• ?????: বিনদোন ও ফ্যাশান

    নববর্ষে বড় পর্দায় মিম, ইমন ও কল্যাণ

    ‘জোনাকির আলো’
    Pic_400_777656628
    বাংলা নববর্ষে বিদ্যা সিনহা মিম, ইমন ও কল্যাণ কোরাইয়া বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন। খালিদ মাহমুদ মিঠু পরিচালিত এ ছবির নাম ‘জোনাকির আলো’। ১২ এপ্রিল রাজধানীর শ্যামলী সিনেমা হলে ছবিটির প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে নির্মিতব্য এ ছবিটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিতি, তারিক আনাম খান, মুনিরা মিঠু, শামস সুমন, গাজী রাকায়েতসহ আরও অনেকে।

    জোনাকির আলো নিয়ে মিম বলেন, ‘চার বছর পর বড় পর্দায় আমার ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এর আগে আমার ‘প্রাণের প্রিয়া’ নামক একটি বাণ্যিজিক ছবি মুক্তি পায়। ‘জোনাকির আলো’ ছবিটির গল্প আর্ট ফিল্ম ধরণের। এ ছবিতে আমি প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা একটা মেয়ে। আমাকে নিয়েই গল্পটা এগোয়। আর এর মধ্যে প্রেম, সংসার, বিরহসহ নানাকিছু দেখানো হয়েছে।’

    এদিকে মিম এবং ইমন তন্ময় তানসেনের ‘পদ্মপাতার জল’ ও রিপন মিয়ার ‘তুমি সন্ধ্যারও মেঘমালা’ নামে আরো দুটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তবে ‘জোনাকির আলো’ ছবিটি আগে মুক্তি পাচ্ছে ।

    ইমন বলেন, ‘এ ছবিতে আমাকে দর্শকরা ভিন্নভাবে দেখতে পাবেন। আমি ছবিটি নিয়ে বেশ আশাবাদী। অভিনয় ও গানের ক্ষেত্রে দর্শকরা ভিন্ন কিছু দেখতে পাবেন।’

    অন্যদিকে কল্যাণ এর আগে ‘পিতা’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ছবিটি মুক্তির পরই ‘জোনাকির আলো’ ছবির কাজ শুরু করেন। আর বিদ্যা সিনহা মিমের সাথে ছোট পর্দায় কাজ করলেও বড় পর্দায় প্রথমবারের মত জুটি হয়ে আসছেন।

    ছবিটি নিয়ে কল্যাণ বাংলানিউজকে বলেন, ‘এ ছবিতে আমাকে একজন ফটোগ্রাফার চরিত্রে দেখা যাবে। তবে এ চরিত্রটি একটু ভিন্ন। আট-দশটা ফটোগ্রাফারের মত না, প্যাসিফিক রিফ নামে একটি পাখির ছবি উঠানোর জন্য আমি সমুদ্রের কাছে যাই এবং সেখানেই মিমের সাথে পরিচয় ঘটে। ছবিটি নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। গানের পাশাপাশি ছবিতে আমার চরিত্রটিও অসাধারণ। আমি ভালো ভাবে অভিনয় করার চেষ্টা করেছি।’

    এ ছবিতে মোট ৫টি গান রয়েছে। গান গেয়েছেন ন্যান্সি, কনা, পড়শী, বাপ্পা মজুমদার, আগুন, ইবরার টিপু ও হায়দার হোসেন। আর গানগুলোর সংগীত পরিচালনা করেছেন ইমন সাহা, হায়দার হোসেন, ইবরার টিপু ও সাজ আহমেদ শাহরিয়ার।

    ছবিটি পহেলা বৈশাখে স্টার সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার সিনেমাস-এ মুক্তি পাবে।

    চলচ্চিত্রকারদের মতে, জোনাকির আলো’ সফলতা পেলে মিম, ইমন ও কল্যানের জন্য চলচ্চিত্রাঙ্গনে আসনটা আরো শক্ত হবে।

