• ?????: প্রবাস

    যৌন নিপীড়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে কারণে প্রত্যাহার

    ভারতের উত্তর প্রদেশের ২১ বছর বয়সী আইনের ছাত্রী সাম্য গুপ্তা একটি বাসের পেছনের দিকের একটি আসনে বসে ঝিমুচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন তার বুকের ওপর কিছু একটা। এটা ছিল তার পেছনের আসনে বসা লোকটির হাত। ‘যে মুহূর্তে আমি বুঝলাম, আমি আসন থেকে উঠে দাঁড়ালাম, চিৎকার করলাম এবং লোকটিকে বললাম তার পরিচয়পত্র দেখাতে,’ ফেসবুকে এক স্টেটাসে লিখেছেন মিস গুপ্তা। বড়সড় এ স্টেটাসটিতে মিস গুপ্তা ওই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন, তিনি শুধু প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, ওই অভিযুক্তকে আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য বাসটিকে ঘুরিয়ে থানার দিকে যেতে বাধ্যও করেন তিনি। যেসব সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারকারীরা মিস গুপ্তার এই কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন, শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিল সেটা জানলে তারা হয়ত আশাহত হবেন। ফেসবুকে মিস গুপ্তা লিখেছেন, তিনি যখন লোকটিকে চ্যালেঞ্জ করেন, তখন আনুমানিক ৪০ বছর বয়স্ক লোকটি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ সময় বাসটির জনা তিরিশেক যাত্রীও মিস গুপ্তার পক্ষে সোচ্চার হন। কিন্তু তারাও তাকে পরামর্শ দেন এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করতে। মিস গুপ্তা লিখেছেন, আমার সহযাত্রীরা আমাকে বলেন মেনে নিতে এবং ছেড়ে দিতে। ‘কিন্তু আমার সিদ্ধান্ত ছিল ভিন্ন। মাত্র ক্ষমা চেয়েই তার মতো একজন মানুষ পার পেয়ে যাবে, এমনটি হতে দিতে রাজি ছিলাম না আমি। ‘ বিবিসিকে মিস গুপ্তা বলেন, ‘তিনি বাস ড্রাইভারকে রাজি করেন বাসটি ঘুরে পার্শ্ববর্তী থানার দিকে নিয়ে যেতে। যাত্রীরা ওই অভিযুক্তকে ঘিরে ছিলেন। থানায় পৌঁছলে তারাই ওই অভিযুক্তকে ঘিরে ভেতরে নিয়ে যান। ‘ তারপর ওই ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন মিস গুপ্তা। তার নাম মিস গুপ্তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি, অন্য কোনো মাধ্যমেও লোকটির পরিচয় প্রকাশিত হয়নি। মিস গুপ্তা বলেন, তাকে হিন্দিতে জবানবন্দি লিখতে বলা হয়, কিন্তু এই ভাষাটি ঠিকঠাক লিখেতে জানেন না তিনি। এটা জেনে আমি অবাক হই, ভারতের কোনো নিরক্ষর মহিলা যদি সাহস করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যায়, তাদের ক্ষেত্রে কী হবে? আমি একজন আইনের ছাত্রী হয়েও পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে হিমশিম খেয়েছি। থানা থেকে বেরিয়ে গিয়েই সমস্যার ইতি ঘটেনি বলে ফেসবুকে উল্লেখ করেন সাম্য গুপ্তা। তিনি যখন অন্য একটি বাসে চড়বার জন্য এগিয়ে যান, তখন অভিযুক্ত নিপীড়কের পক্ষ হয়ে কয়েকজন মানুষ তার দিকে এগিয়ে আসেন এবং অভিযোগ তুলে নেবার জন্য বলতে থাকেন। তারা তার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলতে থাকেন বলে উল্লেখ করেন মিস গুপ্তা। তারা বলতে থাকেন, যে হরদম নানারকম পুরুষের সাথে ওঠবস করে তার এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি থাকে নাকি। গুপ্তার এই অভিযোগ শোনার জন্য আদালত একটি তারিখও ধার্য করেন। কিন্তু সেই তারিখ আসার আগেই অভিযোগ তুলে নেন মিস গুপ্তা। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে বিবিসির কাছে উল্লেখ করেন তিনি। প্রথমত তিনি দাপ্তরিক জটিলতার কথা উল্লেখ করেন যার কারণে তার ফোন নম্বরটি ওই অভিযুক্তের পরিবার পেয়ে যায়। তারা তাকে নিয়মিত ফোন করতে থাকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য। তারা ওই লোকটির দুটি সন্তানেরও দোহাই দেয়। তাদের মতে এটা আদালতে বিচার হবার মতো বড় কোনো ব্যাপার নয়, বলেন মিস গুপ্তা। তিনি আরো বলেন, আমি একজন ছাত্রী এবং আমার নিজের রোজগার নেই। আমিই আমার পরিবারে প্রথম আইন পড়ছি। পুলিশের কাছে আমি গেছি এটাই তাদের কাছে ছিল বিরাট ব্যাপার। এটা আমার পরিবারের জন্য বিরাট চাপ হয়ে দেখা দিয়েছিল, এটাও অভিযোগ তুলে নেওয়ার একটি কারণ।

