• ?????: সম্পাদকের পছন্দ

    সারাদেশে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা

    রাজধানীসহ সারাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী প্রতিদিন নানাভাবে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। পোস্টার, লিফলেট ও বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে অরুচিকর বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত এক ধরনের প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে কিছু প্রতিষ্ঠান। একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভেষজ চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা যা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। এসব অপচিকিৎসায় বেশি প্রতারিত হচ্ছেন স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ। কথিত প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে কাজ করে। হাতিয়ে নেয় তাদের সহায়সম্বল। বিভিন্ন জটিল রোগের নাম করে ইউনানী, হারবাল, কবিরাজি, তদবির, দাওয়াখানা ইত্যাদি নানা স্টাইলে চিকিৎসার নামে চলছে চরম প্রতারণা। এক্ষেত্রে তারা চটকদার বিজ্ঞাপনকে কাজে লাগাচ্ছে।

    এদের অনেকেরই চিকিৎসা দেয়ার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতাও নেই। অথচ তারা সব কঠিন ও জটিল রোগের চিকিৎসা করে আসছে। এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের কেউ কেউ ওষুধ প্রশাসনের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে হাত করে নিয়ে নিয়েছেন ড্রাগ লাইসেন্সও। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে মেতে ওঠা এসব চক্র দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অপচিকিৎসার জাল ছড়িয়েছে তা বন্ধ করা জরুরী। সাধারণ জনগনের স্বার্থে এই প্রতারনা রোধ কল্পে সরকারের আশু পদক্ষেপ কাম্য।

    ইসলাম সম্পর্কে গাফফার চৌধুরীর কটূক্তি (ভিডিও)

    বিদেশের মাটিতে বসে এবার ধর্ম নিয়ে কথা বললেন বিশিষ্ট কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী। আল্লাহর ৯৯ নাম, নারীর পর্দা ও আরবি ভাষাসহ অনেকগুলো বিষয়ে নানা বিরূপ মন্তব্য করেছেন তিনি।

    নিউইয়র্কে ৩ জুলাই বিকেলে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ‘বাংলাদেশ: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত’ শীর্ষক আলোচনা সভায় করা এই বুদ্ধিজীবীর মন্তব্য নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

    শনিবার বাংলাদেশের অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য রিপোর্ট, মানবজমিন ও নয়া দিগন্ত পত্রিকা প্রবাসী কলামিস্টের এসব মন্তব্য নিয়ে রিপোর্ট করে।

    জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘আজকের আরবি ভাষায় যেসব শব্দ; এর সবই কাফেরদের ব্যবহৃত শব্দ। যেমন— আল্লাহর ৯৯ নাম, সবই কিন্তু কাফেরদের দেবতাদের নাম। তাদের ভাষা ছিল আর-রহমান, গাফফার, গফুর ইত্যাদি। এগুলো ইসলাম ‘অ্যাডপ্ট‘ করে, পরে বাংলা ভাষাও অ্যাডপ্ট করে। এগুলো এখন আরবি শব্দ।’

    তিনি বলেন, সাত শ’ বছর ধরে আমরা ‘নামাজ’, ‘খোদা হাফেজ’ শব্দ বলেছি। এখন ‘সালাত’, ‘আল্লাহ হাফেজ’ শব্দে পরিণত হয়েছে। নারীদের উৎসাহিত করা হয় হিজাব পরতে। হিজাব একটি আরব সংস্কৃতির পোশাক, বাঙালির নয়। এগুলো ওহাবীদের সৃষ্টি।

    নারীদের বোরকা ও হিজাব নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করে গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে এটা হচ্ছে ওহাবিদের লাস্ট কালচারাল ইনভলব। আমি অবাক হচ্ছি। ক্লাস টুয়ের মেয়েরা হায়েজ-নেফাস পড়বে! এটা আমাদের ধর্ম শিক্ষা হতে পারে?’

    তিনি বলেন, ‘মুসলমান মেয়েরা মনে করে হিজাব, বোরকা হচ্ছে ইসলামের আইডিন্টিটি। আসলে কি তাই? বোরকা পরে যাচ্ছে কিন্তু প্রেম করছে। আবার ইন্টারনেটেও প্রেম করছে। আচরণ ওয়েস্টার্ন কিন্তু বেশভূষা ইসলামিক করে আত্ম-প্রতারণা করছে তারা।’

    এই কলাম লেখক বলেন, ‘এখন যুগ পাল্টেছে। এখন বাংলাদেশে বোরকা পড়ার বিপক্ষে অনেকেই জেগে উঠেছে। এসব ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

    তিনি নিজে কিছুদিন মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন দাবি করে বলেন, এখন যে ইসলাম ধর্ম চলছে তা বাড়াবাড়ির ইসলাম।

    আলোচনায় মূল বিষয়ের বাইরে গিয়ে আল্লাহ ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই বিব্রতবোধ করেন।

    আলোচনা সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র কমান্ডের আহ্বায়ক আবদুল মুকিত চৌধুরী দ্য রিপোর্ট প্রতিনিধিকে বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা যে দল কিংবা মতের হই না কেন, আল্লাহ, নবী, ইসলাম ও নারীর পর্দা নিয়ে এসব কথা বলা উচিত নয়।’

    আল্লাহর ৯৯ নাম ও ইসলামে নারীর পর্দা নিয়ে তার বক্তব্য একান্ত ব্যক্তিগত নাকি বিশ্লেষণনির্ভর— একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুদিন মাদ্রাসায় পড়েছি। কোরআন কিংবা ইসলাম সম্পর্কে যে সব জানি, তা কিন্তু নয়। আমি আমার জানার ধারণা থেকে বলছি। এখন যে ইসলাম প্রচার বা চর্চা হচ্ছে, তা বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছুই নয়।’

    রসুল আর রসুলুল্লাহ শব্দটি এক নয় দাবি করে গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘রসুল মানে দূত, অ্যাম্বাসেডর। রসুলে সালাম মানে শান্তির দূত। রসুল বললেই আপনারা মনে করেন হযরত মুহম্মদ (সা.), তা কিন্তু নয়। যখন রসুলুল্লাহ বলবেন তখন মনে করবেন আল্লাহর প্রতিনিধি। এখন মোমেন ভাই আমেরিকায় থেকে যদি বলেন কিংবা আমি নিজেকে রসুল দাবি করলে কল্লা যাবে।’

    কিছুদিন মাদ্রাসায় পড়ার কথা উল্লেখ করে গাফফার চৌধুরী আরো বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি হাদিস সংগ্রহকারী আবু হুরায়রা নামের অর্থ হচ্ছে বিড়ালের বাবা। আবু বকর নামের অর্থ হচ্ছে ছাগলের বাবা। কাফেরদের মধ্যে যারা মুসলমান হয়েছিল পরবর্তীতে তাদের নাম পরিবর্তন করা হয়নি।’

    গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘পুরো দেশ এখন দাড়ি-টুপিতে ছেঁয়ে গেছে। সরকারি অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টুপি আর দাড়ির সমাহার। অথচ তারা ঘুষ খাচ্ছেন। এত বড় দাড়ি, এত বড় টুপি; কিন্তু ঘুষ না পেলে ফাইলে হাত দেন না- এটা কী ইসলামের শিক্ষা?’

    সৌদি আরবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর নাম সৌদি আরব হবে কেন। তারা রসূলের (সা.) অনুসারী হলে এর নাম হবে মোহাম্মদিয়া। কাবা শরিফের দরজাগুলোর নাম বাদশাহদের নামে দেয়া হয়েছে। কোনো সাহাবিদের নামে নয়।

    ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে মন্ত্রিত্ব হারানো আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে সাফাই গান তিনি। অনেকটা রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকী কী এমন বলেছিল? তাকে বিপদে পড়তে হয়েছে। তার জন্য আজকে দেশে বিক্ষোভ হচ্ছে। এসবই হচ্ছে ওহাবীয় মতবাদ ও মাওলানা মওদুদীর চাপিয়ে দেওয়া সংস্কৃতি, যা আমাদের বাংলা ভাষার মধ্যে ঢুকে পড়েছে।’

    গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘মানুষের মগজধোলাই করে জামায়াত ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে। তারা প্রকৃত ইসলামী অনুশাসনে বিশ্বাসী নয়। এরা দীনে মোহাম্মদী নয়; দীনে মওদুদী। আবদুল ওহাব নামে কট্টর এক ব্যক্তির ধারায় এ অঞ্চলে ওহাবী মতবাদ চাপিয়ে দেয় সৌদি আরব।’

    বিশ্বব্যাপী জঙ্গিবাদের উত্থান প্রসঙ্গে এই লেখক বলেন, ‘আমেরিকা তালেবান সৃষ্টি করে বিপদে পড়েছে। আর ব্রিটিশরা ভারত বর্ষকে ভেঙে টুকরো করার পাশাপাশি ইসলামী মতবাদকেও বিভক্ত করেছে পাকিস্তানকে দিয়ে।’

    তিনি জানান, পরবর্তীতে সৌদি ও ইরানের অর্থায়নে এ অঞ্চলে ওহাবী মতবাদ মাওলনা মওদুদীকে দিয়ে জামায়াতের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এই পাকিস্তানই ৫০ হাজার কাদিয়ানী হত্যার দায়ে মাওলানা মওদুদীর ফাঁসির রায় দিয়েছিল। পরবর্তীতে যদিও ফাঁসি কার্যকর করতে পারেনি।

    তিনি বলেন, ‘এভাবে মুসলমানে মুসলমানে বিভেদ সৃষ্টি করেছে ওহাবী ইজম। আমি তো মনে করি শেখ হাসিনার শত ভুলত্রুটি থাকলেও আজকে সিম্বল অব সেক্যুলারিজমের জনক হচ্ছেন তিনি। সে শক্ত হাতে এসব দমন না করলে বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যেত।’

    গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘যত দিন আমাদের মনে তিনটি প্রাচীর থাকবে, ততদিন বাংলাদেশ নিরাপদ। বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্গবন্ধু। এই তিনটি প্রাচীর থাকলেই তালেবানরা বাংলাদেশকে দখল বা ধ্বংস করতে পারবে না।’

    অতি অনাকাঙ্খিত, চরম ক্ষতিকর, ভীষন ভয়াবহ ,অবরুদ্ধ, অসহনীয় অবস্থা । অকার্যকর রাষ্ট্র, এমনকি গৃহযুদ্ধের ইতিহাস পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।

    দেশ আজ গভীর সঙ্কটে। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে। এ কথা এখন আর অনানুষ্ঠানিক বা চুপি চুপি উচ্চারিত হচ্ছে না। বরং ঘটা করে মিডিয়ার উপস্থিতিতেই অনেক আলোচক বা সংগঠনই এসব কথা বলে যাচ্ছে। গত ১০ জানুয়ারি-২০১৫ ইয়ামুস সাবত বা শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিক সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলে, ৪ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে মানুষ অবরুদ্ধ। এ এক অসহনীয় অবস্থা, যা গত নির্বাচন পূর্ববর্তী সহিংসতাপূর্ণ পরিস্থিতির কথাই মনে করে দিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একটি অকার্যকর রাষ্ট্র, এমনকি গৃহযুদ্ধের দিকেও ধাবিত হতে পারে দেশ। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি-২০১৫ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজেয় বাংলা সংলগ্ন বটতলায় ছাত্রলীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছে, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ছিল একজন নেত্রীকে হত্যা করে দেশে গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি করা হতে পারে। দেখা যাচ্ছে, গৃহযুদ্ধ বিষয়টি যখন বেসরকারি পর্যায় ছাড়াও সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীরাও বলে বেড়াচ্ছেন। অথচ গৃহযুদ্ধ কি অতি অনাকাঙ্খিত, চরম ক্ষতিকর, ভীষন ভয়াবহ একটি বিষয় নয়? ইতিহাসে তার প্রমাণ এবং উদাহারণ কি খুব কম? বিশ্বে বাংলাদেশ আজ যে গণতান্ত্রিক দর্শনের উপর দাঁড়িয়ে; সেই গণতন্ত্রের পীঠস্থান খোদ আমেরিকাই কি গৃহযুদ্ধের দাবানলে ভস্মীভূত হয়নি? যে কারণে সব বিশ্বকোষেই গৃহযুদ্ধের অপর নাম আমেরিকার গৃহযুদ্ধকে উল্লেখ করা হয়। যেটা ১৮৬১ সালে শুরু হয়ে ১৮৬৫ সাল অবধি সংঘটিত হয়ে ছিল যখন আমেরিকার সাতটি দাসরাজ্য আমেরিকান ইউনিয়ন বর্জন করে কনফেডারেট স্টেটস অফ আমেরিকা (কনফেডারেসি অথবা দক্ষিন) তৈরি করে। বাকি প্রদেশ বা রাজ্য যেগুলো ইউনিয়নের সাথে থেকে যায় সেগুলো ইউনিয়ন অথবা উত্তর নামে প্রচলিত থাকে। চার বছর ব্যাপী এই যুদ্ধে ৬০০,০০০ এর ও বেশী সৈন্য মারা যায় এবং দক্ষিনের বেশীরভাগ স্থাপনা ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। ইতিহাসে এরপরে স্থান পায় চীনা গৃহযুদ্ধ হল কুওমিনতাং (অথবা চীনের জাতীয়তাবাদী পার্টি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে অনুষ্ঠিত চীনের এক অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ। ১৯২৭ সালের এপ্রিল মাসে উত্তরের অভিযানের মধ্যেই এই যুদ্ধের সূচনা হয়। এই যুদ্ধ প্রকৃতপক্ষে ছিল পাশ্চাত্য বিশ্বের সমর্থনপুষ্ট চিনের জাতীয়তাবাদী দল কুওমিনতাং এবং সোভিয়েত সমর্থনপুষ্ট চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে এক মতাদর্শগত যুদ্ধ। নিরবচ্ছিন্নভাবে এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকে দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ পর্যন্ত। এই সময় কুওমিনতাং এবং কমিউনিস্ট পার্টি ঐক্যবদ্ধ হয়ে গঠন করে দ্বিতীয় যুক্ত ফ্রন্ট। ১৯৪৫ সালে জাপানের পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। এরপরই ১৯৪৬ সালে চীনে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় গৃহযুদ্ধ আরম্ভ হয়। এর ব্যাপকতা চলতে থাকে পরবর্তী ৪ বছর পর্যন্ত। দ্বিতীয় লাইবেরীয় গৃহযুদ্ধ ১৯৯৯ থেকে শুরু হয়। এই যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়। সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়ার পর থেকে গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ২ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ল্যাটিন ভাষায় বেলাম সিভিল শব্দ থেকে সিভিল ওয়ার শব্দটির উৎপত্তি ঘটেছে। ঈসায়ী-পূর্ব ১ম শতকে রোমান গৃহযুদ্ধে শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়। ইংরেজি ভাষায় সিভিল ওয়ার শব্দটি ইংরেজ গৃহযুদ্ধে প্রথম প্রচলন হয় ১৬৫১ সালে। গৃহযুদ্ধে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তির প্রাণহানির ন্যায় ক্ষয়ক্ষতিসহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিনাশ ঘটে। দু’দেশের মধ্যকার সাধারণ যুদ্ধের তুলনায় গৃহযুদ্ধে শুধুই প্রাণনাশ এবং ক্ষয়-ক্ষতি হয়। স্বল্পসময় থেকে শুরু করে দীর্ঘ মেয়াদে অনেক বছর পর্যন্ত গৃহযুদ্ধ চলতে পারে। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সংঘটিত গৃহযুদ্ধগুলোয় ২৫ মিলিয়নেরও অধিক সাধারণ লোকের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়াও, অনেক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক শরণার্থী হিসেবে অন্য দেশে প্রেরণ করা হয়। অন্যান্য ফলাফলের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক বিপর্যয় বা ধ্বস যা বার্মা (মিয়ানমার), উগান্ডা এবং অ্যাঙ্গোলায় বিরাজমান ছিল। লেখাবাহুল্য, গৃহযুদ্ধের এতসব ধ্বংসাত্মক এবং মর্মান্তিক ইতিহাস থাকার পরও কি আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলি তারা দেশকে, দেশবাসীকে গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হওয়া থেকে রক্ষা করবো না? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, æতোমার ভাইকে অত্যাচারিত ও হত্যাকারী হওয়া থেকে রক্ষা করো।” কাজেই যারা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে অথবা যারা গৃহযুদ্ধে আগাচ্ছে উভয়কেই প্রতিহত করতে আমাদের অগ্রণী হতে হবে। প্রসঙ্গত পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসের দিকে আমরা যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কখনো আগ বাড়িয়ে জিহাদ মুবারক করেননি। সম্মানিত বিদায় হজ্জ উনার ভাষণে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আজ এই পবিত্র দিনে (বিদায় হজ্জ উনার দিন) পবিত্র মাসে এবং পবিত্র (মক্কা) শহরে আপনাদের জন্য যেমন (যুদ্ধবিগ্রহ ও অপকর্ম করা) অবৈধ, তেমনিভাবে আপনাদের জান ও মাল বিনষ্ট করাও অবৈধ।’ অর্থাৎ মুসলমানদের মধ্যে গৃহযুদ্ধও অবৈধ। (বুখারি শরীফ, মুসলিম শরীফ) এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’ (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯০) মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, ‘কোনো দলের প্রতি শত্রুতা মুসলমানদেরকে যেন তাদের প্রতি বে-ইনসাফি করতে উৎসাহিত না করে। ইনসাফ করুন, এটি তাকওয়ার সর্বাধিক নিকটবর্তী।’ (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮) মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, æফিৎনা-ফাসাদ কতলের চেয়েও ভয়াবহ।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৯১) তাছাড়া নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যদি আসমান ও জমিনের সব অধিবাসী একজন মুসলমানকে অন্যায়ভাবে হত্যার জন্য একমত হয়, তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের সবাইকে অবশ্যই জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (মুসনাদে আহমদ) সঙ্গতকারণেই তাই বলতে হয়, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে হারাম নির্বাচনভিত্তিক বর্তমান গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাবাহিকতায় সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে হত্যা-কতলের মতো ভয়াবহ ফিতনা গৃহযুদ্ধ থেকে মুক্তি পেতে হলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহিমান্বিত জীবনী মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ করতে হবে। হিংসা, বে-ইনসাফ, যুলুম, ফেতনা-ফাসাদ, মারামারি, কাটাকাটিমানুষ হত্যা তথা গৃহযুদ্ধ সম্পর্কে সচেতন হতে সম্মানিত কুরআন শরীফ ও সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার শিক্ষা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। æগৃহযুদ্ধ সৃষ্টি করা হতে পারে”-গোয়েন্দা সংস্থার এ তথ্য থাকার পরও; ‘প্রকাশ্যে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে কথা উঠার পরও’ -আমরা কী গৃহযুদ্ধ রহিত করতে উদ্যোগী হব না?

    যে ৮ টি কারণে ২৫ বছর বয়সের আগে বিয়ে করা উচিত নয়

    সকলেই ভাবেন বিয়ের সঠিক বয়স কতো? ছেলে, মেয়ে ভেদে বিয়ের বয়স সামাজিক ভাবে আলাদা তা আমরা সকলেই জানি। ছেলেরা একটু বেশি বয়সে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য, অন্যদিকে মেয়েদের পরিবারের চাপে পড়ে অনেক আছেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। যদিও আজকাল এই প্রথার কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি সমাজে।

    তাহলে সত্যিকার অর্থে বিয়ের সঠিক সময় কোনটি? নারী হোক বা পুরুষ, একজন মানুষের বয়স অন্তত ২৫ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করা উচিত নয় একেবারেই। জানতে চান কী কারণে? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক।

    ১) পুরোপুরি ম্যাচিউরড হয়ে বিয়ে করা উচিত
    ১৮ বছর বয়সে একজন মানুষ পূর্ণবয়স্ক হয়ে থাকেন। কিন্তু নারী বা পুরুষ দুজনেরই নিজের একটি সংসার সামলানোর দায় দায়িত্ব নেয়ার ক্ষমতা ২৫ এর পরই আসে এবং এটি শারীরিক নয় পুরোপুরি মানসিক ব্যাপার।

    ২) নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি করতে
    আমাদের দেশে ২৫ এর আগে নয় বরং ২৫ এর পরেই একজন মানুষকে একটি খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার মতো চাকুরি পেতে দেখা যায়। পুরুষদের এই সুযোগটি দেয়া হলেও অন্যের স্ত্রী হতে হয় বলে নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এই সুযোগ বেশ কমই দেয়া হয়। কিন্তু আসলেই প্রতিষ্ঠিত হতে হলে ২৫ এর পরই বিয়ের চিন্তা করা উচিত।

    ৩) আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে বিয়ে করা উচিত
    শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠিত নয় একজন মানুষের জীবনযাপনের জন্য আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমাদের সমাজে শুধুমাত্র পুরুষের এই দিকটি দেখা হয়। কিন্তু একজন নারী হিসেবেও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া উচিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে।

    ৪) পরিবারের মূল্য বুঝে বিয়ের জন্য রাজি হওয়া উচিত
    ২৫ বছর বয়সের আগে একজন মানুষের পক্ষে পরিবারের মূল্য কতোখানি তা সঠিকভাবে বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। প্রমাণ পেতে আশেপাশেই একটু নজর বুলিয়ে দেখুন। সদ্য গ্র্যাজুয়েট একজন মানুষ নিজেকে বুঝতেই তো সময় পার করে দেন, তিনি পরিবার কি জিনিস তা বুঝবেন কীভাবে?

    ৫) নিজের ভবিষ্যৎ ঠিক করে নিয়ে বিয়ের কথা ভাবা উচিত
    ভবিষ্যতে কী করছেন, কোন লক্ষ্যে গিয়ে পৌঁছুবেন এবং সঠিক পথে হাঁটা শুরু করে তবেই বিয়ের কথা চিন্তা করা উচিত। তা না হলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

    ৬) নিজের জন্য সঠিক মানুষটি খুঁজে নিয়ে বিয়ে করুন
    লাভ বা আরেঞ্জ যেভাবেই বিয়ে করুন না কেন সেটি হবে পুরো জীবনের একটি বন্ধন। সুতরাং ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। নিজের জন্য সঠিক মানুষ কোনজন তা বুঝতেও ম্যাচিউরিটির প্রয়োজন রয়েছে।

    ৭) দায়িত্ব নিতে শিখে বিয়ের কথা ভাবা উচিত
    ২৫ বছর বয়সের আগে ছাত্রজীবনে প্রায় সকলকেই একটু দায়সারা গোছের জীবনযাপন করতে দেখা যায়। তাই প্রথমে দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টি শিখে নেয়া উচিত বিয়ের কথা ভাবার আগে।

    ৮) নিজেকে গুছিয়ে নিতে শিখে বিয়ে করা উচিত
    বিয়ে কোনো ছেলে খেলা নয়। অনেক বড় একটি দায়িত্ব জড়িয়ে আছে এতে। বাপের বাড়ি, শ্বশুর বাড়ি এবং নিজের সংসার স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই ৩ টি সংসার সামাল দিতে হবে। তাই প্রথমে নিজেকে একটু গুছিয়ে নিতে শেখা উচিত। আর এই গুছানো ২৫ বছরের পরেই দেখা যায় সকলের মধ্যে।

    ব্রণের দাগ দূরীকরণের প্রাকৃতিক উপায়

    জীবনের বিভিন্ন ধাপ পার করার সময় সবাইকে মুখোমুখি হতে হয় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা হল ব্রণ। শুধু কিশোর কিশোরীই নয়। আজকাল তরুন তরুণী, মধ্যবয়সী নারীরাও এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বাজারের বিভিন্ন রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করে ত্বকের ক্ষতিসাধন করছেন। কে চায় এত সুন্দর মুখশ্রীর উপর ব্রণ বা এর দাগ!!
    ব্রণ দূর করার চেয়ে ব্রণের দাগ দূর করা বেশ কঠিন। প্রাকৃতিক উপাদান এবং ডাক্তারের সাহায্যে ব্রণ দূর করা যায়। কিন্তু ব্রণের এই জেদি দাগগুলো থেকেই যায়। কিছুতেই যেতে চায় না। তবে একটি প্রবাদ আছে , “নাথিং ইজ ইম্পসিবল”। অসম্ভব বলে কিছু নেই। যদিও সময় একটু বেশি লাগবে, কিন্তু নিয়মিত চেষ্টায় কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের সহায়তায় এই দাগ ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব। এই উপাদানগুলো প্রাকৃতিক ব্লিচিং হিসেবে কাজ করবে এবং আপনার ত্বক থেকে স্থায়ীভাবে দাগ দূর করবে।
    প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো। তাই আমি অবশ্যই বলব ত্বকের জন্য নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস ত্যাগ করা ও ভালো কিছু অভ্যাস তৈরি করা।
    ১। আপনার ব্রণ থেকে নখকে দূরে রাখুনঃ
    আপনার ব্রণের সাথে খেলবেন না। একে একা থাকতে দিন। ভুলেও নখ লাগাবেন না বা চাপ দিবেন না। চুলকানি হলেও স্পর্শ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন। আর যদি প্রতিকারের জন্য কোন ওষুধ বা কোনও কিছু ব্যবহার করেন, তবে অবশ্যই আলতোভাবে করতে হবে।
    ২। সূর্যের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুনঃ
    সূর্যের আলোতে ব্রণের দাগ বসে যায়। তাই চেষ্টা করবেন সূর্যের সংস্পর্শ থেকে নিজেকে দূরে রাখার। কিন্তু বাইরে না গিয়ে তো উপায় নেই। তাই যখনই বাইরে যাবেন, তখন অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম লাগিয়ে যাবেন। আর ছাতা, হ্যাট, ওড়না, স্কার্ফ ইত্যাদি দিয়ে নিজের ত্বককে সূর্যের রশ্মি থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করবেন।
    ব্রণের দাগ দূর করার প্রাকৃতিক প্রতিকারঃ
    ১।লেবুঃ
    (ক) লেবু একটি প্রাকৃতিক ব্লিচ। লেবুর রসের সাথে সামান্য পানি মিশিয়ে একটি তুলার বলের সাহায্যে তা মুখে ৩-৪ মিনিট ঘষুন।
    (খ)যদি সেনসিটিভ স্কিন হয় তাহলে এর সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে নিবেন। সম্ভব হলে ১ চামচ লেবুর রসের সাথে ২ চামচ ই ক্যাপসুল মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া একটানা ৭-১০ দিন নিচের ফেস প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।
    লেবুর ফেসপ্যাকঃ ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ মধু, ১ টেবিল চামচ আমন্ড তেল, ২ টেবিল চামচ দুধ একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণ থাকা অবস্থায় দুধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
    ২।মধুঃ
    (ক) রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালো করে ধুয়ে মধু লাগান। সারারাত তা রেখে সকালে ঘুম থেকে উঠে তা ধুয়ে ফেলুন।
    (খ) মধুর সাথে দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে শুধুমাত্র দাগের উপর লাগিয়ে ১ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। চাইলে সারারাতও রাখতে পারেন।
    মধুর ফেসপ্যাকঃ ২-৩ টি এস্পিরিন ট্যাবলেট এর সাথে ২ চামচ মধু ও ২-৩ ফোঁটা পানি মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। এস্পিরিন এর স্যালিসাইলিক এসিড ব্রণের দাগ দূরের জন্য খুবই সহায়ক।
    ৩। অ্যালোভেরা জেলঃ
    দিনে দুইবার অ্যালোভেরা জেল মুখে লাগান এবং ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি শুধুমাত্র ব্রণের দাগই দূর করবে না, বরং আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং টানটান হবে।
    ৪। বেকিং সোডাঃ ২ টেবিল চামচ বেকিং সোডা ও সামান্য পানি একসাথে মিশিয়ে মুখে ২-৩ মিনিট ঘষুন এবং শুকানোর জন্য কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর মুখ ধুয়ে এর উপর কোনও ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা অলিভ অয়েল লাগান।
    ৫।একটি লাল টমেটোর কিছু অংশ নিয়ে তার রস নিন। এরপর তা শশার রসের সাথে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ বার এই প্যাকটি লাগান। ব্রণের দাগ দূর তো হবেই সেই সাথে রোদে পোড়া দাগ দূর হয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
    উপরের সবগুলো উপাদান ত্বকের দাগ দূরের জন্য বেশ উপকারী। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী যে উপাদান বেশি ভালো তা ব্যবহার করুন এবং আপনার মূল্যবান ত্বকের যত্ন নিন, বেশি করে পানি পান করুন, সুস্থ থাকুন।

    শিখে নিন দারুণ সহজ একটি ব্রাইডাল মেহেদী ডিজাইন (ভিডিও)

    দেখতে দেখতে বছরটা শেষের পথে এবং বলাই বাহুল্য যে শুরু করে হয়ে গিয়েছে বিয়ের মৌসুম। আর বিয়ের মৌসুম মানে চোখ ধাঁধানো সাজগোজ, জমকালো অনুষ্ঠান আর জম্পেশ দাওয়াত। এবং এই গ্লামারাস উৎসবের মৌসুমে একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মেহেদী। বিশেষ করে ব্রাইডাল মেহেদী বা কনের হাতের মেহেদী।

    অনেক টাকা খরচ করে পেশাদার শিল্পী দিয়ে ব্রাইডাল মেহেদী দেয়াই যায়। তবে এতটা অর্থ হয়তো অনেকেরই থাকে না। অনেকেই আবার নিজের আপনজনদের হাতে মেহেদী পরতে ভালোবাসেন। আসুন, আজ শিখে নেয়া যাক খুব সহজ একটি ব্রাইডাল মেহেদী ডিজাইন। কয়েকবার প্র্যাকটিস করলে আপনি নিজেও করতে পারবেন এমন সুন্দর ডিজাইন। আর সময়টাও বেশ কম লাগবে হাত ভরে মেহেদী দিতে। হাতের তালু এবং উপরের অংশে, উভয় দিকেই মানিয়ে যাবে এই চমৎকার ডিজাইন।

    দেখে নিন ভিডিও।

    বিয়ে করতে যাচ্ছেন? এই ১০ টি প্রশ্ন অবশ্যই করুন বরকে

    প্রেম আর বিয়ে, দুটো কিন্তু জীবনের সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি অধ্যায়। একটায় যেমন দায়িত্ব নেই, আছে কেবল আনন্দ। আরেকটায় ঠিক তেমনই আছে ভালো লাগার পাশপাশি দায়িত্ব নেয়ার বিষয়টাও। আর তাই প্রেমের বিয়ে হোক বা পারিবারিক, বিয়ের আগে নিজের হবু স্বামীকে কিছু প্রশ্ন অবশ্যই করা উচিত। হ্যাঁ, সময়ের সাথে সাথে জীবন বদলে যায়। কিন্তু এই প্রশ্নগুলো আপনাকে সাহায্য করতে পুরুষটিকে ভালোভাবে বুঝতে এবং আপনার সাথে মানসিকতা মেলে কিনা সেটা যাচাই করতে। অনেক মেয়েরই অভিযোগ থাকে যে, “বিয়ের পর ও বদলে গেছে”। আসলে তিনি বদলে যান বা, মূলত আপনার ভুল হয়েছিল তাঁকে বুঝতে। তাই এই বিভ্রান্তি দূর করতে, কিছু প্রশ্ন আগাম করুন।

    ১) তুমি আমাকে কেন ভালোবাসো?
    এই প্রশ্নটা বলতে গেলে কেউই করেন না। কিন্তু এটাই সবচাইতে জরুরী। কেন ভালোবাসেন তিনি আপনাকে? প্রথম জবাব যদি হয়- “তুমি অনেক সুন্দর”… তাহলে দ্বিতীয়বার ভাবুন। একজন মানুষ অনেক সুন্দর বলে তাঁকে ভালোবাসা আর যাই হোক সততার পর্যায়ে পড়ে না। তাহলে সময়ের সাথে সৌন্দর্য চলে গেলে ভালোবাসাও তখন ফুরিয়ে যাবে।

    ২) তুমি আমার সাথেই পুরো জীবনটা কাটাতে চাও কেন?
    সেই সাথে নিজেকেও প্রশ্ন করুন- আপনি তার সাথে পুরো জীবন কাটাতে চান কেন? এবং তারপর মিলিয়ে দেখুন পরস্পরের জবাব। মানসিকতা মিলছে কি?

    ৩) সন্তানের বিষয়ে তোমার ভাবনা কি?/কেন মানুষের সন্তান প্রয়োজন?
    তিনি সন্তানক সম্পর্কে কী ভাবেন, ভালোবাসার ফসল নাকি বংশ বৃদ্ধির হাতিয়ার? তাছার আজকাল সন্তান না হওয়াটাও খুব সাধারণ ব্যাপার। যদি সন্তান না হয় আপনাদের কোন কারণে, যদি কারণ অক্ষমতা থাকে, সেক্ষেত্রে তার মনোভাব কী হবে সেটা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরী।

    ৪) তোমার জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটা কী?
    এই ব্যাপারটাও জেনে রাখাটা খুব বেশি জরুরী। তাহলে আপনি জানতে পারবেন কোন বিষয়গুলোকে তিনি গুরুত্ব দেন আর কোথায় কখনো আপনার উচিত হবে না হস্তক্ষেপ করা।

    ৫) একদিন আমি এমন থাকবো না দেখতে, তখন কী হবে?
    বয়সের ছাপ সবার চেহারাতেই পড়ে। এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেকটা আগে পড়ে। এই প্রশ্নের সৎ উত্তর পাবেন কিনা জানা নেই, তবে প্রশ্নটা অবশ্যই করুন।

    ৬) যদি কখনো আমার একটি বড় অসুখ হয় এবং আমাদের আর যৌন সম্পর্ক সম্ভব না হয়, তারপর তুমি কী করবে?
    মানুষ মাত্রই তার জন্য যৌন সম্পর্ক জরুরী। বিশেষ করে পুরুষদের জন্য। আর এই প্রশ্নের জবাব আপনাকে সাহায্য করতে তাঁকে আরও ভালোভাবে বুঝতে। কোন ভুল ধারণা থাকবে না মনে।

    ৭) তুমি কি ওয়াদা করতে পারো যে দাম্পত্যে প্রতারণা করবে না?
    এই ওয়াদা কেউ রক্ষা করতে পারবে কি পারবে না, সেটা ভবিষ্যতই বলে দেবে। কিন্তু কেউ যদি জীবনের শুরুতেই এই ওয়াদা করতে গড়িমসি করেন, বাকিটা আপনি নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারছেন।

    ৮) জীবনের চড়াই উৎরাইতে আমি কোন ভুল করে ফেললেও কি পাশে থাকবে?
    পুরো পৃথিবী যদি কখনো বিপক্ষে চলে যায়, একজন মানুষ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে ও ভালোবেসে পাশে থাকবে আপনার, পৃথিবীতে এর চাইতে সুন্দর আর কিছুই হতে পারে না। এর চাইতে বেশি নিরাপদও না।

    ৯) বিয়ের পরও কি আমরা নিজ নিজ স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কাজ করতে পারব?
    বিয়ে মানেই জীবন ফুরিয়ে যাওয়া নয়। বিয়ে মানে নতুন একটি অধ্যায়ের শুরু। একটাই জীবন, সকলেরই আজন্ম লালিত কিছু স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্নগুলোর কী হবে সেটা আগেই জেনে রাখা ভালো।

    ১০) আমাদের দাম্পত্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমি কী ভেবেছ?
    একটু আগেই বললাম, দাম্পত্য মানে একটা নতুন অধ্যায়। আর জীবনের এই অধ্যায়ে চাই প্রচুর পরিকল্পনা। কোন অগ্রিম পরিকল্পনা ছাড়া দাম্পত্য কখনোই সফল হতে পারে না। আপনারও নিশ্চয়ই কিছু প্ল্যান আছে? তাহলে আগেই জেনে রাখুন হবু স্বামীর পরিকল্পনা।

    সৌদি নারীদের স্বামী হিসেবে পছন্দ বিদেশীদের

    দাম্পত্য জীবনে স্থিতি ও নিরাপত্তার জন্য সৌদি নারীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিদেশীদেরই স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে চান। বেশির ভাগ সৌদি নারীই চান না তাদের বিয়ে ডিভোর্স কিংবা স্বামীর বহুবিবাহের কারণে শেষ হোক। এ ছাড়া একটি নির্দিষ্ট বৃত্তের বাইরে গিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনেক স্বাধীনতা পাওয়া যায় এ ক্ষেত্রে। সে জন্যই স্বামী হিসেবে বিদেশী পুরুষদেরই বেশি পছন্দ সৌদি নারীদের। এ খবর দিয়েছে আরব নিউজ। হাদি মাক্কি নামের এক হাসপাতালের নার্স বলেন, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এড়াতে ও বিবাহবিচ্ছেদের হার বেশি হওয়ায় অগণিত তরুণী সৌদি পরিবারে বিয়ে করতে ভয় পান। অনেকে চান বিদেশে গিয়ে আরেকটু স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে, যা তারা নিজেদের সমাজে পারেন না। সৌদি অনেক নারীই আরবের অন্য দেশের পুরুষদের বিয়ে করেছেন। আরবের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সত্তার মধ্যে মিল থাকায় এটি সম্ভব হয়েছে। তবে গভীর উপজাতীয় শেকড় যাদের মধ্যে বিদ্যমান, তারা খুব কমই নিজের সংস্কৃতির বাইরের মানুষকে বিয়ে করতে আগ্রহী। আইন পরামর্শদাতা আবদুল আজিজ দাশমান বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কুয়েতের বেশি নাগরিককে বিয়ে করেছেন সৌদি নারীরা। ২০১২ সালের এক জরিপে এমন তথ্য পাওয়া যায়। তবে উপসাগরীয় নয়, এমন দেশগুলোর মধ্যে ইয়েমেনের পুরুষরাই বেশি বিয়ে করেছেন সৌদি নারীদের। এ ছাড়া দেখা গেছে, অন-আরব কাউকে বিয়ে করার ব্যাপারে সামাজিক টাবু থাকা সত্ত্বেও ১১৮ সৌদি নারী পাকিস্তানিদের বিয়ে করেছেন। তবে তিনি আরও জানান, অনেক সৌদি নারীর কাছে সৌদি নন এমন পুরুষদের বিয়ে করাটা অনেকটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো বিষয়। তবে এ ক্ষেত্রে আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। তিনি নারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাদের অর্থের ওপর আগ্রহ আছে এমন পুরুষের প্রতি যাতে তারা ঝুঁকে না পড়ে। নোরা নামের এমন এক সৌদি নারী নিজ সংস্কৃতির কাউকে বিয়ে না করার কারণে আক্ষেপে পুড়ছেন। তিনি বলেন, আমি যদি আমার আত্মীয়দের কথা শুনতাম তবেই ভাল হতো। খাইরিয়াহ আলি নামের ভিনদেশী পুরুষকে বিয়ে করা এক সৌদি নারী বলেন, তিনি ও তার সন্তানরা এখন আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছেন। কেননা, অভিবাসী স্বামী তার নিয়োগকারী কোম্পানির সঙ্গে এক ঝামেলায় জড়িয়ে এখন জেল খাটছেন। এ ছাড়া এ ধরনের দম্পতির সন্তানের নাগরিকত্ব নিয়েও সমস্যা হয়। সৌদি শূরা পরিষদের সদস্য সাদাকাহ ফাদেল জানান, প্রায় ৭ লাখ সৌদি নারী বিদেশী বিয়ে করেছেন, যা মোট বিয়ে করা সৌদি নারীদের ১০ শতাংশ। শূরা পরিষদ সৌদি নারীদের বিদেশী স্বামী বা পুরুষদের বিদেশী স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব সম্পর্কিত আইন পরিবর্তন করতে চাইছে। তবে অনেকে আশঙ্কা করছেন, এ আইনের অপব্যবহার হতে পারে।

    ছেলে আর মেয়ের মধ্যে কক্ষনো বন্ধুত্ত্ব হয় না

    আপনি হয়ত বিশ্বাস করতে চাইবেন না কথাটা। আপনি বলবেন, “নাহ; বন্ধুত্ত্ব হয় তো!” … হয়তবা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে চাইবেন।
    তাহলে অভিজ্ঞতাটাকে রিওয়াইন্ড করেন;
    আপনার সাথে কোন একটা মেয়ের পরিচয় হলো। হয়তবা কোচিং থেকে, কিংবা স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে অথবা ‘ফ্রেন্ড অফ ফ্রেন্ড’ থিওরিতে। পরিচিত হবার পর আপনারা চার-পাঁচজনের গ্রুপ ধরে প্রাইভেটের পর দেখা করতেন। ফুচকা খেতেন.. আড্ডা দিতেন। হৈ-হৈ-হুল্লোড়ে মেতে থাকতেন। হঠাৎ কোন একদিন, যেকোনভাবেই হোক.. আপনি আর আপনার একটা বান্ধবি একা দেখা হয়ে গেল। আড্ডা শুরু করলেন। গ্রুপের আড্ডায় যে হুল্লোড়টা হয়, সেটা দুইজনের আড্ডায় হয় না… এটা স্বাভাবিক।
    সাধারণভাবেই, সেদিন থেকেই আপনারা দুইজন ভাল ফ্রেন্ড। আপনি ছেলে ভালো.. মেয়েটা টের পেল। আর সে যে মেয়ে ভাল.. এটা আপনি টের পেলেন। হয়তবা ফ্রেন্ডশিপের গভীরতায়, আপনারা ‘তুমি’ থেকে ‘তুই’তে পৌছেও গেলেন। ‘তুই’তে এসে নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতাটা স্বাভাবিকভাবেই আরেকটু বেড়ে যায়। মেয়েটা দেখতেও হয়ত সুন্দরী। তার উপর আপনার কোন ধরণের বাজে নজর আদৌ নেই!
    … এবার বুকে হাত রেখে বলেন, “পড়ার টেবিলে পড়তে পড়তে, হঠাৎ করে কি একবারও মনে হয়নি.. মানুষটাকে আপনি ভালবাসতে পারেন? কিংবা.. ‘ভালবাসলে খারাপ হয় না; মেয়েটা ভালোই’ …এমন ভাবেননি?”
    হুম ভেবেছেন; একটাবারের জন্য হলেও ভেবেছেন। কিংবা.. তার উপর, এক প্রকারের অধিকার খাটাতে ইচ্ছে করেছেই হয়ত কখনো। আপনি হয়ত বন্ধুত্ত্বের সম্পর্কের সম্মানে, তার আপনার নিজের ব্যাপারে পরিস্কার করতে পারলেন না। সেই কষ্ট আপনার থেকেই গেল। কিংবা.. আপনি নিজের ব্যাপারে পরিস্কার করলেন, তখন খুব কম ক্ষেত্রেই এই ভালবাসাগুলো পূর্ণতা পায়। বাকিটা সময়, আপনাকে ঝাড়ি খেতে হবে… “এই সুন্দর সম্পর্কটাকে এভাবে ভেবেছিস এতদিন? ছিঃ”
    এবার আসি, মেয়েদের ফ্যাক্টে!
    মেয়েরা সাধারণ কেয়ারিং পাগল হয়। কোন মানুষকে যদি সে নিজের প্রতি কেয়ারফুল দেখে, তাদের প্রতি একটা আলাদা অনুভূতি জন্মানোটা বেশ স্বাভাবিক… হয়ও তাই! এভাবেই তার কোন এক ক্লোজ ফ্রেন্ড ঠিকঠাকভাবে নিতে থাকে তার কেয়ার। নিজের অজান্তেই, মেয়েটিও দুর্বল হতে থাকে ছেলেটির উপর।
    এই বন্ধুত্ত্বের সম্পর্কটা অ্যাবস্ট্রাক্ট স্টাইলে, যখন দুর্বলতার সম্পর্কে টার্ন করে, তখন সম্পর্কের ধারা পরিবর্তন হতে থাকে। এবং… দিনশেষে দেখা যায়, প্রতিটি ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ত্বের সম্পর্কই এভাবে টার্ন-ওভার করেছে। আর এই ক্ষেত্রে, অনেক সম্পর্কের ‘হ্যাপি এন্ডিং’ হয়… অনেকক ক্ষেত্রে উদ্ভব হয় ‘বিরহ’ শব্দটির।
    ‘হ্যাপি এন্ডিং’ হলে তো কথাই নেই; কিন্তু যেকোন একজনের প্রতি আরেকজনের দুর্বলতা থাকায়, ‘বিরহ’ শব্দটির আগমনে, যেকোন রকমেরই দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে!
    নেক্সট প্রশ্ন দাড়াতে পারে… “এই ব্যাপারগুলোকে এত সিরিয়াসভাবে ধরা হচ্ছে কেন?”
    …হ্যাঁ; নরমাল রিলেশনগুলো থেকে এটা ড্যাম সিরিয়াস। তবে এখানে, দুইটা ক্ষেত্রের মধ্যে পার্থক্য করা যেতে পারে;
    নরমালি লাভ রিলেশনগুলোর ক্ষেত্রে, ছেলে অথবা মেয়ে, আরেকজনের সামনে শুরু থেকেই লাভিং অ্যাটমোস্ফিয়ারেই অবস্থান করে। এখানে, বিপরীত মানুষটাও ধরতে পারে যে ‘সেই মানুষটা তার জীবনের ভালবাসার জায়গাটা চায়’ … সুতরাং, তার যদি ইচ্ছে থাকে, তবেই সে তাকে কাছে টানবেন, নাহলে দূরে সরিয়ে দেবেন।
    কিন্তু বন্ধুত্ত্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে, কোন বাধ-বিচার একদমই করা হয়না। বন্ধু হিসেবে আমরা সবাইই কমবেশি যথেষ্টই ভাল। আর তাছাড়া, ব্যক্তি জীবনে প্রতিটি মানুষই কোন না কোন একটা দিক থেকে ইম্প্রেসিভ। এই ব্যাপারগুলো বন্ধুত্ত্বের গভীরতায় চেনা যায়.. জানা যায়। কোন বন্ধুকে কাছে টানতে কেউ দ্বিধা করে না। এমনকি.. আপাত দিক থেকে বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড-এর চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে এই ‘বন্ধু’ জাতিটা। আর এত কাছাকাছি থাকা একটা মানুষ.. তার সাথে কাটানো মুহুর্ত.. হাসি-ঠাট্টা, যখন সে কাছে থাকে না, তখন বেশ ভালোই কষ্ট দেয় নিজেকে!
    ‘ছেলে এবং মেয়ে’ বন্ধুত্ত্বের ক্ষেত্রে, সম্পর্কের ইতিটা বন্ধুত্ত্ব দিয়েই টানা হয়েছে, এটা ব্যতিক্রম কেইস; রেয়ার। কিন্তু দুর্ঘটনার মাধ্যমেই এমন সম্পর্কের ইতি টানে… বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। আর ‘ব্যতিক্রম’ কখনো ‘উদাহরণ’ হতে পারে না।

    ব্যাকটেরিয়া থেকে ২৪ ক্যারটের স্বর্ণ তৈরি করেছেন!

    ব্যাকটেরিয়া থেকে ২৪ ক্যারটের স্বর্ণ! বিষয়টি অবাক করার মত হলেও ঘটনা সত্য। মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া থেকে এ স্বর্ণ তৈরী করেছেন। এসব ব্যাকটেরিয়া শক্তিশালী বিষ নির্গত করে যা থেকে ২৪ ক্যারট মানের স্বর্ণ তৈরি করা সম্ভব।

    মাইক্রোবিয়াল এলক্যামি নামক এ প্রক্রিয়াতে বিজ্ঞানীরা ব্যাকটেরিয়া থেকে উন্নত মানের স্বর্ণ তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। গবেষক দলের প্রধান হিসেবে ছিলেন অণুজীববিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক বিজ্ঞানী কাজিম কাসেফি। কাজিম কাসেফির সাথে একক ভাবে এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন ইলেক্ট্রনিক আর্ট এবং ইন্টারমিডিয়া বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক এডাম ব্রাউন।

    গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, Cupriavidus metallidurans নামক ব্যাকটেরিয়া উচ্চ মাত্রায় স্বর্ণের ক্লোরাইড থেকে উন্নতমানের ২৪ ক্যারটের স্বর্ণ তৈরি করতে সক্ষম। গবেষক দলের ভাষ্য মতে এই নতুন আবিষ্কৃত ব্যাকটেরিয়া আগের সকল গবেষণার থেকে ২৫ গুন বেশী শক্তিশালী। এর মাধ্যমে তৈরি করা যাবে ২৪ ক্যারটের অতি মূল্যবান ধাতু। গবেষকরা সবার সম্মুখে তাঁদের আবিষ্কৃত প্রক্রিয়াতে এই ব্যাকটেরিয়া থেকে মূল্যবান স্বর্ণ তৈরি করে দেখান।

    কাসেফি এবং ব্রাউন এসব ব্যাকটেরিয়াকে গোল্ড ক্লোরাইড খাওয়ান এবং এর কিছুদিনের মাঝেই এসব ব্যাকটেরিয়া উন্নতমানের ২৪ ক্যারটের স্বর্ণ তৈরি করা শুরু করে।

    ব্রাউন তাঁদের এই গবেষণার বিষয়ে বলেন, “বিজ্ঞান একটি শিল্প আমি নিজেও একজন শিল্পী ফলে আমি শিল্প নিয়ে কাজ করেছি। নিজের কাজ দিয়ে শিল্পকে উপভোগ করছি।“

    এই গবেষণা নকল করে নকল স্বর্ণ তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ হবে ফলে এটি নকল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ অতএব এর মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখা যাবে।

    তবে কবে নাগাদ আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বর্ণ তৈরি করা হবে সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা কিছুই বলেন নি। যদি প্রকৃত পক্ষে ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি কৃত স্বর্ণ বাজারে আসে তবে অবশ্যই স্বর্ণের উচ্চ মূল্য অনেক আংশে কমে আসবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।