    রাজনীতিতে মৌসুমী

    18643_e1প্রিয়দর্শিনী চিত্রতারকা মৌসুমীকে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখা যাবে সহসাই। তবে বাস্তবে তিনি কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না। কিংবা তাকে কোন দলের হয়ে কাজ করতেও দেখা যাবে না। মৌসুমীকে রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখা যাবে সিনেমার পর্দায়। নতুন পরিচালক দিলশাদুল হক শিমুল পরিচালিত ‘লিডার’ ছবিতে মৌসুমী অভিনয় করছেন একজন রাজনীতিবিদের চরিত্রে। একজন সক্রিয় নারী নেত্রী হিসেবে মৌসুমী সাধারণ মানুষের দরজায় দরজায় যাবেন ভোট প্রার্থনা করবেন এবং প্রতিপক্ষের সমস্ত ঘাতপ্রতিঘাত আর প্রতিহিংসাকে মোকাবিলা করে তিনি রাজনীতিবিদ হিসেবে সফলতা লাভ করবেন। ‘লিডার’ ছবিতে মৌসুমীর নায়ক ওমরসানী। ছবিতে আরও রয়েছেন ফেরদৌস, মতিন রহমান, আহমেদ শরীফ, সোহেল খানসহ অনেকেই। রাজনীতিবিদের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে মৌসুমী এমন কিছু মেকাপ গেটাপ নিয়েছেন যা কোন বিতর্কের সৃষ্টি করবে না বলে তিনি নিজেই জানালেন। বললেন, এ বিষয়ে আমি প্রচণ্ড সতর্ক ছিলাম। মৌসুমী বলেন, পরিচালক শিমুলের দৃশ্য চিত্রায়নে মুন্সিয়ানা আছে। তিনি যা চেয়েছেন, যেভাবে চেয়েছেন, আমি সেভাবেই ক্যামেরার সামনে আসার চেষ্টা করেছি। মৌসুমী বলেন, রাজনীতিবিদ মানেই জনপ্রতিনিধি। আমি আমার যত্নে গড়া ইমেজের কথা মাথায় রেখে একজন রাজনীতিবিদের গেটাপ মেকাপে নিরপেক্ষতা এবং নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস প্রথমবারের মতো করা এই চরিত্রে দর্শকরা আমাকে পছন্দ করবেন। নতুন পরিচালক দিলশাদুল হক শিমুল বলেন, মৌসুমীর মতো বড় একজন অভিনেত্রীকে নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমার মনেই হয়নি আমি নতুন কোন পরিচালক। কারণ, গল্প অনুযায়ী মৌসুমী আমাকে বেশ সহযোগিতা করে অভিনয় করেছেন। প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। পাশাপাশি ওমরসানি ও ফেরদৌসকেও আমি সম্পূর্ণ ভিন্নরূপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস ‘লিডার’ ছবিটি সকল শ্রেণীর দর্শকদের ভাল লাগবে।

    একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন চার অভিনেত্রী

    bnmপ্রথমবারের মতো ঢালিউডের চার চিত্রনায়িকা একসঙ্গে বিদেশ ভ্রমণে যাচ্ছেন। এর আগে এ চারজন আলাদাভাবে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণে গেলেও এবারই প্রথম একসঙ্গে তারা আমেরিকায় যাচ্ছেন। তবে কোন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নয়। তারা সেখানে যাচ্ছেন ঢালিউড অ্যাওয়ার্ডে অংশ নিতে। প্রতিবছর প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশ থেকে এ আয়োজন করা হয়।
    এতে বাংলাদেশী মডেল, সংগীত তারকা, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীরা অংশগ্রহণ করে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এই চার চিত্রনায়িকার অংশগ্রহণ। এরা হলেন- আফসান আরা বিন্দু, বিদ্যা সিনহা সাহা মীম, আনিকা কবির শখ ও জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। আগামী ১৭ই এপ্রিল তারা আমেরিকার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন বলে জানা যায়। বিন্দু বলেন, আমি গত কয়েক বছরে প্রায় নিয়মিত এ অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নিই।
    সেই ধারাবাহিকতায় এবারও অংশ নেয়া। শখ বলেন, এর আগেও আমি এ ধরনের একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। আমার কাছে ভালই লাগে। ভ্রমণও হলো আবার পারফরমেন্সও হলো। মীম বলেন, সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে একটা যোগাযোগ হয়। আমি বেশ এনজয় করি। পিয়া বলেন, আমি এর আগে একাধিকবার একাধিক প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছি। এবারও তেমনি দেশকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্যই আমেরিকায় যাওয়া।

    সেখানে বাঙালিদের পাশাপাশি বিদেশী অনেক অতিথিও থাকবেন বলে জেনেছি। জানা যায়, ১৭ই এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে একসঙ্গে উড়ে যাচ্ছেন এই চার ঢালিউড নায়িকা। তাদের সঙ্গে আরও থাকছেন জেমস, প্রীতম, সজল, নিলয়, তানিয়া, ফারিহা সহ অনেকে। এদিকে বিন্দু অভিনীত ছবি মুক্তি অপেক্ষায় আছে সোহেল আরমানের পরিচালনায় ‘এইতো প্রেম’। ছবিতে বিন্দুর নায়ক নীরব।

    মীম অভিনীত ছবি মুক্তি অপেক্ষায় আছে ‘জোনাকির আলো’। আসছে সপ্তাহে ছবিটি মুক্তি পাবে। এ ছবিতে মীমের নায়ক হিসেবে আছেন ইমন ও কল্যাণ। এছাড়া মীম অভিনীত ছবি নির্মাণাধীন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় ‘তারকাঁটা’, তন্ময় তানসেনের পরিচালনায় ‘পদ্মপাতার জল’, তানিম অংশুর পরিচালনায় ‘আদি’। ছবিগুলোতে মীমের নায়ক হিসেবে অভিনয়ে আছেন যথাক্রমে আরেফিন শুভ, ইমন ও সজল।