    ফিনল্যান্ড বিএনপির ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনে বিক্ষোভে অংশ নিবে

    জামান সরকার, হেলসিংকি (ফিনল্যান্ড)থেকে: আগামী ১৭ জানুয়ারি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিএনপির নেতাকর্মীরা সম্মিলিত ভাবে সুইজারল্যান্ডের ডাভোস নগরীতে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে।

    বিক্ষোভ শেষে যৌথ সভায় দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আহুত আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রবাস বিএনপিকে কিভাবে আরও শক্তিশালী, কার্যক্ষম এবং ঐক্যবদ্ধ করে আগামী দিনে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার করা যায় সে ব্যাপারে বিএনপির বিভিন্ন দেশের নেতাকর্মীদের মতামতও গ্রহন করা হবে।

    সুইজারল্যান্ড বিএনপি আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নিতে জামান সরকারের নেতৃত্বে ফিনল্যান্ড বিএনপির ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল ১৬ই জানুয়ারি সকালে জুরিখ পৌঁছবেন।

    যুক্তরাজ্য, আষ্ট্রিয়া, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড, ইতালী, নরওয়ে, জার্মান, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরী, রাশিয়া, স্পেন, পর্তূগাল, গ্রীস বিএনপিসহ বিভিন্ন দেশের বিএনপির প্রতিনিধি দলগুলি জুরিক পৌঁছলে বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানাবেন সুইজারল্যান্ড বিএনপি নেতা শেখ আনোয়ার, কবীর মোল্লা, আসলাম বিল্লাল সহ স্বাগতিক দেশের নেতৃবৃন্দ। ।

    যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালেও ডিভি লটারি সুযোগ নেই বাংলাদেশিদের

    তৈয়বুর রহমান টনি নিউ ইর্য়ক থেকেঃ ডিভি লটারি কর্তৃপক্ষ বলছে,বাংলাদেশ ছাড়াও ব্রাজিল, চীন, কলম্বিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, হাইতি, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, পেরু, ফিলিপিনস, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও নাইজেরিয়া এ সুযোগ পাবেন না।বাংলাদেশসহ ১৮টি দেশ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে ডিভি লটারির নতুন সার্কলার প্রকাশ করা হয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চহারে অভিবাসন হওয়ায় বাংলাদেশসহ এসব দেশের নাগরিকরা লটারির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

    স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের জন্য বিশেষ কর্মসূচি ডিভি (ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রোগ্রাম) লটারিতে ২০১৯ সালেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা।

    যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছর ডিভি লটারি ২০১৯-এর আওতায় মোট ৫৫ হাজার বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাবেন। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত অভিবাসীরা ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে দেশটিতে প্রবেশ করার অনুমতি পাবেন।

    ডিভি লটারির জন্যে আবেদনের যোগ্য দেশগুলো হচ্ছে- ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য (উত্তর আয়ারল্যান্ড ছাড়া) ও কানাডা।

    তবে চীনের মূলভূখণ্ডে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করতে না পারলেও হংকং, ম্যাকাও ও তাইওয়ানে জন্মগ্রহণকারীরা ডিভির সুবিধা পাবেন।

    যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওয়েবসাইটে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে যে সব দেশের অভিবাসীর সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম, ডিভি লটারির ক্ষেত্রে সেসব দেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

    তবে ডিভি লটারি কর্তৃপক্ষ বলছে, আবেদনকারীর স্বামী/স্ত্রী যদি ডিভি লটারির আবেদনের যোগ দেশে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, তাহলে সেই দেশকে ‘নেটিভ কান্ট্রি’ বিবেচনা করে ডিভি লটারি ২০১৯- এর জন্য আবেদন করা যাবে।

    যুক্তরাজ্যের আবেদনকারীরা ডিভি লটারির জন্য আবেদন করতে না পারলেও উত্তর আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারীদের লটারিতে অংশ নিতে বাধা নেই।

    ৫ বছরে অভিবাসনের কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার কথা বলে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ছাড়া আরও ১৮টি দেশের জন্য ডিভি লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ ঘোষণা করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

