• ?????: Big Slider

    বায়তুল মুকাদ্দাস: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পরিণামে কী ঘটতে পারে?

    মুসলিম বিশ্বের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুজালেম)-কে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিঃসন্দেহে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে। প্রথমত, শান্তি আলোচনার চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটবে। অবশ্য বহু দিন ধরেই শান্তি আলোচনা বন্ধ রয়েছে, কিন্তু আলোচনা আবারও শুরু হবে বলে অনেকেই আশা করছিলেন। এক কথায় বলা যায়, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি আলোচনার কোনো অস্তিত্ব আর থাকবে না।
    দ্বিতীয়ত, বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ধারণার কবর রচিত হওয়া। কারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস।

    তৃতীয়ত, ট্রাম্পের ধারণার বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী ইসরাইল বিরোধী তৎপরতা আরও বাড়বে। ট্রাম্প ধারণা করছেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রভাবশালী আরব দেশগুলোর সরকার তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব দেশের প্রতিবাদ বেশি দূর এগোবে না। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই ট্রাম্পের মধ্যে এ ধরণের ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের হয়তো এ তথ্য জানা নেই যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকার ও জনগণের নীতি-আদর্শ ও সাহসিকতার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

    এ ক্ষেত্রে ২০১১ সালে মিশরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীই উদাহরণ হিসেবে যথেষ্ট। প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে মিশর ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সই করে। কিন্তু দেশটির মানুষ কখনোই ওই চুক্তি মেনে নিতে পারে নি। এ কারণে ২০১১ সালে ইসলামি গণজাগরণের পর কায়রোতে অবস্থিত ইসরাইলের দূতাবাসের কংক্রিটের দেওয়াল ভেঙে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জনতা। এ ঘটনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ শুধুই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। সুযোগ পেলে তারাই ইসরাইলের অস্তিত্ব ধ্বংস করে দেবে।

    চতুর্থত, ফিলিস্তিন ইস্যুটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মতৈক্য তৈরি হবে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া থেকেও বিষয়টি অনুমান করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয় কোনো কোনো মুসলিম দেশে ইসরাইলি দূতাবাস বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

    এসবের বাইরেও আরেকটি প্রভাব লক্ষ্য করা যাবে তাহলো, ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া কুদস ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থান জোরদার হবে। এমনকি নতুন যুদ্ধের ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই গতরাতে গাজা ও পশ্চিমতীরের মানুষ রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ শু্রু করেছে এবং মার্কিন পতাকায় আগুন দিয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার হবে।

    আসলে ট্রাম্পের গতরাতের সিদ্ধান্ত থেকে এটা স্পষ্ট তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এর পরিণামের বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা রাখেন না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালনের পরও তার মধ্যে এ অনুভূতি জাগ্রত হয় নি যে, তিনি এমন একটি পদে আসীন হয়েছেন যেখান থেকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত গোটা বিশ্বকে অশান্ত করে তুলতে পারে।

    ফিলিস্তিনে নতুন গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে হামাস

    জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের ঘোষণা ফিলিস্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হামাসের পলিটিক্যাল ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া। তিনি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার গাজায় দেয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাম্প ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।

    তিনি বলেন, শুক্রবার দিনব্যাপী বিক্ষোভ আন্দোলনে যোগ দিয়ে একটি নতুন গণ-অভ্যুত্থান শুরু করার জন্য আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

    হানিয়া আরো বলেন, আগামীকাল আমাদের লোকেরা দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ইন্তিফাদা (গণ-অভ্যুত্থান) শুরু করবে। বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।

    তিনি বলেন, হামাসের সকল ইউনিটকে যে কোন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    তিনি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া ভেঙ্গে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    এদিকে, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনের গোলায় মধ্যে ঠেলে দেবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

    বৃহস্পতিবার গ্রিস সফরের উদ্দেশ্যে রাজধানী আঙ্কারা ত্যাগ করার পূর্বে এসেবোগা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদেরকে তিনি এই কথা বলেন।

    ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘হে ট্রাম্প, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আপনি কী করতে চাচ্ছেন?’

