• ?????: ধর্ম ও জীবন্‌

    রোববার পবিত্র আশুরা

    রোববার ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। মুসলিম উম্মাহর কাছে এ দিনটি একই সঙ্গে ধর্মীয়ভাবে গভীর তাৎপর্যময় ও বেদনাদায়ক। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে ৬১ হিজরি সনের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীসহ শাহাদাত বরণ করেন। আরবিতে আশুরা অর্থ ১০। শোকের এ দিনটি তাই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে আশুরা নামে পরিচিত। শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা বিশেষভাবে পালন করলেও সব মুসলমানের কাছেই এ দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। হাদিস শরিফ ও প্রাচীন ধর্ম ইতিহাস মতে, মহররমের ১০ তারিখ বা আশুরাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঐশী ঘটনা ঘটেছে। তাই যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাণীতে বলেন, ইসলামের আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) ও তার ঘনিষ্ঠ সহচররা যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিতে ভাস্বর পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, পবিত্র আশুরা মানব ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তার পরিবারবর্গ যে আত্মত্যাগ করেছেন, মুসলিম উম্মাহর জন্য তা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী সব অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। এ ছাড়া পৃথক বাণী দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বাণীতে হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) ও তার পরিবারবর্গের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবাইকে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি। রাসূলুল্লাহর (সা.) ওফাতের পর প্রতিষ্ঠিত খেলাফত টিকিয়ে রাখা ও অনৈসলামিক রাজতন্ত্রকে রুখে দেওয়ার লড়াইয়ে ইরাকের ফোরাত নদীতীরে কারবালা মরুপ্রান্তরে হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) ও তার ৭২ সঙ্গী শাহাদাত বরণ করেন। এর আগে হত্যাকারী ইয়াজিদ বাহিনী তাদের দীর্ঘসময় অবরোধ করে রাখে। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ইমানের শক্তিতে বলীয়ান ইমাম হুসাইন (রা.) আত্মসমর্পণ করেননি। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি লড়াই চালিয়ে যান। আশুরা উপলক্ষে রোববার সরকারি ছুটি। প্রতি বছরের মতো এবারও শিয়া সম্প্রদায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল বের করবে। ইতিমধ্যে রাজধানীর হোসেনী দালানে তার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায় ছাড়াও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিনটি পবিত্র কোরআনখানি, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল, জিকির-আজকার, আলোচনা সভা, নফল নামাজ আদায়, দান-খয়রাতের মাধ্যমে পালন করেন। অনেকে নফল রোজাও রাখেন এই দিনে। আশুরা উপলক্ষে বেতার ও টেলিভিশনে প্রচার করা হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশ পাচ্ছে বিশেষ নিবন্ধ।

    ইমাম মাহদি (আ.)’র বাবার কয়েকটি অলৌকিক ঘটনা

    আজ থেকে ১২০৬ চন্দ্রবছর আগে ২৩২ হিজরির এই দিনে তথা ৮ই রবিউসসানি মানবজাতির শেষ ত্রাণকর্তা হযরত ইমাম মাহদী (আ.)’র বাবা হযরত হাসান আসকারি (আ.) জন্ম নিয়েছিলেন পবিত্র মদিনায়।

    শাসকদের চাপের মুখে ইমাম আসকারি (আ.) ও তাঁর পিতা ইমাম হাদী (আ.) প্রিয় মাতৃভূমি মদিনা শহর ছেড়ে আব্বাসীয়দের তৎকালীন শাসনকেন্দ্র সামেরায় আসতে বাধ্য হন।

    তাঁর পিতা হলেন দশম ইমাম হযরত হাদী (আ.) ও মাতা ছিলেন মহীয়সী নারী হুদাইসা (সালামুল্লাহি আলাইহা)।

    সামেরায় ততকালীন শাসকদের সামরিক কেন্দ্র তথা ‘আসকার’ অঞ্চলে কঠোর নজরদারির মধ্যে ইমাম আসকারি (আ.)-কে বসবাস করতে হয়েছিল বলে তিনি আসকারি নামেও পরিচিত ছিলেন। এই শুভ দিন উপলক্ষে সবাইকে জানাচ্ছি সালাম ও মুবারকবাদ এবং বিশ্বনবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শানেও পেশ করছি অশেষ সালাম আর দরুদ।

    কঠোর প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইমাম হাসান আসকারি (আ.) অশেষ ধৈর্য নিয়ে তাঁর অনুসারীদেরকে জ্ঞানগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকসহ সব ক্ষেত্রেই পথনির্দেশনা দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

    পিতা ইমাম আলী নাকী তথা হাদী (আ.)’র শাহাদতের পর ইমাম হাসান আসকারি (আ.) ২২ বছর বয়সে ইমামতের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি ৬ বছর ধরে ইসলামী জাহানের পথপ্রদর্শকের দায়িত্ব পালনের পর মাত্র ২৮ বছর বয়সে ২৬০ হিজরিতে শাহাদত বরণ করেন।

    ইমাম হাসান আসকারি (আ.)’র অনেক মু’জিজা ও অদৃশ্য কর্মকাণ্ডের কথা জানা যায়। যেমন, তিনি মানুষের মনের অনেক গোপন কথা বা বাসনা জেনে তাদের সেইসব বাসনা পূরণ করেছেন, অদৃশ্যের অনেক খবর দিয়েছেন, নানা ভাষাভাষী ভৃত্যদের সঙ্গে তাদের নিজ নিজ ভাষায় কথা বলেছেন। ইমামের সবগুলো মু’জিজা তুলে ধরলে একটি বই লেখার দরকার হবে। আমরা এখানে ইমামের কয়েকটি মু’জিজা বা অলৌকিক ক্ষমতার ঘটনা তুলে ধরব। ইমামের একটি মু’জিজার ঘটনা এরূপ যে, মুহাম্মাদ ইবনে আইয়াশ বলেন,একদিন আমরা কয়েকজন একত্রে বসে ইমাম হাসান আসকারি (আ.)’র মু’জিজা সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। আমাদের মাঝে অবস্থানরত এক এক নাসিবি তথা বিশ্বনবী (সা,)’র আহলে বাইতের বিদ্বেষী বলল: আমি কয়েকটা প্রশ্ন কালিবিহীন কলম দিয়ে লিখব। যদি ইমাম জবাব দিতে পারেন তাহলে বিশ্বাস করব যে তিনি সত্যিকারের ইমাম। আমরা সে কথা মত কতগুলো বিষয় লিখলাম নাসিবির কালিবিহীন কলমে। আর নাসেবি তার প্রশ্নগুলো লিখল একই কলমে। আমরা সেগুলো ইমাম হাসান আসকারি (আ.)’র কাছে পাঠালাম। ইমাম সবগুলো প্রশ্নের উত্তর লিখে পাঠালেন এবং নাসেবির কাগজের ওপর তার নাম, তার বাবার নাম ও তার মায়ের নাম লিখে পাঠালেন। নাসেবি তা দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেললো। তাঁর হুশ ফিরে আসার পর সে ইমামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করল ও ইমামের একনিষ্ঠ অনুসারীদের মধ্যে শামিল হল। (কাশফুল গাম্ম, খণ্ড-৩, পৃ-৩০২)

    আবু হাশিম জা’ফরি বলেন: একবার চেয়েছিলাম ইমাম আসকারি (আ.)’র কাছে একটি আংটি তৈরি করার মত সামান্য রূপা সাহায্য চাইব। ইমামের সাক্ষাতে গেলাম, বসলাম। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম সম্পূর্ণ ভুলে গেলাম। এরপর যখন আসার জন্য রওনা হলাম ইমাম আমাকে একটি আংটি দিয়ে বললেন, রূপা চেয়েছিলে, আমি নাগিন (মহামূল্যবান পাথর-বিশিষ্ট আংটি) দিলাম এবং আংটির মজুরি অতিরিক্ত লাভ হিসেবে পেলে। তোমার মঙ্গল হোক। বললাম: হে আমার মাওলা, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি আল্লাহর অলি ও আমার ইমাম। আপনার অনুসরণ আমার ধর্মীয় কর্তব্য। তিনি বললেন: হে আবুল হাশিম, আল্লাহ তোমায় ক্ষমা করুক। (উসুলে কাফি, খণ্ড-১, পৃ-৫১২)

    মুহাম্মাদ ইবনে রাবি শাইবানি বলেছেন: একবার আহওয়াজে (ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ) এক দ্বিত্ববাদীর সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়েছিলাম। এরপর সামেরা গিয়েছিলাম। ওই দ্বিত্ববাদীর যুক্তির কিছু প্রভাব আমার ওপর পড়েছিল। ফলে একত্ববাদের ওপর কিছু সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। একদিন আহমদ ইবনে খুসাইব-এর বাড়িতে বসেছিলাম এমন সময় ইমাম হাসান আসকারি (আ.) এক সভা থেকে এলেন। তিনি আমাকে লক্ষ্য করলেন এবং আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বললেন: আল্লাহ এক এবং তাঁকে অদ্বিতীয় মেনে নাও। আমি বেহুশ হয়ে পড়লাম। (কাশফুল গাম্ম, ইমামগণের আধ্যাত্মিক অধ্যায়, খণ্ড-৩, পৃ-৩০৫)

    আবু হামজা বলেন, অনেকবার দেখেছি ইমাম তাঁর খাদেমদের সঙ্গে (যারা বিভিন্ন দেশী, যেমন, তুর্কি, রুমি, রাশিয়ান ও অন্যান্য ভাষাভাষী ছিল) তাদের নিজ নিজ ভাষায় কথা বলতেন। আমি অবাক হয়ে যেতাম এবং মনে মনে বলতাম… ইমাম মদীনার অধিবাসী অথচ কিভাবে তিনি এত ভাষায় কথা বলেন।

    ইমাম আমার দিকে ফিরে বললেন: মহান আল্লাহ তাঁর প্রতিনিধিদের অন্যান্য সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং সব কিছুর ওপর জ্ঞান দান করেছেন। (আল্লাহর মনোনীত) ইমামগণ নানা ভাষা, নানা বংশ পরিচয় ও জরুরি বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকেন। যদি এ রকম না হত তাহলে সাধারণ মানুষ ও ইমামগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকতো না। (ইরশাদ, শেখ মুফিদ, পৃ-৩২২)

    আবু হাশিম জাফরি বলেন: এক ব্যক্তি ইমামকে প্রশ্ন করেন নারী কেন অবহেলিত যে পিতার সম্পদের দুই ভাগ পায় ছেলে অথচ নারী পায় মাত্র এক ভাগ? ইমাম বলেন: এর কারণ, জিহাদ করা, সাংসারিক খরচাদি চালানো পুরুষের দায়িত্ব এবং ভুলবশত: কাউকে হত্যা করলে তার জরিমানা তথা দিয়া দেয়াও পুরুষের ওপর অর্পিত হয়। আর এসব কিছুই নারীর দায়িত্ব বহির্ভূত।

    আবু হাশিম বলেন, আমি মনে মনে বললাম এর আগে শুনেছি যে ইবনে আবিল উজজা ইমাম সাদিক্ব (আ.)’র কাছে ঠিক একই প্রশ্ন করেছিল এবং ঠিক এরকম জবাবই পেয়েছিল। ইমাম আসকারি (আ.) তখন আমার দিকে ফিরে বললেন: হ্যাঁ, ঠিক একই প্রশ্ন ইবনে আবিল উজজা করেছিল। আমাদের যে কারো কাছেই (বিশ্বনবী-সা. ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের সদস্যদের) যখন একই প্রশ্ন করা হয় তার উত্তরও আমরা একই রকম দিয়ে থাকি। পরবর্তী ও পূর্ববর্তী ইমামের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। জ্ঞানগত বিষয়ে আমাদের প্রথম ও শেষ সমমর্যাদার অধিকারী, তবে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ.)’র বিশেষত্ব ও মর্যাদা অতুলনীয়। (কাশফুল গাম্ম, খণ্ড-৩, পৃ-৩০৩)#

    আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

    আজ মঙ্গলবার ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। এদিন আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস। বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়সহ শান্তিকামী প্রত্যেক মানুষের কাছে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হবে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সংগঠন এই দিনটি উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবন নিয়ে আলোচনা, সমাবেশ, মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত এবং ধর্মীয় শোভাযাত্রা। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বাণী দিয়েছেন। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সরকারি ছুটি। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক এ উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোমবার থেকে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব চত্বরে আজ বাদ বাদ মাগরিব ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ঈদ-ই মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন, ধর্ম সচিব মো. আবদুল জলিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর আলহাজ মিসবাহুর রহমান চৌধুরী এবং গভর্নর শায়খ আল্লামা খন্দকার গোলাম মাওলা নকসেবন্দি। পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার, ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ও মহানবী (সা.) জীবনভিত্তিক পোস্টার ও গ্রন্থ প্রদর্শনী, ইসলামী বই মেলা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ক্বিরাত ও হামদ-নাত মাহফিল এবং রাসূল (সা.) শানে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষে ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আহলা দরবার শরীফের সংগঠন তরিকতে মাওলা গ্রুপ বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে রাজধানীতে মহান জশনে জুলুশে ঈদে মিলাদুন্নীর মেমিনার ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আসেকান মাইজভান্ডারী এসোসিয়েশন আজ সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি উদযাপন করবে। প্রধান অতিথি থাকবেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের গদিনশীন পীর, আওলাদে রাসূল (সা.) শাহজাদায়ে গাউছুল আজম শাহসূফী আলহাজ হযরত মাওলানা ছৈয়দ মুজিবুল বশর আল-হাছানী আল-মাইজভান্ডারী। এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। পবিত্র মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আশেকান গাউছিয়া মাইজভান্ডারীর উদ্যোগে ধর্মীয় জশনে জুলুশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- সেমিনার ও র‌্যালি। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নজরুল একাডেমি মগবাজারের নজরুল ভবনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। পবিত্র মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব আজ বাদ আসর জাতীয় প্রেস ক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের ওপর আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। এছাড়া পবিত্র মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশের বিভিন্ন মসজিদে ওয়াজ মাহফিল ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    ঈদে মিলাদুন্নবি (স.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানমালা

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপি অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

    আগামীকাল সোমবার বাদ মাগরিব বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এ অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন।

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন এমপি এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন ধর্মসচিব মোঃ আব্দুল জলিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস’র গভর্নর আলহাজ্জ মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ও গভর্নর শায়খ আল্লামা খন্দকার গোলাম মাওলা নকশেবন্দী।

    আজ রোববার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

    এতে জানানো হয়েছে,উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর ওয়াজ করবেন ভারতের উত্তর প্রদেশের কাছাউছা দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা শাহ্ সৈয়দ মুহাম্মদ মাহমুদ আশরাফ আশরাফী আল জিলানী।

    ১২ থেকে ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত পক্ষকালব্যাপি অনুষ্ঠানমালায় প্রতিদিন বাদ মাগরিব বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দেশবরেণ্য পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরাম প্রত্যেক দিনই মাহফিলে বয়ান করবেন।

    এছাড়াও বাংলাদেশ বেতারের সাথে যৌথ প্রযোজনায় ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপি মহানবী (সা.) জীবন ও কর্মের ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন’র বায়তুল মুকাররম মিলানায়তনে প্রত্যেকদিন বাদ আসর অনুষ্ঠেয় সেমিনার রেকর্ডিং করে বাংলাদেশ বেতার এফ, এম, ১০৬ মেগাহার্জে একই দিন রাত ১০ টা ১৫ মিনিটে প্রচার করা হবে।

    এসব অনুষ্ঠান ছাড়াও ১২ থেকে ২৬ ডিসেম্বর-২০১৬ পর্যন্তÍ বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর সাহানে ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ও মহানবী (সা.) এর জীবনীভিত্তিক পোস্টার ও গ্রন্থ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন বাদ যোহর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী খোলা থাকবে।

    এরবাইরে অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে,স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমানের মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের জন্য ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।

    ফাউন্ডেশনের বায়তুল মুকাররম মিলনায়তন ও বায়তুল মুকাররম মসজিদের মহিলা নামাজকক্ষে অনুষ্ঠেয় এ প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো হচ্ছে, ক্বিরআত, হামদ-না’ত ও রচনা লেখা। এছাড়া জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আরবি ভাষায় খুতবা রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বৈশিষ্ট্যঃ

    প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বৈশিষ্ট্যঃ

    ★ তিনি আদম সন্তানের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও তাদের নেতা। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আমার পালনকর্তার নিকট আদম-সন্তানদের মধ্যে আমিই সর্বাধিক সম্মানিত, এতে অহংকারের কিছু নেই। (তিরমিযী)

    ★ তিনি নবী-রাসূলদের মধ্যে সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “কিয়ামতের দিন আমিই হব নবীগণের ইমাম (নেতা), তাঁদের মুখপত্র এবং তাঁদের সুপারিশ কারী, এতে কোন অহংকার নেই। (বুখারী ও মুসলিম)

    ★ তিনি সর্বপ্রথম পুনরুত্থিত হবেন। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “সকলের আগে আমিই কবর থেকে উত্থিত হব। অতঃপর আমাকে জান্নাতের একজোড়া পোশাক পরানো হবে। যখন সকল মানুষ আল্লাহর দরবারে একত্রিত হবে, তখন আমি তাদের ব্যাপারে বক্তব্য পেশ করব। তারা যখন নিরাশ ও হতাশা গ্রস্থ হবে তখন আমিই তাদেরকে সুসংবাদ প্রদানকারী হব। সেদিন প্রশংসার পতাকা আমার হাতেই থাকবে। (তিরমিযী)

    ★ তিনি সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

    ★ তিনি হাশরের মাঠে সর্ব প্রথম শাফায়াত করবেন এবং সর্ব প্রথম তাঁর শাফায়াত গ্রহণ করা হবে।

    ★ আল্লাহ তাআলা যেমন করে ইবরাহীম (আঃ)কে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। তেমনি নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কেও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

    ★ তিনি এবং তাঁর উম্মতকে ছয়টি বিষয় দ্বারা সম্মানিত করা হয়েছে, যা অন্যান্য নবীদেরকে দেয়া হয়নি। “আমাকে ছয়টি জিনিস প্রদান করে অন্যান্য নবীদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে।
    ১) অল্প কথায় অধিক অর্থপ্রকাশ করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
    ২) ভীতি দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে।
    ৩) গনীমতের সম্পদ আমার জন্য বৈধ করা হয়েছে।
    ৪) পৃথিবীর মাটি আমার জন্য মসজিদ ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে।
    ৫) আমাকে সৃষ্টিকুলের সকলের জন্য রাসূল করে পাঠানো হয়েছে।
    ৬) আমার মাধ্যমেই নবীদের ধারাবাহিকতা শেষ করা হয়েছে। (মুসলিম)

    ★ হাশরের মাঠে নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর হাউয সর্ববৃহৎ। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় আমি আপনাকে হাউযে কাওছার প্রদান করেছি। (সূরা কাওছার-১

    ★ তিনি নিষ্পাপ। তাঁর পূর্বের এবং পরের সমস্ত- ত্রুটি মার্জনা করা হয়েছে। لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا “যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটি সমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন। (সূরা ফাতাহ-২) وَوَضَعْنَا عَنكَ وِزْرَكَ “আমি লাঘব করেছি আপনার বোঝা। (সূরা শারাহ-২)

    ★ আল্লাহর নিকট তিনি ছিলেন সৃষ্টিকুলের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত।

    ★ নবী (সা:) এর কথা মেনে চলা মানেই আল্লাহকে মানা। আল্লাহ বলেন, “যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। (সূরা নিসা- ৮০)

    ছবিটি শেয়ার ও ট্যাগ করে আপনার প্রিয়জনের কাছে পৌছে দিন ইসলামের শ্বাশত বাণী।

    সন্ত্রাসবাদীদের কোনো ধর্ম নেই, কোনো দেশ নেই : হজের খুতবায় আল সুদাইস

    আরাফাত ময়দানে উপস্থিত কয়েক লাখ হাজিদের উদ্দেশে খুতবা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার স্থানীয় দুপুর সোয়া ১২টায় খুতবা শুরু হয়। এবার নতুন খতিব শেখ আব্দুল রহমান আল-সুদাইস মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা ও দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন। সৌদির আরবের সামরিক-বেসামরিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনরা মসজিদে উপস্থিত আছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর খুতবা দিচ্ছেন নতুন খতিব। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শায়খ স্বাস্থ্যগত কারণে এবার খুতবা দেওয়া থেকে অবসর নিলে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম ও শেখ আব্দুল রহমান আল-সুদাইসকে নতুন খতিব নির্বাচন করা হয়। হজের খুতবার শুরুতে আল্লাহতায়ালার প্রশংসা, নবী করিম (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    বিদায় হজের ভাষণ বিশ্ববাসীর জন্য শিক্ষণীয়

    হজের খুতবায় শায়খ সুদাইস বলেন, আল্লাহতায়ালার মেহমান হাজিদের সঙ্গে পবিত্র স্থান জাবালে রহমতে এসে একত্রিত হয়েছি। এ জন্য আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি। আমরা এ জন্য কৃতজ্ঞ যে, আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে পবিত্র এই দিনে এই পবিত্র স্থানে একত্রিত হয়ে তার কাছে দোয়া করার সুযোগ দান করেছেন।

    খুতবায় তিনি বলেন, এই পবিত্র স্থানেই আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের ভাষণ দেন। সেই ভাষণে বিশ্ববাসীর জন্য শিক্ষণীয় অনেক বিষয় রয়েছে।

    ‘যে গালি-অভিশাপ দেয়, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়’

    তিনি বলেন, ইসলামে সুদকে হারাম করা হয়েছে, ইসলামে অজ্ঞতা-মুর্খতা কোনোটারই স্থান নেই। ভুলেও কাউকে গালি দেওয়া যাবে না। যে গালি-অভিশাপ দেয়, সে আমার উম্মতভুক্ত নয়’।

    প্রিয় উপস্থিতি! হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এই পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে, এই জাবালে রহমতে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেছিলেন।

    নবী বলেছেন, আমরা সবাই মুসলমান। মুসলমান কাকে বলে? যতো কঠিনই হোক না কেন, অথবা আমাদের মনপুত হোক বা না হোক, আল্লাহ যা নির্দেশ করেছেন, যে তার সেই নির্দেশের অনুগামী হয় সেই মুসলমান। হে আল্লাহর মেহমানবৃন্দ! আমরা সবাই জানি যে, আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য এই দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। আমাদের নিঃশ্বাস বায়ু সীমিত। সকল জীবকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য আমাদের উচিত হলো, আমাদের এই সীমিত সময়কে সবচেয়ে ভালো কাজে ব্যয় করে, দুনিয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।

    উগ্রতা পরিহার করতে হবে

    ইমাম ও আলেমদের উদ্দেশে আবদুর রহমান আস সুদাইস বলেন, আমরা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত। আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি, ভুলে গেলে চলবে না। মানুষকে দ্বীনের পথে আনতে হবে সুন্দর হৃদয় দিয়ে। বলপ্রয়োগ করে ধর্ম প্রচার করা যাবে না। উগ্রতা পরিহার করতে হবে। ইসলাম প্রচারে সব মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।

    খতিব আরও বলেন, আরব-অনারবের কোনো পার্থক্য নেই। জাতি ও দেশ ভেদের পার্থক্য ইসলাম সমর্থন করে না। এটা নবীর শিক্ষা। তিনি এখানে দাঁড়িয়ে এটা বলেছিলেন। শায়খ সুদাইস বলেন, মুসলমানরা এক অঙ্গভুক্ত। একজনের থেকে আরেকজনকে আলাদা করার সুযোগ নেই। পরস্পরের প্রতি দয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করতে হবে। পরস্পরের মঙ্গল কামনা করতে হবে। বয়ানে তিনি ফিলিস্তিন, ইরাক ও ইয়েমেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের নির্যতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করেন এবং তাদের মুক্তি কামনা করেন।

    তিনি বলেন, মুসলমানরা ভাই-ভাই। আমাদের সেভাবে চলতে হবে। ইসলাম মানবতার ধর্ম, সহানুভূতির ধর্ম। ইসলাম গ্রন্থিত হয়েছে ন্যায়বিচার দ্বারা, সততা দ্বারা ও ভালো ব্যবহার দ্বারা। এটা আমাদের মানতে হবে। আপনারা এটা মানবেন, আপনারা নিরাপদ ভূমিতে যেভাবে চলছেন- হজ পরবর্তী জীবনে সেভাবেই চলবেন।

    যৌবনে গা না ভাসানোর পরামর্শ তরুণদের

    যুবকদের লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ইসলামের প্রচার ঘটেছে তোমাদের মতো যুবকদের হাত ধরে। তোমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি সেটা ভুলবে না। যৌবনে গা ভাসিয়ে চলবে না। অনেক তরুণ ইসলমের মূল শিক্ষা ভুলে ভিন্ন স্থান থেকে ভুল ইসলাম শিখছে। খতিব তাদের সঠিক ইসলামের পখে ফিরে আসার আহবান জানান। বিশ্বব্যাপী চলমান সন্ত্রাসবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে খতিব বলেন, সারাবিশ্ব সন্ত্রাসবাদের যাতাকলে পিষ্ঠ। এটা কাম্য নয়। সন্ত্রাসীরা সমাজকে অস্থির করে তুলছে, ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

    নারীদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে

    খুতবায় তিনি নারীর প্রতি সহানুভূতি প্রদশর্নের কথা বলেছেন, তাদের সকল অধিকারের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেছেন। বিশ্ব নেতাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, মানবতার প্রয়োজনে আলোচনায় বসার আহবান জানিয়েছেন। আলেমদের রাসূলের উত্তরসূরি হিসেবে আখ্যায়িত করে মানুষকে বিভক্ত না করে, ইসলামের সঠিক বিষয় শেখানোর কথা বলেছেন। মানুষের প্রতি ইসলামের আহ্বানকে সহজ করে উপস্থাপনের পাশাপাশি দলাদলি মুক্ত থাকতে বলেছেন।

    সংবাদে মিথ্যা ‍না মেশানোর আহবান

    নতুন খতিব হজের খুতবায় বেশ গুরুত্ব দিয়ে মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, মানুষের চারিত্রিক বিষয়টি মনেপ্রাণে গুরুত্ব দেবেন। সংবাদে মিথ্যা মেশাবেন না। মিথ্যা প্রচার করবেন না। সত্য গোপন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। মানবতার উপকার হয়, সমাজে শান্তি-স্বস্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এমন বিষয় প্রচারের পাশাপাশি ইসলামি আদর্শ ও শিক্ষা প্রচার করবেন।

    পুরো খুতবায় ধর্মীয় উগ্রতা ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান নতুন খতিব। মক্কাকে নিরাপদ নগরী উল্লেখ করে এর নিরাপত্তা যেন অটুট থাকে, সে দোয়াও করেন। ভাষণে শায়খ সুদাইস আরাফার দিনের তাৎপর্যের নানা দিক তুলে ধরেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় খুতবা শেষ হয়। খুতবায় সুন্নতের প্রতি গুরুত্বারোপের সঙ্গে সঙ্গে হজ পরবর্তী চার দিনের কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে বলে দেন।

    সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করবেন। আল্লাহর ইবাদতে বেশি সময় কাটাবেন, নামাজকে গুরুত্ব দেবেন। নবীর প্রতি দরূদ পড়বেন, তার শাফায়াত প্রত্যাশা করবেন। বয়ানে তিনি ইসলামের চার খলিফার নাম উল্লেখ করেন এবং তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।

    ভাষণের শেষ অংশে দোয়ায় তিনি বিশ্ব শান্তি কামনা করে মুসলমানদের ঐক্য প্রত্যাশা করেন। আত্মশুদ্ধি কামনা করেন। আল্লাহর গুণবাচক নিয়ে নিয়ে মানবতার মঙ্গল কামনা করেন। এসময় কান্নার আওয়াজ শোনা যায় আরাফার মাঠ থেকে।

    দোয়ায় তিনি নবীর দেখানো পথে চলার শক্তি কামনা করেন। উপস্থিত হাজিদের জন্য আল্লাহর দরবারে কবুল হজ কামনা করেন। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য দোয়া করেন। সমগ্র বিশ্বের কবরবাসীদের মাগফিরাত কামনা করেন।

    খুতবায় তিনি সৌদি হাজীদের উন্নয়নে গৃহীত সৌদি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে তিনি বাদশাহর সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন ও দোয়া প্রার্থনা করেন।

    দোয়ার মাধ্যমে শায়খ সুদাইস খুতবা শেষ করেন। খুতবার মাঝে বলেন, মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করা বিশেষ কাজ। দীর্ঘ ৩৫ বছর এই মিম্বরে দাঁড়িয়ে শায়খ আবদুল আজিজ আশ শায়খ খুতবা দিয়েছেন। মানুষকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নসিহত করেছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আজ খুতবা দিতে সক্ষম হননি। তার জন্য দোয়া করি, আল্লাহতায়ালা তার ইলমে, হায়াতে বরকত দান করুন। তাকে সুস্থতা দান করুন। আমিন।

    চলতি বছর হজ করেছেন ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৯০৯ জন

    চলতি বছর সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৯০৯ জন হজ করেছেন। মোট হাজির মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণ করেছেন ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৩শ’ ৭২ জন ও সৌদি আরবের আভ্যন্তরীণ হাজির সংখ্যা ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫শ’ ৩৭ জন। সৌদি আরবের পরিসংখ্যান অধিদফতরের সূত্র দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ম্যানেজমেন্ট পোর্টালে সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৮শ’ ২৯ জন। তন্মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ১শ’ ৮৩ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ৯৫ হাজার ৬শ’ ১৪ জন। চলতি বছর সৌদি আরবে সর্বমোট ইন্তেকাল করেছেন ৩৮ জন হজযাত্রী। তন্মধ্যে পুরুষ ২৭ জন, মহিলা ১১ জন। তাদের মধ্যে মক্কায় ২৯ জন, মদিনায় ৮ জন ও জেদ্দায় ১ জন মারা যান।

    হজযাত্রীদের সেবায় বাংলাদেশ হজ কার্যালয়

    মাথার ওপর বাংলাদেশের পতাকা। নিয়ন সাইনবোর্ডে বাংলায় লেখা বাংলাদেশ। ফলে মক্কার ইব্রাহিম খলিল রোডে কুবরি মিসফালাহ ও কার পার্কিংয়ের কাছে বাংলাদেশ হজ কার্যালয় খুঁজে পেতে সময় লাগে না।

    সৌদি আরবে বাংলাদেশ সরকারের হজ কার্যক্রম এখান থেকে পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ থেকে এবার ১ লাখ ১ হাজারের বেশি হজযাত্রী আসছেন। গতকাল সকালে গিয়ে দেখা গেল, বাইরে কয়েকটি গাড়ি। ভবনের প্রবেশমুখে মক্কার মানচিত্র। সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেসব হজযাত্রী এসেছেন, তাঁদের জন্য ভাড়া করা বাড়ির অবস্থান সে মানচিত্রে চিহ্নিত করা আছে।

    বাইরের তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখান থেকে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কার্যালয়ে ঢুকে আরাম পাওয়া গেল। ভবনের ভেতরে ঢুকে মনে হলো, বাংলাদেশে চলে এসেছি। সবাই বাংলায় কথা বলছেন। এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে অভ্যর্থনাকক্ষে রাখা বাক্সে জমা দিতে হয়। পাশে আইটি সেল। হজযাত্রীর নাম, হজযাত্রীর নম্বর, জেলার নাম, ট্রাভেল এজেন্সির নাম অথবা পাসপোর্ট নম্বর, প্রাক-নিবন্ধন নম্বর জানালে তাঁর ছবিসহ সর্বশেষ তথ্য ও অবস্থান জানা যাবে।

    ইব্রাহিম খলিল রোডে দিয়ার আল মাতার হোটে​েলর পাশে বাংলাদেশ হজ মেডিকেল সেন্টার। ঢুকেই আইটি বিভাগ। সেখানে রাখা টাচস্ক্রিনে হজযাত্রীরা পাসপোর্ট নম্বর বা হজ আইডি লিখে অপেক্ষা করছেন। যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসছে ব্যবস্থাপত্রের কপি। তাতে হজযাত্রীর নাম, ছবি, পাসপোর্ট নম্বর, বয়স,
    জেলা, তারিখ এবং আগে সেবা গ্রহণ করলে তার উল্লেখ থাকছে। আইটি কর্মী শাহরিয়ার মাশরেক জানালেন, এ তথ্যসংবলিত কাগজ নিয়ে যেতে হয় চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, হাজিদের মধ্যে সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, শরীরব্যথা, ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনের রোগীর সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশ হজ কার্যালয়ের চিকিৎসক দলনেতা ডা. খিজির হায়াৎ খান জানালেন, প্রতিদিন ৮০০-৯০০ হজযাত্রী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে আসেন।

    চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদুল আজহা ১৩ সেপ্টেম্বর

    শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের কোথাও জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে।
    বায়তুল মুকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শুক্রবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন।
    হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ পালন করেন।
    সভায় বজলুল হক হারুন জানান, সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার বাংলাদেশের আকাশে কোথাও হিজরি ১৪৩৭ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। শনিবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে রবিবার (৪ সেপ্টেম্বর)। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর (১০ জিলকদ) মঙ্গলবার দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে।
    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ১২ সেপ্টেম্বর ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
    ঈদুল ফিতরের পর ঈদুল আজহা মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এ উৎসবে মুসলমানরা তাদের প্রিয় বস্তু মহান আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন। ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে হজব্রত পালনরত অবস্থায় থাকেন। ঈদের দিন সকালে হাজিরা কোরবানি করেন।
    এবার ঈদে ১২, ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটি থাকবে। গ্রামের বাড়িতে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রেল, সড়ক ও নৌপথে রাজধানী ছাড়বেন অসংখ্য মানুষ।
    সভায় ধর্মসচিব মো. আব্দুল জলিল, প্রধান তথ্য অফিসার এ কে এম শামীম চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. আলফাজ হোসেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    তার জন্ম এক ক্যাথলিক পরিবারে। ধর্মটি তার মনকে তৃপ্ত করতে পারতো না। আপন মনে চিন্তা করেছেন, জীবনের চুড়ান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী? কোন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বিশ্ব-সংসারে এত কিছুর আয়োজন? কী করলে পাওয়া যাবে আত্মার শান্তি?
    বলছিলাম বর্তমান সময়ে পিস টিভির জনপ্রিয় বক্তা ও ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ একাডেমির চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম গ্রিনের কথা। তার জন্ম ১৯৬২ সালে তানজানিয়ার রাজধানী দারুস সালামে। জন্ম সূত্রে নাম ছিল এ্যান্থনি ভ্যাটসফ গ্যালভিন গ্রিন। বাবা ছিলেন বিলুপ্ত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ঔপনিবেশিক প্রশাসক। মা ছিলেন রোমান ক্যাথলিক। তিনি চেয়েছিলেন তার দুই ছেলে যেন আদর্শ ক্যাথলিক হিসেবে বড় হয়। এজন্য তাদের একটি বিখ্যাত রোমান ক্যাথলিক আবাসিক স্কুলে ভর্তি করা হয়। স্কুলটির নাম অ্যামপ্লিফোর্থ কলেজ, উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে অবস্থিত। আব্দুর রহিম গ্রিন তার নিজের সম্পর্কে বলেন-
    ”আমার বয়স যখন ২ বছর তখন আমরা দারুস সালাম ছেড়ে চলে আসি। আমার ছোট ভাইয়ের জন্ম লন্ডনে। যখন তার বয়স প্রায় ৮ বছর আর আমার প্রায় ১০ বছর তখন আমাদেরকে সেই আবাসিক স্কুলে পাঠানো হয়। এক রাতে মা আমাকে একটি প্রার্থনা শেখালেন, যে পদ্ধতিতে ক্যাথলিকরা প্রায়ই উপাসনা করে থাকে। এই উপাসনা এভাবে শুরু হয়- ‘হে মেরি! ঈশ্বরের জননী, তুমি আশীর্বাদ করো সকল মহিলাকে এবং আর্শীবাদ করো তোমার গর্ভের সন্তান যিশুকে।’ মনে মনে ভাবলাম, ঈশ্বরের কিভাবে মা থাকতে পারে? ঈশ্বর তো এমন, যার কোনো শুরু নেই এবং শেষও নেই। তাহলে কিভাবে ঈশ্বরের মামনি থাকতে পারে? বসে বসে এই ঈশ্বরের মা সম্বন্ধে চিন্তা করতে লাগলাম এবং নিজেই একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম। যদি মেরি ঈশ্বরের গর্ভধারিণী মা হয়েই থাকেন, তবে তাকেই তো প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বর অপেক্ষা বড় ঈশ্বর গণ্য করা উচিত।”
    greenw3333
    স্কুলে যাওয়ার পর বেশি বেশি পড়াশোনা এবং চিন্তা ও গবেষণা করতে শুরু করলাম। তখন মাথার মধ্যে আরো প্রশ্ন ভাসতে লাগল। স্কুলে আমাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘পাপ’ স্বীকার করতে হতো। যাজক বলতেন, ‘তোমাদেরকে অবশ্যই ছোট-বড় সকল অপরাধ স্বীকার করতে হবে। যদি সব পাপ স্বীকার না করো, তবে পাপ স্বীকারের কোনো মূল্যই নেই এবং তোমাদের কোনো পাপই ক্ষমা করা হবে না। এটা হলো একটা মারাত্মক সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র, যাতে পাপ স্বীকার করিয়ে সাধারণ মানুষদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আমি তাদের প্রশ্ন করতাম, কেন আপনাদের কাছে নিজের সব পাপকর্ম স্বীকার করব? কেন সরাসরি ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চাইতে পারব না? আসলে বাইবেল অনুযায়ী যিশু বলেছেন, শুধু পিতার (ঈশ্বর) কাছেই আমাদের অপরাধ মার্জনার জন্য প্রার্থনা করা প্রয়োজন। তবে কিসের জন্য যাজকের শরণাপন্ন হতে হয়? তারা আমাকে বোঝাতেন; ঠিক আছে, তুমি ঈশ্বরের কাছেও ক্ষমা চাইতে পার, যদি তুমি চাও। কিন্তু তুমি নিশ্চিত হতে পার না ঈশ্বর তোমার নিবেদন আদৌ শুনবেন কি-না। ব্যাপারটা নিয়ে সমস্যায় পড়লাম। চার্চের অন্য মতাবাদগুলো নিয়েও সমস্যায় পড়লাম। তবে সবচেয়ে বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়লাম যে মতবাদ নিয়ে তা হলো অবতারবাদ- একটা ধারণা যা বলে ঈশ্বর মানুষ হয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন।
    যখন ১১ বছরে পা দিই ঠিক তখনই বাবা মিশরে একটি চাকরি পেলেন। তিনি বার্কলেস ব্যাংকের কায়রো শাখার মহাব্যবস্থাপক হলেন এবং তার ফলে আমার পরবর্তী ১০ বছরের ছুটিগুলো মিসরেই অতিবাহিত হয়েছিল। কাজেই আমাকে ইংল্যান্ডের স্কুলেও যেতে হতো, আবার ছুটি পেলে মিশরেও আসতে হতো। আপনারা জানেন, পশ্চিমা সমাজ আমাদের একটা সমীকরণ শিক্ষা দিয়ে থাকে। তারা বলে, ধন-সম্পদ = সুখ-শান্তি। আপনি যদি সুখি হতে চান এবং জীবনটাকে ভালোভাবে উপভোগ করতে চান, তবে আপনার দরকার প্রচুর টাকা-পয়সা। যদিও বাস্তবে ব্যাপারটা আদৌ তা নয়।
    স্কুল আমার কখনোই ভালো লাগত না। নিজেকে প্রশ্ন করতাম, আমি তো আবাসিক স্কুল একদমই পছন্দ করি না তাহলে কেন আমি আমার সবকিছু, সব আত্মীয়-পরিজন ছেড়ে শত শত মাইল দূরবর্তী ইয়র্কশায়ার মুরসের এই স্থানে পড়ে আছি। যখন ইংল্যান্ডে ফিরে যেতাম তখন ভাবতাম, কেন আমি এখানে? আরো ভাবতাম, জীবনের লক্ষ-উদ্দেশ্য কী? কিসের জন্য আমরা বেঁচে আছি? এত সব কিছুর অর্থ কী? ভালোবাসা মানে কী? আমাদের জীবন কিসের জন্য? এই জীবনের প্রকৃত স্বরূপই বা কেমন? এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করতে থাকলাম এবং অবশেষে একটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দাঁড় করালাম। আমি আজ এই স্কুলে আছি কঠোর পরিশ্রম করার জন্য, যাতে পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে পারি, যাতে কোন ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারি, যাতে ভালো বেতনের একটা চাকরি পাই যা আমাকে অঢেল টাকার যোগান দেবে। যাতে করে যখন আমি বিয়ে-শাদি করব এবং আমার ছেলেমেয়ে হবে তখন যেন আমি তাদের সেই একই রকম ব্যয়বহুল প্রাইভেট স্কুলে পাঠাতে পারি এই তো! এটাই তো আমাদের সবার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য! তাহলে এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্যই কি বিশ্ব-সংসারে এত কিছুর আয়োজন? মনে মনে বললাম, অসম্ভব। এটাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হতে পারে না। তাহলে জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য কী?
    ১৯ বছর বয়সে আমার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। যে ১০ বছর আমি মিসরে ছুটি কাটিয়েছিলাম সে দীর্ঘ সময়ে শুধু একজন ব্যক্তির সাথেই ইসলাম নিয়ে আমার গঠনমূলক আলোচনা হয়েছিল।
    ৪০ মিনিট ধরে চলা সেই কথোপকথনের শেষে তিনি আমায় কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন করলেন, যেগুলো আজ পর্যন্ত আমার মস্তিষ্কে বিঁধে হয়ে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সুতরাং আপনি বিশ্বাস করেন যে, যিশুই হলেন ঈশ্বর? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আপনি বিশ্বাস করেন যিশু ক্রশবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন? জবাব দিলাম, হ্যাঁ, নিশ্চিতভাবে। তখন তিনি তার মোক্ষম অস্ত্রটি ছুঁড়লেন, তাহলে আপনি বিশ্বাস করেন ঈশ্বর মারা গেছেন? তিনি যখন এই বাক্যটি উচ্চারণ করলেন, তখন মনে হলো যেন এইমাত্র মাইক টাইসন তার মুষ্টি দিয়ে আমার মুখে জোরসে এক ঘুসি মারলেন। আমি সম্পূর্ণরূপে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ সাথে সাথেই আমি আমার বিশ্বাসের অযৌক্তিকতা এবং নিজের বোকামিটা ধরতে পেরেছিলাম। অবশ্যই এটা বিশ্বাস করা যায় না, ঈশ্বর মারা গেছেন। আপনি তো ঈশ্বরকে খুন করতে পারেন না। এতদিন ধরে আমাকে যা কিছু জানানো হয়েছে, যা কিছু শেখানো হয়েছে, যেগুলো নিয়ে আমি সব সময়ই অস্বস্তিতে থাকতাম সেই সব শিক্ষার অসারতা আমার কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে গেল। উপলব্ধি করলাম, না। আমি তো বিশ্বাস করি না যে, ঈশ্বর মারা গেছেন। কিন্তু আমি সেই লোকের সামনে তা স্বীকার করতে রাজি ছিলাম না। তাই বললাম, ওহ এটাতো কৌতূহলোদ্দীপক। কিন্তু আমাকে এখন বাড়ি ফিরতে হবে। বিদায়। আমি এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে চাচ্ছিলাম না। তাই সেখান থেকে চলে এলাম। সেই কথোপকথনটা ছিল আমার জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। 148851_15
    ১৯-২০ বছর বয়সে আমি ছিলাম এক হিপ্পি। সে সময় আমি নিজের জন্য এক নতুন ধর্ম উদ্ভাবন করলাম। যা ছিল এক জগাখিচুরি ধর্ম। কারণ যে সব ধর্ম নিয়ে আমি পড়াশোনা করেছিলাম সেগুলোর প্রত্যেকটি থেকে কিছু কিছু অংশ একত্রিত করে আমি সেই বিশেষ ধর্ম উদ্ভাবন করলাম। কিন্তু এই নব্য ধর্ম নিয়ে আমি বেশি দূর এগোতে পারিনি। কারণ এটা ছিল এক রকম ময়লা আবর্জনার স্তূপ। যে সব বিধি-বিধান আমি সে ধর্মে যোগ করেছিলাম, সেগুলো ছিল একেবারেই জঘন্য।
    মনে মনে ঠিক করলাম, তাহলে কুরআন নিয়ে একটু চেষ্টা করা যাক। বলা যায় না, সেখানে কোনো অমূল্য রতন থাকলেও থাকতে পারে। আমি কুরআনের একটা অনুবাদ কিনে ফেললাম। শুধুমাত্র কৌতূহলই আমাকে কুরআনের সংস্পর্শে নিয়ে এলো। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মনে আমি কুরআন পড়া শুরু করেছিলাম। কেবল জানার আগ্রহ জেগেছিল যে, এই গ্রন্থ কী বলে। পরিষ্কারভাবে মনে আছে, তখন আমি ট্রেনে ছিলাম। লন্ডনে টেম্স নদীর তীরে আমি বাস করতাম। সেখান থেকে ট্রেনে চেপে ভিক্টোরিয়া যাচ্ছিলাম। ট্রেনের জানালার পাশের সিটে বসে কুরআনের অনুবাদ পড়তে লাগলাম। কিছুক্ষণ পড়ার পর অনুধাবন করলাম, যদি আমি জীবনে কোনো ঐশরিক গ্রন্থ পড়ে থাকি তবে তা এটাই। সত্যি বলতে কী ঐ মুহূর্তেই আমি নিশ্চিত হয়েছিলাম এবং বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম যে, কুরআন হলো আল্লাহর বাণী। তারপর একদিন কোনো এক মসজিদের লাইব্রেরিতে গিয়ে উপস্থিত হলাম। সেখানে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জীবনী এবং বিভিন্ন ইবাদাত-বিষয়ক বেশ কিছু বই দেখে বেজায় খুশি হলাম। হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে পাশে দাঁড়াল এবং জানতে চাইল, দুঃখিত, আপনি কি মুসলিম? মনে মনে বললাম ‘আমি মুসলিম? কী বলছে লোকটা? তাকে জবাব দিলাম, দেখুন, আমি শুধু বিশ্বাস করি, ঈশ্বর মাত্র একজনই যিনি আল্লাহ এবং মুহাম্মাদ (ছা.) হলেন তার বার্তাবাহক। তিনি বললেন, তাহলে তো আপনি মুসলিম। আমি বললাম, সত্যি? আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তারপর তিনি বললেন, এখন ছালাতের সময়। আপনি কি ছালাতে আসতে চান? সম্ভবত সেদিন ছিল শুক্রবার। কারণ দিনের মধ্য ভাগেই মসজিদটি ভরে গিয়েছিল। কিন্তু আমি তো তখনো জুমার ছালাত সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। তবুও মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং সালাতে দাঁড়ালাম। তারপর সালাত শুরু হতেই হতবিহবল হয়ে পড়লাম। আমার ধারণা, পুরোটা সময়ই আমি উল্টাপাল্টাভাবে সালাতের আহকাম আরকানগুলো আদায় করেছিলাম। এখনও স্পষ্ট মনে আছে, সেদিন ছালাত শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মসজিদের মুসল্লিরা আমাকে ঘিরে ধরল এবং তাদের প্রত্যেকেই মাত্র ৫ মিনিটে আমাকে সম্পূর্ণ ইসলামটাই শেখাতে চাইল। এমন এক বিস্ময়কর অনুভূতি নিয়ে আমি সেদিন মসজিদ থেকে বের হয়েছিলাম যেন এইমাত্র আমার বিক্ষিপ্ত, উত্তপ্ত আত্মাকে কেউ যেন ঠান্ডা পানি দ্বারা ধুয়ে দিল। কল্পনার সুখরাজ্যে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে দেখতে পেলাম আমি শুভ্র, সুন্দর, স্নিগ্ধ মেঘের উপর দিয়ে হাঁটছি। এটা ছিল আত্মিক পরিতৃপ্তির এক অসাধারণ অনুভূতি।

    ইতিমধ্যে আমি সত্যি সত্যিই মনে প্রাণে ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধানে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলাম। তা সত্ত্বেও সম্পূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করতে প্রকৃতপক্ষে আমার আরো প্রায় ২ বছর সময় লেগেছিল। আলহামদুলিল্লাহ পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহতাআলা আমাকে সে যন্ত্রণাময় জীবন থেকে মুক্ত করেছেন, আমায় পথ দেখিয়েছেন। এক সময় আমি প্রত্যহ পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করা শুরু করলাম। আল্লাহর কাছে শপথ করলাম যে, যদিও আমি ছালাতের নিয়ম-কানুন, দো‘আ-দরূদ কিছুই ভালো করে জানি না। তবুও অন্য কোনো ইবাদাত না করলেও আমি নিয়মিত সালাত আদায় করবই। এই চ্যালেঞ্জটা আমি খুব গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করলাম এবং সফলও হলাম। যখন ছালাত সঠিকভাবে আদায় হবে, দেখবেন আপনার সম্পূর্ণ জীবটাই পাল্টে যাবে।
    মুসলিম হওয়ার অনুভূতি কেমন ছিল জানতে চাইলে আব্দুর রহিম গ্রিন বলেন, একটা উপমার সাহায্যে বোঝানোর চেষ্টা করছি। ধরে নিন, এক অমাবশ্যার রাতে আপনাকে কেউ সম্পূর্ণ অচেনা একটি পরিত্যাক্ত নির্জন ভুতুড়ে বাড়িতে নিয়ে গেল, যে বাড়ির সর্বত্র চেয়ার, টেবিল, ল্যাম্প ইত্যাদি ভাঙা জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো রয়েছে। তারপর সেই নিকষকালো অন্ধকার বাড়িতে আপনাকে একাকী রেখে বাকি সবাই দরজা বন্ধ করে চলে গেল। আর কোনো পথ না পেয়ে আপনি বের হবার পথ খুঁজতে আরম্ভ করলেন যদিও কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। ফলে এটা ওটার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলেন এবং প্রচন্ড আঘাত পেলেন। কিন্তু মুক্তির কোনো রাস্তা খুঁজে পেলেন না। কাজেই বাধ্য হয়েই আপনাকে সেই অন্ধকার জগতেই বাস করতে হল। কুফরি ব্যাপারটিও ঠিক এমন। আপনার ক্ষেত্রেও ঠিক এমনই ঘটছে, যখন আপনি ইসলাম থেকে বহু মাইল দূরে আছেন। আপনি যেন আঁধার জগতের বাসিন্দা। আপনার আসল গন্তব্য কী তা আপনি জানেন না। কোত্থেকে এসেছেন তাও আপনার অজানা। আপনি এও জানেন না, মানবজীবন বাধা-বিপত্তি, চড়াই-উৎরাই, সমস্যা-সংকটে পরিপূর্ণ এক অত্যন্ত দুর্গম পথ। আর সেই পথ নিরাপদে পাড়ি দেয়ার উপায়ও আপনার সম্পূর্ণ অজানা। একমাত্র ইসলামই পারে সেই আঁধার ঘরের দরজা উন্মুক্ত করতে, যাতে আপনি যন্ত্রণাময় জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে আলোকময় জগতে পা রাখতে পরেন। তখন সবকিছুই আপনার কাছে স্বচ্ছ হয়ে যাবে এবং অনুধাবন করতে পারবেন সত্যি সত্যিই আপনি বেঁচে আছেন না ইতিমধ্যে আপনার আত্মার মৃত্যু ঘটেছে। ইসলাম বয়ে আনে জ্যোতি, তৃপ্তি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি। তাই তো ইসলাম এত মহান! এভাবেই ইসলামের তুলনা করা যেতে পারে।
    মুসলিম হওয়ার পর এখন বাবা-মার সাথে আমার সম্পর্ক আগের তুলনায় অনেক অনেক ভালো আলহামদুলিল্লাহ্। আমি বিশ্বাস করি, আপনি যদি বাস্তবিকই বাবা-মার সাথে সদ্ব্যবহার করতে সক্ষম হন, তবে তারা নিঃসন্দেহে স্বীকার করতে বাধ্য হবেন, ইসলাম আপনাকে আরো দায়িত্ববান করেছে। ইসলাম মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি নম্রতায় অবনমিত করে সর্বোচ্চ সুন্দর ও শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার করার নির্দেশ দেয়। যদি এমন আচরণ করা যায় তবে অমুসলিম পিতা-মাতারাও বলতে বাধ্য হবেন যে, ‘ইসলাম এমন এক ধর্ম যা আমাদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে এবং আমাদের সাথে আমাদের সন্তানদের সম্পর্ক আরো উষ্ণ করে তুলে। আলহামদুলিল্লাহ, বাবা-মার সাথে আমার সম্পর্ক সত্যিই খুব ভালো।
    ফেসবুক : https://www.facebook.com/AbdurraheemGreen/
    টুইটার : https://twitter.com/AbduraheemGreen
    ওয়েবসাইট : http://www.iERA.org

    তথ্যসূত্র : ওয়েবসাইট