    তৌকীরের নির্দেশনায় হাকিম-বিপাশা

    1396195642.একজন অভিনেতা হিসেবে তৌকীর আহমেদ যতটা দর্শকপ্রিয় একজন পরিচালক হিসেবেও তিনি ঠিক ততটাই। আবার অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও অধিক সফল। অভিনয়ের ক্ষেত্রে তিনি যেমন ভালো গল্প এবং চরিত্র বেশি প্রাধান্য দেন, তেমনি তার নির্মিত প্রতিটি নাটক এবং চলচ্চিত্রে দর্শককে বিনোদন দেয়ার পাশাপাশি কোনো না কোনো মেসেজও থাকে। তেমনি একটি নাটক আবারো নির্মাণ করলেন তৌকীর আহমেদ। প্রখ্যাত সাংবাদিক আসাফউদ্দৌলা রেজার ছোট মেয়ে স্বপ্না রেজার রচনায় একটি ফুলের গল্প নাটকটি নির্মাণ করেছেন। তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবন্ধীরা কিংবা তার পরিবারের লোকজন সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে নানা সমস্যার সম্মুখীন হন সে বিষয়গুলো তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের প্রতি কিভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হয় সেই বিষয়েই সচতেন করার লক্ষ্যে নাটকটি নির্মাণ করেছি। নাটকের প্রত্যেক শিল্পীই যথেষ্ট আন্তরিকতা নিয়েই কাজটি করেছেন।’ নাটকে প্রতিবন্ধী এক মেয়ের বাবা-মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম ও বিপাশা হায়াত। নাটকটিতে কাজ করা প্রসঙ্গে বিপাশা হায়াত বলেন, ‘নাটকটি নির্মাণের ক্ষেত্রে যারা জড়িত তাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরেই আমি নানা ধরনের সামাজিক কর্মকা-ের সাথে সম্পৃক্ত। তারা প্রতিবন্ধীদের নিয়েও কাজ করে থাকেন। আমি মনে করি এ ধরনের একটি নাটকে কাজ করা আমার বড় দায়িত্বগুলোর মধ্যে একটি যেখানে মানুষকে সচেতন করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। টিভি মিডিয়া অনেক শক্তিশালী গণমাধ্যম যেখানকার প্রতিটি মুহূর্তই খুব মূল্যবান। সেই মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে সঠিক উপাদানেই পূর্ণ করা উচিত। এই নাটকে আমরা একটি স্টোরি টেলিংয়ের মধ্য দিয়ে সমাজের মানুষকে প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করেছি।’ আজিজুল হাকিম বলেন, ‘পরিচালক হিসেবে তৌকীর অনেক গুণী এবং সিরিয়াস একজন পরিচালক। তার যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে বেশি ভালোলাগে তা হলো শিল্পীর অতৃপ্তির জায়গাগুলো তিনি বেশ ভালো বুঝেন। অন্য দিকে একজন বিপাশা হায়াত যে উঁচু মাপের অভিনেত্রী সেদিক বিবেচনায় তার সাথে কাজ করতে পারা আমার কাছে সব সময়ই সৌভাগ্যের বিষয় বলেই মনে হয়েছে।’ তৌকীর আহমেদ পরিচালিত একটি ফুলের গল্প নাটকটি আগামী ২ এপ্রিল বিশ্ব প্রতিবন্ধী সচেতনতা দিবসে চ্যানেল আইতে প্রচার হবে। তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় বিপাশা হায়াত প্রথম নাটকে অভিনয় করেন তোমার বসন্ত দিনে নাটকে। জিয়া আনসারীর প্রযোজনায় আজিজুল হাকিম ও বিপাশা হায়াত প্রথম একটি নাটকে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন। অন্য দিকে বিপাশা হায়াত ও আজিজুল হাকিম তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় প্রথম অভিনয় করেন নাইওরীতে। এরপর তারা দু’জন একই পরিচালকসহ আরো বিভিন্ন পরিচালকের পরিচালনায় একসাথে কাজ করেছেন। তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় হাকিম ও বিপাশা বেশ কয়েক বছর আগে সর্বশেষ পৌনপৌনিক নাটকে অভিনয় করেছেন। তৌকীর আহমেদ সর্বশেষ গত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অবাক ভ্রমণে নাটকটি নির্মাণ করেন। এটি চ্যানেল আইতে প্রচারের পর ব্যাপক দর্শক সমাদৃত হয়।