    তিনি বলেন, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ এই অঞ্চলকে একটি আগুনের গোলার মধ্যে নিক্ষেপ করবে।’

    গত কয়েক দশকের মার্কিন নীতির প্রথা ভঙ্গ করে বুধবার হোয়াইট হাউজের কূটনৈতিক অভ্যর্থনা কক্ষে দেয়া ভাষণে জেরুজালেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাসকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠতে পারে।

    বুশ ও ক্লিনটন প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টা এবং উড্রো উইলসন সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যারন ডেবিড মিলার বলেন, ‘জেরুজালেমের স্থিতাবস্থায় কোনো আঘাত করলে এটির জ্বলে ওঠার প্রবণতা রয়েছে।’

    এরদোগান বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের উচিৎ শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, আগুন জ্বালিয়ে দেয়া নয়।’

    জেরুজালেমকে খ্রিস্টানদের জন্যও একটি পবিত্র স্থান উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি নিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গেও কথা বলবেন বলে জানান।

    এর আগে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এরদোগান। তিনি জেরুজিালেমকে মুসলিমদের জন্য একটি রেড লাইন বলে তিনি সর্তক করে দিয়েছিলেন।

    এদিকে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে আগামী ১৩ ডিসেম্বর ওআইসির জরুরি বৈঠক ডেকেছে তুরস্ক।

    তুর্কি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বুধবার বলেছেন, জেরুজালেম ইস্যুতে স্পর্শকাতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় আগামী ১৩ ডিসেম্বর ওআইসি’র সদস্য দেশগুলোর নেতারা ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসবেন। মুসলিম দেশগুলো জেরুজালেমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে।

    ‘রসিক নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে’

    আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবে। নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে নিরাপত্তার জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আজ রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

    নুরুল হুদা আরো বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ থেকে ২৩ জন সশস্ত্র অস্ত্রধারী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ৩৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। ২১ ডিসেম্বরে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এর সকল প্রস্তুতি শেষের পথে।

    জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সৌদি আরব

    ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ের কাছে পবিত্র ভূমি হিসেবে গণ্য জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। হোয়াইট হাউসে বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণে ইসরাইলের রাজধানীতে তেলআবিবের পরিবর্তে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এরকম ঘোষণা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব।

    জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলেও সৌদি রয়াল কোর্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তাছাড়া, ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমে স্থানান্তরে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে তুরস্ক, জর্ডানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তখন তাদের সমর্থন দেয়নি। পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরায়েলি দখলদারত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে প্রথম ইন্তিফাদার (এর অর্থ গণ-অভ্যুত্থান) সূচনা হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। ১৯৯৩ সালে ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে। ওই শান্তি চুক্তি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনও চায় পূর্ব জেরুজালেম তাদের রাজধানী হবে।

    এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

    ট্রাম্পের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যকে আগুনের মধ্যে ঠেলে দেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, হে ট্রাম্প, আপনি কী করতে চান? এটা কী ধরনের আচরণ। রাজনৈতিক নেতা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান, তারা কোনো বিষয়কে অচল করেন না। তাছাড়া, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মিছিলের ডাক দিয়েছেন। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’, ‘সাহসী ও সঠিক সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই শহরের স্থাপনায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন।

    নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না : ফখরুল

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা সরকারের দায়।

    রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে চীনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফখরুল এসব কথা বলেন।

    সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে চীনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

    বৈঠকে দলের মহাসচিব ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।

    বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কম্বোডিয়া সফর নিয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বলেন, নাকে খত দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে আসবে।

    জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নাই : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে যদি দেশের মানুষ ভোট দেয় তাহলে আবার সরকার গঠন করবেন তিনি। তবে জনগণ ভোট না দিলেও কিছু করার নেই। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে দেশের মানুষকে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

    এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেশটাকে স্বাধীন করেছি, স্বাধীনতার চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ব। তারপর জনগণের ইচ্ছা কাকে ভোট দেবে। আমি নিজেই তো স্লোগান দিয়েছি যে আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব। কাজেই ভোট দিলে আছি না দিলে নাই।’

    সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

    দেশ টিভির সাংবাদিক জয় যাদব বলেন, প্রতিবার নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ধরনের জরিপ করান। এবারও করিয়েছেন। সে জরিপের ফলাফল কী এসেছে তা জানতে চান তিনি। প্রশ্ন করেন, কী পরিমাণ আওয়ামী লীগের এমপি ডেঞ্জার জোনে আছেন?

