• ?????: Carousel Slide Two

    সৌদিতে ৩ দিনে ২৪ হাজার অবৈধ প্রবাসী গ্রেপ্তার

    অভিবাসী ও শ্রমিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি আরবে তিন দিনে প্রায় ২৪ হাজার প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ খবর জানায়।

    এসপিএর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট জানায়, ১৫ হাজার ৭০২ জনকে অভিবাসী আইনে, তিন হাজার ৮৮৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইনে ও চার হাজার ৩৫৩ জনকে শ্রমিক আইনে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এরা কোন দেশের নাগরিক, তা বলা হয়নি।

    ২৪ হাজার জনের মধ্যে ৪২ শতাংশ মক্কা থেকে, ১৯ শতাংশ রিয়াদ, ১১ শতাংশ আসির, ৬ শতাংশ জাজান ও ৫ শতাংশ দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো ৩৯৪ জনকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে সৌদিতে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আট হাজার ৪৩৩ জনকে সৌদি আরবের প্রবাসী দপ্তরে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাত হাজার ৪৯১ জন পুরুষ ও ৯৪২ জন নারী রয়েছে।

    এদিকে, অবৈধভাবে সৌদিতে প্রবেশে সহায়তা করার অভিযোগে ২৫ সৌদি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ১৩২ ইউপি ও পৌরসভায় ভোট ২৮শে ডিসেম্বর

    ১৩২ ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৮শে ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে এ তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ইসি’র ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, রোববার স্থানীয় পর্যায়ে এসব ইউপি এবং পৌরসভায় তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। ২৮শে ডিসেম্বর ৯১টি ইউনিয়ন পরিষদে উপনির্বাচন এবং ৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, জামালপুরের বকশীগঞ্জ, নাটোরের বনপাড়া, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা, যশোরের বেনাপোলসহ ৪টি পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন এবং ৩টি পৌরসভায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩২ ইউপি ও পৌরসভায় রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ২৭শে নভেম্বর এবং মনোনয়ন বাছাই হবে ২৮ থেকে ২৯শে নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৬ই ডিসেম্বর।
    নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব ফারহাদ হোসেন জানান, বন্যার কারণে অর্ধশত আসনে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া মামলাসহ অন্যান্য আইনি জটিলতার কারণেও কিছু নির্বাচন হয়নি। আবার অনেক ইউপি-পৌরসভার মেয়াদ শেষ হয়েছে। সে নির্বাচনগুলোই এখন সম্পন্ন করা হবে।

    ইরাকে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ৫

    ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৫ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় সময় রবিবার রাত ৯টার দিকে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে।
    জানা যায়, দেশটির উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে ৮টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ফের যুক্তরাষ্ট্রে কাউন্সিলর হলেন সিলেটের তাহসিনা

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির হেলডন নগর থেকে আবারো স্থানীয় সরকারের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সিলেটের তাহসিনা আহমেদ।
    গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে তিনি আবারো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
    বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তাহসিনা আহমেদ হেলডন নগর থেকে স্থানীয় সরকারের কাউন্সিলর হিসেবে প্রথম দফায় ২০১৪ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
    এবার দ্বিতীয় দফায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে পুনরায় দায়িত্বগ্রহণ করেছেন।
    তাহসিনার পৈত্রিক বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামে। তার বাবার নাম আমিন আহমেদ ও মা দিলশান আহমেদ।
    দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর তাহসিনা আহমেদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মানুষের সেবা করার মানসিকতা থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হেলডনে কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে বলে মনে করেন তাহসিনা।
    যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাহসিনা।

    ঘুষ গ্রহণ মামলায় নাজমুল হুদার ৪ বছরের কারাদণ্ড

    ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে বিচারিক আদালতের দেয়া সাত বছরের সাজা কমিয়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।
    একই মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তার স্ত্রী সিগমা হুদার কারাগারে থাকাকালীন সময়কে সাজা হিসেবে গণ্য করেছেন।
    এই রায়ের অনুলিপি যেদিন বিচারিক আদালতে পৌঁছাবে সেদিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
    আদালত বলেছেন, এই রায় হাতে পাওয়ার দিন থেকে সাবেক এই মন্ত্রীর সাজা গণনা শুরু হবে।
    হুদা দম্পতির আপিলের ওপর পুনঃশুনানি শেষে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এই রায় প্রদান করেন।
    এর আগে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ নাজমুল ও সিগমাকে খালাস দিলেও আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির জন্য প্রেরণ করেন।
    জজ আদালত এ মামলায় নাজমুল হুদাকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেছিলেন। হাইকোর্টের রায়ে সে বিষয়ে কিছু বলা না থাকায় সেই জরিমানা বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
    বর্তমানে নতুন দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা হাইকোর্টে নিজেই শুনানি করেছিলেন। সিগমা হুদার পক্ষে আজ আদালতে ছিলেন আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির আহমেদ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
    প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমণ্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
    মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘খবরের অন্তরালে’র জন্য মীর জাহের হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদা। ২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট বিশেষ জজ আদালতে এই মামলায় নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের দণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ হাইকোর্ট তাদের খালাস দেন।
    রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে উভয় আবেদনের শুনানি করে সর্বোচ্চ আদালত ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন।

    জেনে নিন সামরিক শক্তিতে কতটা শক্তিশালী রাশিয়া

    বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে ব্যস্ত পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো। ধারাবাহিকভাবে চলছে তাদের শক্তি প্রদর্শনের মহড়া।

    সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরই রাশিয়ার অবস্থান। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম দেশ এটি। পাশাপাশি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি খনিজ সম্পদ রয়েছে এই রাশিয়াতেই। এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্রবিক্রেতা ও নির্মাতা রাষ্ট্র রাশিয়া।
    তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেই সামরিক শক্তিতে কতটা শক্তিশালী রাশিয়া।

    সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ১৯৯২ সালে ৭ মে তৎকালীন রাশিয়া ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন সোভিয়েত আর্ম ফোর্সের সদস্য ও সরঞ্জাম নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন রাশিয়ান সামরিক বাহিনী। সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের আগে এটি ছিল বিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী সামরিক বাহিনী। যা সেই সময় সৈন্য এবং পারমাণবিক অস্ত্র সংখ্যার দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে ছিল।

    স্থল বাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, স্ট্র্যাজিক রকেট ফোর্স, বিশেষ বাহিনী এবং এয়ারবোম ট্রুপস নিয়ে রাশিয়া ফেডারেশনের সামরিক বাহিনী গঠিত।

    রাশিয়া

    নিয়মিত সেনা সদস্য- ১০,৪০,০০০,
    রিজার্ভ আর্মি- ২০,৩৫,০০০
    আধা-সামরিক বাহিনীতে রয়েছে- ৪,৪৯,০০০
    সাঁজোয়া ট্যাংক- ২২,৭১০টি
    বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ- ১টি
    উভচর যুদ্ধজাহাজ- ১৫টি
    ক্রুজার- ৫টি
    ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ- ১৪টি
    ফ্রিগেট- ৫টি
    করভিট যুদ্ধজাহাজ- ৭০টি
    নিউক্লিয়ার সাবমেরিন- ৩৩টি
    সাবমেরিন- ১৭টি
    যুদ্ধবিমান- ১,২৬৪টি
    বোমারু বিমান- ১৯৫টি
    জঙ্গিবিমান- ১,২৬৭টি
    সাঁজোয়া হেলিকপ্টার- ১,৬৫৫টি
    পরমাণু অস্ত্র- ১২ হাজার

    রাশিয়া বিশ্বের অনেক দেশে অস্ত্র রপ্তানি করে থাকে। দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় অটোমেটিক রাইফেল একে-৪৭-এর নির্মাতা ও ডিজাইনার রাশিয়ার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিখাইল কালাশনিকভ। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটিরও অধিক এই অস্ত্র বিক্রি হয়েছে এবং বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশের সামরিক বাহিনীতে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

    আইডিয়াল স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে

    রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে এই পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠেছে। এই অবস্থায় নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা প্রশাসন। সূত্রমতে, বাংলা ভার্সনের দুইজন ও ইংরেজি ভার্সনের একজন মোট তিনজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। সেই পরীক্ষার ডিজি প্রতিনিধি দুইজনকে নিয়োগ দেয়া হলেও তারা সেখানে থাকতে অসম্মতি জানান। এরপর পরীক্ষার আগেরদিন বিকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান ধানমন্ডি গর্ভঃ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইনছান আলী।
    পরীক্ষার দিন সকাল ৯টায় ডিজির প্রতিনিধি স্কুলে গেলে নিয়োগ কমিটির অন্য সদস্যরা কয়েকটি প্রশ্ন দেখান এবং এই প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার কথা বলেন। তখন ডিজির প্রতিনিধি এতে রাজি না হয়ে সবার উপস্থিতিতে প্রশ্ন করার কথা জানান। এতে কমিটির লোকজন রাজি না হয়ে আগের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার জন্য বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখান। এতেও ডিজির প্রতিনিধি রাজি না হওয়ায় কমিটির অন্য সদস্যরা সবাই মিলে প্রশ্ন করার বিষয়ে একমত হন- এই বলে যে তারা ৫০ ভাগ, ডিজির প্রতিনিধি ৫০ ভাগ প্রশ্ন করবেন। নিয়ম অনুসারে সভাপতি কখনো নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক হতে পারেন না কিংবা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারেন না। একই দিনে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা হবে জানিয়ে পরীক্ষার্থীদের সব সনদপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়। কিন্তু অধ্যক্ষের রুমে খাতায় কোড নম্বর বসিয়ে মূল্যায়নের পর ওইদিন ভাইভা না নেয়ার কথা জানান অধ্যক্ষ। কারণ হিসেবে বলা হয়, সভাপতির মা অসুস্থ। এরপর প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র, খাতা মূল্যায়ন খাতা তালিকা ও অন্যান্য কাগজপত্র রি-কোডিং না করে সিলগালা করে রাখা হয়। এ ব্যাপারে ডিজির প্রতিনিধি ইনছান আলী বলেন, এখানে প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ ছিল না। কারণ সবার সামনে প্রশ্ন হয়েছে, সিলগালা হয়েছে এবং পরীক্ষা হয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগের দিন বিকালে আমাকে ডিজির প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হয়। তাই এত অল্প সময়ে কাউকে চেনা জানা, বা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না। লিখিত পরীক্ষায় প্রায় সবাই খুব কম নম্বর পেয়েছেন এবং কারো সঙ্গে কারো নম্বরের বেশি পার্থক্য নেই। আর কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহানারা বেগম বলেন, অনেকেই পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। যেহেতু পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি, তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁসের ব্যাপারেও কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এ ব্যাপারে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, লিখিত পরীক্ষার পর ভাইভা হওয়ার কথা। এটা পরবর্তীতে হবে। আর আগের দিন নিয়োগ পেয়ে কেউ নিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত হতে পারে বলে আমি মনে করি না। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির সব শিক্ষকদের সনদ যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়ার পর তা করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত সপ্তাহে ৭ দিনের মধ্যে সনদ যাচাই করে না মন্ত্রণালয়ের পাঠদানের স্বীকৃতি বাতিল করার হুমকি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান অধ্যক্ষের সময় নিয়োগ পাওয়া দেড়শ’র বেশি শিক্ষক ভুয়া সনদে চাকরি পেয়েছেন।

    চীনের ‘জাদুর জাহাজ’

    দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত জলভাগে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করছে চীন- এ খবর আগেই জেনে গেছে বিশ্বের মানুষ।

    কিন্তু কীভাবে তা করা হচ্ছে, তা নিয়ে ছিল নানা অভিতম ও রহস্য। মনে হচ্ছে, এবার সেই রহস্যের ওপর থেকে পর্দা তুলে নিল চীন। তারা নবনির্মিতি এমন একটি জাহাজের কথা জানালো, মূলত যার মতো কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী অন্যান্য জাহাজ ব্যবহার করে এরই মধ্যে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরিতে সফল হয়েছে দেশটি।

    ড্রেজিংয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরী নতুন জাহাজটির নকশাকারী প্রতিষ্ঠান এর নাম দিয়েছে ‘ম্যাজিক্যাল আইল্যান্ড-মেকার’ বা ‘জাদুকরী দ্বীপ-নির্মাতা’। অনেকে আবার একে ‘জাদুর জাহাজ’-ও বলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের আগ মুহূর্তে জাহাজটি প্রকাশ্যে আনলো কর্তৃপক্ষ।

    অভিযোগ রয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত জলভাগে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে মালিকানার দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে চীন। কিন্তু একই জলসীমার মালিকানা দাবি করে থাকে ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, ভিয়েতনাম ও তাইওয়ান। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ জিইয়ে রয়েছে।

    চীনের নবনির্মিত জাদুর জাহাজ সম্পর্কে কিছু তথ্য
    জাহাজটির নাম কী?- এর প্রাতিষ্ঠানিক নাম ‘তিয়ান কুন হাও’। তিয়ান কুন হাও হলো চীনের লোককাহিনির দৈত্যাকার মাছ, যা পাখিতে রূপান্তরিত হতে পারতো।

    এটি কত বড় ও শক্তিশালী এটি?- এর দৈর্ঘ ১৪০ মিটার, বিমের প্রস্থ ২৮ মিটার। পানির ৩৫ মিটার গভীর থেকে বালু/কাকর/বালিমাটি তুলে ১৫ মিটার দূরে ছুঁড়ে ফেলতে পারে। এর নকশাকারী প্রতিষ্ঠান সিসিসিসি তিয়ানজিন ড্রেজিংয়ের দাবি, ড্রেজিংয়ের দিক থেকে চীনে তো অবশ্যই এশিয়ার মধ্যেও সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী জাহাজ এটি। প্রতি ঘণ্টায় ৬ হাজার ঘনমিটার বালি/কাকর উত্তোলন করতে পারে জাহাজটি, যা তিনটি আদর্শমানের সুইমিংপুলের সমান জায়গা।

    এটি কী করতে পারে?- বালি, মাটি, কোরাল সবকিছুই ড্রেজিং করতে পারে এটি। সাগরতল থেকে যেকোনো কিছু কেটে উঠিয়ে আনতে পারে এবং তা ছেকে প্রায় ১৫ মিটার দূরে ছুঁড়ে দিতে পারে। এভাবে তা জমা হয়ে হয়ে তৈরি হয় কৃত্রিম দ্বীপ। তবে ২০১৩ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির কাজে এখন পর্যন্ত ছোট ছোট ড্রেজিং জাহাজ ব্যবহার করেছে চীন।

    নতুন করে এতবড় ড্রেজিং জাহাজ তৈরির উদ্দেশ্য কী?- আলেক্স নিল নামে একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, বিতর্কিত জলভাগে নতুন কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির কাজে চীন এটি মোতায়েন করবে। তবে ট্রাম্পের সফরের আগে তিয়ান কুন হাওয়ের উদ্বোধন উদ্দেশ্যমূলক না হয়ে ঘটনার পরম্পরা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের একক মালিকানা দাবির বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প অনেকবার বলেছেন, এই সাগরে চীনের একক নিয়ন্ত্রণ মানবে না তারা। এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলভাগ।

    টেক্সাসে চার্চে বন্দুক হামলা, নিহত ২৬

    যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক চার্চে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে। রোববার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় উইলসন কাউন্টির সাদারল্যান্ড স্প্রিং শহরের ফাস্ট ব্যাপ্টিস্ট চার্চে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ ঘটনাকে টেক্সাসের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছেন।

    হামলাকারীর নাম ডেভিন প্যাট্রিক ক্যালি। ২৬ বছরের এই শ্বেতাঙ্গ মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্য ছিল। হামলার পর গুলিতে নিহত হয়েছে সে।

    টেক্সাসের পাবলিক সেফটি বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ফ্রিম্যান মার্টিন জানিয়েছেন, ক্যালি চার্চের ভেতরে প্রবেশ করে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। গুলিবর্ষণ শেষে বের হয়ে ক্যালি বের এলে স্থানীয় এক অধিবাসী তাকে আটকানোর চেষ্টা করে। এসময় ক্যালি রাইফেল ফেলে পালিয়ে যায়। ওই ব্যক্তি পলায়নরত ক্যালির পিছু ধাওয়া করেন। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও ক্যালির পিছু ধাওয়া করে। পার্শ্ববর্তী গুয়াদেলুপে কাউন্টিতে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ক্যালির মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ নিশ্চিত নয়, হামলাকারী আত্মহত্যা করেছেন নাকি স্থানীয় ওই ব্যক্তির গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে।

    ফ্রিম্যান জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৭২ বছরের বৃদ্ধও রয়েছেন। আহত ২০ ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    এশিয়া সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক শোকবার্তায় এ ঘটনাকে ‘শয়তানের কাজ’ ও ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    বাড়ছে নৃশংসতা, পারিবারিক কলহে হত্যাকাণ্ড

    রাজধানী ঢাকায় ১১ ঘন্টার ব্যবধানে দুই পরিবারের মা-ছেলে ও বাবা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নগরবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে৷ প্রশ্ন উঠেছে নিরপত্তা নিয়ে৷ প্রশ্নের মুখে পড়েছে পারিবারিক সম্পর্কও৷ এ ধরনের নৃশংস হত্যাকান্ড কেন বাড়ছে? গত বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলের ‘মায়াকানন’-এর পঞ্চম তলায় শামসুন্নাহার (৪৬) ও তার ছোট ছেলে সাজ্জাদুল করিম ওরফে শাওনকে (১৮) ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়৷ নিহতের স্বামী ব্যবসায়ী আবদুল করিম ও তাঁর তৃতীয় স্ত্রী শারমিন মুক্তাকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সন্দেহ করছে পুলিশ৷ আবদুল করিম, শারমিন এবং শারমিনের ছোট ভাইকে আসামি করে হত্যা মামলা দয়ের করেছেন নিহত শামসুন্নাহারের ছোট ভাই আশরাফ আলী৷ পুলিশ আবদুল করিম ও শারমিনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে৷ পুলিশ ধারণা করছে, ধনাঢ্য এই পরিবারের সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের কারণেই মা ও ছেলে খুন হয়েছেন৷

    বাড্ডার ময়নারবাগ ‘পাঠানবাড়ি’ নামের চারতলা একটি বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ঘর থেকে বৃহস্পতিবার সকালে গাড়িচালক জামাল শেখ (৩৮) ও তার মেয়ে নুসরাত আক্তার জিদনির (৯) লাশ উদ্ধার করা হয়৷ নুসরাত দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী৷ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, জামালকে ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করে এবং নুসরাতকে শ্বাসরোধ রাধ করে হত্যা করা হয়েছে৷ পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে পারিবারিক কলহ এবং অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা রয়েছে৷ পুলিশ জামাল শেখের স্ত্রী আরজিনা বেগমকে বৃহস্পতিবারই আটক করে৷ শুক্রবার তাদের বাসায় সবলেট থাকা যুবক শাহীন মল্লিক ও তার স্ত্রী মাসুমাকে খুলনা থেকে আটক করা হয়েছে৷ পুলিশ ধারণা করছে, বাবাকে হত্যার বিষয়টি দেখে ফেলায় মেয়েকেও হত্যা করা হয়৷

    এর আগে ১০ জানুয়ারি মিরপুর দারুস সালামে দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন মা৷ ৮ জুন রাজধানীর তুরাগে তিন শিশুকন্যাকে হত্যার পর মায়ের মা আত্মহত্যা করেন৷ ৯ জুলাই মিরপুরের রূপনগরে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিজের পিস্তল দিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর মাথায় গুলি করে নিজেও আবার আত্মহত্যা করেন৷ এইসব ঘটনার পিছনেও রয়েছে পারিবারিক কলহ এবং দ্বন্দ্ব৷ এই ধরনের উদাহরণ চাইলে আরো বাড়ানো যাবে৷ এ বছর রাজধানীতে পারিবারিক কলহ ও দ্বন্দ্বের কারণে এ রকম অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানায়৷

    পুলিশের তথ্যানুযায়ী, বছরে মোট হত্যাকাণ্ডের শতকরা ৪০ ভাগ হয় পারিবারিক কলহের কারণে৷ নিরপরাধ শিশুরাও স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের কারণে হত্যার শিকার হয়৷ ২০১৬ সালের প্রথম আট মাসে সারা দেশে ৩ হাজার ৬১টি খুনের ঘটনা ঘটে৷ এ সময়ে রাজধানীতে ১৭২ জন খুন হয়৷ এর মধ্যে ১৬২টি খুনের কারণ সামাজিক ও পারিবারিক৷ পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে খুন হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ জন৷ এর অধিকাংশই পারিবারিক ও সামাজিক কারণে হচ্ছে৷ আর এর প্রধান শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু৷

    ঢাকা মহানগরে গত পাঁচ বছরে খুনের মামলা হয়েছে এক হাজার ২০০টি৷ এসব হত্যাকণ্ডের বড় একটি অংশ ঘটেছে পারিবারিক কলহ ও দ্বন্বে৷ হত্যাকাণ্ডের পরিসংখ্যানে ঢাকাই শীর্ষে৷ তবে আয়তন বিবেচনায় ঢাকার জনসংখ্যাও সবচেয়ে বেশি৷

    শুধু ঢাকা নয়, পুরো দেশেই পারিবারিক কলহ আর দ্বন্দ্বের কারণে হত্যা বাড়ছে৷ গত মে মাসে সারাদেশে ১২৯ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন৷ বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের ডকুমেন্টেশন বিভাগের জরিপে দেখা যায়, মে মাসে যৌতুকের কারণে ৪ জন, পারিবারিক সহিংসতায় ২৫ জন, সামাজিক সহিংসতায় ৩৫ জন, রাজনৈতিক কারণে ৯ জন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত ৭ জন, বিএসএফ কর্তৃক হত্যা ২ জন, চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু ৪ জন, গুপ্ত হত্যা ৪ জন, রহস্যজনক মৃত্যু ৩১ জন, ধর্ষণের পর হত্যা ৩ জন ও অপহরণের পর ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে৷ ২৫ অক্টোবর বরগুণার আমতলীতে কলেজ ছাত্রীর সাত টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়৷ ২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ায় এক নারীর ৩৫ টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়৷

    জুন মাসে সাতক্ষীরার বকচরায় আট বছর বয়সি এক ঘুমন্ত শিশুকে তার দাদা কুপিয়ে হত্যা করে৷ ২২ এপ্রিল রাজধানীর পল্টন এলাকার ফকিরাপুলের শাহীন আবাসিক হোটেল থেকে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷ গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়৷ ১৮ এপ্রিল আব্দুল্লাহপুর নীলা আবাসিক হোটেল থেকে পুষ্প রানী (৪৫) নামে এক নারীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ৷

    জুন-জুলাই মাসে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অন্তত ৯ টি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ এদের অনেকের পরিচয় এখনও জানা সম্ভব হয়নি৷ কোনও কোনও লাশের হাত-পা বাঁধা ছিল৷ ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পারিবারিক কলহের কারণে হত্যাকাণ্ড বাড়ছে, তেমন নয়৷ সম্প্রতি দু’টি ঘটনা পর পর ঘটায় অনেকের কাছে এমন মনে হচ্ছে৷ আর আমরা পারিবারিক কলহের পিছনে প্রধান দু’টি কারণকে দেখছি৷ স্বামী বা স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং সহায় সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব৷ যৌতুক আরেকটি বড় কারণ৷ তবে এর বাইরেও আরো অনেক কারণে পারিবারিক কলহ হয়৷ অর্থনেতিক অস্বচ্ছলতা অথবা অধিক স্বচ্ছলতাও পারিবারিক কলহ সৃষ্টি করে৷”

    তিনি বলেন, ‘‘নৃশংসতা বাড়ার পেছনে অসহিষ্ণুতা প্রধান কারণ৷ লোভ আর তিক্ততা নৃসংশতায় রূপ নেয়৷”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এমন একটা সময় পার করছি যখন কৃষি ভিত্তিক সমাজ থেকে শিল্প ভিত্তিক সমাজে যাচ্ছি৷ তাই নারী-পুরুষ, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে পরিবর্তন আসছে৷ পুরুষের আগে থেকেই সুযোগ ছিল৷ নারীরও এখন সুযোগ হয়েছে৷ প্রযুক্তি মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কের ধারণা পরিবর্তন করছে৷ সম্পর্কের নানা দিক দেখিয়ে দিচ্ছে৷ যার প্রভাব পড়ছে আচরণে৷ পারিবিবারিক কলহ বাড়ছে৷ আর বাড়ছে পারিবারিক কলহ ও দ্বন্দ্বের কারণে হত্যা৷ বিশ্বায়নেরও প্রভাব আছে৷ আর সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব তো নতুন কিছু নয়৷ তবে এই কারণে হত্যাকাণ্ড এখন বাড়ছে৷ বাড়ছে নৃশংসতা৷ আমরা পরিবর্তনের সঙ্গে মূল্যবোধ ও মানবিকতাকে সমানভাবে ধরে রাখতে পরছি না৷”

    তিনি বলেন, ‘‘আর এর ফলে সমাজে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে৷ নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীন এখন৷ কিন্তু সমাজকে টিকিয়ে রাখতে হলে, রাষ্ট্রকে সুশৃঙ্খল রাখতে হলে, বাসযোগ্য করতে হলে, আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে শক্ত করতে হবে৷ এর চর্চা করতে হবে৷ শুধু আইন দিয়ে সব কিছু হবেনা৷’’ -ডয়েচেভেলে