• ?????: রকমারি সংবাদ.

    দ্বিতীয় পৃথিবী!

    সৌরজগতের বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার সেরা সম্ভাবনা এবার সম্ভবত পাওয়া গেছে। কারণ প্রাণ ধারণের উপযোগী এমন একটি পাথুরে গ্রহ সম্প্রতি আবিস্কৃত হয়েছে, যা কিনা পৃথিবী থেকে মাত্র ৪ আলোকবর্ষ দূরে। ফলে ভবিষ্যতে গ্রহটিতে সহজেই মহাকাশ যান পাঠিয়ে গবেষণা করা যাবে।

    এই গ্রহটিকে বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় পৃথিবী। তরল পানির উপযোগী পরিবেশ হিসেবে গ্রহটি এর নক্ষত্র থেকে সঠিক দূরত্বে রয়েছে। যার মানে দাড়াচ্ছে, গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্বের বাস্তবিক সম্ভাবনা রয়েছে।

    সৌরজগতের বাইরে এখনো পর্যন্ত আবিষ্কৃত এক্সোপ্ল্যানেটগুলোর মধ্যে এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম। গবেষকদের দাবী গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের অভিযান ‘আমাদের জীবদ্দশার মধ্যে’ সম্ভব হতে পারে।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছেন, আমাদের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টরিকে প্রদক্ষিণ করছে নতুন এই গ্রহটি। ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি টেলিস্কোপ ব্যবহার করে আবিষ্কৃত রোমাঞ্চকর এই নতুন বিশ্বকে ‘প্রক্সিমা বি’ নাম দিয়েছেন গবেষকরা। লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গুইলিম অ্যানগালাডার নেতৃত্বে ৩০ জন আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল গ্রহটি আবিষ্কারে কাজ করেছেন।

    হাজারের বেশি এক্সোপ্ল্যানেট এখন পর্যন্ত আবিস্কৃত হয়েছে, কিন্তু এটি অন্যগুলো থেকে ভিন্ন। এটি আমাদের নাগালের মধ্যে মাত্র চার আলোকবর্ষ দূরে। যদিও চার আলোকবর্ষ অনেক দীর্ঘ একটা পথ, ২৫ ট্রিলিয়ন মাইলেরও বেশি। বর্তমানে যে প্রযুক্তির রকেট রয়েছে, তাতে এই দূরত্ব পারি দিতে ৭৬ হাজার বছর লেগে যাবে। ফলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই ভবিষ্যত প্রজন্মের অতিদ্রুত মহাকাশযান, গ্রহটি ভ্রমণে সক্ষম হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতের আরো অনেক অগ্রগতির সময়ে পৃথিবী থেকে মহাকাশচারীদের পদচারণা ঘটতে পারে গ্রহটিতে। এসব কিছুই হতে পারে কারণ প্রক্সিমা সেন্টরি নক্ষত্রটি অনুজ্জ্বল এবং এর ৪.৬ মিলিয়ন মাইল দূরত্ব থেকে প্রদক্ষিণ করছে গ্রহটি। যা পৃথিবী ও সূযের মধ্যের দূরত্বের মাত্র পাঁচ শতাংশ। একবার প্রদক্ষিণ করতে গ্রহটি সময় নেয় মাত্র ১১.২ দিন।

    যেহেতু প্রক্সিমা সেন্টরি নক্ষত্রটি অনুজ্জ্বল বামন নক্ষত্র, সূর্যের চেয়ে অনেক কম তাপের এবং প্রক্সিমা বি গ্রহটি উপযুক্ত দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় এর তাপমাত্রা খুব গরম নয় আবার খুব ঠান্ডাও নয়, সেহেতু মনে করা হচ্ছে গ্রহটির তাপমাত্রা তরল পানির উপযোগী। তাই গ্রহটিকে ‘দ্বিতীয় পৃথিবী’ বা ‘বাসযোগ্য স্থান’ বলা হচ্ছে।

    গ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মাইনাস ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হতে পারে। অন্যদিকে গ্রহটি এর নক্ষত্রে থেকে শক্তিশালী অতিবেগুণী রশ্মি এবং এক্স-রে দ্বারা প্রভাবিত, ফলে প্রাণের জন্য তা কঠোর পরিবেশও হতে পারে।

