• ?????: শিক্ষাঙ্গন

    চবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্সের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রফিকুল হকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগটি আমলে নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ইনস্টিটিউটের এক জরুরি বৈঠকে ঘটনা তদন্ত করতে ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক ড. মোজাফফর আহমদ ও অধ্যাপক ড. আল আমিনকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    এর আগে গত ১৪ নভেম্বর ফরেস্ট্রি ইনস্টিটিউটের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী যৌন হয়ারানির কথা উল্লেখ করে ইনস্টিটিউটের পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও দুই ছাত্রী একই অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে জরুরি বৈঠক ডেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. দানেশ মিয়া বলেন, ‘ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষার্থীরা তার অপসারণ চেয়ে আবেদন করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নেব। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘তদন্তকালীন সময়ে ড. রফিকুল হককে সব ধরনের একাডেমিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ’

    আইডিয়াল স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে

    রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে এই পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠেছে। এই অবস্থায় নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা প্রশাসন। সূত্রমতে, বাংলা ভার্সনের দুইজন ও ইংরেজি ভার্সনের একজন মোট তিনজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। সেই পরীক্ষার ডিজি প্রতিনিধি দুইজনকে নিয়োগ দেয়া হলেও তারা সেখানে থাকতে অসম্মতি জানান। এরপর পরীক্ষার আগেরদিন বিকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান ধানমন্ডি গর্ভঃ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইনছান আলী।
    পরীক্ষার দিন সকাল ৯টায় ডিজির প্রতিনিধি স্কুলে গেলে নিয়োগ কমিটির অন্য সদস্যরা কয়েকটি প্রশ্ন দেখান এবং এই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার কথা বলেন। তখন ডিজির প্রতিনিধি এতে রাজি না হয়ে সবার উপস্থিতিতে প্রশ্ন করার কথা জানান। এতে কমিটির লোকজন রাজি না হয়ে আগের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার জন্য বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখান। এতেও ডিজির প্রতিনিধি রাজি না হওয়ায় কমিটির অন্য সদস্যরা সবাই মিলে প্রশ্ন করার বিষয়ে একমত হন- এই বলে যে তারা ৫০ ভাগ, ডিজির প্রতিনিধি ৫০ ভাগ প্রশ্ন করবেন। নিয়ম অনুসারে সভাপতি কখনো নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক হতে পারেন না কিংবা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারেন না। একই দিনে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা হবে জানিয়ে পরীক্ষার্থীদের সব সনদপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু অধ্যক্ষের রুমে খাতায় কোড নম্বর বসিয়ে মূল্যায়নের পর ওইদিন ভাইভা না নেয়ার কথা জানান অধ্যক্ষ। কারণ হিসেবে বলা হয়, সভাপতির মা অসুস্থ। এরপর প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, খাতা মূল্যায়ন খাতা তালিকা ও অন্যান্য কাগজপত্র রি-কোডিং না করে সিলগালা করে রাখা হয়। এ ব্যাপারে ডিজির প্রতিনিধি ইনছান আলী বলেন, এখানে প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ ছিল না। কারণ সবার সামনে প্রশ্ন হয়েছে, সিলগালা হয়েছে এবং পরীক্ষা হয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগের দিন বিকালে আমাকে ডিজির প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হয়। তাই এত অল্প সময়ে কাউকে চেনা জানা, বা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না। লিখিত পরীক্ষায় প্রায় সবাই খুব কম নম্বর পেয়েছেন এবং কারো সঙ্গে কারো নম্বরের বেশি পার্থক্য নেই। আর কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহানারা বেগম বলেন, অনেকেই পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। যেহেতু পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি, তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের ব্যাপারেও কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ ব্যাপারে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, লিখিত পরীক্ষার পর ভাইভা হওয়ার কথা। এটা পরবর্তীতে হবে। আর আগের দিন নিয়োগ পেয়ে কেউ নিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত হতে পারে বলে আমি মনে করি না। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সব শিক্ষকদের সনদ যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়ার পর তা করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত সপ্তাহে ৭ দিনের মধ্যে সনদ যাচাই করে না মন্ত্রণালয়ের পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল করার হুমকি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান অধ্যক্ষের সময় নিয়োগ পাওয়া দেড়শ’র বেশি শিক্ষক ভুয়া সনদে চাকরি পেয়েছেন।

    ৩৬তম বিসিএস-এ পররাষ্ট্রে প্রথম ডা. সুবর্ণা শামীম আলো

    ৩৬ তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১ম স্থান অর্জন করেছেন ডা. সুবর্ণা শামীম আলো। তিনি এবারই প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন। প্রথমবারেই বিসিএস দিয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া সত্যিই প্রশংসার দাবিদার ডা. আলো।

    উল্লেখ্য, ডা. সুবর্ণা শামীম আলো রাজধানী ঢাকার ‘স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের’ ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৩ সালে এমবিবিএস পাশের পর বিসিপিএস থেকে শিশু বিভাগে এফসিপিএস-পার্ট ১ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিশু বিভাগে এমডি কোর্সে অধ্যয়নরত আছেন তিনি।

    তাঁর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়।

    ডা. সুবর্ণা শামীম আলো হোমনা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফজলুল হক মোল্লার ছোট মেয়ে।

    ইতোপূর্বে তিনি স্থানীয় কলাগাছিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি-তে উত্তীর্ণ হন।

    মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা আজ, সক্রিয় জালিয়াত চক্র

    সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা আজ। সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে বেলা ১১টা পর্যন্ত। রাজধানীসহ সারা দেশের ২০টি কেন্দ্রে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে মেডিকেলের আগামীকালের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ৫ নম্বর কেটে নেওয়া হবে। ভর্তি পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, এবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ৮২ হাজার ৮৫৬ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। দেশে সরকারি ৩১টি মেডিকেল কলেজের মোট আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৩১৮টি। আর বেসরকারি মেডিকেলে আসন রয়েছে ৬ হাজার ২৫টি। এদিকে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর হয়েছে একটি চক্র। চক্রটি প্রশ্নফাঁসের আশ্বাস দিয়ে ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে- ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল প্রশ্নফাঁসের বিভিন্ন চক্র। মেডিকেল এক্সাম কোয়েশ্চন ২০১৭ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রশ্নফাঁসের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে ভর্তিচ্ছুকে মেডিকেলে কয়েকটি প্রশ্নের সেট সরবরাহের কথা বলা বলছে তারা। সকালে পরীক্ষার আগেই একটি সেট পরীক্ষার জন্য নিশ্চিত করে দেওয়ার কথা বলছে চক্রটি। দেশের সর্বোচ্চ প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ মেলে হরহামেশাই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসের ফাদে পড়লে অসাধু কিছু শিক্ষার্থী উপকৃত হলেও বিপাকে পড়ছেন মেধাবী ভর্তিচ্ছুরা। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অসাধু শিক্ষক, কর্মকর্তা অথবা কর্মচারীর সহায়তায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে চলে যাচ্ছে জালিয়াত চক্রের হাতে। আর চক্রটি স্বল্প সময়ে প্রশ্নপত্র সমাধান করে পৌঁছে দিচ্ছে ভর্তিচ্ছুদের কাছে। অন্যদিকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সক্রিয় রয়েছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। জালিয়াত চক্রকেও চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে কাজ করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

    শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি : নারায়ণগঞ্জে ছাত্র ফেডারেশনের মানববন্ধন

    অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নেতাকর্মীরা।
    শনিবার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধিত পাঠ্যপুস্তক বিদ্যালয়সমূহে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
    মানববন্ধনে এ বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তকে অসংখ্য ঐচ্ছিক ভুল, দলীয় শ্লোগান ও নানান সাম্প্রদায়িক উপাদান যুক্ত পাঠ্যবই প্রদানের প্রতিবাদ করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভুল ও অনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদেরকে বিপথে চালিত করার সরকারি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হুশিয়ারীও জানানো হয় এ মানববন্ধন থেকে। এ ছাড়াও পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক উপাদান যুক্ত করে বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে খুশি করা ও ভবিষ্যতে একটি সাম্প্রদায়িক জাতিরাষ্ট্র গঠনের সূক্ষ্ম পায়তারার বিরুদ্ধে বক্তারা কথা বলেন।
    মানববন্ধনে সংহতি বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায় বলেন, সরকার অন্যায়ভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে পুরো জাতিকে নিয়ে তামাশা করছে। এ অবস্থা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, জেলার সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড এর সভাপতিত্বে উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়ে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের জেলার সদস্য সচিব অঞ্জন দাস, ছাত্র ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলার সহ-সভাপতি আরিফ হোসেন নয়ন, সহ-সাধারণ সম্পাদক শুভ দেব, অর্থ সম্পাদক খাদিজা অন্তরা প্রমুখ।

    নিউইয়র্কে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ফ্রি

    গভর্নর এন্ড্রু কুমো নিউইয়র্ক স্টেট ও সিটির সকল পাবলিক কলেজের টিউশন ফ্রি করার ঘোষণা দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার কুইন্সের লা-গার্ডিয়া কম্যুনিটি কলেজে গভর্নর তার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তার এই ঘোষণার সময় ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স উপস্থিত ছিলেন। স্যান্ডার্স বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। গভর্নর কুমোর এই যুগান্তকারী ঘোষণায় নিউইয়র্কের হাজার হাজার মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবার উপকৃত হবে। বিপুল ব্যয়সাপেক্ষ কলেজ শিক্ষা খরচ বহনে অপারগ এই সব পরিবারগুলোর সন্তানেরা স্কুলের পরই শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে বাধ্য হয়। গভর্নরের এই পদক্ষেপের ফলে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি পরিবারসহ বিত্তহীন পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরা বরাবরই ভালো ফল করে আসছে। কিন্তু তাদের অনেকেরই কলেজ শিক্ষার ব্যয় মিটাতে পড়াশোনার পাশাপাশি জবের সন্ধান করতে হয়। কলেজ শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই স্টুডেন্ট লোন গ্রহণ করে। আর সেই ঋণ পরিশোধে তাদেরকে হিমশিম খেতে হয় জীবন ভর।
    গভর্নরের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই বছর মেয়াদি কম্যুনিটি কলেজসহ নিউইয়র্ক স্টেট অথবা সিটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীরা বিনা ব্যয়ে শিক্ষা লাভের সুবিধা পাবে। তবে সেই সব ছাত্রই ফ্রি টিউশনের সুবিধার আওতায় আসবে যাদের পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার বা তার কম।
    ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নর কুমো লা-গার্ডিয়া কলেজের সমাবেশে এই ঘোষণা দেওয়ার সময় তার পাশে ছিলেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। যিনি দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্রছাত্রীদের ফ্রি টিউশনের দাবি জানিয়ে আসছেন।
    বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, কলেজে লেখাপড়া করতে ছাত্রদের যে পরিমাণ লোন নিতে হয় সেই ঋণের বোঝা টানতে তাদের ভবিষ্যৎ জীবন বরবাদ হয়ে যায়। আমেরিকান তরুণদের সমস্ত ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এই ঋণের কারণে পঙ্গু হয়ে যায়।
    গভর্নর কুমো খুব দ্রুতই তার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে চান। আসন্ন ফল মওসুম থেকে তিন বছর মেয়াদের যে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে তখন থেকেই তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের কথা জানান। তবে তার এ পরিকল্পনা কার্যকর করতে লেজিসলেটিভ অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। স্টেট সিনেট যখন মজুরি বৃদ্ধি ও অন্যান্য ইস্যুতে ভারাক্রান্ত, দুই দলের আইন প্রণেতাদের মধ্যে চলছে নানা বিষয়ে টানাপোড়েন, তখন এটি একটি নতুন বিষয় হিসাবে তাদের সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে।
    গভর্নরের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে কুমো প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, নিউইয়র্কের কলেজগামী ছেলেমেয়ে আছে এমন এক মিলিয়ন পরিবার উপকৃত হবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি হিসাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৩ মিলিয়ন ডলারের মতো। এই হিসাব কিছু কম-বেশি হতে পারে, কারণ হিসাবটি নির্ভর করবে কত ছেলেমেয়ে এই সুবিধার আওতায় আসবে তার ওপর। চার বছর কোর্সের জন্য স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইর্কের (এসইউএনওয়াই-সুনি) বর্তমান টিউশন খরচ ৬ হাজার ৪৭০ ডলার। দুই বছর মেয়াদী কম্যুনিটি কলেজের টিউশন ৪ হাজার ৩৫০ ডলার। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের (সি ইউ এন ওয়াই-কুনি) টিউশনও মোটামুটি একই রকম।
    গভর্নর কুমোর এই পরিকল্পনার নাম দেয়া হয়েছে ‘এক্সেলসিয়র স্কলারশিপ’। এটা এখনও স্পষ্ট নয় যে এই পরিকল্পনার অর্থায়ন কিভাবে হবে। তবে প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে, টিউশন এসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামে ইতোমধ্যেই এক বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষ সম্মান পরীক্ষা শনিবার শুরু

    জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬ সালের দ্বিতীয় বর্ষ অনার্র্র্স পরীক্ষা আগামী ৭ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৯ টা থেকে শুরু হবে। সারাদেশের ৬২১টি কলেজের ২২০টি কেন্দ্রে মোট ২,৮৭,০৫৭ জন পরীক্ষার্থী ৩০টি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে। পরীক্ষা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠানে প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কলেজ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকগণের সহযোগিতা কামনা করেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা বলা হয়।

    ইংলিশ মিডিয়ামের জন্য কেন আলাদা প্রশ্ন নয় : হাইকোর্টের রুল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্রে কেন পরীক্ষা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

    আজ রবিবার এক অভিভাবকের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

    রোববার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী অভিভাবক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আতিকুর রহমান এবং ব্যারিস্টার রেজা মো. সাদেকীন।

    রুলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান, শিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, মেডিকেল অ্যাডুকেশনের পরিচালককে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

    পরে রেজা মো. সাদেকীন জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনে ফলাফলে ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম ও বাংলা মাধ্যমে উত্তীর্ণ শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। তা ছাড়া প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়েই বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য করা হয়। ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাদের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। এই যুক্তিতে আমরা রবিবার রিটটি দায়ের করেছি। আজই আদালত শুনানি অন্তে এই রুল জারি করেন।

    ছাত্রদের উত্ত্যক্তের শিকার দুই নারী শিক্ষক!

    রংপুর : রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে দুই নারী শিক্ষককে উত্ত্যক্তের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে উত্ত্যক্তকারী ছাত্রদের শাস্তির দাবিতে ঘটনার শিকার একজন শিক্ষক প্রক্টর বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন।

    ওই দুই শিক্ষক শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সহকারী প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    শিক্ষকের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রিকশায় ক্যাম্পাসের রাস্তা দিয়ে ওই দুই শিক্ষক হলের দিকে যাচ্ছিলেন। ক্যাফেটেরিয়ার সামনে পৌঁছার পর রাস্তার মাঝ দিয়ে হাঁটতে থাকা কয়েকজন ছাত্রকে পরিচয় দিয়ে রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেন ওই দুই নারী শিক্ষক। এতে ওই ছাত্ররা শিক্ষকদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল মন্তব্য করেন। দুই শিক্ষক কয়েকজন শিক্ষার্থীকে চিনতে পেরেছেন।

    পরে এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রক্টরের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর করা আবেদনে তিন ছাত্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলো- পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র আদনান ও জয় এবং রসায়ন বিভাগের শামীম।

    উত্ত্যক্তের শিকার এক শিক্ষক বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিচয় দেয়ার পরও নারী শিক্ষকের সঙ্গেও যদি এমন আচরণ করা হয় তাহলে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব?’

    এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শাহীনুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছি। তবে বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঘটনা তদন্ত করে দোষী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    রাজধানীর সরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদন শুরু ৩০ নভেম্বর

    রাজধানীর সরকারি স্কুলগুলোতে আগামী বছরের ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে ৩০ নভেম্বর থেকে। আগামী ১২ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা যাবে। অনলাইনেই কেবল ভর্তি ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া হবে। রবিবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো বিদ্যালয় হতে ভর্তি ফরম বিতরণ করা হবে না। অনলাইনে http://gsa.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে ব্রাউজ করে আবেদন করা যাবে। প্রতিটি আবেদনের জন্য টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল ফোন নম্বর থেকে খুদে বার্তার মাধ্যমে ১৫০ টাকা প্রেরণ করতে হবে। ঢাকা মহানগরীর ৩৫টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে এবার তিনটি গ্রুপে ভাগ করে বিভিন্ন শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম করা হবে। কোনো শিক্ষার্থী একই গ্রুপে কেবল একটি বিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবে। মাউশির একজন উপপরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, একজন শিক্ষার্থী চাইলে তিনটি গ্রুপের তিনটি বিদ্যালয়ে আবেদনের সুযোগ পাবে। মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে ২৪ ডিসেম্বর। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্যও শিক্ষার্থী বাছাই হবে ২৪ ডিসেম্বর। আর বিদ্যালয়গুলোকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য লিখিত পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের পরীক্ষা হবে ১৭ ডিসেম্বর, ‘বি’ গ্রুপের ১৮ ডিসেম্বর এবং ‘সি’ গ্রুপের পরীক্ষা হবে ১৯ ডিসেম্বর। ভর্তি পরীক্ষার বিষয়, তারিখ, সময় ও স্থান প্রবেশপত্রে উল্লেখ থাকবে।