    অস্কারে এগিয়ে গ্র্যাভিটি ও আমেরিকান হাসল

    বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র পুরস্কার অস্কারের ৮৬তম আসর বসতে যাচ্ছে আগামী ২ মার্চ। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে আয়োজিত জমকালো এ অনুষ্ঠান থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও সেরা ছবি, সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা, সেরা অভিনয়শিল্পী, সেরা প্রামাণ্যচিত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার প্রদান করবে অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস। এর মধ্যেই অস্কার মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়েছে। ১০টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে এবারের অস্কার যুদ্ধে এগিয়ে আছে ‘আমেরিকান হাসল’ ও ‘গ্র্যাভিটি’ ছবি দুটি।
    এবারের অস্কারে সেরা ছবির লড়াই হবে মোট ১০টি ছবির মধ্যে। মনোনয়ন পাওয়া ছবিগুলো হলো ‘আমেরিকান হাসল’, ‘গ্র্যাভিটি’, ‘টুয়েলভ ইয়ারস এ স্লেভ’, ‘ফিলোমেনা’, ‘হার’, ‘ক্যাপ্টেন ফিলিপস’, ‘নেব্রাস্কা’, ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’ এবং ‘ডালাস বাইয়ার্স ক্লাব’। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
    সেরা চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন এলফনসো কুয়ারন (গ্র্যাভিটি), ডেভিড ও রাসেল (আমেরিকান হাসল), আলেকজান্ডার পাইন (নেব্রাস্কা), স্টিভ ম্যাকুইন (টুয়েলভ ইয়ারস এ স্লেভ) এবং মার্টিন স্করসেসে (দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট)।
    সেরা অভিনেতার মনোনয়ন পেয়েছেন চুইটেল এজিওফোর (টুয়েলভ ইয়ারস এ স্লেভ), ম্যাথিউ ম্যাকনে (ডালাস বাইয়ার্স ক্লাব), লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও (দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট), ব্রুস ডার্ন (নেব্রাস্কা) এবং ক্রিশ্চিয়ান বেল (আমেরিকান হাসল)। আর সেরা অভিনেত্রীর খেতাব জয়ের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছেন কেট ব্র্যাঞ্চেট (ব্লু জেসমিন), সান্ড্রা বুলক (গ্র্যাভিটি), জুডি ডেঞ্চ (ফিলোমেনা), মেরিল স্ট্রিপ (আগস্ট: ওসেজ কাউন্টি) এবং এমি অ্যাডামস (আমেরিকান হাসল)।

    সেরা পার্শ্ব-অভিনেতা বিভাগে মনোনীত হয়েছেন বারখাড আব্দি (ক্যাপ্টেন ফিলিপস), জেয়ার্ড লেটো (ডালাস বাইয়ার্স ক্লাব), মাইকেল ফাসবেন্ডার (টুয়েলভ ইয়ারস এ স্লেভ), ব্র্যাডলি কুপার (আমেরিকান হাসল) এবং জোনাহ হিল (দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট)। আর সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন লুপিটা নিওঙ্গ (টুয়েলভ ইয়ারস এ স্লেভ), জেনিফার লরেন্স (আমেরিকান হাসল), জুলিয়া রবার্টস (আগস্ট: ওসেজ কাউন্টি), স্যালি হকিন্স (ব্লু জেসমিন) এবং জুন স্কুইব (নেব্রাস্কা)।

    সেরা চিত্রনাট্য (মৌলিক) বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আমেরিকান হাসল’, ‘ব্লু জেসমিন’, ‘ডালাস বাইয়ার্স ক্লাব’, ‘হার’ ও ‘নেব্রাস্কা’। আর সেরা চিত্রনাট্য (অ্যাডাপ্টেড) বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে ‘বিফোর মিডনাইট’, ‘ক্যাপ্টেন ফিলিপস’, ‘ফিলোমেনা’, ‘টুয়েলভ ইয়ারস এ স্লেভ’ এবং ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’।

    সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে ‘দ্য গ্রেট বিউটি’ (ইতালি), ‘দ্য হান্ট (ডেনমার্ক), ‘দ্য ব্রোকেন সার্কেল ব্রেকডাউন’ (বেলজিয়াম), ‘দ্য মিসিং পিকচার’ (কম্বোডিয়া, ফ্রান্স) এবং ‘ওমর’ (প্যালেস্টাইন)।

    সেরা অ্যানিমেটেড ছবির জন্য লড়াই হবে ‘দ্য ক্রুডস’, ‘ফ্রোজেন’ ডেসপিকেবল মি ২’, ‘দ্য উইন্ড রাইজেস’ এবং ‘আর্নেস্ট অ্যান্ড ক্লেমেনটাইন’ ছবিগুলোর মধ্যে। আর সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড ছবি হিসেবে মনোনীত হয়েছে ‘ফেরাল’, ‘গেট এ হর্স!’, ‘মিস্টার হাবলট’, ‘পজেসনস’ এবং ‘রুম অন্য দ্য ব্রুম’।

    সেরা প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে মনোনীত হয়েছে ‘দ্য অ্যাক্ট অব কিলিং’, ‘কিউটি অ্যান্ড দ্য বক্সার’, ‘ডার্টি ওয়ারস’, ‘দ্য স্কয়ার’ এবং ‘টোয়েন্টি ফিট ফ্রম স্টারডম’। আর সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে ‘কেভ ডিগার’, ‘ফেসিং ফিয়ার’, ‘কারমা হ্যাজ নো ফিয়ার’, ‘দ্য লেডি ইন নাম্বার সিক্স: মিউজিক সেভড মাই লাইফ’ এবং ‘প্রিজন টার্মিনাল: দ্য লাস্ট ডেজ অব প্রাইভেট জ্যাক হল’।

