• ?????: সম্পাদকের পছন্দ

    ৮৬২ কেজির মিষ্টিকুমড়া

    একটি মিষ্টিকুমড়া। কিন্তু সেটি কোনো যেমন-তেমন মিষ্টিকুমড়া নয়। দেখতে যেমন অতিকায়, ওজনেও বিশাল। এমনই বিশাল যে, এই মহাকুমড়াকে সরানোর জন্য রীতিমতো দরকার হয় একটি ট্রাক্টরের। ব্রিটেনের সবচেয়ে ভারী সবজির তালিকায় এক নম্বরে উঠে আসা এই কুমড়ার ভর এক হাজার ৯০০ পাউন্ড; প্রায় ৮৬২ কেজি। এই মিষ্টিকুমড়াটি ফলিয়েছেন যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারের দুই যমজ ভাই।

    ৫৩ বছর বয়সী ইয়ান ও স্টুয়ার্ট প্যাটন নামের এ দুই ভাই শখ করে সবজি চাষ করেন। কেবল সবজি চাষ করেন বললে তাদের সম্পর্কে আসলে ভুলই বলা হয়। তারা মূলত ফলান বিশাল আকৃতির সবজি। এ বছর তারা এক হাজার ৯০০ পাউন্ডের এই মিষ্টিকুমড়া ফলিয়ে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় কুমড়ার রেকর্ড গড়েছেন। এর আগের বছরে তাদের রেকর্ড ছিল এক হাজার ৫২০ পাউন্ডের একটি মিষ্টিকুমড়া।

    হ্যাম্পশায়ারের পেনিংটনে বিশাল আকৃতির সবজি নিয়ে বার্ষিক প্রতিযোগিতায় এ দুই ভাই সাড়ে চার ফুট লম্বা আর ১৭ ফুট চার ইঞ্চি পরিধির এই ভয়াবহ আকৃতির মিষ্টিকুমড়া নিয়ে হাজির হন। তার পর সবচেয়ে বড় কুমড়ার রেকর্ড গড়েছেন।

    তারা এ রেকর্ড গড়ার ঠিক কিছু আগে ডরসেটের সবজিচাষি মার্ক ব্যাগস এক হাজার ৫৮২ পাউন্ডের মিষ্টিকুমড়া নিয়ে আসেন। ভাবা হচ্ছিল, মার্কের কুমড়াটাই হয়তো সবচেয়ে বড় হবে। ইয়ান প্যাটন বলেন, যখন মার্কের কুমড়াটা ওজন করা হচ্ছিল আমরা ভেবেছিলাম, এটা এতই বিশাল যে এর সঙ্গে অন্য কোনো কুমড়া পেরে উঠবে না। কিন্তু পরে আমাদের কুমড়া যখন রেকর্ড ভাঙল, সবাই অবাক হয়ে গেল।

    ইয়ান ও স্টুয়ার্ট প্যাটন এপ্রিল মাসে এ কুমড়ার বীজ বপন করেন। তার পর থেকে দিন-রাত পরিচর্যার মাধ্যমে এই বিশাল মিষ্টিকুমড়া ফলিয়েছেন।

    রয়্যাল ভিক্টোরিয়া কান্ট্রি পার্কের এই বার্ষিক প্রতিযোগিতায় দুই ভাই একটা ট্রাকে করে তাদের বিশাল কুমড়াটি নিয়ে যান। এ প্রতিযোগিতায় এক হাজারের বেশি কুমড়াচাষি তাদের বিশাল আকৃতির মিষ্টিকুমড়া নিয়ে হাজির হন। তাদের মধ্যে ২৫ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

