• ?????: Carousel Slide Two

    আবারও বাংলাদেশে আসছেন মেসি!

    আরও একবার কিংবদন্তি আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসিকে দেখার সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশ। তবে এবার কোন প্রীতি ম্যাচ নয়, আসতে পারেন ব্যক্তিগত সফরে। ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত পরিচয়ে সংস্থাটির কর্মকাণ্ড দেখতে আসবেন তিনি। মেসি এলে স্বাভাবিকভাবেই যুক্ত হওয়ার কথা শিশুদের সাথে। দীর্ঘ ৭ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে আসছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি- এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।

    বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, কোন ম্যাচ খেলতে নয়। উইনিসেফের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পর্যবেক্ষণের জন্যই বাংলাদেশে আসবেন মেসি। মেসি চলতি মাসের ২২ তারিখ বাংলাদেশে আসছেন। ৪ ঘণ্টার মতো সময় দিবেন তিনি কক্সবাজারে।

    বাংলাদশের মাটিতে শুধু খেলে যাওয়া নয়, বিশ্বকাপ নিয়েও লাল সবুজ দেশটির সাথে পরিচিত এই তারকা। মেসির ফেসবুক পেজে কিছুদিন আগেই শেয়ার কার হয়েছিলো আর্জেন্টিনা নিয়ে এদেশের দর্শকদের উন্মাদনার কথা। তাই মেসির আসার গুঞ্জনই তৈরি করছে অন্যরকম উন্মাদনা। আগামী ২২ জুলাই তার আসার সম্ভাব্য তারিখ হলেও তা এখনও ঝুলে আছে অনেক ‘যদি/কিন্তু’র উপর।

    এদিকে মেসির সফর নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ ইউনিসেফের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি মেসির সফরের বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন ইউনিসেফের মুখপাত্র অ্যালিস্টার লওসন। কিছু দিন আগে এই রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করে গিয়েছেন ঢালিউড ও হলিউডের নায়িকা প্রিয়াংকা। এর আগে ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নাইজেরিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে প্রথমবারের মত ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের সাক্ষী হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম।

    গ্রীনল্যান্ডের গ্রামের দিকে ভেসে আসছে বিশাল আইসবার্গ

    পশ্চিম গ্রীনল্যান্ডের একটি গ্রামের দিকে এত বিশাল একটি আইসবার্গ বা সাগরে ভাসমান বরফখন্ড ভেসে আসছে যে – গ্রামটির কিছু বাড়ির বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে।স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, তারা জীবনে এত বড় আইসবার্গ দেখেন নি।

    ইন্নারসুইট গ্রামটি একটি কোণাকুণি পাথুরে জায়গার ওপর যার তিন দিকেই সমুদ্র। অতিকায় আইসবার্গটি তার চেয়েও বেশি উঁচু। আশংকা করা হচ্ছে, আইসবার্গটি যদি ভেঙে পড়ে তাহলে সাগরে যে ঢেউ তৈরি হবে, তা বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এমন ঘটনা বিরল নয়। গত বছরই উত্তর পশ্চিম গ্রীনল্যান্ডে এক ভুমিকম্পের পর সাগরে যে ঢেউ ওঠে তা মাটির ওপরের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়, এবং চার জন লোক মারা যায়।

    ইন্নারসুইট গ্রামের বাসিন্দা ১৬৯ জন। কিন্তু যাদের বাড়ি সাগরের একেবারে তীরে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে – কারণ আইসবার্গটি তাদের খুব কাছে এসে গেছে এবং এখনো সামনের দিকে ভেসে আসছে। গ্রামের কাউন্সিল সদস্য সুজান এলিয়াসেন স্থানীয় এক পত্রিকাকে বলেছেন – আইসবার্গটির গায়ে ফাটল দেখা যাচ্ছে, তাই আমরা ভয় পাচ্ছি যে এটি যে কোন সময় ভেঙে পড়তে পারে। গ্রামটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র জ্বালানি তেলের ডিপোও সাগরের কাছেই।

    সম্প্রতি বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিয়েছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আইসবার্গ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। জুন মাসেই বিজ্ঞানীরা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন যাতে পূর্ব গ্রীনল্যান্ডে একটি হিমবাহ থেকে এক বিশাল আইসবার্গ আলাদা হয়ে যাবার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। গ্রীনল্যান্ড ঢেকে থাকা বরফের স্তরের আয়তন প্রায় ১৮ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার, এবং বরফের স্তর গড়ে দেড় কিলোমিটারেরও বেশি পুরু ।

    ‘৮ দিন হয়েছে আমার বোনের ৭ টুকরো দেহটি আমাদের কাছে আসেনি’

    মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরের সুঙ্গাই গম্বাকের জালান এলাকার ইপো ব্রিজের নিচে পড়ে ছিল একটি বড় কালো ব্যাগ।প্রথমে ব্যাগটি চোখে পড়ে কৌতূহলী এক ফটোগ্রাফার। স্থানীয়দের কাছে ব্যাগটি কার জানতে চাইলে তারাও এগিয়ে আসে। কে কখন এই কালো ব্যাগটি এখানে ফেলে গেছে কেউই বলতে পারলো না। উৎসাহী কয়েকজন ব্যাগটি টানাটানি করা শুরু করলে টের পেল, ব্যাগটিতে ভারি কিছু রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ আসে। ব্যাগটি খুলতেই বেরিয়ে আসে টুকরো টুকরো এক নারীর টুকরো টুকরো লাশ। আর এই টুকরো করা লাশটি হচ্ছে বাংলাদেশের পটুয়াখালীর মেয়ে সাজেদা ই বুলবুল (২৯) নামে এক গৃহবধূর। নিহত সাজেদা পৌর শহরের পুরাতন আদালতপাড়ার আনিস হাওলাদারের মেয়ে। এখন মেয়ের মরদেহ ফিরে পেতে সাজেদার পরিবারে চলছে আহাজারি।

    নিহতের বোন খাদিজা পারভিন উপমা জানান, সাজেদা বুলবুল বেসরকারি প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম পাস করেন।

    ২০০৪ সালের ২৫ এপ্রিল পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিধাখালী এলাকার সোহরাফ ফকিরের ছেলে শাহজাদা সাজুর সঙ্গে বিয়ে হয় সাজেদার। বর্তমানে তাদের সংসারে মুগ্ধ নামে সাত বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

    বিয়ের পর থেকেই স্বামী কর্তৃক একাধিকবার নির্যাতিত হয় সাজেদা। দেশে থাকাকালীন সাজেদা রাজধানীর একটি থানায় অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।

    কিন্তু উচ্চ ডিগ্রির প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সাজেদার স্বামী শাহজাদা তাকে ফুসলিয়ে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে স্বামী শাহজাদা প্রতিষ্ঠিত হলেও স্ত্রীকে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সুযোগ করে দেয়া হয়নি।

    নিয়মিত নির্যাতন করা হতো সাজেদাক। এমনকি সপ্তাহে দুই-একদিন খাবার দেয়া হতো। এসব ঘটনা মোবাইল ফোনে সাজেদা তার বোন উপমাকে মাঝে মাঝে জানাত।

    পর্যায়ক্রমে স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের মাত্রা বাড়তেই থাকে। স্বামীর এ অন্যায়ের সায় দিত তার পরিবার।

    উপমা আরও জানান, শাহজাদার নির্যাতন সইতে না পেরে এক আত্মীয়ের বাসায় পালিয়ে যায় সাজেদা। সেখানে ২-৩ দিন থাকার পর শাহজাদা তার কাছে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় তাকে বাসায় নিয়ে আসেন।

    এরপর গত ৫ জুলাই মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরের বাসায় নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটে। স্বামী শাহজাদা সাজেদাকে সাত টুকরো করে সেগুলো একটি লাগেজে ভরে জঙ্গলে ফেলে দেয়।

    সেখান থেকে মালয়েশিয়া পুলিশ লাগেজভর্তি লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনার পরে এক নির্ভরযোগ্য লোকের মাধ্যমে খুনের কথা জানতে পারে নিহতের ভাই ফারুক ও পরিবার।

    ফারুক জানান, আজ ৮ দিন হয়েছে আমার বোনের সাত টুকরো দেহটি আমাদের কাছে আসেনি।

    মা মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছয় ছেলেমেয়ের মধ্যে সাজেদা সবার ছোট। উচ্চতর পড়াশোনার প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়েকে বিদেশে নেয়া হয়েছে। আজ আমার মেয়ে মারা গেছে কিন্তু ওর মরদেহটা পর্যন্ত দেখতে পাইনি।

    এ বিষয়ে শাহজাদার বড় ভাই শহিদ ফকির বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর ১০ বছর ধরে শাহজাদার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। আমরা সবাই আলাদা। এ বিষয়ে আমি কিছু যানি না।

    আফগানিস্তানে আরও সামরিক ঘাঁটি তৈরি করবে আমেরিকা?

    আফগানিস্তানে আরো সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে আমেরিকা। পাকিস্তানের সংবাদ সংস্থা পাকট্রিবিউন জানিয়েছে, আমেরিকার একটি জাহাজ নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে করাচি বন্দরে ভিড়েছে। সেখান থেকে ওই সব সামগ্রী আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হবে।

    আমেরিকার সেনাবাহিনী এসব সামগ্রী নিয়ে এসেছে বলে সাংবাদিকরা জানতে পেরেছেন। জাহাজে করে আনা নির্মাণ সামগ্রীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানে এমন সব সামগ্রী রয়েছে যেগুলো সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

    আফগানিস্তানে এর আগেও সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে আমেরিকা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাগরাম বিমান ঘাঁটি এবং কান্দাহার ঘাঁটি। এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে বহু নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে মার্কিন বাহিনী।

    আফগানিস্তানে বর্তমানে আমেরিকার ১৫ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আফগানিস্তানে চলমান সংঘর্ষ ও অনিরাপত্তার পেছনে রয়েছে এসব মার্কিন সেনা।

    ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইনতিফাদা’র ঘোষণা হামাসের, শুক্রবার ক্ষোভ দিবস পালনের আহ্বান

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে নতুন করে অভ্যুত্থান ঘোষণা করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থি শক্তিশালী সংগঠন হামাস। হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়েহ গাজায় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, ইহুদিবাদী শত্রুদের বিরুদ্ধে আরেকটি ইনটিফাদার আহ্বান জানাই আমরা এবং তা চালুর জন্য আমাদের কাজ করা উচিত। মে মাসে হামাসের প্রধান নির্বাচিত হন ইসমাইল হানিয়ে। তিনি ফিলিস্তিনি, মুসলিম ও আরবদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, শুক্রবার দিনটি যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে র‌্যালি করুন আপনারা।
    এ দিনটিকে তিনি ‘ক্ষোভ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণায় বলেন, দখলদারদের বিরুদ্ধে ৮ই ডিসেম্বর হোক আমাদের ইনটিফাদা’র প্রথম দিন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে থাকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলের অস্তিত্ব স্বীকার করে না হামাস। এ সংগঠনের আত্মঘাতী বোমারুরা ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত শেষ ইনটিফাদা’য় সহায়তা করেছিল। ইসমাইল হানিয়ে বলেন, জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের জন্য হুমকি এমন কৌশলগত কোনো বিপদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য সব হামাস সদস্য ও এর শাখা প্রশাখাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদেরকে নতুন নির্দেশনার জন্য পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকা ও ইসরাইল দখলীকৃত পশ্চিম তীরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একীভূত জেরুজালেম হলো আরব ও মুসলিমদের। এটা হলো ফিলিস্তিনি, সব ফিলিস্তিনির রাজধানী। এ সময় তিনি পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রতি আহ্বান জানান ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসতে। আহ্বান জানান ট্রাম্প প্রশাসনকে বর্জনের। ইসমাইল হানিয়ে বলেন, এটা ঘোষণা করা যেতে পারে যে, তথাকথিত শান্তি চুক্তির কবর রচনা হয়েছে। শান্তিচুক্তিতে অংশীদার ফিলিস্তিনি বলে আর কিছুই নেই।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত জামানের খোঁজ মেলেনি, নানা রহস্য

    সোমবার সন্ধ্যায় মেয়েকে আনতে বিমানবন্দরের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। এর কিছুক্ষণ পরই তার ধানমন্ডির বাসায় যান তিন ব্যক্তি। বাসায় ঢুকেই তারা তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যামেরা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এ সময় বাসায় ছিলেন দুই গৃহকর্মী। বাসার ল্যান্ড ফোনে মারুফ জামানের ফোন পেয়েই তারা ওই তিন ব্যক্তিকে বাসায় প্রবেশ করতে দেন। এদিকে বেলজিয়াম থেকে হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বাবার অপেক্ষায় ছিলেন মেয়ে সামিহা জামান।
    কিন্তু তিনি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে এবং বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়ায় উবারে করে বাসায় ফেরেন। বাসায় এসে এম মারুফ জামানকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রাতভর অপেক্ষার পর মারুফ জামানের কোন খোঁজ না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন তার মেয়ে সামিহা জামান। মারুফ জামান কাতার ও ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের বাংলদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের (৬ষ্ঠ শর্ট কোর্স) ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এদিকে মারুফ জামানের নিখোঁজের পর তার ব্যবহৃত গাড়িটি বসুন্ধরা তিনশ’ ফুট রাস্তার পাশ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনে মারুফ জামানের মোবাইল ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে তার সর্বশেষ অবস্থান বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী স্থান কাওলায়। ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, সাবেক এই রাষ্ট্রদূতকে খুঁজে পেতে সারা দেশে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ল্যান্ডফোনে মারুফ জামানের ফোন, সুঠামদেহী তিন ব্যক্তির বাসায় প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং গাড়ি উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
    মারুফ জামান তার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর রোডের ৮৯ নং নম্বর বাড়িতে ছোট মেয়েকে নিয়ে বাস করতেন। ওই বাড়িটির অপর দুই ফ্ল্যাটে তার বড় বোন শাহরিনা কামাল এবং ছোটভাই রিফাত জামান তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বাস করেন। এদিকে নিখোঁজের পর গতকাল বিস্তারিত জানিয়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শাহরিনা কামাল ও রিফাত জামান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করেন, তাদের ভাই গত ৪ঠা ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিয়ে আসার জন্য নিজেই গাড়ি চালিয়ে ধানমন্ডির বাসা থেকে বের হন। তার কিছুক্ষণ পর ৭ টা ৪৫ মিনিটের দিকে তার বাসার ল্যান্ড ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গৃহপরিচারিকাকে জানান, কেউ তার বাসার কম্পিউটার নিতে আসবে। তার কিছুক্ষণ পর রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে তিনজন সুঠামদেহী ব্যক্তি বাসায় এসে তার ল্যাপটপ, বাসার কম্পিউটারের সিপিইউ, ক্যামেরা ও একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায়। এ সময় তারা ঘরে তল্লাশি চালায়। এরপর থেকে জামানের ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়। ডায়রি নং- ২১৩। সন্ধ্যায় গাড়িটি উদ্ধার করা গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এম মারুফ জামানের দুই মেয়ে ও পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন। তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মারুফ জামানের বড় মেয়ে বেলজিয়ামে পড়াশুনা করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে তারা নিখোঁজ মারুফ জামানকে উদ্ধার করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
    এদিকে গতকাল সরজমিন নিখোঁজ মারুফ জামানের ধানমন্ডির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বাড়িটির তৃতীয় তলার ২/এ নম্বর ফ্ল্যাটে বাস করেন। মারুফ জামানের বাসায় কথা হয়, তার মেয়ে সামিহা জামান, গৃহকর্মী লাকি আক্তার ও বাড়ির দারোয়ান মফিজুল ইসলামের সঙ্গে। সামিহা জামান বলেন, তিনি গত ৪ঠা ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে বেলজিয়াম থেকে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে গিয়ে তার বাবা তাকে নিয়ে আসার কথা। তিনি রওনাও দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেক্ষণ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করে এবং বাবাকে ফোন দিয়ে না পেয়ে চাচা রিফাতকে ফোন দেন তিনি। তখন চাচা তাকে উবারে করে বাসায় ফিরতে বলেন। বাসায় এসেও বাবাকে না পেয়ে এবং দারোয়ানের কাছে বের হওয়ার কথা শুনে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে রাতভর কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন মঙ্গলবার থানায় নিখোঁজ জিডি করেন। সামিহা বলেন, গত এক বছরের মধ্যে তার দাদা-দাদি ও মা মারা যাওয়ার পর নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নেন। খুব চুপচাপ থাকতেন। তেমন কারো সঙ্গে মিশতেন না। মাঝে-মধ্যে গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লংলাতে যেতেন। সেখানে নিজেদের সম্পত্তি দেখাশুনা করতেন। মারুফ জামানের মেয়ে আরো বলেন, কারো সঙ্গে বিবাদ ও আর্থিক লেনদেনও ছিলো না তার বাবার। ফলে কে তাকে অপহরণ করতে পারে সে ব্যাপারে কোনো ধারণাই করতে পারছেন না। এছাড়া কখনো এমন কোনো বিষয় তাদের সঙ্গে শেয়ারও করেননি। সামিহা জামান বলেন, তার বাবা বেশির ভাগ সময়ই বাসায় অবস্থান করতেন। বিভিন্ন নিউজ পড়তেন। সমসাময়িক নিউজগুলো গুরুত্ব দিয়ে পড়তেন। তিনি বলেন, তাকে আনতে বাসা থেকে বের হওয়া, বাসায় অন্য নম্বর থেকে ফোন করা, তিন ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ এবং পরবর্তীতে নিখোঁজ হওয়া সবমিলিয়ে তাদের কাছে এক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক আর যারাই তাকে অপহরণ করুক তাদের প্রত্যাশা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজে বের করবেন। যে কোনো মূল্যে তিনি তার বাবাকে ফেরত চান। বাসায় নিয়োজিত দু’জন গৃহকর্মীর একজন লাকি আক্তার জানান, যে তিন ব্যক্তি বাসায় এসেছিলো তারা দেখতে বেশ ফর্সা। ৬ ফুটের মতো উচ্চতা। পরনে কালো শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা ছিলো। তিনি বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মারুফ জামান বের হয়ে যান। এরপর সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় দু’টি অজ্ঞাত নম্বর (একটি ০০০১২৩৪৫৬, অপরটি পি) থেকে ল্যান্ড ফোনে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে স্যার নিজেই বলেন, বাসায় লোক গিয়ে ল্যাপটপটা নিয়ে যাবে। এর আধাঘণ্টা পর তারা বাসায় আসে। এসে কম্পিউটারে সিপিইউ, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও একটি স্মার্ট ফোন নিয়ে যায়। এছাড়া বাসার আর কোনো কিছুই তারা নেয়নি। এই গৃহকর্মী বলেন, যারা এসেছিলো তাদের বয়স ৩০-৩২ বছরের মতো হবে। দেখতে ছিমছাম এই তিনজন ১০-১২ মিনিট বাসায় অবস্থান করে। এই বাসায় তিনি ৮ বছর ধরে কাজ করছেন বলেও জানান লাকি আক্তার। বাসার দারোয়ান মফিজুল ইসলাম বলেন, স্যার আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে বের হয়ে যান। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনজন আসেন। বলেন, মারুফ জামানের বাসায় যাবেন। পরে তিনি ওপরে ইন্টারকমে ফোন দিলে গৃহকর্মী তাদের যাওয়ার কথা বলে। মফিজুল ইসলাম বলেন, তারা ভেতরে যাওয়ার সময় ক্যামেরার সামনে মাথা নিচু করে যায়। বাইরে তাদের কোন গাড়ি ছিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা পায়ে হেঁটে এসেছিলো। তাদের সঙ্গে কোনো গাড়ি দেখেননি। ধানমন্ডি থানার ওসি জানান, তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছেন। কিন্তু বাসায় প্রবেশ করার সময় তাদের মাথায় হ্যাট পরা ছিলো। ক্যামেরার সামনে তারা মাথা নিচু করে। ফলে তাদের কাউকেই চেনা যায়নি। তিনি বলেন, নিখোঁজ মারুফ জামানের ফোন নম্বর ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে, ওইদিন ৭টার পর তার অবস্থান ছিলো কাওলা এলাকায়। তাকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সারা দেশে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে।
    গাড়ি উদ্ধার: এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে মারুফ জামানের গাড়িটি খিলক্ষেত থানাধীন বসুন্ধরার তিনশ’ ফিট রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। খিলক্ষেত থানা সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় ৩০০ ফিট রাস্তায় খিলক্ষেত থানার এসআই এমএ জাহেদ টহল দিচ্ছিলেন। গাড়িটি দেখে তার কাছে গিয়ে তিনি মালিকের খোঁজ করেন। কাউকে না পেয়ে থানায় ডিউটি অফিসারকে ফোন করে কন্ট্রোল রুমে জানান। পরে নিশ্চিত হন গাড়িটি নিখোঁজ সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের। খিলক্ষেত থানার এসআই জাহেদ বলেন, গাড়িটি অক্ষত অবস্থায় রাস্তার পাশে পার্কিং করা ছিল। কোনো দুর্ঘটনা বা অন্য কিছু হয়নি। লক্‌ড অবস্থায় ছিল। লোকজনের উপস্থিতিতে গাড়িটি খুলে ভেতরে শুধু গাড়ির কাগজপত্র পাওয়া গেছে। পরে সেসব জব্দ তালিকা করে খিলক্ষেত থানায় নেয়া হয়।
    তদন্তে ডিবি: সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান নিখোঁজের ঘটনা থানা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড টান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। গতকাল ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি।
    এদিকে মারুফ জামানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয় নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অক্ষত অবস্থায় গাড়িটি পাওয়া গেছে মানে তিনি কোনো দুর্ঘটনায় পড়েননি। অথবা গাড়ি চোর বা ছিনতাই চক্রের হাতেও পড়েননি। তাহলে তারা গাড়িটি রাস্তার ধারে ফেলে রাখতো না। এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে। এছাড়া বাসায় প্রবেশ করা তিন ব্যক্তি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের বর্ণনা ও ব্যক্তিগত জিনিস নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
    উল্লেখ্য, মারুফ জামান ২০০৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূত, যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসরে যান।

    মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে নাটোরে মামলা

    বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে নাটোরে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করা হয়। নাটোরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর আদালতে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলাটি দায়ের করেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা শাখার এ্যাডভোকেট মালেক শেখ। এসময় আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে নাটোর সদর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
    মামলার বাদী এ্যাডভোকেট মালেক শেখ জানান, গত ১লা ডিসেম্বর ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি সেমিনারে মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবার নিয়ে কটূক্তি করে সম্মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করেছেন। সেই বক্তব্যে তিনি বঙ্গবন্ধুর পরিবার সম্পর্কে মিথ্যাচার, কটূক্তি এবং মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করে বাংলাদেশকে ভারতের কলোনি বলে আখ্যায়িত করেছেন।
    এদিকে দাউদকান্দি প্রতিনিধি জানান, একই অভিযোগে কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী।
    তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    সেনাবাহিনীর গণধর্ষণ ও যৌন হামলার শিকার রোহিঙ্গা নারীরা

    মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশটির রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও তাদের ওপর অন্যান্য যৌন সহিংসতা চালিয়েছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সরকারি বাহিনী ও তাদের মদদপুষ্ট উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের দ্বারা এসব অপরাধ সংঘটিত হয়। উদং মংডু এলাকার কলিম উল্লাহর স্ত্রী নুর জাহান (২৮), নুরুস সালামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (২০), রাজারবিল মংডু এলাকার হাজেরা খাতুন (১৮), মংডু হাইচ্ছুরতা এলাকার দিলদার বেগম (৩৩), তার মেয়ে ফাতেমা বেগম (১৪), চানছি মিঙ্গিজী পাড়া বুচিডং এলাকার ছমিরাসহ (২৫) অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
    তারা আরো জানান, রাখাইনে মংডু জেলার প্রতিটি গ্রামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড পুলিশ ও বৌদ্ধ যুবকেরা ধর্ষণ, গণধর্ষণ, আগ্রাসিভাবে দেহ তল্লাশি ও যৌন হামলায় অংশ নেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্যরা গোষ্ঠীবদ্ধভাবে হামলা চালিয়েছেন। বন্দুকের নলের মুখেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
    তারা জানিয়েছেন- প্রথমে সেনাবাহিনী তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। এরপর ছেলে ও মেয়েদের আলাদা রাখা হয়। সেনাবাহিনী কখনো গুলি চালাতো, নারী বিশেষকরে তরুণীদের ধর্ষণ করত।
    ২০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা তরুণী আয়েশা বলেন, ‘সেনাবাহিনী নারীদের এক জায়গায় জড়ো করে বাঁশের লাঠি ও বুট দিয়ে মারধর করে। এরপর আমাকেসহ আমার বয়সী ১৫ জনকে আলাদা জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর একের পর এক আমাদের ওপর নির্যাতন চলে।’
    নুরে জান্নাত নামের ৪০ বছর বয়সী এক নারী বলেন- ‘২০ জন সৈনিক আমাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। এরপর আমাকে ও আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। তারা আমাকে একটি বাড়ির আঙ্গিনায় নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় দুই সৈনিক আমার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রেখেছিল। এরা আমার স্বামীকে আমার চোখের সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে।’
    রাখাইনে নৃতত্ত্ব ও ধর্মের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ওপর পদ্ধতিগত হামলা হয়েছে বলে নতুন প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উঠে এসেছে। মানবাধিকার ও সুশীল সমাজ বলছে, নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা চালানোর বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ও বিকৃত ইতিহাস রয়েছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো লোমহর্ষক হামলা বর্বরতার নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।
    এখনো গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গারা আসছে
    মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্মূলে এখনো বাড়িঘরে আগুন, নারীদের ধর্ষণ ও নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। বুলেটের আঘাত থেকে শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কাউকেই রেহাই দেয়া হচ্ছে না। বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
    জানা গেছে- আরাকান রাজ্যের মংডুর পরিতিবিল, রাজারবাড়ি, সাববাজার, টংবাজার, বুচিডংসহ প্রতিটি পাড়া আগুনে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় মগরা সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে মংডুর রাখাইন রাজ্যের গ্রামের পর গ্রাম আগুন দিচ্ছে। নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই বাংলাদেশ সীমান্তে বাড়ছে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবি রোহিঙ্গাদের ফের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আবাসস্থলে ফিরলে বার্মিজ সেনাদের গুলি খেয়ে মরতে হবে- এই ভয়ে সীমান্তের নোম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করতে হয়েছে শত শত রোহিঙ্গাকে।
    অবশেষে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের অনুমতি পেয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেয় বিজিবি। গত ১৯ নভেম্বর উখিয়া আন্জুমান পাড়া সীমান্ত দিয়ে আবারো শত শত রোহিঙ্গা প্রবেশ করে। দীর্ঘ ২ মাস ২৫ দিন ধরে এই বর্বর নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ শাহ আলম (৫২) এ প্রতিবেদককে এসব তথ্য জানান।
    কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মিয়ানমারে সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ শত শত রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এমএসএফ হাসপাতালের দায়িত্বরত গোলাম আকবর জানান, মিয়ানমারের গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা পুরুষ, ধর্ষিতা নারীসহ আগুনে পুড়ে যাওয়ার ক্ষত নিয়ে অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
    সীমান্তের ওপারে সহিংসতা শুরুর পর থেকে প্রতিনিয়ত গুরুতর আহত, গুলিবিদ্ধ, আগুনে ঝলছে যাওয়া রোহিঙ্গাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার ও চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরই মধ্যে মিয়ানমারের মংডু থানার দিয়াতলী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে জোনায়েদ (১৫) একই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে জয়নাত উল্লাহ ও হোসেন আহম্মদের ছেলে খালেক হোসেন (২৭) এবং আগুনে পুড়া নুরুল আলম চিকিৎসা শেষে ক্যাম্পে ফিরেছেন।
    সরেজমিন থাইংখালী ময়নাঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে ১৫ বছরের শিশু জোনায়েদের সাথে কথা হয়। সে জানায়, চিকিৎসা নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে আসলেও মাথায় এখনো প্রচণ্ড ব্যাথা হয়। জোনায়েদের মতো অসংখ্য শিশু মিয়ানমার সেনাদের নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে ক্যাম্পে অবস্থান করছে। আবার কেউ কেউ ক্যাম্পে আসার পর মারাও গেছে বলে জানা গেছে।
    রোহিঙ্গা শিশু শফিকার গল্প
    মিয়ানমার সেনা ও উগ্রপন্থি রাখাইনদের নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা ১১ বছরের শিশু শফিকার জীবন চলছে অনিশ্চয়তায়। যে বয়সে মা বাবার আদরে বই-খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে সে ছুটছে এই ক্যাম্প থেকে ওই ক্যাম্পে। পথে দেখা ও কথা হয় এ প্রতিবেদকের সাথে।
    কোথায় যাওয়া হচ্ছে- জানতে চাইলে শিশুটি মায়াবী কন্ঠে জানায়- ‘বাবাকে হারিয়ে মাকে নিয়ে এপারে এসেছি। থাইংখালী ক্যাম্পে খালার বাসায় মাকে রেখে এসেছি। থাকার মতো একটি নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের খোঁজে বেরিয়েছি।’
    বাবার অনুপস্থিতিতে শফিকার চিন্তা অসুস্থ মাকে নিয়ে। খাদ্য, বাসস্থান আর জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছে সে। মা ছাড়া তার পরিবারে আরো তিন ভাই বোন আছে। সে সকলের বড়। পরিবারের ‘প্রধান দায়িত্বে’ থেকে শফিকার সাহসী পথ চলার প্রথম যাত্রায় সামান্য শরিক হয়ে পথ দেখিয়ে দিলাম।
    শফিকার সাথে কলা বলে জানা গেছে- রাখাইনের বুচিডং মিঙ্গিজী পাড়া এলাকায় তাদের সহায়-সম্পদ ছিল। পুকুর ভরা মাছ আর গোয়াল ভরা ধান ছিল। সাজানো সুখী পরিবারে বেশ ভালোই কাটছিল তাদের। মিয়ানমারের সেনা-পুলিশের গুলিতে মারা যায় শফিকার বাবা সোলাইমান। বাবা নিহত হওয়ার পর শফিকার মা সেতারা বেগম বুকের ধন চার সন্তানকে নিয়ে কিছুদিন আগে চলে আসে বাংলাদেশে।
    শফিকা জানায়- মা ও ছোট ভাই বোনদের দেখাশোনা করতে হয় তাকে। খালারা ক্যাম্পে যে পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পায় তা দিয়ে তাদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়, তার ওপর আমরা। তাই ক্যাম্পে নাম লেখাতে যাচ্ছে সে।
    সরকার এখন পর্যন্ত এতিম ও অভিভাবকহীন প্রায় একুশ শ রোহিঙ্গা শিশুকে সনাক্ত করেছে। এসব শিশুদের কারো হয়তো বাবা নেই, কারো মা নেই। আবার কারো মা-বাবা দুজনই নেই। অনেক শিশু আছে যাদের বাবা-মা থাকলেও সীমান্তের ওপারে কিংবা এপারে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এসব শিশুদের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এনে তাদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।

    সৌদি বাদশাহী পাচ্ছেন যুবরাজ সালমান

    সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আগামী সপ্তাহে পদত্যাগ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। তার পদত্যাগের পরই ছেলে মুহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরবের ক্ষমতা নেবেন।

    সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইল এমন খবরই দিয়েছে। খবরে বলা হচ্ছে, নিজের ছেলেকে ক্ষমতায় বসাতে তিনি সরে যাচ্ছেন। ডেইলি মেইলের বরাত দিয়ে বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে। খবরে অবশ্য নির্ভরযোগ্য কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র ডেইলি মেইলকে জানিয়েছে, ‘নাটকীয় কিছু না ঘটলে আগামী সপ্তাহেই ছেলে মুহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বাদশাহ সালমান। ’ পশ্চিমা বিশ্ব ও সাংবাদিকরা মুহাম্মদ বিন সালমানকে সংক্ষেপে ‘এমবিএস’ নামে লিখে থাকেন। ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পর বাদশাহ সালমানের দায়িত্ব হবে অনেকটা ইংল্যান্ডের রানীর মতো। সূত্র জানায়, যদি নাটকীয় কোনো ঘটনা না ঘটে তবে আগামী সপ্তাহে সৌদি আরবের বাদশাহ হতে যাচ্ছেন মুহাম্মদ বিন সালমান। বাদশাহ হিসেবে মুহাম্মদ বিন সালমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘পবিত্র দুই মসজিদের জিম্মাদার’ থাকবেন সালমান বিন আবদুল আজিজ। সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির বাদশাহ পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীর জিম্মাদারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সালমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে এই প্রথমবারের মতো বাদশাহর বাইরে কারও হাতে মসজিদ দুটির দায়িত্ব থাকবে। ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান সাম্প্রতিক সময়ের এক আলোচিত নাম। চলতি মাসের শুরুতে তিনি দুর্নীতিবিরোধী ওই অভিযান শুরু করেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নেতৃত্ব দিতেও তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে কোণঠাসা করতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন। বিন সালমান ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। গত জুনে ক্রাউন প্রিন্স নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে অনেকটা ‘বেপরোয়া’ হয়ে ওঠেন তিনি। এ পর্যায়ে তিনি ২০৩০ সালকে নির্দেশ করে সৌদি আরবের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ ঘোষণা করেন। তেলনির্ভরতা কাটিয়ে, পদ্ধতিগত দুর্নীতি থেকে মুক্তি এবং ধর্মীয় কট্টরপন্থা থেকে বেরিয়ে একটি ‘মধ্যপন্থি’ সমাজে দেশকে উত্তরণের প্রতিজ্ঞাও করেন তিনি। কর্মক্ষেত্রে আরও অধিক হারে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। সম্প্রতি নারীদের গাড়ি চালানো, তাদেরকে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার মতো সুযোগও করে দিয়েছেন তিনি। ডেইলি মেইল

    ৩ জনকে গুলি করে মেরে পুলিশ কর্মকর্তার আত্মহত্যা

    প্রেমের সম্পর্কে বিচ্ছেদের জেরে হতাশ এক পুলিশ কর্মকর্তা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তিন জনকে গুলি করে হত্যা করেছেন। ওই পুলিশ প্রেমিকের নাম অরনাউদ মার্টিন।

    স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনার পরে ও পুলিশ কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন।
    স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ কর্মকর্তা অরনাউদ প্রেমিকার সঙ্গে গাড়িতে ঝগড়া করছিলেন। ঝগড়াল এক পর্যায়ে প্রেমিকার মাথায় গুলি করেন তিনি। এরপর গুলি করেন আরও দুই পথচারীকে। তার নির্বিচার গুলিতে আহত হন আরও তিন জন। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের সারসেলেস এলাকার এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রবিবার (১৯ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।