    কিন্তু বিজ্ঞানীরা প্রক্সিমা বি গ্রহটিতে প্রাণের উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়েই বেশি উত্তেজিত।

    লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গুইলিম অ্যানগালাডা বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত অনেক এক্সোপ্ল্যানেট পাওয়া গেছে এবং ভবিষ্যতে আরো পাওয়া যাবে। কিন্তু সৌরজগতে নিকটবর্তী কক্ষপথে নতুন গ্রহ প্রক্সিমা বি আবিষ্কৃত হওয়া এক অনন্য অভিজ্ঞতা।’

    প্রক্সিমা বি গ্রহ এবং এর আবহাওয়া নিয়ে দুইটি পৃথক গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, গ্রহটির আবহাওয়া তরল পানির উপযুক্ত। তাই প্রাণের উপস্থিতিও থাকতে পারে।

    বিশ্বের প্রবীণ ব্যক্তি বয়স ১৪৫!

    বিশ্বের প্রবীণ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে ইন্দোনেশিয়ায়। ১৪৫ বছরের এমবাহ গোথোর জন্ম হয়েছিল ১৮৭০ সালে। রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    গোথো জানিয়েছেন, ১৯৯২ সাল থেকে তিনি মৃত্যুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর জন্য তিনি নিজের কবরও খুঁড়ে রেখেছেন। কিন্তু ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো তিনি জীবিত আছেন।

    গোথোর ১০ ভাইবোনের মধ্যে কেউই এখন জীবিত নেই। এ ছাড়া তার চার স্ত্রীর মধ্যে সর্বশেষ জনের মৃত্যু হয়েছে ১৯৮৮ সালে। সন্তানদের মধ্যে কেউ এখন বেঁচে না থাকলেও পৌত্র-প্রপৌত্রদের সঙ্গে বাস করছেন তিনি।

    স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে গোথো বলেন, ‘এখন আমি কেবল মৃত্যুই চাই।’ তিন মাস ধরে গোসল করতে পারছেন না তিনি। চামচের মাধ্যমে তাকে খাওয়াতে হয়। তার শারীরিক পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

    ইন্দোনেশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নথি অনুযায়ী, গোথোর জন্ম ১৮৭০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। আর নিরপেক্ষ সূত্র থেকে এটির সত্যতা নিশ্চিত করা গেলে গোথোই হবেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি। এর আগে বিশ্বের প্রবীণ ব্যক্তি হিসেবে গিনেজ বুকে নাম উঠেছিল ফরাসি নাগরিক জিন কালমেন্টের। তার বয়স হয়েছিল ১২২ বছর।

    ৩০ মে খালি চোখেও দেখা যাবে মঙ্গল গ্রহ!

    পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসবে মঙ্গল গ্রহ। আগামী ৩০ মে সোমবার। গত ১৩ বছরে এই প্রথম। ওই দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে আমাদের এই বাসযোগ্য গ্রহটি থেকে লাল গ্রহ থাকবে ৪ কোটি ৬৭ লক্ষ মাইল দূরে। এই সময়ে টেলিস্কোপ তো বটেই রাতের আকাশে খালি চোখেও দেখা যাবে লাল গ্রহকে। গত ১৩ বছরে পৃথিবী থেকে মঙ্গলকে এত বড়, আর এত উজ্জ্বলভাবে আর কখনও দেখা যায়নি। ৩০ মে মঙ্গল পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের বিন্দুতে আসবে গ্রিনিচ মিন টাইম (জিএমটি) ২২-এ। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যকে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথে আবর্তন করে মঙ্গল গ্রহ। সেই আবর্তনের সময় কখনও তা পৃথিবী থেকে চলে যায় অনেক দূরে, আবার কখনও তা চলে আসে পৃথিবীর খুব কাছে। দূরে গেলে সেই অবস্থানটাকে বলা হয় এপি হেলিয়ন। আর কাছে এলে সেই অবস্থানটিকে বলা হয় পেরি হেলিয়ন। ৩০ মে থেকে মঙ্গল গ্রহটি যে অবস্থানে থাকবে তাকে বলা হয় পেরি হেলিয়ন অপজিশন। ওই দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ ধরে সূর্য, পৃথিবী আর মঙ্গল থাকবে একই সরলরেখার উপরে। ফলে সৃর্য ডুবলেই রাতের আকাশে ঝকঝকে অবস্থায় দেখা যাবে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে এসে পড়া লাল গ্রহটিকে। এর আগে ২০০৩ সালের অগস্টে লাল গ্রহ আমাদের আরও কাছে এসেছিল। ওই সময় পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব ছিল সাড়ে ৩ কোটি মাইল। এবার দূরত্ব হবে ৪ কোটি ৬৭ লক্ষ মাইল। লাল গ্রহকে কখন দেখা যেতে পারে রাতের আকাশে? এর উত্তরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা নির্ভর করবে পৃথিবীতে আমরা কে কোথায় আছি তার উপর। তবে সাধারণ ভাবে বলা যায়, মধ্য রাতে অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে এই লাল গ্রহকে খালি চোখেই দেখা যাবে ৩০ মে থেকে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল কারণ এরপর মঙ্গল আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসবে আবার ২২৮৭ সালে। অর্থাৎ ২৮১ বছর পরে।

    নগ্ন অবস্থায় সিংহের খাঁচায় ঝাঁপ, অতঃপর…

    চিলির একটি চিড়িয়াখানায় এক যুবক নগ্ন হয়ে সিংহের খাঁচায় ঝাঁপ দেন। এরপর যা হওয়ার তাই হলো। প্রথমে খাঁচায় থাকা সিংহগুলো তাকে নিয়ে খেলা করল। মুহূর্তের মধ্যে হিংস্র রূপ ধারণ করে সিংহগুলো। ক্ষত-বিক্ষত ওই যুবককে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুটি সিংহকেও প্রাণ দিতে হয়েছে।
    ব্রিটেনের ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, শনিবার ফ্রানকো লুইজ ফেরাডে রোমান (২০) নামের ওই যুবক প্রাচীর ভেঙে সিংহের খাঁচায় প্রবেশ করে। আর হাতের নাগালে এমন শিকার পেয়ে সিংহটিও আক্রমণ করতে মোটেও ভুল করেনি। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন ওই যুবক। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

    দর্শনার্থীদের চোখের সামনেই রোমান সিংহের খাঁচায় ঝাঁপ দিলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঝাঁপ দেওয়ার আগে নিজের জামা কাপড় খুলে নেন তিনি।

    সিংহের খাঁচায় থাকা সিংহগুলো এক পর্যায়ে তাকে নিয়ে খেলতে শুরু করে। হামলার একটা পর্যায়ে চিড়িয়াখানার রক্ষীরা তাকে বাঁচাতে সিংহগুলোকে গুলি করতে বাধ্য হয়। এতে দুটি সিংহ প্রাণ মারা যায়।

    মেট্রোপলিটন পার্ক পরিচালক মাওরিকো ফাব্রি নিশ্চিত করেন, রোমান মারা যাওয়ার আগে তার কাপড়ে সুইসাইড নোট লিখে গিয়েছিলেন।
    চিড়িয়াখানার পরিচালক আলেজান্দ্রা মন্তালিভ ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘আমরা মনে করি লোকটি দর্শনার্থী হিসেবেই টিকিট কেটে চিড়িয়াখানায় ঢুকেছিল। তাকে বাঁচাতে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে সিংহগুলোকে ঘুমের ইনজেকশন পুশের সময় ছিল না। তাই গুলি করা হয়। দুটি সিংহের মৃত্যুর জন্য চিড়িয়াখানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘ওই যুবক খাঁচায় ঝাঁপ দিয়েই সিংহগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিল।’
    একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, লোকটিকে প্রথমে সিংহগুলো আক্রমণ করেনি। প্রথমে খেলতে থাকে। তারপর হঠাৎ করেই আক্রমণ করে।20238-suicide_news_1

    গিটারের দাম ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা!

