• ?????: Big Slider

    জনসনের পাউডারে ক্যান্সার : ৪৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

    নিউইয়র্ক, ১৩ জুলাই- মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের পণ্য ব্যবহারের কারণে ওভারিয়ান ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগকারী ২২ নারীকে ৪৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

    জনসনের ট্যালকম পাউডার ব্যবহারে ওভারিয়ান ক্যান্সার শরীরে বাসা বেঁধেছে; এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই ২২ নারীকে প্রাথমিকভাবে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে জনসন অ্যান্ড জনসনকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের আদালত। এছাড়াও আরো ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার দিতে হবে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে।

    প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে দায়ের হওয়া আরো অন্তত ৯ হাজার অভিযোগ আদালতে ঝুলছে। এর মধ্যে শিশুদের জন্য জনসনের তৈরি পাউডারের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। জনসন অ্যান্ড জনসন বলছে, তারা আদালতের এই রায়ে গভীরভাবে হতাশ এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে।

    আদালতে গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা শুনানিতে ওই নারীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, কয়েক দশক ধরে জনসনের বেবি পাউডার ও ট্যালকম পণ্যসামগ্রী ব্যবহারের কারণে তাদের শরীরে ওভারিয়ান ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়েছে।

    নারীদের আইনজীবীরা বলেছেন, জনসনের ট্যালকম পণ্য যে ১৯৭০ সাল থেকেই দূষিত সেটি কোম্পানি অবগত আছে; কিন্তু এরপরও তারা পণ্য ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সাবধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    ট্যালকম পাউডার তৈরির প্রধান উপাদান ট্যালক, যার রাসায়নিক নাম ম্যাগনেসিয়াম সিলিকেট; এটি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে নরম খনিজ পদার্থ। উইকিপিডিয়া বলছে, এতে রয়েছে অ্যাসবেস্টস; অ্যাসবেস্টস হল প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত ছয় সিলিকেট খনিজের একটি সেট। যা তার সুবিধাজনক প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যর কারণে বাণিজিকভাবে ব্যবহৃত হয়। রেশম ও পশমের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এই খনিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনেক মিল দেখা যায়।

    অ্যাসবেস্টস আঁশের দীর্ঘায়িত শ্বসন ফুসফুসের ক্যান্সার, মেসোথেলিয়মা, এবং অ্যাসবেস্টস এর মত গুরুতর অসুস্থতার সৃষ্টি করতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অ্যাসবেস্টসের সকল প্রকার নিষ্কাশন, উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

    জনসন অ্যান্ড জনসন তাদের পণ্যে অ্যাসবেস্টস থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের পণ্য ব্যবহারে ক্যান্সার হওয়ার শঙ্কা নেই। প্রতিষ্ঠানটি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে জানিয়ে বলছে, কারণ তারা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ওই পাউডার তৈরি করছে।

    জনসনের আইনজীবী বলেন, বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে তাদের ট্যালকম পাউডার নিরাপদ এবং পণ্যে ক্যান্সার ছড়ানোর মত ক্ষতিকারক কোনো উপাদান নেই। একই সঙ্গে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া অন্যায্য বলেও দাবি করেছে মার্কিন এই বহুজাতিক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান।

    এদিকে, ২০০৯ ও ২০১০ সালে মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জনসন অ্যান্ড জনসন-সহ আরো বেশ কয়েকটি কোম্পানির পাউডারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালায়। পরে এই পরীক্ষায় জনসনের পাউডারে অ্যাসবেস্টস পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়।

    আদালতকে আইনজীবীরা বলেন, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করে পরীক্ষা চালিয়েছে।

    আদালতের কাছে নারীদের অভিযোগের পক্ষে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ওভারিয়ান ক্যান্সারবিষয়ক দাতব্য সংস্থা ওভাকাম। সংস্থাটি বলছে, নারীদের যৌনাঙ্গে ট্যালকম পাউডার ব্যবহারের কারণে ওভারিয়ান ক্যান্সার তৈরির ঝুঁকি রয়েছে বলে তারা বেশ কয়েক বছর উদ্বেগ প্রকাশ করে এসেছে। তবে তাদের এই শঙ্কা গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি এবং এ বিষয়ে আরো গবেষণা প্রয়োজন।

    জনসন এ অভিযোগে এখন পর্যন্ত যতগুলো মামলার মুখোমুখি হয়েছে তার মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ পেলো।

    এর আগে গত বছর একই ধরনের অভিযোগকারী এক নারীকে চারশ ১৭ মিলিয়ন (৪১ কোটি ৭০ লাখ) ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় মার্কিন এই বহুজাতিক কোম্পানিকে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত এ নির্দেশ দেন। তবে বেশ কয়েটি মামলায় আপিলের রায় জনসনের পক্ষে যায়।

    সিলেটে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেবে জামায়াত: ফখরুল

    সিলেট সিটি নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জামায়াতে ইসলামী ২০ দলের প্রার্থী হিসেবে আরিফুল ইসলামকে সমর্থন করবে। তারা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের ২০ দলীয় জোটের মধ্যে কোনও বিবেধ নেই। সিলেট সিটিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে, এটি নিয়ে ঐক্য নষ্ট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি জাতীয় নর্বাচনের কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমরা আশা করি সিলেটে জামায়াত বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। আমাদের ঐক্য অটুট থাকবে।’

    শনিবার (১৪ জুলাই) বিকেলে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজ জোটের বৈঠকে সিলেটে মেয়র নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে এখনও তাদের প্রার্থী আছে। আমরা বসে নেই এখনও তাদের সাথে আলোচনা চলছে। জামায়াতের মোবারক হোসাইন বৈঠকে ছিলেন তার সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নেই। তিনি আমাদের অনুরোধটি তার দলের নেতাদের অবহিত করবেন। তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিই সিদ্ধান্ত হবে।’

    নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিএনপিসহ জোটের নেতারা জামায়াত ইসলামকে অনুরোধ করেছি গণতন্ত্র, ঐক্য ও জাতির স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়ার। আমরা আশা করবো জোটের প্রার্থীর বিজয় ও ঐক্যের কথা বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। কারণ রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে পারিনা। আমরা আশা করবো সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। জোটের ঐক্য ও বিজয়ের কথা চিন্তা করে জামায়তকে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

    জোটের বৈঠকে জোটের শরিক জাতীয় পার্টির কাজী জাফরের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের স্ত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলীর গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ জানিয়েছে ২০ দল। জোট এসব হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। ওইসময় সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশের নিশ্চুপ থাকার বিষয়ে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামির কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন ভূইয়া, বিজেপি আন্দালিব রহমান পার্থ, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমদ, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবীব লিঙ্কন, লেবার পার্টির একাংশের সভাপতি ড.ডা.মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব গোলাম আজগর ও জমিয়ত উলা আল ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ।

    বিশ্বকাপ ফাইনালে আজ মুখোমুখি ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া

    ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো চলতি রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। আজ রোববার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। ইতোমধ্যে নিজেদের খেলায় যেমন সবার মন কেড়েছে ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড়েরা তেমনি নিজের রূপের দ্যুতিতে সবার নজর কেড়েছেন দেশটির নারী প্রেসিডেন্ট মালিন্ডা গ্রাবার কিতারোভিচ। আজকের ফাইনালে তাই লড়াই হয়ে যেতে পারে ম্যাকরনের তারুণ্যের সঙ্গে মালিন্ডার রূপের। আজকের ফাইনাল স্টেডিয়ামে বসেই দেখবেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট। তবে তারা কতটা কাছাকাছি আসবেন তা এখনও জানা যায়নি।

    নিজের দীর্ঘদিনের সফল রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তো বটেই বর্তমান সময়ে নিজের রূপ মুগ্ধতায় আলোচনায় আছেন ৫০ বছর বয়সী ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তবে ম্যাকরনও একেবারে কম যান। নারীকে মুগ্ধ করায় ম্যাকরনের পারদর্শিতা জগত খ্যাত।

    ম্যাকরনের বর্তমান স্ত্রী ব্রিজিট থকনেজ ম্যাকরনের থেকে ২৪ বছরের বড়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে হাইস্কুলে পড়ার সময় ব্রিজিটকে দেখেন ম্যাকরন। তারই স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন তখনকার ৩৯ বছর বয়সী ব্রিজিট। আর সেই থেকেই ১৮ বছর বয়স থেকে ডেটিং শুরু করেন ইমানুয়েল ম্যাকরন।

    ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্টও অবশ্য ম্যাকরনের থেকে ১০ বছরের বড়। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন সুপুরুষ হিসেবে খ্যাতি আছে ম্যাকরনের। বিশ্বকাপের মঞ্চে যদি কয়েক মুহুর্তের সাক্ষাতও হয় এই দুই রাষ্ট্র প্রধানের তাহলে ম্যাকরনের পৌরুষ আর কোলিন্ডার কোমলতার মধ্যে এক ঠান্ডা নীরব যুদ্ধ বেধেও যেতে পারে। আর যদি বেঁধেই যায় তাহলে জিতবে কে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

    সৌদি আরবে রাজপ্রসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ!

    সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ব্যালিস্টিক মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) নিক্ষেপ করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। আজ মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি আল আরাবিয়ার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, রিয়াদে আল ইয়ামামা রাজপ্রসাদ লক্ষ্য করে ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।

    রিয়াদের একাধিক ব্যক্তি জানান, তাঁরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ধোঁয়ার ছবিও প্রকাশ করা হয়। তবে ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ করেছে সৌদি আরবের বিমান বাহিনী।

    হুতি বিদ্রোহীদের টিভি আল মাসিরাহ জানিয়েছে, তাঁদের যোদ্ধারা ইয়ামামা রাজপ্রসাদ লক্ষ্য করে ‘বুরকান ২’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

    দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, রিয়াদের ওই রাজপ্রসাদে সৌদি নেতাদের বৈঠক ছিল। রাজপ্রসাদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম টুইটারে জানিয়েছেন, রাজপ্রাসাদে সৌদি নেতাদের বৈঠক লক্ষ্য করে ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয়।

    রাখাইনে গণকবর খুঁজে পেয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

    মিয়ানমার সেনাবাহিনী সোমবার জানিয়েছে, তারা রাখাইনের একটি গ্রামে একটি গণকবর খুঁজে পেয়েছে। এ ঘটনায় তারা তদন্তও শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী। খবর রয়টার্সের।

    মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লেইং বলেছেন, রাখাইনের রাজধানী সিতয়ে থেকে ৩০ মাইল উত্তরে ইন দিন গ্রামের কবরস্থানে অনেকগুলো মৃতদেহ খুঁজে পেয়েছে সেনাবাহিনী। ফেসবুকে সেনাবাহিনী একটি বিবৃতি পোস্ট করে তিনি এটি জানিয়েছেন। তবে গণকবরটিতে কতজনের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গেছে সেটি ওই পোস্টে বলা হয়নি।

    মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি তদন্ত শেষ করেছে। তারা বলছে, মানুষকে হত্যা ও মাটিচাপা দেয়া হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত চালানো হয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মিয়াত মিন ওও’র সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
    গেলো ২৫ আগস্ট যখন রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় তখন সেনাবাহিনী অত্যন্ত কঠোর, পরিকল্পিত ও ধ্বংসাত্মক উপায়ে জবাব দেয়া শুরু করে। সেনাবাহিনীর এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

    বুধবার মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করবে হেফাজত

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানাবে হেফাজতে ইসলাম। আগামী বুধবার বেলা ১১টায় দূতাবাস ঘেরাও করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতা নূর হোসেন কাসেমি।

    শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের ভেতরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

    কাসেমি বলেন, যতদিন পর্যন্ত রাজধানীর (জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতি) এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হবে, আমাদের সংগ্রাম চলবেই। আপনারা বুধবারের কর্মসূচি সফল করে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থনকারী আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

    বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে তারা একটি মিছিল করে এবং মোনাজাত করে। এদিকে একই দাবিতে সড়ক বন্ধ করে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিশ।

    দুপুর পৌনে ২টা থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় ব্যারিকেড দিয়ে বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেটের বাইরে দুই পাশের সড়কে অবস্থান নিয়েছে তারা। দুই সড়কের অভিমুখে বেরিকেড দিয়ে সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। মিছিল নিয়ে তাদের বাইতুল মোকাররম সড়কের বাইরে যেতে দেয়া হবে না।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসেডিন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এক কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, পবিত্র মসজিদুল আকসাকে ঘিরে গড়ে ওঠা জেরুজালেম নগরীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসেডিন্ট অন্যায়ভাবে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছে। তার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ব মুসলিম নেতারা ও জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    তারা বলেন, জেরুজালেম শুধু ফিলিস্তিনি মুসলমানদের নয়, গোটা মুসলিম উম্মাহর। ইসলামের প্রথম কেবলা বায়তুল মুকাদ্দাসের এ ভূমি মুসলমানদের রক্তের চাইতেও পবিত্র। এটা কখনও কোনো ইহুদি গোষ্ঠীর হতে পারে না।

    হেফাজত নেতৃদ্বয় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট একজন মস্তিষ্কবিকৃত লোক। তার একের পর এক নানা বিতর্কিত ও আগ্রাসনমূলক সিদ্ধান্তে বিশ্বশান্তি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে বিশ্ববাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    তারা বলেন, বিশ্ববাসীর কর্তব্য হলো শান্তি নিরাপত্তার স্বার্থে এ উগ্রবাদী প্রেসিডেন্টের লাগাম টেনে ধরতে সোচ্চার প্রতিবাদে শামিল হওয়া। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কূট রাজনীতি ও আগ্রাসী সমরনীতির কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশে চরম অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরজ করছে।

    হেফাজত নেতৃদ্বয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক অধিকৃত ফিলিস্তিনের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার বাদ জুমা হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হওয়ার জন্য হেফাজত নেতাকর্মী, ওলামায়ে কেরাম ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুনভাবে ইন্তিফাদা বা অভ্যুত্থানের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলেও মনে করে সংগঠনটি।

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে মধ্যস্থতার আহ্বান খালেদা জিয়ার

    ঢাকায় সফররত চীনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেশের চলমান সার্বিক পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে খালেদা জিয়ার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
    বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আজ সন্ধ্যায় বৈঠকে শেষে একথা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনকে মধ্যস্থতার আহ্বান জানিয়েছেন।
    বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপিকে নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা সরকারের দায়িত্ব।
    আজ বিকেলে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বিএনপি নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে। এবার আর তারা ভুল করবে না। আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রীর এসব কথার জবাবে ফখরুল এই মন্তব্য করেন।
    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর যেসব কথা বলেছেন তা হাস্যকর বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেশি কথা বলার কারণে জনগণের কাছে প্রধানমন্ত্রী তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন।
    বিএনপি কোন সংঘাত চায় না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অহংকার করে কথা বলে দেশ চালানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহবুবুর রহমান, বিএনপি নেতা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

    ‘জাহান্নামে যাওয়ার জন্য তৈরি হোন’, অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকি

    রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে এ হুমকি দেওয়া হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আপনার দিন ফুরিয়ে আসছে। জাহান্নামে যাওয়ার জন্য তৈরি হোন।’

    তিনি বলেন, হত্যার হুমকি পেয়ে শাহবাগ থানায় জানানো হয়েছে।

    এর আগেও একাধিকবার তিনি এ ধরনের হুমকি পেয়েছিলেন বলে জানান ।

    শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার (এসআই) দেবরাজ চক্রবর্তী জানান, এখনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি। তবে অ্যার্টনি জেনারেলের কার্যালয়ের লোকজন থানায় রয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার মেয়ে শিশির কণাকে হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল অজ্ঞাত পরিচয়ের দুর্বৃত্তরা।

    ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: ফখরুল

    খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি সংক্রান্ত বক্তব্য বেআইনি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

    শুক্রবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    বৃহস্পতিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সৌদিতে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার বিশাল শপিংমল ও সম্পদ পাওয়ার খবর বিদেশ থেকে এসেছে। টাকা পাচার, মানিলন্ডারিং বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার ছেলেরা করেছে।

    এসব বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফখরুল।

    এরশাদের পতন: পর্দার আড়ালে যা ঘটেছিল

    ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসের এক তারিখে ঢাকা সেনানিবাসে এক জরুরী বৈঠকে বসেন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা।

    সে বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, সে প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হওয়া উচিত সে বিষয়ে আলোচনা করা। জেনারেল এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। এর কয়েকদিন আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় চিকিৎসক নেতা ডা: শামসুল আলম মিলনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

    সেনানিবাসের ভেতরে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে দেশের চলমান সংকট একটি রাজনৈতিক বিষয় এবং এ সঙ্কট সমাধানের জন্য রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা আরো সিদ্ধান্ত নিলেন যে চলমান রাজনৈতিক সংকটে সেনাবাহিনীর করনীয় কিছু নেই। এমন অবস্থায় প্রেসিডেন্ট এরশাদ সেনা সদরকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে দেশে সামরিক আইন জারী করা হবে।

    এরপর ডিসেম্বরের তিন তারিখে তখনকার সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নূর উদ্দিন প্রেসিডেন্ট এরশাদের সাথে দেখা করতে যান। সেনা কর্মকর্তারা চেয়েছিলেন যে সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নূর উদ্দিন যেন প্রেসিডেন্ট এরশাদকে পদত্যাগের জন্য সরাসরি বলেন।