    ৬ বাংলাদেশিকে গুলি করল মিয়ানমার নৌবাহিনী

    মিয়ানমারের নৌবাহিনী বাংলাদেশি মাছ ধরার একটি ট্রলারকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে। এতে ওই ট্রলারের ছয় জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপের পূর্বে সাগরে এ ঘটনা ঘটে।
    গুলিবিদ্ধরা হলেন- কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়ার ওসমান গনি (২২), একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৩০), নুর আহমেদ (৩২) ও কক্সবাজার মহেশখালীর সাইফুল ইসলাম (৩৫)। অপর দুই জনের নাম জানা যায়নি।
    কোস্ট গার্ড ও স্থানীয়রা জানান, গত চার দিন আগে কক্সবাজারের বাসিন্দা মো. রহিম সওদাগরের মালিকাধীন মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে ১৪ জেলে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যান। মঙ্গলবার তারা সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপের পূর্বে মাছ ধরতে সাগরে জাল ফেলেন।
    হঠাৎ করেই মিয়ানমারের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ মাছ ধরার ট্রলারকে ধাওয়া করে গুলি চালায়। এতে ৬ জেলে গুলিবিদ্ধ হন। বিকেল ৫টার দিকে ট্রলারটি সেন্টমার্টিন ঘাটে পৌঁছলে স্থানীয় লোকজন ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা গুলিবিদ্ধদের প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঠান। তাদের পা, হাত ও চোখের নিচে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
    কোস্ট গার্ড সেন্টমার্টিন দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আবছার জানান, বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরার সময় মিয়ানমারের নৌবাহিনী তাদের ধাওয়া করে গুলি বর্ষণ করেছে।

    বড়দিন উপলক্ষে ফিনল্যান্ড বিএনপির শুভেচ্ছা

    জামান সরকার, হেলসিংকি থেকে: বড়দিন উপলক্ষে দেশের খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীসহ বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জানীয়তাবাদী দল ফিনল্যান্ড শাখার নেতৃবৃন্দ।

    এক বাণীতে ফিনল্যান্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা সুখী-সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। তারা দেশে বিদ্যমান সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করতে সবাইকে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখারও আহবান জানান।

    বড়দিন উপলক্ষে দেশের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীসহ বিশ্ববাসীকে ফিনল্যান্ড বিএনপি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, মানবজাতির মুক্তির লক্ষ্যে এ পৃথিবীতে মহামতি যীশু খ্রিস্টের আবির্ভাব ছিল এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। তিনি ছিলেন মুক্তির দূত, আলোর দিশারী। পৃথিবীকে শান্তির আবাসভূমিতে পরিণত করতে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা সহ্য করে যীশুখ্রিস্ট সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচারসহ খ্রিস্টধর্মের সুমহান বাণী প্রচার করেন।
    ‘যীশু খ্রিস্ট পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান জানান। যীশুর মতে মানুষের পরিত্রাণের উপায় হলো জগতের মাঝে ভালোবাসা, সেবা, ক্ষমা, মমত্ববোধ, সহানুভূতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাসহ শান্তিপূর্ণ অবস্থান। পূর্ণ অন্তর, মন ও শক্তি দিয়ে তিনি ঈশ্বর ও সব মানুষকে ভালোবাসতে বলেছেন।’

    বাংলাদেশ জানীয়তাবাদী দল ফিনল্যান্ড শাখার নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। এ সম্প্রীতি আমাদের আবহমান কাল ধরে। এখানে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। যারা হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে এই ঐতিহ্যকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
    শুভেচ্ছা বাণীতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন, জামান সরকার, মোকলেসুর রহমান চপল, বদরুম মনির ফেরদৌস, আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, সামসুল আলম, নাজমুল হুদা মনি, আবদুল্লাহ আল আরিফ, তাপস খান, মীর সেলিম, মোস্তাক সরকার, মিজানুর রহমান মিঠু, আবুল কালাম আজাদ, সুমন, তাজুল ইসলাম, মোঃ আনোয়ার হোসেন, নাজমুল হাসান, মোঃ সাইফুর রহমান, সাইফুর রহমান, ফাহমিদ উস সালেহীন, মনোয়ার পারভেজ,ইব্রাহিম খলিল, মোঃ সালাহউদ্দিন, জনি খান, মোঃ সামিউল আরেফিন, জাভেদ ইকবাল, শায়খ আকবার হোসাইন, মোঃ ইউসুফ ইসলাম ভূইয়া, সাইদ আহমেদ, ফাহিম শাহরিয়ার, সামি-উর রাশেদীন, মীর ইসমাইল প্রমুখ।

    খ্রীস্ট ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শুভ বড় দিন

    তৈয়বুর রহমান টনি নিউ ইয়র্কঃ-শুভ বড় দিন মানে ঈসা মসীহের শুভ জন্মদিন। বেথলেহেমের গরীব কাঠুরের গোয়াল ঘরেই যীশু খ্রিস্টের জন্ম। কুমারী মেরির গর্ভে যীশু খ্রিস্টের জন্ম। ধর্মবিশ্বাস বলে, ‘ঈশ্বরের অনুগ্রহে ও অলৌকিক ক্ষমতা মেরি কুমারী হওয়া সত্ত্বেও গর্ভবতী হন। ইসলাম ধর্মবিশ্বাসে তাকে হযরত ঈসা (আ.) বলা হয়। ইউসুফের সঙ্গে ঈসার মা মারিয়ামের বিয়ে ঠিক হয়েছিল।