    পৃথিবী আমাদের চায় না : ফাঁসির আগে মাকে রেহানার চিঠি

    রেহানা জাব্বারি। ইরানের এই নারীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। বয়স হয়েছিল ২৬ বছর। ধর্ষণ চেষ্টাকারীর বুকে ছুরি বসানোর অপরাধে তাকে মৃত্যুদ- দেয় ইরানের সুপ্রিম কোর্ট। ২৫ অক্টোবর তার মত্যুদ- কার্যকর করা হয়।
    রেহানার ফাঁসির বিরোধিতা করে গোটা বিশ্বের অজস্র মানবাধিকার সংগঠন। প্রাণভিক্ষার আবেদন জানায় দুনিয়ার অনেক মানুষ। আর মেয়ের বদলে তাকেই ফাঁসিতে ঝোলানোর মিনতি করেছিলেন রেহানার মা শোলেহ। কিš‘ কোনো কিছুতেই কান দেয়নি সরকার। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই নিভিয়ে দেওয়া হয় ছাব্বিশের তরতাজা জীবনদীপ।
    মৃত্যুর আগে মাকে শেষ চিঠি লিখে গেছেন রেহানা। হৃদয় নিংড়ানো সেই চিঠিতে মাকে শোকগ্রস্ত হতে বার বার বারণ করেছেন রেহানা। মৃত্যুকে তিনি অভিহিত করেছেন নিয়তির বিধান হিসেবে, তবে সে জন্য তিলমাত্র অনুতাপ করেননি। বরং ফাঁসির পর তার দেহাংশ দান করার অনুরোধ জানিয়েছেন জন্মদাত্রীকে। রেহানার সেই মর্মস্পর্শী চিঠি গণমাধ্যমের হাতে তুলে দিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠন ও শান্তিকামী গোষ্ঠীর সদস্যরা।
    মাকে লেখা রেহানা জাব্বারির শেষ চিঠি:
    প্রিয় শোলেহ,
    আজ জানতে পারলাম এবার আমার ‘কিসাস’ (ইরানের আইন ব্যব¯’ায় কর্মফল বিষয়ক বিধি)-এর সম্মুখীন হওয়ার সময় হয়েছে। জীবনের শেষ পাতায় যে পৌঁছে গিয়েছি, তা তুমি নিজের মুখে আমায় জানাওনি ভেবে খারাপ লাগছে। তোমার কি মনে হয়নি যে এটা আমার আগেই জানা উচিত ছিল? তুমি দুঃখে ভেঙে পড়েছ জেনে ভীষণ লজ্জা পা”িছ। ফাঁসির আদেশ শোনার পর তোমার আর বাবার হাতে চুমু খেতে দাওনি কেন আমায়?
    দুনিয়া আমায় ১৯ বছর বাঁচতে দিয়েছিল। কেননা সেই অভিশপ্ত রাতে আমারই তো মরে যাওয়া উচিত ছিল, তাই না? আমার মৃতদেহ ছুড়ে ফেলার কথা ছিল শহরের কোনো অজ্ঞাত কোণে। কয়েকদিন পর মর্গে যা শনাক্ত করার কথা ছিল তোমার। সঙ্গে এটাও জানতে পারতে যে হত্যার আগে আমাকে ধর্ষণও করা হয়েছিল। হত্যাকারীরা অবশ্যই ধরা পড়ত না, কারণ আমাদের না আছে অর্থ, না ক্ষমতা। তারপর বাকি জীবনটা সীমাহীন শোক ও অসহ্য লজ্জায় কাটিয়ে কয়েক বছর পর তোমারও মৃত্যু হত। এটাই যে হওয়ার কথা ছিল।
    কিš‘ সে রাতের আকস্মিক আঘাত সব কিছু ওলোটপালট করে দিল। শহরের কোনো গলি নয়, আমার শরীরটা প্রথমে ছুড়ে ফেলা হল এভিন জেলের নিঃসঙ্গ কুঠুরিতে, আর সেখান থেকে কবরের মতো এই শাহর-এ রায় কারাগারের সেলে। কিš‘ এ নিয়ে অনুযোগ কর না মা, এটাই নিয়তির বিধান। আর তুমি তো জানো যে মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে যায় না।
    মা, তুমিই তো শিখিয়েছ অভিজ্ঞতা লাভ ও শিক্ষা পাওয়ার জন্যই আমাদের জন্ম। তুমি বলেছিলে, প্রত্যেক জন্মে আমাদের কাঁধে এক বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া থাকে। মাঝে মাঝে লড়াই করতে হয়, সে শিক্ষা তো তোমার থেকেই পেয়েছি। সেই গল্পটা মনে পড়ছে, চাবুকের ঝাপ্টা সহ্য করতে করতে একবার প্রতিবাদ জানানোর ফলে আরও নির্মমতার শিকার হয়েছিল এক ব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। কিš‘ প্রতিবাদ তো সে করেছিল! আমি শিখেছি, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে হলে অধ্যবসায় প্রয়োজন। তার জন্য যদি মৃত্যুও আসে, তাকেই মেনে নিতে হয়।
    স্কুলে যাওয়ার সময় তুমি শিখিয়েছিলে, নালিশ ও ঝগড়াঝাটির মাঝেও যেন নিজের নারীসত্তাকে বিসর্জন না দিই। তোমার মনে আছে মা, কত যতœ করেই না মেয়েদের খুঁটিনাটি সহবত শিখিয়েছিলে আমাদের? কিš‘ তুমি ভুল জানতে মা। এই ঘটনার সময় আমার সে সব তালিম একেবারেই কাজে লাগেনি। আদালতে আমায় এক ঠা-া মাথার খুনি হিসেবে পেশ করা হয়। কিš‘ আমি চোখের জল ফেলিনি। ভিক্ষাও করিনি। আমি কাঁদিনি কারণ আইনের প্রতি আমার অটুট আ¯’া ছিল।
    কিš‘ বিচারে বলা হল, খুনের অভিযোগের মুখেও নাকি আমি নির“ত্তাপ। আ”ছা মা, আমি তো কোনো দিন একটা মশাও মারিনি। আরশোলাদের চটিপেটা না করে শুঁড় ধরে জানলার বাইরে ফেলে দিয়েছি। সেই আমিই নাকি মাথা খাটিয়ে মানুষ খুন করেছি! উল্টে ছোটবেলার ওই কথাগুলো শুনে বিচারপতি বললেন, আমি নাকি মনে মনে পুর“ষালি। তিনি একবার চেয়েও দেখলেন না, ঘটনার সময় আমার হাতের লম্বা নখের ওপর কী সুন্দর নেল পালিশের জেল্লা ছিল। হাতের তালু কত নরম তুলতুলে ছিল।
    সেই বিচারকের হাত থেকে সুবিচার পাওয়ার আশা অতি বড় আশাবাদীও করতে পারে কি? তাই তো নারীত্বের পুরস্কার হিসেবে মাথা মুড়িয়ে ১১ দিনের নির্জনবাসের হুকুম দেওয়া হল। দেখেছ মা, তোমার ছোট্ট রেহানা এই কদিনেই কতটা বড় হয়ে গিয়েছে?
    এবার আমার অন্তিম ই”েছটা বলি শোনো। কেঁদো না মা, এখন শোকের সময় নয়। ওরা আমায় ফাঁসি দেওয়ার পর আমার চোখ, কিডনি, হৃদযন্ত্র, হাড় আর যা যা কিছু দরকার যেন আর কারো জীবন রক্ষা করতে কাজে লাগানো হয়। তবে যিনিই এসব পাবেন, কখনোই যেন আমার নাম না জানেন। আমি চাই না এর জন্য আমার সমাধিতে কেউ ফুলের তোড়া রেখে আসুক। এমনকি তুমিও নয়। আমি চাই না আমার কবরের সামনে বসে কালো পোশাক পরে কান্নায় ভেঙে পড় তুমি। বরং আমার দুঃখের দিনগুলো সব হাওয়ায় ভাসিয়ে দিও।
    এই পৃথিবী আমাদের ভালোবাসেনি, মা। চায়নি আমি সুখী হই। এবার মৃত্যুর আলিঙ্গনে তার পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। তবে সৃষ্টিকর্তার এজলাসে সুবিচার আমি পাবই। সেখানে দাঁড়িয়ে আমি অভিযোগের আঙুল তুলব সেই সমস্ত পুলিশ অফিসারের দিকে, বিচারকদের দিকে, আইনজীবীদের দিকে, আর তাদের দিকে যারা আমার অধিকার বুটের নিচে পিষে দিয়েছে, বিচারের নামে মিথ্যা ও অজ্ঞানতার কুয়াশায় সত্যকে আড়াল করেছে। একবারও বোঝার চেষ্টা করেনি, চোখের সামনে যা দেখা যায় সেটাই সর্বদা সত্যি নয়।
    আমার নরম মনের শোলেহ, মনে রেখো সেই দুনিয়ায় তুমি আর আমি থাকব অভিযোগকারীর আসনে। আর ওরা দাঁড়াবে আসামির কাঠগড়ায়। দেখিই না, সৃষ্টিকর্তা কী চান! তবে একটাই আর্জি, মৃত্যুর হাত ধরে দীর্ঘ যাত্রা শুর“র প্রাক মুহূর্ত পর্যন্ত তোমায় জড়িয়ে থাকতে চাই, মাগো! তোমায় যে খুব খু-উ-ব ভালোবাসি।

    রিকশাওয়ালা আবদুল মজিদের মেয়েরা পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ে

    মোহাম্মদ আবদুল মজিদ ৬৩ বছর বয়সেও রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে জীবন সংসারের চাকা সচল রেখে চলেছেন। এই বয়সে রিকশা চালানোর প্রয়োজন শুধু সংসারের জন্য নয়, তিন মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোর অর্থ যোগান দিতেও এ কাজ করতে হচ্ছে তাকে।
    নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ফহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মজিদ ও তার তিন মেয়ে এখন এলাকার শিক্ষা সংগ্রামের রোল মডেল।
    মজিদের চার সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে লাইলী খাতুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে মাস্টার্সে পড়ছেন। দ্বিতীয় মেয়ে শিরীন আকতার নওগাঁ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্সে ও তৃতীয় মেয়ে সুমাইয়া আকতার বানু পত্নীতলার কে এম এইচ স্কুলে (কাটাবাড়ী মোড় উচ্চ বিদ্যালয়) পড়েন দশম শ্রেণীতে। একমাত্র ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান। সন্তানদের মধ্যে সবার বড় এই ছেলে বিবাহিত। ওই ছেলে বাবার সংসারে কোনো সহযোগিতা করেন না।
    লাইলী খাতুন কে এম এইচ স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় তাকে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা আসে মজিদের মাথায়। এমন ইঙ্গিত পেয়ে লাইলী তার ভাবীর মাধ্যমে ওই বয়সে বিয়ে না করার ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান বাবাকে।
    মেয়ের এই আবেদন অনুধাবন করে রাজি হন আবদুল মজিদ। শুরু হলো মেয়ের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং মজিদের দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম।
    বেসরকারি সংগঠন আইটিভিএস (ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন সার্ভিসেস) বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মাহমুদ হাসান পত্নীতলায় মজিদের রিকশায় চড়ে কথা প্রসঙ্গে জানতে পারেন তার মেয়েদের শিক্ষা সংগ্রামের কথা।
    বাংলাদেশের কয়েকটি প্রত্যন্ত এলাকায় বাল্যবিবাহ রোধ ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করা মাহমুদ হাসান বিষয়টি ছড়িয়ে দেন প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘মজিদ ও তার মেয়েদের অনবদ্য সাফল্যের কথা এলাকার মানুষও তেমন জানত না। আমরা তাকে নিয়ে কাজ শুরু করার পর পুরো এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সাড়া পড়ে। বিষয়টি মেয়েদের শিক্ষা অর্জনে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।’
    স্থানীয় কে এম এইচ স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ওমর ফারুক দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আবদুল মজিদ ও তার মেয়েরা আমাদের এলাকায় উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। অনেক অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিত করে অন্যান্য ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের উৎসাহ দেই আমরা। যাতে সব মেয়েরা পড়াশোনা চালিয়ে যায়। অনেক অভিভাবক অনুপ্রাণিত হয়ে মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছেন।’
    ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ষাটোর্ধ্ব আবদুল মজিদ আজও রিকশা চালিয়ে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালানোর কাজটি কেন করছেন? ‘বিয়ে দিলেই তো দায় সারা যেত’— এমন প্রশ্নে ঘাড় নাড়িয়ে মজিদের উত্তর ‘বাবা, ছেলেডা মানুষ হয় নাই। মেয়েগুলো পড়াশোনা করতে চাইচ্ছে। না করি কেমনে। আশপাশের পরিস্থিতি দেখছি। পড়াশোনা না করলি পরে গরিবের মেয়ে গরিবের ঘরেই যাতি হবি। তার চেয়ে আমার কষ্ট হলিও ওরা ভালো থাকবে।’
    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্রী লাইলী খাতুন পরিবারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে না করে কীভাবে বড় হওয়ার স্বপ্ন বুনলেন? জানতে চাইলে লাইলী বলেন, ‘স্কুলে পড়ার সময় থেকেই আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। তাই হাল ছাড়িনি। মেয়ে নই, মানুষ হতে চেয়েছি। বেশিরভাগ মেয়ের স্বপ্ন থাকে এসএসসি পাস করে প্রাইমারির টিচার হবে। আমার মনে জেদ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার হতে সমস্যা কোথায়?’
    অর্থের সমস্যায় আবদুল মজিদ। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। রিকশা চালিয়ে দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা রোজগার করে সংসার চালানোই কঠিন। সেখানে তিন মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানো যেন পাহাড় ঠেলার মতো কাজ।
    আবদুল মজিদ জানান, দিনের বেলায় নিজের রোপণ করা প্রায় চারশোর মতো তালগাছের যত্ন নেন পর্যায়ক্রমে। রাতে চালান রিকশা। এলাকায় বৃক্ষপ্রেমিক হিসেবেও তার সুনাম আছে। অল্প কিছু জমিতে পরিবারের ভাতের যোগান হয়।
    মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগানোর জন্য আলাদাভাবে গরু ও ছাগল পালন করেন আবদুল মজিদ। যখনই ভর্তি, ফরমফিলাপ কিংবা বই কেনার জন্য একসঙ্গে বেশি টাকার প্রয়োজন হয়, তখনই বিক্রি করে দেন গরু কিংবা ছাগল। কখনও সহযোগিতা নেন এক ভাতিজার কাছ থেকে। কিন্তু কারো ঋণ রাখেন না আবদুল মজিদ।
    সন্তানদের শিক্ষা সংগ্রামের এই যুদ্ধে বাবা ও মেয়েরাই শুধু নন, সমানতালে আছেন মা মনোয়ারা বেগমও। টানাটানির সংসারে হাঁস-মুরগি পালন করে কিছু বাড়তি টাকা মেয়েদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
    চেষ্টা একটাই নিজেরা যেমনই আছেন, মেয়েরা যেন কষ্টে না থাকে। বাবা মায়ের এ সব কষ্টের কথা মাথায় রেখে ভালো ফল করে এগিয়ে যাচ্ছেন আবদুল মজিদ-মনোয়ারা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে।
    বড় মেয়ে লাইলী খাতুন কৃতিত্বের সঙ্গে সম্মান শেষ করেছেন। কিছুদিনের মধ্যে মাস্টার্স শেষ হতে যাচ্ছে। মেজ মেয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তৃতীয় মেয়ে জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে কে এম এইচ স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। তার রোল নম্বর এক।
    আবদুল মজিদের সঙ্গে রবিবার বিকেলে কথা হয়। এ সময় তার বার্ধ্যক্যের চেহারায় তৃপ্তির রেখাও ঝিলিক দিচ্ছিল। এক মেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, বাকি দু’জন নওগাঁ ও পত্নীতলায়। ফহিমপুর গ্রামের এই রিকশাওয়ালার জীবনে আর কী চাই!

    মহাকাশে মানুষের ভাসমান শহর

    বর্তমানে মানুষ যেমন পৃথিবীতে এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়ে বসবাস করতে পারে, তেমনি বসবাস করতে পারবে মহাকাশেও। এজন্য মহাকাশে গড়ে তোলা যাবে ভাসমান শহর!যুক্তরাস্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার কর্মকর্তা মহাকাশ বসতি বিশেষজ্ঞ আল গ্লোবাস বলেন, মহাকাশে পৃথিবীর বাইরে কক্ষপথে কৃত্রিম মাধ্যাকর্ষণ তৈরি করে মানুষের জন্য ভাসমান শহর গড়ে তোলা যাবে এবং মানুষরা সেখানে পৃথিবীর মতোই স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারবে।তিনি আরো বলেন, এ ধরনের পরিবেশে শিশু মহাকাশে দীর্ঘকাল থাকলেও পরে তারা পৃথিবীতে ভ্রমণে এলে এখানকার মাধ্যাকর্ষণের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারবে। তবে এই বসতির কেন্দ্রীয় কাঠামোর স্থানটিতে শূন্য মাধ্যাকর্ষণ থাকবে। এই বিশাল কাঠামোর বাইরের দিকে চাষাবাদ করা ও শক্তি উৎপাদনের ব্যবস্থা করাও সম্ভব। মহাকাশের ভাসমান আবাসস্থলে কয়েক লাখ মানুষের বসবাস সম্ভব হবে।তবে মহাকাশে পৃথিবীর মতই মানুষের আবাসস্থল এখনই গড়ে তোলার সম্ভব নয়, বলে জানান গ্লোবাস। কেননা এই কাঠামো তৈরির খরচ বর্তমান শতকে বহন করা অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তবে পৃথিবীর বাইরে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ভেসে থাকা কয়েক লাখ মানুষের শহরটি ২১০০ সালের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে জানান মহাকাশ বসতি বিশেষজ্ঞ গ্লোবাস।

    সবজি কাটার ছুড়ি দিয়ে অস্ত্রোপচার…

    সবজি কাটার ছুড়ি দিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর শিশুটিকে আর বাঁচানো গেল না।ভারতের পাটনার পুর্নিয়া জেলার দাগারুয়ায় আজ শুক্রবার এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পেটে ব্যথা ওঠার পর বাবা-মা মেয়েকে নিয়ে পাশেই গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে যায়।পরে ডাক্তার এপেন্ডিসাইটের ব্যথার ওঠার কথা বলে তার দেহে অস্ত্রোপচার করার কথা বলে। যে কথা সে কাজ। অস্ত্রোপচারে ব্যবহার করা হয় সবজি কাটার ছুড়ি।শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষরণে মেয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

    শিশুটির বাবা প্রকাশ পন্ডিত জানান, তার এক বছরের শিশুর পেট ব্যাথার কারণে পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক জানান, অ্যাপেন্ডিসাইটের কারণে তার বাচ্চার অপারেশন (অস্ত্রোপচার) করাতে হবে। এরপর সবজি কাটা ছুড়ি দিয়ে তিনি বাচ্চার পেট কাটার সময় অন্ত্র কেটে ফেলে।

    এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বাচ্চার অবস্থার অবনতি হলে ওই চিকিৎসক শিশুটিকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বলে। সেখানে নিয়ে গেলে শিশুটিকে তারা ভর্তি করাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুর্নিয়া জেলার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তারা ওই তথাকথিত চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্বের ৮০ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ঠিকমতো খেতে পায় না

    এখনো বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রতি নয়জনের একজন ঠিকমতো খেতে পায় না, এমন মানুষের সংখ্যা ৮০ কোটি ৫০ লাখ। আর গত ১৫ বছরে বিশ্বব্যাপী তীব্র অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা কমেছে ১০ কোটিরও বেশি, যা ফিলিপাইনের মোট জনসংখ্যার সমান।

    জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) এক যৌথ প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। ‘খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার বৈশ্বিক চিত্র’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার রোমে প্রকাশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও উন্নয়নশীল দেশগুলো
    প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অপুষ্টির বিষয়টিও উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, ১৯৯০-৯২ সময়ে দেশের তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছিল, যা ছিল তখনকার মোট জনসংখ্যার ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। আর ২০১২-১৪ সময়ে এসে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৬২ লাখে, যা এখনকার জনসংখ্যার ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

    আন্তর্জাতিক তিন সংস্থার প্রতিবেদনটি বলছে, পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বেশ কাজে লেগেছে। আর এটি ২০১৫ সালের মধ্যে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার যে জাতিসংঘের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তা অর্জনে সহায়তা করছে।

    বহু প্রচেষ্টার পরও হাইতির মতো দেশের কোনো উন্নতি হয়নি। দেশটিতে ১৯৯০-৯২ সময়ে যেখানে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৪৪ লাখ, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ লাখে।

    ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা জাতিসংঘের রয়েছে, তা ইতিমধ্যেই ২৫টি উন্নয়নশীল দেশ পূরণ করেছে। কিন্তু বাকি দেশগুলোর ওই লক্ষ্যে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় হাতে নেই।

    তবে প্রতিবেদনে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে, বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে এখনো অনেক কিছু করার আছে বলে মত দেওয়া হয়েছে। কারণ, আগামী বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বর্তমান ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

    ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক আর্থারিন কাজিন বলেছেন, ক্ষুধার্ত পরিস্থিতির যে উন্নতি হয়েছে, তাতে আমরা এখনো খুশি হতে পারছি না। কারণ, ঠিকমতো খেতে না পাওয়া ৮০ কোটি ৫০ লাখ মানুষের সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হবে।

    ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও মালাওই এরই মধ্যে সেসব দেশের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার জাতিসংঘের আরেকটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে দেশগুলোর সরকারের নেওয়া খাদ্য কর্মসূচিতে প্রচুর বিনিয়োগের মাধ্যমে।

    মায়ের একধার দুধের দাম (ভিডিও)

    এমন কে আছে, যে ২৪ ঘণ্টা-ই কাজ করেন, এমনকি ঈদের দিনও তার ছুটি নেই ? এমন কে আছে, কাজের জন্য ঘুমাতেও যান না। প্রয়োজনে ২৪ ঘন্টাই দাড়িয়ে থাকতে একটুও দ্বিধাগ্রস্ত হয় না? এমন কে আছেন, আপনাকে খাওয়ানোর জন্য, নিজে না খেয়ে থাকেন? এমন কে আছেন, যিনি নিঃশ্বার্থ ভালবেসেই যান, তার প্রতিদানের আশা করেন না? আপনি যতই খারাপ ব্যবহার করেন, যতই গালমন্দ করেন বা তার সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করেন না কেন, তিনি আপনাকে ভালবেসে যাবেন। শুধু আপনার কল্যাণের জন্য দু’চোখের পানি ফেলেন। এসব প্রশ্নের একটাই উত্তর, কেউ নেই। এ হতে পারে না। কিš‘ ভেবে দেখুন তো, দু‘মিনিট চোখ বন্ধ করে মায়ের কথা চিন্তা করুন, তাহলে এসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। আরো ভাল করে বুঝতে চাইলে নিচের ভিডিও ক্লিপটি দেখুন । থ্রি-ইডিয়টসখ্যাত অভিনেতা শারমান যোশির ভিডিও ক্লিপটি দেখলে, আপনি বলতে বাধ্য হবেন। যিধঃ রং ষড়াব ?

    সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের যে ভালোবাসা, তা পৃথিবীর একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সন্তানের জন্য বাবা-মা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। তাই তাদের সম্মান করা, ভালোবাসা ও তাদের প্রতি কর্তব্য পালন করা আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। কিš‘ তিক্ত সত্য হলো, কালপরিক্রমায় আমরা হয়ে ওঠি অতি নির্মম। প্রকাশ পায় বাবা-মায়ের প্রতি চরম অবহেলা ও অবজ্ঞা। বাবা-মা যখন বৃদ্ধ হয়ে যান, তখন তারা সন্তানের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল ও চরম অসহায় হয়ে পড়েন। আর তখন থেকেই আমরা তাদের প্রতি প্রদর্শন করি ঔদাসীন্য ও অবহেলা। তাদের ভাবতে থাকি পরিবারের বোঝাস্বরপ। এই ভোগবাদী মানসিকতা থেকেই আমরা তাদের জোর করে পাঠিয়ে দিই বৃদ্ধাশ্রমে। স্বামী-স্ত্রী ও আদরের ছেলে-মেয়ে নিয়ে গড়ে ওঠে সুখের সংসার। আর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমে। পরিবার-পরিজন, ছেলে-মেয়ে থেকে বি”িছন্ন হয়ে এক চরম অসহায় জীবনযাপন করেন তারা। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, যে সন্তানকে মানুষ করার জন্য বাবা-মা সারা জীবন কষ্ট করেছেন, যে সন্তানের সুখের দিকে তাকিয়ে বাবা-মা নিজের সুখ বিসর্জন দিয়েছেন, সেই নরাধম সন্তানের দ্বারাই বাবা-মা নিগৃহীত হ”েছন।
    সসধ
    আমরা একবারও ভাবি না যে, আমাদের সন্তান আমাদের কাছে যেমন, আমরা ও আমাদের বাবা-মায়ের কাছে তেমন। আমরা আমাদের সন্তানকে যেমন আদর-সোহাগ করি, মায়া-মমতা দিয়ে পরম যতেœ লালন-পালন করি, আমাদের বাবা-মাও আমাদের মায়া-মমতা দিয়ে, আদর-স্নেহ দিয়ে বড় করেছেন। বাবা-মা নিজে না খেয়ে আমাদের খাইয়েছেন। নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। আমাদের সুখের দিকে তাকিয়ে তারা আরামের ঘুম হারাম করেছেন। আামদের মুখে দুু’মুঠো খাবার তুলে দেয়ার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন। আমদের লালন-পালনে কষ্ট মনে করে কোনো শিশু আশ্রমে আমাদের পাঠিয়ে দেননি।

    ইসলাম বাবা-মায়ের প্রতি অত্যন্ত গুর“ত্ব দিয়েছে। তাদের সেবা-যতœ করা, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের কথা মান্য করা ইসলামের দৃষ্টিতে ফরজ। বাবা-মাকে কষ্ট দেয়া, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা, তাদের কথা অমান্য করা নিঃসন্দেহে অনেক বড় গুনাহ। আল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করতে ও বাবা-মায়ের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে’ (সূরা বনি ইসরাইল : ২৩)।

    হাদিস শরিফে এসেছে, একবার জনৈক সাহাবি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে জিহাদে যাওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা প্রকাশ করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাবা-মা কেউ কি জীবিত আছে, সাহাবি হ্যাঁ সূচক জবাব দিলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাড়িতে গিয়ে তাদের সেবা কর। (বোখারি : ২৮৪২)। অন্য হাদিসে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জীবিত অব¯’ায় তার বাবা-মা উভয়কে অথবা তাদের একজনকে পেল, অথচ সে জান্নাত আদায় করতে পারল না, তার চেয়ে দুর্ভাগা আর কে হতে পারে?

    বাবা-মা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন তখন তাদের প্রতি দায়দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়, তাদের সেবা-শুশ্রƒষা আরও গুর“ত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ মানুষ যখন বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয় তখন সে আবার শৈশবে ফিরে যায়। বিখ্যাত কবি ও দার্শনিক শেক্সপিয়র বার্ধক্যকে আখ্যায়িত করেছেন দ্বিতীয় শৈশব হিসেবে। তাই তখন তার বেঁচে থাকার জন্য শিশুকালের মতো আদর-স্নেহ, মায়া-মমতার প্রয়োজন হয়। বার্ধক্যের কারণে বাবা-মায়ের মেজাজ কিছুটা খিটখিটে ধরনের হয়ে যেতে পারে, সামান্য বিষয় নিয়ে তুলকালাম কা- ঘটাতে পারেন। তাই তাদের অস্বাভাবিক আচরণকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে। আল কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের একজন বা উভয়েই জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উফ বলো না। তাদের ধমক দিও না, তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো। (সূরা বনি ইসরাইল : ২৩)।

    সন্তানের জন্য বাবা-মা উভয়েই কষ্ট করেন। তথাপি বাবার তুলনায় মায়ের হক অনেক বেশি। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, কোন ব্যক্তি আমার সর্বাধিক সদাচরণ পাওয়ার অধিকারী? তিনি বলেন, তোমার মা। লোকটি বললেন, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বললেন, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমরা মা। লোকটি বললেন, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা (মুসলিম : ২৫৪৮)।
    সর্বোপরি মনে রাখতে হবে, কালের বিবর্তনে আমরাও এক সময় বার্ধক্যে উপনীত হব। আমাদের সঙ্গে বৃদ্ধাব¯’ায় তেমন আচরণ করা হবে, যেমন আচরণ আমরা আমাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে করব। অন্তত এই দিকটি বিবেচনায় রেখে আমাদের উচিত বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণ করা।

    মোটা হওয়ায় বিমানে উঠতে বাধা, মৃত্যু, পরবর্তীতে ক্ষতিপূরন মামলা

    অতিরিক্ত মোটা হওয়ার কারনে ভিলমা(৫৬) নামের এক মার্কিন যাত্রীকে বিমানে উঠতে দেয়নি বিমান কর্তৃপক্ষ। নিজ দেশে ফিরতে না পেরে অবশেষে এই নারী অসুস্থাবস্থায় হাঙ্গেরীতে মারা যান। তার ওজন ছিলো ৪০৭ পাউন্ড।

    স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিমান সংস্থাকে দায়ী করে ছয় মিলিয়ন ডলারের মামলা করলেন তার স্বামী জনস সলতেজ (৫৭)। তার অভিযোগ ২০১২ সালে তিনটি বিমান সংস্থা ডেল্টা, কেএলএম ও লুফথানসা নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা জনস সলতেজ (৫৭) ও তার স্ত্রী ভিলমাকে (৫৬) বিমানে উঠতে বাধা দেয়। ভিলমার অতিরিক্ত ওজনের কারনে তাকে বিমানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় বিমান সংস্থা। ৪০৭ পাউন্ড ওজনের ভিলমা নিজের দেশে ফিরতে না পেরে হাঙ্গেরিতে মারা যান।

    মামলার বিবরণে বলা হয়েছে , ভিলমা ও তার স্বামী ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে ইউরোপ ভ্রমণের জন্য নিউইয়র্ক থেকে ডেল্টার বিমানে বুদাপেস্ট এসে পৌঁছান। রোগাক্রান্ত মেদবহুল ভিলমা ডায়াবেটিস ও কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। ডায়াবেটিসের কারণে তার একটি পা অস্ত্রোপাচার করে আগেই কেটে ফেলা হয়েছিল। তাই হুইল চেয়ারেই তাকে চলাফেরা করতে হয়।

    হাঙ্গেরিতে এসে তিনি ২ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কয়েকদিন পর তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বলা হয় তিনি দেশে ফিরতে পারেন। কিন্তু দেশে ফিরে দ্রুত তাকে চিকিৎকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয় হাঙ্গেরির ওই হাসপাতাল। সলতেজ দম্পতি তাই দেশে ফেরার তোড়জোড় শুরু করেন। প্রথমে তারা প্রাগের বিমানবন্দরে এসে বিমানে ওঠার চেষ্টা করেন। স্থানীয় দমকল কর্মীরা তাকে সাহায্য করতে আসেন। কিন্তু ভিলমার জন্য বিমানের নির্দিষ্ট তিনটি আসনে তাকে হুইলচেয়ার থেকে তুলতে ব্যর্থ হন দমকল কর্মীরা।

    এই ঘটনার দুই সপ্তাহ পর ফের কেএলএম রয়াল ডাচ বিমানে ওঠার চেষ্টা করেন জনস ও ভিলমা। কিন্তু বিমানে ওঠার চেষ্টা করার সময় ওই বিমানের চালক এসে ভিলমাকে বিমান থেকে নেমে যাওয়ার জন্য বলেন। পাঁচ ঘণ্টা বুদাপেস্টের বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার পর তারা দুজন ফের প্রাগ বিমানবন্দরে ফিরে আসেন। সেখানে ডেল্টার বিমান ধরার চেষ্টা করলে তাদেরকে বলা হয় উপযুক্ত হুইলচেয়ার না থাকায় ভিলমাকে বিমানে তোলা সম্ভব নয়। এরপর ২২ অক্টোবর তারা আবার লুফথানসা বিমান ধরতে আসেন। সেখানেও চালক জানান, অন্যান্য যাত্রীদের তাড়া থাকায় ভিলমার বিমানে ওঠার জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। এতবার প্রত্যাখ্যানের পর ক্লান্ত ও অসুস্থ ভিলমাকে নিয়ে জনস হাঙ্গেরির হলিডে হোমে ফিরে আসেন।এর ঠিক দুদিন পর ২৪ তারিখ ভিলমা মারা যান।

    নিরপরাধ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দুই ভাই ৩০ বছর পর মুক্তি পেল

    বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দুই ভাই হেনরি লি ম্যাককুলাম ও লিওন ব্রাউনকে ১১ বছরের এক বালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার একটি আদালত। পরে অবশ্য একজনের শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়। কিন্তু ৩০ বছর পর তারা নির্দোষ বলে প্রমাণিত হন আদালত মুক্তি দেওয়ার আদেয় দেয়।

    বর্তমানে ম্যাককুলামের বয়স ৫০ আর ব্রাউনের বয়স ৪৬ এর মাঝে কেটে গেছে দীর্ঘ ৩০ বছর। ওই ঘটনার ত্রিশ বছর পর অবশেষে মঙ্গলবার প্রমাণ হয় ওই দুই ভাই নির্দোষ। ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। মঙ্গলবার অবশেষে ওই দুই ভাইকে মুক্তি দেয়ার আদেশ দেয় নর্থ ক্যারোলিনার একটি আদালত।

    গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন দুই ভাই। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ডিএনএ’র নমুনাও পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায় ডিএনএ নমুনার সঙ্গে দুই ভাইয়ের ডিএনএ’র কোনো মিল নেই। বরং সাদৃশ্য পাওয়া যায় একই ধরনের অপরাধে কারাগারে আটক থাকা অপর এক ব্যক্তির ডিএনএ’র সঙ্গে। এ ঘটনার পর আদালত তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন।

    ১৯৮৩ সালে নর্থ ক্যারোলিনার রেড স্প্রিংসে ১১ বছর বয়সী সাবরিনা বুয়ির নগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।খুনের আগে ধর্ষণও করা হয় তাকে। ম্যাককুলাম আর ব্রাউনের দুর্ভাগ্যের সূত্রপাতও তখন থেকেই। ঘটনার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও কয়েক সপ্তাহ পর পুলিশ গ্রেফতার করে ১৯ বছর বয়সী ম্যাককুলাম ও ১৫ বছর বয়সী ব্রাউনকে।

    কাইল্যা বাবুর কল্পকাহিনী

    ঢাকার মগবাজারে তিনজনকে গুলি করে হত্যার পর আলোচনায় আসে কাইল্যা বাবু। তার নাম আগে কেউ শোনেনি। তবে পুলিশের খাতায় তার নাম খুনি বাবু। আরো বেশ কিছু খুনের ঘটনার সঙ্গে সে নাকি জড়িত ছিল। কিন্তু মিডিয়ায় তার নাম কখনো আসেনি। এবার এক লাফে সে লাইমলাইটে। দেশের এমন কোনো পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল নেই যে তার তিন খুনের ঘটনা প্রকাশ কিংবা প্রচার করেনি। এখন ধাঁই ধাঁই করে তার রেট বেড়ে যাবে।

    কয়েক বছর আগেও দেখেছি, এলাকার ছিঁচকে মাস্তানরা ক্রাইম রিপোর্টারদের কাছে এসে পত্রিকায় নাম ছাপানোর জন্য ধরনা দিত, তদবির করত। রিপোর্টাররা উৎসুক হয়ে জানতে চাইত- কেন, নাম ছাপানোর জন্য এত তদবির কেন করছেন? সন্ত্রাসী হিসেবে পত্রিকায় নাম ওঠার মাজেজাটা কী?

    ওরা বলত, আরে ভাই! মাজেজা না থাকলে কি আর তদবির করি! মাজেজা তো আছে! রেট বেড়ে যায়, বুঝলেন!

    কিন্তু পুলিশ জানলে কি আপনাকে আস্ত রাখবে? রিপোর্টার প্রশ্ন করল।

    ওই মাস্তান বলল, কী যে বলেন! আমার রেট বাড়লে তো তাদেরই সুবিধা। ভাগটা বেশি পাবে! হা হা হা! এবার বুঝছেন ব্যাপারটা?

    ছিঁচকে মাস্তানের কথা শুনে রিপোর্টারের চোখ তো কপালে ওঠে। এবার কাইল্যা বাবুর মুখেও সেই একই কথা! সে এলাকায় এত মাস্তানি করছে, কিন্তু কেউ তার নাম জানে না। তাই তার দরদামও খুব কম। অনেকে তো পাত্তাই দেয় না। বলে, তুই ব্যাটা কিসের মাস্তান! পত্রিকায় নাম উঠছে? পুলিশের মুখেও একই কথা! পুলিশকে সে বলেছে, দাঁড়ান, পত্রিকায় নাম ওঠানোর ব্যবস্থা করছি। তাই ব্যবস্থা করলাম।

    তাই বলে তিন-তিনটা খুন! বিস্ময়সূচক জিজ্ঞাসা সাংবাদিকের।

    কাইল্যা বাবু ভাব নিয়ে বলল, তা না হলে নাম ফাটত? কেউ চিনত? এখন দেখেন, সবাই এক নামে চেনে! ওহ! আমার কী যে আনন্দ লাগছে! এখন আর জনিফনি আমার কাছে পাত্তা পাইব না।

    প্রশ্ন: জনি কে?

    কাইল্যা বাবু: জনিকে চেনলেন না? সে তো শীর্ষ সন্ত্রাসী!

    প্রশ্ন: হঠাৎ জনির কথা কেন বললেন?

    কাইল্যা বাবু: আমি তো তার সঙ্গেই দীর্ঘদিন ধরে ছিলাম। বলতে পারেন তার সহকারী হিসেবে কাজ করেছি।

    প্রশ্ন: সে এখন কোথায়?

    কাইল্যা বাবু: সে ইন্ডিয়ায় আছে। তার সঙ্গে রেগুলার যোগাযোগ হয়। টাকা-পয়সাও পাঠাইতে হয়। এখন ভাবছি, তার সঙ্গে যোগাযোগ কাট কইরা দিমু।

    প্রশ্ন: কেন?

    কাইল্যা বাবু: এখন তো আমার নামই শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় উইঠ্যা যাইব। কাজেই তাকে আর দরকার হইব না!

    প্রশ্ন: শিষ্য বড় হলে কি গুরুর কথা ভুলে যায়?

    কাইল্যা বাবু: এই লাইনে ওসব নাই। প্রয়োজন হইলে গুরুকে খাইয়া ফালায়!

    প্রশ্ন: আপনিও কি তা করবেন?

    কাইল্যা বাবু: থ্রেড মনে হইলে তো করবই।

    প্রশ্ন: আপনার নাম কাইল্যা বাবু কেন?

    কাইল্যা বাবু: নামের আগে এ রকম কিছু না থাকলে পাত্তা পাওয়া যায় না, বুঝলেন! যেমন ধরেন, কালা ফারুক, সুইডেন আসলাম, পিচ্চি হান্নান! এদের কী পরিমাণ নাম ফাটছে! আমিও দেখলাম, সন্ত্রাসী বাবু বললে কেউ পাত্তা দেয় না। শুরু করলাম কাইল্যা বাবু নামে। ব্যস, আর কোনো কথা নাই! সবাই সালাম দেওয়া শুরু করল। এবার বোঝেন, কাইল্যার কী গুরুত্ব!

    প্রশ্ন: কালা ফারুক আপনার কিছু হয়?

    কাইল্যা বাবু: না না! উনি আমার কী হবেন? তা ছাড়া উনি তো বাঁইচ্যা নাই। তবে উনি মইরা যাওয়ার কারণেই আমি কাইল্যা বাবু হইছি।

    প্রশ্ন: নাম বদলানোর আইডিয়াটা কার?

    কাইল্যা বাবু: আমার নিজেরই। এই জমানায় কেউ কি কাউকে আইডিয়া দেয়? নিজে কিভাবে বড় হইব তাই নিয়া ভাবে। বুঝতে পারছেন?

    প্রশ্ন: এরপর আপনার পরিকল্পনা কী?

    কাইল্যা বাবু: কিছুদিন আগরতলায় গিয়া থাকব।

    প্রশ্ন: কেন, আগরতলা কেন?

    কাইল্যা বাবু: তিন-তিনটা খুন করছি। এখন দেশে থাকলে তো পুলিশ ঝামেলা করব। পুলিশ বলছে, কিছুদিন পালাইয়া থাকবে। তাই কিছুদিন পালাইয়া থাকব। অবশ্য এখন আমি না থাকলেও অসুবিধা নাই। এখন আমার নামেই চাঁদাবাজি হবে। এক টেলিফোনে বিশ-ত্রিশ লাখ কোনো ঘটনাই না। ছয় মাসে কোটিপতি! হা হা হা!

    প্রশ্ন: ছয় মাসে কোটিপতি! আপনি তো দেশেই থাকবেন না! টাকা পাবেন কিভাবে?

    কাইল্যা বাবু: আমার চেলা-চামুণ্ডা আছে না! ওরা থাকলেই যথেষ্ট। ওরা চাঁদা তুলবে আর ব্যাংকে রাখবে। দরকার পড়লে আমার কাছে পাঠাবে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সবাই তো এই কাজই করে! নাম ফাটাইয়া চম্পট মারে! পরে তাদের নামে চাঁদাবাজি হয়। সেই টাকা ভাগাবাটোয়ারা হয়। পুলিশও তার ভাগ পায়। কাজেই কোনো সমস্যা নাই।

    প্রশ্ন: এর মধ্যে যদি ধরা পড়ে যান?

    কাইল্যা বাবু: ধরা পড়লে বলতে হবে লাক খারাপ! তার পরও দ্রুত পালিয়ে যাওয়াটাই ভালো। আমার জন্য দোয়া করবেন। আর আমার নাম শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্যা বাবু লিখবেন। তাইলেই আমি খুশি থাকব। এবার পালাই। খবরদার! আমি কোথায় আছি তা কাউকে বলবেন না। তাইলে কিন্তু কল্লা থাকব না