• ?????: Carousel Slide Three

    ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ‘থার্ড বয়’ বেলজিয়াম

    বিশ্বকাপে স্বপ্নের সফর শেষ করল বেলজিয়াম৷ গ্রুপ লিগে প্রথম সাক্ষাতে ১-০ ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল বেলজিয়াম। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থানের লড়াইয়েও শেষ হাসি হাসল বেলজিয়াম। শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে ১৯৬৬ বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ২-০ হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবার প্রথম তিনে শেষ করল বেলজিয়াম৷ তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপ থেকে অন্তত ২৪ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানি নিয়ে যাওয়া নিশ্চিত হলো দলটির। চতুর্থ হয়ে ইংল্যান্ড পাবে ২২ মিলিয়ন ডলার।

    নিয়মরক্ষার ম্যাচে এদিন ৪ মিনিটে থোমাস মুনিয়েরের গোলে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। নাসের চ্যাডলির যোগান দেওয়া বলে লক্ষ্যভেদ করেন এ ডিফেন্ডার। এটি ছিল বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের দ্রুততম গোল। ১২ মিনিটে বেলজিয়ামকে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে দেননি জর্ডান পিকফোর্ড। রোমেলু লুকাকুর পাস দেওয়া বলে শট নিয়েছিলেন কেভিন ডি ব্রুইন। তার শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ইংলিশ গোলরক্ষকের বাধায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

    এরপর ইংল্যান্ড ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বারবার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গিয়েছিল বেলজিয়াম।

    ৭০ মিনিটে ইংল্যান্ডের নিশ্চিত গোল হতে দেননি অ্যাল্ডারওয়েইরেল্ড। ডায়ারের তুলে দেওয়া বল বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে ঢোকার মুখে গোললাইনে দুর্দান্ত ব্লক করেন এই ডিফেন্ডার। ৭৩তম মিনিটে আবারও সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু এবারও ব্যর্থ হয় তারা।

    এরপর ম্যাচের ৮২তম মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনার কাছ থেকে পাস পেয়ে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বল জালে পৌঁছে দেন এডেন হ্যাজার্ড। ম্যাচের বাকি সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম। এই জয় আসরে তৃতীয় হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বেলজিয়ামকে। আর ইংল্যান্ডকে আবারো হতাশ হতে হয়েছে।

    এবার দিল্লি জামে মসজিদকে মন্দির দাবি বিজেপি নেতার

    বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বিজেপি নেতা বিনয় কাটিয়ার দুর্নাম আজকের নয়। উত্তর প্রদেশের রাজ্যসভার সদস্য বিনয় উত্তপ্ত ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্য পরিচিত।

    সম্প্রতি, দিল্লি জামে মসজিদের স্থানে আগে যমুনা দেবির মন্দির ছিল এমন মন্তব্য করে তিনি যেন ভিমরুলের চাকেই ঢিল মারলেন।

    কাটিয়ার দাবি, ভারতে প্রায় ৬ হাজার স্থান আছে যেগুলো মোঘল শাসকদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। দিল্লি জামে মসজিদ মূলত যমুনা দেবির মন্দির ছিল, তাজমহল যেমন ছিল তেজো মহালয়া।

    ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় এই দাবি করেন বিনয়।

    এর আগেও ভারতের বেশ কিছু আইনপ্রণেতা মুসলমানদের জন্য তাৎপর্যপূণ স্থাপনায় আগে হিন্দুদের পবিত্র স্থাপনা ছিল এমন মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়েছিলেন।

    বিনয় কাটিয়ার সর্বশেষ মন্তব্য যেন সে পালে হাওয়া দিয়েছে। বিশেষ করে বাবরি মসজিদ ধ্বংসযজ্ঞের ২৫ বছর পূর্তির পরদিনই এমন মন্তব্য নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমেও সমালোচনা হয়েছে।

    ভারতের রাজনীতিবিদদের একটি অংশ মুসলিম শাসকদের দ্বারা হিন্দুরা লুণ্ঠনের শিকার হয়েছিল দাবি করে, দখলকৃত বিভিন্ন স্থাপনা উদ্ধারের কথা বলে আসছে। বিনয়ে মন্তব্য এর সবশেষ সংযোজন।

    রাখাইনে ফিরেছে ৫ শতাধিক হিন্দু রোহিঙ্গা

    রাখাইনের সহিংসতা থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া হিন্দু বাসিন্দারা নিজেদের গৃহে ফিরতে শুরু করেছে। ৫ শতাধিক হিন্দু এ পর্যন্ত নিরাপদে নিজেদের এলাকায় ফিরেছে।

    রাখাইনের হিন্দু সম্প্রদায়ের এসব বাসিন্দা রাজ্যটির রাজধানী সিত্তেতে আশ্রয় নিয়েছিল। তারা প্রায় সবাই মংডুতে ফিরে এসেছে। অবশ্য ২১ পরিবারের ৮০ বাসিন্দা এখনো সিত্তের একটি মন্দিরে আশ্রয় নিয়ে আছে। রাখাইন রাজ্য সরকারের অনুরোধে হিন্দুরা নিজেদের বাড়িতে ফিরে এসেছে।

    স্থানীয় হিন্দু নেতা নি ম বলেন, যাদের বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে, তাদের আপাতত মংডু জেলা পরিষদ ভবনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার তাদের চাল, তেল, নুডলস এবং লবণ সরবরাহ করছে।

    তিনি আরো বলেন, ‘তবে ভয়ে এখনো মানুষ তাদের বসতভিটায় ফিরতে চাইছে না। তারা সরকারের কাছে নিরাপত্তার জন্য আবেদন করেছে।’

    ম্যাগ হ্লা নামের স্থানীয় এক হিন্দু নেতা বলেন, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় হিন্দুদের ফিরে আসার জন্য রাখাইন সরকারই অনুরোধ জানিয়েছে। স্থানীয় সরকার হিন্দুদের জন্য খাদ্য, আশ্রয় এবং নিরাপত্তাদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    হ্লা বলেন, ‘তবে আপাতত ভয়ে তারা তাদের আসল বাড়িতে ফিরতে চাইছে না। এদের অনেকেই মুসলিমদের প্রতিবেশী। মূল সমস্যা নিরাপত্তা।’

    রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর নিরাপত্তা অভিযানের পর মংডুতে বসবাসরত হিন্দু রোহিঙ্গাদের অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য রাজধানী সিত্তে চলে যায়। সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে মুসলিম রোহিঙ্গারা।

    চলতি বছরের আগস্ট থেকে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৬ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম। আগে থেকেই দেশে ছিল আরো ৩ লাখ। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্যরা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসে তারা।

    মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দাবি, রাখাইনে অন্যায় কিছু করেনি তারা। অবশ্য জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন ওই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এছাড়া মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ‘মিয়ানমারে গণহত্যার বিষয় উড়িয়ে দেয়া যায় না’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সংলাপেই হবে: চীন

    রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান সংলাপের মাধ্যমে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা সফররত চীনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের আদর্শিক অবস্থান হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শান্তি বজায় রাখা। চীন মনে করে সংলাপই হলো রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র শান্তিপূর্ণ সমাধান। সম্প্রতি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে দেশটি যে নীতি ও পরিকল্পনা নিয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করতেই চীনের সহকারী মন্ত্রী ইয়াজুন বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এসব কথা জানান।
    চীনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুনের কাছে জানতে চাওয়া হয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের অবস্থান কি। এর জবাবে ওয়াং ইয়াজুন বললেন, চীন প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শান্তি দেখতে চায়। তিনি আরো বলেন, চীন সরকার বিশ্বাস করে সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশে শান্তি বজায় থাকা।
    চীন মনে করে ভালো এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশী পাওয়া একটা দেশের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। চীন সব সময়ই সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে যেন প্রতিবেশী দেশে শান্তির পরিবেশ বিরাজ করে।

    ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে ১৩ লাখ শিশু

    অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নানা ধরনের কাজে বা শ্রমে নিয়োজিত। ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রমিকের সংখ্যা কমলেও এখনো শিশু শ্রমিকের সংখ্যা কমেনি। ১৮টি খাতে এখনো দেশে পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার শিশু কর্মরত, যাদের মধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত আছে বলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে। এ দিকে, সরকার এখন এই শিশুশ্রম বন্ধে ৮৭৮ কোটি ৫৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম-সংশ্লিষ্ট খাত থেকে এক লাখ শিশুশ্রমিককে প্রত্যাহার করে নেয়া।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শিশুশ্রম জরিপের তথ্যানুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ৭ বছরের শিশুর সংখ্যা ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৪, যার মধ্যে কর্মক্ষম শিশুর সংখ্যা হলো সাড়ে ৩৪ লাখ, যাদের বয়স পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে। এদের মধ্যে ১৭ লাখ শিশু রয়েছে, যাদের কাজ শিশুশ্রমের আওতায় পড়েছে। বাকি শিশুদের কাজ অনুমোদনযোগ্য। আর প্রায় ১৩ লাখ ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। এসব শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকার কারণে তাদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা দেশের সংবিধানের মৌলিক ধারার সাথে সাংঘর্ষিক।
    জরিপের তথ্যানুযায়ী মোট কর্মক্ষম শিশুদের মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ২৪ লাখ ৭০ হাজার, শহরে ৫ লাখ ৭০ হাজার এবং সিটি করপোরেশনে ৪ লাখ ৩০ হাজার। এদের মধ্যে ছেলে শিশু হলো ২১ লাখ এবং মেয়ে শিশুর সংখ্যা হলো সাড়ে ১৩ লাখ। এসব শিশু শ্রমিক কাজ করছে বাসাবাড়িতে, কৃষিতে, উৎপাদনমুখী শিল্পে, নির্মাণ শিল্পে, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়, পরিবহনে।
    কৃষিতে ৩৬.৯ শতাংশ, উৎপাদনমুখী শিল্পে ২৭.৩ শতাংশ, বন বিভাগ, মৎস্য খাতে ২৭.৪৬ শতাংশ, ১৭.৩৯ শতাংশ কাজ করছে সেবা ও পণ্য বিক্রিতে। তবে বিবিএসের ২০০৩ সালের জাতীয় শিশুশ্রম সমীক্ষায় দেখা গেছে, তখন প্রায় ৭৪ লাখ কর্মরত শিশু ছিল। তাদের মধ্যে ৩১ লাখ ৭৯ হাজার শিশুর কাজ শিশুশ্রমের আওতায় ছিল। তবে এক দশকের ব্যবধানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের সংখ্যা কমেছে মাত্র ১১ হাজার। ২০০৩ সালে দেশে ১২ লাখ ৯১ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ছিল।
    এ দিকে, ১৮তম আন্তর্জাতিক শ্রম পরিসংখ্যানবিদদের সম্মেলন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং ২০১৩-এর সংশোধন অনুসারে কর্মরত শিশু বলতে বোঝায়, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টা পর্যন্ত হালকা পরিশ্রম বা ঝুঁকিহীন কাজ করে। এই শ্রম অনুমোদনযোগ্য। আর ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী কোনো শিশু যদি কোনো ধরনের ঝুঁকিহীন কাজও করে, তবে তা শিশুশ্রম হবে। ওরাও কর্মরত শিশুদের মধ্যে পড়ে যায়। অন্য দিকে, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী কেউ যদি সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টার বেশি কাজ করে, তা ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম হিসেবে স্বীকৃত।
    বিবিএসের জরিপের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮টি খাতে ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৯৪ জন শিশু ‘শিশুশ্রমে’ নিয়োজিত রয়েছে। তাদের মধ্যে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৯০ জন মেয়ে শিশু। শিশুশ্রম বেশি দেখা গেছে কৃষিক্ষেত্রে ও কলকারখানায়, সেখানে ১০ লাখের বেশি শিশু কাজ করে। সবচেয়ে বেশি সাড়ে পাঁচ লাখ শিশু উৎপাদন খাতে বা কলকারখানায় কাজ করে। আর কৃষি খাতে কাজ করে পাঁচ লাখ সাত হাজার শিশু। দোকানপাটে ১ লাখ ৭৯ হাজার শিশু, নির্মাণশিল্পে ১ লাখ ১৭ হাজার শিশু কাজ করে। শিশুশ্রমে নিয়োজিতদের ৫৭ শতাংশের কাজই অস্থায়ী।
    বর্তমানে শিশুশ্রমে নিয়োজিত আছে এমন ১০ লাখ ৭০ হাজার শিশু একসময় স্কুলে গেলেও এখন আর যায় না। আর ১ লাখ ৪২ হাজার শিশু কখনোই স্কুলে যায়নি। এসব শিশুর সবাই দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা বাদ দিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।
    সরকারের নেয়া নতুন কর্মসূচি হিসেবে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০ হাজার শিশু, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩০ হাজার শিশু, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩০ হাজার শিশু এবং ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ২০ হাজার শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা হবে। এই প্রকল্পটির কাজ দেশের ১৪টি জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। আর সেগুলো হলোÑ কুমিল্লা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও চট্টগ্রামে।
    সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন, বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের তৈরী পোশাক খাত ও চিংড়ি রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকাগুলোয় পুরোপুরিভাবে শিশুশ্রম মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তারা স্বীকার করছেন, কৃষি খাতসহ বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতগুলোতে অনেক শিশু শ্রমিক হিসেবে এখনো নিয়োজিত রয়েছে।

    আর সংশ্লিøষ্টরা বলছেন, দেশে শিশুশ্রম কমছে, তবে তা প্রত্যাশিত নয়। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলেও শিশু শ্রমিকের সংখ্যা উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে অল্প বয়সী এসব শিশু অমানবিক পরিশ্রম করছে। এই শ্রম বন্ধে কঠোর আইন থাকলেও তার প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন না থাকায় শিশুশ্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না।
    শিশুশ্রম বন্ধে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করে জোরালভাবে তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা শিশুদের শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করে, তাদের সচেতন করতে মন্ত্রণালয় থেকে নোটিশ জারি করতে হবে। জাতীয় শিশুনীতিতে এটা স্বীকার করা হয় যে, অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে শিশুরা নানা শ্রমে নিয়োজিত হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাম-শহরের কোনো ভেদ নেই।

    সৌদি আরবে গ্রেপ্তার ৩৬ হাজার ৭০০ প্রবাসী

    আবাসন ও শ্রমনীতি লঙ্ঘন করার দায়ে প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০ প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি আরব। দেশটিতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অধীনে বিভিন্ন রাজ্য থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার এই অভিযানের ৬ষ্ঠ দিন ছিল। এ খবর দিয়েছে সৌদি গালফ। পুলিশের ডাইরেক্টর মেজর জেনারেল সালেহ সুলাইমান আল কারজাই বলেন, অভিযানে সংশ্লিষ্ট অপরাধকর্মে জড়িত ৬৩ জন সৌদি নাগরিককেও আটক করা হয়। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক অবৈধ বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
    তিনি বলেন, অভিযানের প্রথম চার দিনে ৬ হাজার ৬৩৫টি ট্রাফিক আইন অমান্য করার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র মেজর জাইদ আল দাব্বাস অবৈধ প্রবাসীদের আশ্রয় না দেয়া ও তাদের নিরাপদে সরে পড়ার সুযোগ না দিতে সৌদি আরবের নাগররিকদের সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, নির্দেশ অমান্য করে কেউ অবৈধ প্রবাসীদের সাহায্য করলে তাকে জরিমানা ও জেলে পাঠানো হতে পারে। সৌদি আরবের মদিনা শহরে ১ হাজার ১৩০ জন্য আইন অমান্যকারীকে আটক করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের শাস্তি হিসেবে জরিমানা, জেল বা নির্বাসনে পাঠানো হতে পারে। আরেক মুখপাত্র মেজর হোসেইন আল কাহতানি বলেন, মদিনার উপকণ্ঠে কিছু শহর ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় অভিযান চালানো হয়। এছাড়া, তাবুকে বিভিন্ন দেশের ৫৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে আটকদের ২২ হাজার ৮৫ জনকে আবাসন নীতি লঙ্ঘন করার দায়ে, ৬ হাজার ৮৭৪ জনকে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ও ৭ হাজার ৬৯৭ জনকে শ্রমনীতি ভঙ্গ করার জন্য আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত শাস্তি হিসেবে বিভিন্ন দেশের ৪ হাজার ৪৫৭ জনকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আর তাৎক্ষণিকভাবে সাজা দেয়া হয়েছে ৩ হাজার ২২৩ জনকে।

    লন্ডন মহানগর বিএনপির উদ্যোগে তারেক রহমানের ৫৩ তম জন্মদিন পালন

    বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নায়ক তারেক রহমানের ৫৩ তম জন্ম বার্ষিকীতে উৎসব মুখর পরিবেশে পালন করছে লন্ডন মহানগর বিএনপি রাত ১২ঃ১ মিনিটে কেক কাটছেন লন্ডন মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

    কেন্দ্রীয় বিএনপি আন্তরজাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ বিএনপি সভাপতি এম এ মালিক, সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, লন্ডন মহানগর বিএনপির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক আবেদ রাজা ও সাংগঠনক সম্পাদক খালেদ চৌধুরী, সহ সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল কুদ্দুছ , সহ-সভাপতি সাহেদ উদ্দিন চৌধুরী, শরীফ উদ্দিন ভুঁইয়া বাবু , আব্দুর রব, তপু শেখ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আহমেদ, রোমান আহমেদ চৌধুরী, সোহেল শরীফ মোহাম্মদ করিম, সহ-সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন আজির নজরুল ইসলাম খান, তুহিন মোল্লা, এম এ তাহের. সোহেল আহমেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল হক জামান, তোফায়েল হোসেন মৃধা, আবু তাহের, জামাল উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ মোঃ জিয়াউর রহমান, দফতর সম্পাদক নজরুল ইসলাম মাসুক.প্রচার সম্পাদক ময়নুল ইসলাম , সহ-প্রচার সম্পাদক মোঃ সেলিম মাহমুদ, সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাকসুদুল হক , সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান মইনুল হক উজ্জ্বল, সহ-পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আকবর , ক্রীড়া সম্পাদক সৈয়দ আতাউর রহমান ,সহ-সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশিক বক্স, প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদিন , ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মহসিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবু নোমান, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন , সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ওমর গনি , কার্যনির্বাহী সদস্য জি এম শাহরিয়ার অপু.ফখরুল ইসলাম , রেজাউর রহমান চৌধুরী রাজু , শাকিল আহমদ.হাসান জাহেদ পমুখ ।

    এই দিকে আগামী ২২শে নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যা ৭ ঘটিকার সময় হোয়াইটচাপল বি এন পি অফিসে তারেক রহমান এর রাজনীতিক জীবনী উপর আলোচনা সভার আযোজন করা হয়েছি , এতে সকলকে উপস্হিত থাকাতে অনুরোধ করা হচ্ছে ।

    অবৈধ অভিবাসী অভিযানে মালয়েশিয়ায় বহু বাংলাদেশি আটক

    মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী আটকের লক্ষ্যে পরিচালিতো অভিযানে বাংলাদেশিসহ প্রায় চার শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন। জানা যায়, অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিরা ছিলেন। রাজধানী কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাং’র জালান আলোতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে দফায় দফায় রাত ৯টা পর্যন্ত অভিযান চলে। অভিযানটি পরিচালনা করেন দেশটির ইমিগ্রেশন, ডিবিকেএল, পুলিশ, জেনারেল অপারেশন সোর্স ও মালয়েশিয়ার কোম্পানি কমিশনের সমন্বয়ে কয়েকটি সংস্থার মোট ২৬৭ জন কর্মকর্তা। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মোস্তফার আলি জানিয়েছেন, আটককৃতরা বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত, ওমান ও অন্যান্য দেশের নাগরিক। যৌথ এ অভিযানের সময় ৪৪০ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮৯ জন পুরুষ, ৪৭ জন নারী ও ৪ জন শিশু। আবারো পিছিয়ে যাচ্ছে মালেশিয়ায়কর্মী নিয়োগ শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়ায় আবারও সরকারিভাবে মালেশিয়ায় কর্মী নিয়োগ পিছিয়ে যাচ্ছে। একই কারণ দেখিয়ে মালেশিয়া সরকার ২৩৯ জনের একটি তালিকা ফেরত পাঠিয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো(বিএমইটি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর সত্যতা স্বীকার করেন খোদ বিএমইটির মহাপরিচালক শামছুন নাহার। তিনি জানান, ২৩৯ জনের তথ্যগত কিছু ভুল থাকায় তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে আমাদের প্রথম ফ্লাইট মালেশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করবে। সবশেষ গত ২৭ মার্চ ৩০০ জনের প্রথম ফ্লাইটটি আকাশে উড়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তখন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এদের পাঠানো হবে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক ড. নূরুল ইসলাম জানান, সময় মতো ভিসা না আসায় প্রথম ফ্লাইটের কর্মীদের মালেশিয়া যাওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, মালেশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। লটারিতে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী কর্মীদের থেকে সাত হাজার ৪২২ জনের সঠিক তথ্য সম্বলিত একটি তালিকা মালয়েশিয়া সরকারের নিকট পাঠানো হয়। ভিসা আসলেই তাদের চলে যাওয়ার কথা ছিল। পরে চূড়ান্ত লটারিতে বিজয়ী ১০ হাজার জনের তালিকা পাঠানোর কথা রয়েছে। গত ২৪ মার্চ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংসস্থান মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছিলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মালেশিয়ায় শ্রমিকরা যাবে। তথ্যে ভুল হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা মালয়েশিয়া মানবিকভাবে দেখেছে। শ্রমিকদের নাম, পিতার নাম, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, জন্ম তারিখ ইত্যাদি তথ্যে ভুল হয়েছে। তা সংশোধনের চেষ্টা চলছে।’ দীর্ঘ পাঁচ বছর বন্ধ থাকার পর গত বছর ২২ অক্টোবর সরকারি পর্যায়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। প্রথম ধাপে কৃষি খাতে ১০ হাজার শ্রমিক নেয়ার চাহিদাপত্র পাঠায় মালয়েশিয়া সরকার। সরকারিভাবে শ্রমিকদের মালয়েশিয়া যেতে জনপ্রতি মোট খরচ হবে ৪০ হাজার টাকা।

    ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি নিয়ে তোলপাড়

    মানিকগঞ্জে নাগ জুয়েলার্সে ফিল্মি স্টাইলে ককটেল ফাটিয়ে এবং পিস্তল উঁচিয়ে ৭শ’ ভরি স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সর্বত্র চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। পুলিশ ও ডিবি পুলিশের দুই কোটি টাকার চাঁদা দাবির বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। এদের মধ্যে একজন দেশে থাকলেও আরেকজন রয়েছেন ১০ দিনের ছুটিতে দেশের বাইরে। ডাকাতির ঘটনা আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুই কর্মকর্তার দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি এখন ‘টক অব দ্য মানিকগঞ্জ’।
    মানিকগঞ্জ জেলা স্বর্ণশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঘুনাথ রায় বলেন, গেল মাসের ৮ই নভেম্বর মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আব্দুল আউয়াল আমাকে এবং সভাপতিকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
    আমরা নাকি অবৈধ স্বর্ণের ব্যবসা করছি, চোরাই স্বর্ণ কিনছি, এসিড ব্যবসা করছি এবং ভারতীয় নাগরিক দিয়ে কাজ করাচ্ছি। এসব নানা অভিযোগ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালান তারা। এসব অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে হলে ওই দুই কর্মকর্তাকে ২ কোটি টাকা দিতে হবে। নইলে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানো হবে।
    স্বর্ণশিল্পী সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান তোতা বলেন, ৯ই নভেম্বর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আব্দুল আউয়াল আবারো আমাদের দুই জনকে তার অফিসে ডেকে নেন। এসময় ছিলেন এনএসআই-এর সহকারী পরিচালক চৌধুরী আসিফ মনোয়ার। তারা দুজন মিলে আমাদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন আর দুই কোটি টাকা দাবি করেন। তারা আমাদের দুই জনের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নেন।
    এক পর্যায়ে আমরা ৫০ হাজার টাকা দিতে চাইলে চৌধুরী আসিফ আমাদের বলে উঠেন, আমরা কি ফকিরের ভিক্ষা চাচ্ছি? এ কথা শোনার পর আমরা সেখান থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করি। পরে ওই দুই কর্মকর্তা মিনিট কয়েক পর আবারো আমাদের ডেকে নিয়ে টাকার পরিমাণ কমিয়ে সর্বশেষ ৭০ লাখ টাকা ধার্য করে দেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে আমাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে জানাবো বলে সেখান থেকে বের হয়ে আসি। বিষয়টি আমরা আওয়ামী লীগের এক নেতাকে জানাই। পরে দোকান ভেদে চাঁদা তোলার কাজও চলছিল। তার আগেই নাগ জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়ে গেল।
    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আব্দুল আউয়াল তার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নেতাদের আনা অভিযোগের বিষয়ে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণশিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তার অফিসে ডেকে আনা হয়েছিল ঠিকই। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা অবৈধ স্বর্ণের ব্যবসা, অনুমতি ছাড়া এসিড ব্যবহার এবং চোরাই স্বর্ণ কেনেন। শুধুমাত্র এসব বিষয় জিজ্ঞাসা করা হয়। আমার সঙ্গে ছিল জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহকারী পরিচালক চৌধুরী আসিফ মনোয়ার। তাদের কাছে কোনো টাকা পয়সা চাওয়া হয়নি। তবে পরে এনএসআই কর্মকর্তা আসিফ কোনো টাকা চেয়েছিল কিনা সেটা আমার জানা নেই।
    ঘটনা সম্পর্কে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমি কাউকে ছাড় দেই না। যদি এই ঘটনার সঙ্গে পুলিশ কিংবা রাজনৈতিকসহ যে কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের অবশ্যই কোর্টে পাঠাবো। দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ডাকাতির সঙ্গে জড়িত আরো দুজনকে গ্রেপ্তার এবং লুট হয়ে যাওয়া আরো কিছু স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। বাকিদেরও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ধরা হবে।
    ওদিকে এনএসআই-এর সহকারী পরিচালক চৌধুরী আসিফ মনোয়ার এখন স্ত্রী নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির সময় হাতে লেখা বিশেষ টোকেন দিয়েছিলেন চৌধুরী আসিফ মনোয়ার। টোকেনে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর ছিল। টোকেনের এক পাশে স্বর্ণ ব্যবসায়ী দুই নেতার স্বাক্ষরও রয়েছে। ওই টোকেনকে কেন্দ্র করে এখন রহস্য আরো জোরালো হয়ে উঠেছে।
    টোকেন সম্পর্কে স্বর্ণশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঘুনাথ বলেন, আমাদের কাছে ওই টোকেন দেয়া হয়েছিল যাতে চাঁদার টাকা জোগাড় হলে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি। টোকেনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর কিভাবে এলো এ প্রসঙ্গে রঘুনাথ রায় বলেন, আমরা যখন পুলিশ সুপার মহোদয়কে বিষয়টি জানাই তখন পুলিশ সুপার আমাদের কাছে জানতে চান কে টাকা চেয়েছে। তখন তাকে টোকেনটি দেখালে তিনি সেটাতে আমাদের স্বাক্ষর নেন।
    ওদিকে গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের স্বর্ণকারপট্টির নাগ জুয়েলার্সে সশস্ত্র ডাকাতি হয়। লুট হয়ে যায় প্রায় ৭০০ ভরি স্বর্ণালংকার। ওই দিন রাতে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতদের একটি মাইক্রোবাস থামানো হলে ডাকাতদের সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময় হয়। এসময় দুজন এসআইসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন।

    ৩৫ লাখ টাকার মোবাইল

    চারপাশ স্বর্ণে মোড়ানো। স্ক্রিনটি নীলকান্তমণির। কিপ্যাডে রয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ ক্যারটের রুবি পাথর। পুরো কাঠামো উত্তর ইউরোপের বিশেষ হার্ডকাট চামড়া ও প্ল্যাটিনাম ধাতুর মিশেল। এটি একটি মোবাইল ফোন সেট। দাম প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
    এতো দামি উপাদানে তৈরি যেই মোবাইল ফোন সেট, তাতে নেই কোনো ক্যামেরা। মাইক্রো
    এসডি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে বাড়ানো যায় না ইন্টারনাল স্টোরেজ। নকিয়া ব্র্যান্ডের ‘ভারটু’ নামের এই মোবাইল ফোন সেটটির দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ১২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১ দশমিক ৬৫ ইঞ্চি এবং পুরু শূন্য দশমিক ৫১ ইঞ্চি। বিলাসবহুল এই মোবাইল ফোনের বিক্রেতা কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান নয়। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীই এর বিক্রেতা। আনা হয়েছে দেশের গ্রাহকের জন্যই। এ মোবাইল ফোন সেটকে ঘিরে চলছে তদন্ত। তদন্ত চালাচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গোয়েন্দারা বলছেন, মোবাইলটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গুলশান মার্কেটের ‘ফোন এক্সচেঞ্জ’। প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের একাধিক বিলাসবহুল মোবাইল ফোন সেট বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। মোটা অঙ্কের শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাইপথে আনা এসব মোবাইল নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছেন তারা। আগামী বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির মালিক সারোয়ার হায়দারকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে অভিযান চালিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিলাসবহুল নকিয়া ব্র্যান্ডের এই ‘ভারটু’সহ প্রায় ২০০ মোবাইল ফোন সেট জব্দ করে। ওই অভিযানে অবৈধভাবে আনা একটি ড্রোনও আটক করা হয়।
    শুল্ক ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর একযোগে গুলশান, বসুন্ধরা সিটি মার্কেট ও ধানমন্ডি এলাকায় অবৈধভাবে আমদানিকৃত মোবাইল ফোন সেট আটকে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ফোর্স এবং বিটিআরসি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসুন্ধরা মার্কেটের ৯টি দোকান, গুলশান এভিনিউর ১টি ও ধানমন্ডির অরচার্ড পয়েন্টে ১টি সহ মোট ১১টি দোকানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চোরাইপথে আনা আইফোন-১০ সহ অন্যান্য বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের প্রায় ২ শতাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে ছিল আইফোন, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮, নকিয়া এক্স ৩, ব্ল্যাকবেরি। আটককৃত মোবাইল সেটগুলোর মধ্যে আইফোন ১০-১৫টি, অন্যান্য মডেলের আইফোন ১১৮টি, অ্যাপল আইপ্যাড ৮টি, স্যামসাং ৫৮টি, নকিয়া ২টি, ব্ল্যাকবেরি ২টি এবং নকিয়া ‘ভারটু’ ব্র্যান্ড। যার মোট বাজারমূল্য ১ কোটি টাকারও অধিক। অভিযানকালে গুলশান মার্কেটের ‘ফোন এক্সচেঞ্জ’ প্রতিষ্ঠানের শোরুম থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক চোরাই মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়। গুলশান ও বসুন্ধরা মার্কেটের ফোন এক্সেচেঞ্জের দু’টো শোরুম থেকে মোট ৮৮টি দামি সেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ‘ফোন এক্সচেঞ্জ’-এর গুলশানের শোরুম থেকে একটি ড্রোনও জব্দ করা হয়। ডিজেআই ব্র্যান্ডের আমদানি নিষিদ্ধ এই ড্রোনটির মডেল জিএল২০০এ।
    তবে আটক এসব মোবাইল পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে আলোড়ন তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটির একই শোরুম থেকে জব্দ করা ‘ভারটু’ ব্র্যান্ডের এক্সক্লুসিভ মোবাইল ফোনসেটটি। কৌতূহল সৃষ্টি করা এই মোবাইল সেটটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, নকিয়ার তৈরি ২৩৮ গ্রাম ওজনের সেটটির পার্শ্বদেহ ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো। এর স্ক্রিনটি সলিড স্যাফায়ার বা নীলকান্তমণি ক্রিস্টালের তৈরি। দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান ধাতু ডায়মন্ডের পরেই অবস্থান এই স্যাফায়ার ক্রিস্টাল বা নীলকান্তমণির। ফলে এতে কোনো দাগ পড়ে না। এর কিপ্যাডে রয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ ক্যারেটের রুবি পাথর। পুরো ফোনটি উত্তর ইউরোপের বিশেষ হার্ডকাট চামড়া ও প্লাটিনাম ধাতুর মিশেলে তৈরি। বিশেষ শ্রেণির ক্রেতাদের ফরমায়েশের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া এই ফোনসেটটি ইংল্যান্ডের সুদক্ষ হস্তশিল্প কারিগর দ্বারা সম্পূর্ণভাবে হাতে তৈরি করা। সেটটির দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ১২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১ দশমিক ৬৫ ইঞ্চি এবং শূন্য দশমিক ৫১ ইঞ্চি পুরু। ক্রেতারা চাইলে নিজেদের পছন্দমতো রঙ এবং সেলাইয়ের নকশার ফরমায়েশও করতে পারেন। এই মোবাইল ফোন সেট সম্পর্কে আরো জানা গেছে, একাডেমি অ্যাওয়ার্ড জয়ী সুরশিল্পী দারিও মারিয়ানেলি এই ফোনের জন্য আলাদাভাবে এক্সক্লুসিভ রিংটোন ও অ্যালার্ট টোন সুর করেছেন যা পরে বিখ্যাত লন্ডন সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার যন্ত্রশিল্পীদের দ্বারা রেকর্ড করা হয়। তবে আশ্চর্য্যের বিষয় হলো এতো মূল্যবান উপাদান যে সেটে রয়েছে, তাতে নেই কোনো ক্যামেরা এবং ইন্টারনাল স্টোরেজ বাড়ানোর জন্য কোনো মাইক্রো এসডি মেমোরি কার্ড ব্যবহার করার অপশন। শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, সেটটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে জানা গেছে, এটির মূল্য ২৬ হাজার ইউরো। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৫ লাখ।
    শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃত এসব পণ্য ক্রয়ে কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ধারণা করা হচ্ছে অবৈধপথে এবং শুল্ক না দিয়ে আনা হয়েছে। বিটিআরসি আইএমইআই পরীক্ষায় জানা গেছে, এগুলো নিবন্ধিত নয়। আর এই নিবন্ধন না থাকার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। বিটিআরসি’র নিবন্ধন না থাকার কারণে এগুলো কোনো সরকারি সংস্থা আইনগতভাবে ট্র্যাক করতে পারে না। গোয়েন্দাদের ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে এই সেটগুলো ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। এদিকে বিলাসবহুল ‘ভারটু’ মোবাইল সেটের ব্যাপারে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে ‘ফোন এক্সচেঞ্জ’-এর মালিক সরোয়ার হায়দারকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য চোরাই পথে আমদানি করা হয়েছে। মোবাইল এক্সেসরিজের ওপর ২৬ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। সে হিসেবে শুল্ক ফাঁকি হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ১০ হাজার টাকার। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয়, এগুলো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তদন্তে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মইনুল খান জানান, ইতিপূর্বেও প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের একাধিক উচ্চমূল্যের মোবাইল এক্সেসরিজ অবৈধপথে আমদানি করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।