    মারিয়ার স্বামী কাঠমিস্ত্রী যোসেফ ছিলেন যিশুর পালক পিতা মাত্র।রাতের বেলা বেথলেহেমের মাঠে ভেড়া চড়াচ্ছিল একদল রাখাল। যিশুর জন্মের পরপরই স্বর্গের দূতেরা এসে তাদের বলল, ওই গোয়ালঘরে তোমাদের উদ্ধারকর্তা জন্মেছেন, যাও তাঁকে শ্রদ্ধা জানাও এবং ঈশ্বরের প্রশংসা করো। রাখালেরা তা-ই করল। যিশুর জন্মের পরপরই আকাশের বুকে ফুটে উঠেছিল একটি বিশেষ তারা। পূর্ব দেশের পণ্ডিতেরা সেই তারা দেখে বুঝতে পারলেন, পৃথিবীতে সেই মহান রাজার জন্ম হয়েছে, ঈশ্বর যাঁকে পাঠানোর কথা বলেছিলেন মানবজাতির মুক্তির জন্য। পূর্ব দেশের তিন পণ্ডিত বহু দূর দেশ থেকে বেথলেহেমে রওনা হলেন তাঁদের রাজাধিরাজকে শ্রদ্ধা জানাতে।

    ২ হাজার বৎসর আগে এই শুভদিনে পৃথিবীকে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক মহান যীশু খ্রিস্ট। খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরা বিশ্বাস করেন মর্তের কোন পুরুষের সহবাস ছাড়াই যীশু খ্রিষ্টের জন্ম। সেই অর্থে খ্রিস্ট ধর্মানুসারীদের কাছে তিনি ঈশ্বরের পুত্র। আরবের (বর্তমান ফিলিস্তিন) বেথেলহেম নামক স্থানে একটি দীন-দুঃখী পরিবারের ভাঙা গোয়ালঘরে যাব পাত্রে তিনি ভূমিষ্ঠ হন। সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় সেখান হতেই বিকশিত হয় মুক্তির এই আলোর দিশারী, যার স্পর্শে পাপের পংকিল আবর্ত মানুষের অন্তরে এনে দেয় শান্তির পরশ। ইসলাম ধর্মে যীশু খ্রিস্ট হযরত ঈসা (আঃ) নামে পরিচিত। তাকে আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ হিসেবে মুসলমানরা শ্রদ্ধা করেন। প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে এই উৎসব পালিত হয়। এই দিনটিই যীশুর প্রকৃত জন্মদিন কি-না তা জানা যায়নি। তবে আদিযুগীয় খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুসারে, এই তারিখের ঠিক নয় মাস পূর্বে মেরির গর্ভে প্রবেশ করেন যীশু। আর এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর যীশুর জন্মোৎসব পালন করা হয়।
    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আনন্দঘন পরিবেশে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর সাথে দেশবাসী ‘ক্রিসমাস ডে’ (শুভ বড়দিন) উদযাপন করে থাকেন। ২৫শে ডিসেম্বার ক্রিসমাস ডে হলেও ২৪শে ডিসেম্বার সন্ধ্যা থেকেই উৎসব শুরু হয়ে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রিসমাসের ছুটি শুরু হয় বেশ আগে থেকেই, অফিস ছুটি থাকে ২৪শে থেকে নিউ ইয়ার পর্যন্ত। সারা আমেরিকা জুড়েই থাকে উৎসবের আমেজ। ২৪শে ডিসেম্বর সন্ধ্যায় (খ্রিস্টমাস ইভ) থেকেই সামাজিক এবং পারিবারিক প্রীতিবন্ধনের সমাবেশ থেকে এই মহাজন্মোত্সবের সুচনা হয়। তবে এই উৎসবের প্রস্তুতি চলেছে মাসব্যাপী। প্রথা অনুসারে নভেম্বরের শেষ বৃহস্পতিবার থ্যাঙ্কস গিভিং দিবসের পরে ব্লাক ফ্রাইডে থেকে প্রিয়জনদের জন্য উপহার সামগ্রী সংগ্রহের মাধ্যমে এই মহা উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়।
    বড়দিন উপলক্ষে নিউইয়র্কের বিখ্যাত রকফেলার সেন্টারে ক্রিসমাস ট্রি উন্মুক্ত করা হয়েছে। ৭৬ ফুট দীর্ঘ বৃক্ষটি ৪৫ হাজার নানা রঙের বাতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। ১৯৩৩ সাল থেকে প্রতি বছর বড়দিনে নিউইয়র্কের রকফেলার সেন্টারে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয়। উৎসবের আনন্দে শামিল হতে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অসংখ্য পর্যটক বেড়াতে যান। মাসব্যাপী বাসা বাড়ীতে আলোক সজ্জা, গির্জাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শপিং মল ও বাসাবাড়িতে ‘ক্রিসমাস ট্রি’ স্থাপন, রংগীন বল, জড়ি, ক্যান্ডীসহ নানা উপকরণে ক্রিসমাস ট্রি সজ্জা, প্রীতিভোজ, খ্রিস্টমাস কেক কাটার আনন্দের মধ্য দিয়ে উত্সবের সামাজিক পর্বটি সমাপ্তি হয়।
