• চলতি বছর বিশ্বে ৬৫ সাংবাদিক নিহত - ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি - বুধবার মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করবে হেফাজত - রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে মধ্যস্থতার আহ্বান খালেদা জিয়ার - ‘জাহান্নামে যাওয়ার জন্য তৈরি হোন’, অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকি - ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: ফখরুল - এরশাদের পতন: পর্দার আড়ালে যা ঘটেছিল - ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে তুরস্কে বিক্ষোভ - সাবেক রাষ্ট্রদূত জামানের খোঁজ মেলেনি, নানা রহস্য - বলিউডে পুরুষরা বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে: সোনাক্ষী - 'রসিক নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে' - মৌলভীবাজারে ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের সংর্ঘষে নিহত ২

    ?????: এশিয়া

    রাখাইনে গণকবর খুঁজে পেয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

    মিয়ানমার সেনাবাহিনী সোমবার জানিয়েছে, তারা রাখাইনের একটি গ্রামে একটি গণকবর খুঁজে পেয়েছে। এ ঘটনায় তারা তদন্তও শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী। খবর রয়টার্সের।

    মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লেইং বলেছেন, রাখাইনের রাজধানী সিতয়ে থেকে ৩০ মাইল উত্তরে ইন দিন গ্রামের কবরস্থানে অনেকগুলো মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছে সেনাবাহিনী। ফেসবুকে সেনাবাহিনী একটি বিবৃতি পোস্ট করে তিনি এটি জানিয়েছেন। তবে গণকবরটিতে কতজনের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে সেটি ওই পোস্টে বলা হয়নি।

    মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি তদন্ত শেষ করেছে। তারা বলছে, মানুষকে হত্যা ও মাটিচাপা দেয়া হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত চালানো হয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মিয়াত মিন ওও’র সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
    গেলো ২৫ আগস্ট যখন রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় তখন সেনাবাহিনী অত্যন্ত কঠোর, পরিকল্পিত ও ধ্বংসাত্মক উপায়ে জবাব দেয়া শুরু করে। সেনাবাহিনীর এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

    এবার দিল্লি জামে মসজিদকে মন্দির দাবি বিজেপি নেতার

    বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ার দুর্নাম আজকের নয়। উত্তর প্রদেশের রাজ্যসভার সদস্য বিনয় উত্তপ্ত ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্য পরিচিত।

    সম্প্রতি, দিল্লি জামে মসজিদের স্থানে আগে যমুনা দেবির মন্দির ছিল এমন মন্তব্য করে তিনি যেন ভিমরুলের চাকেই ঢিল মারলেন।

    কাটিয়ার দাবি, ভারতে প্রায় ৬ হাজার স্থান আছে যেগুলো মোঘল শাসকদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। দিল্লি জামে মসজিদ মূলত যমুনা দেবির মন্দির ছিল, তাজমহল যেমন ছিল তেজো মহালয়া।

    ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় এই দাবি করেন বিনয়।

    এর আগেও ভারতের বেশ কিছু আইনপ্রণেতা মুসলমানদের জন্য তাৎপর্যপূণ স্থাপনায় আগে হিন্দুদের পবিত্র স্থাপনা ছিল এমন মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়েছিলেন।

    বিনয় কাটিয়ার সর্বশেষ মন্তব্য যেন সে পালে হাওয়া দিয়েছে। বিশেষ করে বাবরি মসজিদ ধ্বংসযজ্ঞের ২৫ বছর পূর্তির পরদিনই এমন মন্তব্য নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমেও সমালোচনা হয়েছে।

    ভারতের রাজনীতিবিদদের একটি অংশ মুসলিম শাসকদের দ্বারা হিন্দুরা লুণ্ঠনের শিকার হয়েছিল দাবি করে, দখলকৃত বিভিন্ন স্থাপনা উদ্ধারের কথা বলে আসছে। বিনয়ে মন্তব্য এর সবশেষ সংযোজন।

    রাখাইনে ফিরেছে ৫ শতাধিক হিন্দু রোহিঙ্গা

    রাখাইনের সহিংসতা থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া হিন্দু বাসিন্দারা নিজেদের গৃহে ফিরতে শুরু করেছে। ৫ শতাধিক হিন্দু এ পর্যন্ত নিরাপদে নিজেদের এলাকায় ফিরেছে।

