• ?????: মিডিয়া

    মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে নাটোরে মামলা

    বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে নাটোরে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করা হয়। নাটোরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর আদালতে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলাটি দায়ের করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা শাখার এ্যাডভোকেট মালেক শেখ। এসময় আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে নাটোর সদর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
    মামলার বাদী এ্যাডভোকেট মালেক শেখ জানান, গত ১লা ডিসেম্বর ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি সেমিনারে মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার নিয়ে কটূক্তি করে সম্মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন। সেই বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধুর পরিবার সম্পর্কে মিথ্যাচার, কটূক্তি এবং মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে বাংলাদেশকে ভারতের কলোনি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
    এদিকে দাউদকান্দি প্রতিনিধি জানান, একই অভিযোগে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী।
    তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি জেল হয় চীনে

    বিশ্বে চীনা সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি কারাবন্দি থাকেন। ১৮০টি দেশের মধ্যে জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে রিপোর্টাস উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ)। ১৮০টি দেশের মধ্যে তাদের অবস্থান ১৭৬ তম। এ কারণে ওই প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের জন্য চীনকে সবচেয়ে বিভীষিকাময় দেশ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    আর খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিককে নিহত হয় পাকিস্তানে। রিপোর্টে ৬০ জন এমন সাংবাদিকদের কথা বলা হয়েছে যারা ১৯৯৪ সালের পর পাকিস্তানে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। যদিও সূচক অনুযায়ী ভারতের ঠিক তিন ধাপ নীচেই রয়েছে পাকিস্তান।

    চীনের চাইতেও বেশি খারাপ উত্তর কোরিয়া ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার। তালিকায় এই দুই দেশেরই স্থান যথাক্রমে ১৮০ ও ১৭৭। ভিয়েতনাম রয়েছে ১৭৫ তম স্থানে। নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক এবং দ্য নেদারল্যান্ড সূচকের একেবারে প্রথম পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে। এই সমীক্ষা ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাংবাদিকদের উপর হিংসার ঘটনা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, কাজের পরিবেশ, সেন্সরশিপ, সাংবাদিকদের জন্য আইনি কবচ, স্বচ্ছতা এবং পরিকাঠামো – ইত্যাদি বিষয়গুলি প্রাধান্য পেয়েছে।

    সাংবাদিকদের উপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদে, এক প্রতিবাদ সভা

    বকুল খান স্পেন থেকে ||
    বাংলাদেশ প্রেসক্লাব স্পেনের এর আয়োজনে গত ০১ নভেম্বর বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদে, এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা টাউন রেস্টুরেন্টে এতে সভাপতিত্ব বাংলাদেশ প্রেসক্লাব স্পেনের সভাপতি এ কে এম জহিরুল ইসলাম।
    সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুদ্দীন রাজির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহ সভাপতি জাহিদুল হক মাসুদও ইব্রাহিম খলিল,সাধারন সম্পাদক বকুল খান ,সাংবাদিক হুসেইন মোহাম্মদ ইকবাল প্রমুখ।
    সম্প্রতি বাংলাদেশে সংবাদ পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা দেশ ও জাতির জন্য শুভ লক্ষন নয়। এ অপশক্তিকে কখনো রেহাই দেয়া যাবে না,তা না হলে আগামিতে বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে আশ্রয়কারীদের । সরকারের প্রতি জোর দাবি, খুজে বের করুন, অপরাধিদের । সত্য ঊম্মোচিত করুন ।

    সিলেটে প্রবাসী সাংবাদিকদের নিয়ে সাংবাদিক কনভেনশন আয়োজনের অভিমত

    প্রবাসে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে একটি কনভেশনের আয়োজনের ব্যাপারে অভিমত ব্যক্ত করেন সিলেট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। প্রবাসী সাংবাদিকদের সম্মানে সিলেট প্রেসক্লাব আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই অভিমত ব্যক্ত করেন সাংবাদিকরা।

    সোমবার সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবিরের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের টাইম টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী আবু তাহের, যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত দেশ পত্রিকার সম্পাদক তাইছির মাহমুদ, স্পেন প্রবাসী এবং একাত্তর টেলিভিশনের ইউরোপ প্রতিনিধি নূরুল ওয়াহিদ, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ ও প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ মো. রেনু, কোষাধ্যক্ষ মো. আফতাব উদ্দিন, চ্যানেল এস’র বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল মালিক জাকা, দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান এনামুল হক জুবের, দৈনিক জালালাবাদের নির্বাহী সম্পাদক আবদুল কাদের তাপাদার, দৈনিক কাজিরবাজারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ সুজাত আলী, টেলিভিশন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কামকামুর রাজ্জাক রুনু, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ খালেদ আহমদ, এটিএন বাংলার ব্যুরো প্রধান শাহ মুজিবুর রহমান জকন, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল বাতিন ফয়সল, দৈনিক সিলেট বাণীর নির্বাহী সম্পাদক এম এ হান্নান, একাত্তর টিভির ব্যুরো প্রধান ইকবাল মাহমুদ, প্রেসক্লাবের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক মো. আব্দুল আহাদ, প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য আনিস রহমান, দৈনিক সংগ্রামের ব্যুরো প্রধান কবির আহমদ, দৈনিক খবরপত্রের ব্যুরো প্রধান এম এ মতিন, প্রেসক্লাবের সাবেক পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আব্দুল মুকিত অপি, সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক, সেলিম আউয়াল, ডেইলী ইন্ডাস্ট্রির সিলেট প্রতিনিধি গোলাম মর্তুজা বাচ্চু, দৈনিক সিলেটের ডাকের রিপোর্টার আমিরুল ইসলাম চৌধুরী এহিয়া, এনটিভির সিলেট প্রতিনিধি মারুফ আহমদ, চ্যানেল ২৪ এর ব্যুরো প্রধান গোলজার আহমেদ, বাংলা টিভির ব্যুরো প্রধান আবু তালেব মুরাদ, চ্যানেল এস’র ক্যামেরাপার্সন বেলাল আহমেদ, বাংলাটিভির ক্যামেরাপার্সন আলমগীর, চ্যানেল ২৪ এর ক্যামেরাপার্সন শফি প্রমুখ।

    মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

    রাজধানীর কোতয়ালী থানায় দায়ের করা নাশকতার মামলায় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আসামী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ৯ মার্চ নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। জানাগেছে আজ (সোমবার) মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে মাহমুদুর রহমান আদালতে হাজির না হওয়ায় তার আইনজীবী অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আলমগীর কবির রাজ ওই আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ৯ মার্চ দিন ধার্য করেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ২ জুন আসামিরা সিএমএম আদালতের সামনে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং গ্রেফতার মাহমুদুর রহমানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক শাহজাহান মিয়া বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক পরিতোষ আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, তার সহযোগী জুলফিকার আলী, শহিদুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

    বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায়: বাধা কোথায়? কোথায় গলদ?

    স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে দৈনিক ইত্তেফাকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুরু করেন আবেদ খান৷ ‘ওপেন সিক্রেট’ নামে তাঁর প্রতিবেদন ছাপা হতো৷ তখন তাঁর সেইসব প্রতিবেদন ব্যাপক সাড়া জাগায়৷ কিন্তু…

    শেষ পর্যন্ত ‘ওপেন সিক্রেট’ বন্ধ করতে বাধ্য করা হয় তাঁকে৷ এমনকি মাঠের সাংবাদিকতাও ছাড়তে হয় আবেদ খানকে৷ বদলে তাঁকে বসিয়ে দেয়া হয় ডেস্কে৷ সেই ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘ওপেন সিক্রেট’-এর শেষ পরিণতি নিয়ে ডয়চে ভেলেকে আবেদ খান জানান, ‘‘আমি ১৯৭৫-এর মার্চ অথবা এপ্রিল মাসে ক্যান্টনমেন্টে ঢুকে যাই৷ মেজর ডালিমসহ কিছু বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা সে সময় একটি বৈঠক করছিলেন৷ তাঁদের সেই বৈঠকে সরকার উৎখাত ও বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে দেয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল৷ যে কোনো উপায়ে আমি সেই বৈঠক পর্যন্ত পৌঁছে যাই৷ কিন্তু সেই প্রতিবেদন আমি ছাপতে পারিনি৷ আমাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল৷ ইত্তেফাকের মধ্যেই ঐ সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষের প্রভাবশালী লোক ছিল৷ তারা আমাকে বসিয়ে দেয়৷ এরপর আমি আর ‘ওপেন সিক্রেট’ প্রতিবেদন করিনি৷ পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে আবারও উদ্যোগ নেই ‘ওপেন সিক্রেট’-এর৷ কিন্তু সেবার সরকারি আদেশেই ‘ওপেন সিক্রেট’ বন্ধ করা হয়৷”

    ৭২ থেকে ৭৫ সাল – এ সময়টা জুড়ে আবেদ খান ‘ওপেন সিক্রেট’ নামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছিলেন৷ এই ‘ওপেন সিক্রেট’-কে স্বাধীন বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রথম পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করা হয়৷ সে সময়ের রিপোর্টার আর এখনকার সম্পাদক আবেদ খান বলেন, ‘‘আমার প্রতিবেদন বঙ্গবন্ধু নিয়মিত পড়তেন, ব্যবস্থাও নিতেন৷ আমার প্রতিবেদনের কারণে বিডিআর থেকে সিআর দত্তকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ডেপুটি গভর্নরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল৷ আরো অনেক কাজ হয়েছিল৷ শুনেছি, সীমান্তে মাদক ব্যবসায়ীরা আমাকে হত্যার জন্য ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল৷”

    তাঁর কথায়, ‘‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য দরকার সাহস, যোগ্যতা, কমিটমেন্ট এবং সততা৷ এছাড়া দরকার সংবাদমাধ্যম-এর সমর্থন ও সহযোগিতা৷ এটা সহজ নয়৷ তাই সবদেশেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ঝুঁকিপূর্ণ৷”

    বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কম কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘কমিটমেন্ট, সাহস আর সততার অভাব৷ একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোও চায় না কোনো ‘রিস্ক’ নিতে৷”

    প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না

    বাংলাদেশের আলোচিত সাপ্তাহিক পত্রিকা সাপ্তাহিক-এর সম্পাদক গোলাম মোর্তজা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক বিচিত্রা থেকে সাংবাদিকতার ক্যারিয়ার শুরু করেন৷ বরেণ্য সম্পাদক প্রয়াত শাহাদত চৌধুরির নেতৃত্বে সাপ্তাহিক বিচিত্রা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আরেকটি বড় প্রতিষ্ঠান ছিল৷ বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধ, আদালত এলকার দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে বিচিত্রার আলোচিত সব প্রতিেদনগুলো এখনো হয়ত অনেকের মনে আছে৷ তাছাড়া গবেষক ও বিতার্কিকদের কাছে বিচিত্রার পুরনো কপি আজও আকড় হিসেবে কাজ করে৷

    গোলাম মোর্তোজা বলেন, ‘‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যে হচ্ছে না, তা নয়৷ তবে আমরা যতটা আশা করি ততটা হচ্ছে না৷ পাঠক বা দর্শকরা আশা করেন বড় কোনো ঘটনায় যেখানে পুলিশ প্রশাসন ঠিকমত কাজ করে না, সেখানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকরাই পথ দেখাবেন৷ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড বা গুলশান হামলায় যে ধরনের অনুসন্ধান আমরা আশা করেছি, সাংবাদিকদের কাছ থেকে তা আমরা পাইনি৷”

    তাঁর কথায়, ‘‘সাংবাদিকতা এখন অনলাইন, রেডিও-টিভি মিলে অনেক বিস্তৃত৷ কিন্তু সেইভাবে বিস্তৃত হয়নি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা৷”

    এর কারণ কী? গোলাম মোর্তজা জানান, ‘‘সাংবাদিকতায় এক ধরনের কথিত ‘গ্ল্যামার’ এসেছে৷ তেমন কিছু না করেও এখন বড় সাংবাদিক হয়ে যান কেউ কেউ, কষ্ট করতে চান না৷ সেই সঙ্গে কর্পোরেট চরিত্রের কারণে অনেক সংবাদমাধ্যম ‘রিস্ক’ নিতে চায় না৷ এর সঙ্গে দক্ষতার অভাব আর আইনের নানা খড়গ তো আছেই৷ দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ পদে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় দক্ষ তেমন কাউকে দেখি না, যাঁরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে তুলবেন৷”

    বাংলাদেশে এরপরও প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আছে৷ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেওয়া সোনার মেডেল এবং ক্রেস্ট যে পুরোটাই ফাঁকি – সেই প্রতিবেদন করে ‘প্রথম আলো’৷ বলা বাহুল্য, এটা দেশে হইচই ফেলে দেয়৷ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো আলোচিত৷ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে উল্লেখ করার মতো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হয়েছে৷ এছাড়া দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও কম নয়৷

    বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখা গেছে প্রায় দুই দশক আগে থেকেই৷ বেশ কয়েকজন তরুণ সাংবাদিক আছেন, যাঁদের জঙ্গি বিষয়ক ধারাবহিক অনুসন্ধান বেশ আলোচিত৷ এমনকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তাঁদের ‘রেফারেন্স’ হিসেবে ব্যবহার করেন৷ তাঁদেরই একজন একুশে টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি দীপু সারোয়ার৷ টেলিভিশন ও প্রিন্ট – দুই মাধ্যমেই তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় তিনি টিআইবি পুরস্কারও পেয়েছেন৷ দীপু বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উৎস, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং ক্রমবিকাশ নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন৷ জঙ্গি আস্তানায় গিয়ে সরাসরি জঙ্গিদের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আসলে প্রথমে রিপোর্টারকেই যোগ্য হতে হবে৷ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কী, সেটা বুঝতে হবে তাঁকে৷ তারপর তিনি ঠিক কী করতে চান, তা তাঁর কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে হবে৷ এটা না করতে পারলে কর্তৃপক্ষকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় রাজি করানো কঠিন৷ এতে অনেক সমস্যা আছে, ঝুঁকি আছে, কিন্তু আসল কাজ তো রিপোর্টারের৷”

    বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে অন্তরায় কী?

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শামীম রেজা মনে করেন, এখানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে বেশ কিছু অন্তরায় রয়েছে৷ এর মধ্যে – সুশাসনের অভাব, প্রতিকূল আইন, প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতা, প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রহ ও অর্থ খরচে অনীহা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সঠিক ধারণার অভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সুরক্ষার অভাব অন্যতম৷

    তিনি মনে করেন, ‘‘এটা সংবাদমাধ্যমকে বুঝতে হবে যে, এখন আর প্রতিদিনের ঘটনা প্রকাশ করে টিকে থাকা যাবে না৷ মানুষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পড়তে চায়, ভিতরের খবর জানতে চায়৷ কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে এই ধরনের সাংবাদিকতায় যে প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়, তা করতে হবে৷ নয়ত এমন সময় আসবে যে, যাঁরা এর বাইরে থাকবেন তাঁরা পিছিয়ে পড়বেন৷”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস অবশ্য জানান, ‘‘বাংলাদেশে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার জন্য যথেষ্ট দক্ষ সাংবাদিক আছেন৷ প্রশিক্ষণের সুযোগ এখানে আছে৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ‘নিউজ ম্যানেজমেন্টে’৷ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে দীর্ঘ সময় লাগে, মোটা অঙ্কের বিনিয়োগও লাগে৷ আর সেটা অনেক প্রতিষ্ঠানই করতে চায় না৷ তারা মনে করে, একজন সাংবাদিক প্রতিদিনের প্রতিবেদন তৈরি করবেন৷ একমাসে একটি প্রতিবেদন তারা ভাবতেই চায় না৷ তারা একে অপচয় মনে করে৷”

    তবে তিনিও বলেন, ‘‘এটা তাদের জানতে হবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই প্রতিষ্ঠানকে শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখাবে৷ বাংলাদেশে তার প্রমাণও আছে৷”

    এরপরেও বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সার্ফেস, ক্রেকিং, স্কুপ বা ফলো-আপ প্রতিবেদনকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলে মনে করা হয়৷ এটা আসলে সঠিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের অভাবে হয় বলে মনে করেন অধ্যাপক শামীম রেজা৷

    টেলিভিশনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা

    বাংলাদেশে ‘ব্রডব্যান্ডে’ সরকার নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ টেলিভিশনই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুরু করে৷ নব্বইয়ের দশকে ‘পরিপ্রেক্ষিত’ নামে একটি সংবাদ ভিত্তিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা শুরু হয়৷ সৈয়দ বোরহান কবীরের উপস্থাপনায় প্রচারিত হতো অনুষ্ঠানটি৷ তবে নানা চাপের কারণে এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানটি আর চালাতে পারেনি বিটিভি৷ এরপর ইত্তেফাকের আবেদ খানই বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ‘টেরিটোরিয়াল’ টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভিতে ‘ঘটনার আড়ালে’ নামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অনুষ্ঠান শুরু করেন৷ কিন্তু বিএনপি সকারের আমলে একুশে টেলিভিশন বন্ধ হয়ে গেলে সেই অনুষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যায়৷ আবেদ খান জানান, ‘‘ঐ সংবাদ ভিত্তিক অনুষ্ঠানে আমরাই প্রথম জেল হত্যার বিষয়ে কারাগারে ঢুকে প্রতিবেদন প্রচার করেছিলাম, যাতে করে অনেক অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছিল৷”