    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি স্তরে আদান প্রদান করা হয় উপহার সামগ্রী, আয়োজন করা হয় প্রীতিভোজের। সিক্রেট সান্তার লুকোচুরির খেলায় গিফট আদান প্রদান হয়ে থাকে মহা আনন্দ ধারায়। এই সময় শপিং মলগুলি হয়ে উঠে প্রানচাঞ্চল্য। রংগীন সজ্জায় সজ্জিত মলে স্থাপিত দীর্ঘ ‘ক্রিসমাস ট্রি আর লাল পোষাক আর ধবধবে সফেদ চুল-দাড়ি, উপহার ভর্তি কাঁধের লাল ঝোলা শিশুদেরকে দারুন ভাবে আকৃষ্ট করে। শপিং মলগুলির উপচে পড়া ভীড় বাংলাদেশের ঈদের বাজারকেই স্নরণ করিয়ে দেয়। সত্যিকার অর্থে দেশে ঈদের আনন্দ প্রবাসে এই ‘ক্রিসমাস ডে’র আনন্দের সমার্থ হয়ে উঠে। ‘ক্রিসমাস ডে’ উপলক্ষে প্রায় প্রতিটি বাড়ীই সাজানো হয় বর্নিল আলোক সজ্জায়। অনেকেই গাড়ী নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে এই আলোক সজ্জার দৃষ্টি নন্দন শোভা অবলোকনে।
    ক্রীসমাস ট্রি ছাড়া ক্রীসমাস উৎসবের সবচেয়ে বড় আইকন হচ্ছে স্যান্টা ক্লজ। স্যান্টা ক্লজ বলতে ছোট ছোট শিশুরা অজ্ঞান। তারা মনে করে, স্যান্টা ক্লজ বাচ্চাদের পরম বন্ধু, স্যান্টা ক্লজ খুব দয়ালু। ক্রীসমাসের সময় সুদূর উত্তর মেরু থেকে স্যান্টা তার পিঠে বাচ্চাদের জন্য উপহারের বোঝা নিয়ে আসে, প্রতি বাড়ী বাড়ী যায়, সে বাড়ীর বাচ্চাটির জন্য উপহারটি রেখে দিয়ে চলে যায়। কোথায় যায় স্যান্টা? স্যান্টা কোথাও থামেনা, পৃথিবীর যত শিশু আছে, তাদের প্রত্যেকের কথা স্যান্টা জানে। কাজেই স্যান্টাকে দৌড়ের উপর থাকতে হয়। তবে ভাগ্য ভালো, স্যান্টা আসে শ্লেজ গাড়ীতে চড়ে। নয়টি রেইন ডিয়ার চালায় স্যান্টার শ্লেজ। তাই ভারী শরীরখানা নিয়ে স্যান্টাকে হাঁটতে হয় না। স্যান্টা এত মোটা কেনো? এ প্রশ্ন যে কোন বাচ্চাকে করা হলে, খুব সহজে উত্তর দেয়, সবার বাড়ীতে গিয়ে স্যান্টাকে ‘দুধ আর কুকী’ খেতেই হয়, তাই স্যান্টা অমন মোটা হয়ে গেছে। শিশু মনের আধুনিক উত্তর।
    এমনি করেই খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব হয়ে উঠে সর্বজনীন উত্সব।
    খ্রিস্টমাস ইভের আলোক ছটায় নানা আয়োজনে, আবেগ আর অনুভুতি নিয়ে ‘ক্রিসমাস ডে’ আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বন্ধু এবং পরিবারের প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে। সারা মাসব্যাপী পাওয়া উপহার সামগ্রী যা বাড়ীতে স্থাপিত ‘ক্রিসমাস ট্রি” পাশে জমা ছিল, সকলের উপস্থিতিতে সেই উপহার সামগ্রীগুলি খোলা হয় আনন্দ চিত্তে। রাতে প্রতিটি বাড়ীতেই আয়োজন করা হয় সুস্বাদু খাবারের। সারা রাত আনন্দ উল্লাসের মধ্যে কেটে যায় প্রতিক্ষিত এই উৎসবের তার। ২৫শে এ দুপুরে প্রধান আয়োজন প্রার্থনা সভার। এই সময় দল বেধে নতুন পোষাকের সাজ সজ্জায় ছুটে যায় গীর্জায়।অংশ নেবে পৃথিবীর সকল মানুষের কল্যানে বিশেষ প্রার্থনার।‘ক্রিসমাস ডে’ উপলক্ষে আমেরিকার খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী বাংলাদেশী আমেরিকানরা আয়োজন করে থাকে নানা অনুষ্ঠানের।
    আমাদের দেশে বড়দিন-পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যিশুর জন্মদিন ঘটা করে পালন করা হয়। এ দিন বড় বড় হোটেলগুলোতে বিশেষ আয়োজন থাকে। সাজানো হয় ক্রিসমাস ট্রি-ও। তবে অন্যান্য দেশে পাইন গাছ দিয়ে ক্রিসমাস ট্রি বানানো হলেও আমাদের দেশে সাধারণত ব্যবহৃত হয় ঝাউগাছ। আবার ক্রিসমাসের খাবার হিসেবে কেকের পাশাপাশি বাঙালি খাবারের মত িঠা-পুলি, পোলাও, মাংস, বিরিয়ানী, এসবও থাকে। আরেকটি মজার ব্যাপার হলো ক্রিসমাস ক্যারল বা ক্রিসমাসের যে গানগুলো গাওয়া হয়, সেগুলোও সব ইংরেজি গানই গাওয়া হয় না। তার মধ্যে থাকে ভাটিয়ালী গান, কীর্তন, এমনকি রবীন্দ্রসঙ্গীতও।
    এ ছাড়া আরেকটি মজার ঘটনা হচ্ছে, আমেরিকার আগেও আমাদের দেশে ক্রিসমাস পালন শুরু হয়! কারণ আমেরিকায় ক্রিসমাসের দিনটিকে ছুটির দিন হিসেবে পালন করা শুরুই হয় ১৮৭০ সালে। অথচ ব্রিটিশরা এদেশে ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকেই আমাদের দেশে বড়দিনে ছুটি পালন করা হয়।