    জেমিমাকে অনেক ভালোবাসি: রাসেল ব্র্যান্ড

    লেখিকা জেমিমা খানের সঙ্গে রাসেল ব্র্যান্ডের প্রেম নিয়ে কানাঘুষা চলছিল। সম্প্রতি জেমিমার সঙ্গে প্রেমের কথা জনসমক্ষে স্বীকার করে খবরের শিরোনাম হলেন ৩৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ এ কৌতুকশিল্পী, অভিনেতা ও লেখক। সম্প্রতি ব্রিটিশ চ্যাট শো ‘দ্য জোনাথন রস শো’-এ হাজির হয়েছিলেন রাসেল। সঙ্গে এনেছিলেন জেমিমার পোষা সাদা রংয়ের বিশাল অ্যালসেশিয়ান কুকুর ব্রায়ানকে। সেখানেই বয়সে এক বছরের বড় জেমিমার সঙ্গে প্রেমসহ আরও নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন রাসেল। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই জেমিমাকে অনেক ভালোবাসি।’ সম্প্রতি এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ডেইলিমেইল ডটকম।
    অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রাসেলেরই কাছের বন্ধু জোনাথন। রাসেল-জেমিমার হাঁড়ির খবর বের করার জন্য তিনি রাসেলকে জিজ্ঞেস করেন, জেমিমার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে গেলে কুকুরটির কী হবে! জবাবে কান্নার সুর নকল করে রাসেল বলেন, ‘বন্ধু, এমনটা বোলো না। তাহলে আমার ছোট্ট হূদয় ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। আমি সত্যিই জেমিমাকে অনেক ভালোবাসি। এবারের প্রেম নিয়ে আমি খুবই সিরিয়াস। যেকোনো উপায়ে প্রেমটাকে টিকিয়ে রাখব আমি।’
    রাসেল আরও বলেন, ‘জেমিমা অসাধারণ রূপবতী একজন নারী। তাঁকে আমার জীবনে পেয়ে আমি অনেক বেশি আনন্দিত। ভালোবাসার এমন তীব্র অনুভূতি আগে কখনো অনুভব করিনি। আমার উপলব্ধি, আমাদের সম্পর্কটা গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে। সব মিলিয়ে চমত্কার ও সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমি।’
    জীবনে নতুন করে সুখ খুঁজে পাওয়ার রহস্য সম্পর্কেও মুখ খুলেছেন রাসেল। আত্মিক সুখের সন্ধানে তিনি নিয়মিত ধ্যান করেন বলেই জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘আত্মিক সুখ খুঁজে পেতে আমি নিয়মিত ধ্যান করি। এই চর্চাটা শুরু করার পর থেকে আমার ভেতর সুখের অনুভূতি বেড়ে গেছে। ধ্যান আমার শরীর ও মনকে শিথিল রাখে। আমার ধারণা, এই চর্চাটার কারণেই আমার জীবনে ইতিবাচক নানা কিছু প্রবেশ করতে শুরু করেছে।’
    এর আগে মার্কিন পপ গায়িকা কেটি পেরিকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন রাসেল। হিন্দু রীতি অনুযায়ী ২০১০ সালের অক্টোবরে ভারতের রাজস্থানে কেটি পেরির গলায় মালা পরিয়েছিলেন রাসেল। কিন্তু মাত্র ১৪ মাস সংসার করার পর ২০১১ সালের ডিসেম্বরে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের। গত বছরের শেষের দিকে জেমিমার প্রেমে পড়েন রাসেল। হাত ধরাধরি করে ঘুরে-বেড়ানোর সময় ক্যামেরাবন্দী হওয়ার পর তাঁদের প্রেমের খবর চাউর হয়।
    অন্যদিকে, ১৯৯৫ সালে ইসলামি রীতিতে ইমরান খান ও জেমিমার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল প্যারিসে। বিয়ের কয়েক মাস আগেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন জেমিমা। বিয়ের পর তাঁদের ঘরে আসে দুই সন্তান। ২০০৪ সালে নয় বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন ইমরান-জেমিমা। একই বছর দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তান ছেড়ে লন্ডনে চলে যান জেমিমা। পরবর্তী সময়ে ‘নটিং হিল’খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা ও প্রযোজক হিউ গ্র্যান্টের সঙ্গে জেমিমার প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টেকেনি সেই প্রেম। ২০০৭ সালে হিউ গ্র্যান্ট জানান, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রেমের ইতি টেনেছেন তিনি ও জেমিমা।

    যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ও সংস্কৃতিবিষয়ক সাপ্তাহিক পত্রিকা নিউ স্টেটম্যানের সহযোগী সম্পাদক জেমিমা। ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনে প্রদায়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কয়েক বছর আগে জেমিমার ম্যাগাজিনে একটি আর্টিকেল লিখেছিলেন রাসেল। এভাবেই একে অপরের সঙ্গে প্রথম পরিচিত হয়েছিলেন তাঁরা।