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তত রেড জোনে কেউ নেই।’

    জরিপ করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জরিপের মাধ্যমে তিনি দেখেন যে কে কেমন করছেন, কার কেমন গ্রহণযোগ্যতা। তিনি বলেন, ‘কিন্তু সেটা তো পাবলিকলি বলব না। কারো কোনো দুর্বলতা দেখলে তাকে সতর্ক করি। সেটা তো সবার মধ্যে বলব না।’

    তবে দেশের মানুষ যদি সত্যি উন্নয়ন চায়, তাহলে নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বেছে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে উন্নয়নশীল জাতিতে পরিণত করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগে যেখানে ছিল ভিক্ষুক জাতি, এখন উন্নয়নের রোল মডেল। অন্তত এই জায়গায় বাংলাদেশটাকে নিয়ে আসতে পেরেছি।’

    এ সময় সাংবাদিকদের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে না লিখলে না কি পত্রিকা চলেই না। পত্রিকা পড়ে তো আর দেশ চালাই না। দেশ চালাই ভালোবেসে। বাবার কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে উন্নয়ন করতে হয়। সেভাবেই কাজ করছি।’

    সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মনোনয়নের ব্যাপারে আপনার চিন্তাভাবনা কী?

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটাই উত্তর, শত ফুল ফুটতে দেন। সবাইকে প্রার্থী হতে দেন। এটা তো সবার রাজনৈতিক অধিকার। শত ফুল ফুটবে। তার মধ্যে সময় আসলে আমরা ভালোটা বেছে নেব। কীভাবে বেছে নেব সেটা সময়ই বলে দেবে।’

    আগাম নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পার্লামেন্টারি সিস্টেম অব ইলেকশনে যে কোনো সময় ইলেকশন দেওয়া যায়। কিন্তু এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়িনি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে।’

    দেশে চলমান উন্নয়নকাজের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ না থাকলে তো উন্নয়নকাজ হয় না। আমি চ্যালেঞ্জ দিতে পারি এত অল্প সময়ে কোনো দেশে এত উন্নয়ন কাজ কখনো হয়নি।’

    সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল জানতে চান, খালেদা জিয়া আদালতে জানিয়েছেন যে তিনি শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করেছেন। অথচ সম্প্রতি সৌদি আরবে টাকা পাচারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এ ক্ষেত্রে সরকার কি তাঁকে ক্ষমা করবে?

    এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এমন কী অপরাধ করেছি যে আমি ক্ষমা চাইব? তাঁর (খালেদা জিয়ার) উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া।’

    ‘ছবি বিশ্বাসের গাড়িতে আগুন দিল, ২০১৪-১৫ সালে কীভাবে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। কাজেই ক্ষমাটা ওনার জাতির কাছে চাওয়া উচিত’, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

    এ সময় বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। দেশের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন এই টাকা পাচারের খবর তুলে ধরা হলো না? তিনি বলেন, সৌদিতে যে বিশাল শপিং মল, সম্পদ পাওয়া গেছে। আপনাদের (সাংবাদিকদের) তো এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখি না। এত দুর্বলতা কিসের জন্য? এই যে মানি লন্ডারিং, এটা যে বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার ছেলেরা করেছে এটা তো আমরা বের করিনি। এটা বের করেছে আমেরিকা।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেশির ভাগ পত্রিকা কিন্তু আমিই পারমিশন দিয়েছি। সে পত্রিকাগুলোর এতটুকু সাহস হলো না যে খবরটা প্রকাশ করি। কোনো সরকার সাহস পায় নাই, আমি প্রাইভেট চ্যানেলের অনুমোদন দিয়েছি। যাদের এত টাকা তারা জানে কীভাবে মুখ বন্ধ করতে হয়? হতে পারে আপনাদের মুখে কোনো রসগোল্লা ঢুকিয়ে দিয়েছে।’

    এ সময় কম্বোডিয়া সফরের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন শেখ হাসিনা।

    ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে না যুক্তরাজ্যে ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় এর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন তিনি। তার মতে, এর মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হলো। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তারা এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবেন না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান কূটনীতিক ফেডেরিকা মোগেরিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের ঘোষণার কঠোর সমালোচনা করে তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়েছে। বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার আগেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা ব্যক্ত করলেও কারো কথা রাখেননি তিনি।

    সবার আপত্তি সত্ত্বেও জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশটির বর্তমান রাজধানী তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ঘনিষ্ট মিত্র সৌদি আরব ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলেছে। সৌদি আরব বলেছে, এই ঘোষণা অযৌক্তিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য বলেছে, তারা এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করবে না।

    বিশ্বজুড়ে কড়া সমালোচনা ও বিরোধিতার মধ্যেই ট্রাম্পের ঘোষণা দেওয়ার দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ বলে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

    যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পররাষ্ট্রনীতি উল্টে দিয়ে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন ট্রাম্প। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে জেরুজালেমের অধিকারস্বত্ব সবচেয়ে কাঁটাময় ইস্যুগুলোর অন্যতম। ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে ‘শোচনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

    ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিরা টানা অবরোধ ও বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ আহ্বান করেছে। অবশ্য বুধবার থেকেই ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পুড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে আটটি দেশ জেরুজালেম ইস্যুতে আলোচনার জন্য শুক্রবার জরুরি সভা ডেকেছে। এ নিয়ে শনিবার বৈঠক করবে আরব লিগ।

    ট্রাম্প কী বললেন?
    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুধবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের শান্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে তিনি এ কাজ করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন।

    এ ধরনের পদক্ষেপে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা ও হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করা হলেও ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন এবং ডানপন্থি শিবিরে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমি ঘোষণা করছি।’

    জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়া আর ‘বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেয়ে কম বা বেশি কিছু নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটি করাই সঠিক।’

    ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিরা যদি অনুমোদন করে তাহলে দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানে ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক’ সমাধানকে সমর্থন করবে যুক্তরাষ্ট্র। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মূল কথা হলো- ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের জন্যও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে।

    ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলে কী বলছে?
    জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার পরপরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘তিন হাজার বছর ধরে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে জেরুজালেম।’

    মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নথির সূত্র দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পক্ষে ইসরায়েলকে গরম গরম প্রতিক্রিয়া জানাতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, এ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে পারে।

    মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, জেরুজালেম তাদের ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী। ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘শোচনীয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আর কোনোভাবেই শান্তির সাফাইকারী রইল না। এ ছাড়া গাজা উপত্যকা শাসনকারী হামাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ট্রাম্পের এই ঘোষণা ‘জাহান্নামের শতদরজা খুলে দিয়েছে’।

    বাকি বিশ্ব কী বলছে?
    যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ আরব ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্ব ট্রাম্পের এই ঘোষণার চরম নিন্দা জানিয়েছে। এরই মধ্যে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে।

    সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট বলেছেন, ‘শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বড় ধরনের বিপর্যয় এবং জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থানের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

    ‘আমরা সবাই এর বিরোধিতা করছি, তা পরিষ্কার করতে’ বিশ্বের মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘গভীর উৎকণ্ঠার মুহূর্ত’ এটি।

    সরকার গণতন্ত্রের স্তম্ভকে ধ্বংস করে দিয়েছে : মির্জা ফখরুল

    বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের স্তম্ভকে ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যতগুলো প্রতিষ্ঠান ছিল, সব প্রতিষ্ঠান নিজেদের পকেটের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলেছে এই সরকার। এসব কারণে জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ধরে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। জনগণ যে আমাদের সঙ্গে আছেন তার প্রমাণ আপনারা গত ৭ নভেম্বর উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত জনসভায় উপচে পড়া জনসমুদ্র দেখে বুঝতে পেরেছেন। অপর দিকে দেশের সব ক্ষেত্রে নৈরাজ্য আর অরাজকতা বিরাজমান। আওয়ালীগ সরকার বিচার বিভাগকে ভেঙে দিয়েছে। সরকার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে রেখেছে, যেন রাজনীতি করতে না পারেন।
    মঙ্গলবার শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুপুরে আয়োজিত জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।
    তিনি আরো বলেন, দেশে আজ হত্যা, খুন-ধর্ষণ বেড়েই চলছে। বিএনপির মহিলাদলের নেতা-কর্মী, সমর্থকরা আবার মাঠে নেমেছে। মহিলারা দেশের জনশক্তির একটি বড় অংশ তাই নারীদের সাথে নিয়েই এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটানো হবে। সরকারের পতন করতে পারলে দেশ বাচঁবে।
    এসময় প্রথমেই দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ‘১৭-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয়বাদী মহিলাদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস, আলোচনায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিশেষ অতিথি মহিলাদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জিবা খান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা আহবায়ক অনুষ্ঠানের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র জেলা সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র ফয়সাল আমিন প্রমুখ।

    তারেক রহমানকে নিয়ে লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলেন জুবাইদা

    বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর লেখা প্রথম মৌলিক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। তারেক রহমানের সহধর্মীনি ডা. জুবাইদা রহমান বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

    লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) থিয়েটার হলে বাংলাদেশ সময় সোমবার প্রথম প্রহরে ‘তারেক রহমান ও বাংলাদেশ’ নামক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, গবেষক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

    নতুন বইয়ে তারেক রহমানের এই ‘উদার রাজনীতির মডেল’ উপস্থাপিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

    বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের পর ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ: তারেক রহমানের ভিশন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী ইউসিএল-এর পোস্ট ডক্টরেট ফেলো ড. রুহুল আমিন খন্দকার। উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ‘তারেক রহমান ও বাংলাদেশ’ বইয়ের লেখক সাংবাদিক এম মাহাবুবুর রহমান।

    অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বিশিষ্টজনরা বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকে নতুনভাবে সাজাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারেক রহমান। পরিবার, রাজনীতি ও পারিপার্শিক পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ইতিবাচক বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। উদার রাজনীতির মডেল নিয়ে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেয়া হয়।

    প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডেমোক্রেটিক পলিসি ফোরাম বাংলাদেশ এবং ইউসিএল-এর একটি গবেষক টিম। গবেষণাধর্মী নতুন বইটি লিখেছেন রয়টার্সের সাংবাদিক এম মাহাবুবুর রহমান। বইয়ের ভূমিকা লিখেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাতীয় অধ্যাপক ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান। বইটি প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক বাংলা প্রকাশনী। প্রকাশক ডেমোক্রেটিক পলিসি ফোরাম বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ মল্লিক।

    বইয়ের প্রকাশক ও ডেমোক্রেটিক পলিসি ফোরাম, বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন-কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির সাবেক প্রফেসর ড. কেএমএ মালিক, রয়টার্সের সাসটেইনবিলিটি অ্যান্ড কর্পোরেট সিনিয়র ম্যানেজার রেচেল মোচলি, লন্ডনের কিলবার্ন অ্যান্ড হ্যাম্পস্টেডের কনজার্ভেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জিওভ্যান্নি স্পিনেলা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাবেক উপদেষ্টা এম মুখলিসুর রহমান চৌধুরী, ইমপেরিয়াল কলেজের মেডিসিন বিভাগের ফ্যাকাল্টি ড. মনজুর শওকত, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিক, কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ডাটা সায়েন্সের ফ্যাকাল্টি ড. ইমতিয়াজ খান, সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, অক্সফোর্ড গ্রাজুয়েট ও রাজনীতিক সাইদ আল নোমান তুর্য প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতেই তারেক রহমানের তৃণমূল রাজনীতির ওপর একটি ডকুমেন্টারি, বইয়ের ওপর রাজনীতিক ও পেশাজীবীদের শুভেচ্ছা ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়।

    অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবী মামনুন মোরশেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. কামরুল হাসান, বাংলাদেশ বিমানের সাবেক কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মইনুদ্দিন আহমেদ, মেজর অব. সিদ্দিক, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ, সদস্য সচিব ব্যারিস্টার তারিক বিন আজিজ, বিএনপি নেতা এম লুতফুর রহমান, এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল, নাসিম চৌধুরী, সাংবাদিক আতাউল্লাহ ফারুক প্রমুখ।

    মৌলিক এ গবেষণা গ্রন্থে তারেক রহমানের রাজনৈতিক রূপরেখা ও গতিপথের ওপর ১১টি অধ্যায় রয়েছে। শেষ অধ্যায়ে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের মূল্যায়নমূলক লেখা সংযোজন করে বইটিকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে। বইয়ে গবেষণা টিমে ছিলেন মাহবুবা নাজরীনা জেবিন ও এফএম ফয়সাল।

    বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের মধ্যে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, প্রয়াত সাংবাদিক সিরাজুর রহমান, অর্থনীতিবিদি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ড. মাহবুবউল্লাহ, সাংবাদিক ডেভিড নিকলসন, জেমস স্মিথ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল লতিফ মাসুম, কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, আইনজীবী এমএ সালাম, ব্লগার ও শিক্ষক একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোর্শেদ হাসান খান, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) পোস্ট ডক্টোরাল ফেলো ড. মো. রুহুল আমিন খন্দকার, ইউনাইটেড নেশনস্ করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও জাস্ট নিউজ সম্পাদক মুশফিকুল ফজল আনসারী, আমার দেশ-এর সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারি অধ্যাপক ড. এম মুজিবুর রহমান, সাংবাদিক ও লেখক মাহবুবা নাজরীনা জেবিন।

    অবশেষে পদত্যাগ করলেন রবার্ট মুগাবে

    জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে পদত্যাগ করেছেন বলে দেশটির স্পিকার জ্যাকব মুদেন্দা জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত ইচ্ছায় এক পত্রের মাধ্যমে মুগাবে পদত্যাগ করেছেন বলে রয়টার্স ও বিবিসি জানিয়েছে।

    দেশটির সংসদ সদস্যরা মুগাবের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করছিলেন এর মধ্যেই বিস্ময়কর এই ঘোষণা এলো। গত সপ্তাহে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে তাকে গৃহবন্দি করে। এরপরেও তিনি পদত্যাগে রাজি হননি।

    ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে স্বাধীন হবার পর থেকে তিনি দেশটির ক্ষমতায় রয়েছেন। ৩৭ বছর পর পদত্যাগ করলেন তিনি। বুধবার সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে প্রতিটি দিন যাচ্ছিলো জিম্বাবুয়ের। করণীয় নির্ধারণে গত রোববার বৈঠকে বসেন ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টি।

    বৈঠকে রবার্ট মুগাবেকে দলীয় প্রধানের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন মুগাবের হাতে বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন নাঙ্গাগওয়া। এসময় মুগাবের স্ত্রী গ্রেস মুগাবেকেও পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তারপর প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে মুগাবেকে গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছিলো। তা না হলে তাকে অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হবে বলেও এসময় জানিয়ে দেয়া হয়।

    এর পরপরই টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে মুগাবে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন: ডিসেম্বরে ক্ষমতাসীন পার্টির কংগ্রেসের আগ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়বেন না তিনি। বরং পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার বদলে উল্টো আসন্ন কংগ্রেসে নিজের জানু-পিএফ পার্টিকে নেতৃত্ব দেয়ার জিম্বাবুয়ে-রবার্ট মুগাবে-জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনীআকাঙ্ক্ষার কথা জানান এই গৃহবন্দী প্রেসিডেন্ট।