    মালয়েশিয়া ২ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিককে বৈধতা দিচ্ছে

    মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া ২ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিককে পুনরায় ভিসা দেবে মালয়েশিয়া সরকার।

    বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় এসব শ্রমিক অবৈধ হয়ে সেদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছিল। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধে সেদেশের উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জহির হামিদি আশ্বস্ত করেছেন, সব অবৈধ বাংলাদেশীকে রিহায়ারিং প্রোগ্রামের আওতায় বৈধ করে নেয়া হবে।খবর যুগান্ত’র।

    এর আগে কুয়লালামপুরে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিটে অংশ নিয়ে মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তোফায়েল আহমেদ।

    বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

    বিনা খরচে কর্মী যাবে কাতারে

    পারস্য উপসাগরের তেলসমৃদ্ধ দেশ কাতারে বিনা খরচে পুরুষকর্মী পাঠানো হবে। কাতার ফাউন্ডেশন এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করবে। কিছু দিনের মধ্যে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় ঠিক কত সংখ্যক কর্মী যেতে পারবে তা এখনো জানা যায়নি।
    জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা এ সুখবর জানিয়ে বলেন, দেশটিতে বর্তমানে বিদেশি কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ৭শ রিয়াল। তা বাড়িয়ে ১২শ রিয়াল করারও প্রস্তাব করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। অভিবাসনের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নও হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবে নারীকর্মীরা বিনামূল্যে (জিরো কস্ট) যেতে পারছে। খুব শিগগিরই পুরুষকর্মীদেরও বিনা খরচে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এতদিন বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার বন্ধ ছিল, এখন পর্যায়ক্রমে তা খুলেছে, অভিবাসন খরচ অনেকটা কমে যাবে।
    আগামী ২ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৩ লক্ষাধিক কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার। কাতারে বাংলাদেশিরা নির্মাণশ্রমিক ও পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কাজ করছে। তবে ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে দেশটিতে। এ লক্ষ্যে সেবা ও নির্মাণ খাতে বাংলাদেশ থেকে পেশাগত ও দক্ষ শ্রমিক নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে কাতার। আর দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশের পক্ষে সামগ্রিক প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ দিতে বর্তমানে ৭০টি ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। আরও ৪০টি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। বর্তমানে ২ লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন দেশটিতে।
    ২০২২ সালে দেশটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে বর্তমানে অবকাঠামো উন্নয়নে চলছে মহাযজ্ঞ। এই যজ্ঞ নির্বিঘœ করতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি জনশক্তিকে কাজে লাগাতে চায় তারা। এ জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ কোটা বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।
    জানা গেছে, কাতারে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, অভিবাসন ব্যয় কমানো, ভিসা ট্রেডিং বন্ধসহ, অভিবাসী কর্মীদের স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণ বিষয় নিয়ে সরকারি পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন অবকাঠামো বিনির্মাণ ও সংস্কারের জন্য কাতারে ব্যাপক কর্মীর প্রয়োজন হবে। সে চাহিদা পূরণসহ অন্য খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়টির দিকে দুদেশের সরকার জোর দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভিসা ট্রেডিং বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) প্রথমে জমা পড়বে কাতারের ডাইরেক্টরেট অব পাবলিক রিক্রুটমেন্টে। পরে ওই সংস্থা বাংলাদেশের বিএমইটির কাছে চাহিদাপত্রগুলো পাঠাবে। বিএমইটি কাজের নৈপুণ্য বিবেচনায় এনে ঠিক করবেÑ কোন এজেন্সি লোক পাঠাবে।
    কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর জন্য ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে তারা সব সেক্টরেই কর্মী নেবে। তবে ঠিক কত সংখ্যকÑ তা এ মুহূর্তে কৌশলগত কারণে বলা যাবে না। দেশটিতে ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত চলবে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ। সেখানে বাংলাদেশি কর্মীদের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি থাকবে। এরপর সেবা খাতের কাজ চলবে। এখানেও প্রাধান্য থাকবে বাংলাদেশিদের। কর্মরত বাংলাদেশিরা খুব ভালো আছেন। গত দুই বছর কাতার নিয়ে সেখানকার বাংলাদেশি শ্রমিকরা কোনো অভিযোগ করেননি। কাতারেরও বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই।
    দূতাবাস সূত্র আরও জানায়, অবকাঠামোগত উন্নয়নের এই বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কাজে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ করবে তারা। তাই বাংলাদেশ থেকেই অন্তত ৫ লাখেরও বেশি কর্মী নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি। বিশ্ব ফুটবলের জমজমাট আয়োজনের অংশ হিসেবে আগেই নতুন করে ১৭টি পাঁচতারা হোটেল, ১০টি স্টেডিয়াম ও একাধিক নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ করবে কাতার।