    বিগ বসে নোংরামির শিকার হয়েছিলেন আসিফ

    ভারতের দর্শকপ্রিয় রিয়েলিটি শো বিগ বসে অংশ নিয়ে নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন বলে প্রথম আলোকে জানালেন বাংলাদেশি মডেল আসিফ আজিম। আজ শুক্রবার সকালে আলাপকালে এসব কথা জানান তিনি।
    আসিফ বলেন, ‘বিগ বসে প্রতিযোগীরা দুটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল। দুটি গ্রুপই আমাকে নিয়ে কিছু নোংরা পলিটিক্স করার চেষ্টা করে। আমি কোনোটিতে রাজি হইনি। এজন্য ঘুমানো থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক নানা কাজে-কর্মে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় আমাকে।’
    আসিফ আরও বলেন, ‘বিগ বস ৭-এর আগের কয়েকটি মৌসুমেও আমার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অন্য ব্যস্ততার কারণে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। এবারই প্রথম অংশ নিই। এই অনুষ্ঠানে আমিই একমাত্র বাংলাদেশি প্রতিযোগী। তাই আমার ভাবনায় পুরো বাঙালি জাতির ঐতিহ্য রক্ষার ব্যাপারটি বেশি কাজ করেছে। আমি সব কিছুতে সত্ থেকে আমার কাজ-কর্ম করার চেষ্টা করেছি। বিগ বস থেকে বাদ পড়ে গেলেও আমি কিন্তু এখান থেকে অনেক কিছুই শিখেছি। আমি এটুকু নির্দ্বিধায় বলতে পারি, সবমিলিয়ে আমি পাঁচ সপ্তাহ বিগ বসের সেটে ছিলাম। এই স্বল্প সময়ে আমার জীবনের সেরা শিক্ষাটুকু অর্জন করেছি।’
    বাংলাদেশি মডেল আসিফ আজিম বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারতের মুম্বাইয়ে অবস্থান করছেন। মেহেরপুর জেলার আমঝুপি গ্রামে তাঁর জন্ম। পরিবারের সদস্যরা সেখানেই থাকছেন। মুম্বাই থেকে ঢাকা এলেই গ্রামে বেড়িয়ে আসেন আসিফ।
    বাংলাদেশি মডেল আসিফ আজিম গত কয়েক বছর ধরে মুম্বাইতে শো স্টপার হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর এখনকার ধ্যানজ্ঞান বলিউডকে ঘিরেই। তাই নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করছেন বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে আসিফের ভাষ্য, ‘আমার এখনকার ব্যস্ততা নিজেকে বলিউড উপযোগী করে তৈরির। আর তাই তো কয়েক বছর ধরে আমার প্রতিদিনের রুটিনেও পরিবর্তন এসেছে। প্রতিদিন সকালে আমি এখন ঘোড়ায় চড়ার প্রশিক্ষণ নিই। এরপর বক্সিং, মার্শাল আর্ট, ভাষার ক্লাস, নাচের ক্লাস ও শরীরচর্চার পেছনে প্রচুর সময় ব্যয় করি।’
    বলিউড নিয়ে ভাবনা প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, ‘আমার সঙ্গে বলিউডের কয়েকজন নির্মাতার আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সেখানকার কোনো ছবিতে অভিনয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে পারব।’
    আসিফ আজিম বাংলাদেশের র্যাম্প মডেলিংয়ের অন্যতম পরিচিত মুখ। দেশে তিনি বহু ফ্যাশন হাউজসহ বেশ কিছু পণ্যের যেমন মডেল হয়েছেন তেমনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের ইতালি, জার্মান ও অস্ট্রেলিয়া সংস্করণের প্রচ্ছদে জায়গা করে নিয়েছেন। বার্সেলোনা ফ্যাশন উইক এবং সিডনি ফ্যাশন উইকেও অংশগ্রহণ করেছেন। এ ছাড়া ভারতের বিখ্যাত ডিজাইনারদের হয়েও র্যাম্পে হেঁটেছেন।

