• ?????: সম্পাদকের পছন্দ

    ‘এক বছরের মধ্যেই একের দেহে অন্যের মাথা লাগিয়ে দেয়া সম্ভব হবে!’

    আগামী এক বছরের মধ্যে মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে বলে ধারণা ব্যক্ত করেছেন ইতালির নিউরো সার্জন সের্গেই কানাভেরো। অর্থাৎ একের দেহে অন্যের মাথা লাগিয়ে দেয়া যাবে। গবেষণা নিবন্ধে এ ধারণা প্রকাশ করার পর চিকিৎসা বিজ্ঞান মহলে প্রচণ্ড আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

    ইতালির নিউরো সার্জন সের্গেই কানাভেরো
    এক জনের শরীরে অন্য জনের মাথা বসিয়ে দেয়া যাবে বলে ঘোষণা দিয়ে গত বছরই বিশ্বজুড়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিলেন তিনি। তবে সে কাজটি এত সত্বর করা সম্ভব হবে এমন কোনো আভাস তখন দেয়া হয় নি।

    একটি কুকুরের পুরোপুরি ভেঙ্গে যাওয়া শিরদাঁড়া জোড়া দিতে সক্ষম হয়েছেন বলে গবেষণা নিবন্ধে দাবি করেছেন তিনি। এ নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, চারপায়েই হাঁটতে এবং ল্যাজ নাড়তে পারছে কুকুরটি।

    সার্জিক্যাল জার্নাল নিউরোলজি ইন্টারন্যাশনালে গত সোমবার এ গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেন কানাভেরো। কুকুরটির বিধ্বস্ত শিরদাঁড়া সারিয়ে তুলতে যে চিকিৎসা পদ্ধতি এবং প্রযুক্তি ব্যবহার প্রয়োগ করা হয়েছে তার বিশদ বিবরণ এতে দিয়েছেন তিনি। আর এর ভিত্তিতেই একের দেহে অন্যের মাথা বসানো সম্ভব হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। আগামী বছরই এমনটি সম্ভব হবে বলে ধারণা ব্যক্ত করেন তিনি। একজনে দেহে অন্যের মাথা বসিয়ে দেযার এ প্রক্রিয়াকে পুরো দেহ প্রতিস্থাপনও বলা হয়।

    অবশ্য কানাভেরোর চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কানাভেরোর প্রকাশিত নিবন্ধের ভিত্তিতে মন্তব্য করেছেন ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির স্নায়ু-বিজ্ঞানী জেরি সিলভার। তিনি বলেন, এ গবেষণার ভিত্তিতে মানুষের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করা যায় না। তিনি আরো বলেন, ভিডিওতে যে কুকুর দেখানো হয়েছে তার দেহ বদল করা হয় নি বরং বিধ্বস্ত শিরদাঁড়া মেরামত করা হয়েছে।

    অবশ্য পুরো দেহ প্রতিস্থাপনের কথা কেবল কানাভেরোই বলেন নি। এ নিয়ে কথা বলেছেন, চীনের হারবিন মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির অর্থোপেডিক সার্জন ড. শিয়াওপিং রেন। মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের জন্য একটি টিমও গড়ে তুলছেন বলে এর আগে জানিয়েছিলেন তিনি।

    কবর থেকে ফেরা শিশু হেলিকপ্টারে ঢাকায় এল

    নাজমুল হুদা একজন ক্রিকেট কোচ। তার স্ত্রী ঢাকার জজ আদালতের উকিল।

    গর্ভবতী স্ত্রীকে ভাল সেবাযত্নের জন্য ফরিদপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে রেখেছিলেন মি. হুদা।

    সেখানের এক হাসপাতালেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই, মোটে ৫ মাস ২২ দিনের মাথায় সন্তান প্রসব হয়ে যায় মি. হুদার স্ত্রীর।

    কর্তব্যরত চিকিৎসক সদ্য-ভূমিষ্ঠ শিশুটির নাড়ী খুঁজে না পেয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শিশুটিকে দাফনের জন্য কার্টনে পুরে বেঁধেছেঁদে পাঠিয়ে দেয়া হয় গোরস্থানে।

    এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল, কিন্তু গোল বাঁধল শিশুটিকে গোর দিতে গিয়ে।

    গোর দেয়ার জন্য কার্টন খুলে শিশুটিকে বের করা হলেই সে তারস্বরে কেঁদে ওঠে।

    দ্রুত তাকে আবার ফিরিয়ে নেয়া হয় সেই হাসপাতালে, যেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন।

    হাসপাতালটির নাম, ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল।

    শিশুটির চাচা শামীম উল হক বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, তার সদ্যোজাত ভাইঝির মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার এই কাহিনি।

    গত বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনাপ্রবাহ এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে, ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে।

    অবশ্য অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয়া এই শিশুটির শরীর ভাল নেই। ফরিদপুরের হাসপাতালে ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল তাকে।

    সেখানকার ডাক্তার বলেছেন, তাকে ভাল চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া প্রয়োজন।

    কিন্তু শিশুটিকে নিতে হবে আকাশপথে। সড়কপথের ঝক্কি তার ছোট্ট প্রাণে সইবে না।

    এই খবরটিও প্রকাশিত হয় পত্রিকায়।

    প্রথম আলোয় প্রকাশিত এই খবর শনিবার দুপুরেই ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করে বাংলাদেশের একজন ফেসবুক সেলেব্রিটি সোলায়মান সুখন লেখেন, শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসতে চান তিনি।

    এজন্য তার এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবাসী বন্ধু ব্যয়ভার বহন করতেও সম্মত হয়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির পিতামাতার খোঁজ পেয়ে যান মি. সুখন।

    বিকেলেই মি. সুখন নিজে হেলিকপ্টারের আরোহী হয়ে চলে যান ফরিদপুর এবং তার কিছুক্ষণ পরে শিশুটিকে তার পিতা এবং চাচা শামীম উল হককে সহ উড়িয়ে নিয়ে আসেন ঢাকায়।

    মি. সুখন বিবিসিকে বলেন, “বলতে পারেন দু’ঘণ্টার মধ্যেই সব কিছু হয়ে গেছে। পাওয়ার অব ইন্টারনেট!”

    অবশ্য ঢাকায় পৌঁছালেও সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হয়নি ‘গালিবা হায়াত’ নামের এই নবজাতকটির।

    ফরিদপুর থেকে দ্রুত ঢাকার বিমানবন্দর পর্যন্ত আসা গেলেও যানজটের কবলে পড়ে শহরে ঢুকতে লেগে যায় অনেক সময়।

    শেষ পর্যন্ত অবশ্য শিশুটিকে ভর্তি করা হয় ঢাকার বেসরকারি স্কয়ার হাসপাতালে।

    শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে শিশুটির চিকিৎসা শুরু করেছেন ডাক্তারেরা।

    অবশ্য শিশুটির চাচা শামীম উল হক বিবিসিকে বলছেন, তারা এখন পর্যন্ত জানেন না কোন মহৎহৃদয় মানুষ দিয়েছেন হেলিকপ্টারের ভাড়া।

    দেশবাসীর জান-মালের নিরাপত্তা দিতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ

    দেশবাসীর জান-মালের নিরাপত্তা দিতে এ সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। দেশে আইনের শাসনের অনুপস্থিতিতে-সমগ্র জাতি আজ এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় নিপতিত হয়ে পড়েছে। সরকার দুর্বৃত্তদের লালন-পালন করে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার কারণেই তারা একের পর এক এধরণের অঘটন ঘটিয়ে যাচ্ছে।
    নেতৃদ্বয় বলেন, দেশবাসী আজ উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। দেশে কোনো অঘটন ঘটলে তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় না এনে সরকার ঘটনাগুলোকে বিরোধী দলের উপর চাপিয়ে দিয়ে অপরাজনীতি করছে। ফলে বার বার প্রকৃত অপরাধিরা পার পেয়ে যায়। সরকার বিরোদী দল দমনে অপরাজনীতি না করে যদি এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতো তাহলে দেশে হত্যা ও সন্ত্রাসের কোন ঘটনাই ঘটতনা। কিন্তু সরকার সন্ত্রাসী ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার কারণেই দুর্বৃত্তরা একের পর এক অঘটন ঘটিয়েই যাচ্ছে।

    শিক্ষক আন্দোলন, অস্থির শিক্ষাঙ্গন

    বেতনবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আন্দোলন শুরু করলেও এখন সেটি কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষক পর্যায়ে চলমান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনের পাশাপাশি কলেজের শিক্ষকেরা শনিবার ধর্মঘট পালন করেছেন, প্রতীকী কর্মবিরতিতে আছেন প্রাথমিক শিক্ষকেরাও। এর পাশাপাশি দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ চলা সত্ত্বেও সরকারের তরফে একধরনের নীরবতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা দুর্ভাগ্যজনক। এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পৃথক বেতনকাঠামো সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতেও তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোয় শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে—এই অভিযোগে শিক্ষকেরা মাঠে নেমেছেন। কিন্তু এর প্রতিকারে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেই। বরং নীতিনির্ধারকদের কারও কারও বেফাঁস মন্তব্য পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক—সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের কর্মবিরতির ক্ষতিও অনেক, যা টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা যায় না। এ অবস্থায় প্রত্যাশা, সরকার শিক্ষার সংকটের গভীরতা অনুধাবন করবে এবং আন্দোলনরত সব শ্রেণির শিক্ষকদের সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনায় বসে একটা সমঝোতায় পৌঁছাবে।

    ভ্যাট বনাম আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়

    শিক্ষা যে এদেশে একটি পণ্যে পরিণত হয়েছে, তার সবশেষ উদাহরণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর আরোপ। চলতি বাজেটে বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত হওয়ার পর থেকেই শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা এর সমালোচনা করে আসছিলেন। একই সঙ্গে এটি যে সব শেষে শিক্ষার্থীদের ওপরেই চাপানো হবে, সেই আশঙ্কাও ছিল এবং ফলেছেও তা। প্রস্তাবিত বাজেটের পর থেকে গত প্রায় চার মাস ধরে অনেক ধরনের সমালোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে সাত শতাংশ হারে ভ্যাটের অর্থ আদায় করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কেউ কোনো কথা বলেনি। না শিক্ষামন্ত্রী, না অর্থমন্ত্রী, না রাজস্ব বোর্ড। শিক্ষা এখন স্রেফ একটি পণ্য, পবিত্র সংবিধানে ‘শিক্ষা মৌলিক অধিকার’ এ বিষয়ে যতই মুখরোচক কথা লিপিবদ্ধ থাক না কেন। অনেক আগে থেকেই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো (দু-একটি ছাড়া) ভ্যাট দিয়ে আসছে। তবে কর্তৃপক্ষ নয়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই তা আদায় করা হয়।

    কর্তৃপক্ষকেই মূসক দিতে হবে, এমনটা উল্লেখ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত মূসক প্রত্যাহার করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর কথা শুনলে মনে হতে পারে দেশের অর্থমন্ত্রীর প্রধান কাজ হচ্ছে নির্বিচারে রাজস্ব আরোপ করে সরকারের টাকা বাড়ানো। আসলে কি তাই? সরকার নীলকর আদায়কারী কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। সরকারের বরং অন্যতম কাজ হচ্ছে রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখী আর্থিক ব্যবস্থাপনা। সংবিধান অনুসারে এটি করার ক্ষেত্রেও সরকারকে ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের কাছে অনুরোধ, উন্নয়নের জন্য, দেশ চালানোর জন্য বা অন্য যেকোনো কারণে টাকার প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক লুট করে, বিদেশে পাচার করে বা নানাভাবে দুর্নীতি করে লোপাট করা লাখো–কোটি টাকা আদায়ের চেষ্টা করুন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শুধু নন, যেকোনো শিক্ষার্থীর ওপর ভ্যাট বা ট্যাক্স আরোপের আগে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে
    জানুন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ছাত্রছাত্রী আছেন, যাঁরা আমলা, বড় ব্যবসায়ী বা বড় আইনজীবীর সন্তান। ছাত্র আন্দোলনের ভয় আছে বলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক টাকা বেতন বাড়ানোর সাহস পায় না কোনো সরকার। অপর দিকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে
    সেই ভয় নেই মনে করে কি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ টাকা বেতনের চেয়ে শত গুণ শুধু ভ্যাট আরোপ করা হোল। শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান, আমাদের ভবিষ্যৎ, ভ্যাট আদায়ের জন্য উচ্চশিক্ষাকে এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ছাত্রদের স্বার্থহানি করা কোন অর্থে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে তা কোন ভাবেই বোধগম্য হচ্ছে না।

    মাননীয় অর্থমন্ত্রী, আপনার কাছে অনুরোধ, জানার চেষ্টা করুন, বাস্তব অবস্থার খোঁজখবর নিন অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের দুরবস্থার কথা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা বড় অংশের ছাত্রছাত্রীদের পিতাদের মধ্যে অবস্থাপন্নরা যেমন আছেন, তেমনি আছেন মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমিক, পুলিশের দারোগা বা মুদি দোকানদারও। কোনো কোনো শিক্ষার্থী আছেন, যাঁদের তিনটি চারটি টিউশনি করে বা আট ঘণ্টা চাকরি করে নিজের পড়ার খরচের একটি বড় অংশ জোগাড় করতে হয়। অন্ধকারে ডুবে না থেকে সোজা ভাবে ভাবুন দেশের উন্নয়ন হবে এমন কিছু করুন।

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন বাড়ান হোক

    এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ৭ লাখ ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এ রকম প্রতিবছরই দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করে। কিন্তু এর তুলনায় আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা খুবই কম। এমনকি গত বছর দেখা গেছে, যে পরিমাণ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ ৫ পেয়েছে, তাদের সংখ্যার অনুপাতেও সিট নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পর অনেকেরই আগ্রহ থাকে প্রথম দিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কারণ অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে এখনও যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। তারপরও এগুলোতে পড়ার খরচ এত বেশি যে, অনেক মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যদিও শেষ ভরসা হিসেবে এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু সেখানে দীর্ঘ সেশনজট ও অনেক সমস্যার কারণে অনেকেই আগ্রহী হয় না। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রতিবছর হয়তো অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ছিটকে পড়ে পড়াশোনা থেকে। ভালো ফল করেও যখন কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় না, তখন অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ে এবং অন্য পথ ধরে।

    দেশে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৩৭টি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বাদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে আসন সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৮৪টি। এর মধ্যে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা ৭ হাজার দুটি। দেশের ৩১টি সরকারি মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের আসন সংখ্যা ৩ হাজার ২৬২টি। ফলে আমরা দেখি, কঠোর প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়। তারপরও সিট সংখ্যা বেশি হলে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেত।

    আসলে সব শিক্ষার্থীরই স্বপ্ন থাকে প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু তীব্র প্রতিযোগিতায় সেখানে সুযোগ না পেলেও দেশের যে কোনো একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অনেকে সন্তুষ্ট হয়। এর বাইরের চিত্র সুখকর নয়। তাই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিট সংখ্যা বৃদ্ধি করা উচিত। প্রয়োজনে আরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা দরকার।

    মাদক পাচার রোধে চাই নিশ্চিদ্র পদক্ষেপ

    বাংলাদেশের জন্য একটি বড়ো ধরনের মাথাব্যাথা হলো চোরাচালান। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে নিষিদ্ধ পণ্য কোকেন আমদানি ঘটনা ধরা পড়েছে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এই পণ্য আমদানির পেছনে জড়িত রয়েছে দেশি-বিদেশি বিরাট চক্র। বলা হচ্ছে, এই মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে দুই প্রতিবেশি দেশ ভারত এবং মিয়ানমার-এর সাথে জল, স্থল, অন্তরীক্ষ সব পথেই আমাদের দেশে চোরাচালান হয়ে থাকে। উল্লেখ্য চোরাচালান দমনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সীমান্ত প্রহরীরা তৎপর হলে কয়েকদিন বন্ধ থাকে কিংবা সামান্য কমে, আর সীমান্তরক্ষীদের তৎপরতা শিথিল হলেই আবার শুরু হয়। চোরাচালানের তৎপরতা দেশের অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব রেখে যাচ্ছে। প্রায় সময় দেশের মূল্যবান সম্পদগুলো চোরাকারবারিদের মাধ্যমে পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরে। চোরা পথে আসা খাদ্যদ্রব্য হলে, তা পরীক্ষিত না হলে, হতে পারে জনস্বাস্থ্যের জন্যে হুমকিপূর্ণ। আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্যে হুমকিপূর্ণ এই চোরাচালান দমনে চাই কার্যকর পদক্ষেপ। প্রতিকার দরকার দেশের অর্থনীতির নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে।

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪ হাজার ৪ শত ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থল সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার কিলোমিটার বিজিবি টহল এবং ৪ শতাধিক সীমান্ত ফাঁড়ি রয়েছে। অনেক দুর্গম সীমান্ত এলাকায় কোন বিজিবি টহল নেই। এ অবস্থায় সীমান্ত এলাকায় প্রহরা দিয়ে চোরাচালান বন্ধ করা যে অত্যন্ত কঠিন তাতে সন্দেহ নেই। তবে, চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত প্রহরীরা যদি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে তাহলে চোরাচালান যে অনেকাংশে কমে আসবে এতে কোন সন্দেহ নেই। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষাবাহিনীর সকলেই যদি জাতীয় স্বার্থের হানিকারক চোরাকারবারিদের পথে অব্যাহতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলে তা হলে চোরাচালান অনেকাংশে বন্ধ হতে বাধ্য। সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের রয়েছে প্রশংসনীয় ভূমিকা। এক্ষেত্রে দেশবাসী তাদের কাছ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি সুচারুরূপে পালনই প্রত্যাশা করে। দেশবাসীর আশা, আমাদের বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান, অবৈধভাবে মানুষের যাতায়াত, দেশি-বিদেশি সন্ত্রাসীদের যাওয়া-আসা, অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও নারী-শিশু পাচারসহ দেশের স্বার্থ হানিকর বিষয়াদির বিরুদ্ধে কার্যকর ও ফলপ্রসূ ব্যবস্থা গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে। প্রয়োজনে দেশের স্বার্থ রক্ষায় তারা বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে সীমান্ত নিশ্চিদ্র করার পদক্ষেপ নেবেন।

    প্রসঙ্গত শিক্ষক যখন রাজনৈতিক লাঞ্ছনার শিকার

    একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞানে-গুণে পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত করেন শিক্ষকরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে জ্ঞানার্জনের কারখানা। আর উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষকেরা যথাসাধ্য জ্ঞান দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদ রূপে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। সে জন্যে তাঁদেরকে মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয়। যার কারণে শিক্ষকসমাজ সবসময় সব মানুষের কাছে সম্মানীয় হিসেবে বিবেচিত হন। কিন্তু ইদানিং ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি শিক্ষকদের এই সম্মান ও মর্যাদাকে আঘাত করছে। বাংলাদেশে বহুবারই সাধারণ শিক্ষকরা নানা কারণে রাজনৈতিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। কিন্তু তদন্তসাপেক্ষে কোনো ঘটনারই দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয়নি। অপরাধীদের শণাক্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়নি। ফলে অবিচারের সংস্কৃতি চালু হয়ে গেছে। আর এ সুযোগে স্বার্থান্বেষীরা দলীয় ছাত্রদের ব্যবহার করে ফায়দা লুঠছে ও অন্যায়ের প্রতিবাদকারী সাধারণ শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করছে।

    তবে সর্ব কালের সব হিসাব যেন বিগত সমসাময়িক কিছু ঘটনার কাছে লজ্জা পেয়েছে। এ ধরনের অবাঞ্ছিত ঘটনার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষকরা। আর উপাচার্যের অনৈতিক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলাটি চালিয়েছে ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য। বলাই বাহুল্য ছাত্রলীগের এই বেপরোয়া দৌরাত্ম্যের উৎস ক্ষমতার দাপট। তারা কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না। পুলিশ প্রশাসন পালন করে নীরব ভূমিকা। বরং দোষীদের নয়, তারা নির্দোষদের ওপর চড়াও হয়। বিভিন্ন সময়ে এমন চিত্র দেশবাসী দেখে আসছে গণমাধ্যমের বদৌলতে। ফলে সন্ত্রাসীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। দিন দিন বেপরোয়া হয়ে অন্যের শান্তি-নিরাপত্তা ও অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। শাবিপ্রতে যা হয়েছে তা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরিণতি। যদি সরকার ও প্রশাসন এদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স দেখাতো, যদি অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই বিচারাধীন করা হতো এবং উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হতো, তাহলে এমন বেপরোয়া তারা হতো না। শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলার দুঃসাহস তারা দেখাতো না। এ ধরনের চিত্র সরকারের জন্যেও শুভফল বয়ে আনবে না। তাই এখনই এর লাগাম টেনে ধরা দরকার। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রের অনলাইন ভিডিওচিত্রে জনপ্রিয় শিক্ষক ও লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের মর্মযাতনা ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কথা দেশবাসী জেনেছে।

    প্রকৃতপক্ষে এ কষ্ট কেবল তার একার নয়; শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিটি মানুষের। আমরা চরম ধিক্কার জানাই ছাত্র নামধারী এসব সন্ত্রাসীকে। আমরা মনে করি, ছাত্রলীগ যা করছে তার দায়ভার মূল দল হিসেবে আওয়ামী লীগও অস্বীকার করতে পারে না। তবে আশার কথা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী সুন্দর রাজনীতি চর্চার জন্যে ছাত্রলীগকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করছেন ও উগ্রদের প্রতি কঠোর হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন। সোমবার বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ফের দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, ‘ছাত্রলীগে আগাছা জন্ম নিলে তা উপড়ে ফেলতে হবে।’ আমরা আশা করতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর এ বার্তার মর্মার্থ ছাত্রলীগ উপলব্ধি করবে এবং সংগঠনের দুর্নাম হয় এমন কর্ম থেকে নিজেদের বিরত রাখবে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকেও নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। ছাত্রলীগকর্মী বলে সন্ত্রাস করে পার পেয়ে যাবে, এমনটি যাতে না হয়। আমরা আশা করতে চাই, শিক্ষকদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

    মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

    দেশের অভ্যন্তরেও ক্রমবর্ধমান তরুণ সমাজের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকা এবং নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ না হওয়া এ দুই কারণে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসন তথা মানব পাচার বাড়ছে। গত দেড় বছরে বঙ্গোপসাগর রুট ব্যবহার করে অন্তত ৯৪ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী পাচার হয়েছেন, যারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অধিবাসী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক, এর মধ্যে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি নাকি সমুদ্রেই মারা গেছেন! দেখা যাচ্ছে, অবৈধভাবে পাড়ি জমানোর জন্য অভিবাসনপ্রত্যাশীরা জীবনের ঝুঁকি নিতেও পরোয়া করছেন না। সেদিক থেকে মানব পাচারের সমস্যাটি এখানে ঘোরতর বলা যায়। সুতরাং এদিকে সরকারের দ্রুত মনোযোগ কাম্য।

    কয়েক মাস আগেও বাংলাদেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহন করা নৌকা বিভিন্ন সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশ, বিশেষত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উপকূলে ভাসতে দেখা গেলেও সে দৃশ্য এখন কমে এসেছে। এর মানে এই নয় যে, মানব পাচার একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের ধীরে ধীরে মানব পাচারের হার কমিয়ে আনতে হবে। এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন মানব পাচারের অন্তরালের অনুঘটকগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধান করা। এক্ষেত্রে ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। সম্প্রতি সংস্থাটি অভিবাসী সমস্যা সমাধানে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এরই মধ্যে ২০ শতাংশ তহবিল পাওয়া গেছে। সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে সরকার চাইলে বাংলাদেশীদের বৈধ অভিবাসনের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের ক্ষেত্রে ওই তহবিল কাজে লাগাতে পারে। তবে সবচেয়ে মনোযোগ দিতে হবে নিজেদের কূটনৈতিক ব্যর্থতাগুলো খুঁজে বের করা; নজর দিতে হবে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে সেসব দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব দেশে এখন শ্রমিক রফতানি বন্ধ, সেসব দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণেও চাই সরকারের কূটনৈতিক সক্রিয়তা।

    গত দেড় বছরে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ার মতো প্রধান শ্রমবাজারগুলোয় সেভাবে শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশেও শ্রমিক পাঠানো যাচ্ছে না। মূলত এটি কাজে লাগিয়ে দালালরা সমুদ্রপথে মানব পাচার করে চলেছে। ফলে দালালদের নানা প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়ে প্রতারিত হয়েছেন অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ হলে মানব পাচার নিশ্চয়ই কমে আসত; কিন্তু সরকারের ভুল নীতি ও কূটনৈতিক ব্যর্থতায় সেটা সম্ভব হয়নি। মাঝে সরকার বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিকে বাদ দিয়ে সরকারিভাবে শ্রমিক পাঠানোর নীতি গ্রহণ করে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অনেক দেশই শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে বৈধ উপায়ে জনশক্তি রফতানির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এতে মানব পাচার বেড়ে যায়। সুতরাং এক্ষেত্রে সরকার কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।

    সর্বোপরি অবৈধ অভিবাসন চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেও সরকারের বলিষ্ঠ উদ্যোগ নেয়া চাই। এক্ষেত্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণে সরকার অতি দ্রুত মনোযোগ দিবে বলে প্রত্যাশা।

    বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতা রোধে সরকারের সামগ্রিক ব্যার্থতা

    বলার অপেক্ষা রাখে না, মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে সৃষ্ট পানিজটের বিষয়টিকে হাল্কাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। ঝড়বৃষ্টি ও বন্যার এই দেশে মাত্র দু’তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পুরো রাজধানী তলিয়ে যাবে, অচল হয়ে পড়বে এবং মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তির শেষ থাকবে না- এমন অবস্থা কল্পনা করা যায় না। কিন্তু বাস্তবে সেটাই ঘটেছে। গত মঙ্গলবার বৃষ্টি ও বৃষ্টির পানি রাজধানীকে স্থবির শুধু নয়, অচলও করে ফেলেছিল। তাই বলে অতি বর্ষণ কিন্তু হয়নি। সকাল থেকে হাল্কা বৃষ্টি হয়েছে থেমে থেমে, বেলা ১১টার পর ঘণ্টা দেড়েক হয়েছিল অঝোর ধারায়। মাত্র এটুকুতেই রাজধানী ঢাকা পানিতে ডুবে গিয়েছিল। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর, তেজগাঁও, বিজয় সরণী, পান্থপথ, হাতিরপুল, শাহবাগ, মতিঝিল, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, গ্রীন রোড, মালিবাগ, রামপুরা, মগবাজার, বনানী, মহাখালী, শান্তিনগর, বেইলি রোডসহ এমন কোনো এলাকার কথা বলা যাবে না, যেখানে দুই থেকে তিন-চার ফুট পর্যন্ত পানি না জমেছিল। পানিতে ডুবে গিয়েছিল অলিগলিও। অনেক এলাকায় বাড়িঘর, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি জমেছিল। কোনো এলাকার রাজপথেই স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চলাচল করতে পারেনি। মোটর সাইকেল থেকে শুরু করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার তো বটেই, যাত্রীবাহী বাসও অচল হয়ে পড়েছে যেখানে সেখানে। মানুষের পক্ষে হেঁটে যাওয়াও সম্ভব হয়নি। কারণ পানি ছিল অবিশ্বাস্য রকমের নোংরা ও বিষাক্ত। ফলে স্কুলগামী শিশু-কিশোর হোক কিংবা হোক অফিসগামী কেউ, যারা যে কাজেই বাইরে বেরিয়েছিলেন তাদের প্রত্যেককে বিপদে পড়তে হয়েছিল। কোথাও কোথাও মানুষকে একই জায়গায় দুই তিন ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থাকতে হয়েছে। আধ ঘণ্টার পথ অনেকে পাড়ি দিয়েছেন এমনকি চার পাঁচ ঘণ্টায়। গুরুতর অসুস্থদেরও হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয়নি। চলাচল করতে পারেনি অ্যাম্বুলেস। অর্থাৎ সব মিলিয়েই সেদিন রাজধানীর অবস্থা হয়েছিল অত্যন্ত শোচনীয়।

    অন্যদিকে ভয়াবহ এই পানিজটের কারণ নিয়ে যথারীতি গবেষণা ও মতামত প্রকাশ করার পালা শুরু হয়ে গেছে। সাধারণভাবে দুই সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও অন্য কিছু কারণও প্রাধান্যে এসেছে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে বলা হচ্ছে অপরিকল্পিত নগরায়নের কথা। শত শত পুকুর ও খাল ভরাট করে বহুতল ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ, ভবনের আশপাশে মাটির নিচে প্রাকৃতিক নিয়মে পানি নেমে যাওয়ার মতো যথেষ্ট জায়গা না রাখা, পলিথিনসহ নানা ধরনের আবর্জনা জমে গিয়ে ড্রেনগুলো সংকুচিত হয়ে পড়া এবং রাজধানীর চারপাশের প্রতিটি নদনদীতে পানি বেড়ে যাওয়ার মতো অনেক কারণ নিয়েই জোর অলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা তাদের অভিমত জানাচ্ছেন, করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছেন।

    একই কারণে পানিজটের বিভিন্ন কারণ সম্পর্কে জানানো এবং সমাধানের পথ খোঁজা দরকার। খাল ও পুকুর দখলের পাশাপাশি ভরাট করে ভবন ও স্থাপনা নির্মাণকে দায়ী করে দেয়া বিভিন্ন মহলের বক্তব্যকে আমরাও প্রধান একটি কারণ বলে মনে করি। খাল ও পুকুর দখলের এই অভিযানকে অবশ্যই প্রতিহত করতে হবে। এ ব্যাপারে শুধু ব্যক্তি বা বিভিন্ন গোষ্ঠীকে দায়ী করে লাভ নেই। কারণ, সরকারের পক্ষ থেকেও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ কম নেয়া হয়নি। একটি উদাহরণ হিসেবে পুরনো ঢাকার ধোলাই খালের কথা উল্লেখ করা যায়। শত বছর ধরে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিশে থাকা এ খালটিকে বক্স কালভার্ট নির্মাণের নামে প্রকৃতপক্ষে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও করা হয়েছে অমার্জনীয় অপরাধ। পানি প্রবাহিত হওয়ার জন্য কালভার্টের ভেতরে যেখানে অন্তত ১৫ থেকে ২০ ফুট জায়গা ফাঁকা থাকার কথা সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমতে জমতে তিন চার ফুট জায়গাও এখন ফাঁকা নেই। ফলে পানিও যেতে পারে না। অথচ আগে এই ধোলাই খাল দিয়েই বৃষ্টির বেশিরভাগ পানি বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়তো। রাজধানীর সুয়ারেজ বা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দিকেও লক্ষ্য করা দরকার। পলিথিনসহ নানা আবর্জনায় ড্রেনগুলো আটকে যাওয়ার কথা সরকারের অবশ্যই জানা রয়েছে। কিন্তু আবর্জনা সরিয়ে ফেলার জন্য ওয়াসা বা দুই সিটি করপোরেশনের কারো পক্ষ থেকেই ফলপ্রসূ কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। হাতির ঝিল প্রকল্প নিয়ে ঢাকঢোল যথেষ্টই পেটানো হয়েছিল। কিন্তু এবার জানা গেলো, হাতির ঝিল থেকে পানি যে পথে বেরিয়ে যাওয়ার কথা সে পথের মুখে রামপুরায় রয়েছে একটি স্লুইস গেট। মঙ্গলবার সেটা নাকি বন্ধ ছিল, যার জন্য পানি সরে যেতে পারেনি। যেতে পারলেও অবশ্য লাভ হতো না। কারণ, বুড়িগঙ্গার মতো বালু নদীর পানিও স্বাভাবিকের চাইতে বেশি উচ্চতা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুতরাং হাতির ঝিলের পানি গিয়ে উল্টো নতুন কিছু এলাকার মানুষের বিপদ বাড়িয়ে তুলতো।

    এরকম আরো কিছু কারণও রয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, সেগুলোর উল্লেখের পরিবর্তে পানিজটের বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে দেখা দরকার। লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে আর কোনো খাল বা পুকুর দখল ও ভরাট করা না হয়। বাধাহীন পানি প্রবাহের জন্য ধোলাই খালের বক্স কালভার্টের পাশাপাশি রাজধানীর কোনো ড্রেনেই আবর্জনা জমতে দেয়া যাবে না। এগুলোকে নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ওয়াসা, তিতাস এবং দুই সিটি করপোরেশনসহ রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির দায়িত্বে নিয়োজিত সকল সংস্থার কাজে সমন্বয় করাটাও জরুরি হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে আমরা চাই, আর কখনো যাতে গত মঙ্গলবারের পুনরাবৃত্তি না ঘটতে পারে।