলাকাছাড়া। এমপির নামে চাঁদা আদায় করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ (সওজ), গণপূর্ত, পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বিভিন্ন হারে কমিশন নেন নিজাম উদ্দিন হাজারী। এছাড়া তার নামে বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে টোল আদায় করা হয়। লিখিত বক্তব্যে আজহারুল হক অভিযোগ করেন, নিজাম উদ্দিন হাজারীর বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা ছিল। সেই মামলায় তিনি নির্দিষ্ট মেয়াদের কম সময় সাজা খাটেন। এ ঘটনায় একটি রিট করেন জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন। এলাকায় আজহারুলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাখাওয়াত। রিট করার কারণে সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী তার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনসহ বিভিন্ন ধারায় অন্তত নয়টি মামলা করেছেন।
    তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ আসনে নিজাম হাজারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার ক্যাডার বাহিনী দ্বারা লুটপাট ও সীমাহীন অনিয়ম শুরু করেন। এসব কাজে যারা তাকে বাধা দিয়েছে তাদেরকে হুমকি-ধমকি ও সন্ত্রাসী হামলা বা পুলিশ প্রশাসন দ্বারা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছেন। তার জিঘাংসার প্রথম শিকার ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম। গত ২০১৪ সালে দিবালোকে তাকে হত্যা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, তার অবৈধ কার্যকলাপ মেনে নিতে পারিনি বলে আমার বিরুদ্ধে এমপি নিজাম হাজারী বিভিন্ন রকম চক্রান্ত শুরু করেন। তার আদেশ ও আঙ্গুলের ইশারায় গোটা প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে। আমি তার ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ব্যাপারে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান, জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা, জেলা তাঁতী লীগের উপদেষ্টা কাজী ফারুক প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

    ৬ নারীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ছড়ালেন ছাত্রলীগ নেতা

    শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। নাম তাঁর আরিফ হোসেন হাওলাদার (২২)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গোসলখানায় গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে গৃহবধূর ভিডিও ধারণ করেন প্রথমে। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেন। সেটাও গোপনে ভিডিও করেন। সেই ভিডিও এখন এলাকার মানুষের হাতে হাতে। এভাবে ফাঁদে ফেলে ছয়জন নারীকে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে। গত ১৫ অক্টোবর থেকে ধর্ষণের ভিডিওগুলো গ্রামের মানুষের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। জানতে চাইলে ভেদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘আরিফ এমন চরিত্রহীন, ভয়ংকর মানুষ এটা আমাদের জানা ছিল না। তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে প্রতারণা করে ভিডিও ধারণ করার মাধ্যমে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ওই এলাকায় যাই। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিই। আর আরিফ হোসেনকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, আরিফ স্থানীয় একটি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র। ২০১৫ সালের জুন মাসে তাঁকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। লোকলজ্জার ভয়ে এসব নারী এ ব্যাপারে কোনো মামলা করেননি। তাঁদের মধ্যে একজন প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেক গৃহবধূ গ্রাম থেকে চলে গেছেন। ঘটনার শিকার কলেজছাত্রীরা লোকলজ্জায় কলেজে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। ঘটনার শিকার এক গৃহবধূর বোন এই প্রতিবেদককে বলেন, আরিফ তার বোনকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করেছেন। ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কয়েক দফায় অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আতঙ্কে ও লোকলজ্জার ভয়ে এখনো মামলা করেননি। এক কলেজছাত্রী বলেন, ‘আরিফ আমাকে শেষ করে দিয়েছে। এখন সমাজে কীভাবে মুখ দেখাব? মরে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ নেই।’ উপজেলা ছাত্রলীগের পদ থেকে বহিষ্কারের পর আরিফ হোসেন এলাকা থেকে পালিয়ে যান। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বাড়ি গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় আছেন, তাও পরিবারের সদস্যরা বলতে পারছেন না। এ বিষয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মুঠোফোনে আরিফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এ কাজ করতে পারেন না। আমি আরিফের বাবাকে নির্দেশ দিয়েছি তাঁকে হাজির করার জন্য। বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ ও আওয়ামী লীগের নেতাদের জানানো হয়েছে। তাঁকে পাওয়া গেলে সামাজিকভাবে বিচার করা হবে।’ ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদি হাসান বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ না পাওয়া গেলে কীভাবে ব্যবস্থা নেব?’ জানতে চাইলে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ভেদরগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন, তা বড় ধরনের সাইবার অপরাধ। পুলিশ ওই ছেলেকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। যেকোনো উপায়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

    প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে আমি শঙ্কিত: গোলাম সারওয়ার

    দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে গোলাম সারওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। দেশ বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক ‘ওয়ার্ল্ডস হেরিটেজ ডকুমেন্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশ তিনি এ কথা বলেন। গোলাম সারওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বপ্নময়ী। তিনি স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করেন। স্বপ্ন দেখাতেও ভালোবাসেন। প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, আমি সব হারিয়েছি। তবে আমরা আপনাকে হারাতে চাই না। তিনি আরও বলেন, আমি গ্রামে গিয়েছে। সব বদলে গেছে। সেখানে দারিদ্র্যতা নেই। হলফ করে বলতে পারি অনেক উন্নয়ন হয়েছে কিন্তু সরকারের উন্নয়ন প্রচার কম হচ্ছে। সরকারের এসব উন্নয়ন প্রচার করতে হবে। গোলাম সারওয়ার বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে কোনো তৎসম শব্দ ব্যবহার করেননি। তিনি সহজ সরল বাংলা ব্যবহার করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে যখন ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন তখন দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সাংবাদিকতা করতেন গোলাম সারওয়ার। সে সময়কার স্মৃতিও বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রথিতযশা এ সাংবাদিক।

    ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি নিয়ে তোলপাড়

    মানিকগঞ্জে নাগ জুয়েলার্সে ফিল্মি স্টাইলে ককটেল ফাটিয়ে এবং পিস্তল উঁচিয়ে ৭শ’ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সর্বত্র চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। পুলিশ ও ডিবি পুলিশের দুই কোটি টাকার চাঁদা দাবির বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। এদের মধ্যে একজন দেশে থাকলেও আরেকজন রয়েছেন ১০ দিনের ছুটিতে দেশের বাইরে। ডাকাতির ঘটনা আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই কর্মকর্তার দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি এখন ‘টক অব দ্য মানিকগঞ্জ’।
    মানিকগঞ্জ জেলা স্বর্ণশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঘুনাথ রায় বলেন, গেল মাসের ৮ই নভেম্বর মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আব্দুল আউয়াল আমাকে এবং সভাপতিকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
    আমরা নাকি অবৈধ স্বর্ণের ব্যবসা করছি, চোরাই স্বর্ণ কিনছি, এসিড ব্যবসা করছি এবং ভারতীয় নাগরিক দিয়ে কাজ করাচ্ছি। এসব নানা অভিযোগ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালান তারা। এসব অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে হলে ওই দুই কর্মকর্তাকে ২ কোটি টাকা দিতে হবে। নইলে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানো হবে।
    স্বর্ণশিল্পী সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান তোতা বলেন, ৯ই নভেম্বর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আব্দুল আউয়াল আবারো আমাদের দুই জনকে তার অফিসে ডেকে নেন। এসময় ছিলেন এনএসআই-এর সহকারী পরিচালক চৌধুরী আসিফ মনোয়ার। তারা দুজন মিলে আমাদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন আর দুই কোটি টাকা দাবি করেন। তারা আমাদের দুই জনের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেন।
    এক পর্যায়ে আমরা ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলে চৌধুরী আসিফ আমাদের বলে উঠেন, আমরা কি ফকিরের ভিক্ষা চাচ্ছি? এ কথা শোনার পর আমরা সেখান থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করি। পরে ওই দুই কর্মকর্তা মিনিট কয়েক পর আবারো আমাদের ডেকে নিয়ে টাকার পরিমাণ কমিয়ে সর্বশেষ ৭০ লাখ টাকা ধার্য করে দেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে আমাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে জানাবো বলে সেখান থেকে বের হয়ে আসি। বিষয়টি আমরা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে জানাই। পরে দোকান ভেদে চাঁদা তোলার কাজও চলছিল। তার আগেই নাগ জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়ে গেল।
    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আব্দুল আউয়াল তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নেতাদের আনা অভিযোগের বিষয়ে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণশিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তার অফিসে ডেকে আনা হয়েছিল ঠিকই। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা অবৈধ স্বর্ণের ব্যবসা, অনুমতি ছাড়া এসিড ব্যবহার এবং চোরাই স্বর্ণ কেনেন। শুধুমাত্র এসব বিষয় জিজ্ঞাসা করা হয়। আমার সঙ্গে ছিল জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহকারী পরিচালক চৌধুরী আসিফ মনোয়ার। তাদের কাছে কোনো টাকা পয়সা চাওয়া হয়নি। তবে পরে এনএসআই কর্মকর্তা আসিফ কোনো টাকা চেয়েছিল কিনা সেটা আমার জানা নেই।
    ঘটনা সম্পর্কে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমি কাউকে ছাড় দেই না। যদি এই ঘটনার সঙ্গে পুলিশ কিংবা রাজনৈতিকসহ যে কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের অবশ্যই কোর্টে পাঠাবো। দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আরো দুজনকে গ্রেপ্তার এবং লুট হয়ে যাওয়া আরো কিছু স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। বাকিদেরও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ধরা হবে।
    ওদিকে এনএসআই-এর সহকারী পরিচালক চৌধুরী আসিফ মনোয়ার এখন স্ত্রী নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির সময় হাতে লেখা বিশেষ টোকেন দিয়েছিলেন চৌধুরী আসিফ মনোয়ার। টোকেনে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর ছিল। টোকেনের এক পাশে স্বর্ণ ব্যবসায়ী দুই নেতার স্বাক্ষরও রয়েছে। ওই টোকেনকে কেন্দ্র করে এখন রহস্য আরো জোরালো হয়ে উঠেছে।
    টোকেন সম্পর্কে স্বর্ণশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঘুনাথ বলেন, আমাদের কাছে ওই টোকেন দেয়া হয়েছিল যাতে চাঁদার টাকা জোগাড় হলে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি। টোকেনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর কিভাবে এলো এ প্রসঙ্গে রঘুনাথ রায় বলেন, আমরা যখন পুলিশ সুপার মহোদয়কে বিষয়টি জানাই তখন পুলিশ সুপার আমাদের কাছে জানতে চান কে টাকা চেয়েছে। তখন তাকে টোকেনটি দেখালে তিনি সেটাতে আমাদের স্বাক্ষর নেন।
    ওদিকে গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের স্বর্ণকারপট্টির নাগ জুয়েলার্সে সশস্ত্র ডাকাতি হয়। লুট হয়ে যায় প্রায় ৭০০ ভরি স্বর্ণালংকার। ওই দিন রাতে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতদের একটি মাইক্রোবাস থামানো হলে ডাকাতদের সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময় হয়। এসময় দুজন এসআইসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।