    উডস অব ইপ্রেস এখন

    কানাডিয়ান প্রতিশ্রুতিশীল ব্ল্যাকেন্ড ডুম মেটাল গানের দল ছিল উডস অব ইপ্রেস। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডেভিড গোল্ড ২০১১ সালে মৃত্যুবরণ করার কারণে তাঁর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। আজ এই দলের সঙ্গে আনন্দ পাঠকদের পরিচয় হতে যাচ্ছে।
    ২০০২ সালে কানাডার অন্টারিওর উইন্ডসোরে ডেভিড গোল্ড, অ্যারন পালমান ও ব্রায়ান ম্যাকম্যানাস মিলে ‘উডস অব ইপ্রেস’ গড়ে তোলেন। এই তিনজন ‘এগেইনস্ট দ্য সিজনস: কোল্ড উইন্টার সংস ফ্রম দ্য ডেড সামার হিট’ নামক ডেমো তৈরি করে ফেলেন সেই একই বছরে। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে তাঁরা কনসার্টে মনোযোগ দেন।
    ২০০৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ডেভিড গোল্ড টরন্টোতে চলে যান এবং সেখানে তাঁদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবামের কাজ শুরু করেন। ২০০৪ সালে ডেভিড গোল্ডের নিজস্ব রেকর্ড লেবেল ‘ক্র্যাঙ্কেনহাউস রেকর্ডস’ থেকে তাঁদের প্রথম অ্যালবামপারসুট অব দ্য সান অ্যান্ড অ্যালিউর অব দি আর্থ বের হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের অসংখ্যবার সদস্য বদল হয়েছে। ২০১১ সালে ডেভিড গোল্ড মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত তাঁদের একটি ইপি ও তিনটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের অ্যালবাম বের হয়। পরবর্তী সময়ে ডেভিড গোল্ডের অকালমৃত্যুর পর তাঁদের সর্বশেষ অ্যালবাম বের হয়। সেই অ্যালবামটি ২০১২ সালে বের হয় এবং ২০১৩ সালের শ্রেষ্ঠ ‘মেটাল/ হার্ড মিউজিক অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে জুনো অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়।
    ২০১১ সালের ৯ জুন উডস অব ইপ্রেসের সর্বশেষ কনসার্ট হয়। ২১ ডিসেম্বর মাত্র ৩১ বছর বয়সে ডেভিড গোল্ড সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। গাড়ির সংঘর্ষে ঘটনাটি ঘটেছিল। ডেভিড গোল্ডের মৃত্যুর কারণে উডস অব ইপ্রেসের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
    দলটির ইউরোপ সফরে যাওয়ার কথা ছিল। সেটা আর কখনো সম্ভব হবে না। উডস অব ইপ্রেস মূলত ব্ল্যাক মেটালের সঙ্গে ডুম মেটাল ও ফোক মেটালের মিশ্রণ ঘটিয়ে গান করত। ডেভিড গোল্ড বাদে সবার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ডেভিড গোল্ড মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর দলের অন্য সদস্যরা দলটি নিয়ে আর কোনো অ্যালবাম রেকর্ড না করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে গোল্ডের স্মরণে টরন্টো এবং সল্ট স্টিতে কনসার্টের আয়োজন করা হয়, যেখানে ‘কিটি’ ও ‘নভেম্বরস ডুম’ দল দুটিও অংশ নেয়। গোল্ডকে উৎসর্গ করে অ্যালবামের কাজ করা হবে।
    বর্তমানে উডস অব ইপ্রেসের সদস্যরা ‘থ্র-সানব্লাট’ নামক দলে যোগদান করেন।
    ডেভিড গোল্ড মৃত্যুবরণ করার আগে তাঁদের যেসব সদস্য ছিলেন: ডেভিড গোল্ড—ভোকালস, গিটারস, বেজ, ড্রামস, কিবোর্ডস (২০০২-২০১১); ফোয়েল ভায়োলেট লিড গিটার, স্টুডিও বেজ (২০১০-২০১১); ব্র্যান্ডন হেইটার—বেজ (২০১১); রায় অ্যামিটে—ড্রামস (২০১১)
    মাত্র ৩১ বছর বয়সে ডেভিড গোল্ড মৃত্যুবরণ করেন। তিনি থাকবেন আমাদের মধ্যে। যাঁরা ব্ল্যাকেড গান পছন্দ করেন, তাঁরা উডস অব ইপ্রেসের অ্যালবাম জোগাড় করে অবশ্যই শুনবেন।

    উডস অব ইপ্রেসের অ্যালবাম
     এগেইনস্ট দ্য সিজনস: কোল্ড উইটার সংস ফ্রম দ্য ডেড সামার হিট (২০০২) ইপি
     পারসুট অব দ্য সান অ্যান্ড অ্যালিউর অব দি আর্থ (২০০৪)
     উডস থ্রি: দ্য ডিপেস্ট রুটস অ্যান্ড ডার্কেস্ট ব্লুজ।
     উডস ফোর: দ্য গ্রিন অ্যালবাম (২০০৯)
     উডস ফাইভ: গ্রে স্কাইস অ্যান্ড ইলেকট্রিক লাইট (২০১২)
     মনোয়ারুল হক
    তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