    ওয়ান ইলেভেনের সময় আবার একুশে টেলিভিশন চালু হলে ‘একুশের চোখ’ নামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আরেকটি অনুষ্ঠান শুরু হয়৷ এই অনুষ্ঠানটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় টিআইবি অ্যাওয়ার্ডও পায়৷ এই অনুষ্ঠানে দুর্নীতি নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বেশ কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার হয়৷ এছাড়া মোবাইল ফোনের টাওয়ারের রেডিয়েশন ও অর্থের বিনিময়ে কতিপয় র‌্যাব সদস্যের হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদনটিও আলোচিত হয়৷ এই অনুষ্ঠানের দু’টি প্রতিবেদন যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাক্ষ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত৷ তবে অনুষ্ঠানটি যে সাংবাদিকরা করতেন, তাঁরা এখন আর সেখানে নাই, মানে টিকতে পারেননি৷ এরপরও অবশ্য অনুষ্ঠানটি এখনো চলছে৷

    একুশে টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি দীপু সারোয়ার বলেন, ‘‘একুশের চোখের অনুসরণে পরে দেশের প্রায় সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলই অপরাধ অনুসন্ধানের সংবাদ ম্যাগাজিন চালু করে৷ তবে তারা যেটা করছে, সেটা এখন আর রিপোটিং না বলে ‘ফিকশন’ বলাই ভালো৷”

    যমুনা টেলিভিশনের মোহসীন উল হাকিম আর মাছরাঙা টিভির বদরুদ্দোজা বাবু টেলিভিশনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দুই আলোচিত সাংবাদিক৷ মোহসীন উল হাকিম সুন্দরবন এবং জলদস্যুদের নিয়ে অনেক আলোচিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন৷ তাঁর এ সব প্রতিবেদনের কারণেই বেশ কয়েকটি জলদস্যু গ্রুপ আত্মসমর্পণ করেছে৷ অন্যদিকে বদরুদ্দোজা বাবু বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে আলোচনায় আসেন৷

    সম্পাদক গোলাম মোর্তজা বলেন, ‘‘টেলিভিশনে আরো কিছু ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আমার চোখে পড়েছে৷ তবে তা পরিমাণে অল্প৷ আসলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ঝুঁকি এবং খরচ অনেকেই বহন করতে চান না৷ তার ওপর সাংবাদিকদের সেইভাবে ‘প্রটেকশনও’ দেওয়া হয় না৷”

    অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কেন প্রয়োজন?

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি গত ১৮ বছর ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পুরস্কার দিয়ে আসছে৷ এছাড়া অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য তারা ‘ফেলোশিপ’ দেয়, আয়োজন করে নিয়মিত ওয়ার্কশপেরও৷ তাদের এই প্রচেষ্টার কারণ কী? জানতে চাই টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখরুজ্জামানের কাছে৷ জবাবে তিনি বলেন, ‘‘অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দুর্নীতি, অপরাধসহ নানা অনিয়ম প্রকাশ ও প্রতিরোধে সহায়তা করে৷ আমরা যারা দুর্নীতি বিরুদ্ধে কাজ করি, তারা এই ধরনের প্রতিবেদন থেকে সহায়তা পাই৷ পরিস্থিতি বুঝতে পারি৷ এ জন্যই আমরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো সমর্থন এবং সেই প্রতিবেদনগুলো যাঁরা করছেন, তাঁদের নানাভাবে সহায়তা করতে চাই৷”

    তিনি আরো বলেন, ‘‘সরকার সব সময় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সহায়ক হবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই৷ এখানেও নানা আইন করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে৷ কিন্তু তারপরও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই আসল সাংবাদিকতা৷ তাই এটা আরো বাড়াতে হবে৷”

    তবে সংবাদমাধ্যমের বাইরে আলাদা কোনো প্রতিষ্ঠান করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার বিরোধী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস৷ তিনি মনে করেন, ‘‘উইকিলিক্স বা পনামা পেপার্স নয়, আমরা চাই প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা৷ আর সংবাদমাধ্যম যত দ্রুত এটা বুঝবে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের ক্ষমতা এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে৷”

    তিনি বলেন, ‘‘এটা সরকারকেও বুঝতে হবে যে,. অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সরকারের জন্যও উৎকর্ষতা অর্জনে সহায়ক৷ তবে শুধুমাত্র সরকার যদি সেটা চায়৷”

    বরখাস্ত সাংবাদিককে ৫০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ

    রাজপরিবারের খবর প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় চাকরি হারানো বিবিসির সাংবাদিক ৫০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছেন। তাকে “অন্যায়ভাবে” বরখাস্ত করার কারণে লন্ডনের শ্রম ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষকে এই অর্থ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    চন্দনা কার্থি বান্দারা (৫৭) নামে ওই সাংবাদিক বিবিসির শ্রীলংকা অফিসে কাজ করতেন। তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ প্রযোজক।

    ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন চন্দনা। এর একদিন পরই ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স উইলিয়াম এবং কেট মিডলটন দম্পতির ঘরে আসে প্রথম সন্তান জর্জ।

    চন্দনা এই খবর প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন কারণ, সেটি ছিল একটি কালো দিন; “কালো জুলাই” এর ৩০তম বার্ষিকী। এই দিনে শ্রীলংকায় কয়েক হাজার তামিলকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি এই ঘটনার বার্ষিকীতে রাজপরিবারের সন্তান জন্মের খবরকে অগ্রাধিকার দিতে রাজি হননি। যদিও পরে খবরটি প্রচারিত হয়েছিল।

    চন্দনার বাবা শ্রীলংকান হলেও মা তামিল। তিনি ১৮ বছর ধরে বিবিসিতে চাকরি করছেন। সিংহল সার্ভিসে জ্যেষ্ঠ প্রযোজকের দায়িত্বে ছিলেন ২০০০ সাল থেকে।

    এই দীর্ঘ চাকরি জীবনে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম লঙ্ঘন বা দায়িত্বে অবহেলার কোনো রেকর্ড নেই। তারপরও ওই একটি কারণে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হয়।

    ঘটনার এক বছর পর ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট তাকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে আচরণ নিয়ে আবারো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে কর্তৃপক্ষ।

    অসদাচরণের একাধিক অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: এক সহকর্মী সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করা এবং অনেকের সাথে চিৎকার করে কথা বলা। কিছু অভিযোগ পুরোপুরি এবং কিছু আংশিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

    তারপরও ট্রাইবুনাল বলেছে, তাকে শেষ যে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয় সেটা ছিল অন্যায়। এবং তাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত মূলত তখনই হয়ে গেছে।

    চন্দনার অভিযোগ, সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলী নিয়ন্ত্রিত শ্রীলংকান সরকারের নিপীড়নের শিকার তামিল জনগণের বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তার সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করা হয়েছে।

    তবে ট্রাইবুনাল তার এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে।

    প্রিন্স জর্জকে কোলে প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনবিচারক ভিভিয়েন গে বলেছেন, কর্তৃপক্ষ প্রিন্স জর্জের সংবাদ প্রচার না করার বিষয়টিই গুরুতর হিসেবে দেখেছে। তাদের সেই লিখিত নোটিশে চূড়ান্তভাবে সতর্ক করা সেটাই প্রমাণ করে। এ কারণেই চন্দনাকে বরখাস্ত করা অন্যায় হয়েছে।

    বিচারক বলেন, তবে এই চাকরিচ্যুতির পেছনে এমন আচরণের ভূমিকা আছে যা দোষণীয় বিবেচনা করা যায়। আদালত বিষয়টি অনুধাবন করেছে।

    এ কারণেই রায় ঘোষণায় চন্দনাকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ অর্ধেক করা হয়। তবে তাকে চাকরিতে ফেরানোর কোনো নির্দেশ দেননি বিচারক। তাকে ৫১ হাজার ৪২৮ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে খরচ বাবদ তার হাতে ১২শ পাউন্ড নগদ অর্থ তুলে দেন।

    আলী, এম ওসমান

    আলী, এম ওসমান (১৯০০-১৯৭১) রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সমাজসেবক। জন্ম ১৯০০ সালের ১ জানুয়ারি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার জামালকান্দি গ্রামে। পিতা হাজী ডেঙ্গু প্রধান। ওসমান আলী নিজ গ্রামের স্কুলেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ১৯২০ সালে প্রবেশিকা পাস করেন। অতঃপর তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন।

    এম ওসমান আলী
    ছাত্রজীবনেই ওসমান আলী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি কলেজ বয়কট করে ১৯২০ সালে খেলাফত আন্দোলন এবং পরে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। এ সময় তিনি অসহযোগ আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতাদের সংস্পর্শে আসেন। ওসমান আলী অসহযোগ আন্দোলনচলাকালে নারায়ণগঞ্জে এসে রাজনীতির পাশাপাশি পাট ব্যবসা শুরু করেন। এ সময়ে তিনি কম্যুনিস্ট নেতা বেণুধর, বিপ্লবী নেতা অনিল মুখার্জী ও জ্ঞানচক্রবর্তীর সংস্পর্শে আসেন।

    উনিশ শতকের ত্রিশের দশকে নারায়ণগঞ্জের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে হিন্দু ও মাড়োয়ারীদের প্রাধান্য ছিল। নারায়ণগঞ্জে এ সময় অনেক এজেন্সি ও ব্রোকার হাউস গড়ে ওঠে। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই ছিল ইউরোপীয় ও পশ্চিম ভারত থেকে আগত মাড়োয়ারী সম্প্রদায়ের। ব্যবসাক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানদের দৈন্যদশা লক্ষ করে ওসমান আলী নিজে ব্রোকার হাউজ খুলে পাট ব্যবসায়ে আত্মনিয়োগ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর ব্যবসার প্রসার ঘটে।

    লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তান আন্দোলন শুরু হলে ওসমান আলী নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকে সংগঠিত করেন এবং বামপন্থী ও অন্যান্য স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় সেখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

    এম ওসমান আলী ১৯৪৬ সালে সাধারণ নির্বাচনে (নারায়ণগঞ্জ দক্ষিণ নির্বাচনী এলাকা) ঢাকার নবাব খাজা হাবিবুল্লাহকে পরাজিত করে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট এবং ঢাকা জেলা মুসলিম লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহর মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালে নারায়ণগঞ্জে ‘ঝুলন যাত্রা’ উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সমঝোতা আনয়নে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকা জেলা মুসলিম লীগে ঢাকার নবাবদের সঙ্গে প্রগতিশীল গ্রুপের মতবিরোধ দেখা দেয়। এ বিরোধে ওসমান আলী প্রগতিশীল গ্রুপকে সমর্থন করেন এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে নারায়ণগঞ্জে গণসংবর্ধনা দেন। এম ওসমান আলী ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। এ জন্য তিনি কারারুদ্ধ হন। ১৯৬২ সালের শাসনতান্ত্রিক আন্দোলন, ছয়দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ওসমান আলী সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

    এম ওসমান আলী সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তাঁর সম্পাদনায় ত্রিশের দশকে নারায়ণগঞ্জ থেকে সবুজ বাঙলা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকায় লিখতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মোহিতলাল মজুমদার, জসীমউদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ, অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন, বন্দে আলী মিয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা প্রমুখ।

    এম ওসমান আলী ১৯৩৮ সালে নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন ওসমানিয়া হাইস্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের তানজিম মুসাফিরখানা, রহমতুল্লাহ অডিটোরিয়াম ও গণপাঠাগার নির্মাণে তাঁর অবদান ছিল। এসব জনহিতকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ১৯৪০ সালে ‘খান সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে। কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের দমননীতির প্রতিবাদে তিনি ১৯৪৪ সালে এ উপাধি বর্জন করেন।

    ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়।

    জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য হলেন ৮৮ জন

    জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৬২ জন সহযোগী এবং ১২ জন অস্থায়ী সদস্যের সদস্যপদ বাতিল এবং ৮৮ জন অস্থায়ী সদস্যকে স্থায়ী সদস্য পদ প্রদান করা হয়েছে। গত ৪ আগষ্ট নির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। গত বছরের ৩০ জুলাই ১০০ জনকে এক বছরেরর জন্য অস্থায়ী সদস্যপদ প্রদান করা হয়েছিল যার মধ্য থেকে ৮৮ জনকে স্থায়ী সদস্যপদ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ১২ জনের অস্থায়ী সদস্যপদ বাতিল করা হয়। প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত নোটিশে নতুন স্থায়ী সদস্যদের এবং বাতিল হওয়াদের তালিকা বৃহস্পতিবার রাতে ক্লাবের নোটিশ বোর্ডে টাঙানো হয়। গত বছরের ৩০ জুলাই এবং ৫ আগস্ট ১০১ জনকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী সদস্যপদ দেওয়া হয়। গত ৪ আগস্ট নির্বাহী কমিটির সভায় এদের মধ্য থেকে ৮৮ জনকে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাকি ১৩ জনের অস্থায়ী সদস্যপদ বাতিল করা হয়। ক্লাব গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২/ক ধরা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪ আগস্টের ওই সভায় সহযোগী ৬২ জনের সদস্যপদ বাতিল করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    অস্থায়ী থেকে নতুন স্থায়ী সদস্যপদ পেলেন- মো. হাসানুল্লা খান রানা (সমকাল), রুমি নোমান (এটিএন বাংলা), কাজল হাজলা (যুগান্তর), সুলতানা রহমান (এনটিভি), মোশতাক হোসেন (ভোরের ডাক), কিশোর কুমার সরকার (ডেসটিনি), মো. আজম সরোয়ার চৌধুরী (যুগান্তর), মো. রেজাউল করিম (ইত্তেফাক), তারেক আল নাসের (ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস), ফারাজী আজমল হোসেন (ইত্তেফাক), ডালিয়া জামান চৌধুরী (সমকাল), ফারুক তালুকদার (করতোয়া), ইয়াসিন কবির জয় (জনকণ্ঠ), আহমেদ দীপু (যুগান্তর), এহসানুল হক (কালেরকণ্ঠ), জহিরুল ইসলাম মামুন-জ.ই মামুন (এটিএন বাংলা), মো. সুমন ইসলাম (আমার দেশ), এ কে এম সাখাওয়াত হোসেন (সংবাদ), সনৎ নন্দী (খবর), কল্যাণ সাহা (চ্যানেল আই), মোস্তফা কামাল (ইউএনবি), বরুণ ভৌমিক নয়ন (আল-আমিন), খন্দকার আতাউল হক (নওরোজ), এস এম আবু সাঈদ (দৈনিক আজকের সংবাদ), সৈয়দ আফজাল হোসেন (নিউনেশন), কাঞ্চন কুমার দে (ডেসটিনি), কমলেশ রায় (সকালের খবর), মো. রফিকুল্লাহ (আমাদের অর্থনীতি), তরুণ তপন চক্রবর্তী (ডেইলী সান), অনীল সেন (ডেসটিনি), মো. মফিজুল ইসলাম (সচিত্র প্রতিবেদন), মো. মুজিবুর রহমান জিতু (বাসস), মো. শাহজাহান মিঞা (শীর্ষ নিউজ), তারিক মাহমুদ খান-নঈম তারিক (দেশ টিভি), রহমান মোস্তাফিজ (যমুনা টিভি), তানিয়া রহমান (একুশে টিভি), মো. সিদ্দিকুর রহমান (মানবকন্ঠ), শাহনাজ শারমিন (দীপ্ত টিভি), এম ফসিউদ্দিন মাহতাব (সমকাল), সাকি আহসান (সংবাদ), জামিল বিন সিদ্দিক (কালেরকণ্ঠ), মো. ওবায়দুল গনি (বাসস), মাহফুজা জেসমিন (বাসস), দীপক কুমার আচার্য (ইন্ডিপেন্ডন্ট), শফিকুল ইসলাম ইউনুস (পাক্ষিক ঢাকা), রীতা ভৌমিক (যায়যায়দিন), শেখ সুমন মাহবুব (যায়যায়দিন), নাজমুল ইমাম (মানবজমিন), রফিকুল ইসলাম আজাদ (ইন্ডিপেনডেন্ট), হুমায়ন হাসান (ইনকিলাব), মোজাম্মেল হক চঞ্চল (যুগান্তর), আলমগীর মোহাম্মদ রঞ্জু (এটিএন নিউজ), নূরুল ইসলাম খোকন (সমকাল), শাহনাজ শারমীন রিনভী (বাংলাভিশন), এস এ এ মাহফুজুর রহমান (ইউএনবি), মো. শহীদুল ইসলাম- বিপ্লব শহীদ (চ্যানেল২৪), আবুল মারুফ সুবর্ণ (ডেইলি স্টার), শরীফুল হক পাভেল (দৈনিক নওরোজ), হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া (ইউএনবি), তাবিবুর রহমান তালুকদার (আরটিভি), মো. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী (বাসস), মুহাম্মদ জামাল হোসেইন- শেখ জামাল (ইনকিলাব), সিরাজুল ইসলাম (দিনকাল), মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (মানবজমিন), হামিদুল হক মানিক (দিনকাল), সাইদুর রহমান (ইন্ডিপেনডেন্ট), ফাহিম আহমেদ (এনটিভি), নাঈম-উল-করিম (সিনহুয়া), মো. জাহাঙ্গীর আলম (ইউএনবি), সাখাওয়াত হোসেন (নিউএজ), ফিরোজ মান্না (জনকণ্ঠ), মজিবুর রহমান (জনকণ্ঠ), মাহবুর রশিদ (ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস), আসিফুল হুদা (দিনকাল), আজাদ মজুমদার (নিউএজ), মাহমুদুল হক জাহাঙ্গীর (ইনকিলাব), মাহবুবুল আলম (যায়যায়দিন), আবু তাহের মোস্তাকিম (এটিএন বাংলা), ইদ্রিস মাদ্রাজী (নয়া দিগন্ত), গোলাম সাহানী (বাসস), মো. বশির হোসেন মিঞা (ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস), শাহরিয়ার জামান (ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস), রফিক উল্লাহ (যুগান্তর), খোকন বড়ুয়া (নয়া দিগন্ত), মেজবাহ আহমেদ (জিটিভি), এ কে এম বাকী বিল্লাহ (সংবাদ), মশিউর রহমান রুবেল (জনতা), আহসান উল্লাহ (জনতা), মো. মোশারফ হোসেন (প্রভাত)।