    রাখাইনের হিন্দু সম্প্রদায়ের এসব বাসিন্দা রাজ্যটির রাজধানী সিত্তেতে আশ্রয় নিয়েছিল। তারা প্রায় সবাই মংডুতে ফিরে এসেছে। অবশ্য ২১ পরিবারের ৮০ বাসিন্দা এখনো সিত্তের একটি মন্দিরে আশ্রয় নিয়ে আছে। রাখাইন রাজ্য সরকারের অনুরোধে হিন্দুরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে এসেছে।

    স্থানীয় হিন্দু নেতা নি ম বলেন, যাদের বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে, তাদের আপাতত মংডু জেলা পরিষদ ভবনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার তাদের চাল, তেল, নুডলস এবং লবণ সরবরাহ করছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘তবে ভয়ে এখনো মানুষ তাদের বসতভিটায় ফিরতে চাইছে না। তারা সরকারের কাছে নিরাপত্তার জন্য আবেদন করেছে।’

    ম্যাগ হ্লা নামের স্থানীয় এক হিন্দু নেতা বলেন, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় হিন্দুদের ফিরে আসার জন্য রাখাইন সরকারই অনুরোধ জানিয়েছে। স্থানীয় সরকার হিন্দুদের জন্য খাদ্য, আশ্রয় এবং নিরাপত্তাদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    হ্লা বলেন, ‘তবে আপাতত ভয়ে তারা তাদের আসল বাড়িতে ফিরতে চাইছে না। এদের অনেকেই মুসলিমদের প্রতিবেশী। মূল সমস্যা নিরাপত্তা।’

    রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর নিরাপত্তা অভিযানের পর মংডুতে বসবাসরত হিন্দু রোহিঙ্গাদের অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রাজধানী সিত্তে চলে যায়। সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে মুসলিম রোহিঙ্গারা।

    চলতি বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৬ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। আগে থেকেই দেশে ছিল আরো ৩ লাখ। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যরা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসে তারা।

    মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দাবি, রাখাইনে অন্যায় কিছু করেনি তারা। অবশ্য জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এছাড়া মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ‘মিয়ানমারে গণহত্যার বিষয় উড়িয়ে দেয়া যায় না’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    আফগানিস্তানে আরও সামরিক ঘাঁটি তৈরি করবে আমেরিকা?

    আফগানিস্তানে আরো সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে আমেরিকা। পাকিস্তানের সংবাদ সংস্থা পাকট্রিবিউন জানিয়েছে, আমেরিকার একটি জাহাজ নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে করাচি বন্দরে ভিড়েছে। সেখান থেকে ওই সব সামগ্রী আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হবে।

    আমেরিকার সেনাবাহিনী এসব সামগ্রী নিয়ে এসেছে বলে সাংবাদিকরা জানতে পেরেছেন। জাহাজে করে আনা নির্মাণ সামগ্রীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানে এমন সব সামগ্রী রয়েছে যেগুলো সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

    আফগানিস্তানে এর আগেও সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে আমেরিকা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাগরাম বিমান ঘাঁটি এবং কান্দাহার ঘাঁটি। এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে বহু নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে মার্কিন বাহিনী।

    আফগানিস্তানে বর্তমানে আমেরিকার ১৫ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আফগানিস্তানে চলমান সংঘর্ষ ও অনিরাপত্তার পেছনে রয়েছে এসব মার্কিন সেনা।

    রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সংলাপেই হবে: চীন

    রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সংলাপের মাধ্যমে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সফররত চীনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের আদর্শিক অবস্থান হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শান্তি বজায় রাখা। চীন মনে করে সংলাপই হলো রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র শান্তিপূর্ণ সমাধান। সম্প্রতি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে দেশটি যে নীতি ও পরিকল্পনা নিয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করতেই চীনের সহকারী মন্ত্রী ইয়াজুন বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এসব কথা জানান।
    চীনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুনের কাছে জানতে চাওয়া হয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের অবস্থান কি। এর জবাবে ওয়াং ইয়াজুন বললেন, চীন প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শান্তি দেখতে চায়। তিনি আরো বলেন, চীন সরকার বিশ্বাস করে সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশে শান্তি বজায় থাকা।
    চীন মনে করে ভালো এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী পাওয়া একটা দেশের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। চীন সব সময়ই সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে যেন প্রতিবেশী দেশে শান্তির পরিবেশ বিরাজ করে।