    দুবাইয়ে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেস্টিভ্যাল সিটি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। যাদের তিনজন বাংলাদেশি বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

    রোববার ভোরে ‍দুবাইয়ের আল রাবাত সড়কে একটি ট্রাকের সঙ্গে শ্রমিকবাহী বাসের সংঘর্ষে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে বলে দুবাইভিত্তিক খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    এ ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন, যাদের তিনজনের অবস্থা গুরুতর। নিহত অপর দুই শ্রমিক ভারতীয়।

    নিহত বাংলাদেশিরা ক্লিনকো ক্লিনিং সার্ভিসেস অ্যান্ড বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স নামের একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। তাদের একজন শরীয়তপুরের মুদাসিসিস (৪৯) বলে খালিজ টাইমস জানিয়েছে।

    স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, দুবাইয়ের ফেস্টিভ্যাল সিটির একটি ভবনে কাজ করতে কোম্পানির ১৯ জন শ্রমিক নিয়ে সেদিকে যাচ্ছিল কোস্টারটি। গন্তব্যে পৌঁছাতে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি ট্রাকের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    এতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সেখানে আরেকজন মারা যান। নিহতদের লাশ রশিদ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    নিহত মুদাসিসির ছেলে ফেরদৌসও (২৩) দুবাই প্রবাসী। বাবার মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়া এই যুবক খালিজ টাইমসকে বলেন, “আমি জানি না কী করব। বাড়িতে খবর দিয়েছি।”

    সিটিজেন মুভমেন্টের উদ্যোগে হাউস অব কমন্সের সেমিনার অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশের চলমান সঙ্কটময় পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের সেমিনারকক্ষে সিটিজেন মুভমেন্টের উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হলে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য বাংলাদেশ বিষয়ক অলপার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের অন্যতম সদস্য সায়মন ডানসাক এমপি শেখ হাসিনার সরকারকে অগনণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নেই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই, সাংবাদিকরা গ্রেফতার হচ্ছে, বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের উপর চলছে নির্মম নির্যাতন নিপীড়ন, জঙ্গি হামলায় খুন হচ্ছে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ।

    এমনকি শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী এ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়রম্যান তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাদেরকে হয়রানিমূলক মামলার মাধ্যমে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন।

    আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশকে গনতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে এনে রাজনৈতিক সংকট উত্তরনে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের জন্য আবারো তাগিদ দিলেন বৃটেনের ফরেন এন্ড কমনওয়েল দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হুগো সয়্যার। তিনি বলেন, এজন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। এজন্য সব দলের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে বৃটেনের সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে বৃটেন সরকার বাংলাদেশে গুম খুন এবং জঙ্গি কর্মকান্ড বন্ধে বাংলাদেশের প্রতি আহবান জানালেও দেখা যায় জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড আরো বেড়েছে। বেড়েছে বিরোধী দল ও মতের মানুষের উপর নির্যাতন নীপিড়ন এবং গনমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ ও মুক্তচিন্তা প্রকাশের উপর হস্তক্ষোপ।

    বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বৃটিশ পার্লামেন্টের হলে দীর্ঘ আলোচনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয় বাংলাদেশে এখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থির চরম অবনতি ঘটেছে। আলোচনায় ব্লগার হত্যা, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আন্তর্জাতিক জঙ্গী গোষ্ঠি এবং সরকারের যুগপদ হামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড এবং গুম খুনের তীব্র সমালোচনা করা হয়।

    সায়মন ডানচাক এমপি বলেন গনতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং সুনীল সমাজের মুক্তকন্ঠ এসব কিছুই সংকুচিত হয়ে পড়ায় বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন সায়মন ডানসাক।

    তিনি এ ব্যাপারে বৃটেনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন অন্যথায় বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতির প্রভাব বৃটেনের উপর পড়বে। সায়মন ডানসাক এমপি আরো অভিযোগ করে বলেন জঙ্গি দমনে সরকারের অনিচ্ছার পাশাপাশি বিরোধী দলের উপর জঙ্গী হামলার দায় চাপিয়ে এটিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করার বিষয়টি আরো উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে শেখ হাসিনা সকল গণতান্ত্রিক মত ও পথকে রুদ্ধ করেছেন। নির্বাচন কমিশন এমনকি বিচারবিভাগকেও দলীয়করণ করা হয়েছে।

    সায়মন ডানচাক এমপি বলেন সরকারী দমন নির্যাতন থেকে এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের চেয়েও অধিক প্রহসনের হবে। এই অবস্থায় তিনি বাংলাদেশকে দেয়া ব্রিটেনের সামরিক ও বানিজ্যিক সহায়তাগুলো পর্যালোচনা করার আহবান জানিয়ে বলেন, এটি দেখার বিষয় ব্রিটেনের সার্বিক সহায়তা শেখ হাসিনার সরকার বিরোধী মতকে নিপীড়ন-নির্যাতন করার জন্য ব্যবহার করছেন কিনা।

    ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাংলাদেশ সংক্রান্ত সর্বদলীয় কমিটির সহ-সভাপতি সায়মন ড্যানজুকের পরিচালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, লর্ড হোসাইন ও লর্ড কোরবান আলী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ, সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, শাহ সদর উদ্দিন, সাংবাদিক মুসফিকুল ফয়সাল আনসারী, লর্ড হোসাইন ও লর্ড কোরবান আলী, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র’র প্রতিষ্ঠিতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম, কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক ড. কে এম এ মালেক,যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির আহমেদ শাহীন প্রমুখ

    বিএনপি নেতা এমএ মালেক বলেন, গণতন্ত্রের দাবিতেই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। অথচ স্বাধীনতার পরপরই গণতন্ত্র হরণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। বর্তমানে গণতন্ত্র সঙ্কটের মুখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারা পরাজিত হবে। এজন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চাচ্ছে না। নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

    ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম বলেন, মায়ানমারে মুসলমানদেরকে হত্যা ও বহু লোককে আহত এবং শত শত ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে বসতবাড়ি থেকে বিতাড়িত করে মুসলমানদের হৃদয়ে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও শামিল। মায়ানমার সরকারের পরিচালিত এ হত্যাকাণ্ড গণহত্যার শামিল।

    ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম, মুসলমানরা যখন বাঁচার জন্য ঘুরে দাড়াতে চেষ্টা করে তখন তাদের সন্ত্রাসী বা জঙ্গি আখ্যায়িত করতে দ্বিধা করে না। কোথায় জাতিসংঘ ? কোথায় মানবাধিকার সংস্থা ? রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা কি তাদের বিবেককে তাড়িত করে না?

    তিনি বলেন, গত তিন যুগ আগে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিতাড়িত করে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করেছিল। তাদের আজ পর্যন্ত মায়ানমার সরকার দেশে ফিরিয়ে নেয়নি। সাম্প্রতিক মায়ানমার সেনাবাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৪ শত রোহিঙ্গা মুসলমান গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

    তিনি আরো বলেন, এ মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে মায়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। বিশ্ব মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।

    মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর গুলীতে ৬৯ জন রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত ও বহু লোক আহত হওয়ার নির্মম ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধে এগিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র’র প্রতিষ্ঠিতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম জাতিসংঘ ও আইসি এবং সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও শান্তিকামী বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

    ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যুগ যুগ ধরে সে দেশের সরকার চরম জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। বার্মার রোহিঙ্গা মুসলমানের কান্নায় পৃথিবীর আকাশ ভারী হয়ে উঠছে। মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশুরা বাচাঁও বাচাঁও বলে আর্তচিৎকার করছে। মায়ানমারের বর্বর সরকার তাদের উপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালাচ্ছে। হত্যা করছে অসংখ্য নিষ্পাপ শিশু, যুবক, বৃদ্ধাদেরকে। ধর্ষণ করে কলঙ্কিত করছে অসংখ্য মা-বোনদের। বিধবা করছে হাজারো নারীদের। সন্তানহারা করছে অসংখ্য মাকে। স্বামীহারা করছে অসংখ্য স্ত্রীকে। ভাইহারা করছে অসংখ্য বোনকে। মজলুম রোহিঙ্গা মুসলমানদের আহাজারীতে পৃথিবীর আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠছে। কোথায় আজ বিশ্ব মুসলমানদের সহযোগীতা ও ভ্রাতৃত্বের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ও.আই.সি। নীরব কেন আজ মানবধিকার সংস্থা? নিশ্চুপ কেন জাতিসংঘ?। গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এভাবে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। নিজ দেশে থাকতে না পেরে তারা বাঁচার আশায় থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় সমুদ্র পথে নৌযানে পাড়ি জমাচ্ছে। নৌযান ডুবে তারা সাগরের পানিতে ভাসছে ও ডুবে মরছে। সাগরে ভাসতে ভাসতে শুধু রোহিঙ্গা মুসলমান মরছে না, মানবতারও মৃত্যু হচ্ছে। তাদের বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসা সকলের মানবিক দায়িত্ব।

    মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের মায়ানমার সরকারের গণহত্যা, অত্যাচার-নির্যাতন ও বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে দেশ থেকে বিতাড়িত করা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং শান্তিকামী বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র’র প্রতিষ্ঠিতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম I