• ?????: Carousel Slide One

    নাইজেরিয়ায় মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৫০

    নাইজেরিয়ায় একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আদামাওয়া রাজ্যের মুবি শহরের এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফজরের নামাজে আসা মুসল্লিদের ওই জমায়েতে এই হামলা চালানো হয়েছে। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলিস্টারের।

    শহরে পুলিশের একজন মুখপাত্র ওসমান আবুবকর জানিয়েছে, এক যুবক মুসলিমদের ওই জমায়েতে ঢুকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

    নিরাপত্তা বাহিনী এই হামলার জন্য বোকো হারাম দায়ী বলে ধারণা করছে। কেননা এই ধরনের হামলা সাধারণত এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি চালিয়ে থাকে।
    তবে এখনো পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

    বোর্নো রাজ্য যেখান থেকে বোকো হারামের উৎপত্তি সেখানেই এই গ্রুপটি বেশি হামলা চালিয়ে থাকে। যেসব এলাকায় বেশি জনসমাগম ঘটে সাধারণত এমন এলাকা হামলার বেছে নেয় বোকো হারাম।

    এর আগে গেলো গেলো সেপ্টেম্বরে বোর্নো রাজ্যে এক হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছিল।
    বোকো হারামের হামলায় দেশটিতে এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। আরো প্রায় ২০ লাখ লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
    বোকো হারাম বোর্নো রাজ্যে বেলজিয়ামের সমপরিমাণ জায়গা নিয়ন্ত্রণ করছে।

    জেনেভায় বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে জাপান

    সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটিতে (থার্ড কমিটি) ভোটাভুটির পর এবার সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মানবাধিকার কাউন্সিলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রেজুলেশন (প্রস্তাব) আসছে। ৪৭ সদস্যের ওই কাউন্সিলে ভোটাভুটি হবে আগামী মাসের শুরুতে। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সমপ্রদায়কে জাতিগতভাবে নিধনে গণহত্যা, গণধর্ষণ এবং বাছবিচারহীন নির্যাতনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে (কান্ট্রি স্পেসিফিক) রেজুলেশন আনতে ১৬ সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন। রেজুলেশনটি পাস হতে হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জেনেভাস্থ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে প্রস্তাবিত রেজুলেশনের পক্ষে এরইমধ্যে বাংলাদেশ ৩০টি দেশের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জাপান।
    থার্ড কমিটির বৈঠকে জাপান ভোট না দিলেও ঢাকা সফরকারী জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কুনো জেনেভার ভোটাভুটিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রস্তাবের পক্ষে টোকিওর সমর্থন থাকবে বলে নিশ্চিত করে গেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে গতকাল সকালে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, জাপান বাংলাদেশের কেবল দুর্দিনের বন্ধুই নয়, স্বাধীনতার পর থেকে অব্যাহতভাবে দেশের উন্নয়নে টোকিও সহায়তা দিয়ে আসছে। আগামী দিনেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় জাপান বাংলাদেশের পাশে থাকছে বলে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে আলোচনায় মন্ত্রী তারো কুনো বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
    ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট প্রশ্নে আগামী মাসটি বাংলাদেশের কূটনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্লিনারি সেশন বসছে। সেখানে থার্ড কমিটিতে পাস হওয়া প্রস্তাবটি ফের পাস করাতে হবে। সেখানে ১৯৩ রাষ্ট্রের ওপেন ভোট হবে। বাংলাদেশ চেষ্টা করছে থার্ড কমিটিতে ১৩৫-১০ ভোটে যেভাবে রেজুলেশনটি পাস হয়েছে প্লিনারি সেশনে তারচেয়ে বেশি ভোট আদায়ে। এ জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের কাছে ধরনা দিচ্ছে। মিয়ানমারও একইভাবে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট বাড়ানোর চেষ্টায় থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ওই ভোটিং প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে এমন অন্তত ৩ জন দেশীয় কূটনীতিক গতকাল মানবজমিনকে বলেন, থার্ড কমিটির পর প্লিনারি সেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। থার্ড কমিটিতে কেউ সরাসরি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সেই সংখ্যা ১৩৫। রেজুলেশনের বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ১০। ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছে ২৬টি দেশ। ২২টি দেশ অনুপস্থিত ছিল। গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে গৃহীত ওই প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অব্যাহত সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি সরজমিন পরিদর্শনের জন্য মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি তথ্যানুসন্ধানী দল প্রেরণ এবং মিয়ানমার প্রশ্নে একজন বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও বন্ধু কয়েকটি দেশের সমর্থন না পাওয়ায় ঢাকার মিয়ানমার নীতি বা কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রস্তাবে যে ১০টি দেশ সরাসরি বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাশিয়া এবং চীন। আর ঐতিহাসিক বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারত ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছে। রোহিঙ্গা সংকটের মতো এ বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ওই ৩ দেশসহ বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়ে আসছে। ভোটাভুটিতে অবাক করা কাণ্ড হলো সার্কভুক্ত দেশ নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানও বাংলাদেশকে ভোট দেয়নি। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছে। ওই দেশগুলো যেকোনো সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকে। থার্ড কমিটির বৈঠকে ‘মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শিরোনামে ৫৮ মুসলিম রাষ্ট্রের জোট ওআইসি উত্থাপিত প্রস্তাবটি বিপুল ভোটের ব্যবধানে পাস হলেও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিশেষ করে ভারত, রাশিয়া, চীন ও সার্কভুক্ত (পাকিস্তান ও মালদ্বীপ অবশ্য পক্ষে ভোট দিয়েছে) দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে ব্যর্থতাকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অবশ্য সেগুনবাগিচা এ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া ১৩৫টি দেশ এমনি এমনি প্রস্তাবটি পাসের পক্ষে ভোট দেয়নি।

    এমপি কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় বাহুবলে হামলা

    বাহুবলে কেয়া চৌধুরী এমপি ও নারী ইউপি মেম্বারের উপর হামলার ঘটনায় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। শনিবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার লামাতাসী ইউপি’র ১নং (সাধারণ ওয়ার্ড ১, ২ ও ৩) সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য পারভীন আক্তার।

    মামলায় নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ তারা মিয়া ও হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য আলাউর রহমান সাহেদসহ ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৪/১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
    গত ১০ই নভেম্বর উপজেলার মিরপুর বাজারের অদূরে বেদে পল্লীতে সরকারি সহায়তার চেক বিতরণকালে হবিগঞ্জ-সিলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এমপি’র উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    এ হামলায় নারী ইউপি সদস্য পারভীন আক্তার, সাবেক নারী ইউপি সদস্য রাহিলা আক্তারসহ অন্যান্যরা আহত হন। ঘটনার পর থেকে বাহুবল, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, সিলেটসহ দেশ-বিদেশে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে সভা, সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
    এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুক আলী বলেন, শনিবার রাতে মামলাটি দায়ের হয়েছে।
    তবে কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

    কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৬ সন্ত্রাসী নিহত

    ভারতের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের বান্দিপোরা জেলায় সাঁড়াশি অভিযানে লস্কর-ই-তৈয়্যবার দুই কমান্ডার এবং মুম্বাই হামলার পরিকল্পনাকারী জাকিউর রহমান লাকভির ভাতিজাসহ ছয় সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের জ্যেষ্ঠ এক পুলিশ কর্মকর্তা।

    এনডিটিভির খবরে বলা হয়, যৌথ এ অভিযানে অংশ নেওয়া বিমানবাহিনীর একজন কমান্ডো নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এক সেনাসদস্য আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই অভিযানকে ‘বিশাল সাফল্য’ দাবি করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) শেশ পাল বাইদ বলেন, ‘আজ (শনিবার) পরাস্ত করা সন্ত্রাসীদের সবাই পাকিস্তানি।’

    চলতি বছর কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১৭০ জনের মতো সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

    শনিবারের অভিযানে নিহত ওয়াইদ শুধু লস্কর কমান্ডার লাকভির ভাতিজা নন, তিনি একই সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবদুল রহমান মাক্কির ছেলে। নিহত দুই লস্কর কমান্ডার হলেন জারগাম ও মেহমুদ বাঈ।

    অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনীর শাখা রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশের সদস্যরা। তারা বান্দিপোরা জেলার হাজিন এলাকার চণ্ডিরগির গ্রাম ঘিরে এই অভিযান চালায়।

    রোহিঙ্গা নারীদের পাশে জোলি, যেতে পারেন কক্সবাজার

    মানবতার প্রতি সব সময়ই হাত বাড়িয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এর আগে সিরিয়া ও ইরাকে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী। এবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যা, নির্যাতন, গণধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গাদের নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

    জোলি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছেন।

    সেনাবাহিনীর দমনপীড়ন, নির্যাতনের অভিযানের মুখে ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারের সমালোচনা করেছে। সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূল’ করছে, এমন অভিযোগ এসেছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কানাডার ভ্যাংকুভার শহরে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি যৌন নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশে আসতে পারেন বলেও জানিয়েছেন। ভ্যাংকুভারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে জোলি তাঁর সফর পরিকল্পনার কথা জানান।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যৌন হয়রানিবিষয়ক একটি বক্তব্যে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীরা যে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে, সে বিষয়টি উল্লেখ করেন।

    অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে ২ সপ্তাহ সময় দিলো বৃটিশ পুলিশ

    অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জমা দিতে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছে ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিলে কাউকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ব্যালিস্টিক ইনটেলিজেন্স সার্ভিস (এনএবিআইএস) এই অস্ত্র জমা দেওয়ার কর্মসূচি সমন্বয় করছে। ১৩ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ত্র জমা দেওয়া যাবে।

    এনএবিআইএস জানায়, অজ্ঞতার কারণে অনেকের কাছে অবৈধভাবে অস্ত্র রয়েছে। সংস্থার প্রধান জো চিল্টন জানান, অস্ত্র জমা দেওয়ার ফলে তা অপরাধে কাজে লাগানোর ঝুঁকি এড়ানো যাবে।

    এই সময়ের মধ্যে যে কেউ অস্ত্র জমা দিলে কোনও মামলার মুখোমুখি হতে হবে না। কিন্তু পরে যদি কোনও অপরাধের সঙ্গে এসব অস্ত্রের সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে ওই অস্ত্রের মালিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ন্যাশনাল পুলিশ চিফ কাউন্সিলের হেলেন ম্যাকমিলান বলেন, অস্ত্র জমা দেওয়ার সময় কাউকে নাম বা ঠিকানা দিতে হবে না। ঝুঁকি এড়াতে আমরা অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করতে চাই।

    তিনি আরও বলেন, হতে পারে তা একটি পিস্তল কিংবা অন্য কোনও অস্ত্র। ১০১ নম্বরে ফোন করে নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে অস্ত্র জমা দিতে পারে। যে কয়টি আগ্নেয়াস্ত্র আমরা উদ্ধার করব তাতে করে জীবন বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হবে। ফলে সঠিক কাজ করুন, আপনাদের অবৈধ অস্ত্র জমা দিন।

    যেসব অস্ত্র এই সময়ে জমা দেওয়া যাবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে এয়ার গান, রাইফেল, শটগান ও পিস্তল। এই অস্ত্র জমা দেওয়া সপ্তাহের লক্ষ্য হচ্ছে, দুর্ঘটনাবশত যেসব মানুষের অস্ত্র রয়েছে সেগুলো উদ্ধার করা।

    এর আগে ২০১৪ সালেও এরকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ওয়েলস ও ইংল্যান্ডে। ওই সময় প্রায় ৬ হাজার অস্ত্র জমা পড়েছিল।

    অস্ত্র জমা দেওয়া সপ্তাহ সফল করতে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা জিম স্টকলি জানান, অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে। যদি এসব অস্ত্র দিয়ে অপরাধ ঘটানোর প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে কারাদণ্ডের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

    যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট অপরাধের সংখ্যা ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    একটি বোতামে পৃথিবী ধ্বংস সম্ভব

    দুটি উন্মাদনা নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়ে শান্তিতে নোবেল জয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসার এবং পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা দুটোই পৃথিবীর জন্য বিধ্বংসী। তিনি বলেন, পারমাণবিক সমরাস্ত্র এবং যার ফলে, কার্যত একটি বোতাম টিপে পৃথিবীকে বহুবার ধ্বংস করা সম্ভব এবং আরেকটি হচ্ছে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা যা ক্রমাগতভাবে পৃথিবীর সব সম্পদ গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করে চলেছে।

    গতকাল রাজধানীর ইউনূস সেন্টার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেয়। পোপ ফ্রান্সিস আয়োজিত পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক ভ্যাটিকান শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে এসব কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস। ভ্যাটিকানের অ্যাপোস্টলিক প্রাসাদে ১০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন পোপের সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন, কার্ডিনাল পিটার কে. এ. টার্কসন, বেশ কয়েকজন নোবেল লরিয়েট এবং জাতিসংঘ নেতৃবৃন্দ। প্রফেসর ইউনূস বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করতে পুঁজিবাদী কাঠামোটিকে কীভাবে এখনই পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন সেটি ভেবে দেখতে হবে। এজন্য তিনি সামাজিক ব্যবসার ওপর গুরুত্ব দেন। বর্তমান উন্মত্ততা থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে তিনি তার ‘তিন শূন্য’ অর্থাৎ শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণের ওপর জোর দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে আরও একটি লক্ষ্য যোগ করতে পারি, আর তা হচ্ছে শূন্য পারমাণবিক সমরাস্ত্র। প্রফেসর ইউনূস আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উত্থানের বিপদ সম্পর্কেও সতর্ক বাণী উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, এর ফলে লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। পৃথিবীজুড়ে লাখ লাখ পরিবারের জীবনে এর ফলাফল হবে বিধ্বংসী। মানুষের পক্ষে চাকরি খুঁজে বেড়ানোটাই শুরুতে বন্ধ করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষ জন্মগতভাবেই উদ্যোক্তা, চাকরি প্রত্যাশী নয়। অর্থনৈতিক তত্ত্ব মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে। আমরা উদ্যোক্তা হলে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স আমাদের জীবনকে ধ্বংস করে দেওয়ার বিপদ থাকত না।

    পুতিনেই বিশ্বাস ট্রাম্পের

    ভ্লাদিমির পুতিনে বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি করেন, ২০১৬ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বা তার দেশ হস্তক্ষেপ করেন নি। তার এ কথায় বিশ্বাস করেন ট্রাম্প। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালক বলছেন ভিন্ন কথা। তারা তাদের আগের কথায় অটল রয়েছেন। সিআইএ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে জানুয়ারিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যে রিপোর্ট দিয়েছিল তারা সেই অবস্থানেই আছে।
    ওই রিপোর্টে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা বলেছিল, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। সিআইএ পরিচালক মাইক পোম্পেও বলেছেন, তিনি তার রিপোর্টে অটল আছেন। শনিবার ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অবস্থিত ডা নাং থেকে বিমানে উড়াল দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি জানিয়ে দেন, ডা নাংয়ে পুতিনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। পুতিন জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে নি। ট্রাম্প তার এ কথাই বিশ্বাস করেন। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সিআইএ’র প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তারা একটি বিবৃতি দেয়। তাতে বলা হয়, ‘এসেসিং রাশিয়ান অ্যাক্টিভিটিজ অ্যান্ড ইনটেনশনস ইন রিসেন্ট ইউএস ইলেকশনস’ শীর্ষক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে যে রিপোর্ট দিয়েছিল তার পক্ষেই আছেন সিআইএ পরিচালক এবং তিনি এর পক্ষে থাকবেন সব সময়। নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যে কোনো পরিবর্তন হয় নি’। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে সিআইএ। উল্লেখ্য, হ্যানয়ের বৈঠক শেষে এয়ারফোর্স ওয়ানে আরোহণ করেছেন তখন ট্রাম্প। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাতে ইঙ্গিত দেন, পুতিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করেন এবং তার প্রতি আস্থা রয়েছে তার। ওদিকে সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যেমন জেমস কমি, জন ব্রেনান, জেমস ক্লাপারের মতো উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বলেছেন, পুতিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ইস্যুতে নাজুক অবস্থানে আছেন ট্রাম্প। একে একে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে জেলে পাঠানো হয়েছে তার সাবেক নির্বাচনী ম্যানেজার পল ম্যানাফোর্ট ও তার এক ব্যবসায়ী সহযোগীকে। শোনা যাচ্ছে, রাশিয়া কানেকশন নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের হাতে রয়েছে ‘শক্তিশালী বোমা’। তার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে সামনের দিনগুলোতে। তাতে কাত হয়ে পড়তে পারেন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন, তার ছেলে বব ফ্লিন এমন কি ইঙ্গিত মিলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ গঠন করা হতে পারে। যদি এমনটাই হয় তাহলে হোয়াইট হাউসে ঝড় বয়ে যেতে পারে। সে ঝড়ে এলোমেলো হয়ে যেতে পারে অনেক কিছু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পকে মসনদও হারাতে হতে পারে। এই যখন অবস্থা তখন হ্যানয়ের ডা নাংয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে পুতিনের। এ বিষয়ে তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমাকে একটু বিরতি দিন। তারা হলো রাজনৈতিক হ্যাকার। আপনারা তাদের দিকে তাকান, আমি বলতে চাইছি, আপনাদের সামনে আছেন ব্রেনান, ক্লাপার, কমি। এখন তো প্রমাণ হয়ে গেছে যে, (জেমস) কমি একজন মিথ্যাবাদী। তিনি তথ্য ফাঁসকারী এটাও প্রমাণিত। এসব বিষয়ে নজর দিন। আর আপনাদের সামনে আছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি খুব জোর দিয়ে বলেছেন, তিনি কিছুই করেন নি। এ বিষয়ে পুতিন বলেছেন, তিনি (নির্বাচনে) হস্তক্ষেপ করেন নি। হস্তক্ষেপ করেন নি। আমি তাকে আবারো এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আপনারাও অসংখ্যবার জিজ্ঞাসা করতে পারেন। উল্লেখ্য, ডা নাংয়ের সম্মেলনের ফাঁকে তিন দফা পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ট্রাম্পের। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে আসে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রতি বারই তিনি আমার দিকে তাকিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি এটা করি নি। ট্রাম্প বলেন, আমি তার এ কথা বিশ্বাস করি। বাস্তবেই বিশ্বাস করি। আমি মনে করি তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে তাকে অবমাননা করা হয়। এমন একজন নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে এসব কথা বলা হয়।

    জনগণকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়: খালেদা জিয়া

    জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে মত ও পথের পার্থক্য থাকবে। কিন্তু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এক হতে হবে।

    আজ রোববার রাজধানীর সোহাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি, আসুন। বহুদলীয় গণতন্ত্রে বহু মত ও পথের পার্থক্য থাকবে, কিন্তু দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এক হতে হবে। এই কাজ করলেই জনগণের কল্যাণ, দেশের উন্নতি করা সম্ভব।’

    খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে ঘরে ঘরে মানুষের কান্না আর আহাজারি। মানুষ আজকে অত্যাচারিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত। তাই এদের হাত থেকে মানুষ মুক্তি চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন আমরা বলি আসতে হবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, ভোটের মধ্য দিয়ে আসতে হবে। এই জন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

    বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন।’

    খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাত নভেম্বরকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়, আর কি ভয় পায় জানেন? এই জনগণকে আওয়ামী লীগ ভয় পায়, আপনাদের ভয় পায়। এজন্যই তারা জনসভা করতে দেয় না। বিভিন্ন জায়গায় গেলে বাধা সৃষ্টি করে। আমাদের ছেলেপেলেদের প্রতিনিয়ত হয়রানি করছে। মিথ্যে মামলা দিয়ে জেলখানায় বন্দি করছে।’ তিনি বলেন, ‘জনসভার অনুমতি তারা দিয়েছে। কিন্তু জনসভা যাতে সফল না হয়, জনগণ যাতে আসতে না পারে সেজন্য কত রকমের বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।’

    স্বর্ণপাচারে জড়িত বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

    আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানের গডফাদাররা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করছে। আর এই স্বর্ণপাচারে বাংলাদেশ বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। বিভিন্ন সময় এসব পাচারকারীচক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁকে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় স্বর্ণপাচারে লিপ্ত হচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে গতকালও শুল্ক গোয়েন্দাদের হাতে বাংলাদেশ বিমানের এক কর্মী আটক হয়েছেন। তার কাছ থেকে বেশকিছু স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বিমানের পরিদর্শন কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজ, এসএম আবদুল হালিম, এয়ারক্রাফট মেকানিক অ্যাসিস্ট্যান্ট আনিস উদ্দিন ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজন কর্মকতা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ১০৫ কেজি স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত থাকায় মামলা হয়েছিল। ওই মামলার চার্জ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকালে শাহজালালে রিয়াদ থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের (বিজি ০৪০) এক যাত্রীকে স্বর্ণ চোরাচালানে সহায়তা করার দায়ে জাকারিয়া নামের বিমানের এক নিরাপত্তাকর্মীকে হাতেনাতে আটক করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। ওই যাত্রী ও বিমানকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের কাছ থেকে শুল্ক গোয়েন্দারা ৭৩২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেছে। এর আগেও শুল্ক গোয়েন্দারা বিমানের একজন সুপারভাইজারকে স্বর্ণসহ আটক করেছিল। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বিমানের মহা-ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এব্যাপারে অফিসিয়ালভাবে কোনো তথ্য পাইনি।
    সূত্র জানায়, বাংলাদেশে স্বর্ণের চোরাচালান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থান করে স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এসব পাচারকারীরা গ্রেফতার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এ কারণে মাঝে মধ্যে স্বর্ণের চোরাচালানসহ বাহক বা জড়িতরা আটক হলেও মূলহোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন।
    শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশে স্বর্ণ চোরাচালানের প্রায় ১৫টি চ্যানেল রয়েছে। পাচারকৃত স্বর্ণগুলো ভিন্ন ভিন্ন লোক দিয়ে বিদেশ থেকে স্বর্ণ নির্দিষ্ট গন্তবে পৌঁছে দেওয়া হয়। যেখানে এক চ্যানেলের লোক জানে না অন্য চ্যানেলে কে কাজ করে। আর প্রতিটি চ্যানেলে প্রায় আটটি পর্যায়ের চক্র রয়েছে। তারাই চোরাচালানে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকে ও সুবিধা ভোগ করে।
    আর এসব পাচারকারীদের মধ্যে মো. নজরুল ইসলাম লিটন, মো. আলী, রিয়াজ চেয়ারম্যান, জসিম উদ্দিন, আজাদ আহমেদ, মাসুদ কবির, মো. রায়হান আলী, সালেহ আহম্মদ, নেপালের নাগরিক গৌরাঙ্গসহ প্রায় ১৫ জন। তাদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে আছে। সেখান থেকেই বাংলাদেশে স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশে বাইতুল মোকাররম এলাকায় কয়েকজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অপর এক সূত্র জানিয়েছে।
    গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য মতে, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম, মো. আলী, রিয়াজ চেয়ারম্যান, জসিম উদ্দিন। এসব স্বর্ণপাচারকারী আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অপর এক সূত্র জানায়, চোরাচালানের মাধ্যমে অধিকাংশ স্বর্ণ আসে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে। আর দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এগুলো পাচার হয় ভারতে। এছাড়া, বাংলাদেশে অবৈধভাবে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ আসে দুবাই থেকে। কিছু স্বর্ণ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। আর বাকিটা পাচার হয়ে যায় ভারতে। দুবাই-বাংলাদেশ-ভারত চোরাচালানের জন্য ব্যবহার হচ্ছে এই রুটে। এজন্য চোরাচালানের সঙ্গে ভারতের কিছু ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
    শুল্ক গোয়েন্দারা জানান, বিশ্বের অন্যতম স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ ভারত। কিন্তু স্বর্ণ আমদানিতে দেশটিতে শুল্ক বেড়ে যাওয়ায় চোরাচালানে আগ্রহ বেড়েছে তাদের। এই সুযোগে বেশি লাভের আশায় চোরাচালান চক্র গড়ে তুলেছে বাংলাদেশিরা। চোরাচালানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে আসে অধিকাংশ স্বর্ণ। এর সঙ্গে জড়িতরা সেখানে বসে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে।
    অপর এক সূত্র জানায়, গত ২০১৩ সাল থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬৭ কেজি স্বর্ণ আটক করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এগুলোর বাজারমূল্য ৭৯১ কোটি টাকা। সবশেষ গত ২৪ অক্টোবর চার কোটি টাকা মূল্যের ৮০টি সোনার বারসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য (উত্তর) বিভাগ। আটক ব্যক্তিরা হলেনÑ মো. ফারুক আহম্মেদ, মীর হোসেন ও মো. শাহীন। তাদের মধ্যে মীর হোসেন রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের ক্যাটারিং বিভাগের কর্মচারী। ফারুক নিজেই চোরাচালানে আসা স্বর্ণের কিছু অংশের মালিক আর শাহীন গাড়িচালক। গ্রেফতারকৃত ফারুক আহম্মেদ স্বর্ণ চোরাচালান করছে তিন বছর ধরে। তারা তিন ভাই মাসুদ করিম রানা, ফারুক আহম্মেদ ও রহমত বারী। ফারুককে ধরার পরদিনই তার ভাই মাসুদ করিম রানাকে আটক করা যায়নি।
    তিনি দুবাই পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। সেখান থেকেই স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। গত তিন বছর ধরে অবৈধভাবে স্বর্ণ আনছে এই সিন্ডিকেট। দুই-তিনটি স্বর্ণের চালানে সপ্তাহে গড়ে ১৫ কেজি স্বর্ণ আনতো তারা। এর কিছু অংশ বিক্রি করা হয় দেশীয় বাজারে। আর বাকিটা পাঠিয়ে দেওয়া হতো ভারতে।
    অপর এক সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গত ২ মার্চ ১২৪ কেজি স্বর্ণ চোরাচালান আটক মামলায় ১৯ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে। দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময়ের তদন্তে সবশেষ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে চার্জশিট দাখিল করেন। আর গত জানুয়ারিতে ১০৫ কেজি স্বর্ণ চোরাচালানের মামলার চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এতে আসামি করা হয় বিমানের পরিদর্শন কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজ, এসএম আবদুল হালিম, এয়ারক্রাফট মেকানিক অ্যাসিস্ট্যান্ট আনিস উদ্দিন ভূঁইয়াসহ ২৫ জনকে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত সূত্রে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে বিমানের অনেকেই জড়িত বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।