    সেনাবাহিনীর গণধর্ষণ ও যৌন হামলার শিকার রোহিঙ্গা নারীরা

    মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও তাদের ওপর অন্যান্য যৌন সহিংসতা চালিয়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সরকারি বাহিনী ও তাদের মদদপুষ্ট উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের দ্বারা এসব অপরাধ সংঘটিত হয়। উদং মংডু এলাকার কলিম উল্লাহর স্ত্রী নুর জাহান (২৮), নুরুস সালামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (২০), রাজারবিল মংডু এলাকার হাজেরা খাতুন (১৮), মংডু হাইচ্ছুরতা এলাকার দিলদার বেগম (৩৩), তার মেয়ে ফাতেমা বেগম (১৪), চানছি মিঙ্গিজী পাড়া বুচিডং এলাকার ছমিরাসহ (২৫) অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
    তারা আরো জানান, রাখাইনে মংডু জেলার প্রতিটি গ্রামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড পুলিশ ও বৌদ্ধ যুবকেরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, আগ্রাসিভাবে দেহ তল্লাশি ও যৌন হামলায় অংশ নেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্যরা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে হামলা চালিয়েছেন। বন্দুকের নলের মুখেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
    তারা জানিয়েছেন- প্রথমে সেনাবাহিনী তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। এরপর ছেলে ও মেয়েদের আলাদা রাখা হয়। সেনাবাহিনী কখনো গুলি চালাতো, নারী বিশেষকরে তরুণীদের ধর্ষণ করত।
    ২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা তরুণী আয়েশা বলেন, ‘সেনাবাহিনী নারীদের এক জায়গায় জড়ো করে বাঁশের লাঠি ও বুট দিয়ে মারধর করে। এরপর আমাকেসহ আমার বয়সী ১৫ জনকে আলাদা জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর একের পর এক আমাদের ওপর নির্যাতন চলে।’
    নুরে জান্নাত নামের ৪০ বছর বয়সী এক নারী বলেন- ‘২০ জন সৈনিক আমাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। এরপর আমাকে ও আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। তারা আমাকে একটি বাড়ির আঙ্গিনায় নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় দুই সৈনিক আমার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছিল। এরা আমার স্বামীকে আমার চোখের সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে।’
    রাখাইনে নৃতত্ত্ব ও ধর্মের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ওপর পদ্ধতিগত হামলা হয়েছে বলে নতুন প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উঠে এসেছে। মানবাধিকার ও সুশীল সমাজ বলছে, নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা চালানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ও বিকৃত ইতিহাস রয়েছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো লোমহর্ষক হামলা বর্বরতার নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।
    এখনো গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গারা আসছে
    মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্মূলে এখনো বাড়িঘরে আগুন, নারীদের ধর্ষণ ও নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। বুলেটের আঘাত থেকে শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়া হচ্ছে না। বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
    জানা গেছে- আরাকান রাজ্যের মংডুর পরিতিবিল, রাজারবাড়ি, সাববাজার, টংবাজার, বুচিডংসহ প্রতিটি পাড়া আগুনে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় মগরা সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে মংডুর রাখাইন রাজ্যের গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিচ্ছে। নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই বাংলাদেশ সীমান্তে বাড়ছে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবি রোহিঙ্গাদের ফের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আবাসস্থলে ফিরলে বার্মিজ সেনাদের গুলি খেয়ে মরতে হবে- এই ভয়ে সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করতে হয়েছে শত শত রোহিঙ্গাকে।
    অবশেষে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের অনুমতি পেয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেয় বিজিবি। গত ১৯ নভেম্বর উখিয়া আন্জুমান পাড়া সীমান্ত দিয়ে আবারো শত শত রোহিঙ্গা প্রবেশ করে। দীর্ঘ ২ মাস ২৫ দিন ধরে এই বর্বর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ শাহ আলম (৫২) এ প্রতিবেদককে এসব তথ্য জানান।
    কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মিয়ানমারে সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ শত শত রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এমএসএফ হাসপাতালের দায়িত্বরত গোলাম আকবর জানান, মিয়ানমারের গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা পুরুষ, ধর্ষিতা নারীসহ আগুনে পুড়ে যাওয়ার ক্ষত নিয়ে অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
    সীমান্তের ওপারে সহিংসতা শুরুর পর থেকে প্রতিনিয়ত গুরুতর আহত, গুলিবিদ্ধ, আগুনে ঝলছে যাওয়া রোহিঙ্গাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার ও চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরই মধ্যে মিয়ানমারের মংডু থানার দিয়াতলী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে জোনায়েদ (১৫) একই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে জয়নাত উল্লাহ ও হোসেন আহম্মদের ছেলে খালেক হোসেন (২৭) এবং আগুনে পুড়া নুরুল আলম চিকিৎসা শেষে ক্যাম্পে ফিরেছেন।
    সরেজমিন থাইংখালী ময়নাঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে ১৫ বছরের শিশু জোনায়েদের সাথে কথা হয়। সে জানায়, চিকিৎসা নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে আসলেও মাথায় এখনো প্রচণ্ড ব্যাথা হয়। জোনায়েদের মতো অসংখ্য শিশু মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে ক্যাম্পে অবস্থান করছে। আবার কেউ কেউ ক্যাম্পে আসার পর মারাও গেছে বলে জানা গেছে।
    রোহিঙ্গা শিশু শফিকার গল্প
    মিয়ানমার সেনা ও উগ্রপন্থি রাখাইনদের নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা ১১ বছরের শিশু শফিকার জীবন চলছে অনিশ্চয়তায়। যে বয়সে মা বাবার আদরে বই-খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে সে ছুটছে এই ক্যাম্প থেকে ওই ক্যাম্পে। পথে দেখা ও কথা হয় এ প্রতিবেদকের সাথে।
    কোথায় যাওয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে শিশুটি মায়াবী কন্ঠে জানায়- ‘বাবাকে হারিয়ে মাকে নিয়ে এপারে এসেছি। থাইংখালী ক্যাম্পে খালার বাসায় মাকে রেখে এসেছি। থাকার মতো একটি নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের খোঁজে বেরিয়েছি।’
    বাবার অনুপস্থিতিতে শফিকার চিন্তা অসুস্থ মাকে নিয়ে। খাদ্য, বাসস্থান আর জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছে সে। মা ছাড়া তার পরিবারে আরো তিন ভাই বোন আছে। সে সকলের বড়। পরিবারের ‘প্রধান দায়িত্বে’ থেকে শফিকার সাহসী পথ চলার প্রথম যাত্রায় সামান্য শরিক হয়ে পথ দেখিয়ে দিলাম।
    শফিকার সাথে কলা বলে জানা গেছে- রাখাইনের বুচিডং মিঙ্গিজী পাড়া এলাকায় তাদের সহায়-সম্পদ ছিল। পুকুর ভরা মাছ আর গোয়াল ভরা ধান ছিল। সাজানো সুখী পরিবারে বেশ ভালোই কাটছিল তাদের। মিয়ানমারের সেনা-পুলিশের গুলিতে মারা যায় শফিকার বাবা সোলাইমান। বাবা নিহত হওয়ার পর শফিকার মা সেতারা বেগম বুকের ধন চার সন্তানকে নিয়ে কিছুদিন আগে চলে আসে বাংলাদেশে।
    শফিকা জানায়- মা ও ছোট ভাই বোনদের দেখাশোনা করতে হয় তাকে। খালারা ক্যাম্পে যে পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পায় তা দিয়ে তাদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়, তার ওপর আমরা। তাই ক্যাম্পে নাম লেখাতে যাচ্ছে সে।
    সরকার এখন পর্যন্ত এতিম ও অভিভাবকহীন প্রায় একুশ শ রোহিঙ্গা শিশুকে সনাক্ত করেছে। এসব শিশুদের কারো হয়তো বাবা নেই, কারো মা নেই। আবার কারো মা-বাবা দুজনই নেই। অনেক শিশু আছে যাদের বাবা-মা থাকলেও সীমান্তের ওপারে কিংবা এপারে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এসব শিশুদের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এনে তাদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।

    রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে শিগগিরই চুক্তি : সু চি

    রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে শিগগিরই চুক্তি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারপ্রধান অং সান সু চি।

    মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে চলমান এশিয়া-ইউরোপ মিটিংয়ের (আসেম) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন শেষে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির কথা জানিয়েছেন তিনি।

    সু চি বলেন, এ সপ্তাহে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শেষে গত তিন মাসে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের ‘নিরাপদ ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রত্যাবাসনের’ বিষয়ে চুক্তি হবে।

    গত আগস্ট মাসে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের মুখে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর আউটপোস্টে সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন শুরু করে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় উগ্রবাদী বৌদ্ধরা।

    জাতিসংঘসহ অধিকার রক্ষায় কাজ করা অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গ্রুপ এবং পশ্চিমা দেশগুলো রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানের তীব্র নিন্দা করেছে এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

    আসেম সম্মেলনের সমাপনী দিনে এক বৈঠক শেষে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি হয়েছে কি হয়নি, তা আমরা বলতে পারি না। সরকারের দায়িত্বের জায়গা থেকে আমরা নিশ্চিত করছি, এমনটি আর হবে না।’

    শান্তিতে নোবেলজয়ী ও প্রধানমন্ত্রীর সমমর্যাদায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা সু চির দলের নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারের মেয়াদে দেশটির জেনারেলরা সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনীর ওপর সু চির নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যে নীরব থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়েন সু চি। অবশ্য নীরবতা ভেঙে কথা বললেও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

    মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, বুধবার- বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিয়ানমারের বৈঠক হবে। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারে ফিরতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের আবেদনপত্র কী প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে সে বিষয়ে গত মাস থেকে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    তিনি বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি এর ফলে একটি চুক্তি (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এমওইউ) খুবই শিগগিরই স্বাক্ষরিত হবে। আর এর মাধ্যমে যারা সীমান্ত পার হয়ে গেছে, তাদের সবাইকে নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।’

    তবে এবারও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি সু চি। সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের এই নৃতাত্ত্বিক পরিচয়সূচক নাম ব্যবহার করে না মিয়ানমার। তা ছাড়া মিয়ানমারের নৃগোষ্ঠীগুলোর তালিকায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে রাখা হয়নি।

    রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোকই ‘রাষ্ট্রহীন’। মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা তাদের অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী মনে করে, যদিও এর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

    শেখ হাসিনা, সিনহা’র প্রসঙ্গ টেনে নওয়াজ কন্যা’র টুইট

    পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার উদাহরণ টেনেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের কন্যা মরিয়ম নওয়াজ শরীফ। বেশ কয়েকটি টুইট বার্তায় তিনি বাংলাদেশের বিচার বিভাগে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টানায় নিজের দেশকে ছোট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বলেন, এভাবেই অন্য দেশ আপনাদের বিচার বিভাগকে দেখছে। একটি খারাপ সিদ্ধান্ত ন্যায় বিচারের সব সুনাম ক্ষুন্ন করে। মরিয়ম তার একটি টুইট বার্তায় টেলিভিশনে দেখানো শেখ হাসিনার একটি ছবিও যুক্ত করে দেন। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে দুর্নীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে অযোগ্য ঘোষণা করে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। এরপরই পদত্যাগ করেন নওয়াজ শরীফ। বর্তমানে দুর্নীতির দায়ে বিচারের মুখোমুখি পুরো নওয়াজ পরিবার। সম্প্রতি আপিল বিভাগে এক শুনানিতে পাকিস্তানের বিচার বিভাগের উদাহরণ টানেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। তার এই বক্তব্যের পরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এস কে সিনহার নাম উল্লেখ না করে সমালোচনা করে বলেন, তার পদত্যাগ করা উচিত। পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করা সবচেয়ে অপমানজনক বিষয়। এটি সহ্য করা হবে না। ষোড়শ সংশোধনীকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে ছুটিতে যান সাবেক প্রধান বিচারপতি। এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির পুরোনো অভিযোগ সামনে আনা হয়। শেষ পর্যন্ত ছুটিতে থাকা অবস্থাতেই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান এস কে সিনহা।

