• ?????: শিক্ষাঙ্গন

    অষ্টম শ্রেণীর বৃত্তি পেয়েছে ৩০ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী

    image_77583_0_50060২০১৩ সালের অষ্টম শ্রেণীতে ৩০ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৯ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী মেধাবৃত্তি ও ২১ হাজার শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে এই ফলাফল দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) থেকে বৃত্তি ঘোষণা করে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।

    মাউশির অভ্যন্তরীণ মেধাবৃত্তি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বলেন, ২০১৩ সালের জেএসসি পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে বৃহস্পতিবার বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে। জুনিয়র বৃত্তি নীতিমালা অনুযায়ী বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভাতা পাবে।

    আট বোর্ডের মধ্যে যশোরে মেধাবৃত্তি পেয়েছে এক হাজার ১০৯ জন, বরিশালে ৬০৩ জন, ঢাকায় তিন হাজার ৮৬, দিনাজপুরে এক হাজার ৮৬, রাজশাহীতে এক হাজার ২২৩, কুমিল্লায় এক হাজার ২৬৩, চট্টগ্রামে ৭৮১ ও সিলেটে ৬৫১ জন পরীক্ষার্থী। সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে যশোরে দুই হাজার ৩৭৭ জন, বরিশালে এক হাজার ২৯২ জন, ঢাকায় ছয় হাজার ৬১২, দিনাজপুরে দুই হাজার ৩২৪, রাজশাহীতে দুই হাজার ৬২০, কুমিল্লায় দুই হাজার ৭০৬, চট্টগ্রামে এক হাজার ৩৯৫ ও সিলেটে এক হাজার ৩৯৫ জন।

    জেএসসি (জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) ও জেডিসি (জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট) পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বৃত্তি প্রদানের নীতিমালা রয়েছে। জেএসসিতে মেধা কোটায় নয় হাজার ৮০০ ও সাধারণ কোটায় ২১ হাজার ও জেডিসিতে মেধা কোটায় দুই হাজার ও সাধারণ কোটায় চার হাজার বৃত্তি দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয় নীতিমালায়। জেডিসির বৃত্তি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ঘোষণা করে থাকে। মেধা বৃত্তির ক্ষেত্রে প্রতিমাসে ৩০০ টাকা, বার্ষিক এককালীন ৩৭৫ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির ক্ষেত্রে মাসিক ২০০ টাকা, এককালীন ২২৫ টাকা দেয়া হবে। এ বৃত্তির টাকা শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র নবম এবং দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নের সময় পাবে।

    গত ২৯ ডিসেম্বর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল রবিবার প্রকাশ করা হয়। জেএসসিতে পাসের হার ছিলো ৮৯ দশমিক ৭১ ও জেডিসিতে ৯১ দশমিক ১১ শতাংশ। জেএসসিতে ১৩ লাখ ছয় হাজার ৯৭৫ পরীক্ষার্থী পাস করে।

    বৃহস্পতিবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

    HSC_exame_start_49951প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় ঢাকা বোর্ডের বৃহস্পতিবারের এইচএসসি ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে. . পরীক্ষার নতুন তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে বুধবার রাতে বেঙ্গলিনিউজকে এই সংবাদ নিশ্চিত করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বোর্ড ঢাকা -. এর চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম বিস্তারিত আসছে

    ৩য় দিনে শিক্ষকসহ ১১০ জন বহিষ্কার : প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ

    এইচএসসি পরীক্ষার তৃতীয় দিনে গতকাল ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অনুপস্থিতি ও নকলের অভিযোগে বহিষ্কারের সংখ্যা বিগত দু’দিনের চেয়ে বেশি ছিল। ইংরেজি পরীক্ষায় শুধু পরীক্ষার্থীই নয়, পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বরত বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকেরাও বহিষ্কার হয়েছেন। তারা পরীক্ষার্থীদের ইংরেজিতে সহায়তা করছিলেন বলে ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন।
    অনুপস্থিত ছিল ১০ হাজার ৫৯৫ জন পরীক্ষার্থী। আর কেন্দ্রে অসদুপায় অবলম্বেনের দায়ে পরীক্ষার্থী-পরিদর্শকসহ বহিষ্কার হয়েছে ১১০ জন। এর মধ্যে ১০৭ জন পরীক্ষার্থী আর তিনজন পরিদর্শক।
    দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে ইংরেজি প্রথমপত্র, মাদরাসা বোর্ডের আলিমে বাংলা ও কারিগরিতে ইংরেজি প্রথমপত্র অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
    অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে দুই হাজার ৫৮৪ জন, রাজশাহী বোর্ডে এক হাজার ১৭২ জন, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৬৮ জন, যশোর বোর্ডে এক হাজার ৪২৬ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৮৭৬ জন, সিলেট বোর্ডে ৬৩২ জন, বরিশাল বোর্ডে ৪৯৮ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ৬৭৯ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৪৭৭ জন এবং কারিগরি বোর্ডে এক হাজার ১৮৩ জন।
    আর বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ৩০ জন, রাজশাহী বোর্ডে একজন, কুমিল্লা বোর্ডে সাতজন, যশোর বোর্ডে ১১ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে সাতজন, সিলেট বোর্ডে দুইজন, বরিশাল বোর্ডে সর্বোচ্চ ২২ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ছয়জন, মাদরাসা বোর্ডে ১০ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১১ জন।
    এ দিকে পরীক্ষার আগের দিন অর্থাৎ গত সোমবার রাতে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ইংরেজি প্রথমপত্রের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠে। পাশাপাশি ঢাকার কয়েকটি স্থানে অনুরূপ প্রশ্নের ফটোকপি করে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ওই প্রশ্নের সাথে ঢাকা বোর্ডে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ইংরেজি প্রশ্নের প্রায় শতভাগ মিলে গেছে। প্রথম দিন অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্নও ফাঁস হয়েছিল। বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডের নজরে আনা হলে ভিন্ন সেটে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দাবি করেন, তাদের আমলে বিগত পাঁচ বছরে কোনো পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। কোনো কোনো মহল প্রশ্ন ফাঁসের কথা বলে অনৈতিক কাজ ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের অপচেষ্টা করছেন। বাইরে যা পাওয়া যাচ্ছে তা শিক্ষামন্ত্রীর ভাষায় ‘ ভালো ও প্রবীণ শিক্ষকদের সাজেশন’।
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল ইংরেজি প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্র গত দুইদিন আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হতে দেয়া গেছে। এ ছাড়াও মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমেও বিভিন্ন স্থানে বিলি-বণ্টন হয়েছে।
    এ দিকে গতকাল সন্ধ্যায় এ সংবাদ লেখার সময় মোবাইলে ফোন করে আবদুল মুকিত নামে একজন শিক্ষক নয়া দিগন্তকে জানান, গত কয়েক দিন থেকেই প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কোনো সংবাদপত্র এ ব্যাপারে সোচ্চার হচ্ছে না। এটি আরো বেদনাদায়ক।

    রাবিতে ছাত্রলীগের ধর্মঘট প্রত্যাহার

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দের হত্যার প্রতিবাদে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে রাবি ছাত্রলীগ। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন আল তুহিন এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলোচনার পরিপেক্ষিতে রাবি শিবিরের সভাপতি আশরাফুল আলম ইমনকে গ্রেফতার ও ছয় দফা দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে আমরা আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি। যদি আমাদের দাবি মেনে না নেয়া হয়, পরবর্তী আবারো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
    এর আগে ছাত্রলীগের লাগাতার ধর্মঘট থাকার কারণে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগেই কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। সকাল থেকেই সকল রুটের বাস চলাচলও বন্ধ ছিল। ছাত্রলীগ যথারীতি তাদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচিও পালন করেছে।
    ছাত্রলীগের ছয় দফা দাবিগুলো হলো-নিহত ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দের হত্যাকরীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পরিবারের সদস্যদের পূনর্বাসন নিশ্চিত করা, ফারুকসহ বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসী ছাত্রশিবির ক্যাডারদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরসহ সকল মৌলবাদী সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, সকল ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে রাকসু ও অন্যান্য বিভাগীয় সমিতির নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    আনন্দ-উল্লাসে মাতোয়ারা হাজারো গ্র্যাজুয়েট