    মার্কিন পপ তারকা এলভিস প্রিসলির একটি গিটার নিউইয়র্কে নিলামে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার দাম ২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এলভিস প্রিসলি কারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়ার পর তার পিতা ভেরনন প্রিসলি তাকে গিটারটির উপহার দিয়েছিলেন। নর্থ ক্যারোলিনায় ১৯৭৫ সালে অনুষ্ঠিত একটি কনসার্টের সময় এলভিস প্রিসলি এই গিটারটি তার এক ভক্তকে উপহার দিয়েছিলেন।

    মারা গেল সবচেয়ে বয়স্ক ওরাংওটাং

    বিশ্বের সবচেয়ে বয়ষ্ক ওরাংওটাংয়ের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো রাজ্যের ব্রুকফিল্ড চিড়িয়াখানায় শুক্রবার ম্যাগি নামের ৫৫ বছরের ওই ওরাংওটাং মারা যায়। তবে ম্যাগির মৃত্যুর বিষয়টি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে শনিবার। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানান, সম্প্রতি বয়সের ভারে তার স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। নিয়মিত স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া হলেও তার আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছিল না। বার্ধক্যজনিত নানা উপসর্গ দেখা দেয় তার শরীরে। বয়স্ক মানুষের মধ্যে যে ধরনের সমস্যা দেখা দেয় এই ওরাংওটাংয়ের শরীরেও সেসব (আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, হাইপোথাইয়ডিজম) উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়। ১৯৬১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো চিড়িয়াখানায় জন্ম গ্রহণ করে ম্যাগি। চিড়িয়াখানা কর্মকর্তারা বলেন, সে ছিল বেশ কৌতুহলী, বুদ্ধিমান ও প্রাণোচ্ছল। যেসব কর্মী তার যত্ন নিত তারা তাকে খুব মিস করবে। চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা আরো জানান, ম্যাগি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ওরাংওটাং। তার চারটি সন্তান আছে। ১৯৯৫ সালে ইলিনয়ের ব্রুকফিল্ড চিড়িয়াখানায় আনা হয় তাকে। এখানে আসার পর সে সারোগেট মাদার হিসেবে দুটি শিশু ওরাংটাংয়ের দায়িত্ব পালন করে।

    ভালোবাসার টানে সাঁতরে ৫০০০ মাইল পাড়ি!

    শখের বশে সাগরে মাছ শিকার করেন জোয়াও পেরিরা ডি সৌজা নামে ব্রাজিলের এক নাগরিক। এখন তার বয়স ৭১ বছর, ব্রাজিলের একটি দ্বীপে বসবাস করেন তিনি। একটা সময় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। ২০১১ সালে মাছ শিকার করতে গিয়ে তেলে আবৃত মৃতপ্রায় একটি পেঙ্গুইন দেখতে পান ডি সৌজা। কালক্ষেপন না করে দ্রুতই ওই পেঙ্গুইনকে উদ্ধার করেন তিনি। দীর্ঘ সময় সেবা-শুশ্রুষার মাধ্যমে সারিয়ে তুলেন মেরু অঞ্চলের প্রাণিটিকে। পেঙ্গুইনটি সুস্থ হওয়ার পর তাকে আবারও সাগরে ভাসিয়ে দেন ডি সৌজা। প্রতিদিনের নানা কাজের ব্যস্ততায় সেই পেঙ্গুইনের কথা হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন পেরিরা ডি সৌজা। কিন্তু সৌজার উপকারের কথা ভুলেনি ডিনডিম নামের পেঙ্গুইনটি। পরের বছরই সৌজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সাঁতরে ৫০০০ মাইল পাড়ি দিয়ে ব্রাজিলে যায় দক্ষিণ আমেরিকার মঙ্গোলীয় অঞ্চলের ওই প্রাণিটি। ডিনডিমকে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছিলেন ডি সৌজা। ২০১৪ সালে আবারও সৌজার সঙ্গে দেখা করে পেঙ্গুইনটি। এরপর থেকে প্রতি বছরেই সৌজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ওই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে ডিনডিম। প্রতিবারই সৌজার সঙ্গে আলাদাভাবে সময় কাটিয়েছে সেটি। পেরিরা ডি সৌজা বলেন, তৈলাক্ত এবং মৃতপ্রায় অবস্থায় পাওয়ার পর ডিনডিমের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। সে সময় পেঙ্গুইনটির সুস্থ হতে প্রায় ১১ মাস সময় লেগেছিল। ওই সময়ের মধ্যে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসা দিয়েছি পেঙ্গুইনটিকে। সুস্থ হওয়ার পর আমাকে ছেড়ে যেতেই চাইনি ডিনডিম। আমিও বুঝতে পেরেছিলাম, আমার প্রতি পেঙ্গুনটির ভালোবাসা জন্মেছিল। গ্লোভো টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, সুস্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার পর প্রতি বছরই সাঁতরে ৫০০০ মাইল পাড়ি দিয়ে আমার দ্বীপে এসেছে ডিনডিম। এনিয়ে পঞ্চমবারের মতো আমার কাছে আসল পেঙ্গুইনটি। ডি সৌজা বলেন, এখানে আসলে শুধু আমার সঙ্গেই সময় কাটায় ডিনডিম। তাকে স্পর্শ করা বা তার কাছে যাওয়ার অনুমতি অন্য কারো নেই। আমি ছাড়া অন্য কেউ যদি তার কাছে যায়, তবে তাদেরকে ঠোকর দেয় ডিনডিম। পেঙ্গুইনটি আমার শরীর লেহন করে। আমার সঙ্গে গোসলও করে। ডিনডিমকে সামুদ্রিক পোনা মাছ খেতে দেই। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

    একরাত কাটাতে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে টয়লেট!

    একদিনের সফরে আসছেন রানি। তাই হ্রদের ধারে তৈরি হচ্ছে বিলাসবহুল টয়লেট। খরচ পড়ছে ৪০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ টাকা)। এতদূর পর্যন্ত তাও মানা গেল, কিন্তু রানি চলে গেলে পরের দিনই ভেঙে দেওয়া হবে ওই টয়লেট! হ্যাঁ, থাইল্যান্ডের রানির একদিনের জন্য কম্বোডিয়া বেড়াতে যাবেন বলে এহেন আয়োজন। কম্বোডিয়ার সবচেয়ে গরিব এলাকা হিসেবেই পরিচিত রতনাক্কিরি প্রদেশ। সেখানেই ইয়াক লাওম লেকের ধারে বেড়াতে যাচ্ছেন থাইল্যান্ডের রানি মহা চাকরি সিরিন্ধর্ন। তিন দিনের কম্বোডিয়া সফরে একদিনই থাকবেন ইয়াক লাওম লেকের ধারে। তাই স্রেফ একদিনের জন্য তৈরি হচ্ছে ৪০ হাজার ডলার ব্যয়ে টয়লেট। থাইল্যান্ডের সবচেয়ে নামী নির্মাণ সংস্থা ১৯ দিনের মধ্যে তৈরি করবে এই বিলাসবহুল টয়লেট। রুপা ও দামি মার্বেল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে টয়লেটটি। নির্মাণের যাবতীয় সরঞ্জাম আনা হচ্ছে ব্যাংকক থেকে। স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য, সাধারণের জন্য তো আর এই টয়লেট তৈরি হচ্ছে না। রানি জন্যই এই আয়োজন। তাই রানি চলে গেলে আর টয়লেটটি রাখার দরকার নেই। ভেঙে দেওয়া হবে। কিন্তু কম্বোডিয়ার মতো একটি গরিব দেশ, যেখানে খুব সামান্য অংশের মানুষই আধুনিক টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন, সেখানে থাই রানির জন্য এহেন বিলাসবহুল আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

    ঘণ্টায় ২,৫০০ মাইল বেগে উড়বে যে বিমান

    ব্রিটেনের এয়ারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা কোম্পানি বিএই সিস্টেমস শিগগিরই একটি দেশীয় কোম্পানির কাছ থেকে এমন একটি ইঞ্জিন কিনতে যাচ্ছে যা কোনও বিমানকে ঘণ্টায় ২,৫০০মাইল গতিতে ওড়ার মতো শক্তি যোগাবে। এর ফলে খুব শিগগিরই হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি গতি) গতিতে মহাকাশে ভ্রমণ এবং স্বল্প খরচে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সম্ভাবনা আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

    লন্ডনের শেযারবাজারে সবচেয়ে বেশি পুঁজি লগ্নিকারী ১০০টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত এফটিএসই ১০০ গ্রুপ (ফাইনান্সিয়াল টাইমস স্টক এক্সচেঞ্জ ১০০ ইনডেক্স) ২ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড ব্যয়ে রিঅ্যাকশন ইঞ্জিন নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এমন ২০টি ইঞ্জিন কিনতে যাচ্ছে যাতে জেট ও রকেট ইঞ্জিন প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। অক্সফোর্ডশায়ার কেন্দ্রীক রিঅ্যাকশন ইঞ্জিনের সঙ্গে বিএই এমন একটি ব্যবস্থাপনায় যাবে যাতে করে তাদের মেধা ও জ্ঞান এই প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়। এর ফলে আকাশ ব্রমণ ও মহাশূন্যে ফ্লাইট পরিচালনার পুরো বিষয়টিতেই বিপ্লবাত্মক উন্নতি ঘটবে।

    রিঅ্যাকশন ইঞ্জিন এরই মধ্যে প্রকল্পটির চূড়ান্ত রূপ দেয়ার পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি দশকের মধ্যেই তারা নতুন ধরণের ইঞ্জিন তৈরি করতে এবং ২০২০ সাল নাগাদ পরীক্ষামূলক বিমান উড্ডয়ন শুরু করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ইঞ্জিনের পরীক্ষা সফল হলে সেটি প্রথমে কম খরচে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কাজে ব্যবহার করা হবে। পরে তা যাত্রীবাহী বিমানে ব্যবহারের কথা ভাবা হবে। -দ্য টেলিগ্রাফ

    এক ঘণ্টায় লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে!!

    খুব তাড়াতাড়ি কনকর্ড বিমানের আধুনিকতম সংস্কারণ ও অপেক্ষাকৃত উন্নত একটি বিমান আসছে ব্রিটেনের আকাশে। এই বিমানটির নাম দেওয়া হয়েছে কনকর্ড-২। সাধারণ কনকর্ড বিমান থেকে সাড়ে ৪গুণ ক্ষমতাসম্পন্ন কনকর্ড-২, বিমান চালু হতে চলেছে লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত।

    এই বিমানটি এক ঘণ্টায় লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পৌঁছাতে পারবে। এই অতিআধুনিক বিমানের গতি হবে ঘণ্টায় ৩হাজার ৪২৫ মাইল। সংবাদ সূত্রে জানা গেছে কনকর্ড-২ বিমানগুলির গতি পূর্বের কনকর্ড বিমান থেকে তিনগুণ বেশি। আরো বলা হয়েছে, ব্রিটেন থেকে কনকর্ড-২ বিমান চলাচলের সময়ে যাত্রীরা স্বাভাবিক সুন্দর ব্যবস্থাপনা পাবেন।

    তারা এক প্রকার স্বপ্নরাজ্যে বিচরণ করতে করতেই দূরপাল্লার ভ্রমণ শেষ করতে সমর্থ হবেন। কনকর্ড-২ বিমান সাধারণ কনকর্ড থেকে সংস্কার সাধন করা হয়েছে।কনকর্ড বিমানে মোট ২০ জন লোক যাতায়াত করতে পারবেন। যাত্রীরা সর্বোচ্চ আরাম ও আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন নির্বিঘ্নে। তবে যে কোনো বিচারে এই বিমানের যে ভাড়া নেওয়া হবে তা বেশ বড়ো পরিমাণের এবং তা যাত্রীর পকেট শূন্য করে দিতে পারে।

    জানা যায়, এই বিমানে চড়বেন হাই প্রোফাইল লোকজন। বিশেষত তড়িৎ গতিতে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও যুদ্ধসম্ভার নেয়ার জন্য ব্যবহার হতে পারবে। র‌্যাপিড রি অ্যাকশন ফোর্সদের নিয়োগের জন্য কনকর্ড-২ বিমানটি ব্যবহার করা হবে।