    কিন্তু সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট এরশাদকে সরাসরি পদত্যাগের কথা না বললেও তিনি জানিয়ে দেন যে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর অফিসাররা কোন দায়িত্ব নিতে রাজী হচ্ছে না। তখন ঢাকা সেনানিবাসে ব্রিগেডিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন আমিন আহমেদ চৌধুরী, যিনি পরবর্তীতে মেজর জেনারেল হয়েছিলেন। মি: চৌধুরী ২০১৩ সালে পরলোকগমন করেন।

    ২০১০ সালে বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাতকারে জেনারেল চৌধুরী বলেন, ” উনি (সেনাপ্রধান) প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন আপনার উচিত হবে বিষয়টির দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান করা। অথবা বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেয়া।”

    জেনারেল এরশাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সামরিক শাসন জারীর বিষয়ে সেনাবাহিনী একমত নয় বলে প্রেসিডেন্টকে পরিষ্কার জানিয়েছিলেন তখনকার সেনাপ্রধান। প্রেসিডেন্টের সাথে সেনাপ্রধানের বৈঠক নিয়ে তখন দেশজুড়ে নানা গুঞ্জন। সেসব বৈঠক নিয়ে নানা অনুমান তৈরি হয়েছিল সে সময়।

    একদিকে ক্যান্টনম্যান্টের ভেতরে নানা তৎপরতা অন্যদিকে রাস্তায় এরশাদ বিরোধী বিক্ষোভ। সব মিলিয়ে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল। ডিসেম্বর মাসের চার তারিখে সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম প্রেসিডেন্ট এরশাদকে সরাসরি বলেন যে তার পদত্যাগ করা উচিত।

    “পদত্যাগের কথাটা জেনারেল সালামই প্রথম সরাসরি বলেন। অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। আর্মি অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে,” বলছিলেন আমিন আহমেদ চৌধুরী।

    জরুরী অবস্থা এবং কারফিউর মতো কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমেওে যখন গণআন্দোলন দমানো যাচ্ছিল না তখন সেনাবাহিনীর দিক থেকে নেতিবাচক মনোভাব দেখলেন মি: প্রেসিডেন্ট এরশাদ। এমন অবস্থায় ডিসেম্বরের চার তারিখ রাতেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন জেনারেল এরশাদ। তখন এরশাদ সরকারের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ছিলেন মওদুদ আহমেদ. যিনি বর্তমানে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা। মি: আহমেদ জানালেন সেনাবাহিনীর মনোভাব বোঝার পরেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি মি: এরশাদ।

    সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন মোকাবেলার জন্য তিনি সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলো এরশাদের সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ডিসেম্বর মাসের চার তারিখে তখনকার ভাইস-প্রেসিডেন্ট মওদুদ আহমেদকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবার জন্য বাংলাদেশে টেলিভিশনে পাঠিয়েছিলেন মি: এরশাদ। উদ্দেশ্য ছিল, প্রেসিডেন্টের পরিকল্পিত নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরা।

    বিরোধী দলগুলো এ নির্বাচনের প্রস্তাব আগেই বর্জন করার পরেও মি: এরশাদ চেয়েছিলেন ভাইস-প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরার মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করা। মি: এরশাদের নির্দেশ মতো ভাইস-প্রেসিডেন্ট মওদুদ আহমদ সন্ধ্যার সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে গিয়েছিলেন ভাষণ রেকর্ড করার জন্য। সে ভাষণ তিনি রেকর্ডও করেছিলেন। সে ভাষণ রেকর্ড করার পর মওদুদ আহমদ যখন বাসায় ফিরে আসেন তখন তিনি জানতে পারেন প্রেসিডেন্ট পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপর কয়েক ঘন্টা পর মধ্যরাতে মওদুদ আহমেদকে আবারো বাংলাদেশ টেলিভিশনে যেতে হয়েছিল প্রেসিডেন্ট এরশাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেবার জন্য।

    ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর রাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মওদুদ আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ” প্রথম ভাষণ রেকর্ড করে আমি যখন বাসায় ফিরে আসলাম, তখন আমার স্ত্রী বললেন, প্রেসিডেন্ট সাহেব ফোন করেছিলেন। তখন আমি ওনাকে ফোন করলাম। উনি তখন বললেন, আমি এখনই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তখন আমি ওনার বাসায় গেলাম। তখন রাতে নিউজের পরে ওনার পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া হলো। ”

    এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন সময় ছন্দপতন হয়েছিল। ১৯৮৭ সালে একটি মিছিলে পুলিশের গুলিতে নূর হোসেন নিহত হবার ঘটনা আন্দোলনে গতি এনেছিল।

    আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি’র নেতৃত্বে রাজনৈতিক জোট একই সাথে আন্দোলন কর্মসূচী নিয়ে এগিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীও মাঠে ছিল। ১৯৯০ সালের অক্টোবর মাস থেকে ছাত্র সংগঠনগুলো ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের’ ব্যানারে আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল। সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বিএনপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতা খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলছিলেন, ২৭শে নভেম্বর চিকিৎসক নেতা ডা. শামসুল আলম মিলনকে হত্যার পর আন্দোলনের মোড় ঘুরে গিয়েছিল।

    “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে দখল করার জন্য বহিরাগত মাস্তানরা পরিকল্পিতভাবে ডা: মিলনকে হত্যা করা হয়েছিল। এটা ছিল আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট, ” বলছিলেন মি: খোকন।

    ডা: মিলন যখন রিক্সায় করে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ডা: মিলনের সাথে একই রিক্সায় ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের তখনকার মহাসচিব ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

    অভিযোগ রয়েছে জেনারেল এরশাদ সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দখল চেষ্টার অংশ হিসেবে ডা: মিলনকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ” আমার রিক্সাটা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় উপস্থিত হয়েছে তখন মিলন আরেকটি রিক্সায় করে আমাকে ক্রস করে সামনে চলে যাচ্ছিল। তখন আমি মিলনকে বললাম তুমি ঐ রিক্সা ছেড়ে আমার রিক্সায় আসো। এরপর মিলন আমার রিক্সায় এসে ডানদিকে বসলো। রিকশাওয়ালা ঠিকমতো একটা প্যাডেলও দিতে পারে নাই। মনে হলো সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের দিকে থেকে গুলি আসলো। গুলিটা মিলনের বুকের পাশে লেগেছে। তখন মিলন বললো, জালাল ভাই কী হইছে দেখেন। একথা বলার সাথে সাথে সে আমার কোলে ঢলে পড়লো। ”

    ডা: মিলনকে হত্যার পর জেনারেল এরশাদ বিরোধী আন্দোলন আরো তুঙ্গে উঠে। তখন জনগণের ক্ষোভের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে শুরু করেছিল সেনাবাহিনী। একইসাথে জেনারেল এরশাদের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল সেনাবাহিনী। ডা: মিলন হত্যাকা-ের পর আন্দোলন সামাল দিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এরশাদ। সেনা মোতায়েনের জন্য জেনারেল এরশাদ যথেষ্ট চাপ প্রয়োগ করেছিল।

    প্রয়াত মেজর জেনারেল আমিন আহমেদ চৌধুরীর বর্ণনা মতে, সেনাবাহিনী সৈনিকদের পাঠিয়ে রাস্তায় মোতায়েন করার পরিবর্তে রমনা পার্কে সীমাবদ্ধ করে রাখে। কমান্ডিং অফিসাররা সরকারের ‘অপকর্মের’ দায়িত্ব নিতে রাজী ছিলেন না।

    জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা ছাড়লে কী হবে সে বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারী দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ফর্মুলা ঠিক করে রেখেছিল। সে ফর্মুলা মতে সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিনমাস মেয়াদী একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা ছিল।

    কিন্তু সে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কে হবেন সেটি তখন নির্ধারিত ছিলনা । ড: কামাল হোসেন তখন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতিও ছিলেন। তিনি জানালেন, জেনারেল এরশাদের পদত্যাগের ঘোষণা দেবার পর আন্দোলনকারী দলগুলো তখনকার প্রধান বিচারপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন আহমদের বিষয়ে একমত হয়েছিল। অস্থায়ী সরকার প্রধানের নাম আসার পর ৬ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া হয়েছিল।

    ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ” পাঁচ তারিখে বিরোধী দল থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসলো যে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন সাহেব উপ-রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করে তারপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির কাজ করবেন তিনি এবং তার অধীনেই একটি নির্দলীয় সরকার হবে। ছয় তারিখ বিকেল তিনটায় আমি রিজাইন করলাম। আমি রিজাইন করার পরে সাহাবুদ্দিন সাহেবকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট এপয়েন্ট করলেন প্রেসিডেন্ট সাহেব। তারপর প্রেসিডেন্ট এরশাদ নিজে রিজাইন করলেন এবং তারপর সাহাবুদ্দিন সাহেব ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু করলেন।”

    ডিসেম্বর মাসের চার তারিখে জেনারেল এরশাদ যখন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন রাস্তায় মানুষের যে ঢল নেমেছিল সেটি ৬ই ডিসেম্বর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের কাছে জেনারেল এরশাদের ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত বজায় ছিল।