    1396800681.আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে-/… আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে/বাণ ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!’ অথবা ‘কে রোধিবে জোয়ারের টান গগনে যখন উঠেছে চাঁদ?’ জাতীয় কবি নজরুলের এই কবিতার কথা যেন তত্ত্বেই নয়, বাস্তবেই তাই! সূর্যটার স্নিগ্ধ আলো ভোরের আগমনী বার্তা দেয়ার আগেই যেন ঘুম ভাঙবে ওদের। ওরা কারা? ওরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য সাফল্যের সঙ্গে সমাপন করা হাজারো তরুণ টগবগে তরুণ/তরুণী গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা। উচ্চশিক্ষার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপন শেষে এখন সনদ নেয়ার অধীর অপেক্ষা। আর সে অপেক্ষা শেষ হচ্ছে আজ। আর এই জন্যই সমাবর্তন। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪৮তম সমাবর্তন। এ যেন এক মহাসমারোহ। মহাউল্লাস আর আনন্দ। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল ছিল সমাবর্তন মহড়া অনুষ্ঠান। মহড়ায় হাজারো শিক্ষার্থীর উল্লাস, আহা কি আনন্দ আকাশে-বাতাসে …। এ উৎসব চলছে ক্যাম্পাসব্যাপী। গ্র্যাজুয়েটদের অবিশ্বাস্য আনন্দ-উল্লাস যেন না দেখলে বিশ্বাসই হবে না। ক্যাম্পাসের চারদিকে সাজ সাজ রব। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা গেটে ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। এর মাঝে লেখা আছে স্বাগতম ৪৮তম সমাবর্তন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি ভবনে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলছে শিক্ষা জীবনের সব থেকে বড় সম্মাননা গ্রহণের আয়োজনটার। এই আয়োজনটা যেন শিক্ষার্থীদের জীবনে এক নতুন গতির সূচনা করতে যাচ্ছে।
    এদিকে গতকাল বেলা ১১টায় মহাড়া শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল থেকে ভিসির নেতৃত্বে শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবর্তনস্থলে মহড়া নিয়ে আসেন। হাজারো গ্র্যাজুয়েট করতালি দিয়ে স্বাগত জানালেন তাদের। তাদের কর্তৃপক্ষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানসূচির অনুশীলন করে নিলেন। দুপুর ১২টায় তা শেষ হয়। এরপর গ্র্যাজুয়েটরা ছড়িয়ে পড়েন ক্যাম্পাসের চারদিকে। কেউ ফটোসেশন করছে। বাজছে বংশীবাদকদের ঢাকঢোল। আরও কত কী! সকাল থেকে রাতের প্রথম প্রহর পর্যন্ত যেন তাদের বিরাম নেই। তবে আজ কী যে হবে…।
    সমাবর্তন অনুষ্ঠানসূচি : সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরু হবে বেলা সাড়ে ১১টায়। অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে রয়েছে চ্যান্সেলরের শোভাযাত্রা; জাতীয় সঙ্গীত; চ্যান্সেলর কর্তৃক সমাবর্তন উদ্বোধন ঘোষণা; পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ; সমাবর্তন বক্তা থাকবেন ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক রোল্ফ হুয়ের। এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অধ্যাপক রোল্ফ হুয়েরকে ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি প্রদান করা হবে। পিএইচডি, এমফিল ডিগ্রি দেয়া; স্বর্ণপদক দেয়া; স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেয়া; ভিসির ভাষণ; সমাবর্তন বক্তার ভাষণ, প্রো-ভিসির ধন্যবাদ জ্ঞাপন, চ্যান্সেলরের ভাষণ ও তার সমাপ্তি ঘোষণা। সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী গ্র্যাজুয়েটদের জন্য সমাবর্তনের দিন সকাল সাড়ে ৯টায় খেলার মাঠের সুইমিংপুল সংলগ্ন গেট খুলে দেয়া হবে এবং সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে অবশ্যই তাদের সমাবর্তনস্থলে আসন গ্রহণ করতে হবে। সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ।
    এই সমাবর্তনকে ঘিরে ঢাবির সবুজ চত্বরকে সাজানো হয়েছে নতুন সাজে। নববধূর সাজে সজ্জিত স্মৃতিবিজড়িত প্রাণের ক্যাম্পাস ও পুরনো বন্ধুদের সাথে মিলিত হতে যেন কোন কমতি নেই সনদ প্রার্থীদের মাঝে। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে দীর্ঘদিন পর পুরনো বন্ধুদের একনজর দেখতে পেয়ে একে অপরের সাথে কোলাকুলি, মধুর ক্যান্টিন, ডাস চত্বর আর টিএসসি ও কার্জন হলের মতো জায়গায় আড্ডায় ব্যস্ত ছিল অনেক সনদ প্রার্থীদের।
    ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভবন, স্থাপনা, রাস্তাঘাট সংস্কার ও ধুয়েমুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। আলোকসজ্জা করা হয়েছে ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে। সমাবর্তনের মূল অনুষ্ঠানস্থল করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। স্থাপন করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ।
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আসমা আহমেদ বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন এটি। জীবনে আর এমন মুহূর্ত পাব না। কারণ শিক্ষাজীবন শেষ করে সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠবে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন আলম বলেন, সমাবর্তনের আনন্দে আত্মহারা হয়ে আছি সব বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছি। আবার খারাপও লাগছে কারণ এই প্রিয় ক্যাম্পাস ছেড়ে আমাদের চলে যেতে হবে এই কথাটি যখন মনে হচ্ছে। পদার্থ বিজ্ঞানের মুনমুন বলেন, শিক্ষাজীবনের একটি আনন্দের দিন হলো সমাবর্তন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছ থেকে সনদ পাওয়ার অনুভূতিটা অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের সব থেকে স্মরণীয় দিন হলো তার সমাবর্তনের দিনটা। সমাবর্তন মানেই নতুন-পুরাতনের এক মিলন মেলা। জীবনে ভাল কিছু করার ইঙ্গিত দেয় এই সমাবর্তন। ঢাবির ৪৮তম সমাবর্তনের সকল সনদ প্রার্থীকে জানাচ্ছি শুভেচ্ছা।

    মিথ্যা তথ্যে শিক্ষকরা গিলে খেয়েছেন ৪৬২ কোটি টাকা

    মিথ্যা তথ্য দিয়ে তেত্রিশ বছরে ৪৬২ কোটি ৪২ লাখ ৭২ হাজার ২০ টাকা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা নিয়েছেন ৪৮,১৩০ জন শিক্ষক। কেউ কেউ ৬ বছরের স্থলে টাইম স্কেল নিয়েছেন ৮ বছরের, কেউবা স্কেল বেশি দেখিয়ে, কেউবা স্টাফিং বেতন দেখিয়ে এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর তদন্ত করে বিশাল এ অনিয়ম উদঘাটন করেছে। ১৯৮১ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তদন্ত করে নিরীক্ষা অধিদপ্তর তাদের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের অডিট ও আইন সেলে পাঠিয়েছে। এতে তারা অনিয়ম ও বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলিত সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ বিশাল এ টাকা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি পর্যায়ে সরকারি কোষাগারে ফেরত নেয়ার সুপারিশ করেছে। ওদিকে শিক্ষকদের বিশাল অঙ্কের এ টাকা গিলে খাওয়া নিয়ে তোলপাড় চলছে মন্ত্রণালয়ে। নড়েচড়ে বসেছে মন্ত্রণালয়ের অডিট ও আইন সেল। তারা সংশ্লিষ্ট কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসাগুলোতে চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কোন কোন কলেজে সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন ৭ জন। অথচ তারা ৮ জন সহকারী অধ্যাপক দেখিয়ে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে তা আত্মসাৎ করেছেন। আবার কোন প্রতিষ্ঠান টাইম স্কেল নিয়েছে ৬ বছরের স্থলে ৮ বছর। শিক্ষকরা প্রাপ্যতার অতিরিক্ত এ টাকা হরিলুট করেছে মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানে তারা পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ৩৪৬টি পরিদর্শন প্রতিবেদন পাঠায় অডিট ও আইন সেলে। যাতে বলা হয়েছে, এ দু’মাসে ২৩ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮ টাকা প্রাপ্যতার অতিরিক্ত নিয়েছে শিক্ষকরা। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে হরিলুট হয় ১৫ কোটি, ৬৫ হাজার ৭০৩ টাকা। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে নেয়া হয় ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ টাকা। ২০১০-২০১১ অর্থবছরে শিক্ষকরা গিলে খায় ৭ কোটি ৬২ লাখ ৬১ হাজার ২০০ টাকা। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে নেয়া হয় ১৮ কোটি ৯ লাখ ৪৬ হাজার ২৬৩ টাকা। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে শিক্ষকরা অতিরিক্ত নেন ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৪৪ টাকা। ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৯১ লাখ ৯৮ হাজার ৯১৬ টাকা অতিরিক্ত নেয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকরা। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে নেয়া হয় ৫৭ কোটি ১৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮১৬ টাকা। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে লুটে নেয়া হয় ২৫ কোটি ২৪ লাখ ২ হাজার ৯৩২ টাকা। ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে নেয়া হয় ৩০ কোটি ২২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩০ টাকা। ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে শিক্ষকরা হাতিয়ে নিয়েছেন ৩১ কোটি ৪১ লাখ ৩৮৩২ টাকা। ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে শিক্ষকরা গিলে খান ১৬ কোটি ১৯ লাখ ৯৩ হাজার ৪৮১ টাকা। ২০০১-২০০২ অর্থবছরে লুটপাট হয় ৯ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৫ টাকা। ২০০০-২০০১ অর্থবছরে ৪ কোটি ২০ লাখ ৪ হাজার ২১১ টাকা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা নেন শিক্ষকরা। ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৫ কোটি ৪৮ লাখ ১৯ হাজার ২৪৭ টকা, ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থবছরে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত নেয়া হয় ৪ কোটি ৪০ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪৭ টাকা। ১৯৯৭-১৯৯৮ অর্থবছরে নেয়া হয় ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৩৪ টাকা। ১৯৯৬-১৯৯৭ অর্থবছরে নেয়া হয় ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৯১৮ টাকা। ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে শিক্ষকরা অতিরিক্ত নেন ১১ কোটি ৮২ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৩ টাকা। ১৯৯৪-১৯৯৫ অর্থবছরে নেয়া হয় ৬ কোটি ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৩৫৫ টাকা। ১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থবছরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিক্ষকরা তুলে নেন ১ কোটি ৮১ লাখ ১৪ হাজার ৭৭৯ টাকা। ১৯৯২-১৯৯৩ অর্থবছরে নেয়া হয় ৮৬ লাখ ২৯ হাজার ৬৪০ টাকা। ১৯৯১-১৯৯২ অর্থবছরে শিক্ষকরা তুলে নেন ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫১ হাজার ৬০১ টাকা। ১৯৯০-১৯৯১ অর্থবছরে ৫৫ লাখ ৬৫ হাজার ৩৭০ টাকা প্রাপ্যতার অতিরিক্ত তুলে নেন শিক্ষকরা। ১৯৮৯-১৯৯০ অর্থবছরে তুলে নেয়া হয় ২৩ কোটি ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৩১২ টাকা। ১৯৮৮-১৯৮৯ অর্থবছরে শিক্ষকরা তুলে নেন ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৫ টাকা। ১৯৮৭-১৯৮৮ অর্থবছরে লুটে নেয়া হয় ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫২০ টাকা। ১৯৮৬-১৯৮৭ অর্থবছরে হরিলুট হয় ৫ কোটি ৮৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬১ টাকা। ১৯৮৫-১৯৮৬ অর্থবছরে শিক্ষকরা প্রাপ্যতার অতিরিক্ত তুলে নেন ৫ কোটি ৯৬ লাখ ২১ হাজার ৮৬১ টাকা। ১৯৮৪-১৯৮৫ অর্থবছরে লুটে নেয়া হয় ২ কোটি ২০ লাখ ৫৫ হাজার ৫৯১ টাকা। ১৯৮৩-১৯৮৪ অর্থবছরে নেয়া হয় ২ কোটি ১০ লাখ ৩ হাজার ৩০০ টাকা। ১৯৮২-১৯৮৩ অর্থবছরে অতিরিক্ত তুলে নেয়া হয় ১ কোটি ৩৪ লাখ ২৮ হাজার ৮৫ টাকা। ১৯৮১-১৯৮২ অর্থবছরে নেয়া হয় ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৫৩ টাকা। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এসব ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের অডিট ও আইন সেলে বিশাল এ অঙ্কের টাকা প্রাপ্যতার অতিরিক্ত নেয়ার তথ্য জানিয়ে প্রতিবেদন পাঠায়। প্রতিবেদনে তেত্রিশ বছরে ৪৬২ কোটি ৪২ লাখ ৭২ হাজার ২০ টাকা সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। একইসঙ্গে এসব টাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করা হয়। সূত্র জানিয়েছে, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের চলমন প্রক্রিয়া এটি। তারা দেশের ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে সরকারের কত টাকা অতিরিক্ত নেয়া হয়েছে তা বের করবে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের অডিট ও আইন সেলে প্রতিবেদন আকারে পাঠাবে। অডিট ও আইন সেল এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
    18065_f1

    রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

    বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রোস্তম আলী আকন্দ নামে ছাত্রলীগের এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা তাকে গুলি করেছে তা জানা যায়নি। তবে, হল কমিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্টরা।

    আজ (শুক্রবার) দুপুরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানায়, দুপুরে রোস্তমের কক্ষেই হল ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আসাদুল্যা গালীব এবং ছাত্রলীগ নেতা সেলিম আড্ডা দিচ্ছিল। হল কমিটি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রোস্তম মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজশাহী নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    রুস্তম আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছিলেন তিনি।

    এ ঘটনায় শিবির ক্যাডারদের দায়ী করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ। হত্যার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করে তারা।1dac61d4d75527c2c3e717cdb944220d_XL