    জেনেভায় বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে জাপান

    সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটিতে (থার্ড কমিটি) ভোটাভুটির পর এবার সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মানবাধিকার কাউন্সিলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রেজুলেশন (প্রস্তাব) আসছে। ৪৭ সদস্যের ওই কাউন্সিলে ভোটাভুটি হবে আগামী মাসের শুরুতে। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সমপ্রদায়কে জাতিগতভাবে নিধনে গণহত্যা, গণধর্ষণ এবং বাছবিচারহীন নির্যাতনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে (কান্ট্রি স্পেসিফিক) রেজুলেশন আনতে ১৬ সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন। রেজুলেশনটি পাস হতে হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জেনেভাস্থ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে প্রস্তাবিত রেজুলেশনের পক্ষে এরইমধ্যে বাংলাদেশ ৩০টি দেশের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জাপান।
    থার্ড কমিটির বৈঠকে জাপান ভোট না দিলেও ঢাকা সফরকারী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কুনো জেনেভার ভোটাভুটিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রস্তাবের পক্ষে টোকিওর সমর্থন থাকবে বলে নিশ্চিত করে গেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে গতকাল সকালে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, জাপান বাংলাদেশের কেবল দুর্দিনের বন্ধুই নয়, স্বাধীনতার পর থেকে অব্যাহতভাবে দেশের উন্নয়নে টোকিও সহায়তা দিয়ে আসছে। আগামী দিনেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় জাপান বাংলাদেশের পাশে থাকছে বলে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে আলোচনায় মন্ত্রী তারো কুনো বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
    ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট প্রশ্নে আগামী মাসটি বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্লিনারি সেশন বসছে। সেখানে থার্ড কমিটিতে পাস হওয়া প্রস্তাবটি ফের পাস করাতে হবে। সেখানে ১৯৩ রাষ্ট্রের ওপেন ভোট হবে। বাংলাদেশ চেষ্টা করছে থার্ড কমিটিতে ১৩৫-১০ ভোটে যেভাবে রেজুলেশনটি পাস হয়েছে প্লিনারি সেশনে তারচেয়ে বেশি ভোট আদায়ে। এ জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের কাছে ধরনা দিচ্ছে। মিয়ানমারও একইভাবে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট বাড়ানোর চেষ্টায় থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ওই ভোটিং প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে এমন অন্তত ৩ জন দেশীয় কূটনীতিক গতকাল মানবজমিনকে বলেন, থার্ড কমিটির পর প্লিনারি সেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থার্ড কমিটিতে কেউ সরাসরি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সেই সংখ্যা ১৩৫। রেজুলেশনের বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ১০। ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছে ২৬টি দেশ। ২২টি দেশ অনুপস্থিত ছিল। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে গৃহীত ওই প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি সরজমিন পরিদর্শনের জন্য মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি তথ্যানুসন্ধানী দল প্রেরণ এবং মিয়ানমার প্রশ্নে একজন বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও বন্ধু কয়েকটি দেশের সমর্থন না পাওয়ায় ঢাকার মিয়ানমার নীতি বা কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রস্তাবে যে ১০টি দেশ সরাসরি বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাশিয়া এবং চীন। আর ঐতিহাসিক বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারত ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছে। রোহিঙ্গা সংকটের মতো এ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ওই ৩ দেশসহ বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়ে আসছে। ভোটাভুটিতে অবাক করা কাণ্ড হলো সার্কভুক্ত দেশ নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানও বাংলাদেশকে ভোট দেয়নি। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছে। ওই দেশগুলো যেকোনো সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকে। থার্ড কমিটির বৈঠকে ‘মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শিরোনামে ৫৮ মুসলিম রাষ্ট্রের জোট ওআইসি উত্থাপিত প্রস্তাবটি বিপুল ভোটের ব্যবধানে পাস হলেও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিশেষ করে ভারত, রাশিয়া, চীন ও সার্কভুক্ত (পাকিস্তান ও মালদ্বীপ অবশ্য পক্ষে ভোট দিয়েছে) দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে ব্যর্থতাকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অবশ্য সেগুনবাগিচা এ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া ১৩৫টি দেশ এমনি এমনি প্রস্তাবটি পাসের পক্ষে ভোট দেয়নি।

    কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৬ সন্ত্রাসী নিহত

    ভারতের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের বান্দিপোরা জেলায় সাঁড়াশি অভিযানে লস্কর-ই-তৈয়্যবার দুই কমান্ডার এবং মুম্বাই হামলার পরিকল্পনাকারী জাকিউর রহমান লাকভির ভাতিজাসহ ছয় সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের জ্যেষ্ঠ এক পুলিশ কর্মকর্তা।

    এনডিটিভির খবরে বলা হয়, যৌথ এ অভিযানে অংশ নেওয়া বিমানবাহিনীর একজন কমান্ডো নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এক সেনাসদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই অভিযানকে ‘বিশাল সাফল্য’ দাবি করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) শেশ পাল বাইদ বলেন, ‘আজ (শনিবার) পরাস্ত করা সন্ত্রাসীদের সবাই পাকিস্তানি।’

    চলতি বছর কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১৭০ জনের মতো সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

    শনিবারের অভিযানে নিহত ওয়াইদ শুধু লস্কর কমান্ডার লাকভির ভাতিজা নন, তিনি একই সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবদুল রহমান মাক্কির ছেলে। নিহত দুই লস্কর কমান্ডার হলেন জারগাম ও মেহমুদ বাঈ।

    অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনীর শাখা রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশের সদস্যরা। তারা বান্দিপোরা জেলার হাজিন এলাকার চণ্ডিরগির গ্রাম ঘিরে এই অভিযান চালায়।