    যাদের অস্থায়ী সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে- সুলতানুল মোহাক্কীন বাবু- এসএম বাবু (এটিএন বাংলা), আজিজুল পারভেজ (সমকাল), মোস্তফা হোসেন চৌধুরী (আজকের কাগজ), এস এম সুমন (এটিএন বাংলা), ঈহিতা জলিল (বাসস), আবদুল্লাহ ফেরদৌস (ইনকিলাব), আহমেদ করিম (আমার দেশ), আসাদুজ্জামান বাবুল (আমার কাগজ), এরফানুল হক নাহিদ (আজকালের খবর), আবু ফাত্তাহ (ইত্তেফাক), আজমল লুৎফা খানম (দৈনিক পত্রিকা) এবং ফজলুল হক রানা (আমার কাগজ)।

    অন্যদিকে সহযোগী সদস্যপদ বাতিল হয়েছে- মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, এ.এফ এম নূরুল ইসলাম, ফারুক আলমগীর, জমায়েত আলী, সৈয়দ বদরুল হক, শাহজাহান ফারুক, মো. খলিলুর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ড. মো. গোলাম মুস্তাফা, এম তোফাজ্জল হোসেন, হাশিমা গুলরুখ, পব্লিউ আর তৌহিদ, এম হায়দার চৌধুরী, ফয়েজ আহমেদ, সন্তোষ কুমার দত্ত, দিলারা জলি, একেএম এনায়েত উল্লাহ, আ বা ম ছালাউদ্দিন, মাহমুদুর রহমান, মো. আবদুর রহমান, মো. আবু হোসেন, আ. ব. ম. আবদুল মতীন, শাহ আবদুল হালিম, আতাউর রহমান, আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ, সৈয়দ আহমেদ কবির উদ্দিন, ফারুক এ চৌধুরী, হারুন উর রশিদ, একেএম হানিফ, ইফতেখার হোসেন, আজম খান, ওবায়দুল্লাহ আল জাকির, এ এইচ এম আবদুল্লাহ, মোহাম্মদ বদরুল আহসান, সালাহউদ্দিন আকবর, মাহবুবুল আলম, আলগমীর রহমান, মনজুর কাদের, শাহজাহান চৌধুরী, কাজী আলী রেজা, মাহফুজুর রহমান, মহিউদ্দিন আহমেদ (বাহার), এটিএম আনিসুর রহমান, কাজী নুরুল কবীর, শুভাশিস প্রিয় বড়ুয়া, আবুল মনজুর, এনায়েতুর রহমান, মো. মোয়াত্তের, আবু জাফর মো. ইকবাল, মীর মো. ইমাম হোসেন, মো. বানিজুর রহমান খান, মীর মোহাম্মদ মোরশেদ, ড. রিজিয়া জোবেদ, আহমদ মুনির হোসেন, মো. আবদুস সাত্তার মিয়াজী, আবদুর রহিম ডালিম, মীর মোকাম্মেল আহছান, মনোয়ার হোসেন, শেখ মোহাম্মদ বিল্লাল হোসাইন, তানবীর উল ইসলাম (কাজল সিদ্দিকী) এবং শারমীনা নার্গিস।

    আওয়ামী লীগ কতো বছর ক্ষমতায় থাকবে?

    শুক্রবার ৮ জানুয়ারি ২০১৬। এক মাত্র তিন দিন অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টা আগে ৫ জানুয়ারিতে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন উপলক্ষে বিএনপি আহুত জনসভায় অতি অপ্রত্যাশিতভাবে বিশাল জনসমাগম হয়েছিল। মাত্র ৬৮ ঘণ্টার নোটিশে মিটিংটি হয়েছিল। ধরে নেয়া যায় ওই মিটিংয়ে ঢাকার বাইরে থেকে কেউ আসেননি বা আসতে পারেননি।
    এই দিন ওই মিটিংয়ে মানুষের উপস্থিতি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। এর মাত্র ছয় দিন আগে ৩০ ডিসেম্বরে দেশ জুড়ে পৌরসভা নির্বাচনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিএনপি সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল খুব কম। ৫ জানুয়ারির জনসভায় ঠিক তেমন ভাবেই মানুষের উপস্থিতি খুব কম হবে ভেবেই হয়তো কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে সেই মিটিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু স্বতঃস্ফূর্তভাবে এত মানুষ ৫ জানুয়ারিতে সেখানে উপস্থিত হয়ে ধৈর্য ধরে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার বক্তৃতা শুনে আবারও এটাই প্রমাণ করেছে যে বিএনপির পক্ষে জনসমর্থন অটুট এবং বিশাল। তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে কোনো শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির জয়ও যে হবে বিশাল সেটা নিশ্চিত। আর এটা বুঝেই আওয়ামী লীগ সরকার কখনোই সেই ধরনের কোনো নির্বাচন দেশে দেবে না। তবে তারা পাতানো নির্বাচন দিতে চাইবে এবং বিএনপিকে সবসময়ই সেই নির্বাচনে অংশ নিতে বলবে। বিএনপি সেই ধরনের নির্বাচনে অংশ নিলে সংসদে দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় স্থান অর্থাৎ, এরশাদের জাতীয় পার্টির পরের স্থানটি পাবে। তার মানে, আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় থেকে যাবে।

    এটা অভাবনীয় কিছু নয়। কারণ আওয়ামী লীগ থেকে ইতিমধ্যে বারবার বলা হয়েছে তারা ২০২১, ২০৩১, ২০৪১ প্রভৃতি বছর পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায় এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে চায়। তাদের উন্নয়ন কর্মসূচি সমাপ্ত করতে চায়।

    আর এজন্যই মানুষের মুখে এখন প্রশ্ন এই অত্যচারী সরকার কবে বিদায় নেবে?
    সবার মনে আরো একটি প্রশ্ন আছে – ১০০০ দিন জেলবন্দি দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কবে মুক্তি পাবেন?

    এই দুটি প্রশ্নেরই – একই উত্তর।
    আর সেই উত্তরটা হচ্ছে ২০৭১ সালের আগে নয়।

    ২০৭১ কেন? কারণ ওই বছরে মুক্তিযুদ্ধের শতবর্ষ পূর্তি হবে এবং সেটা যথাযথভাবে উদযাপনের আয়োজন করবে মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট ও একমাত্র পরিবেশক আওয়ামী লীগ।

    হয়তো এই উত্তরটি জেনে পাঠকরা নিরাশ হচ্ছেন। না। নিরাশ হবেন না। ২০৭১ সালে বাংলাদেশের অবস্থা কি হবে তার একটা আংশিক ছবি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

    গত বছর ২০১৫-তে ১৯৫ জনকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয় বাংলাদেশে। গত নভেম্বরে এক মাসে ৬৬ জনকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছিল।
    শুধু ৩০ নভেম্বরেই ২৯ জনের ফাসির আদেশ দেয়া হয়েছিল। গাজীপুরে শুধু একটি মামলায় ১১ জনকে ফাসির আদেশ দেয়া হয়েছিল। এভাবে প্রতি দিনে শত শত ফাসির দেয়ার পর ২০৭১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে করবস্থানের শান্তি বিরাজ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রস্তাবিত হবে।

    প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বলেছেন এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইন্টারন্যাশনাল ঘুষ খেয়ে এসব ফাসির নিন্দা করেছে। আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের এই ঘুষ খাওয়া প্রমাণিত হয়ে যাবার পরে মানব অধিকার বিষয়ক এই ধরনের সব সংগঠন বিশ্ব জুড়ে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে এসব সংগঠন এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআইবি) অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে।

    আন্তর্জাতিকভাবে আরো একটি বড় ঘটনা ঘটবে। প্রধানমন্ত্রীর পুত্র, বিশিষ্ট কমপিউটার বিজ্ঞানী, আমেরিকা প্রবাসী দেশপ্রেমিক সজীব জয়, কিনে ফেলবেন গুগল, ইয়াহু, মাইক্রোসফট এবং ফেসবুককে। ফলে তরুণ প্রজন্ম নিশ্চিন্ত হতে পারবে – বাংলাদেশে আর কখনো ফেসবুক, গুগল ইত্যাদি নিষিদ্ধ হবে না।

    প্রতিবেশি দেশ ইনডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরো ভালো হবে। এখন যেমন আওয়ামী নেতারা “বিএনপি-জামায়াত” জোট বলতে অভ্যস্ত, তখন মানুষ “আওয়ামী-ভারত” সরকার বলতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। আওয়ামী-ভারত সম্পর্ক সুমধুর হবে। এর ফলে ২০৭১-এ গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২০৭১ টাকা হবে। বিএসএফ-এর গুলিতে বিনা প্রতিবাদে প্রতি বছরে অন্তত ৭১ জন মারা যাবে। ‘‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’’ আগামী ৫৫ বছরে অন্ততপক্ষে আরো ৫৫০টি ব্যাংক খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে শর্ত সাপেক্ষে যে আওয়ামী পৃষ্ঠপোষিত দুর্বৃত্তদের জন্য এসব ব্যাংক উদারনীতি অবলম্বন করবে এবং তখন কোনো খেলাপি ঋণ তালিকা প্রকাশ করা হবে না। ইনডিয়ান সাহায্য সত্ত্বেও পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বারবার বিঘ্নিত হবে। মগবাজারে ফ্লাইওভার আবার নির্মিত হয়ে আরো ৭১ বার ভাঙ্গা হবে। মগবাজারের নাম বদলে মগের মুল্লুক নাম হবে। পথবক্তা ও মন্ত্রী মি. ওবায়দুল কাদের বিরক্ত হয়ে বারবার পদত্যাগ করতে চাইলে ঢাকা মেট্রো রেল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য রাজধানীতে সব জনচলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ঘরে ঘরে গড়ে উঠবে। সব লেখাপড়া বাড়িতে হবে। অফিস-আদালত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজ ঘরে থেকেই চলবে। ঢাকা এখন বিশ্বের দ্বিতীয় নিকৃষ্টতম শহর রূপে গণ্য হলেও সব জন ও যান চলাচল বন্ধ রেখেও যে সরকার রাজধানী চালাতে পারে সেটি প্রমাণ করার ফলে তখন ঢাকা বিশ্বের প্রথম বিস্ময়কর শহর রূপে গণ্য হবে।
    এ রকম অনেক অভূতপূর্ব সাফল্য ২০৭১ সালের মধ্যেই পাঠকরা দেখবেন।
    তবে সেই বছরেই প্রধানমন্ত্রী যখন জানবেন যে তার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, রানীসভার ছড়াকার ইয়াফেস ওসমান সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন, তখন তিনি পদচ্যুত হবেন। ইয়াফেস ওসমানের লেখা শেষ ছড়াটি হবে :
    কেন যে ছড়া লিখলাম ভাই
    এখন আমার চাকরি নাই।

    ২০৭১-এ সারা বাংলাদেশ জুড়ে উদযাপিত হবে স্বাধীনতার শত বর্ষ পূর্তি। গ্রামে গঞ্জে শহরে শুধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার হাজার হাজার রঙিন বিলবোর্ড ও পোস্টারই থাকবে – অন্য কোনো পোস্টার-বিলবোর্ড থাকবে না। সেই বছরে ১৬ ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করবেন বহুল প্রতীক্ষিত সেই তারিখটি –
    পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ।
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করার জন্য আরো একশ’ বছরে সময় চাইবেন।
    ডিসেম্বর ২১৭১-এ পরবর্তী নির্বাচনটি হবে।