    সুচিত্রাময় কলকাতা

    বাড়ির ভেতরে সুনসান নীরবতা। মূল প্রবেশপথ দিয়ে মানুষের তেমন আসা-যাওয়া দেখা গেল না। কিন্তু বাইরে উৎসুক নানা বয়সী মানুষের ভিড়। সবার নজর বাড়িটির দিকে। যেখানে সুচিত্রা সেনের কেটেছে দীর্ঘদিন। মাত্র এক দিন আগে তিনি শেষবারের মতো এই বাড়িতে এসেছিলেন। সাদা বেনারসি শাড়িতে তিনি ছিলেন নীরব, নিথর। কত স্মৃতি এ বাড়িতে তাঁর।
    মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের স্মৃতি-জাগানিয়া এ বাড়ি ছিল গতকাল শনিবার অসংখ্য মানুষের আগ্রহের বিষয়। প্রিয়জন হারানোর ব্যথায় অনেকের চোখে পানি গড়াতে দেখা গেছে। গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টায় এ বাড়িতে আবারও এসেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মহানায়িকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। জানা গেছে, গতকাল সারা দিন সেখানে গীতাপাঠের আয়োজন চলেছে। কাল সোমবার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জীবনের শেষ দিনগুলোতে মহানায়িকা নিজেও মনে-প্রাণে চাইছিলেন বাড়ি ফিরতে। কিন্তু ফেরা হলো না। শুক্রবার ২৬ দিনের লড়াই শেষ হয়ে গেল। তিন দশক নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার পর চির অন্তরালে চলে গেলেন মহানায়িকা। গতকালও কলকাতাবাসীর আগ্রহ-আলোচনার বিষয় ছিলেন সুচিত্রা। পাড়া-মহল্লায়, অলিগলিতে, দোকানে, ক্লাবে দেখা গেছে সেই চিরচেনা ভুবন ভোলানো হাসির সুচিত্রার সাদা-কালো প্রতিকৃতি। সেখানে নানান রকমের ফুল। যেন মহাপ্রয়াণের পর নতুন করে ফিরলেন মহানায়িকা!
    অঞ্জনা কীর্ত্তনিয়া। থাকেন শহরের উপকণ্ঠে, কেষ্টপুর। গতকাল তাঁর সঙ্গে দেখা হলো সুচিত্রার বাড়ির সামনে। সেখানে আসার কারণ জানতে চাইলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। বললেন, ‘কেন যে এখানে এলাম নিজেও জানি না। উনি তো আমার আত্মীয় ছিলেন না। তবু কেন যে এত মিস করছি, বুঝতে পারছি না। বিশ্বাস করুন, মনের অজান্তেই আজ এখানে চলে এসেছি।’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখ রীতিমতো ভিজে যাচ্ছিল অঞ্জনার। মিতালী পাল এসেছিলেন স্বামীর সঙ্গে। বললেন, ‘পাশের এলাকায় থাকি। কিন্তু কখনো জানতাম না এ বাড়িতে মহানায়িকা থাকেন।’ স্বামী বিশ্বজিৎ পাল বললেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) থেকে আসার জন্য রীতিমতো কান্নাকাটি করছেন স্ত্রী। কিন্তু কাল তো ধারে-কাছে আসা যায়নি। তাই আজ এলাম।’ উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল কেওড়াতলা শ্মশানেও। যেখানে সুচিত্রার দেহ চিরতরে বিলীন হয়েছে পঞ্চভূতে। মূল শ্মশানকেন্দ্রে গতকালও প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত ছিল।
    এদিকে কেওড়াতলার যে অংশে সুচিত্রা সেনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে স্মৃতিফলক স্থাপন করা হবে বলে ঘোষণা দেন এখানকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও জানিয়েছেন, মহানায়িকার স্মৃতি রক্ষার্থে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের একাংশের নাম রাখা হবে ‘সুচিত্রা সেন সরণি’। বালিগঞ্জ ফাঁড়ির নাম হবে ‘সুচিত্রা সেন স্কয়ার’।
    শহরের সল্টলেক এলাকা থেকে মধ্য কলকাতায় আসার পথে পড়ে বেলেঘাটা এলাকাটি। গতকাল সকালে এ এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলাম বালিগঞ্জের দিকে। ট্যাক্সিতে ১০ মিনিটের পথ। এই ১০ মিনিটের পথে অন্তত ১৫ জায়গায় দেখা গেল সুচিত্রা সেনের বিশাল বিশাল প্রতিকৃতি। এই সড়ক থেকে যেসব ছোট গলি চলে গেছে, সেসব গলির মুখেই ছিল এসব প্রতিকৃতি। অনেকে সকালে দৈনন্দিন পূজা শেষে সেখানে এসে ফুল দিয়েছেন। ফুল দিতে দেখা গেছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদেরও। পুরো কলকাতায় সুচিত্রার ঠোঁটে পুরোনো চলচ্চিত্রের গানগুলো বাজতে শোনা গেছে। এমনকি সল্টলেকের যে পানদোকানে সব সময় মোহাম্মদ রফির গান শোনা যেত, সেই দোকানে গতকাল শোনা গেছে, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো…’। ভিডিও সিডির দোকানে মহানায়িকার অভিনীত ছবির সিডিগুলো বিক্রি বেড়েছে বলে জানা গেছে।
    মানুষের আগ্রহ ছিল টালিগঞ্জের চণ্ডী ঘোষ রোডের নিউ থিয়েটার্সের এক নম্বর সাজঘরের দিকে। যেটি বরাদ্দ থাকত শুধু সুচিত্রা সেনের জন্য, যেভাবে এই সাজঘরের ঠিক দক্ষিণ-পূর্ব কোণের সাজঘরটি থাকত উত্তমকুমারের জন্য। দশকের ব্যবধানে একাধিকবার সংস্কার হলেও মূল আদল এখনো মোটামুটি একই রয়েছে বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামলাল নন্দী। জানালেন, এই সাজঘরে সাজসজ্জা করেই গৃহদাহ, উত্তর ফাল্গুনী, কমললতা, ফরিয়াদ, দেবী চৌধুরানীর মতো একের পর এক বিখ্যাত ছবির ফ্লোরে গিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। সুচিত্রা সেনের মৃত্যুর খবর পেয়ে এ দিন তাঁর বিশাল ছবিতে ফুল-মালায় শ্রদ্ধা জানিয়েছে নিউ থিয়েটার্স। উত্তমকুমারের সাজঘরকে যেভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তেমন করেই সুচিত্রার ব্যবহূত সাজঘরকে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত সামগ্রী দিয়ে সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা।