• ?????: ধর্ম ও জীবন্‌

    প্রাচীন ও বৃহৎ কোরআনের প্রদর্শনী চলছে মসজিদে নববীর আঙিনায়

    মদিনা মোনাওয়ারা থেকে: এখন চলছে হজের মৌসুম। মক্কার পাশাপাশি মদিনাতে হাজী সাহেবরা বেশ কয়েকদিন অবস্থান করবেন। মদিনা মোনাওয়ারা এসে হাজী সাহেবরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, মসজিদ ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। ঘুরে দেখতে চান বিভিন্ন প্রদর্শনী ও জাদুঘর। তবে চেনা না থাকায় সে সব প্রদর্শনী ও জাদুঘর দেখা থেকে অনেকেই থেকে যান বঞ্চিত। তাই মসজিদে নববীর অাঙিনায় অবস্থিত কিছু প্রদর্শনী ও জাদুঘরের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে উল্লেখ করা হবে। আজ থাকছে বৃহৎ, ঐতিহাসিক ও হরিণের চামড়ায় লিখিত কোরআনে কারিম প্রদর্শনীর কথা।modina-inn-0120160815211910

    হাজী সাহেবদেরকে কোরআনে কারিমের সঙ্গে পরিচিত করার এক চমৎকার উদ্যোগ। এর পরিচালনায় রয়েছে সামায়া হোল্ডিং কোম্পানি। মসজিদে নববীর দক্ষিণে পাঁচ নম্বর গেট সংলগ্ন এই প্রদর্শনী।

    অভ্যর্থনা বিভাগের পরেই রয়েছে কোরআন পরিচিতি। একটু সামনে বাড়লেই কোরআন একত্রিত করার ইতিহাস সম্বলিত কিছু প্রদর্শনী। এর পরেই রয়েছে এই প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ, কোরআনের পুরাতন পাণ্ডুলিপির সংরক্ষণাগার। এখানে রয়েছে হরিণের চামড়ায় লিখিত কোরআন, স্বর্ণের ওপর লিখিত কোরআন, মাত্র ষাট পৃষ্ঠায় লেখা কোরআন এবং প্রায় একহাজার বছর পূর্বের হাতে লিখিত কোরআন। একটু পরেই রয়েছে পৃথিবীর অন্যতম সর্ববৃহৎ কোরআন।

    এর পর রয়েছে স্বর্নের কালি দিয়ে লেখা কোরআন। মুসহাফে উসমানির ফটোকপি। কোরআনে সংস্পর্শে এসে মানুষ কিভাবে পরিবর্তন হয় এর ওপর একটি ডকুমেন্টারি। রয়েছে বাদশাহ ফাহাদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্রেক্সের পরিচিতি। সবশেষে বিক্রয় কেন্দ্র এবং বিদায় কক্ষ।

    প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা এবং বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত হাজীদের জন্য খোলা থাকে।

    এখানে হাজী সাহেবদের সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাষার অনুবাদ-আলোচক রয়েছেন। সকালে বাংলা ভাষায় অনুবাদক হিসেবে আছি আমি মহিউদ্দীন ফারুকী এবং বিকেলে আছেন যাকারিয়্যা মাহমুদ।

    লেখক: শিক্ষার্থী, মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়

    বিশ্বের বৃহত্তম কোরআনের খোঁজ পাওয়া গেল গুজরাটে

    বিশ্বের বৃহত্তম কোরআনের খোঁজ পাওয়া গেল ভারতের গুজরাটের একটি মসজিদে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি তাদের কাছে রাখা পবিত্র কোরআনটি বিশ্বের বৃহত্তম। কোরআনটি দৈর্ঘ্যে ৭৫ ইঞ্চি, চওড়ায় ৪১ ইঞ্চি। এই কোরআনটি লিখতে যে কালি ব্যবহার করা হয়েছে তা তৈরি করা হয়েছে সুর্মা ও ময়ুরের পালক থেকে। কোরআনের চারপাশ মোড়ানো রয়েছে সোনার কোটিং দিয়ে। গুজরাটের ভদোদারার এই মসজিদটি আরেকটি কারণে প্রখ্যাত কারণ এই মসজিদের সাথেই যুক্ত আছেন ভারতীয় ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান এবং তাঁর ভাই ইরফান পাঠান। এর আগে রাশিয়ার কাজান কোলশরিফ মসজিদের রাখা কোরআনটি বিশ্বের বৃহত্তম কোরআন বলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নথিভুক্ত করা হয়। স্কটল্যান্ড পেপারে প্রিন্ট করা কোরআনটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ৬৩২, ওজন ৮০০ কিলোগ্রাম। কোরআনের মোড়কটিও স্বর্ণ, রূপো সহ বহু দামি রত্ম দিয়ে খচিত।

    ইসলাম : শরিয়তে নারী-পুরুষের পর্দা

    পর্দা শব্দের আরবি প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘হিজাব’। এর শাব্দিক অর্থ প্রতিহত করা, বাধা দান করা, গোপন করা, আড়াল করা, ঢেকে রাখা ইত্যাদি। ইসলামের পরিভাষায় প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের আপাদমস্তক গায়ের মাহরাম পুরুষ থেকে ঢেকে রাখাকে ‘হিজাব’ বা পর্দা বলে।

    ইসলামী শরিয়তে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই পর্দা ফরজ করা হয়েছে। পর্দাব্যবস্থা আল্লাহর এমন এক উত্তম বিধান যা পুরুষকে পাশবিক উচ্ছৃঙ্খলতা থেকে হিফাজত করে এবং মানবিক মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করে।

    পর্দার বিধান ঘোষণা করে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক এরশাদ করেন­ ‘হে নবী! মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। এটি তাদের জন্য পূত-পবিত্র পদ্ধতি। তারা যা কিছু করে, আল্লাহ তা জানেন। আর মুমিন মহিলাদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। আর তারা যেন স্বীয় সাজসৌন্দর্য না দেখায়, তবে যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায় … তা ছাড়া তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে। এবং তারা কারো সামনে তাদের সাজসৌন্দর্য প্রকাশ করবে না এই মাহরাম আত্মীয়গণ ব্যতীত যথা­ স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, ভ্রাতা ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত, বাঁদী, নারীর প্রতি স্পৃহাহীন সেবক, ওই সব বালক যারা নারীর গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে অবহিত হয়নি। তারা যেন পথচলার সময় এমন পদধ্বনি না করে যাতে তাদের অপ্রকাশিত সৌন্দর্য পদধ্বনিতে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরাঃ নূর, আয়াত- ৩১)।

    পর্দা দু’ভাগে বিভক্তঃ (১) চোখের পর্দা, (২) দেহের পর্দা।
    চোখের পর্দা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই ফরজ। আর দেহের পর্দা বিশেষভাবে নারীর জন্য ফরজ। আর নারীদের পর্দা যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেভাবে পুরুষদের চলে নারীদের পর্দা বজায় রাখতে সহায়তা করা পুরুষদের জন্য ফরজ। অপর দিকে ফরজ সতর আবৃত রাখার হুকুম পালন নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই ফরজ।

    সর্বোত্তম পর্দা হিসেবে মহিলাদেরকে সর্বদা ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এ জন্য একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মহিলাদের বাইরে বের হওয়া নিষেধ। (মুসলিম শরিফ) এ সম্পর্কে মহান আল্লাহপাক এরশাদ করেন, ‘(হে নারীগণ!) তোমরা আপন গৃহে অবস্থান করো এবং জাহেলিয়াতের যুগের মতো সাজসজ্জা সহকারে অবাধে চলাফেরা করো না।’ (সূরা আহজাবঃ আয়াত-৩৩) মহানবী সাঃ পর্দা সম্পর্কে সতর্ক করে এরশাদ করেন, খবরদার! তোমরা মেয়েদের মধ্যে অবাধে যাতায়াত করো না। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, ‘আর যখন তাদের (নবীর স্ত্রীদের) কাছে তোমরা কিছু চাইবে, তখন (তারা) তোমাদের দৃষ্টির অন্তরালে হিজাব বা পর্দার ভেতরে অবস্থান করবে, আর তোমরা তাদের কাছে পর্দার বাইরে থেকে চাইবে। তোমাদের এ কাজ তোমাদের অন্তর ও তাদের অন্তরকে কুচিন্তার আবরণ থেকে উত্তমভাবে পাক-পবিত্র রাখার উপায় হবে।’ (সূরা আহজাবঃ আয়াত-৫৩)।

    পর্দা সম্বন্ধে আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, হে মোমিনগণ, যতক্ষণ তোমরা অনুমতি না পাও এবং গৃহের মালিকের কাছ থেকে সালামের জবাব না পাও, ততক্ষণ নিজ গৃহ ছাড়া অপরের গৃহে প্রবেশ করিও না।’ (সূরা নূরঃ আয়াত-২৭)।

    হাদিসে আছে, মহিলারা যখন বাইরে যায়, শয়তান তখন তাদের পিছু নেয়। শয়তান ওই মহিলার রূপের ভেতর আকর্ষণ সৃষ্টি করে পুরুষের চোখে তুলে ধরে, আর তখনই উভয়ের জিনার গুনাহ হয়। নবীজি সাঃও এ ব্যাপারে বলেছেন, নারীরা পর্দার আড়ালে থাকার জিনিস। (তিরমিজি)।

    তাই যখনই কোনো পর্দাহীন নারীর প্রতি কোনো পুরুষের দৃষ্টিপাত হয়, তখন তার মনে চাঞ্চল্য উপস্থিত হয়। আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। তখন তাকে পাওয়ার জন্য নানা ছল-চাতুরীর আশ্রয় গ্রহণ করে থাকে।

    বেপর্দা নারীগণের নির্লজ্জ আচরণকে কেন্দ্র করে শয়তান তার অনুসারীদের দ্বারা অশ্লীল, অশালীন ও জঘন্যতম পাপের কাজ করিয়ে নেয়। তোমরা (নারীগণ) নিজগৃহে অবস্থান করো। বর্বর যুগের সৌন্দর্য প্রদানের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করিও না। (সূরা আহজাবঃ আয়াত-২৩)।

    নবী করিম সাঃ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে পর পুরুষের যাতায়াতকে আপত্তিজনক মনে না করে তাকে শরিয়তের ভাষায় ‘দাইউস’ বলা হয়। আর ‘দাইউস’ কখনো বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং দাইউসকে ৫০০ বছরের দূরত্ব থেকে দোজখে ফেলে দেয়া হবে। দাইউসের জন্য বেহেশত হারাম। (আল হাদিস)

    যে স্ত্রী কিংবা পুরুষ একে অন্যের প্রতি ইচ্ছাপূর্বক খারাপ দৃষ্টিতে তাকাবে তার চোখে গরম সিসা ঢেলে দেয়া হবে। (আল হাদিস)

    নারীদের সৌন্দর্য গোপন রাখার বস্তু। সৌন্দর্য বলতে নারীদের পুরো শরীর বোঝায়। বেগানা নারী-পুরুষের নির্জনে ওঠাবসা ও চলাফেরা হারাম। কারণ, শয়তান তখন তাদের সঙ্গী হয়। (আল হাদিস, তিরমিজি)

    মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে এভাবে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, নারী চাদর, বোরকা বা দোপাট্টা দ্বারা তাদের বক্ষস্থল ঢেকে রাখে তার একাংশ দিয়ে যেন মাথাও ঢেকে রাখে। এ ছাড়া মাহরাম পুরুষ ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের কাছে নারীদের আবরণ উন্মুক্ত রাখতে কড়াকড়িভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রীলোক যেন তাদের স্বাভাবিক সজ্জার ওপর একটা বাড়তি কাপড় ব্যবহার করে। এর দ্বারাই তারা মাথাসহ শরীরের ঊর্ধ্বাংশ আবৃত করে রাখবে।

    আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো বলেন, ‘হে নবী! আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ এবং মুমিন স্ত্রীগণকে বলে দিন যে তারা যেন চাদরের কিছু অংশ নিজেদের মুখের ওপর টেনে দেয়, এতে তাদের চেনা সহজতর হবে ফলে তাদের কেউ উত্ত্যক্ত করবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ (সূরা আহজাবঃ আয়াত-৫১)

    নারীদের পথ চলার সময়ও হাদিসে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে বলা হয়েছে। যেমন­ সুগ িব্যবহার করে বের হবে না, শব্দ করে এমন অলঙ্কার পরিধান করে বের হবে না, পথের কিনারা দিয়ে পথ চলবে এবং পুরুষদের ভিড়ে প্রবেশ করবে না ইত্যাদি। ইমাম জাসসাস বলেন, সুশোভিত রঙিন কারুকার্যখচিত বোরকা পরিধান করে বের হওয়াও নিষিদ্ধ।

    মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেন, ‘হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তবে পুরুষদের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।’ উম্মাহাতুল মুমিনীনগণের কেউ যদি পরপুরুষের সাথে কথাবার্তা বলতেন, তবে মুখে হাত রেখে বলতেন, যাতে কণ্ঠস্বর পরিবর্তিত হয়ে যায়। (সূরা আহজাবঃ আয়াত-৩২)

    রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘আল্লাহর অভিশাপ ওইসব নারীর ওপর যারা কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গ থাকে।’ একবার হাফসা বিনতে আবদুর রহমান একটি সূক্ষ্ম দোপাট্টা পরিধান করে হজরত আয়েশা রাঃ-এর গৃহে হাজির হলেন। তখন উম্মুল মুমেনীন হজরত আয়েশা রাঃ তা ছিঁড়ে ফেলে একটা মোটা চাদর দিয়ে তাকে ঢেকে দিলেন।’ (ইমাম মালিক, মুয়াত্তা)।

    হজরত ওমর ফারুক রাঃ বলেছেন, ‘নারীদের এমন আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করতে দিও না যাতে শরীরের গঠন পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।’হজরত উম্মে সালমা থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমি এবং মায়মুনা রাসূলুল্লাহ সাঃ-এর কাছে থাকাকালীন হঠাৎ অ সাহাবী আবদুল্লাহ্‌ ইবনে উম্মে মাকতুম তথায় আগমন করলেন। তিনি আমাদের বললেনঃ ইহার কাছে পর্দা করো। এই ঘটনার সময়কাল ছিল পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর।

    উম্মে সালমা আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাঃ, সে তো অ সে আমাদের দেখতে পাবে না এবং আমাদের চেনেও না। রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, তোমরা তো অ নও, তোমরা তাকে দেখছ। (আবু দাউদ, তিরমিজি) হঠাৎ গায়ের মাহরামের প্রতি দৃষ্টি পড়ে গেলে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে হবে। তা না হলে দ্বিতীয় দৃষ্টিপাতে জিনা হয়ে যাবে। (মুসলিম শরিফ)।

    হজরত আলী রাঃ থেকে বর্ণিত রাসুল সা. বলেন, ‘হে আলী! প্রথম দৃষ্টির পর দ্বিতীয় দৃষ্টি নিক্ষেপ করো না। প্রথমটি ক্ষমার যোগ্য কিন্তু দ্বিতীয়টি নয়।’ এই হাদিসটির তাৎপর্য এই যে, পুরুষ লোকের প্রতি দৃষ্টিপাত করাও গুনাহ। বিশেষ উদ্দেশ্যে একাধিকবার দৃষ্টিপাত করা গুনাহ। ‘প্রত্যেকটি নজরই (খারাপ নিয়তের সহিত) জিনা।’ দৃষ্টির ক্ষেত্রেও পর্দা করা জরুরি।

    মহানবী সাঃ বলেছেন, ‘যদি কেউ এমন কোনো নারীর ‘হস্ত’ স্পর্শ করে যার সাথে তার কোনো বৈধ সম্পর্ক নেই তাহলে পরকালে তার হাতের ওপরে জ্বলন্ত অগ্নি রাখা হবে।’ প্রিয় নবী সাঃ আরো বলেছেন, ‘যদি কেউ তোমার বিনা অনুমতিতে তোমার গৃহে উপস্থিত হয়, তারপর তুমি তার ওপর কঙ্কর নিক্ষেপ করে তার চক্ষু কানা করে দাও, তাতে কোনো গোনাহ হবে না। (মুসলিম)

    মেয়েদের গৃহে বা অবস্থানস্থলে প্রবেশের সময় অনুমতিসাপেক্ষে প্রবেশ করার জন্য ইসলামে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, নিজ পুত্রসন্তান সাবালক হলেও তাকে অনুমতি নিয়েই মাতার ঘরে প্রবেশ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং আল্লাহ্‌পাক বলেছেন, ‘যখন তোমাদের পুত্ররা সাবালক হবে তখন অনুমতি সহকারে ঘরে প্রবেশ করবে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীরা প্রবেশ করত। (সূরা নূরঃ আয়াত-৫৯)।

    তা ছাড়া যে গৃহে স্বামী অনুপস্থিত থাকে সে গৃহে গমন করাও অনুচিত। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, ‘স্বামীর অনুপস্থিতিতে কোনো নারীর কাছেও যেও না। কারণ, শয়তান তোমাদের যেকোনো একজনের মধ্যে রক্তের মতো প্রবাহিত হয়।’ (তিরমিজি)।

    মহানবী সাঃ পর্দা সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, সাবধান! নিভৃতে নারীদের কাছে গমন করো না। একক সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রাসূলুল্লাহ সাঃ! ‘দেবর’ সম্ব েকী হুকুম? উত্তরে নবীজি সাঃ বললেন, ‘দেবর তো মৃত্যুর সমতুল্য।’ (বোখারী ও মুসলিম শরিফ)

    যদি কোনো ব্যক্তি এমন নারীর বিছানায় শয়ন করে, যার স্বামী অন্যত্র গেছে এবং সে তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে মনোস্কার্য পূর্ণ করতে ইচ্ছা করে, তবে কিয়ামতের দিন ওই নারী-পুরুষের জন্য একটি করে ‘কালো বিষধর সাপ’ নিযুক্ত করা হবে। সাপটি তাকে পুনঃপুন দংশন করতে থাকবে।’ (তাবরানি)
    নারীর মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত সমস্ত শরীর বেগানা পুরুষের নজর থেকে ঢেকে রাখা ফরজ এবং বেগানা পুরুষের পক্ষে সেদিকে নজর করা হারাম।

    আসলে পর্দা হচ্ছে আবরণ, যে আবরণ দিয়ে দেহ ও মনকে আচ্ছাদিত করা হয়। বাহ্যিক পর্দা দ্বারা দেহকে আবৃত করতে হয় এবং তাকওয়া বা আল্লাহ্‌ ভীতির দ্বারা মনকে কন্ট্রোলে ও হিফাজতে রাখতে হয়। এই উভয় প্রকার পদ্ধতি অবলম্বনের দ্বারাই সম্ভব হতে পারে পরিপূর্ণ পর্দা রক্ষা করা। তাই শুধু দেহকে আচ্ছাদিত করে মনকে লাগামহীন ছেড়ে দিলে, পর্দা বজায় থাকবে না। দুটোই প্রয়োজন। অথচ জাহান্নামে তিন বক্তির জন্য নাম রেজিস্ট্রি করা হয়। তা হলো­ (১) যে বাবা তার সাবালিকা মেয়েকে পর্দায় রাখে না, (২) যে স্বামী তার স্ত্রীকে পর্দার ব্যাপারে কড়াকড়ি হুকুম দেয় না এবং (৩) যে মহিলা পাতলা কাপড় পরে সেজেগুজে বেপর্দায় চলে। ‘সাজসজ্জার স্থানগুলো প্রকাশ না করা মহিলাদের ওপর ওয়াজেব।’ (মারেফুল কুরআন)

    এ কারণেই আমাদের পেয়ারা নবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মুখ ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করো। আমি তোমাদের বেহেশতের জামিনদার হবো।’ নারীদের ইজ্জতের মূল্য দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ্‌পাক এরশাদ করেন, ‘যারা সতী নারীদের প্রতি অপবাদ রটনা করে বা ছড়ায় এবং চারজন সাক্ষী হাজির না করে তাদেরকে ৮০টি দোররা লাগাও এবং কখনো তাদের সাক্ষী গ্রহণ করো না, এরা তো সত্যত্যাগী।’ (সূরা নূরঃ আয়াত-৪), তাদের সম্ব েআরো বলা হয়, ‘যারা সতী সরলমনা ও ঈমানদার নারীদের অপবাদ দেয় তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য মহাশাস্তি রয়েছে।’ (সূরা আন-নূরঃ আয়াত-২৩)

    নারী এক ভিন্ন সত্তা, অস্তিত্ব, মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী। তার নম্রতা, ভদ্রতা, শালীনতাবোধ ব্যক্তিত্বকে আকর্ষণীয় করে। একজন মুসলিম নারীর আইডেনটিটি তার শালীনতা, পর্দা। পর্দাই তার পরিচয় বহন করে। নারীর মর্যাদা তার পর্দায়। পর্দা নারীর শৃঙ্খল নয়। পর্দা বরং নারীর রক্ষাকবচ। উচ্ছৃঙ্খল বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় একমাত্র এই পর্দা। যে সমাজে পর্দা নেই সেই সমাজের নারীরাই বেশি নির্যাতনের শিকার।

    পোশাক পরিচ্ছদ সংক্রান্ত ভুল-ভ্রান্তি

    ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামের দিক-নির্দেশনা রয়েছে। পোশাক-পরিচ্ছদের বিষয়েও ইসলামের মৌলিক দিক নির্দেশনা রয়েছে। এ নিবন্ধে পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করতে চাই। এ সম্পর্কে সমাজে যেসব ভুলভ্রান্তি ও শিথিলতা লক্ষ করা যায় তার পিছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এই :

    ১. অজ্ঞতা ও অবহেলা

    এ বিষয়ে শরীয়তের কী কী মূলনীতি ও বিধান রয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানাশোনা নেই। উপরন্তু অনেকের এই ধারণাই নেই যে, পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কেও শরীয়তের বিধিবিধান থাকতে পারে। একে তারা পুরোপুরিই ইচ্ছা-স্বাধীনতার বিষয় মনে করে। এই ধারণা ঠিক নয়। শরীয়ত এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কুরআন কারীম এবং হাদীস শরীফে এ সম্পর্কিত উসূল ও আহকাম তথা নীতি ও বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের রুচি ও স্বভাবের প্রতিও একটা পর্যায় পর্যন্ত শরীয়ত অনুমোদন দিয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে একেবারে উদাসীন থাকা, মনমতো চলা ভুল।

    ২. বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ ও ফ্যাশন-আসক্তি

    পোশাক-আশাক ও সাজসজ্জার বিষয়ে সমাজে বিজাতীয় সংস্কৃতি ও ফ্যাশনের বড় প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যখন যে ফ্যাশন বের হচ্ছে তখন নির্বিচারে অনুকরণকেই ‘আধুনিকতা’ মনে করা হচ্ছে। আর এ ক্ষেত্রে অমুসলিম বা ফাসেক লোকদের রীতি-নীতিই অধিক অনুকরণীয় হতে দেখা যায়। এসবই ভুল। বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ শরীয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণিত।
    হাদীস শরীফে এসেছে-‘যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখে সে তাদের দলভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ ২/৫৫৯)

    ৩. ‘মন ভালো হওয়াই যথেষ্ট’

    যারা পোশাক ও সাজসজ্জার বিষয়ে মনমতো চলতে চায় কিংবা বিজাতীয়দের অনুকরণ করতে পছন্দ করে তারা তাদের দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে বলে থাকেন, ‘মন ভালো হওয়াই যথেষ্ট। বাইরের লেবাস-পোশাকে কী আসে যায়?’ এভাবে তারা ইসলামের শিক্ষাকে খাটো করতে চায়। অনেক সময় দেখা যায়, ইসলামী পোশাকধারী কোনো ব্যক্তির কোনো ভুল হয়ে গেলে তখন তারা এই সব কথা বড় গলায় বলতে থাকে। এসব ভুল।

    ভিতর ও বাহির দু’টোর প্রতিই ইসলামে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
    কুরআন মজীদে এসেছে,
    ‘তোমরা প্রকাশ্য গুনাহ ছাড় এবং আভ্যন্তরীণ গুনাহ ছাড়।’ (সূরা আনআম : ১২০)

    কারো মধ্যে যদি কোনো দোষ থাকে তাহলে অবশ্যই তা দোষ, কিন্তু একে ছুতো বানিয়ে তার গুণটাকে অস্বীকার করা তো ভালো নয়।

    মোটকথা, ইসলামে লেবাস-পোশাকের গুরুত্ব কম নয়। পোশাক-পরিচ্ছদ যদিও বাহ্যিক বিষয়, মানুষের সকল ভালো-মন্দের দলীল এটা নয়, কিন্তু একথাও তো অনস্বীকার্য যে, লেবাস-পোশাকেরও একটি বড় প্রভাব মানুষের স্বভাব ও আচরণের উপর পড়ে থাকে।
    এটা কি অস্বীকার করা যাবে যে, কিছু পোশাক অন্তরে অহংকার ও আত্মগরিমা সৃষ্টি করে, অন্যদিকে কিছু পোশাক বিনয় ও নম্রতা জাগ্রত করে? কিছু পোশাক ভালো কাজে ও ভালো ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে, অন্যদিকে কিছু পোশাক মন্দ ও অকল্যাণের দিকে আকর্ষণ করে?

    ৪. দ্বীনদার শ্রেণীর পোশাককে ‘সম্প্রদায়িক’ পোশাক মনে করা

    অনেকে ইসলামী পোশাককে সৌদী, পাকিস্তানী বা হুজুরদের ইউনিফর্ম মনে করে থাকে। ফলে নামায-রোযা ইত্যাদি ইবাদত-বন্দেগী করলেও তারা এই পোশাক গ্রহণ করতে পারেন না। তাদের এ ধারণা ভুল। সামান্য চিন্তা করলেই দেখা যাবে যে, ইসলামসম্মত পোশাক মানে কোনো সাম্প্রদায়িক বা আঞ্চলিক পোশাক নয়। হ্যাঁ, তা মুসলমানের পোশাক বটে।

    রসুলের প্রতি ভালোবাসা

    মুমিন হতে হলে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসতে হবে। সাধারণভাবে ভালোবাসাই যথেষ্ট নয়; বরং সবকিছু থেকে এমনকি নিজের জীবনের চেয়ে তাকে বেশি ভালোবাসতে হবে। আর যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসে সে তাকে এবং তার মতামতকে সব কিছুর ওপর প্রাধান্য দেয়। অতএব রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসায় সত্যবাদী সেই ব্যক্তি, যার মধ্যে নিম্নলিখিত আলামতগুলো প্রকাশ্যে দেখা যাবে : সে কথায়-কাজে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ-অনুকরণ করবে, তার আদেশ মেনে চলবে, নিষেধ থেকে বেঁচে থাকবে, তার শিখানো আদব-শিষ্টাচারের ওপর নিজের জীবনকে পরিচালনা করবে। সুখে-দুঃখে এবং পছন্দ-অপছন্দ সব অবস্থাতেই তাকেই আদর্শরূপে গ্রহণ করবে। কেননা অনুসরণ ও অনুকরণ হচ্ছে ভালোবাসার বাহ্যিক ফলাফল। আনুগত্য ছাড়া ভালোবাসা সত্যে পরিণত হয় না। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসায় বেশি বেশি তার নাম উল্লেখ করা ও তার নামে দরুদ পড়তে হবে। তার সঙ্গে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা রাখতে হবে কারণ প্রত্যেক প্রেমিক প্রিয়তমের সাক্ষাতের জন্য উদগ্রীব থাকে। তার আলোচনা করার সময় তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধাভরে উল্লেখ করা। ইসহাক (রহ.) বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর সাহাবিরা তার কথা আলোচনা করার সময় বিনীত হতেন, তাদের শরীর শিউরে উঠত এবং তারা কাঁদতেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে ঘৃণা করেন তাকে ঘৃণা করা। যার সঙ্গে শত্রুতা রেখেছেন তার সঙ্গে শত্রুতা রাখা। যেসব মুনাফেক ও বেদাতি তার সুন্নতের বিরোধিতা করে এবং তার দীনের মধ্যে বিদাত সৃষ্টি করে, তাদের থেকে দূরে থাকা ও সাবধান থাকা। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে ভালোবাসেন তাকে ভালোবাসা। তার পরিবারবর্গ, তার স্ত্রী এবং মুহাজের ও আনসার সাহাবায়ে কেরাম অন্যতম। এদের সঙ্গে যারা শত্রুতা পোষণ করেন তাদের শত্রু ভাবা এবং যারা তাদের ঘৃণা করে তাদের ঘৃণা করা আবশ্যক। তার সম্মানিত চরিত্রে নিজ চরিত্রকে সুসজ্জিত করতে সচেষ্ট হওয়া : কেননা তিনি ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। এমনকি আয়েশা (রা.) তার সম্পর্কে বলেন, ‘তার চরিত্র হচ্ছে আল কোরআন।’ অর্থাৎ কোরআনের নির্দেশের বাইরে তিনি কোনো কিছুই করবেন না এটা ছিল তার নীতি।

    ৬ বছর বয়সেই কোরআনে হাফেজা ফারিহার বিশ্ব রেকর্ড

    হাফেজা ফারিহা তাসনিম, একজন বাংলাদেশি কোরআনে হাফেজা। তিনি ৬ বছর বয়সেই কোরআনে হাফেজা হয়ে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন।এখন তার ৮ বছর।তার সুললিত কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত শোনে বিশ্ববাসী মুগ্ধ।

    ফারিহা তাসনিম শুধু একজন কোরআনে হাফেজােই নন, তিনি ৪৩টি দেশের কোরআনে হাফেজাদের মধ্যে প্রথম হয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছেন।বাংলাদেশি এই শিশু ‘হাফেজা ফারিহা তাসনিম ’২০১৩ সালের ১৭ মে জর্দানের রাজধানী আম্মানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বালিকা হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অন্য সব হাফেজাদের পেছনে ফেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন।এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করে সৌদি আরব ও তৃতীয় হয় লিবিয়ার প্রতিযোগী।

    ফারিহা তাসনিমের স্মৃতিশক্তি এতটাই প্রখর যে তার শিক্ষকরাও বিস্মিত। যে বয়সে অন্য শিশুরা ভালভাবে কথা বলতেই শেখে না, কিন্তু ফারিয়া সেই বয়সে সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করেন। তিনি ৬ বছর পূর্ণ হওয়ার ক’দিন আগেই পুরো কোরআন মুখস্ত করেন।

    মসজিদে নববী, যেখানে ঘুমিয়ে আছেন আমার দীনের নবী মুহাম্মদ (সা.)

    মসজিদে নববী (আরবি: المسجد النبوي‎) মুহাম্মদ (সা) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ যা বর্তমান সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। মুহাম্মদ (সা) হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ নির্মিত হয়। এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মসজিদ। মসজিদ দিনরাতের সবসময় খোলা থাকে। মুহাম্মদ (সা) এর বাসগৃহের পাশে এই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মসজিদের নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। সেসময় মসজিদ সম্মিলনস্থল, আদালত ও মাদ্রাসা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। পরবর্তীকালের মুসলিম শাসকরা মসজিদ সম্প্রসারণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করেছেন। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে আরব উপদ্বীপের মধ্যে এখানেই সর্বপ্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়। মসজিদ খাদেমুল হারামাইন শরিফাইনের নিয়ন্ত্রণে থাকে। মসজিদ ঐতিহ্যগতভাবে মদিনার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। মসজিদে নববী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান বিধায় হজ্জের সময়ে আগত হাজিরা হজ্জের আগে বা পরে মদিনায় অবস্থান করেন। উমাইয়া খলিফা প্রথম আল ওয়ালিদের শাসনামলে সম্প্রসারণের সময় মুহাম্মদ (সা) এবং প্রথম দুই খুলাফায়ে রাশেদিন আবু বকর ও উমরের কবর মসজিদের অংশ হয়। মসজিদের দক্ষিণপূর্ব দিকে অবস্থিত সবুজ গম্বুজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এটি আয়িশার বাড়ি ছিল। এখানে মুহাম্মদ (সা) এবং তার পরবর্তী শাসক দুইজন খলিফাকে দাফন করা হয়। ১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে কবরের উপর একটি কাঠের গম্বুজ নির্মিত হয়। এটি পরবর্তীতে ১৫শ শতাব্দীতে কয়েকবার এবং ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে একবার পুনর্নির্মিত ও সৌন্দর্য‌বর্ধি‌ত করা হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] বর্তমান গম্বুজটি ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ কর্তৃক নির্মিত হয়। এবং ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম সবুজ রং করা হয় ফলে এর নাম সবুজ গম্বুজ হয়েছে। মুহাম্মদ (সা) ও রাশিদুন খিলাফত: হিজরতের পর মুহাম্মদ (সা) এই মসজিদ নির্মাণ করেন। তিনি একটি উটে চড়ে মসজিদের স্থানে আসেন। এই স্থানটি দুইজন বালকের মালিকানায় ছিল। তারা মসজিদের জন্য জায়গাটি বিনামূল্যে উপহার হিসেবে দিতে চাইলেও মুহাম্মদ (সা) জায়গাটি কিনে নেন। এরপর এখানে মসজিদ নির্মিত হয়। এর আকার ছিল৩০.৫ মিটার (১০০ ফু) × ৩৫.৬২ মিটার (১১৬.৯ ফু).[৬] খেজুর গাছের খুটি দিয়ে ছাদের কাঠামো ধরে রাখা হয়। ছাদে খেজুর পাতা ও কাদার আস্তরণ দেয়া হয়। এর উচ্চতা ছিল ৩.৬০ মিটার (১১.৮ ফু). এর তিনটি দরজা ছিল দক্ষিণে বাব-আল-রহমত, পশ্চিমদিকে বাব-আল-জিবরিল এবং পূর্বদিকে বাব-আল-নিসা। খায়বারের যুদ্ধের পর মসজিদ সম্প্রসারণ করা হয়। এটি প্রত্যেক দিকে ৪৭.৩২ মিটার (১৫৫.২ ফু) বৃদ্ধি পায় এবং পশ্চিম দেয়ালের পাশে তিন সারি খুটি নির্মিত হয়। প্রথম রাশিদুন খলিফা আবু বকরের শাসনামলে মসজিদের আকার অপরিবর্তিত ছিল।[৮] দ্বিতীয় খলিফা উমর মসজিদের আশেপাশে মুহাম্মদ (সা) এর স্ত্রীদের বাড়িগুলো ছাড়া বাকিগুলো ভেঙে সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করেন।নতুন অবস্থায় মসজিদের আকার দাঁড়ায় ৫৭.৪৯ মিটার (১৮৮.৬ ফু) × ৬৬.১৪ মিটার (২১৭.০ ফু)। দেয়াল নির্মাণে মাটির ইট ব্যবহার করা হয়। মেঝেতে পাথর বিছানোর পাশাপাশি ছাদের উচ্চতা বৃদ্ধি করে ৫.৬ মিটার (১৮ ফু) করা হয়। এছাড়াও উমর আরো তিনটি দরজা সংযুক্ত করেন। তৃতীয় খলিফা উসমান নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করেন। এই কাজে দশ মাস সময় লাগে। নতুন মসজিদের আকার দাঁড়ায় ৮১.৪০ মিটার (২৬৭.১ ফু) × ৬২.৫৮ মিটার (২০৫.৩ ফু)। দরজার সংখ্যা ও নাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।পাথরের দেয়ার নির্মিত হয় এবং খেজুর গাছের খুটির বদলে লোহা দ্বারা সংযুক্ত পাথরের খুটি যুক্ত করা হয়। ছাদ নির্মাণের জন্য সেগুন কাঠ ব্যবহার করা হয়। উমাইয়া, আব্বাসীয় ও উসমানীয় যুগ: ৭০৭ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা প্রথম আল ওয়ালিদ মসজিদ সম্প্রসারণ করেন। এই কাজে তিন বছর সময় লেগেছিল। মসজিদের জন্য কাচামাল বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা হয়। মসজিদের এলাকা উসমানের সময়ের ৫০৯৪ বর্গ মিটার থেকে বৃদ্ধি করে ৮৬৭২ বর্গ মিটার করা হয়। মসজিদ ও মুহাম্মদ (সা) এর স্ত্রীদের আবাসস্থলগুলো আলাদা করার জন্য দেয়াল নির্মিত হয়। মসজিদ ট্রাপোজয়েড আকারে নির্মিত হয় যার দৈর্ঘ্য ছিল ১০১.৭৬ মিটার (৩৩৩.৯ ফু)। মসজিদের উত্তরের একটি বারান্দা যুক্ত করা হয়। এছাড়াও এসময় চারটি মিনার নির্মিত হয়। আব্বাসীয় খলিফা আল মাহদি উত্তর দিকে মসজিদ ৫০ মিটার (১৬০ ফু) সম্প্রসারণ করেন। মসজিদের দেয়ালে তার নাম উৎকীর্ণ করা হয়। ইবনে কুতাইবার বিবরণ অনুযায়ী খলিফা আল মামুন এতে কাজ করেছেন। আল মুতাওয়াক্কিল মুহাম্মদ (সা) এর রওজার বাইরে মার্বেল ব্যবহার করেন। আল-আশরাফ কানসুহ আল-গাউরি ১৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে রওজার উপর পাথরের গম্বুজ নির্মাণ করেন। ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে সবুজ গম্বুজ: আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পবিত্র রওজা শরীফ মসজিদের দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত। এটি গম্বুজের নিজে অবস্থিত যা ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের শাসনামলে নির্মিত হয়। ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে গম্বুজে সবুজ রং করা হয় এবং এরপর থেকে এর নাম সবুজ গম্বুজ হয়। সুলতান প্রথম আবদুল মজিদ ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদ পুনর্নির্মাণ শুরু করেন। এতে মোট ১৩ বছর লেগেছিল। মূল উপকরণ হিসেবে লাল পাথরের ইট ব্যবহার করা হয়। মেঝে ১২৯৩ বর্গ মিটার বৃদ্ধি করা হয়। দেয়ালে ক্যালিগ্রাফিক শৈলীতে কুরআনের আয়াত উৎকীর্ণ করা হয়। মসজিদের উত্তরে কুরআন শিক্ষার জন্য মাদ্রাসা নির্মিত হয়। সৌদি যুগ: আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ মদিনা অধিকার করে নেয়ার পর অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য মদিনার বিভিন্ন সমাধিগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। তবে সবুজ গম্বুজটিকে অক্ষত রাখা হয়। ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর মসজিদে কয়েক দফা সংস্কার করা হয়। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে ইবনে সৌদ মসজিদের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে নামাজের স্থান বাড়ানোর জন্য স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার আদেশ দেন। এসময় কৌণিক আর্চযুক্ত কংক্রিটের স্তম্ভ স্থাপন করা হয়। পুরনো স্তম্ভগুলো কংক্রিট ও শীর্ষে তামা দ্বারা মজবুত করা হয়। সুলাইমানিয়া ও মাজিদিয়া মিনার দুটি মামলুক স্থাপত্যের আদলে প্রতিস্থাপন করা হয়। উত্তরপূর্ব ও উত্তরপশ্চিমে দুটি অতিরিক্ত মিনার যুক্ত করা হয়। ঐতিহাসিক মূল্যের কুরআন ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ রাখার জন্য পশ্চিম দিকে একটি লাইব্রেরী স্থাপন করা হয়। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ মসজিদের অংশ হিসেবে ৪০,৪৪০ বর্গ মিটার যুক্ত করেন। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে ফাহাদ বিন আবদুল আজিজের শাসনামলে মসজিদ আরো সম্প্রসারিত হয়। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে এর নির্মাণ সমাপ্ত হওয়ার পর মসজিদের আয়তন দাঁড়ায় ১.৭ মিলিয়ন বর্গ ফুট। ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্প্রসারণ কাজ ২০১২ এর সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হয়। আরটি কর্তৃক পরিবেশিত সংবাদ অনুযায়ী এই সম্প্রসারণ সমাপ্ত হওয়ার পর এতে ১.৬ মিলিয়ন মুসল্লি ধারণ করা সম্ভব হবে। পরের বছরের মার্চে সৌদি গেজেট উল্লেখ করে যে সম্প্রসারণের জন্য যেসব স্থাপনা ধ্বংস করার দরকার ছিল তার ৯৫% সম্পন্ন হয়েছে। পূর্ব দিকে দশটি হোটেলসহ কিছু বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। স্থাপত্য: মসজিদ দুই স্তর বিশিষ্ট এবং আয়তাকার। উসমানীয় নামাজের স্থানটি দক্ষিণমুখী।এতে সমতল ছাদ এবং বর্গাকার ভিত্তির উপর ২৭টি চলাচলসক্ষম গম্বুজ রয়েছে।গম্বুজের নিচের খোলা স্থানে ভেতরের স্থান আলোকিত করে। গম্বুজ সরিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া প্রাঙ্গণে থাকা স্তম্ভের সাথে যুক্ত ছাতাগুলো খুলে দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়। মসজিদের চারপাশের বাধানো স্থানেও নামাজ পড়া হয় যাতে ছাতাসদৃশ তাবু রয়েছে। জার্মান স্থপতি মাহমুদ বোদো রাশ্চ ও তার প্রতিষ্ঠান এই গম্বুজ ও ছাতাগুলো নির্মাণ করে। রিয়াদুল জান্নাহ: মসজিদের মধ্যে ছোট কিন্তু বিশেষ এলাকা রয়েছে যা রিয়াদুল জান্নাহ (জান্নাতের বাগান) বলে পরিচিত। এটি মুহাম্মদ (সা) এর রওজা থেকে তার মিম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত। আগত তীর্থযাত্রীরা এখানে দোয়া ও নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন। এখানে প্রবেশ সবসময় সম্ভব হয় না বিশেষত হজ্জের সময় মানুষ অনেক বেশি হওয়ার কারণে। রিয়াদুল জান্নাহকে জান্নাতের অংশ হিসেবে দেখা হয়। সাহাবি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত যে মুহাম্মদ (সা) তার ঘর থেকে মিম্বর পর্যন্ত স্থানকে জান্নাতের অংশ বলেছেন। রওজা: রওজা মসজিদের সাথে অবস্থিত। এখানে মুহাম্মদ (সা) এবং প্রথম দুই খলিফা আবু বকর ও উমরের কবর রয়েছে। এর পাশে একটি কবরের জন্য খালি রয়েছে। ইসলাম অনুযায়ী ঈসা (আ) আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন এবং এরপর তিনি মারা যাওয়ার পরে তাকে এখানে দাফন করা হবে। এই পুরো স্থান সবুজ গম্বুজের নিচে অবস্থিত। ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদের শাসনামলে এই গম্বুজ নির্মিত হয় এবং ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে একে সবুজ রং করা হয়। মিহরাব: মসজিদে তিনটি মিহরাব রয়েছে। এর মধ্যে একটি মুহাম্মদ (সা) এর সময় নির্মিত হয় এবং বাকিগুলো পরবর্তী সময়ে নির্মিত হয়। মিম্বর: মুহাম্মদ (সা) কর্তৃক ব্যবহৃত মূল মিম্বরটি খেজুর গাছের কাঠ দিয়ে নির্মিত হয়েছিল। পরে এর স্থলে অন্য মিম্বর বসানো হয়। ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে একটি তিন ধাপ বিশিষ্ট সিড়ি যুক্ত করা হয়। খলিফা আবু বকর ও উমর মুহাম্মদ (সা) এর প্রতি সম্মান দেখিয়ে তৃতীয় ধাপে পা রাখতেন না। তৃতীয় খলিফা উসমান এর উপর একটি গম্বুজ বসান এবং বাকি ধাপগুলো আবলুস কাঠ দিয়ে মুড়ে দেন।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৩৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বাইবার্স‌ মিম্বরটি সরিয়ে নতুন মিম্বর স্থাপন করেন এবং ১৪১৭ খ্রিষ্টাব্দে শাইখ আল-মাহমুদি নতুন মিম্বর স্থাপন করেন। ১৫শ শতাব্দীর শেষের দিকে কাইতবে মার্বেলের মিম্বর স্থাপন করেন। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের আগস্টেও এটি মসজিদে ব্যবহৃত হয়েছিল। মিনার: প্রথম মিনারগুলো ২৬ ফুট (৭.৯ মি) উচু ছিল যা উমর কর্তৃক নির্মিত হয়। ১৩০৭ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ ইবনে কালাউন বাব আল-সালাম নামক মিম্বর স্থাপন করেন। পরে চতুর্থ মুহাম্মদ এটি সৌন্দর্য‌মন্ডিত করেন। ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের সংস্কার কার্যে‌র পর মোট মিনারের সংখ্যা দাঁড়ায় দশ যেগুলো ১০৪ মিটার (৩৪১ ফু) উচু। মিনারগুলোর উপর, নিচ ও মধ্যম অংশ যথাক্রমে সিলিন্ডার, অষ্টাভুজ ও বর্গাকার।

    যে কোন বিপদে মহানবী (সা.) ছোট্ট এই দোয়াটি আমলের তাগিদ দিয়েছেন

    ইসলামী ডেস্ক : আমরা জীবনে চলার পথে অনেক সময় বিভিন্ন বিপদে পড়ে থাকি। চলার পথে যখন বিপদের সম্মুখিত হই, তখনই আমাদের বিশেষ একটি দোয়া পড়তে মহানবী (সা.) বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মহানবী (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় এই দোয়াটি তিনবার পড়বে আর কোনো কিছু তাকে কোনো ধরণের ক্ষতি করবে এমনটি হতে পারে না । অন্য এক বর্ণনায় আছে: সকালে পড়লে সন্ধ্যা পর্যন্ত অতর্কিত কোনো বিপদে সে আক্রান্ত হবে না। আর সন্ধ্যায় পড়লে পরদিন সকাল পর্যন্ত অতর্কিত কোনো বিপদে সে আক্রান্ত হবে না। [আবু দাউদ:৫০৯০,তিরমিজি: ৩৩৮৮, ইবনে মাজাহ: ৩৮৬৯] আরবি দোআ : একবার

    بِسْمِ اللَّهِ الَّذِى لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَىْءٌ فِى الأَرْضِ وَلاَ فِى السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

    বাংলা উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়া দুররু মা ইসমিহি শাইয়ূন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি। ওয়াহুয়াস সামিউল আলিম।

    বাংলা অর্থ : (আমি আমার দিন বা রাতের সুচনা করছি) ওই আল্লাহর নামে যার নামের সঙ্গে আসমান জমিনের কোনো কিছু কোনো ধরণের ক্ষতি করতে পারে না।

    মহানবী (সা.) যে ধরনের মেয়েদেরকে বিয়ে করতে বলেছেন!

    আমাদের জীবনের প্রতিটি বিষয় ও দিকের মতো বিবাহর ক্ষেত্রে পাত্রী নির্বাচনের ব্যাপারে বেশ গুরুত্ব প্রদান করেছে ইসলাম। পাত্রী নির্বাচনের শর্ত এবং মৌলিক গুণাবলী বাতিয়ে সর্তক করেছে প্রতিটি বিবাহযোহগ্য আগ্রহী পুরুষকে। বরপক্ষের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) -এর দিকনির্দেশনার প্রতি আমরা তাকালে দেখতে পাব সেখানে তিনি ধর্মপরায়ণ নারী নির্বাচনের পরামর্শ দিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করেন যে, রূপ-সৌন্দর্য, ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা ও ধর্মভীরুতা- সাধারণত এ চার গুণের দিকে লক্ষ করে কোনো নারীকে বিয়ে করা হয়। শ্রোতা! তুমি ধার্মিককে গ্রহণ করে সাফল্যমণ্ডিত হও। আর নিরুৎসাহিত হইও না।’ (বোখারি, মুসলিম)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই হাদিসে স্বাভাবিক অবস্থার প্রতি খেয়াল করে কনের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ ধর্মপরায়ণতাকে সবশেষে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু পরেই বরের সফলতা ওই গুণটির মধ্যেই নিহিত, তা স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, সবশেষে এ উদ্দেশ্যে উৎসাহব্যঞ্জক আরও একটি বাক্য জুড়ে দিয়েছেন। (শরহে নববি : ৩/২১২)। আদর্শ গৃহ গড়ার প্রথম সোপান হলো, এ গৃহের জন্য আদর্শময়ী সতী-সাধ্বী স্ত্রী নির্বাচন করা। তাই দাম্পত্য জীবন আরম্ভের শুরুতেই সহধর্মিণীর দ্বীনদারিতা ও ধার্মিকতা দেখে নেয়া একান্ত জরুরি। আল্লাহর রাসূল [সা.] বলেন, এমন সতী-সাধ্বী স্ত্রী বরণ করা উচিত, যে তোমাকে তোমার দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে সাহায্য করে; যা সব সম্পদ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’ রাসূল [সা.] অন্যত্র বলেন, ‘পুণ্যময়ী ও অধিক সন্তানপ্রসূ নারীকে বিয়ে করো। কেয়ামতে তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে সব আম্বিয়ার কাছে আমি গর্ব করব।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৩/২৪৫)। রাসূল [সা.] বলেন, ‘সতী স্ত্রী এক সৌভাগ্যের সম্পদ; যাকে তুমি দেখে পছন্দ করো এবং যে তোমার মন মুগ্ধ করে, আর তোমার অবর্তমানে তার ব্যাপারে ও তোমার সম্পদের ব্যাপারে সুনিশ্চিত থাকে। পক্ষান্তরে অসতী স্ত্রী দুর্ভাগ্যের আপদ; যাকে দেখে তুমি অপছন্দ করো এবং যে তোমার মন মুগ্ধ করতে পারে না। যে তোমার ওপর মানুষের হামলা চালায়। আর তোমার অনুপস্থিতিতে তার ও তোমার সম্পদের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে পারে না।’ (সিলসিলা সহিহা ১৮২, ইবনে হিব্বান)। রাসুলুল্লাহ [সা.] বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় তখন সে যেন তার এমন কিছু দেখে, যা তাকে তার সাথে বিয়েতে উৎসাহিত করে’ (আবু দাউদ : ২০৮২)। কনেকে একবার দেখে পছন্দ করা গেলে একবার দেখাই বিধান। কোনো কোনো নারীকে একবার দেখে তার সাথে বিয়ের মতো গুরত্বপূর্ণ চুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া য়ায় না। এ ক্ষেত্রে তাকে একাধিকবার দেখা বিহিত। ফিকহের ভাষ্য হচ্ছে, পাত্রের জন্য বিহিত পাত্রীকে বারবার দেখা, এমনকি যদি সে উ™ভূত পরিস্তিতিতে তিনবারের বেশিও দেখে- যাতে তার সামগ্রিক বিষয়টি পাত্রের কাছে সুস্পষ্ট প্রতিভাত হয়। (আর-রামলি, নেহায়া : ৬/১৮৬)। যদি পাত্র পাত্রীকে একবার দেখেই পরিতৃপ্ত হয়ে যায়, তবে তার জন্য একবারের অতিরিক্ত দেখা হারাম। কারণ এই দেখা হালাল করা হয়েছে অনিবার্য প্রয়োজনে। সুতরাং এখানে অনিবার্য প্রয়োজন বিবেচ্য (রাদ্দুল মুহতার : ৬/৩৭০)।

    বিউটি পার্লারে গিয়ে সাজসজ্জা সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

    সাজসজ্জার ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হল, যে কাজ ইসলামে সম্পূর্ণ অবৈধ, সেকাজ কোনভাবেই কারো জন্যেই করা জায়েজ নয়। এমনকি স্বামীকে খুশি করার জন্যও করা জায়েজ নয়। আল্লাহর নবী [সা.] স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়ে কোন সৃষ্টির আনুগত্ব করা জায়েজ নয়।

     

    ১. নারীও নাবালেগ বাচ্চাদের চুল কাটা হয়। ২. চুল রং করা। কালো খেজাব লাগানো হয়ে থাকে বয়স লুকানোর জন্য। এছাড়া আরো অন্যান্য কালারও করা হয়। ৩. চুলকে বিভিন্নভাবে সাজানো হয়। ঝুঁটি বাঁধাসহ বিভিন্ন প্রকারের চুলের কাটিং করা হয়ে থাকে। ৪. ফ্যাসিয়াল করা হয়। অর্থাৎ মুখকে পরিস্কার সৌন্দর্যমন্ডিত করার জন্য চেহারায় বিভিন্ন প্রকার ক্রিম মালিশ করা হয়। ৫. হাত-পা মালিশ করা হয়। ৬. ভ্রু চিকণ করা হয়। ৭. হাত পায়ের চুল উপড়ানো হয়। ৮. চেহারার চুল উপড়ানো হয়। অর্থাৎ দাড়ি, গোফ, কপালে ইত্যাদিতে গজানো চুল উপড়ানো হয়ে থাকে। ৯. বধু সাজানো হয়।

    প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে যদি পরিস্কার ধারণা দিতেন শরীয়তের আলোকে তাহলে চির কৃতজ্ঞ থাকবো। আরেকটি বিষয়, এসবের মাঝে যে কাজগুলো জায়েজ, তা কি পর্দানশীন ও পর্দহীন সবার জন্যই জায়েজ? নাকি ভিন্নতা আছে?

    উত্তর : সাজগোজ করা, পরিপাটি থাকা এটি নারীদের স্বভাবজাত বিষয়। ইসলাম মেয়েদের স্বভাবজাত এ সাজসজ্জার মানসিকতার বিরোধী নয়। তবে এক্ষেত্রে শরয়ী সীমা অতিক্রম করা জায়েজ নয়। এমন কোন কাজ করা উচিত নয়, যা দ্ধারা আল্লাহ ও রাসূলের বিধান লঙ্ঘিত হয়। সাজসজ্জার ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হল, যে কাজ ইসলামে সম্পূর্ণ অবৈধ, সে কাজ কোনভাবেই কারো জন্যেই করা জায়েজ নয়। এমনকি স্বামীকে খুশি করার জন্যও করা জায়েজ নয়। আল্লাহর নবী [সা.] স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়ে কোন সৃষ্টির আনুগত্ব করা জায়েজ নয়। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১০৯৫, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৭০৭]

    আর সাজগোজের যে সব বিষয় জায়েজ, তা গায়রে মাহরাম পুরুষদের দেখানোর জন্য করলে জায়েজ নয়, এতে করে সাজগোজকারী গোনাহগার হবে। তবে স্বামীকে খুশি করার জন্য যদি সাজগোজ করে তাহলে এতে সওয়াব পাবে। বর্তমানে প্রচলিত বিউটি পার্লারের অনেক কাজ জায়েজ হলেও অনেক নাজায়েজ কাজও রয়েছে। জায়েজ কাজগুলো যদি শরয়ী পর্দা রক্ষা করে করা হয়, তাহলে সে বিউটি পার্লার চালাতে শরয়ী কোন বাঁধা নেই। তবে যদি গায়রে শরয়ী কাজ করে, তাহলে যে করল সেও গোনাহগার হবে, যার মাধ্যমে করলো সেও গোনাহগার হবে।

    চুল কাটা : নারীদের জন্য মাথার চুল যে কোন অংশ থেকেই হোক কাটা বা উপড়ানো কোনটিই জায়েজ নয়। কারণ এতে করে পুরুষের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়। পুরুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাজ করার ব্যাপারে হাদীসে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস [রা.] থেকে বর্ণিত। রাসূল [সা.] অভিশাপ করেছেন সেসব পুরুষের উপর যারা নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, আর সেসব নারীদের উপর যারা পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৮৮৫, ৫৫৪৬, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৯০৪]

    অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে- হযরত আলী [রা.] থেকে বর্ণিত। রাসূল [সা.] নারীদের চুল কামাতে নিষেধ করেছেন। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৯১৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪৪৭, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৫০৪৯]

    এ কারণে নারীদের জন্য মাথার চুল কামানো জায়েজ নয়। তবে যদি কোন কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে প্রয়োজনের কারণে চুল কর্তন করা জায়েজ আছে। তবে এক্ষেত্রে যখনি উজর দূরিভূত হয়ে যাবে, তখন থেকে আর কাটা জায়েজ হবে না। একই হুকুম বালেগ হওয়ার নিকটবর্তী মেয়েদের বেলায়ও প্রযোজ্য। অর্থাৎ তাদের জন্য চুল কাটানো জায়েজ নয়। তবে যদি বালেগ হওয়ার নিকটবর্তী বয়সে উপনিত না হয়, তাহলে এমন শিশুদের সৌন্দর্য বাড়াতে, বা অন্য কোন কারণে সাজতে চুল কাটানোয় কোন সমস্যা নেই। তবে এক্ষেত্রেও কাফের বা ফাসেকদের ষ্টাইল বা ফ্যাশন নকল না করা উচিত।

    চুল রং করা : চুল রং করা চুলকে রঙ্গীন করাতে কোন সমস্যা নেই। যদি অন্য কোন হারাম কাজ না করা হয়, তাহলে এমনিতে নারীদের চুল রঙ্গিন করাতে শরয়ী কোন নিষিদ্ধতা নেই।

    চুল ঝুঁটিকরণ : চুল কাটা ছাড়া বিভিন্ন প্রকার ঝুঁটি ও ডিজাইন করাতেও শরয়ী কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। হযরত ইবনে আব্বাস [রা.] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আমার খালা মায়মূনা বিনতে হারিসের নিকট রাত যাপন করছিলাম। ঐ রাতে রাসূলও [সা.] তাঁর কাছে ছিলেন। ইবনে আব্বাস [রা.] বলেন, রাসূল [সা.] উঠে রাতের সালাত আদায় করতে লাগলেন। আমি তাঁর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার চুলে ঝুটি ধরে আমাকে তাঁর ডান পাশে নিয়ে দাঁড় করালেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৯১৯, ৫৫৭৫] তবে এক্ষেত্রে কাফের বা কোন ফাসেক নারীর ডিজাইন ও ষ্টাইল যেন নকল না করা হয় সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ ফাসেক ও কাফেরের সাদৃশ্য গ্রহণ জায়েজ নয়।

    হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর [রা.] থেকে বর্ণিত। রাসূল [সা.] ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি যার সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। [আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং-৪০৩৩, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদিস নং-২৯৬৬, মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং-২০৯০৮৬]

    ফ্যাসিয়াল ও হাত পা মালিশ করা : শরয়ী সীমায় থেকে সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে নারীদের জন্য ফ্যাসিয়াল করা, ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা, হাত পা মালিশ করা জায়েজ আছে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন শরয়ী সীমা লঙ্ঘিত না হয়। যেমন মালিশ করতে গিয়ে যে অঙ্গ ধরা স্বামী ছাড়া কারো জন্য জায়েজ নয়, তা স্পর্শ করা ইত্যাদি। যদি এমনটি করা হয়, তাহলে তা হারাম হবে।

    ভ্রূ চিকন করা ভ্রূ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা : ভ্রূ চিকন করা ভ্রূ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা জায়েজ নয়। হারাম। হাদীসে এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ [রা.] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সৌন্দর্য বৃদ্ধিকল্পে যে নারী উলকী উৎকীর্ণ করে ও করায়, যে নারী ভ্র উপড়ে ফেলে এবং যে নারী দাঁত কেটে সরু করে দাঁতের মাঝখানে ফাঁক বানায়, যে কাজগুলি দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে পরিবর্তন সাধিত হয়, এদের উপর আল্লাহ তাআলা অভিশাপ বর্ষণ করুন। আমি কেন তার উপর অভিশাপ বর্ষন করবো না, যাদের উপর আল্লাহর রাসূল অভিশাপ বর্ষণ করেছেন। সেই সাথে তা আল্লাহ তাআলার কিতাবেই বিদ্যমান আছে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৯৪৩, ৫৫৯৯, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-১৪৬৭] তবে হিজড়াদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হলে ভ্রুকে কেঁচি দিয়ে ছোট করা জায়েজ আছে। যেমন- ফাতাওয়া শামীতে এসেছে হাত-পা ও চেহারার চুল উপড়ে ফেলা নারীদের শরীরের অতিরিক্ত লোম ও চুল উপড়ে ফেলা জায়েজ আছে। যেমন- দাড়ি মোচ, লোম ইত্যাদি।

    বধুসাজ : ইতোপূর্বের আলোচনা দ্বারাই একথা বুঝে এসে গেছে যে, সাজগোজ করাতে ইসলামী শরীয়তে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। যদি না কোন হারাম উদ্দেশ্য হয় কিংবা কোন হারাম পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তাহলে সাজগোজ করাতে কোন সমস্যা নেই। আর স্বামীকে সন্তুষ্ট করতে সাজগোজ করতে শরীয়ত স্ত্রীকে উদ্ভুদ্ধ করে থাকে। তাই স্বামীর জন্য স্ত্রীকে সাজিয়ে দেয়া বা স্ত্রী নিজেই সাজগোজ করাতে কোন সমস্যা নেই। তবে যদি অন্য কোন শরীয়ত বিরোধী এতে অনুপ্রবেশ করানো হয়, তাহলে ভিন্ন কথা। শেষ কথা এক বাক্যে যেমন পার্লারকে নাজায়েজ বলা যাবে না, ঠিক তেমনি এক বাক্যে তাকে জায়েজও বলা যাবে না। উপরোক্ত দীর্ঘ আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল যে, হারাম কাজ না করলে পার্লার খোলা জায়েজ আছে, আর হারাম কাজ করা হলে জায়েজ নয়।

    উত্তর লিখেছেন- মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী